গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই আগ্রাসন শুরুই করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ১৮০শিশুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন সেনারা। অবশেষে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
দুই আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা ধারণা করছেন যে, ইরানের মিনাবের শাজরা তাইয়িবা বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী ছিল।
যদিও তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি বা তাদের তদন্ত শেষ করেননি বলে জানিয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর মিনাবের স্কুলটিতে হামলায় সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানায়, এতে ১৮০ জন নিহত হয়েছে, প্রায় সবাই শিশু।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। ইসরাইল বলেছে, তারা ওই এলাকায় কোনো অভিযানের কথা জানে না। আর যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ঘটনাটি এখনো তদন্ত করা হচ্ছে এবং তারা কখনো বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা করে না।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে আমেরিকার দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। অবশ্য তারা নতুন প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি, যা যুক্তরাষ্ট্রকে দায়মুক্ত করে এবং এই ঘটনার জন্য অন্য কোনো পক্ষের দিকে ইঙ্গিত দিতে পারে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের স্কুলটির পাশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বা আইআরজিসির ঘাঁটি ছিল। সেই জায়গাজুড়ে কাছাকাছি সময়ে একাধিক হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি ভেরিফাই।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারের ইন্সটাগ্রামের একটি পোস্ট থেকে দেখা যায়, আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টার মানচিত্রে ইরানের দক্ষিণে হামলার স্থান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে যার মধ্যে মিনাবও ছিল।
এনআই