পবিত্র রমজান—রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসেই আল্লাহ তাআলা ধনী-গরিবের মাঝে ভ্রাতৃত্বের সেতু গড়ে দিয়েছেন যাকাতের মাধ্যমে। অথচ আমাদের সমাজে আজও অসংখ্য অসহায় মানুষ চিকিৎসার অভাবে, খাদ্যের সংকটে কিংবা ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণ করতে না পেরে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে।
ইসলাম শুধু নামাজ-রোজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ইসলাম মানবতার ধর্ম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন— “তাদের সম্পদে রয়েছে প্রার্থনাকারী ও বঞ্চিতদের অধিকার।” (সূরা আদ-ধারিয়াত: ১৯)।
রমজানে আদায় করা যাকাত শুধু একটি ফরজ ইবাদত নয়, এটি একটি প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ। একজন অসুস্থ শিশুর চিকিৎসা, একজন বৃদ্ধের ওষুধ, একজন বিধবার খাবার—সবকিছুই হতে পারে আপনার যাকাতের টাকায়। হয়তো আপনি জানেন না, আপনার একটি যাকাতই কারও শেষ আশার আলো।
হাদিসে রাসূল ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের একটি দুনিয়াবি কষ্ট দূর করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।” (মুসলিম) আজ প্রশ্ন একটাই—আমরা কি আমাদের ফরজ আদায়ে গাফিলতি করবো, নাকি রমজানের এই বরকতময় সময়ে এগিয়ে এসে বাঁচাবো অসহায়ের প্রাণ? যাকাত যেন শুধু হিসাবের খাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, যাকাত হোক অসহায়ের মুখের হাসি, বাঁচার অবলম্বন।
আসুন, এই রমজানে যাকাত দিয়ে প্রমাণ করি—ইসলাম সত্যিই মানবতার ধর্ম।
এফএস