ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্বাচনে নওগাঁর ৬টি আসনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে গননা। এরপর বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলে কে পরবে জয়ের মালা তা নিয়ে উৎসুক জনতাসহ স্ব স্ব প্রার্থীরা আছেন মহা টেনশনে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৭৮২টি কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এবং বিকেল সাড়ে চার টায় বিশৃঙ্খলামুক্ত পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। তবে এক জায়গায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারসহ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
এখন শুধু অপেক্ষার পালা কে হাসবে জয়ের হাসি। কে হবে সংসদ নেতা?
এদিন প্রতিটি ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে নিজেদের ভোট প্রদান করেছেন। অনেক দিন পর ভোট পেয়ে ভোটাররা উৎসবমুখর ও আনন্দে ভোট প্রদান করেছেন তারা। ভোটের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল চোখে পড়ার মতো। অপরদিকে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ করতে গ্রহণ করা হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, নওগাঁর ৬টি আসনে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দলীয় প্রার্থী আছে ২৭জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে ৫জন।
আসন ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীরা হলেন:
নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হক শাহ (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সদ্য বহিস্কৃত ডা. ছালেক চৌধুরীর প্রতিক (মোটরসাইকেল)।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনের বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর এনামুল হক (দাঁড়ি পাল্লা) ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম (ঈগল) প্রতীক।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মাহফুজুর রহমান (দাঁড়ি পাল্লা), জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল), বাসদের কালিপদ সরকার (মই), বিএনএফ'র আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (টেলিভিশন) এবং ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আসগর (হাত পাখা)। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি কলস প্রতীক ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন জাহাজ প্রতীক।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের প্রার্থীরা হলেন, ইকরামুল বারী টিপু (বিএনপি), আব্দুর রাকিব (জামায়াত), জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীক, ইসলামী আন্দোলনের সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) ও সিপিবির ডা. এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীক। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম কলস প্রতীক।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থীরা হলেন, জাহিদুল ইসলাম ধলু (বিএনপি), আবু সাদাত মো. সায়েম (জামায়াত), সিপিবির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীক।
সর্বশেষ নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের প্রার্থীরা হলেন, শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামীর খবিরুল ইসলাম (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীক। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (মোটরসাইকেল) প্রতীক।
জেলার এই ৬টি আসনে ৭৮২টি কেন্দ্রে মোট ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন ভোটার ভোট প্রদান রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন ও নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন এবং হিজড়া ২১ জন।
উল্লেখ্য- প্রাপ্ত ব্যালট পেপার এবং পোষ্টাল ভোট আলাদা আলাদা গণনার পর ফল প্রকাশ করা হবে।
পিএম