আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষনে ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, এর মধ্যে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষকের সঙ্গে যুক্ত হবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল, ১৬টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩২ জন ব্যক্তি।
বার্তায় বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ১২তম, ১১তম ও ১০তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ ও চারজন।
ওআইসি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার দুই সদস্যের ওআইসি পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন।
এছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক আসবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন পর্যবেক্ষক ব্যক্তিগত ক্ষমতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সফরের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মুর্শেদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে, কারণ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আমন্ত্রণ পাওয়া কয়েকটি দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।’
যেসব আমন্ত্রিত দেশ এখনও প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি, সেসবের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম (ফেমবোসা) শিগগিরই তাদের প্রতিনিধিদের নাম ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে গণভোটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
আরডি