এইমাত্র
  • ইরানকে সমঝোতায় পৌঁছাতে ১০ দিন সময় দিলেন ট্রাম্প
  • যাকাত: ফরজ ইবাদত, অসহায়ের অধিকার
  • বিদায় হেয়ার রোড: আসিফ নজরুল
  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
  • বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা
  • শিক্ষকদের উৎসব ভাতা নিয়ে বিশাল সুখবর
  • তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠি
  • ইরানে হামলার প্রস্তুতি শেষ, ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় সামরিক বাহিনী
  • তিন বছরে পাঁচ লাখ শ্রমিক নেবে ইতালি, শেষ প্রথম ধাপ
  • ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার
  • আজ শুক্রবার, ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    তামাক চাষের আগ্রাসনের কারণে হুমকির মুখে সবজি চাষ

    মোহাম্মদ রিদুয়ান হাফিজ, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
    মোহাম্মদ রিদুয়ান হাফিজ, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

    তামাক চাষের আগ্রাসনের কারণে হুমকির মুখে সবজি চাষ

    মোহাম্মদ রিদুয়ান হাফিজ, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

    এক সময় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা নানাবিধ সবজি চাষের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে তামাক খেতের আগ্রাসনের কারণে সবজি চাষ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। যেখানে এক সময় চকরিয়া থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে সেখানে বাইরে থেকে সবজি এনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।


    শুষ্ক মৌসুমে মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হতো। কিন্তু অধিক মুনাফার আশায় চাষিরা ধীরে ধীরে চকরিয়া উপজেলাকে তামাকের রম্যভূমিতে পরিণত করেছেন। ফসলি জমিতে পরিবেশবিধ্বংসী তামাক চাষের ভয়াবহ আগ্রাসন চলছে।


     প্রতি বছর মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের তামাক আবাদে নিরুৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ের চাষিদের নিয়ে সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও কোনো উদ্যোগই কার্যকর হচ্ছে না। তামাক কোম্পানিগুলোর লোভনীয় প্রলোভনে পড়ে অন্যান্য বছরের মতো চলতি বছরেও মাতামুহুরী নদীর তীর ও ফসলি জমিতে রেকর্ড পরিমাণ তামাক আবাদ করেছেন চাষিরা।


    ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমির পাশাপাশি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও মাতামুহুরী নদীর দুই তীরের খাস জমিতেও তামাক চাষের ভয়াবহ আগ্রাসন শুরু হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও নদীতীরে তামাক চাষে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপও চোখে পড়ছে না।


    অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন তামাক কোম্পানি চাষিদের তামাক পোড়ানোর সরঞ্জাম সরবরাহ ও অগ্রিম টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিবেশবিধ্বংসী এই তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। কৃষিজমিতে তামাক আবাদ বৃদ্ধির ফলে চলতি মৌসুমে বোরো ধান ও রবিশস্য উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


    সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের বমু বনবিট এবং সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর বনবিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে তামাক চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী বমুবিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, কৈয়ারবিল, বরইতলী, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত এক হাজার একর খাস জমিসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে তামাক আবাদ করা হয়েছে।


    বেশিরভাগ এলাকায় রোপণ করা তামাকের চারা ইতোমধ্যে বড় হতে শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হবে তামাক পোড়ানোর কাজ। এ লক্ষ্যে বনাঞ্চলের আশপাশে এবং লোকালয়সংলগ্ন এলাকায় আগেভাগেই অসংখ্য তামাক চুল্লির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এসব চুল্লিতে পোড়ানোর জন্য পরবর্তীতে হাজার হাজার মণ কাঠ ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।


    কাঠ দিয়ে তামাক পোড়ানোর বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক জানান, কাঠ ছাড়া তামাক পোড়ালে পাতার মান ভালো পাওয়া যায় না। তাই বেশি দাম পেতে এবং তামাকের গুণগত মান নিশ্চিত করতেই কাঠ ব্যবহার করে তামাক পাতা পোড়ানো হয়।


    চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট প্রায় ২২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। এসব জমিতে বোরো ধান, রবিশস্য ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে উপজেলার কিছু কিছু ইউনিয়নে তামাক চাষ হলেও কত পরিমাণ জমিতে তামাক আবাদ হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য কৃষি বিভাগের কাছে নেই বলে জানা গেছে।


    মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী দিগরপানখালী এলাকার তামাক চাষি বেলাল উদ্দিন বলেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় তামাক চাষে লাভ বেশি। এক কানি জমিতে তামাক চাষ করে ছয় মাসে প্রায় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার বেশি লাভ পাওয়া যায়। অন্য সবজি চাষে এতটা লাভ হয় না বলেই চাষিরা সবজি চাষ ছেড়ে তামাকের দিকে ঝুঁকছেন।


    চকরিয়া পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক এম. আর. মাহমুদ বলেন, অন্যান্য বছরের মতো চলতি বছরেও চকরিয়ায় তামাক চাষের ভয়াবহ আগ্রাসন দেখা দিয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ ফসলি জমির পাশাপাশি মাতামুহুরী নদীর দুই তীর এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরেও ব্যাপকভাবে তামাক আবাদ করা হয়েছে।


    তিনি আরো বলেন, এসব তামাক পোড়ানোর জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন সামাজিক বন ও গাছপালা নির্বিচারে নিধন করা হবে। এখনই যদি প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এসব তামাক খেত ধ্বংস না করে, তাহলে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তামাক চাষের কারণে একদিকে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চাষি ও তার পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের মানুষ প্রতিবছর নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।


    চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসি জানান, সরকারিভাবে তামাক চাষ বন্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এরপরও তামাক চাষের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে চাষিদের সচেতন করার চেষ্টা করছে।


    তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে চাষিদেরই বেশি সচেতন হতে হবে। চাষিরা সচেতন হলে বিকল্প ফসল চাষে আগ্রহ বাড়বে। অন্যথায় আবাদি জমি কমে গেলে ফসল উৎপাদন ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।


    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…