রাস্তা, ফুটপাত ও রেল স্টেশনে বেড়েছে ভ্রাম্যমাণ বাস্তুহীন মানুষের সংখ্যা। হাড়কাঁপানো শীতে এসব মানুষের প্রয়োজন অন্তত একটি গরম কাপড়। এক টুকরো উষ্ণতার আশায় এসব অসহায় মানুষ রাস্তার পাশে থাকা ‘মানবতার দেয়াল’-এর দিকে তাকিয়ে থাকেন। কিন্তু সেই দেয়ালে এখন আর মানবতার চিহ্নমাত্র নেই। মানবসেবার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে পথচলা ‘মানবতার দেয়াল’ এখন কেবলই স্মৃতি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরেজমিনে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থিত মানবতার দেয়ালে গিয়ে দেখা যায়, কাপড় রাখার স্থানে লাগানো রয়েছে নানা রকম পোস্টার। বেশ কয়েক বছর আগে ‘আমাদের ভাঙ্গুড়া’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ এই মানবতার দেয়ালটি গড়ে তুলেছিল। দেয়ালে ‘আপনার অপ্রয়োজন হতে পারে অন্য কারও প্রয়োজন’ লিখে সেখানে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কাপড় ঝুলিয়ে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমানে দেয়ালটি খাঁ খাঁ করছে।
বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শুরুর দিকে উদ্যোক্তারা নিয়মিত কিছু জামাকাপড় এই দেয়ালে রাখতেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরে এখানে কাপড় রাখা বন্ধ রয়েছে। কাপড়ের চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক কম। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকায় দেয়ালটি এখন পোস্টারে ঢাকা পড়েছে। কোনো হ্যাঙ্গারেই এখন জামাকাপড় নেই। এই তীব্র শীতে শীতবস্ত্র না পেয়ে অসহায় মানুষগুলো খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
উদ্যোক্তারা জানান, বাস্তুহীনদের বস্ত্রের অভাব মেটাতে কয়েক বছর আগে স্টেশনে এই দেয়ালটি স্থাপন করা হয়। শুরুতে ভালো সাড়া মিললেও বর্তমানে ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। সমাজে মানুষের দেওয়ার মানসিকতা কমে যাওয়া এবং তদারকির অভাবে দেয়ালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসেন, তবেই মানবতার দেয়ালটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।
এ ব্যাপারে চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি, সাংবাদিক ও লেখক নুরুজ্জামান সবুজ মাস্টার বলেন, "‘আমাদের ভাঙ্গুড়া’ ফেসবুক গ্রুপের সদস্যদের গড়া এই মানবতার দেয়ালটি সত্যি অনন্য উদ্যোগ। এটি কেবল সামগ্রী ভাগাভাগি নয়, বরং মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও সহমর্মিতা গড়ে তোলে। যখন রাষ্ট্র বা বড় সংস্থার বাইরে সাধারণ মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তখন সমাজে নীরব পরিবর্তন ঘটে। আমাদের সবার উচিত এই উদ্যোগকে সচল রেখে শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসা।"
এনআই