খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী রামগড় উপজেলায় দীর্ঘ দিন বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদকসেবীরা। দিন-রাত সমানতালে বিভিন্ন স্পটে মাদক সেবন ও বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে চোলাই মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিলের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রামগড় পৌর এলাকার জগন্নাথপাড়া, বল্টুরামটিলা, শ্মশানটিলা, গর্জনতলি, মাস্টারপাড়া, চৌধুরীপাড়া, আনন্দপাড়া, দারোগাপাড়া, মহামুনি, ফেনীরকুল, সদুকার্বারী পাড়া, বলিপাড়া, খাগড়াবিল, লামকুপাড়া, কালাডেবা, সোনাইআগা ও তৈইচালা পাড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। বিশেষ করে কিছু পরিবার দেশি মদ তৈরি ও অবাধে বিক্রি করায় মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভারতীয় মাদক প্রবেশ করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মাদকের প্রভাবে পরিবার ও সমাজে অশান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। নেশার টাকার জন্য মা-বাবা ও স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে অগণিত। সাংবাদিক নেতা মো. নিজাম উদ্দিন লাবলু বলেন, “মাদকের কারণে বহু পরিবার আজ নিঃস্ব ও অনিরাপদ। রামগড়কে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।”
রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন বলেন, “দলের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। নবনির্বাচিত এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—মাদক কারবারি কে কার লোক তা দেখার সুযোগ নেই। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলম বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। দ্রুতই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে। মাদক নির্মূলে আমরা সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি।”
এনআই