ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্বে মো. সরওয়ার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে নতুন কেউ যোগদান না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) শামিমা ইয়াছমিন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। যদিও তার চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ছিল।বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা শেখ মো. সাজ্জাত আলী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের নভেম্বরে চাকরিচ্যুত হন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ভূতাপেক্ষভাবে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে।এফএস
সেনাবাহিনীর আরও ৬ উচ্চ পদে রদবদল
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ৮টি পদে রদবদল আনা হয়েছিল।ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) করা হয়েছে। কিউএমজির দায়িত্ব পালন করা আসা লে. জেনারেল ফয়জুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন লে. জেনারেল শাহীন। লে. জেনারেল ফয়জুরকে এনডিসিতে বদলি করা হয়। এছাড়া সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেন আল মোরশেদকে ১৯ পদাতিক ডিভিশন থেকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাকিমুজ্জামানকে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট করা হয়। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লজিস্টিক এরিয়ার জিওসি হিসবে বদলি করা হয়।এফএস
জাতীয়
সব দেখুন
কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার স্থগিত
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫–এর জন্য মনোনীত হয়েও পুরস্কার পাননি কবি মোহন রায়হান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।এদিন দুপুরে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।গত সোমবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়। এতে কবিতায় মোহন রায়হানের মনোনীত হওয়ার তথ্য জানানো হয় বাংলা একাডেমির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।এ ব্যাপারে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে আবার পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। আগের সরকারের সময় বাংলা একাডেমি তাঁকে এ পুরস্করের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’কোন ধরনের অভিযোগ মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে ছিল, এ প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে এখন কথা বলা যাবে না। বিষয়টি যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলা যাবে না।সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তাই তাঁকে আপাতত পুরস্কার দেওয়া হয়নি। আমরা অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখছি। সেগুলো বিবেচনার পর নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে।’ফেসবুক পোস্টে মোহন রায়হান বলেন, ‘আপনারা অবগত আছেন এবার ২০২৫ বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার (কবিতায়) আমাকে প্রদান করা হয়েছিল। এই পুরস্কার আমার একদমই প্রত্যাশা ছিল না। আমি একজনের কাছেও পুরস্কারের জন্য তদবির করিনি। পুরস্কার কমিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে নির্বাচিত করে।’৪১ বছর আগে লেখা কবিতার জন্য পুরস্কার বাতিল করার তথ্য উল্লেখ করে মোহন রায়হান বলেন, ‘গতকাল পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ডেকে এসএসএফ পুরস্কার গ্রহণের রিহার্সালও প্রদান করে। যথারীতি আজ পুরস্কার গ্রহণের জন্য এসে জানতে পারলাম, ৪১ বছর আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা আমার ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে একটি মহল আমার পুরস্কার বাতিল করিয়েছে।’পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেও তা না দেওয়া কবিকে অসম্মান করা কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘মনোনয়ন আমরা দিই না। এটা বাংলা একাডেমি দেয়। আমরা এখন শুধু অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছি। এটা সাময়িক সমস্যা। দু–এক দিনের মধ্যেই পুরস্কার ঘোষণা করা হতে পারে।’কবি মোহন রায়হান বর্তমানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি। নাম ঘোষণার পরেও তাঁকে পুরস্কার না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘মোহন রায়হানের কবিতা ও লেখালেখি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার স্বার্থে সাময়িকভাবে পুরস্কার স্থগিত করেছে। এটা পরীক্ষা–নিরীক্ষা হয়ে গেলে আমরা অবিলম্বে এটা জানাব।’এমআর-২
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ বাংলাদেশি
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭৫ জন বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তারা দেশে ফিরেছেন।প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তাদের এ দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।এমআর-২
‘ঈদযাত্রা সহজ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বাড়বে না ভাড়া’
নৌপথে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ, রেল, সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি। তিনি জানান, ‘নৌপথে ঈদে যাত্রা নিরাপদ করতে ২৬টির মতো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে।’বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিতকরণার্থে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ কথা জানান তিনি। চাঁদা ও চাঁদাবাজি এক নয় জানিয়ে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, চাঁদাবাজি অপরাধ, সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। নৌপথে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, ভাড়া বাড়বে না।তিনি বলেন, চাঁদাবাজি হচ্ছে সেটা জোর করে আদায় করা হয়। চাঁদাবাজি থাকবে না সড়কে। শ্রমিক মালিকের সমঝোতায় আদায়কৃত অর্থ চাঁদাবাজি নয়। এটা শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় হয়।পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদযাত্রায় নতুনত্ব সফলভাবে করতে পারার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই।এমআর-২
‘শিগগিরই পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে’
পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়াও শিগগিরই ১০ হাজার কনস্টেবলও নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি মেনে তাদের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে পরে তা জানানো হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠনের জন্য পত্র জারি করা হয়েছে।এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় পুলিশ সার্জেন্টের শূন্যপদ থাকায় ১৮০টি পদে দ্রুত নিয়োগ দেয়া হবে। প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে এসব নিয়োগ সম্পন্ন হবে।এমআর-২
দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চাই: তারেক রহমান
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি বইমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলার আয়োজন করা হয়। তবে আমাদের বইমেলা অন্য দেশের বইমেলার মতো নয়। আমাদের বইমেলা আমাদের মাতৃভাষার ভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত।তবে প্রতি বছর মেলার আকার আয়তন বাড়লেও সেই হারে গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হচ্ছে কিনা কিংবা মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কিনা এই বিষয়গুলো নিয়েও বর্তমানে চিন্তা ভাবনার অবকাশ রয়েছে।বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জার্মান দার্শনিক ‘মারকুইস সিসেরো’র একটি উক্তি এখানে আমি খুবই প্রাসঙ্গিক মনে করছি। তিনি বলছিলেন, ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো’। বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বলছেন, বই শুধুমাত্র বিদ্যা শিক্ষা কিংবা অবসরের সঙ্গীয় নয় বরং বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে যেটি মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায়। এমনকি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগেরও ঝুঁকি কমায়।অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার মেলা নয় বরং মেলা হয়ে উঠুক শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের ১০২টি দেশের নাগরিকদের পাঠাভ্যাস নিয়ে একটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন জরিপের ফলাফল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বই পড়ার শীর্ষে রয়েছেন। তালিকার সর্বনিম্নে রয়েছে আফগানিস্তান। বইপ্রেমীদের এই তালিকায় ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশের একজন মানুষ গড়ে বছরে তিনটির মতো বই পড়েন। আর বই পড়ার পেছনে বছরে ব্যয় করেন মাত্র ৬২ ঘণ্টা সময়।তিনি বলেন, অমর একুশে বইমেলা শুধুমাত্র নিছক একটি উৎসবই হবে না বরং এই মেলা আমাদের আরও বইপ্রেমী করে তুলবে, নিয়মিত বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলবে, আজকের এই বই মেলায় দাঁড়িয়ে এটিই আমার প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি মনে করি বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে মাতৃভাষা ছাড়াও আরো একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া জরুরি। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি এবং সম্মানের সঙ্গেটিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ জন্য আমাদের জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-প্রযুক্তিতে মেধায় নিজেদের সমৃদ্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।এমআর-২
বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই মেলার দ্বার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।বাংলা একাডেমি আয়োজিত এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবারের বইমেলা। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ খোলা থাকবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকেই দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে রাত সাড়ে ৮টার পর মেলায় নতুন করে প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে।এ বছর মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮টি।সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় সাজানো হয়েছে ‘লিটল ম্যাগাজিন চত্বর’, যেখানে ৮৭টি স্টল স্থান পেয়েছে। শিশুদের জন্য বরাবরের মতোই থাকছে বিশেষ আয়োজন। শিশু চত্বরে মোট ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য থাকবে বিশেষ ‘শিশুপ্রহর’।মেলার নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রতিদিন বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার। এরপর বিকেল ৪টা থেকে শুরু হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।বইমেলাকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মেলা প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।এইচএ
রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মাহমুদা আক্তার জেরিন (২৭) নামের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বেসরকারি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, খবর পেয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের সি ব্লকের একটি ৬তলা বাসা থেকে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।তিনি জানান, ওই শিক্ষার্থীকে নিজ রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। আত্মহত্যার কারণ জানার চেষ্টা করছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহতের মামা মহসিন জানান, জেরিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাসিন্দা খোরশেদ আলীর মেয়ে।এইচএ
প্রধানমন্ত্রীকে লাল গোলাপ উপহার দিলেন শফিক রেহমান
দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক-২০২৬ প্রদান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সম্মাননা প্রদান করেন তিনি। এ সময় তাকে লাল গোলাপ উপহার দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান।চলতি বছরে সাংবাদিকতায় একুশে পদক পেয়েছেন শফিক রেহমান। পুরষ্কার গ্রহণ করতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ৩টি গোলাপ উপহার দেন তিনি। তারেক রহমান হাসি মুখে সেই গোলাপ গ্রহণ করেন।এ ছাড়াও জাতীয় জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় যারা গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখেছেন, তাদের এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে সম্মানিত করা হচ্ছে। এবারের একুশে পদক পাচ্ছেন— চলচ্চিত্রে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ। এ ছাড়া সংগীত দল হিসেবে ব্যান্ড ওয়ারফেজকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী বিকেলে অংশ নেবেন দেশের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক সমাবেশ ‘অমর একুশে বইমেলা’র উদ্বোধনী আয়োজনে।এইচএ
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন বাদশা
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন বগুড়া-৬ থেকে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রেজাউল করিম বাদশাকে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এই তথ্য জানান।তিনি ফেসবুক পোস্ট করে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাইকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হলো।গুঞ্জন ছিল এই আসন থেকে জিয়া পরিবারের কেউ উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত হয় জিয়া পরিবারের কেউ এখান থেকে নির্বাচন করছেন না।গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এমআর-২
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন বাদশা
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন বগুড়া-৬ থেকে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রেজাউল করিম বাদশাকে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এই তথ্য জানান।তিনি ফেসবুক পোস্ট করে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাইকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হলো।গুঞ্জন ছিল এই আসন থেকে জিয়া পরিবারের কেউ উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত হয় জিয়া পরিবারের কেউ এখান থেকে নির্বাচন করছেন না।গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এমআর-২
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় শামীমা আক্তার রুবী
সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে কারা মনোনয়ন পাবেন-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত আসন বণ্টনকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।গেজেট অনুযায়ী, ৩৫ সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি জোট এবং ১৩টি জামায়াত জোট পেতে পারে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে। অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ইসিতে পাঠাবে। এরপর তফশিল ঘোষণা করা হবে।ইসি সূত্র জানায়, সংসদ সচিবালয় তালিকা পাঠালেই তফশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হবে এবং পরিকল্পনা রয়েছে ঈদের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দলটি। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ও তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে। দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই মূল সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একাধিক নারী নেতৃত্ব। তারমধ্যে অন্যতম কেন্দ্রীয় মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার রুবী। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসন আমলের পুরোটা সময় জুড়ে ছিলেন রাজপথে। দেশের বাইরে যেখানেই ফ্যাস্টিস হাসিনার আগমন সেখানেই ছিলো প্রবাসী নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ। আর এই প্রতিরোধের অগ্রভাগে ছিলেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শামীমা আক্তার রুবী। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৭ বছরের শাসন আমলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি, দুর্নীতি দুঃশাসন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা, বাংলাদেশের সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার উপর মিথ্যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মূলক মামলা ও প্রহসন মুলক রায়ে কারাবন্দির প্রতিবাদ, দলের চেয়ারম্যানে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা রাজনৈতিক হয়রানি মামলারা সাজর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামীমা আক্তার রুবী ছুটে গেছেন ইউরোপ, জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট, ইউরোপিয়ান কমিশন, ইউরোপিয়ান প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন জেনেভাতে নানা কর্মসূচি বিক্ষোভ প্রতিবাদ, মিটিং মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, এম্বাসির ঘেরাও কর্মসূচি, স্মারকলিপির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছি তিনি। গ্রেফতার আতঙ্কের মধ্যেও ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে এসে অংশগ্রহণ করেন জুলাই আন্দোলনে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ি আন্দোলনে রাজপথের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর বাংলাদেশের রাজপথে যেমন সক্রিয় ছিলেন তেমনিভাবে বহির্বিশ্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপ আমেরিকা সহ ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট, ইউরোপীয়ান কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, আন্তর্জাতিক আদালত, জাতিসংঘসহ যেখানে হাছিনা সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তাঁর প্রতিটি মিটিং মিছিলে থেকে রাজনীতি করেছেন। মহিলা দলের পক্ষে থেকে বহুবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্টেজে বক্তব্য রেখেছেন। ঢাকা -১৭ এবং কুমিল্লা -৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহ সমন্বয়ক, ও প্রচার প্রচারণা ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিকভাবে দক্ষ ও সাংগঠনিকভাবে যথেষ্ট সুপরিচিত। বিগত স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন যেমনি ছিলেন রাজপথে তেমনি ছিলেন দুঃসাহসিক লেখক পত্রিকায় সম্পাদকীয় কলাম লেখালেখি করতেন। বেগম জিয়ার নামে মুক্তি চাই শিরোনামে একটি গান লিখেছেন যা মিডিয়া সেলে প্রচারিত হয়েছে ইথুন বাবুর সুরে মৌসুমি ও পরানের কণ্ঠে তারুণ্যের সমাবেশে প্রচারিত হয়েছে যা সারা বাংলাদেশের জনতার স্রোতে জনতার হৃদয়ে স্থান পেয়েছে।ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত শামীমা আক্তার রুবী। ১৯৯০ এরশাদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসী আদর্শকে লালন করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে ইমন আদি ও হাবীব পরিষদে ছাত্রদলের প্যানেলে ব্যালট ও মাইলা সম্পাদিকা পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।১৯৯৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটে পিজিডিতে অধ্যয়নরত অবস্থার ছাত্র রাজনীতি সক্রিয় থাকেন তিনি। ২০০১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে গমন করেন। ফ্রান্স বিএনপির সাথে একত্রে কাজ করেন, এবং বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ফ্রান্স শাখার সহ সভাপতি পদে আছেন রুবী।২০০৫-২০০৯ সালে জাপানে অবস্থান করেন এবং সেখানে গিয়ে দলের জন্য কাজ করেন। ২৫শে এপ্রিল ২০১৬ তে 'জাতীয়তাবাদী নাগরিক মুক্তি পরিষদ" নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন যা ফ্রান্সের সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন তিনি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বাংলাদেশের সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম খুন হত্যা ধর্ষণ সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির লক্ষ্য কাজ করে জাতীয়তাবাদী নাগরিক মুক্তি পরিষদ। আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি শামীমা আক্তার রুবী বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন একাধিক সামাজিক পুরস্কারএক প্রতিক্রিয়ায় শামীমা আক্তার রুবী বলেন, সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপি হলে দেশের জন্য দেশের নারীদের জন্য আমার স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে-১️. নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন•গ্রামে গ্রামে নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা।•বেকার তরুণী ও স্বল্পশিক্ষিত নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন (আইটি, হস্তশিল্প, কৃষিভিত্তিক কাজ)।•স্থানীয় বাজারে নারীদের পণ্যের জন্য আলাদা কর্নার/ই-কমার্স সংযোগ।২️ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন•স্কুলছুট মেয়েদের পুনরায় শিক্ষায় ফেরানো।•ডিজিটাল শিক্ষা ও ফ্রি কোচিং সাপোর্ট।•উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের স্কলারশিপের ব্যবস্থা বাড়ানো।৩️ নারী ও শিশুর নিরাপত্তা•বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর মনিটরিং।•থানায় ও প্রশাসনে নারী সহায়তা ডেস্ক সক্রিয়করণ।•সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও আইনি সহায়তা সেল গঠন।৪️ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন•মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা জোরদার।•গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নারী চিকিৎসক নিশ্চিতের উদ্যোগ।•মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য করা।৫️ নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা•সংসদে নারীর অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে সোচ্চার থাকা।•এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা।•জনগণের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভা।সংরক্ষিত আসন শুধু একটি পদ নয়—এটি নারীদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করার একটি দায়িত্ব।আমি চাই, আমার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে যে সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরাও উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারেন।পিএম
গোপন বিষয় প্রকাশ করে শপথ ভেঙেছেন রাষ্ট্রপতি: জামায়াত
