দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা—বিরামপুর, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ নিয়ে বিরামপুরকে পৃথক জেলা ঘোষণার দাবি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের এই দাবি এখন এই অঞ্চলের সাত লাখ মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও পেশাজীবীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা একযোগে এই দাবি জানিয়ে আসছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনিক নানা কাজের জন্য জেলা সদর দিনাজপুরে যেতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে সময়, অর্থ ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ইব্রাহিম হোসেন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "বিরামপুরকে জেলা করার দাবি নতুন নয়। জেলা হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রশাসনিক সেবা পাবে এবং ভোগান্তি কমবে।"
ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, "হিলি স্থলবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এই বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও কৃষি উৎপাদন এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। জেলা হলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।"
ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান দূরত্বের বিড়ম্বনা তুলে ধরে বলেন, "ঘোড়াঘাট থেকে দিনাজপুর জেলা সদরে যেতে-আসতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। কোনো কাগজ বা সনদ নিতে গেলেই পুরো একটি দিন নষ্ট হয় এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়।"
দিনাজপুর দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরামের (দিদউফ) সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, "চার উপজেলার সমন্বয়ে পৃথক জেলা গঠন হলে প্রশাসনিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা পাবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।"
গণমাধ্যমকর্মী ও পেশাজীবী ঐক্য ফ্রন্ট বিরামপুরের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহমুদুল হক মানিক বলেন, "নির্বাচনী ইশতেহারে বিরামপুরে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান মন্ত্রী এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনি আশ্বাসও দিয়েছিলেন। আমরা আশা করি, তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।"
এলাকাবাসী জানান, ইতিপূর্বে অনেক সরকার কেবল আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমানে দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন চার উপজেলার মানুষের প্রত্যাশা—আর শুধু আশ্বাস নয়, এবার বিরামপুরকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে বহু বছরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হোক।
এনআই