চাকরির পেছনে না ছুটে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কোয়েল পাখির খামার গড়ে তুলেছিলেন সিরাজদিখান উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা সুফিয়ান। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামের মাধ্যচরে অবস্থিত মরিয়ম পোল্ট্রি অ্যান্ড কোয়েল ফার্মে রহস্যজনক এক রোগে শনিবার বিকেল থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোয়েল পাখি।
ভুক্তভোগী খামারি সুফিয়ান বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামের চিনি মিয়ার ছেলে। তিনি জানান, আগে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খামারে লোকসান হওয়ায় তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় প্রায় ৮ হাজার কোয়েল পাখি নিয়ে খামার শুরু করেন।
কয়েক মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর পাখিগুলো ডিম দেওয়া শুরু করে। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি সংসার চালাতেন তিনি। এ খামারকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আরও তিনজন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছিল।
সুফিয়ান বলেন, সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু গত শনিবার বিকেল থেকে হঠাৎ পাখিগুলো ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতি মিনিটে শত শত পাখি মারা যেতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি।
বর্তমানে খামারের ভেতরে মৃত পাখির স্তূপ পড়ে আছে এবং অবশিষ্ট পাখিগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, খামারটি গড়ে তুলতে তার বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৯ লাখ টাকা। এর বড় একটি অংশ এনজিও ও বিভিন্ন উৎস থেকে নেওয়া ঋণ। একদিনের এই মড়কে তার আনুমানিক সাড়ে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঋণের বোঝা ও খামারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
এ বিষয়ে বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলেক চান সজীব বলেন, পুরো পরিবারটি এই খামারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সুফিয়ানের এমন ক্ষতি সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শবনম সুলতানা জানান, প্রাথমিকভাবে কোয়েল পাখিগুলোর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি শনাক্ত করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে কী কারণে পাখিগুলো মারা যাচ্ছে।
পিএম