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রের গোপন বিষয়ের মতো আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি তার এই সাক্ষাৎকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার বক্তব্য জাতির সামনে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। সংবিধান, রাষ্ট্রীয় শপথ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে তিনি জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে থেকে এমন বক্তব্য প্রদান করে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, যা রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমর্যাদার সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাংবিধানিক শালীনতা বজায় রাখা প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সংযত ও পরিমিত বক্তব্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বক্তব্য প্রদান করতে হবে এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও সতর্ক থাকতে হবে।এমআর-২
প্রধানমন্ত্রীকে স্বপরিবারে ইফতারের দাওয়াত জামায়াতে ইসলামীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতার অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। আন্তরিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দাওয়াতপত্র নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করে জামায়াতের প্রতিনিধি দল।সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য এ সাক্ষাতে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মুঠোফোনে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির সব বিতর্কের জায়গা যেন সংসদ হয়। এর সমর্থন জানিয়ে জামায়াত নেতারা বলেন, রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হতেই পারে। তবে অতীতের মতো রাজনীতিতে খারাপ চর্চা যেন না হয়। সরকারকে মূল্যায়নের সময় এখন হয়নি। জাতি অপেক্ষা করছে ভালো কিছুর জন্য। বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় ও সহংহিতর মধ্য দিয়ে দেশটিকে এগিয়ে নেয়ার আশা প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি।এমআর-২
অনুদানের অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা তাসনিম জারার
নির্বাচনী তহবিলে অনুদানের অর্থ ফেরত দেওয়া ঘোষণা দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তাসনিম জারা।ফেসবুকে তাসনিম জারা লিছেন, ‘আমাদের নির্বাচনী তহবিলে যে আপনারা অনুদান দিয়েছিলেন, তার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে যারা প্রদত্ত অনুদান ফেরত পেতে চান, তারা দয়া করে নিঃসংকোচে এই ফর্মটি পূরণ করে অর্থ ফেরত নিন।আপনি ব্যাংকে অনুদান দিয়ে থাকলে, এই ফর্মটি পূরণ করুন: https://forms.gle/9a3H74yrLFFeJoFw8’তাসনিম জারা আরো লেখেন, ‘যারা সরাসরি ব্যাংকে ক্যাশ জমা দিয়েছিলেন, তারা ডিপোজিট স্লিপ হারিয়ে গেলে বা না থাকলেও আবেদন করুন। সেক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। বিকাশে অনুদান দিয়ে থাকলে, এই ফর্মটি পূরণ করুন : https://forms.gle/NKTkkNVZvUvyrsGYA’ফেসবুকে তাসনিম জারা লেখেন, ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ : ১০ মার্চ, ২০২৬। আপনাদের আস্থা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা।এইচএ
হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী শেওড়াপাড়া এলাকায় কাফরুল পশ্চিম থানার উদ্যোগে আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা জানান, আজকের ইফতার মাহফিলে জামায়াত আমিরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি যাত্রাও করেছিলেন। হঠাৎ যাত্রাপথে তিনি বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যান। যার কারণে তিনি প্রোগ্রামস্থলে আসতে পারেননি। সবাই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন জানান, আমরা জামায়াত আমিরের জন্য দোয়া করি—আল্লাহ যেন ওনাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন। জাতি আশা করেছিল তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। যে কোনো কারণে তিনি হেরে গিয়ে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন। ইনশাআল্লাহ তিনি প্রমাণ করবেন বিরোধীদলীয় নেতার আদর্শ কেমন হওয়া উচিত।এমআর-২
রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য জামায়াত আমিরের
সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৫টা ৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে ওই মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে জামায়াত আমির লিখেন, ‘৫ আগস্ট ২০২৪ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছুই চেপে গেছেন। কথিত পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে উনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যা বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে জাতিকে যা জানিয়েছিলেন, তার বর্তমান বক্তব্যে তিনি তা স্বীকার করেননি। আর এখন যা বলছেন, সেদিন তার কিছুই তিনি বলেননি। কোটি-কোটি মানুষ যা শুনলো এবং সেদিন তিনি যা বললেন আর এখন যা বলছেন তার হিসেব রাষ্ট্রপতি মিলিয়ে দেবেন কি?’তিনি আরও বলেন, জাতি অবুঝ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এ রকম আচরণ অগ্রহণযোগ্য।সম্প্রতি বাংলাদেশের দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কিছু ক্ষোভও প্রকাশ করেন।তিনি বলেছেন, তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তবে বিএনপি ও সামরিক বাহিনী সমর্থন না দেওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি।এমআর-২
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিচয় পেয়েও সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করার সময় বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর লাঠিচার্জ করে একদল পুলিশ সদস্য। বারবার নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ।জনগুরুত্বপূর্ণ এই অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভ করছিলেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইভ চলাকালীন কোনো উসকানি ছাড়াই একদল পুলিশ সদস্য এসে তোফায়েলকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পুলিশ। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং একের পর এক লাঠির আঘাত করা হয়।ঘটনাস্থলে উপস্থিত আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসের আহম্মেদ রিপন বলেন, ‘পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তোফায়েলকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এতটাই মারমুখী ছিলেন যে, তারা আমাদেরও লাঠিপেটা করে।’পুলিশের পিটুনিতে গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।মাথায় ও পিঠে আঘাতের ফলে তার রক্তক্ষরণ হয়। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের (লাঠি) আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অপেশাদার আচরণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে সংবাদকর্মীদের ওপর এমন হামলাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘যেহেতু ভিডিও ফুটেজ আছে, তাই ভিডিও দেখে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন আক্রমণ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল। তারা অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।অপরাধ দমনের নামে পুলিশের এমন ‘বেপরোয়া’ আচরণ খোদ বাহিনীর ইমেজকে সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয়। তাছাড়া অতি উৎসাহী এসব পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।এবি
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
রাজধানীর হাজারীবাগে একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- শেখ রোমান (৩৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২) ও তাদের ছেলে রুহান (৩), ও রোমানের শ্যালক অপু (২৩)। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়েছে।দগ্ধ রুমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তিনি একটি রিয়েল এস্টেট কম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকেন। দগ্ধ রোমানের ভাই মামুন বলেন, পূর্ব রায়েরবাজারের একটি ৬ তলা ভবনের নিচতলায় ভোর ৪টার দিকে রান্না করতে গ্যাসের চুলা জ্বালালে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে র্তি করা হয়।বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, দগ্ধ ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে শেখ রোমানের শরীরের ৭০ শতাংশ, পিংকি আক্তারের ৭৫ শতাংশ, রুহানের শরীরের ৩৫ ও অপুর শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।এমআর-২
মার্কেট বন্ধ করা সেই চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার করে মাইকিং করল পুলিশ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মার্কেট বন্ধ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এক চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়েই এলাকায় মাইকিং করা হয়। পুলিশ জানায়, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না।এফএস
রাজধানীতে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ জনের
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মীর হাজারীবাগের গুন্ডিগড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহতদের একজন আজিজুল ইসলাম (৪৫)। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু জানান, মীর হাজারীবাগ গুন্ডিগড় এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার একটি সংবাদ পেয়েছি। একটি লেগুন যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় বাহাদুরশাহ পরিবহনের একটি বাস সামনে থেকে লেগুনাটিকে সজরে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাহাদুরশাহ পরিবহন জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে।এমআর-২
আদাবরে চাঁদা না পেয়ে কারখানায় সশস্ত্র হামলা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার পর এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন। পরে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন, মারুফ ও হাসান।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আদাবরের ১৭ নম্বর রোডে এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেড় শতাধিক লোক হামলার বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন।স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় আবির এমব্রয়ডারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের কারখানায় আকস্মিকভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা হামলা চালায়। এ সময় ওই কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের ভাতিজা মারুফ হাসান সুমন। তিনি জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেল নামের স্থানীয় এক কিশোর গ্যাং সদস্য তার চাচার কাছে ঈদ উপলক্ষ্যে চাঁদা দাবি করে। তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় সন্ধ্যায় রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের কারখানায় হামলা চালায়। এ সময় কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলছেন, আদাবরের কিশোর গ্যাং লিডার রাসেল ওরফে কালা রাসেলের নেতৃত্বেই আজকের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা মূলত আদাবরের আরেক কিশোর গ্যাং লিডার রানার অনুসারী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করে থাকে। এই রানা আদাবর ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদার দাবিতে হামলা চালায়। তবে জীবননাশের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাসিন্দারা এসব তথ্য জানান।এদিকে, এই ঘটনার বিচারের দাবিতে রাত সাড়ে ১০টায় আদাবর থানা ঘেরাও করেন এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের আদাবর থানার সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদাবর থানার সামনে আজ শতাধিক লোক জড়ো হয়েছিল। আবির এমব্রয়ডারি কারখানায় একটি ঘটনা ঘটার প্রেক্ষিতে তারা থানার সামনে অবস্থান নেয়। গতকাল ওই কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তিনি আরও জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেলের আদাবর ১৬ নম্বরের বাসায় শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ঘেরাও করলে পুলিশ তার বাবাকে হেফাজতে নেয়। এরপর সেখান থেকে শ্রমিকরা বিচারের দাবিতে থানার সামনে জড়ো হয়। আদিব এমব্রয়ডারির মালিক জহির ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।এবি
মেহেরপুরে ২৪টি পরিবারের মাছ ধরার জাল পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা
রাতের আঁধারে ২৪টি পরিবারের স্বপ্ন ও আয়ের উৎস পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ ধরার জাল আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।ঘটনাটি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের মটমুড়া ক্লাব বাজার এলাকায় ঘটে।ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা ২৪টি পরিবার একসঙ্গে মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমাদের সংসার এই জালের ওপর নির্ভরশীল। অথচ কারা যেন রাতের আঁধারে আমাদের জালগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমরা কী খাবো, কীভাবে আয় করবো? নতুন করে জাল কিনতে বর্তমানে প্রায় চার লাখ টাকা লাগবে। যদি আমাদের ওপর কারও এত রাগ থাকতো, তাহলে আমাদের গায়ে আঘাত করলেও সহ্য করতে পারতাম। কিন্তু এত বড় ক্ষতি কীভাবে সামাল দেবো?”আরেক মাছ ব্যবসায়ী মহিবুল হোসেন বলেন, “আমরা ঋণ নিয়ে দুটি জাল কিনে মাছের ব্যবসা করি। কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি ২৪টি পরিবার এই জালের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করি। যতদিন পর্যন্ত নতুন জাল কেনার টাকা জোগাড় করতে না পারবো, ততদিন আমাদের বসে থাকতে হবে। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করছে। দোষীদের ধরতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।এসআর
যশোরে এক কোটি ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ১
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গাজীর দরগাহ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৫৮২ গ্রাম ওজনের ৫টি সোনার বারসহ একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে আব্দুর রউফ (৪২) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক আব্দুর রউফ যশোরের শার্শা উপজেলার লাউতারা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।যশোর-৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টিম বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার গাজীর দরগাহ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কের ওপর অবস্থান নেয়। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি করে আব্দুর রউফকে আটক করা হয়। তার প্যান্টের পকেটে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৫৮২ গ্রাম ওজনের ৫টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। জব্দকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার ১৬০ টাকা। এছাড়া তার কাছ থেকে ২টি মোবাইল এবং নগদ ১০ হাজার ৬৯০ টাকা জব্দ করা হয়।তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি জানান- তিনি ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকার চোরাকারবারীদের কাছ থেকে এই স্বর্ণ সংগ্রহ করে যশোর ও ঝিকরগাছা হয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বেনাপোল যাচ্ছিলেন। মামলা দায়েরের পর তাকে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এসআর
জীবননগরে থানা পুলিশের অভিযানে ১ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৩
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে জীবননগর উপজেলার ৫নং হাসাদহ ইউনিয়নের পুরোন্দপুর গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- জীবননগর উপজেলার পুরোন্দপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে মো. জিয়াউর রহমান (৩৫), রাঙামাটি জেলার শুভলং থানার পাগলা সূরা গ্রামের সৈমাংপু চাকমার ছেলে রিপন চাকমা (৩২) ও মং পূজাইনের ছেলে মং চাকমা (২৫)।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরোন্দপুর এলাকায় অবস্থানরত মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে এ অভিযান চালানো হয়।তল্লাশির সময় তিনজনের দেহ থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আটক করে জীবননগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।জীবননগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ধটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এসআর
নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদ শেখের ৯০তম জন্ম বার্ষিকী পালিত
নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহম্মদ শেখের ৯০তম জন্ম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নড়াইল সদরের চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের নূর মোহম্মদ নগরে এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট্রের উদ্যোগে কুরআনখানি, র্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও গার্ড অব অনার প্রদান, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল এর আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে নূর মোহম্মদ নগরে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নূর মোহাম্মদের স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। পরে স্মৃতিস্তম্ভে নড়াইল জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাষ্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।জেলা পুলিশের একটি চৌকষ বাহিনী রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান শেষে ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আহসান মাহমুদ রাসেল, নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার টি. এম রাহসিন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার বডিউজ্জামান, মেহেদী হাসান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদের ছেলে মোস্তফা কামাল, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর পরিবারের সদস্য, শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমানে নূর মোহাম্মদ নগর)। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা।ইখা
মাগুরায় ভিজিএফ চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ
ঈদ উপলক্ষে মাগুরায় সরকারি বরাদ্দের চাল (ভিজিএফ) বিতরণের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাগুরা সদরের পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাটিকাডাঙা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি তারিকুল শেখ ও একই ওয়াডের বিএনপি নেতা আবু মিয়ার সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮-১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত চাল বিএনপির সমর্থকদের মাঝে কার্ড বিতরণের ভাগাভাগি করা নিয়ে কয়েকদিন আগে থেকেই উত্তেজনার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। এলাকার লোকেরা শান্তশিষ্টভাবে বিতরণের কথা বললেও মাতব্বররা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফেলেন। একদিকে রমজান মাস অন্যদিকে এলাকায় অশান্তি কাম্য নয় বলে জানায় স্থানীয়রা।মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলি সাদিক বলেন, পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তারিকুল শেখ ও একই ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আবু মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে এক পর্যায়ে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়।এদিকে, বুধবার রাতেই বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতির অফিস ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।ইখা
আনোয়ারায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে বসতঘরে আগুন, বৃদ্ধা দগ্ধ
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে একটি বসতঘর পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় এক বৃদ্ধা দগ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর চাতরী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রূদুরা গ্রামের বড়ুয়াপাড়া এলাকায় সুব্রত মাষ্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নাম দিবাকর বড়ুয়া (৪৫)। তিনি আনোয়ারা উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।দগ্ধ হয়েছেন তাঁর মা টকি বড়ুয়া (৭০)। তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের আনুমানিক ২০শতাংশ পুড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় হঠাৎ ঘরের ভেতরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরের রান্নাঘর পুড়ে যায়। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা টকি বড়ুয়া আগুনে দগ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।দিবাকর বড়ুয়া বলেন, ‘আমার মাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মুখের চামড়া, দুই হাত ও পাায়ের কিছু অংশ পুড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী জনি বড়ুয়া বলেন, আগুন লাগার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কিছুক্ষণের মধ্যে ঘরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে রাস্তা সরু হওয়ায় একটি ইউনিট মাঝপথ থেকে ফিরে আসে। অন্য ইউনিটের সদস্যরা গাড়ি রেখে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনেন।আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘রাস্তা সরু ও রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন বৃক্ষরাজির কারণে আমাদের ঘটনাস্থলে গমনে চরম বেগ পেতে হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২ হাজার টাকা এবং প্রায় ১০ লক্ষ টাকা পরিমাণ মূল্যের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।’এনআই
