বরগুনার তালতলী উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদামে আমন মৌসুমে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমতাবস্থায় ক্ষুব্ধ প্রকৃত চাষিরা তালিকা বাতিল করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত চাষিদের নিয়ে ফের তালিকা করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও ধান ক্রয়ের জন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণা করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি এ কারণে ধান ক্রয়ের বিষয়টি জানেন না অধিকাংশ কৃষক।
অভিযোগ রয়েছে, স্বয়ং তালতলী উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও সরকারি খাদ্যগুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাবিলা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে উৎকোচ নেওয়ার মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে নামমাত্র কৃষক দেখিয়ে প্রকৃত চাষিদের বাদ দিয়ে আমন ধান ক্রয় করেছেন।
জানা যায়, উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারিভাবে ১২৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ৯৯৯ মেট্রিকটন। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৮ গুন বেশি ক্রয় করা হয়েছে। গত বছরের ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবছর প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৪ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৪ টাকা হিসেবে প্রতি মণ ধানের মূল্য ১৩৬০ টাকা। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ ধানের মূল্য ১০০০ থেকে ১০৫০ টাকা। ধান ক্রয়ের জন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।
এমনকি সরকারি খাদ্য গুদামের নোটিশ বোর্ড কিংবা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে আমন ধান ক্রয় সংক্রান্ত কোন ধরনের নোটিশ দেখা যায়নি। এছাড়াও ধান ক্রয়ে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা (৪) এ সংগ্রহযোগ্য খাদ্যশস্যর বিনির্দেশ (এফ.এ.কিউ) নির্দেশনা মানা হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি এবং লটারির মাধ্যমে ধান বিক্রির জন্য কৃষক নির্বাচন করার কথা থাকলেও খাদ্য কর্মকর্তা এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছে মতো ধান ক্রয় করেছেন। তিনি মূলতঃ উৎকোচ নেওয়ার মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় জন্য সিন্ডিকেট করে কোনো প্রচারণা চালানো হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
আমন মৌসুমে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেছেন এমন কয়েকজন কৃষককের সাথে কথা হয়। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, 'খাদ্য কর্মকর্তা নাবিলাকে টন প্রতি ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা ঘুষ দিয়ে ধান বিক্রি করেছেন। যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তাদের ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করার সুযোগ পায়নি। ঘুষ নিয়ে ধান ক্রয়ের কারণে প্রকৃত চাষিরা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।'
অভিযোগ অস্বীকার করে তালতলী উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও সরকারি খাদ্যগুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাবিলা বলেন, 'ধান ক্রয়ের ব্যাপারে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করা হয়েছে এবং আমাদের উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে প্রচার করা হচ্ছে।'
ধান ক্রয় কমিটির সদস্য ও তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ইলিয়াস বলেন, 'কৃষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমি প্রায় ১০০ কৃষককে ধান বিক্রির জন্য অনুমোদন দিয়েছি। কিন্তু বাকি ধান কিভাবে ক্রয় করেছে তা আমার জানা নেই। এবিষয়ে খাদ্য বিভাগের লোকজন বলতে পারেন।'
তালতলী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোসাঃ শারমিন জাহান বলেন, 'আমি কোন অনিয়ম দেখিনা আমি কি বক্তব্য দেব? আমার বিভাগীয় প্রধান এবং জেলা প্রধান কমিটি করে দিছে তারা খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করে গেছে এর আগে ইউএনও স্যার এলিস্যল্ড স্যারকে দিয়ে পরিদর্শন করেছেন। আমি অনিয়ম এর কোন রিপোর্ট পাইনি বা এসিল্যান্ড স্যার বলেনি।'
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, 'কৃষি কর্মকর্তার অনুমোদন ব্যতীত কোন কৃষককের কাছ থেকে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় করার বিধান নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এসআর