শরীয়তপুরে মাছ ধরার অপবাদ দিয়ে এক ব্যক্তিকে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঘের মালিক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ফেসবুকে ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিম পাইককে মাছের ঘেরের মাঝখান থেকে টেনে পাড়ে নিয়ে আসছেন। পরে একজন তাঁর হাত চেপে ধরে রাখেন এবং আরও দুজন গাছের ডাল দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় সেলিম ‘বাবারে, বাবারে’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
আহত সেলিম পাইক (৩০) ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকার মৃত মতলব আলী পাইকের ছেলে।
অভিযুক্ত শাহিন মাদবর (৩৮) শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পালং এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাছের ঘের ব্যবসায়ী এবং জেলা যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি আন্তঃপরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে সেলিমকে মারধর করে ইকুরি এলাকায় ফেলে রাখা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অভিযুক্ত শাহিন ও তাঁর লোকজনই তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ইকুরি এলাকার বাসিন্দা মো. জেদ্দা বলেন, "ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন দেখি পুকুর থেকে ধরে এনে কয়েকজন মিলে এক ব্যক্তিকে পেটাচ্ছে। ঘটনাটি খুবই অমানবিক।"
অভিযোগের বিষয়ে শাহিন মাদবর বলেন, "রোববার ভোরে ছয়জন লোক নিয়ে সেলিম আমার ঘেরে জাল ফেলতে আসে। তারা রামদা নিয়ে আমার লোকজনকে ধাওয়া দেয় এবং এক পাহারাদারকে আহত করে। পরে আমার লোকজন ধাওয়া দিলে অন্যরা পালিয়ে যায়, কেবল সেলিম ধরা পড়ে।" মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, "ঘের আমার, আমি পেটাব না তো কে পেটাবে?"
তবে আহত সেলিম পাইক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি মাছ চুরি করিনি। আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে। তারা আমার পা ভেঙে দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, "বিষয়টি আমরা শুনেছি। মাছ চোর সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এনআই