সাতকানিয়ায় ফুটপাত থেকে ‘হাসিলের’ নামে চাঁদাবাজি’, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র কেরানীহাট কাঁচাবাজার ও গরুর বাজার প্রতিবছর নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হলেও, বাজারের বাইরের ফুটপাত—যা সম্পূর্ণ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা—সেখান থেকে ‘হাসিল’ আদায়ের নামে চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভাসমান দোকানিদের অভিযোগ, ইজারার সীমা অতিক্রম করে ফুটপাত দখল থেকে প্রতিনিয়ত টাকা আদায় করা হচ্ছে; না দিলে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, কেরানীহাটের ফুটপাতে ভাসমানসিহ ছোট-বড় দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে মাসে কয়েক লাখ টাকার মতো অর্থ উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থের কোনো সরকারি হিসাব নেই।জানা যায়, কেরানীহাটের কাঁচাবাজার ও গরুর বাজার ইজারা দেওয়া হয় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারিত শর্তে। ইজারা দলিলে সাধারণত বাজারের নির্দিষ্ট সীমানা, স্টল/শেড ও ভেতরের জায়গা থেকে নির্ধারিত হারে ফি আদায়ের অনুমতি থাকে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই ইজারাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বাজারসংলগ্ন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-বান্দরবান মহাসড়কের পাশে থাকা ফুটপাত—যা সওজের অধীন সরকারি জমি—সেখান থেকেও ‘হাসিল’ আদায় করা হচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, ফুটপাত বাজারের ভেতরের অংশ নয়, এটি জনসাধারণের চলাচলের পথ। তবুও প্রতিনিয়ত নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে ‘ইজারার টাকা’ বলে।কেরানীহাটের ফুটপাতে ফল, চা-নাশতার অস্থায়ী দোকান বসানো কয়েকজন বিক্রেতা জানান, প্রতি হাটবার ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।এক ভাসমান বিক্রেতা বলেন, আমরা গরিব মানুষ, ফুটপাতে বসে দুই টাকা রোজগার করি। প্রতিদিন লোক এসে টাকা নিয়ে যায়। না দিলে বসতে দেয় না, মালামাল ফেলে দেওয়ার ভয় দেখায়।আরেক দোকানি অভিযোগ করেন, ইজারা বাজারের, কিন্তু টাকা নেয় ফুটপাত থেকে। এই টাকা কোথায় যায়, আমরা জানি না।সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কের পাশে থাকা ফুটপাত সরকারি সম্পত্তি; সেখানে স্থায়ী বা অস্থায়ী দোকান বসানো এবং অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। স্থানীয় সরকার আইন ও ফৌজদারি বিধান অনুযায়ী, সরকারি জায়গা দখল করে অর্থ আদায় চাঁদাবাজির শামিল—যা দণ্ডনীয় অপরাধ।আইনজ্ঞদের মতে, বাজার ইজারা থাকলেও তা কেবল নির্ধারিত সীমানার মধ্যে প্রযোজ্য। ইজারার বাইরে, বিশেষ করে সওজের জমি থেকে টাকা আদায় বেআইনি এবং এটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও প্রশাসনের তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ ভাগ করে নির্দিষ্ট লোকদের মাধ্যমে টাকা তোলা হচ্ছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পরপর এসে সংগ্রহ করা হয় নগদ টাকা। অনেকেই অভিযোগ করছেন, এটি ইজারাদারের নাম ভাঙিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিচালনা করছে।একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, কাগজে-কলমে বাজার ইজারা আছে, কিন্তু ফুটপাতের হাসিল আলাদা সিন্ডিকেট তোলে। প্রশাসন দেখেও যেন না দেখার ভান করছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান হলেও কয়েকদিন পরই আবার আগের মতো ফুটপাত দখল হয়ে যায় এবং হাসিল আদায় শুরু হয়।জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ফুটপাত সওজের জায়গা, সেখান থেকে কোনো হাসিল আদায়ের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, বাজারের ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ফুটপাত থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাকে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সরকারি ইজারায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না।এফএস
কুমিল্লায় জমতে শুরু করেছে ঈদের বাজার: দেশি পোশাকের ভিড়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের দাপট
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লা নগরীর বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটার আমেজ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইফতারের পর থেকে ক্রেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। কেনাকাটায় নারীরাই এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিদেশি পোশাকের আধিপত্যে ক্রমেই আড়ালে চলে যাচ্ছে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক। পাকিস্তানি ও ভারতীয় ব্র্যান্ডের থ্রি-পিস ও পার্টি ড্রেসে সয়লাব দোকানপাট। এর ভিড়ে স্বকীয়তা হারানোর শঙ্কায় পড়েছে দেশি সুতির শাড়ি, জামদানি ও কাতান।রমজানের প্রথম সপ্তাহ পার হতেই নগরীর কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ ও চকবাজারসহ প্রধান প্রধান বিপণিবিতানগুলোতে সন্ধ্যার পর ভিড় বাড়ছে। আলোকসজ্জা আর নতুন কালেকশনের ব্যানারে জমে উঠছে ঈদের পরিবেশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার এখনো পুরোপুরি জমেনি; তবে দশ থেকে বারো রমজানের পর বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হবে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর খন্দকার হক টাওয়ার, সাত্তার খান শপিং কমপ্লেক্স, প্ল্যানেট এসআর ও দেলোয়ার রূপায়ণ টাওয়ারসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নারী পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ভিড় এড়াতে অনেকেই আগেভাগে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারী ক্রেতার সংখ্যা বেশি। সে কারণে দোকানগুলোতে দেশি-বিদেশি শাড়ি, থ্রি-পিস ও ফোর-পিসের বিশাল সমাহার সাজানো হয়েছে। তবে দেশীয় পোশাকের চেয়ে বিদেশি পোশাকেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। বিশেষ করে এবার পাকিস্তানি 'জিমিসু', 'তাওয়াক্কেল' ও 'দাস্তাক' ব্র্যান্ডের থ্রি-পিসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ভারতীয় কালেকশনের মধ্যে 'বিচিত্রা' ও 'দিল্লি বুটিকস'-এর থ্রি-পিসও ভালো চলছে।সাত্তার খান শপিং কমপ্লেক্সের ‘স্টাইল ওয়ান’-এর বিক্রেতা ইউসুফ হক জানান, প্রথম সপ্তাহ যাওয়ার পর থেকে ক্রেতা বাড়ছে। বিদেশি পোশাকের ডিজাইন ও প্রচারণা ক্রেতাদের বেশি আকৃষ্ট করছে। তবে দেশি সুতির শাড়ি, জামদানি ও কাতানও কিছু বিক্রি হচ্ছে। ঈদের কাছাকাছি সময়ে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করেন। খন্দকার হক টাওয়ারের ‘আইডিয়াল ফ্যাশন’-এর পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, "এবার পাকিস্তানি ও ভারতীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি দেশীয় ‘রাখী’ থ্রি-পিসও পাওয়া যাচ্ছে। কাপড় ও কাজভেদে দামের তারতম্য রয়েছে।"বাজারে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পছন্দের তালিকায় বিদেশি ব্র্যান্ডই এগিয়ে। শাসনগাছা এলাকার গৃহিণী নুসরাত জাহান বলেন, "বিদেশি থ্রি-পিসের ডিজাইন একটু বৈচিত্র্যময় হয়। কাজও বেশি থাকে, তাই দাম বেশি হলেও এগুলোই কিনছি।" অন্যদিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারিয়া সুলতানা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানি ড্রেসের প্রচারণা বেশি থাকায় তরুণীরা সেদিকে ঝুঁকছে। তবে আরামের দিক থেকে দেশি সুতির পোশাকের বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।অবশ্য ভিন্ন মতও রয়েছে। রাজগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান এবার স্ত্রীর জন্য দেশীয় কাতান শাড়ি কিনেছেন। তাঁর মতে, নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখা জরুরি; কারণ দেশি পণ্য কিনলে স্থানীয় তাঁতিরা উপকৃত হন। সচেতন মহলের মতে, ঈদ বাজারে বিদেশি পণ্যের প্রভাব এতটাই বেশি যে দেশীয় পণ্য কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। স্থানীয় তাঁত ও কারুশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে ক্রেতাদের সচেতনতা এবং দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর নকশায় নতুনত্ব আনা প্রয়োজন।এনআই
কুমিল্লার লাকসামে ট্রাকচাপায় দুই নারীর মৃত্যু
কুমিল্লার লাকসামে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজাপুর মাজার গেট সংলগ্ন সড়কের পূর্বপাশে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাকের নিচে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইফতারের মাত্র দশ মিনিট আগে তাড়াহুড়ো করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন ওই দুই নারী। তখন উল্টো দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই দুই নারীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও তাদের আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।নিহতদের মধ্যে একজন হলেন উপজেলার রাজাপুর ভূঁইয়া বাড়ির মৃত মোবারক হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৬৫) এবং অপরজন তার বড় বোন, একই উপজেলার গাজিমুড়া চাড়াবাড়ির মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭০)।লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকছুদ আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঘাতক ট্রাকটিকে ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।এনআই
চকরিয়ায় ব্যবসায়ীকে নিখোঁজের একদিন পর উদ্ধার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৌরসভার তরুণ ব্যবসায়ী মো: ফরিদুল আলম ফরিদকে অপহরণের চব্বিশ ঘন্টার পর উপজেলাস্থ মাতামুহুরি ব্রিজের নিচ থেকে মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি চকরিয়া পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ডের মিয়াজী পাড়া পাড়ার একজন তরুণ ব্যবসায়ী। তিনি গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারী বিকেল চারটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার বায়তুশ শরফ সড়ক হতে নিখোঁজ হন। পরে তার স্ত্রী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এ দিকে বিষয়টি (চকরিয়া -পেকুয়া) আসনের এমপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ অবগত হলে তিনি প্রশাসনকে ফরিদুল আলমকে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ প্রদান করেন। এদিকে আজ (বৃহস্পতিবার) ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার সময় ফরিদুল আলমকে চকরিয়া উপজেলা মাতামুহুরি ব্রিজের নিচ থেকে মূমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতায় ফরিদকে জীবিত পেয়ে তার পরিবার ও নেতাকর্মীরা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বর্তমানে ফরিদুল আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, নিখোঁজ ব্যবসায়ী ফরিদুল আলমকে উদ্ধার করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।এফএস
কালিয়াকৈরে অরক্ষিত ড্রেনে পড়ে কিশোরের মৃত্যু
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি অরক্ষিত ড্রেনে পড়ে আনুমানিক ১৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় মরদেহটি উদ্ধার করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন ফুটপাতের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় কিশোরটি ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় মহাসড়কের পাশে থাকা একটি খোলা ও অরক্ষিত ড্রেনে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং ড্রেন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির আহমেদ জানান, “একজন কিশোর ময়লার ড্রেনে পড়ে মারা গেছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহাসড়কের পাশের অরক্ষিত ড্রেনগুলো দ্রুত ঢেকে দেওয়া এবং জননিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এনআই
গাজীপুরে রিপন গ্রুপ কারখানায় টানা দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্ম-বিরতি পালন করছেন রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার পোশাক শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার পোশাক শ্রমিকরা এই কর্ম বিরতি শুরু করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায় গত তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে শ্রমিকরা গতকাল দুপুর ১২ টাকা থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। পরে তারা বিকেল ৫ টার সময় বাসায় চলে যায়। আজ সকাল ৮ টার সময় শ্রমিকরা কারখানাতে প্রবেশ করলেও কাজ না করে কর্মবিরতি শুরু করেন। এসময় স্টাফদের সঙ্গে শ্রমিকদের বাকবিতন্ডা হয়। পরে শ্রমিকরা সবাই এসেম্বলিতে এসে অবস্থান নেয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাটিং সেকশনের প্যাড প্রিন্টং এক অপারেটর বলেন, প্রতিদিন রাত ১১/১২ টা পর্যন্ত ডিউটি করি অথচ ঠিক মতো নাইট বিল পরিশোধ করা হয়না। রোজার মাসেও রাত ১১ টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়।রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান,তিন মাসের নাইট বিল পাবে তাদের এক মাসের আজকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা তা মানছে না। শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে স্টাফদের উপর আক্রমণ করে। আমরা কোন মতে জীবন নিয়ে বের হয়ে এসেছি। এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মোঃ মোর্শেদ জামান বলেন, শ্রমিকরা ভেতরে অবস্থান করছে। মালিক পক্ষ আসছে তাদের সাথে কথা বলছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। এসআর
রমজান উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে ন্যায্যমূল্যে এলপি গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে কিশোরগঞ্জে গ্যাসসংকটপূর্ণ এলাকায় ন্যায্যমূল্যে একদিনের বিশেষ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রান্নার গ্যাসের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামের প্রেক্ষাপটে জনবান্ধব এই উদ্যোগ গ্রহণ করে মেঘনা ফ্রেশ এলপি গ্যাস (ফ্রেশ গ্যাস কোম্পানি)।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্পার্ক ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেশ এলপি গ্যাসের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে, বড়পুল, গাইটাল, ডিসি অফিস, পুরানথানা ও বৌলাই বাজারে ন্যায্য মূল্যে এলপি গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ক্রেতাদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে ফ্রেশ এলপি গ্যাস সরবরাহ করা হয়।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপি গ্যাস আমদানির পরিমাণ সন্তোষজনক হলেও মাঠপর্যায়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে গ্যাস না পাওয়ায় তদারকি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অনেক এলাকায় এ মূল্য কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।বাজারের যেকোনো দোকানে ১টি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার রিফিল করতে খরচ হয় ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা, সেখানে গ্যাসসংকটপূর্ণ এলাকায় ন্যায্যমূল্যে একদিনের সিলিন্ডার সীমিত লাভে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। খোলা বাজারে মোট ১৮০টি সিলিন্ডার বিক্রি করা হয়। নির্ধারিত দামে গ্যাস পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সাধারণ ভোক্তারা।স্থানীয় সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রেশ গ্যাস কোম্পানির এই উদ্যোগ বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা।ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া একাধিক ভোক্তা জানান, রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ন্যায্যমূল্যে রান্নার গ্যাস পাওয়া তাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত ও বিস্তৃত হলে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে।এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে মেঘনা ফ্রেশ এলপি গ্যাস লিমিটেডের ডিভিশনাল ম্যানেজার মো: হোসাইন মারুফ বলেন, “রমজানের মতো পবিত্র সময়ে সাধারণ মানুষ যেন রান্নার গ্যাসের সংকটে ভোগান্তিতে না পড়েন, সেই চিন্তা থেকেই ন্যায্যমূল্যে এলপি গ্যাস সরবরাহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সীমিত লাভে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”মেঘনা ফ্রেশ এলপি গ্যাস কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও ন্যায্যমূল্যে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।পিএম
টঙ্গীতে পরিত্যক্ত আ.লীগ অফিসে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন
গাজীপুরের টঙ্গীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিসে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে নতুন বাজার এলাকায় দলটির অফিসে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন লেখা ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন দেখা যায়।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন লেখা ব্যানারটি গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।তিনি লিখেছেন, ‘টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দীর্ঘ ১৮ মাস পর দলীয় ব্যানার এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আগুন জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে দেওয়া-হয়তো সহজ। ভেঙে-চুড়ে লুটপাট করা- হয়তো সহজ, কিন্তু একটি বলিয়ান চেতনাভাস্বর আদর্শ ধ্বংস করে সাধ্য কার? জেনে রেখো.. যতই হত্যা করো, জন্মাবো আবার দারুণ সূর্য হবো, লিখবো নতুন ইতিহাস।’সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যলয়টির সামনে ব্যানার টাঙ্গানো ও একটি খুঁটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে কার্যালয়টি পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই হঠাৎ করে আজ ভোরে কে বা কারা কার্যালয়ে ঢুকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। ওই সময় কয়েক দফায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কার্যালয়টিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।এবিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা এধরণের কোনো তথ্য পাইনি। এসআর
১৫ দিন আগে ধর্ষণের অভিযোগ, এবার কিশোরী নিহত
নরসিংদীতে মাধবদীতে এক কিশোরীকে তার সৎ বাবার কাছ থেকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর পনেরোদিন আগে ১৫ বছর বয়সী ওই মেয়েটিকে ‘ধর্ষণ’ করা হয়েছিল বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোলারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।বিষয়টি নিশ্চিত করে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, মৃত ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতো। তার সৎ বাবার বাড়ি বরিশালে।মেয়েটির স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ‘ধর্ষণ করে’। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মহিষাশুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আহমদের নেতৃত্বে মীমাংসা করা হয়।মেয়েটির সৎ বাবা জানায়, বুধবার বিকালে মেয়েকে খালার বাড়িতে রাখতে যাচ্ছিলেন। পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে পাঁচজন মিলে তার কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির লোকজন অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির করেও না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়।স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেতে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মেয়েটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ।এসআর
গৌরনদীতে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় হামলা, নারীসহ আহত ২
বরিশালের গৌরনদী ও মুলাদী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরকীয়ার ঘটনায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার সীমান্তবর্তী পূর্ব চর নলচিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— মো. আবু হানিফ রাড়ী (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী সেনোয়ারা বেগম (৫৮)।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তারাবির নামাজ শেষে রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে মো. আবু হানিফ রাড়ী বাড়িতে ফেরেন। পরে গরু দেখার জন্য গোয়ালঘরে গেলে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী মো. অলিল হাওলাদার তাঁর ছেলে শাহাবুদ্দিন রাড়ীর বসতঘরে প্রবেশ করেছেন। ঘরে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রীর সঙ্গে অলিলকে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হইচই শুরু করেন।এ সময় অলিল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবু হানিফ রাড়ী তাঁকে ধরে ফেলেন। পরে তিনি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর অলিল হাওলাদার তাঁর লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বাড়িতে এসে হামলা চালান। হামলাকারীরা আবু হানিফ রাড়ীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং ধারালো দা দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সেনোয়ারা বেগমকেও মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা নগদ টাকা ও ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।গুরুতর আহত অবস্থায় আবু হানিফ রাড়ীকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৌকির হোসেন জানান, আহতের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।এ ঘটনায় আবু হানিফ রাড়ীর ছেলে মো. জিয়া রাড়ী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করে মুলাদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মুলাদী থানার ওসি (তদন্ত) মোমিনুর উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে; তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এনআই
সাগরে নিরাপত্তাহীনতা: জলদস্যু দমনের দাবিতে পাথরঘাটায় মানববন্ধন
সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে প্রতিনিয়ত সশস্ত্র ডাকাত দলের হামলার শিকার হচ্ছেন উপকূলের হাজারো জেলে। গভীর সাগরে জিম্মি করে জেলেদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করছে দুর্বৃত্তরা। এতে ইতোমধ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ডাকাত চক্র, আতঙ্কে পড়েছে জেলে পরিবারগুলো এবং চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে উপকূলের মৎস্যজীবী। ডাকাতের হাত থেকে নিজেকে বাঁচতে গিয়ে অনেক হয়েছে গুলিবিদ্ধ। এই উপদ্রবের প্রতিবাদে পাথরঘাটায় মানববন্ধন করেছেন মৎস্যজীবী ও ট্রলারের শ্রমিকেরা।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার পরে পৌর শহরের গোলচত্বরে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি, বিএফডিসি মৎস্য আড়তদার সমিতি, পাইকার সমিতি এবং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেন নেতারা।জেলেদের অভিযোগ সম্প্রতি ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত দুটি জলদস্যু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে ট্রলার ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।১৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকা থেকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের মাসুম মাঝিকে ট্রলারসহ অপহরণ করা হয়। পরে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তিনি মুক্তি পেলেও ট্রলারের তিন মাঝি মাহবুব (২৭), সোহেল (১৭) ও রাজু (২৬) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজনেরা জানান।এর আগে বুধবার জলদস্যুরা জেলে রাজু (৩১) ও কাঁকড়াশিকারি নিহার মণ্ডলকে (৪৫) এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। ফেরার পথে আরেকটি দস্যু দল তাঁদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।মুক্ত হয়ে আসা নিহার মণ্ডল বলেন, তিনি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে কাঁকড়া শিকার করতেন। তারপরও তাঁকে অপহরণ করে চোখ বেঁধে জঙ্গলে নিয়ে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়। এক লাখ টাকা মুক্তিপণ পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।অন্য জেলে রাজু জানান, কটকা এলাকায় জাল ফেলতে গেলে জলদস্যুরা তাঁদের ধরে কয়েক দিন আটকে রাখে। মুক্তির পর ফেরার পথে পুনরায় আটকানোর চেষ্টা হলে তাঁরা দ্রুত ট্রলার চালিয়ে পালিয়ে আসেন।বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির নেতারা যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার, নৌ টহল বৃদ্ধি এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দস্যুদের কারণে জেলেরা সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন, যা উপকূলীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, ‘জেলেদের স্মারকলিপি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।এটা অতি দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো হবে। এসআর
