পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির ধানের শীষ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গত দুই দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুরসহ গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এতে তিন কর্মী আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া বাজারে এসব ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— আড়মবাড়িয়ার শেখেরচকের গোপালপুর গ্রামের মোঃ তারুর ছেলে সাইদুর রহমান, একই এলাকার হাতেম মালিথার ছেলে মনোয়ারুল ইসলাম হিটলার ও তার ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ সাইদুর রহমান ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত মনোয়ারুল ইসলাম হিটলার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা সবাই পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক।
অন্যদিকে, হামলাকারীরা ওই আসনের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পরাজিত প্রার্থী ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তারা সাঁড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডলের ছেলে যুবদল নেতা হেকমত উল্লাহ কনকের অনুসারী বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা হোসেন বিপু ওরফে ল্যাংড়া বিপু ৫ আগস্টের পর থেকে ওই এলাকার বালুমহাল দখল ও মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। নির্বাচনে বিপু বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে কাজ করেছেন। অপরপক্ষে, হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডল ও তার ছেলে হেকমত উল্লাহ কনক ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে নির্বাচন করেছেন। মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ল্যাংড়া বিপু ও কনকের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি মামলার জের ধরেই এই সংঘর্ষ।
সূত্রমতে, নির্বাচনের দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ল্যাংড়া বিপু দলবল নিয়ে হাক্কে মন্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে ল্যাংড়া বিপু আড়মবাড়িয়া বাজার সংলগ্ন নিজ কার্যালয়ে বসে থাকার সময় কনকের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিট ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এ ব্যাপারে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক সোহান হোসেন ল্যাংড়া বিপু বলেন, “হাক্কে মন্ডলের ছেলে কনক দলবল নিয়ে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। আমার পক্ষের তিনজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”
তবে যুবদল নেতা হেকমত উল্লাহ কনক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ল্যাংড়া বিপু এলাকায় মাদক ব্যবসা ও বালুমহালের আধিপত্য ধরে রাখতে আমাদের বাড়িতে এসে গুলিবর্ষণ করেছে। আমরা তাদের ওপর হামলা করিনি, বরং তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। এ বিষয়েও থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।”
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মমিনুজ্জামান জানান, ঘটনার পর থেকে আড়মবাড়িয়া বাজার এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও টহল দিচ্ছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এনআই