কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসমাবেশে খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, গণভোট নিয়ে প্রকাশ্যে এক কথা আর অন্তরে আরেক কথা বলা দ্বিচারীদের হাতে দেশের জনগণ কখনো শাসনভার তুলে দেবে না। তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষের চোখেমুখে যে প্রত্যাশা তিনি দেখেছেন, তাতে স্পষ্ট—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে মুখিয়ে আছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১১টায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক দলগুলো শাসনের নামে জনগণের ওপর শোষণ চালিয়েছে। তারা দেশে গুণ্ডামি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছিল। এসব কারণেই দেশে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, ওই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ আর দুটি রাজ পরিবারের হাতে নিজেদের ভাগ্য তুলে দিতে প্রস্তুত নয়। এ কারণেই দেশে এখন একটি মহাজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, সম্প্রতি একটি বিভ্রান্তিকর বক্তব্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কখনো প্রকাশ্যে গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা বলে, আবার কখনো ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কথা বলে। প্রকাশ্যে এক কথা আর আড়ালে আরেক কথা বলাই দ্বিচারিতা। এই ধরনের লোকদের হাতে বাংলাদেশের মানুষ কখনোই দেশের শাসনভার তুলে দেবে না।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো মা বা বোনের ইজ্জতের ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মা-বোনের সম্মানের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান এডভোকেট।
সমাবেশে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
ইখা