খাল খনন করায় ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তালতলীর কয়েক হাজার কৃষক
বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ টি খালের ১৯ কিলোমিটার পুনঃখনন করায় জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর হওয়ায় ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন ওই ইউনিয়নের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক। খালগুলো পুনঃখনন করায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাতীপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়াসহ ৯ টি খালে পলি জমে ভরাট হয়ে ছিলো। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে বছরে শুধুমাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো কৃষকদের। বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যেত চাষের জমি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নষ্ট হতো ক্ষেতের ফসল। তার উপর রাস্তার দূরাবস্থায় কৃষি পণ্য আনা নেওয়ায় কৃষকদের কাঠখোর পোহাতে হতো। এমন দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি এর অধীনে 'জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প' এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে ইউনিয়নের ৯ টি খালের ১৯ কিলোমিটার অংশ খনন করে দেয় হয়। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এতে কৃষকের ফসলি জমিতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন রাস্তা।নলবুনিয়া এলাকার কৃষক জালাল মিয়া বলেন, 'কিছুদিন আগেও এই খালগুলো ডোবা-নালায় মতো এতে গ্রামের লোকজন ময়লা আবর্জনা ফেলতো। এতে মশা, মাছির জন্ম হতো। যার ফলে মেলেরিয়া, ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের রোগ ব্যাধি হতো। এছাড়াও দুর্গন্ধের কারণে আশপাশে দিয়ে হাঁটা চলা যেত না। এখন প্রকল্পের মাধ্যমে খালগুলো খনন করায় এলাকার লোকজন অনেক উপকৃত হবে।'তাঁতিপাড়া গ্রামের জুয়েল জোমাদ্দার বলেন, আমরা সাধারণ কৃষক পানির অভাবে শুধু বর্ষা মৌসুমে একবার ধান চাষ করতাম। এখন খাল খননের ফলে একাধিক ধান চাষসহ নানা ধরনের ফসল ফলাতে পারব। যার ফলে বেকারত্ব দূর হবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব। আমাদের দাবি সরকার যেন এই ধরনের খাল খনন প্রকল্প অব্যহত রাখেন।'সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, 'নলবুনিয়া সমবায় সমিতির মাধ্যমে খালগুলো পুনঃ খনন করায় বিগত দিনের সমস্ত রেকর্ড অতিক্রম করে কৃষিতে একটি বিপ্লব পরিবর্তন আসবে। এর ফলে বেকারত্ব দূর হবে এবং কৃষক তাদের এক ফসলি জমি ২ থেকে ৩ ফসলি জমিতে রূপান্তরিত করতে পারবে।'তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'প্রকল্প অনুযায়ী খাল গুলো যথাযথ ভাবে পুনঃ খনন করা হয়েছে। যার ফলে কৃষি ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।'তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ইলিয়াস বলেন, উপজেলার অনেক এলাকায় গ্রীষ্মের সময় পানির অভাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় ধান চাষসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন ব্যহত হতো। এখন খাল পুনঃ খননের ফলে পানি সেচের সুবিধা ও জলাবদ্ধতা নিরসন হওয়ায় এক ফসলি জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করতে পারেন। যার এই এলাকার কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।'ইখা
বরিশালের ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিল করতে আবেদন
বরিশালে আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও বিচারকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে বরিশালের যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেন। তারা তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল মহানগর দায়রা জজের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। এছাড়া ওই ঘটনায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির জড়িত ১২ সদস্যর সনদ বাতিল করতে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদন করা হয়েছে। সেই সাথে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবরে আবেদন করা হয়েছে।অপরদিকে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় নয়জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করেন। আদালত অবমাননার ঘটনায় নয় আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেন যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। একইসাথে তাদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।রুল জারি হওয়া বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নয় সদস্য হলেন-সাদিকুর রহমান লিংকন, মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, নাজিমুদ্দিন পান্না, মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ ও হাফিজ উদ্দিন বাবলু। এর আগে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল বিনষ্ট করা, বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শন, ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিচার প্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিচার কাজে বাঁধা এবং এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা, সরকারি কর্মচারীদের মারধর করার অভিযোগ আনা হয়। পরে সাদিকুর রহমান লিংকনকে বুধবার গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদি হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেছেন, একটি মামলার জামিনকে কেন্দ্র করে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১৫/২০ জন আইনজীবী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বর্জন ঘোষণা করে বিচারকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তারা বিচারকদের উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন আপত্তিকর শ্লোগান দিতে থাকেন। এতে আদালত প্রাঙ্গণে ভীতিকর পরিবেশ এবং জনমনে ত্রাসের সৃষ্টি হয়।এরপর দুপুরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে প্রবেশ করে আইনজীবীকে শুনানি করতে নিষেধ করেন। তবে আইনজীবী বিপ্লব শুনানি চালিয়ে যেতে থাকলে উপস্থিত আইনজীবীদের বারের সভাপতি এজলাস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বারের সভাপতি একজন আইনজীবীকে এজলাসেই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর সাথে থাকা আইনজীবীরা জিআরও শম্ভু এবং কোর্ট ইন্সপেক্টর তারক বিশ্বাসকে ধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন। ডায়াসে থাকা মাইক্রোফোন ভাঙচুর করেন। এজলাসে থাকা কজলিস্ট, মামলা দায়ের রেজিস্ট্রার ছিঁড়ে নষ্ট করে আদালত এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেন। বারের সভাপতি এজলাসে থাকা টেবিল ভেঙে ফেলেন, বসার টুল উপড়ে ফেলেন এবং ধমকে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের কোর্ট থেকে বের করে দেন। এমনকি বিচারককে জোরপূর্বক এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করেন।এসআর
কলাপাড়ায় গভীর রাতে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান, ৪ জনের কারাদণ্ড
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নয়াপাড়া আবাসিক এলাকায় মাদকদ্রব্যের সন্ধানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক।অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন— মো. সোহেল (৩৪), মো. ইউসুফ (২৯), রবিউল ইসলাম (২৩) ও মো. নাইম শাহাজী (২৪)। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দণ্ড প্রদান করা হয়।দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে— মো. সোহেলকে ২ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড। মো. ইউসুফকে ১ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড। রবিউল ইসলামকে ১৪ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড। মো. নাইম শাহাজীকে ১ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।অভিযানে সহযোগিতা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পটুয়াখালী-এর একটি চৌকস টিম। এছাড়া স্থানীয় এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশাসনকে সহায়তা করেন। উপজেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে।ইখা
গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, মরদেহ ফেলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন উধাও
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় রিনা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হত্যার পর বিষপানের নাটক সাজিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়েছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনকি গ্রেপ্তারের ভয়ে তড়িঘড়ি করে বাড়ির গবাদিপশু ও আসবাবপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়েছে অভিযুক্ত পরিবারটি।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহে মরদেহ ফেলে পালানোর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। নিহত রিনা আক্তার জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশরি গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিনা ও কেন্দুয়ার নওপাড়া কোনবাড়ি গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে পিয়াল মিয়া (২৪) চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। তিন মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের মাত্র ১০-১৫ দিন পর থেকেই পিয়াল স্ত্রীকে অপছন্দ করতে শুরু করেন এবং বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে কলহ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।গত বুধবার রাতে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস মুঠোফোনে রিনার বাবাকে জানান যে, রিনা বিষপান করেছেন এবং তাঁকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। রিনার স্বজনরা সেখানে গিয়ে কাউকে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন, তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে পৌঁছে রিনাকে মৃত অবস্থায় পেলেও শ্বশুরবাড়ির কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।রিনার বাবা জাকির মিয়ার অভিযোগ, "আমার মেয়ে বিষ খায়নি। পিয়ালের পরিবার তাকে হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তারা মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাত। অপরাধ না করলে তারা কেন মরদেহ ফেলে পালাবে?" রিনার দাদা জুলহাস মিয়ার দাবি, খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশ পিয়ালের বাড়িতে অভিযানে গেলে পুরো ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পায়। প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গবাদিপশু ও মালামালসহ উধাও হয়ে গেছেন।কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি মাকসুদ জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্তরা সবাই পলাতক। ময়মনসিংহে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"বৃহস্পতিবার রাতে রিনার মরদেহ নিজ গ্রাম বাশরিতে দাফন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার এই ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের’ দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।এনআই
ভালুকায় বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ, আহত ৫
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের নিঝুরী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. জহিরুল ইসলাম মাসুদ বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানা-য় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে খোরশেদ আলম উজ্জ্বলসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসুদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা গালিগালাজ শুরু করলে বাধা দেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা মাসুদের মা খাদিজা আক্তার (৫৫), ভাতিজা মেহেদী হাসান মুন্না (২৫), ভাবি শেফালী আক্তার (৫২), মাসুদ ও তার গাড়িচালক জুয়েল (২৪)-কে মারধর করে আহত করে।ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ প্রায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, প্রায় ৮ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা), একটি আইফোন, একটি এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে। এছাড়া আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে খাদিজা আক্তারকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।অভিযুক্ত খোরশেদ আলম উজ্জ্বল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না, ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলাম। এ বিষয়ে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আবদুল মালেক জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।এসআর
গৌরীপুরে ফসলি জমি খুঁড়ে বালু উত্তোলন
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া কান্দার গ্রামে রাস্তার পাশের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজের জন্যে ঠিকাদার এই বালু লুটপাট চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাঁচপাড়া কান্দার গ্রামে রাস্তার পাশে একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে। সেই ব্রিজের কাজের প্রয়োজনীয় মাঠি দিয়ে বরাট করার কথা থাকলেও ঠিকাদার সুবিধামতো রাস্তার পাশের ফসলি জমি থেকেই বালু উত্তোলন করছেন। বড় গর্ত করে বালু তুলে নেওয়ায় পাশের আবাদি জমিগুলো এখন ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে।জানা যায়, বালু উত্তোলিত ওই জমির মালিক স্থানীয় মো. আসাদ মিয়া। ফসলি জমি থেকে কেন বালু উত্তোলন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জমি থেকে আমি বালু টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেছি।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিক লাভের আশায় ঠিকাদারের সাথে যোগসাজগে এই অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে।নির্মাণাধীন ব্রিজের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম জানান, “লোকাল মাটি দেওয়ার নিয়ম এখন আমি যা পাচ্ছি তাই দিচ্ছি। জমির মালিকের থেকে বালু-মাটি আমি কিনে নিচ্ছি।”এব্যাপারে জানতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সুবুর মিয়া জানান, “আমি বালু উত্তোলনের জন্যে না করেছিলাম, কিন্তু আমার কথা শুনেনি। বালু উত্তোলনের জন্যে আশেপাশের জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জায়েদুর রহমান জানান, আমি এব্যাপারে কিছু জানিনা তাই কোন মন্তব্য করতে পারছিনা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “বিষয়টি জানার পর এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এসআর
এখন থেকে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করলেই, সম্মাননা প্রদান করা হবে: বাকৃবি উপাচার্য
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেছেন, এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গবেষক সর্বোচ্চ বাজেট সংগ্রহ করে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে পারবেন, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।বৃস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বেকারি পণ্যে সবজি ফ্লেক্স (শুকনা বা গুড়া করা সবজি) সংযোজনের মাধ্যমে পুষ্টিমান বৃদ্ধির গবেষণা কার্যক্রম উৎভোদনের সয়ি তিনি এসব কথা বলেন।উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতিতে এবং উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার উন্নয়নে গবেষণাই মূল চালিকাশক্তি। গবেষণা করার আনন্দ যে অধ্যাপক একবার উপভোগ করেছেন তিনি গবেষণা ছাড়া থাকতে পারেন না। গবেষণাকে কেবল একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে তা শিল্প ও বানিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তবে তার আগে ক্লাস-পরীক্ষার দিকে শিক্ষকদের গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে যাতে ক্লাসের বা রেজাল্টের জন্য বসে থাকতে না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ সূচনা কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ।কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলজারুল আজিজ। এসময় তিনি বলেন, শুধুমাত্র বেকারি পণ্যের জন্য বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ১০০ মেট্রিক টন সবজি ফ্লেক্স আমদানি করে। দেশে উৎপাদিত পুষ্টিকর সবজি মৌসুমে উদ্বৃত্ত থাকলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এর বড় অংশ অপচয় হয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে এসব সবজি শুকিয়ে ফ্লেক্সে রূপান্তর করা গেলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যে তা সংযোজন করে ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য তৈরি করা যাবে। এতে করে সবজি ফ্লেক্স আমদানির পরিমাণও কমানো সম্ভব হবে।তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় উপযোগী সবজি নির্বাচন, মানসম্মত প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ এবং বেকারি পণ্যে গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে শিল্পখাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাজারজাতকরণের কৌশল প্রণয়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা এবং ইফাদ মাল্টি প্রডাক্ট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন মন্ডল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ইখা
নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বহুল আলোচিত স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী আবু বাক্কারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছাঃ মরিয়ম-মুন-মুণ্জুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। আসামি আবু বাক্কার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ মোলামখার চর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে।মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাত ৯টা থেকে রাত ২টার মধ্যে মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসুন্তিয়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।নিহত রিজিয়া খাতুন আসামি আবু বাক্কারের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।অভিযোগে বলা হয়, রিজিয়া খাতুন পূর্বের স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চাইলে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। ঘটনার রাতে আবু বাক্কার তার স্ত্রীকে শার্ট দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বাড়ির উঠানের খড়ের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যান। পরদিন ৩০ এপ্রিল নিহতের মেয়ে বিউটি বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।এ মামলায় প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় ১৬ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে। চার্জশিট গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি আবুল হাসেম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মোঃ নজরুল ইসলাম খান।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় প্রদান করেন।ইখা
তারাগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর ইলেকট্রিশিয়ানের মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের ৩ দিন পর মনজুরুল ইসলাম (৪৮) নামের এক ইলেকট্রিশিয়ানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২ টার সময় এ লাশ উদ্ধার করা হয়।উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রামপুরা পীরের মাজারের কাছে আলু ক্ষেতে নরম মাটি দেখতে পান এলাকার লোকজন। পরে সন্দেহ হলে তারাগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। এরপর সেখানে থানা পুলিশ গেলে সেই আলু ক্ষেতের নরম জায়গাটি খুঁড়ে লাশ দেখতে পায়। পরে সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যরা।এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আলু ক্ষেতের পাশে তামাক ক্ষেতে রক্ত ও সেণ্ডেল দেখতে পান এলাকার লোকজন। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছিলেন পায়ের সেণ্ডেলগুলো নিখোঁজ ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল ইসলামের। ওই দিন অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও লাশটি পাওয়া যায়নি।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান তিনি। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। নিখোঁজ মনজুরুল ওই গ্রামের ফরিজ উদ্দিনের ছেলে।তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, নিখোঁজ ইলেকট্রিশিয়ানের পরিবার নিশিত করেছে ওই লাশটি মনজুরুলের। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।ইখা
দীর্ঘদিন ধরে ক্যারিয়ার এডভাইজার সার্ভিসের কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যারিয়ার এডভাইজার সার্ভিসের (CADS) কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সর্বশেষ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের ৪ মার্চ। যেখানে জাপানে উচ্চশিক্ষিত চাকরি সুযোগ নিয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর গত প্রায় এক বছরে ক্যাডস কার্যত বড় কোন কর্মশালা, সেমিনার বা চাকরিমেলার আয়োজন করেনি। গত বছর ২২ জুন ক্যাডস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল বারী এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নতুন কোনো পরিচালক নিয়োগ না হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত হয়ে আছে। বর্তমানে ওই দপ্তরে একজন অফিসার এবং একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার কর্মরত থাকলেও কার্যক্রম চালু নেই।সরেজমিনে ক্যাডস অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস বন্ধ, নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিস তানিয়া আফরোজকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। অফিসার (ইনচার্জ) মো. মুরশেদ হাসান খানকে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। জানা যায়, পরিচালক না থাকায় কোনো উদ্যোগ বা কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। প্রশাসন থেকেও নতুন পরিচালক নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।ক্যাডস প্রতিষ্ঠার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। চাকরি, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল এই কেন্দ্রের। এছাড়া স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের তথ্য প্রদান, যোগাযোগ ও প্রেজেন্টেশন দক্ষতা উন্নয়ন, এবং বিতর্ক ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পরিকল্পনা ছিল।কিন্তু বাস্তবে ক্যাডস গত এক বছরে কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ক্যাডস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সময়মতো তথ্য পাচ্ছেন না। কেউ কেউ বলছেন, ক্যাডস যদি নিয়মিতভাবে কার্যক্রম চালাতো, তবে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারতেন।শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও একাডেমিক কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের অবহেলা ও অবজ্ঞার কারণে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন দেওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মটি অচল হয়ে আছে।এ বিষয়ে হাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু হাসানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এবিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম শিকদার বলেন, ভিসি স্যার কাউকে নিয়োগ দেয় নাই যার ফলে সেটা অকার্যকর হয়ে আছে।ইখা
অর্ধবার্ষিকে নম্বর কেটে দেওয়ার হুমকি শিক্ষকের বিরুদ্ধে
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস ও প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মহাদেব চন্দ্র রায় বিদ্যালয়টির ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে চলমান বিশেষ ক্লাসের সময় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওইদিন সকালে ষষ্ঠ শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশনের ছবি তুলতে বিদ্যালয়ে যায়। সেদিন বিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ থাকলেও বিশেষ ক্লাস চলছিল। ছবি তুলতে দেরি হওয়ায় তারা ক্লাসে উপস্থিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথমে তাদের কিছু সময় শ্রেণিকক্ষের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। পরে ক্লাসে ঢুকতে দিলেও বাধ্যতামূলক বিশেষ ক্লাস করার পাশাপাশি তার কাছে প্রাইভেট পড়ার কথা বলেন বলে অভিযোগ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, দেরিতে আসার কারণ জানতে চাওয়ার পর শিক্ষক তাদের সতর্ক করেন এবং পরদিন থেকে আগে আসতে বলেন। এরপর প্রাইভেট তার কাছেই পড়তে হবে বলে জানান। অন্যত্র প্রাইভেট পড়লে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন বলে দাবি ওই শিক্ষার্থীর।ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, রমজানের ছুটির মধ্যেও বিশেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছিল। তার ছেলে ছবি তুলতে গিয়ে দেরিতে ক্লাসে ঢুকতে চাইলে শিক্ষক প্রথমে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। পরে বিশেষ ক্লাসে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং তার কাছেই প্রাইভেট পড়তে হবে বলে জানানো হয়। প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, একজন শিক্ষক কি এভাবে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপে ফেলতে পারেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মহাদেব চন্দ্র রায় বলেন, প্রাইভেট পড়ার বিষয়ে তিনি কাউকে কিছু বলেননি। সেদিন অতিরিক্ত ক্লাস চলছিল, শিক্ষার্থীরা এলে তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। তারা ছবি তুলতে এসেছিল জানতেন বলেও দাবি করেন তিনি। অতিরিক্ত ক্লাসের বিষয়টি আগেই শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছিল বলে তার বক্তব্য।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মোছাঃ রোকসানা বেগম বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এসআর
লালমনিরহাটে চাঁদাবাজির সময় দুই জন গ্রেপ্তার
লালমনিরহাট জজ কোর্ট এলাকায় সাধারণ অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা জজ কোর্ট এলাকার লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের সামনে থেকে তাঁদের আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন— জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপটিবাড়ি (খাতাপাড়া) এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে মো. মজমুল হক (৫০) ও জেলা শহরের তালুক খুটামারা এলাকার মৃত তাহের আলীর ছেলে মো. মোসলেম উদ্দিন ভোলা (৪০)।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল সদর কোর্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অটোরিকশা চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা উত্তোলনকালে ওই দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেন এসআই মো. মনিরুজ্জামান, এএসআই মো. আলদাদ হোসেন এবং কনস্টেবল মো. লেবু মিয়া পিপিএম।পরে তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর আল মনসুর শোয়েবের আদালতে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় অপরাধ স্বীকার করায় মো. মজমুল হককে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং মো. মোসলেম উদ্দিন ভোলাকে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি সাদ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ও বিশেষ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।এনআই
সারের ডিলার অনিয়ম করলে লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ এমপির
সারের ডিলাররা অনিয়ম করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও ২ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা: আব্দুস সালাম।বুধবার সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণের পর প্রথমবার এলাকায় এসে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় কৃষি কর্মকর্তাকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।সংসদ সদস্য বলেন, এই উপজেলায় কৃষকদের সবচেয়ে বড় সমস্যা সার সংকট। তারা ভোটের আগে আমাকে এই দুর্ভোগের বিষয়ে বার বার অবগত করেছে। কৃষি নির্ভর এই আসনের মানুষের জন্য প্রথমকাজ হিসেবে এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাই। ডিলাররা সার সংকট তৈরি করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করুন। কোন অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।এলাকায় মাদক-চুরি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে কি হয়েছে, তা শুনতে চাই না। নতুন করে সবকিছু শুরু করতে চাই। এলাকা হবে মাদক মুক্ত, চুরি ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে-আর চাঁদাবাজদের কোন ঠাই নেই। ধরে সোজা পুলিশে দিবেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাসের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য এতে আরও বক্তব্য দেন বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান উল হক, উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ আলম, আহ্বায়ক এ্যাড ইউসুফ আলী, উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. টিএম মাহবুবর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সামিয়েল মার্ডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এতে বক্তব্য দেন। এফএস
যমুনা তীর রক্ষা ও বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীর পাড়ের বসতবাড়ি,ফসলি জমি,প্রাইমারি, হাইস্কুল, চৌহালী সরকারি কলেজ ও মাদ্রাসাসহ ভাঙ্গন থেকে রক্ষা এবং মাটি ও বালুবাহী বাল্কহেড দিনে-রাতে চলাচল বন্ধের দাবীতে তীরবর্তী পাড়ের লোকজন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের জোতপাড়া যমুনা নদীর ঘাটে গ্রামবাসীর আয়েজনে ১ ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীর পাড়ের সহস্রাদিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।এসময় মানববন্ধনে বক্তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নদী ভাঙন রোধে যমুনা পাড়ে জিও ব্যাগ স্থাপন ও দিনে- রাতে মাটি ও বালবাহী বাল্কহেড এর অবাধ চলাচল বন্ধ করতে হবে না হলে এলাকার সাধারণ মানুষ বসত ভিটা,উপজেলা পরিষদ, চৌহালী সরকারি কলেজ সহ প্রাইমারিস্কুল,মাধ্যমিক স্কুল,মাদ্রাসা ও বিভিন্ন স্হাপনা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে নদীর পাড়ের মানুষেরা।উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো: ঈসমাইল হোসেন জাবিউল্লাহর সঞ্চালনায়মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি জাহিদ মোল্লা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কারী ময়নুল ইসলাম ।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও এইচ. এম. খোদাদাদ হোসনে বলেন,বরাবরের মতোই নদী ভাঙ্গনের বিষয় আমার অবস্থান স্পষ্ট। ভাঙ্গন রোধে এবংঅবৈধ বালুর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না হবে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো: শামীম মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক মো: ঈসমাইল হোসেন জাবিউল্লাহ, আলমগীর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কাদের মোল্লা, শহিদ চেয়ারম্যান, রবিউল বিএসসি, আমিরুল সিকদার ও রিপন মিয়া প্রমুখ।এদিকে বিক্ষোভকারীরা যমুনা নদীতে থাকা বাল্বহেড আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়।এসআর
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় পাবনার আরিফা সুলতানা রুমা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট রমজানের মাঝেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে নেতৃত্ব নিয়ে চলছে আলোচনা ও বাড়ছে আগ্রহ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী ও দলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বেছে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক ত্যাগী নারী নেত্রীরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি। সে অনুযায়ী আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাচ্ছে দলটি।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, জনগ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার উন্নয়নে কাজের সম্ভাবনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার আগে জেলা ও তৃণমূলের মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে আসা নারী নেত্রীদের মনোনয়ন দিলে প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতির আভাস দেওয়ার পরেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এদের মধ্যে উত্তরের জেলা পাবনা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমার নাম। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সূত্র ধরেই রাজনীতিতে আসা উচ্চ শিক্ষিত এই নারী নেত্রীর।রাজনৈতিক জীবনে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও রাজধানী ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা সময়ের কণ্ঠস্বরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ১/১১ সরকারের সময় থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে মাসের পর মাস কারাগারে বন্দি ছিলাম। শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণেই বিভিন্ন সময় ৫টি মামলার আসামি হতে হয় আমাকে। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছি। আমাকে মনোনয়ন দিলে দলের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।ইখা
নওগাঁয় কবরস্থান থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার
নওগাঁর পোরশায় কবরস্থান থেকে একটি ১৩৭ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের শীতলী গ্রামের কবরস্থান থেকে মূর্তিটিকে উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নিশ্চিত করেন।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ জানতে পারে শীতলী গ্রামের রহমতের বাড়ির পশ্চিম পাশের পারিবারিক কবরস্থানে একটি মূল্যবান কষ্টিপাথরের মূর্তি পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলী পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে কবরস্থানের মাঝামাঝি স্থানে আম গাছের নিচ থেকে পরিতক্ত অবস্থায় মূর্তিটিকে উদ্ধার করা হয়। মূর্তিটির উচ্চতা ৫৬ ইঞ্চি এবং ওজন ১৩৭ কেজি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মূর্তিটি বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কষ্টিপাথরের মূর্তিটি প্রায় হাজার বছরের পুরনো। মূর্তিটি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।ইখা
লিচুর রাজ্য ছেয়ে গেছে সোনালী মুকুলে, ব্যপক ফলনের সম্ভাবনা
সেই ৮০ দশক থেকে পাবনার ঈশ্বরদী লিচুর রাজ্য নামে খ্যাত। সেই লিচুর রাজ্যে এখন গাছভর্তি সোনালী মুকুলে ছেয়ে গেছে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় বর্তমানে ব্যাপক পরিচর্যার কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে চাষ হচ্ছে রসালো এবং সুস্বাদু ফল লিচু। পুরো উপজেলা জুড়ে ছোট বড় মোট লিচুর বাগান রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ২৭০ টি। গতবছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তবে এ বছর গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় আগের যে কোন সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করছেন চাষীরা।চাষীদের তথ্যমতে, বছরের মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল আসা সম্পন্ন হয়।ঈশ্বরদীতে মূলত সবচেয়ে বেশি চাষ হয় ৩ জাতের লিচু। এগুলোর মধ্যে মোজাফ্ফর বা দেশী, বোম্বাই বা চায়না-৩ অন্যতম। তবে বর্তমানে বেশ কিছু নতুন জাতের কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ এবং চায়না-২ জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে এ অঞ্চলে। তবে চায়না-৩ জাতের লিচুর স্বাদ ও চাহিদা সবচেয়ে বেশী থাকার কারনে বর্তমানে এ অঞ্চলে এই জাতের লিচুর চাষ বাড়ছে।উপজেলার চরমিরকামারী, গাংমাথাল, জয়নগর, সিলিমপুর, আওতাপাড়া, জগন্নাথপুর, শেখের দাইড়, বক্তার পুর, মানিক নগর ও ছিলিমপুর এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের প্রতিটি গাছেই নতুন মুকুলের ঘ্রান মন কাড়ছে। আর চাষীদের সেই মুকুল পরিচর্যায় ব্যাপক কর্মব্যস্ততা দেখা গেছে।উপজেলার জয়নগর গ্রামে বাগান মালিক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুর আনুপাতিক হারে বেশী। আমার প্রায় শতাধিক লিচুর গাছ রয়েছে। গত বছর ৩৫ থেকে ৪০ টি গাছে লিচু আসলেও এবার কমবেশী প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।মিরকামারী এলাকার লিচু চাষী ও ব্যবসায়ী মোঃ আরিফ বলেন, গতবছর লিচু কম থাকায় তেমন ব্যবসায় লাভের মুখ দেখিনি। তবে এবার লিচুর গাছে বেশ মুকুল দেখা যাচ্ছে। আমরা মুকুলগুলো রক্ষা করতে ব্যাপক পরিচর্যা করছি। মুকুল অনুযায়ী ফলন হলে আশাকরি গত বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি এবার পোষাতে পারব।জগন্নাথপুর এলাকার লিচুর মৌসুমি ব্যবসায়ী মোঃ কুদ্দুস আলী বলেন, প্রতিবছরই আমরা লিচুর মুকুল আসার আগেই অনেক বাগান কিনে থাকি। এবারও কিনেছি। তবে গত বছর ঠকে গেলেও এবারের অবস্থা আশানুরুপ অনেকটাই ভালো কারন প্রায় গাছেই লিচুর মুকুল ফুটেছে। আশা করছি এবার ভালো কিছু হবে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, গত বছর লিচুর পরিমান কম থাকলেও এবার গাছ ছেয়ে গেছে সোনালী মুকুলে। এ বছর উপজেলায় ৩১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এবার লিচুর জন্য আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। তাই ফলনের মাত্রাটাও আশা করা যাচ্ছে ভালো হবে।ইখা
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ইনসাফভিত্তিক পাবনা-৩ গড়তে চাই: আলী আছগার
পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ আলী আছগার বলেছেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক এলাকা গড়াই আমার অঙ্গীকার।তিনি বলেন, ‘আমাকে কে ভোট দিয়েছেন, আর কে দেননি, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন তারা আমার, যারা দেননি তারাও আমার। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, দলমত-নির্বিশেষে অন্যায় ও দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক এলাকা গড়ে তুলতে চাই।’বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, "নেশা, জুয়া, চাঁদাবাজি এবং ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তদবির শোনা হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পালের সভাপতিত্বে সভায় ভাঙ্গুড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. আরিফুল ইসলাম, ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. হালিমা খানম লিমা, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মাওলানা মহির উদ্দিন, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছাইদুল ইসলাম বুরুজ, ভাঙ্গুড়া পৌর জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আখিরুজ্জামান মাসুম, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব লিখন সরকার, সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বায়েজীদ বোস্তামী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাংবাদিক, ইউপি চেয়ারম্যানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এসআর
টাংগুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ড
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী মাছরাঙা নামের একটি হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাউজবোটটির বেশ কিছু অংশ পুড়ে গেছে। এ সময় হাউসবোটে কোনো পর্যটক না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজারের পূর্ব পাড়ে রক্তি নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রতক্ষ্যদশী ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রক্তি নদীতে নোঙর করে হাউজবোটটির মেরামতের কাজ করছিল মিস্ত্রি ও কর্মচারীরা। হঠাৎ করেই হাউজবোটটির পেছন দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।টাঙ্গুয়া হাওরের পর্যটকবাহী নৌ সমিতির সভাপতি রব্বানী জানান, মাছরাঙা হাউজবোটটিতে আগুন লাগার পর আনোয়ারপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হাউজবোটটির ভেতরের অধিকাংশ সরঞ্জাম পুড়ে যায়।বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া জানান, হাউজবোড লাগা আগুন সবাই মিলে নিভানো হয়েছে। তাহিরপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে বলতে পারবো।ইখা
ঢাকা তুরাগে ১১ কোটি টাকা ডাকাতি মামলার আসামী তাহিরপুর থেকে আটক
বহুল আলোচিত ঢাকা তুরাগে সংগঠিত ১১ কোটি টাকা ডাকাতি মামলার মোঃ জনি মিয়া নামে এক আসামীকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা থেকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টায় উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন ট্যাকেরঘাট এলাকা থেকে আটক করা হয়।আটক জনি মিয়া(৩৫) উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামের মোঃ গনি মিয়ার ছেলে।পুলিশ জানায়, তুরাগ থানার মামলা নং ১০(৩) ২৩, ধারা ৩৯৫/৩৯৭/৪১২/৩৫ পেনাল কোড, এর পলাতক আসামী জনি মিয়া(৩৫) কে অদ্য রাতে টেকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ রিপন উদ্দিন সংর্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে বড়চড়া এলাকা থেকে ওয়ারেন্ট মূলে গ্রেফতার করে।টেকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ রিপন উদ্দিন জানিয়েছেন,আটক জনি মিয়াকে তাহিরপুর থানা সোপর্দ করা হয়েছে।তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমিনুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।এবি
ট্যাকেরঘাট খনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. খায়রুল আলমকে ৬০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিনিয়র শিক্ষক মো. মর্তুজ আলীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে উপস্থাপন না করা, কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আবু সুফিয়ান টিপু স্বাক্ষরিত একাধিক স্মারক ও নোটিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য বাসির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।অভিভাবক সদস্য বাসির আহমেদ জানান, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ সরকার ‘অটোপাস’ ঘোষণা করলে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অটোপাসের পর সেই টাকা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরিমানা বাবদ নেওয়া টাকা উত্তীর্ণ হলে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও, কৃতকার্য ও অকৃতকার্য কোনো শিক্ষার্থীই সেই টাকা ফেরত পায়নি। ওই অর্থ স্কুল ফান্ডে জমা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং অফিস সময় সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।কমিটি দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলেও তা সন্তোষজনকভাবে দাখিল করা হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়া জবাব সন্তোষজনক ছিল না।সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত অ্যাডহক কমিটির সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের মেয়াদ শেষে উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সিনিয়র শিক্ষক মো. মর্তুজ আলীকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যালয় কোড ২৭০৫ এবং কলেজ কোড ২৭০২। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ খায়রুল আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এনআই
সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাজার মনিটরিং, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
সুনামগঞ্জে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং করেছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও পুলিশ সুপার আ. ব. ম. জাকির হোসেন, পিপিএম।অভিযান চলাকালে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে শহরের ৪টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ২৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন জেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা।অভিযান চলাকালে একটি দোকানে লেবুর দাম যাচাই করলে দোকানদার ১২০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা বলেন। এ সময় উপস্থিত ক্রেতারা কম দামে লেবু কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন।পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। এদিন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট), জগন্নাথবাড়ি এলাকা, কাঁচাবাজার, ডিএস রোড, ফলবাজার, মধ্যবাজার ও পাইকারি বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং সহনীয় পর্যায়ে দাম রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুনজিত কুমার চন্দ, সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ, ম্যাজিস্ট্রেট সোয়াদ সাত্তার চৌধুরীসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।পুলিশ সুপার আ. ব. ম. জাকির হোসেন বলেন, “রমজান রহমতের মাস। এই মাসে ব্যবসায়ীরা কোনো প্রকার সিন্ডিকেট করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবেন না। কোনোভাবেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না।”ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “কোনোভাবেই যেন রমজান মাসে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না হয়। যদি কেউ পণ্যের দাম বেশি রাখেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এনআই
হবিগঞ্জে উপজেলা বিএনপি সভাপতিকে আটকের পর মহাসড়ক অবরোধ
হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-কে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত তার নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযানে ডিবি পুলিশের একটি দল অংশ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর আগে দুপুর ২টার দিকেও বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে গালাগালের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অডিওর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাখী রানী দাস বলেন, “আজ দুপুরে শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত।প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ইখা
অনলাইন ভোট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগস্টের পর কিছু সাধারণ ও নিরীহ লোককে আসামি করা হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
পাকিস্তানে আফগানিস্তানের হামলা, সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষ
গত সপ্তাহের বিমান হামলার জবাবে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান।আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাদের ওপর হামলা চালানে হয়েছে৷ এরপর দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়।আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন, বিনা উস্কানিতে বারংবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হামলার জবাবে, সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অবস্থানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে।এফএস
২০২৫ সালে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ: জাতিসংঘ
বিশ্বজুড়ে অভিবাসন পথে ২০২৫ সালে অন্তত ৭ হাজার ৬৬৭ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ৯ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে সংখ্যাটি কিছুটা কমেছে। তবুও সংস্থাটি বলছে, এটি বৈশ্বিক সংকটেরই প্রতিফলন।আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপি বলেন, অভিবাসন পথে ধারাবাহিক প্রাণহানি একটি বৈশ্বিক ব্যর্থতা, যা আমরা স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারি না। তিনি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মৃত্যুগুলো অনিবার্য নয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করা এখনো সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুটগুলোর একটি। ২০২৫ সালে এই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ২ হাজার ১০৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন।এছাড়া স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আরও ১ হাজার ৪৭ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে অভূতপূর্ব সংখ্যক অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬০৬ জনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও ইতালিতে আগমনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।গত দুই সপ্তাহে দক্ষিণ ইতালি ও লিবিয়ার উপকূলে ২৩ জনের মরদেহ ভেসে উঠেছে বলেও জানিয়েছে আইওএম।সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালে আমেরিকা অঞ্চলে তুলনামূলক কম মানুষ বিপজ্জনক পথে যাত্রা করায় মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত এবং কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী দারিয়েন জঙ্গল অতিক্রমের চেষ্টাকারীর সংখ্যা কমেছে।২০১৪ সালে প্রতিবেদন শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালে আমেরিকা অঞ্চলে সবচেয়ে কম মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করেছে আইওএম। তবে বছরের চূড়ান্ত সংখ্যা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন পথ নিশ্চিত না করা গেলে এই মানবিক সংকট অব্যাহত থাকবে।সূত্র: এএফপিএবি
ইসরায়েলে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ সেনা সদস্যসহ আহত ৩৭
দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে একই দিনে পৃথক তিনটি বাস দুর্ঘটনায় মোট ৩৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর সদস্যরাও রয়েছেন।ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ) বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।আইডিএফ জানায়, মিৎসপে রামন ও শদেমার মাঝামাঝি রামাত এলিয়েজার স্মৃতিস্তম্ভের কাছে হাইওয়ে ৪০-এ সেনাদের ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়ার পথে একটি বাস উল্টে যায়। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক আইডিএফ চিকিৎসক দ্য জেরুজালেম পোস্টকে বলেন, বাসটির সামনের একটি টায়ার বিস্ফোরিত হয়েছিল।এমডিএ আরও জানায়, এ ঘটনায় ২১ জন সেনা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা মাঝারি গুরুতর এবং তাদের বিয়ারশেভার সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে এয়ারলিফট করে নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৯ জন হালকা আহত হয়েছেন এবং তাদেরও একই হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।দুর্ঘটনার কারণে হাইওয়ে উভয় দিকেই বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল পুলিশ। চালকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।এদিকে আরেক পৃথক ঘটনায়, দক্ষিণ ইসরায়েলের নেভাতিম জংশনের কাছে হাইওয়ে ২৫-এ একটি বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংঘর্ষে ১১ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন আইডিএফ সদস্যও রয়েছেন।ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, বিয়ারশেভা থেকে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির ভেতর আটকে পড়া একজনকে উদ্ধার করেছেন।আহতদের মধ্যে ২৯ বছর বয়সি এক নারীর অবস্থা মাঝারি গুরুতর এবং বাকি ১০ জন হালকা আহত হয়েছেন। সবাইকে সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।তৃতীয় দুর্ঘটনাটি মোশাভ রুহামার কাছে একটি বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ঘটেছে। এতে আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এমডিএ জানায়, তাদের মধ্যে ২৪ বছর বয়সি একজনের অবস্থা মাঝারি গুরুতর এবং বাকি চারজন হালকা আহত।আহতদের সোরোকা মেডিকেল সেন্টার এবং আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হচ্ছে।এবি
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর ঘোষণা কিম জং উনের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ‘সহাবস্থান’ তথা ‘ভালোভাবে চলা সম্ভব’ বলে বার্তা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তবে পিয়ংইয়ংয়ের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র যে থাকবেই, সেটিও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পামাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন কিম।সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও এর ব্যবহারিক সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করবে বলে কিম জং উন ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার নবম কংগ্রেসে দেয়া বক্তব্যে কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার বর্তমান পারমাণবিক অবস্থানকে সম্মান করে এবং বৈরী নীতি প্রত্যাহার করে, তবে দুই দেশের ভালোভাবে চলায় কোনও বাধা নেই।রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ’র বরাতে বলা হয়েছে, কিমের মতে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ওয়াশিংটনের মনোভাবের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হোক বা স্থায়ী মুখোমুখি অবস্থান— দুটোর জন্যই আমরা প্রস্তুত। সিদ্ধান্ত আমাদের নয়।’কিমের এই মন্তব্যকে অনেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এপ্রিলের চীন সফরের আগে আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করেছেন তিনি। সিউলকে উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে শত্রুতাপূর্ণ সত্তা’ বলে উল্লেখ করে কিম বলেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘চিরতরে স্বদেশির তালিকা থেকে বাদ’ দেয়া হবে।তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যতদিন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করবে, ততদিন নিরাপদে থাকার একমাত্র উপায় হলো উত্তর কোরিয়া-সম্পর্কিত সবকিছু থেকে সরে দাঁড়ানো এবং পিয়ংইয়ংকে একা থাকতে দেয়া।এক বিশ্লেষক এএফপিকে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।এদিকে কিম জোর দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এর ব্যবহারিক সক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রকল্পে মনোযোগ দেবে। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটি নিয়মিত নিষিদ্ধ আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।কেসিএনএ দাবি করেছে, কিমের নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়া তাদের ‘যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ আমূল শক্তিশালী করেছে। আর এর কেন্দ্রবিন্দু পারমাণবিক শক্তি। তবে দেশটির শাসনব্যবস্থার গোপনীয়তার কারণে সামরিক অগ্রগতির প্রকৃত চিত্র নির্ণয় করা কঠিন।স্বাধীন গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) গত বছর ধারণা দেয়, উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৫০টি প্রস্তুত পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০টি তৈরির মতো বিভাজ্য উপাদান মজুত আছে।এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে কিম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ‘সীমাহীন’ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।এবি
বাহরাইন থেকে সব জাহাজ সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র
বাহরাইনে অবস্থিত নিজেদের ঘাঁটি থেকে সব জাহাজ সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে যদি যুদ্ধ বেধে যায় তাহলে বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে হামলা হতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকে জাহাজ সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন নৌ সেনারা।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।এপি জানিয়েছে, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলার আগেও বাহরাইন থেকে নিজেদের জাহাজ সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।বার্তাসংস্থাটি আরও জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মনে করে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন পর্যায়ে আছে যেখান থেকে তাদের ফিরে আসার সুযোগ নেই। অর্থাৎ ইরানে তারা হামলা চালাবে। আর এমন হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে ইসরায়েলি সেনাদের অবহিত করা হতে পারে।যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যেই আজ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয়বারের মতো পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এতে মধ্যস্থতা করছে ওমান।যদিও আলোচনা চলছে কিন্তু তা সত্ত্বেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা রয়ে গেছে। বলা হচ্ছে, যে কোনো সময় হামলা শুরু হতে পারে।সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট মনিটর জানায়, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সামরিক শক্তি জড়ো করেছে। ইতিমধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছেছে তাদের ১২টি এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান।অবসরপ্রাপ্ত এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে, এমন সম্ভাবনা কমে আসছে। এখন দেখার বিষয় হামলা কিভাবে হয়, কোনদিক থেকে হয় এবং কতটা তীব্র হয়।এমআর-২
ফের বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
বিশ্ব বাজারে আবারও সোনার দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম ৫ হাজার ১৮৭ মার্কিন ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে। গতকাল এ দাম ছিল ৫ হাজার ১৬৫ ডলার। অর্থাৎ একদিনের তুলনায় প্রতি আউন্সে দাম বেড়েছে ২২ ডলার।গত জানুয়ারির শেষ দিকে সোনা সর্বকালের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছেছিল। ওই সময় প্রতি আউন্স সোনালী ধাতু বিক্রি হয়েছিল ৫ হাজার ৫৯৪ ডলারে।সেই হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও গত বছরের তুলনায় এটি প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। অপরদিকে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, মূলত তিনটি প্রধান কারণে সোনার দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বিনিয়োগকারীদের কাছে বহুগুণ বেড়েছে।অপর কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের সব দেশের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। যা বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতার পাশাপাশি ডলারের প্রতি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এর বদলে তারা এখন বিনিয়োগের জন্য সোনাকেই বেছে নিচ্ছেন।এছাড়া বিশ্বের প্রায় সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ হিসেবে ডলারের বদলে সোনা মজুদ করছে। যা দামি এ ধাতুর দাম বৃদ্ধিতে আরও ভূমিকা রেখেছে।এদিকে বিশ্লেষক সংস্থা ইউবিএস এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬ সালের শেষদিকে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৫ হাজার ৪০০ থেকে ৬ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।এমআর-২
উত্তেজনার মধ্যেই তৃতীয় দফায় আলোচনায় বসল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
উত্তেজানার মধ্যেই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরোক্ষ বৈঠকে বসেন ২ দেশের প্রতিনিধিরা।সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, জেনেভায় অবস্থিত ওমানের দূতাবাসে এ আলোচনা হচ্ছে। এতে মধ্যস্থতা করছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।তৃতীয় দফার এ আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও তার জামাতা জের্ড ক্রুসনার।বিশ্লেষকরা সতর্কতা দিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আগে এটিই সর্বশেষ কূটনৈতিক সুযোগ। এরপর হয়ত মার্কিন সেনারা ইরানে হামলা শুরু করতে পারে।তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন তাদের সামনে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি আছে তেহরান।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঈসমাইলি বাঘাই সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এবার আলোচনা করছেন ‘নমনীয়তা ও গুরুত্বের সঙ্গে’।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। এর পাশাপাশি তাদের কাছে সমৃদ্ধকরণকৃত যেসব ইউরেনিয়াম আছে সেগুলো তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করতে হবে।এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে তারা আপাতত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। এ নিয়ে যদি চুক্তি হয় তাহলে পরবর্তীতে ইরানের মিসাইল ও প্রক্সি বাহিনীকে নিয়েও আলোচনা হবে।ইরান অবশ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছে তারা তাদের মিসাইল নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করবে না। এছাড়া প্রক্সি বাহিনীকে নিয়েও দেশটি কোনো ছাড় দিতে চায় না। কারণ প্রক্সি বাহিনীতে থাকা হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরানের স্বার্থরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। এমআর-২
রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বীকার করলেন বিল গেটস
মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন গুঞ্জন চলছিল। এবার সেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিল গেটস। গেটস ফাউন্ডেশনের এক অভ্যন্তরীণ সভায় (টাউন হল মিটিং) তিনি স্বীকার করেন, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তী সময়ে এপস্টিন জানতে পারেন। ওই নারীরা এপস্টিনের পাচারের শিকার বা ভুক্তভোগী ছিলেন না বলেও দাবি করেছেন বিল গেটস।মঙ্গলবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে এই দাতব্য সংস্থার এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। সংবাদসংস্থা রয়টার্স ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টিনের মতো একজন দণ্ডিত অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের তার সঙ্গে বৈঠকে নিয়ে যাওয়াকে তিনি একটি ‘বিরাট ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সভায় গেটস বলেন, আমার ভুলের কারণে অন্য যারা এই বিষয়ের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও তিনি কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না দাবি করে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি অবৈধ কিছু করিনি। আমি অবৈধ কিছু দেখিওনি। বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতার এমন কিছু ছবিও ছিল, যেখানে তাকে কিছু নারীর সঙ্গে পোজ দিতে দেখা গেছে। অবশ্য ছবিতে সেই নারীদের মুখ ঝাপসা করে রাখা হয়েছিল। গেটস এর আগে বলেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল দাতব্য কাজসংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তার সঙ্গে দেখা করাটা ভুল ছিল।বিল গেটস জানান, ওই সব ছবি বৈঠকের পর এপস্টিনের অনুরোধে তার সহকারীদের সঙ্গে তোলা হয়েছিল। আমি পরিষ্কার করে বলছি, আমি কখনও ভুক্তভোগী বা তার (এপস্টিন) চারপাশের নারীদের সঙ্গে কোনও সময় কাটাইনি।গেটস ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, গেটস কর্মীদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত এক সভায় অংশ নিয়েছিলেন এবং এপস্টিন ফাইল প্রকাশসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এমআর-২
ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না যুক্তরাষ্ট: ভ্যান্স
ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানই ট্রাম্প প্রশাসনের পছন্দের পথ, তবে প্রয়োজন হলে অন্য বিকল্পও ব্যবহার করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে একেবারে পরিষ্কার—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না।’তিনি বলেন, ‘সামরিক পদক্ষেপই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। প্রেসিডেন্ট যেমন বলেছেন, আমরা কূটনীতির পথেই সমাধান চাই। তবে বিষয়টি খুবই সরল—বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক ইরান যেন পারমাণবিক সন্ত্রাসের হুমকি দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ভ্যান্সের মতে, অধিকাংশ আমেরিকানই মনে করেন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়; এটি জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।তিনি বলেন, আলোচনা চলমান থাকলেও প্রয়োজনে বিকল্প পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প প্রস্তুত আছেন।তার ভাষ্যমতে, ‘প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিকভাবেই বিষয়টি সমাধান করতে চান, তবে প্রয়োজনে তার হাতে আরও অনেক উপায় রয়েছে।’বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা তৃতীয় দফা পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় বসেছেন। ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেন, ইরান এই আলোচনাকে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ নেবে।ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে অপসারণের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কোন পথ নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টই নেবেন।’তিনি বলেন, ‘আমরা কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছি একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানোর জন্য। তবে সেই সমাধানের লক্ষ্য একটাই—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। বিষয়টি এতটাই সরল।’জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা চাই সামরিক পদক্ষেপ ছাড়াই ভালো সমাধান হোক। কিন্তু প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্টের সেই অধিকারও রয়েছে।’এমআর-২
পাকিস্তানে অভিযানে ‘ভারতীয় প্রক্সি’ গোষ্ঠীর ৩৪ সদস্য নিহত
খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তান প্রদেশে গোয়েন্দা–তথ্যভিত্তিক (ইন্টেলিজেন্স ড্রিভেন) একাধিক বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তান। এসব অভিযানে ৩৪ জন ভারতীয় প্রক্সি গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখা আইএসপিআর।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তারা এ তথ্য জানায়। খবর জিও নিউজের। মূলত পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সহ এ ধরনের আরও বেশ কিছু সশস্ত্রগোষ্ঠী। এসব গোষ্ঠীকে ভারত সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান। এজন্য তারা এসব গোষ্ঠীকে ভারতীয় প্রক্সি বাহিনী, ফিতনা আল-খাওয়ারিজ এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তান নামে আখ্যায়িত করেছে।আইএসপিআর বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র গোষ্ঠীদের নির্মূল করার লক্ষ্যে তাদের অভিযান চালানো হয়েছে এবং অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কেপিতে চারটি পৃথক সংঘর্ষে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজের’ ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। একই সময়ে বেলুচিস্তানের সামবাজা এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের’ ৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়।আইএসপিআর আরও জানায়, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা একদল ‘খারিজি’ সন্ত্রাসীর গতিবিধি নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে আসে। এরপর নির্ভুল ও দক্ষ অভিযানে ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর এক সদস্যকে হত্যা করা হয়। নিহত ওই ‘সন্ত্রাসী’ একজন আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।আইএসপিআর জানায়, লাক্কি মারওয়াত জেলায় একটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান (আইবিও) চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় সেনারা সন্ত্রাসীদের অবস্থানে কার্যকরভাবে আঘাত হানে এবং তীব্র গোলাগুলির পর তিনজন ‘খারিজিকে’ হত্যা করা হয়। একই সময়ে বান্নু জেলার নারমি খেল এলাকায় দুটি পৃথক সংঘর্ষে নিহত হয় ১০। এছাড়া সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মির আলি এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ১২ জন ‘খারিজিকে’ নির্মূল করা হয়। সর্বশেষ ঝোব জেলার সামবাজা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তীব্র গোলাগুলির পর নিহত হয় ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের’ আরও ৮ জন সদস্য। নিহতদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করেছে পাক সেনারা।এমআর-২
খেলা
সব দেখুন- এবার ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে নিষিদ্ধ হলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড
- ভারতের লজ্জাজনক হারের পর দ. আফ্রিকাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা বিজ্ঞাপন উধাও
- দুই ম্যাচ জিতলেও বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়তে পারে ভারত
- লেভান্তেকে হারিয়ে এক নম্বরে বার্সেলোনা
- বিশ্বকাপের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
- সাকিব ফিরলে বিশ্বকাপ পর্যন্ত সার্ভিস দিতে পারবে, দাবি আশরাফুলের
বিনোদন
সব দেখুন
মিমের পাতায়া কাপানো কিছু দূর্দান্ত ছবি
ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম কয়েক দিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে থাইল্যান্ড সফরের নানা ঝলক শেয়ার করছেন। তার ইনস্টাগ্রামে ভেসে উঠেছে পাতায়ার সমুদ্র, রোদ আর নির্ভার হাসির একগুচ্ছ ছবি।ক্যাপশনে মিম লিখেছেন, ‘এমন মুহূর্তই জীবনকে সুন্দর করে তোলে।’ সংক্ষিপ্ত এই বাক্যেই যেন ধরা পড়েছে তার ছুটির মেজাজ। থাইল্যান্ডের পর্যটনকেন্দ্র পাতায়ার নীল আকাশ আর সমুদ্রের পটভূমিতে মিমকে দেখা গেছে একেবারে ভিন্ন এক আবহে। ব্যস্ত শুটিং শিডিউল, আলো-ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে এই সময়টা যে তার জন্য বিশেষ, তা বোঝা যায় প্রতিটি ফ্রেমে।স্থানীয় নানা পদ উপভোগ করতে দেখা গেছে তাকে। ভ্রমণের আনন্দ যে কেবল ঘোরাঘুরি নয়, স্বাদের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে সেই ইঙ্গিত মিলেছে ছবিগুলোতে।সফরে মিম একা নন ছবিতে তার পাশে রয়েছেন স্বামী সনি পোদ্দার। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও ব্যক্তিগত সময়কে গুরুত্ব দেওয়ার এই দিকটি ভক্তদের নজর কেড়েছে।ছবি পোস্টের পরপরই অনেকে শুভকামনা জানিয়েছেন, কেউ লিখেছেন ভালোবাসার বার্তা, কেউবা প্রশংসা করেছেন তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির।বড় পর্দার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির একটি অরিজিনাল ফিল্মেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মিম। গ্ল্যামারের প্রচলিত ছক ভেঙে ভিন্নধর্মী চরিত্রে তাকে দেখা যাবে বলে জানা গেছে। একদিকে ব্যক্তিগত জীবনের ছোট ছোট আনন্দ, অন্যদিকে অভিনয়ের বড় পরিসর এই ভারসাম্যই হয়তো তার যাত্রাকে আলাদা করে তোলে।ছবিগুলো তাই কেবল ভ্রমণের অ্যালবাম নয়; বরং এক ব্যস্ত তারকার স্বস্তির নিঃশ্বাস।এইচএ
ডিসি মাসুদকে অভিনন্দন জানালেন ওমর সানি
ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। আগের মতো অভিনয়ে নিয়মিত নন। সর্বশেষ ‘ডেডবডি’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাকে। বর্তমানে তার ব্যস্ততা কাটছে নিজের ব্যবসা ঘিরে। তার পরিবারের সবাই দেশের বাইরে থাকলেও তিনি দেশে থেকেই ব্যবসা সামলাচ্ছেন।ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মাঝেও নিজের ফেসবুক আইডিতে নানা রকম পোস্ট দিয়ে আলোচনায় আসেন এই অভিনেতা।গতকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ওমর সানী ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পোস্টে ওমর সানী লেখেন, ‘অভিনন্দন ডিসি মাসুদ, একটি সন্তানকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য।’এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনার নেপথ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা রয়েছে বলে তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদক্ষেপে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর ফোনকলের পর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এই স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে ছেলেটিকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের শিকার স্কুলছাত্রের বাবার নাম খন্দকার শামীম। তিনি সচিবালয়ের কর্মচারী।এইচএ
নানুভাই নেই, রোজাটা কেমন ফিকে ফিকে লাগছে: পরীমণি
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমণি কখনো প্রেম, কখনো বিয়ে কিংবা বিচ্ছেদ; সব নিয়েই থাকে ভক্তদের মাঝে কৌতূহল। নায়িকার জন্য এবারের রমজানটা অনেকটা অন্যরকম। জীবনের প্রতিটা বাঁকে ছায়ার মতো পাশে থাকা প্রিয় নানুভাই আজ নেই। আর তাই সেহরি কিংবা ইফতারের সময়গুলো নানুভাইয়ের স্মৃতিতে বড্ড বেশি ভারাক্রান্ত হয়ে উঠছে এই চিত্রনায়িকার জন্য। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যক্তিজীবন, আসন্ন ঈদ এবং ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন পরীমণি।তিনি বলেন, ‘বাসায় মুরুব্বীরা নেই, তাই নানুভাইকে খুব মিস করছি। রোজার দিনে নানুভাইয়ের মেমোরিগুলোই আসলে বেশি মনে পড়ে। কারণ উনার জন্য সেহরি বানানো, ইফতারের আয়োজন করা সবকিছু উনাকে ঘিরেই ছিল আমার। উনি নেই, তাই মনে হচ্ছে রোজাটা কেমন একটা ফিকে ফিকে লাগছে।’ নিজের ইফতার প্রসঙ্গে পরী বলেন, ‘আমি দুধ-কলা-ভাত বেশি পছন্দ করি। ইফতারিতে ভাজাপোড়া খাওয়া হয় না, শরবত আর খেজুর দিয়েই সেরে ফেলি।’তিনি জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে আলাদা করে কেনাকাটা করার অভ্যাস তার নেই। তবে নিজের চেয়েও ইন্ডাস্ট্রির ভালো থাকাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পরীর ভাষ্যে, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রি এবং আমাদের সিনেমা আমি চাই প্রত্যেকটা সিনেমাই ভালো করুক এবং ব্যবসায় সফল হোক। এখন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এটা খুবই দরকার।’নতুন কাজ নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাইলেন না এই নায়িকা। তিনি বলেন, ‘আপাতত যে কাজের জন্য আসছি, সেটাকেই ফোকাস করতে চাই। এখনই ঘটা করে সবকিছু বলে দেওয়ার তাড়া নেই। ইনশাআল্লাহ সামনে আপনাদের সব জানাবো।’এইচএ
লাগেজে মদের বোতলের খবর অস্বীকার করে মেহজাবীন চৌধুরীর স্ট্যাটাস
গত কয়েকদিন ধরে আলোচনায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। গত বছরের একটি ঘটনাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে ফেরার সময় মেহজাবীনের লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়ার অভিযোগে বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন তিনি।তখন দাবি করা হয়, তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। অভিযোগ ছিল, লাগেজে মদ পাওয়ার পরও বিষয়টি প্রকাশ না করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁদের ছেড়ে দেয়।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনার মুখে পড়েন অভিনেত্রী।আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে ফের মুখ খুলেছেন মেহজাবীন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।অভিনেত্রীর ভাষ্য, তাঁকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি, তাঁর কোনো লাগেজও আটকানো হয়নি। এমনকি তাঁর লাগেজে অভিযোগে উল্লিখিত কোনো বস্তু পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। মেহজাবীন লেখেন, উল্লিখিত কোনো ঘটনায় আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি। আমার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও আটকানো হয়নি; আমার লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগে উল্লিখিত অভিযোগের কিছু পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সে রকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি আমি হইনি।বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা আমাকে কোনোরূপ জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।পোস্টে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা তাঁর লাগেজ থেকে কোনো অবৈধ কিছু উদ্ধার হয়েছে—এমন কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রমাণ কি আছে?মেহজাবীন জানান, প্রমাণ ছাড়াই তাঁর ছবি ব্যবহার করে ক্লিকবেইট সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।তিনি লেখেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানহানি এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তার নিরিখে একটিও প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি যে আমার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়া গেছে।সাম্প্রতিক মানহানিকর প্রচারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।এর আগে গত রবিবারও এক পোস্টে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি তাঁকে বিভিন্নভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। এমনকি একটি মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হলেও আদালত থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করলেন নতুন গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করলেন নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ সময় এসময় নতুন গভর্নরকে অভ্যর্থনা জানাতে ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ও হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গভর্নর ভবনের মূল ফটকে আসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আগে গভর্নর অর্থ মন্ত্রনালয়ে যান, সেখানে কার্যক্রম শেষ করে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেন। প্রজ্ঞাপনের পরদিনই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করেন তিনি।এর আগে, গতকাল বিকেলে আগের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সাথে চুক্তি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার৷ একই সাথে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে চার বছরের চুক্তি করে প্রজ্ঞাপন দেয় সরকার।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১০৭২ (প্রেসিডেন্স অর্ডার নম্বর ১২৭ অব ১৯৭২) এর ১০ (৫) অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। তবে কর্পোরেট অর্থায়ন, শিল্প ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিষয়ে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে বলে জানা গেছে।তিনি বিজিএমইএ-র বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বোর্ড সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই), রিহ্যাব, এবং আটাব-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য।মোস্তাকুর রহমান ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর একজন ফেলো মেম্বার।এইচএ
দেশের বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দাম দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি যোগ হবে।গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।এইচএ
১৬৫ কোটির অস্বাভাবিক লেনদেন, ৩ কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) তিন কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেনামে ২৩৪টি এফডিআর হিসাব খুলে ১৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।অভিযুক্তরা হলেন বিজয়নগর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. ইসলামুল হক (বর্তমানে মিরপুর শাখা), সাবেক এফভিপি খন্দকার নূরে ইমাম ও সাবেক ট্রেইনি সহকারী অফিসার জান্নাতুল মাওয়া সুইটি।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।দুদকের আবেদনে বলা হয়, তিনজনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।এবি
দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, ‘চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি এই লক্ষ্যমাত্রা আমরা অতিক্রম করে যাব। আর এটি সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেয়া ঋণের কিস্তির অর্থ ছাড়াই।’জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তখন আন্তব্যাংক কেনাবেচায় প্রতি মার্কিন ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ কমে হয় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি ডলার ৩৬ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি নেয়। ফলে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনতে থাকে। এতে রিজার্ভ বেড়েছে।চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই বছরের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।জানা যায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংকগুলো থেকে কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কিনেছে ১৫৩ কোটি ডলার। এর ফলে রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।এফএস
এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ পরিচালককে বদলি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গভর্নর পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালক এবং একজন অতিরিক্ত পরিচালককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ব্যাংকের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ অফিস আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক মো. জয়নুল ইসলাম হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে বদলি হয়ে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলে পরিচালক মো. শহিদ রেজা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ থেকে বদলি হয়ে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ যোগ দেবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উভয় বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।তৃতীয় বদলি হিসেবে পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে বদলি হয়ে মতিঝিল অফিসে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (কারেন্সি হিসেবে) দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি ব্যাংকের অর্থ এবং নীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন।এছাড়াও, পরিচালক গাজী মো. মাহবুবুল ইসলাম মতিঝিল অফিস থেকে বদলি হয়ে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এ যোগ দেবেন, যেখানে তিনি নীতি নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে মো. কামরুল ইসলাম গভর্নর অফিস থেকে বদলি হয়ে সদরঘাট অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলির মাধ্যমে সদরঘাট অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও দক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।এই বদলিগুলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে। এফএস
প্রয়োজনেই গভর্নর পরিবর্তন, আরও অনেক জায়গায় হবে: অর্থমন্ত্রী
পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অগ্রাধিকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রয়োজনবোধে পরিবর্তন হতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।কোন বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করা হলো? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, বিবেচনার তো কিছু নেই। একটা নতুন সরকার আসছে। নতুন সরকারের প্রায়োরিটি আছে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন খালি বাংলাদেশ ব্যাংকেই তো হয়নি, পরিবর্তন অনেক জায়গায় হচ্ছে এবং এটা হতেই থাকবে।তিনি বলেন, নতুন সরকারের নিজস্ব কর্মসূচি, পছন্দ ও নীতিগত চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়নের জন্য যেখানে প্রয়োজন, সেখানে পরিবর্তন আনা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের যে প্রোগ্রাম আছে, প্রিফারেন্স আছে, যে চিন্তা-ভাবনা আছে— সবগুলো মিলিয়ে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে তো পরিবর্তন হবে।তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিবর্তন হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হতে থাকবে। খুবই স্বাভাবিক এটা। এমআর-২
ফেব্রুয়ারির ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৭৯ বিলিয়ন ডলার
দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স প্রবাহে সুবাতাস বইছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনেই রেকর্ড পরিমাণ ২৭৯ কোটি ২০ লাখ (২.৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, মাসজুড়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ১৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যাংকগুলোর আকর্ষণীয় অফার প্রবাসীদের উৎসাহিত করছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ২২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বছর ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ।এর আগে গত জানুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছিল বাংলাদেশ। জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক একক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড। এফএস
বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করলেন নতুন গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করলেন নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ সময় এসময় নতুন গভর্নরকে অভ্যর্থনা জানাতে ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ও হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গভর্নর ভবনের মূল ফটকে আসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আগে গভর্নর অর্থ মন্ত্রনালয়ে যান, সেখানে কার্যক্রম শেষ করে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেন। প্রজ্ঞাপনের পরদিনই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করেন তিনি।এর আগে, গতকাল বিকেলে আগের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সাথে চুক্তি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার৷ একই সাথে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে চার বছরের চুক্তি করে প্রজ্ঞাপন দেয় সরকার।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১০৭২ (প্রেসিডেন্স অর্ডার নম্বর ১২৭ অব ১৯৭২) এর ১০ (৫) অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। তবে কর্পোরেট অর্থায়ন, শিল্প ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিষয়ে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে বলে জানা গেছে।তিনি বিজিএমইএ-র বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বোর্ড সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই), রিহ্যাব, এবং আটাব-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য।মোস্তাকুর রহমান ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর একজন ফেলো মেম্বার।এইচএ
দেশের বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দাম দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি যোগ হবে।গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।এইচএ
১৬৫ কোটির অস্বাভাবিক লেনদেন, ৩ কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) তিন কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেনামে ২৩৪টি এফডিআর হিসাব খুলে ১৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।অভিযুক্তরা হলেন বিজয়নগর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. ইসলামুল হক (বর্তমানে মিরপুর শাখা), সাবেক এফভিপি খন্দকার নূরে ইমাম ও সাবেক ট্রেইনি সহকারী অফিসার জান্নাতুল মাওয়া সুইটি।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।দুদকের আবেদনে বলা হয়, তিনজনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।এবি
দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, ‘চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি এই লক্ষ্যমাত্রা আমরা অতিক্রম করে যাব। আর এটি সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেয়া ঋণের কিস্তির অর্থ ছাড়াই।’জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তখন আন্তব্যাংক কেনাবেচায় প্রতি মার্কিন ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ কমে হয় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি ডলার ৩৬ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি নেয়। ফলে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনতে থাকে। এতে রিজার্ভ বেড়েছে।চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই বছরের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।জানা যায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংকগুলো থেকে কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কিনেছে ১৫৩ কোটি ডলার। এর ফলে রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।এফএস
এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ পরিচালককে বদলি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গভর্নর পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালক এবং একজন অতিরিক্ত পরিচালককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ব্যাংকের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ অফিস আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক মো. জয়নুল ইসলাম হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে বদলি হয়ে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলে পরিচালক মো. শহিদ রেজা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ থেকে বদলি হয়ে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ যোগ দেবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উভয় বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।তৃতীয় বদলি হিসেবে পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে বদলি হয়ে মতিঝিল অফিসে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (কারেন্সি হিসেবে) দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি ব্যাংকের অর্থ এবং নীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন।এছাড়াও, পরিচালক গাজী মো. মাহবুবুল ইসলাম মতিঝিল অফিস থেকে বদলি হয়ে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এ যোগ দেবেন, যেখানে তিনি নীতি নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে মো. কামরুল ইসলাম গভর্নর অফিস থেকে বদলি হয়ে সদরঘাট অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলির মাধ্যমে সদরঘাট অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও দক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।এই বদলিগুলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে। এফএস
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে জবিতে বাস ট্র্যাকার অ্যাপ ‘জবি এক্সপ্রেস’ চালু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহন ভোগান্তি কমাতে ও যাতায়াত সহজ করতে বাস ট্র্যাকার অ্যাপ ‘জবি এক্সপ্রেস’ চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের দ্বিতীয় তলায় জকসু কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়।জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বাসের অবস্থান ও সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের ভোরে বাসের জন্য রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো, যা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াত। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহযোগিতায় জকসুর উদ্যোগে ‘জবি এক্সপ্রেস’ অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।”উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গুগল ম্যাপের অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর এটি এখন প্লে-স্টোরে প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই এটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে ‘জবি এক্সপ্রেস’ নামে একটি ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে, যেখান থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।অ্যাপটির কার্যকারিতা সম্পর্কে রিয়াজুল ইসলাম জানান, বাস চলাচলের সময় চালক বা সহকারী অ্যাপটি চালু করে লোকেশন অন রাখবেন। এতে শিক্ষার্থীরা রিয়েল-টাইমে বাসের অবস্থান দেখতে পাবেন। বাস পার্কিংয়ে থাকলে বা সার্ভিসে না থাকলে লোকেশন বন্ধ থাকবে। ইতোমধ্যে বাসচালক ও সহকারীদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।অ্যাপটির উদ্বোধনকালে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম ও কার্যনির্বাহী সদস্য মেহেদী হাসানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এনআই
এখন থেকে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করলেই, সম্মাননা প্রদান করা হবে: বাকৃবি উপাচার্য
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেছেন, এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গবেষক সর্বোচ্চ বাজেট সংগ্রহ করে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে পারবেন, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।বৃস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বেকারি পণ্যে সবজি ফ্লেক্স (শুকনা বা গুড়া করা সবজি) সংযোজনের মাধ্যমে পুষ্টিমান বৃদ্ধির গবেষণা কার্যক্রম উৎভোদনের সয়ি তিনি এসব কথা বলেন।উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতিতে এবং উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার উন্নয়নে গবেষণাই মূল চালিকাশক্তি। গবেষণা করার আনন্দ যে অধ্যাপক একবার উপভোগ করেছেন তিনি গবেষণা ছাড়া থাকতে পারেন না। গবেষণাকে কেবল একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে তা শিল্প ও বানিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তবে তার আগে ক্লাস-পরীক্ষার দিকে শিক্ষকদের গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে যাতে ক্লাসের বা রেজাল্টের জন্য বসে থাকতে না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ সূচনা কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ।কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলজারুল আজিজ। এসময় তিনি বলেন, শুধুমাত্র বেকারি পণ্যের জন্য বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ১০০ মেট্রিক টন সবজি ফ্লেক্স আমদানি করে। দেশে উৎপাদিত পুষ্টিকর সবজি মৌসুমে উদ্বৃত্ত থাকলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এর বড় অংশ অপচয় হয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে এসব সবজি শুকিয়ে ফ্লেক্সে রূপান্তর করা গেলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যে তা সংযোজন করে ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য তৈরি করা যাবে। এতে করে সবজি ফ্লেক্স আমদানির পরিমাণও কমানো সম্ভব হবে।তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় উপযোগী সবজি নির্বাচন, মানসম্মত প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ এবং বেকারি পণ্যে গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে শিল্পখাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাজারজাতকরণের কৌশল প্রণয়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা এবং ইফাদ মাল্টি প্রডাক্ট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন মন্ডল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ইখা
দীর্ঘদিন ধরে ক্যারিয়ার এডভাইজার সার্ভিসের কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যারিয়ার এডভাইজার সার্ভিসের (CADS) কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সর্বশেষ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের ৪ মার্চ। যেখানে জাপানে উচ্চশিক্ষিত চাকরি সুযোগ নিয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর গত প্রায় এক বছরে ক্যাডস কার্যত বড় কোন কর্মশালা, সেমিনার বা চাকরিমেলার আয়োজন করেনি। গত বছর ২২ জুন ক্যাডস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল বারী এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নতুন কোনো পরিচালক নিয়োগ না হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত হয়ে আছে। বর্তমানে ওই দপ্তরে একজন অফিসার এবং একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার কর্মরত থাকলেও কার্যক্রম চালু নেই।সরেজমিনে ক্যাডস অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস বন্ধ, নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিস তানিয়া আফরোজকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। অফিসার (ইনচার্জ) মো. মুরশেদ হাসান খানকে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। জানা যায়, পরিচালক না থাকায় কোনো উদ্যোগ বা কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। প্রশাসন থেকেও নতুন পরিচালক নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।ক্যাডস প্রতিষ্ঠার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। চাকরি, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল এই কেন্দ্রের। এছাড়া স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের তথ্য প্রদান, যোগাযোগ ও প্রেজেন্টেশন দক্ষতা উন্নয়ন, এবং বিতর্ক ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পরিকল্পনা ছিল।কিন্তু বাস্তবে ক্যাডস গত এক বছরে কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ক্যাডস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সময়মতো তথ্য পাচ্ছেন না। কেউ কেউ বলছেন, ক্যাডস যদি নিয়মিতভাবে কার্যক্রম চালাতো, তবে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারতেন।শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও একাডেমিক কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের অবহেলা ও অবজ্ঞার কারণে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন দেওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মটি অচল হয়ে আছে।এ বিষয়ে হাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু হাসানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এবিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম শিকদার বলেন, ভিসি স্যার কাউকে নিয়োগ দেয় নাই যার ফলে সেটা অকার্যকর হয়ে আছে।ইখা
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বৃত্তির তথ্য হালনাগাদের সময় বাড়ল
দেশের ৩টি সরকারি ও এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্যের ভুল সংশোধন ও নতুন তথ্য হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ৫ মার্চ বিকেল ৫টার মধ্যে নির্ধারিত সফটওয়্যারে তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজস্ব খাতভুক্ত সকল ধরনের বৃত্তির অর্থ ‘জিটুপি’ পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।নির্দেশনা অনুযায়ী, অনেক মাদ্রাসা এখনো বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি করেনি এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের পাঠানো তথ্যে ব্যাংক হিসাব নম্বর, শাখার নাম ও পরীক্ষার সালসহ বিভিন্ন ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থীর ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য সঠিক না থাকায় ইএফটি ‘বাউন্সব্যাক’ বা ফেরত এসেছে। এসব সমস্যা নিরসন ও কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের জন্য সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অর্থ) ড. কে এম শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনলাইন সুবিধাসম্পন্ন তফশিলভুক্ত ব্যাংকে শিক্ষার্থীর নিজ নামে ১৩ থেকে ১৭ ডিজিটের ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে। শিক্ষার্থীর নাম ও ব্যাংক হিসাবের নাম অভিন্ন হতে হবে।এছাড়া সঠিক রাউটিং নম্বর, পরীক্ষার আইডি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিশ্চিত করতে হবে। যারা মাদ্রাসা থেকে বৃত্তি পেয়ে বর্তমানে স্কুল বা কলেজে পড়ছেন, তারা সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের লিংকে আবেদন করবেন।এতে আরও বলা হয়, যারা মাদ্রাসা থেকে বা স্কুল-কলেজ থেকে বৃত্তি পেয়ে বর্তমানে মাদ্রাসায় পড়ছেন, তারা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত লিংকে (dme.finance.gov.bd) আবেদন করবেন।এইচএ
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, জানবেন যেভাবে
কনটেন্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন একটি সুবিধা চালু করেছে গুগল। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে এখন আসল ছবি বা ভিডিও আর এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট আলাদা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। গুগলের জেমিনি অ্যাপ ব্যবহার করে এখন সহজেই জানা যাবে কোনো ছবি বা ভিডিও গুগলের এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না। এই সুবিধাটি সম্ভব হয়েছে গুগলের বিশেষ ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তি সিনথআইডির মাধ্যমে, যা এআই-তৈরি কনটেন্টের ভেতরে অদৃশ্য ডিজিটাল চিহ্ন সংযুক্ত করে।কীভাবে যাচাই করবেন এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট, ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি তুলে ধরা হলো— জেমিনি অ্যাপে প্রবেশ: প্রথমে জেমিনি অ্যাপটি চালু করুন। এই যাচাই সুবিধা বর্তমানে সমর্থিত সব ভাষা ও দেশে চালু রয়েছে। সঠিক ফল পেতে অ্যাপটির সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে গুগল। কনটেন্ট আপলোড: যে ছবি বা ভিডিও যাচাই করতে চান, সেটি সরাসরি জেমিনি অ্যাপে আপলোড করুন। ভিডিওর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ এমবি সাইজ এবং ৯০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ফাইল আপলোড করা যাবে। ফাইল যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি সাধারণ মেসেজিং অ্যাপের মতোই সহজ।ফাইল আপলোডের পর জেমিনিকে সরাসরি প্রশ্ন করুন—‘এটি কি গুগল যাচাই দিয়ে তৈরি?’ অথবা ‘এই কনটেন্টটি কি যাচাই -জেনারেটেড?’ স্বাভাবিক ও কথোপকথনের ভঙ্গিতেই প্রশ্ন করা যাবে, কারণ জেমিনি বিভিন্নভাবে করা প্রশ্ন বুঝতে সক্ষম।এরপর জেমিনি আপলোড করা কনটেন্টে সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না তা স্ক্যান করে জানাবে। ভিডিওর ক্ষেত্রে অডিও ও ভিজ্যুয়াল উভয় অংশেই এই শনাক্তকরণ করা হয়। প্রয়োজনে জেমিনি নির্দিষ্ট করে জানাবে ভিডিওর কোন অংশে এআই-তৈরি উপাদান রয়েছে।কীভাবে কাজ করে সিনথআইডি:সিনথআইডি প্রযুক্তি এআই দিয়ে কনটেন্ট তৈরির সময়ই তাতে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে। এটি মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, তবে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। এই ওয়াটারমার্ক এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ক্রপ করা, ফিল্টার দেওয়া, কমপ্রেশন বা ফ্রেমরেট পরিবর্তনের পরও তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।কনটেন্টের স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ: ২০২৩ সালে চালুর পর থেকে গুগল ইতোমধ্যে ২০ বিলিয়নের বেশি এআই-তৈরি কনটেন্টে সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক যুক্ত করেছে।এইচএ
বিশ্বজুড়ে বিভ্রাট ইউটিউব এখন স্বাভাবিক, জানা গেল কারণ
হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাপী ব্যাপক বিভ্রাটের কবলে পড়েছিল জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। মঙ্গলবার গভীর রাতে কয়েক লাখ ব্যবহারকারী সাইটটিতে প্রবেশ করতে বা ভিডিও দেখতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। তবে ভোর রাতে আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে বলে জানা গেছে। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যাটি এখন সম্পূর্ণ সমাধান করা হয়েছে এবং সব পরিষেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।ইন্টারনেট বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১টার দিকে সমস্যার পরিমাণ চরমে পৌঁছায়। সে সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী ইউটিউবে ঢুকতে না পারার অভিযোগ জানান। বিভ্রাট চলাকালীন অনেক ব্যবহারকারী সাইটটির হোমপেজে গেলে তাদের ‘পরে আবার ফিরে আসার’ বার্তা দেখানো হচ্ছিল।ইউটিউব জানিয়েছে, মূলত তাদের ‘সুপারিশ ব্যবস্থা’ বা রিকমেন্ডেশন সিস্টেমে ত্রুটির কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে ইউটিউব অ্যাপ, ইউটিউব মিউজিক, কিডস এবং টিভি—সবগুলো প্ল্যাটফর্মেই ভিডিও প্রদর্শনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল।বিভ্রাট কাটিয়ে ওঠার পর এক বিবৃতিতে ইউটিউব জানায়, ‘আমাদের সুপারিশ ব্যবস্থার সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে। ইউটিউব ডটকমসহ আমাদের সব প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ এখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।’ বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা জিএমটি ভোর ৪টার দিকে সাইটটি ব্যবহার করে দেখেছেন যে এটি পুনরায় সক্রিয় হয়েছে।গুগলের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। প্রতি মাসে প্রায় ২৫০ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী ইউটিউব ব্যবহার করেন। এত বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীর জীবনে ইউটিউব একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে কয়েক ঘণ্টার এই বিভ্রাট বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে।এইচএ
নিজের ফোনেই পাবেন ভোটের ফলাফল
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের ফলাফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইলেকশন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভোটাররা রিয়েল টাইমে ফলাফল দেখতে পারবেন এবং নির্বাচনি তথ্য সহজে জানতে পারবেন।জেনে নিন কীভাবে ঘরে বসেই এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল জানতে পারবেন-অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন: অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে উভয়েই পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যাবে। ডাউনলোডের পর ফোনে ইনস্টল করে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে।অ্যাকাউন্ট বা লগইন প্রক্রিয়া: সাধারণত ভোটের ফলাফল দেখার জন্য লগইন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য বা ইভিএম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে অ্যাপটি আপনাকে ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে লগইন করতে বলবে। লগইন করলে ভোটের নথি, ভোটার স্ট্যাটাস এবং নির্বাচনী কেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।ভোটের ফলাফল দেখার ধাপক. নির্বাচন ও কেন্দ্র নির্বাচন: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে ‘ইলেকশন রেজাল্টস’ বা ‘ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনটি থাকবে। এখানে নির্বাচনের ধরন নির্বাচন করতে হবে (জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা, বা ইউনিয়ন নির্বাচন)। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।খ. কেস্টিং এবং ফলাফল: নির্বাচনি কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের লাইভ আপডেট দেখার সুযোগ থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড হবে। ভোটের ভোটের সংখ্যা, প্রার্থী বা দল অনুযায়ী ভাগফল এবং ভোটের শতাংশ দেখা যাবে।গ. গ্রাফ এবং চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপনা: অ্যাপটি ফলাফলকে গ্রাফ বা চার্টে দেখায়, যাতে কোন প্রার্থী বা দলের অবস্থান সহজে বোঝা যায়। লাইভ আপডেটের ফলে ভোটের ধাপ ধাপে অগ্রগতি দেখা যাবে।এইচএ
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
সেনাবাহিনীর আরও ৬ উচ্চ পদে রদবদল
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ৮টি পদে রদবদল আনা হয়েছিল।ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) করা হয়েছে। কিউএমজির দায়িত্ব পালন করা আসা লে. জেনারেল ফয়জুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন লে. জেনারেল শাহীন। লে. জেনারেল ফয়জুরকে এনডিসিতে বদলি করা হয়। এছাড়া সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেন আল মোরশেদকে ১৯ পদাতিক ডিভিশন থেকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাকিমুজ্জামানকে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট করা হয়। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লজিস্টিক এরিয়ার জিওসি হিসবে বদলি করা হয়।এফএস
প্রবাস
সব দেখুন
বাহরাইনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত
বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো বাহরাইনস্থ জাতিসংঘের কার্যালয় ও আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাহরাইনের আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বাহরাইন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বাংলাদেশ স্কুল ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন King Hamad Global Center for Peaceful Coexistence-এর নির্বাহী পরিচালক মুনীরা নাওফল আল-দোসেরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. নাজমা ত্বাকী এবং বাহরাইনে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি খালিদ আল-মিকওয়াদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন Bahrain Authority for Culture and Antiquities-এর ডাইরেক্টর জেনারেল মিস ফারাহ মোহাম্মদ মাততারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত এবং UNESCO কর্তৃক প্রেরিত ভিডিও বার্তা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সকল ভাষার সংরক্ষণ ও চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় কবিতা আবৃত্তি। চীন, মিশর, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, লেবানন, মালয়েশিয়া, নেপাল, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা তাদের ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করে বহুভাষিক সংস্কৃতির এক অনন্য আবহ তৈরি করেন।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপের বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে আগত কয়েকজন বিদেশি অতিথিকেও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।শেষ পর্বে রাষ্ট্রদূত অতিথিদের নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে বাহরাইনের প্রায় ১১টি স্কুলের ৭২টি চিত্রকর্ম স্থান পায়।ইখা
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ইফতারের কতক্ষণ পর চা খাবেন
আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে চা একটি অত্যাবশ্যকীয় রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চা পান করা অনেকেই অভ্যাস। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা না খেলে যেন দিনই শুরু হয় না। তবে এই রমজানে সেটা সম্ভব না। তাই ইফতার করেই অনেকে অস্থির হয়ে থাকেন চা পানের জন্য। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না ইফতারের ঠিক কতক্ষণ পর চা পান করা উচিত। এমনকি জানি না এর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করতে চা সাহায্য করে। তাই চলুন জেনে নিন ইফতারের কতক্ষণ পর চা পান উচিত এবং ইফতারের পর চা পানের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে-জেনে নিন ইফতারের পর চা খাওয়ার উপকারিতা: স্নায়ুকে শিথিল করে: চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইন মানসিক সতেজতা আনতে পারে। একই সঙ্গে সারাদিনের ক্লান্তিভাব দূর করতে সাহায্য করে।পরিপাকতন্ত্রে সহায়তা করে: হালকা গরম চা হজম প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যদি আদা বা পুদিনা পাতা দেয়া হয়।ডিহাইড্রেশন কমাতে পারে: হারবাল বা গ্রিন টি শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।হজম প্রক্রিয়া: সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে আমার হজম প্রক্রিয়ায় ব্যঘাত ঘটে। তবে ইফতারের পর চা পান আমাদের হজম প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে যদি আদা বা পুদিনা চা বেশ উপকারী।ইফতারের পর চা খাওয়ার ক্ষতিকর দিক: আয়রন শোষণে বাধা দেয়: চায়ের ট্যানিন নামক উপাদান শরীরের আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ায়।অ্যাসিডিটি হতে পারে: ইফতারের পরপর চা খেলে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে দুধ চা হলে।পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে: চায়ে ক্যাফেইন থাকে, যা প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে পারে। এতে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।ইফতারের কতক্ষণ পর চা পান উচিত: ইফতারের প্রায় ৩০-৪০ মিনিট পর চা পান করা ভালো। হারবাল টি, গ্রিন টি বা আদা-লেবু চা শরীরের জন্য উপকারী। যারা গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন তারা সুস্থ থাকার জন্য দুধ চা এড়িয়ে চলুন।এইচএ
