ঢাকা-১১ আসনে বিজয়ী নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬২টি কেন্দ্রের সব কটির ফলাফলে তাঁর জয় নিশ্চিত হয়।ঘোষিত ফল অনুযায়ী, শাপলা কলি প্রতীকে নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ৯৮ হাজার ২০২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৯২ হাজার ২১২ ভোট। ফলে ৫ হাজার ৯৯০ ভোটের ব্যবধানে জয় পান তিনি।পোস্টাল ভোটেও শাপলা কলি এগিয়ে ছিল। নাহিদ ইসলাম পোস্টাল ভোটে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪ ভোট, আর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৮৬৬ ভোট।বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলামের বিজয় হয়েছে বলে দাবি করেন।এর আগে রাত সাড়ে ১০টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল আটকে রেখে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নিশ্চিত জয় টের পেয়ে কয়েকটি কেন্দ্রের ফল আটকে রেখে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।’এমআর-২
পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে বৈধ ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা চূড়ান্ত পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দেয়ার জন্য মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন নাগরিক নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে প্রবাস থেকে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৩ জন এবং দেশে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কয়েদি মিলিয়ে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন নিবন্ধন করেন। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মোট ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন ভোট দিয়েছেন। শতাংশের হিসেবে যা ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে প্রবাসীর ভোট ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ জন এবং অভ্যন্তরীণ ভোট ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৬ জন।সব ভোট দেয়া হলেও প্রক্রিয়াগত কারণে সব ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছায়নি। মোট ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২ জনের ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন (৭৬.২৮ শতাংশ)। এর মধ্যে দেশের ভেতর থেকে আসা ভোটের সংখ্যা ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৮টি এবং বিদেশ থেকে আসা ভোট ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৪টি।ইসি জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। যা মোট নিবন্ধিত ভোটের ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে বিদেশে বৈধ ভোট ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৩টি। দেশের বৈধ ভোট ৬ লাখ ১ হাজার ৫২৪টি।ইসি কর্মকর্তারা বলেন, ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, সঠিক ঘোষণাপত্র না দেওয়া এবং নিয়ম বহির্ভূত ব্যালট পাঠানোর কারণে বেশ কিছু ভোট বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত আসা পোস্টাল ব্যালটগুলোই কেবল গণনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।এমআর-২
জাতীয়
সব দেখুন
আনন্দ মিছিল করবে না বিএনপি, বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে দোয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক আসনে নির্বাচিত হয়েও কোন আনন্দ মিছিল ও সভা না করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক ভোটে বিজয়ী করায় ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী বিএনপি’র পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানানো হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাদ জুমা ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও দেশবাসীর প্রতি শুভ কামনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশব্যাপী মসজিদে মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় বিএনপি’র পক্ষ থেকে কোন আনন্দ মিছিল কিংবা কোন সভা করা যাবে না। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে দেশব্যাপী মসজিদে মসজিদে অনুষ্ঠিতব্য দোয়ায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।একইসঙ্গে সারাদেশে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে স্ব স্ব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদেরকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।এবি
গণভোট : “না” ভোট জিতল চার আসনে, সংখ্যা আরও বাড়তে পারে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ৩০০ সংসদীয় আসনে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল দিতে না পারলেও প্রাথমিক ও বেসরকারি ফল চলে এসেছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে গণভোটে “না” ভোট জয়ী হয়েছে চার আসনে। আসনগুলো হলো- বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-১৩।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের ফলাফল শিট থেকে এমন তথ্য জানা গেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।ইসি জানিয়েছে, বান্দরবানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৭১ হাজার ৪১৭টি, না ভোট পড়েছে ৯০ হাজার ১৫৬টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। চট্টগ্রাম-১৩ আসনে হ্যাঁ, ভোট পড়েছে ৮০ হাজার ৫৮০টি। না ভোট পড়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬২৯টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন। রাঙ্গামাটিতে হ্যাঁ, ভোট পড়েছে ৭১ হাজার ৬৯৯টি। না ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৫টি। মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন।এ ছাড়া, খাগড়াছড়িতে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৫টি। না ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪২টি। মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৩ জন।এবি
পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে বৈধ ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা চূড়ান্ত পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দেয়ার জন্য মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন নাগরিক নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে প্রবাস থেকে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৩ জন এবং দেশে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কয়েদি মিলিয়ে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন নিবন্ধন করেন। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মোট ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন ভোট দিয়েছেন। শতাংশের হিসেবে যা ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে প্রবাসীর ভোট ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ জন এবং অভ্যন্তরীণ ভোট ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৬ জন।সব ভোট দেয়া হলেও প্রক্রিয়াগত কারণে সব ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছায়নি। মোট ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২ জনের ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন (৭৬.২৮ শতাংশ)। এর মধ্যে দেশের ভেতর থেকে আসা ভোটের সংখ্যা ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৮টি এবং বিদেশ থেকে আসা ভোট ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৪টি।ইসি জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। যা মোট নিবন্ধিত ভোটের ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে বিদেশে বৈধ ভোট ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৩টি। দেশের বৈধ ভোট ৬ লাখ ১ হাজার ৫২৪টি।ইসি কর্মকর্তারা বলেন, ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, সঠিক ঘোষণাপত্র না দেওয়া এবং নিয়ম বহির্ভূত ব্যালট পাঠানোর কারণে বেশ কিছু ভোট বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত আসা পোস্টাল ব্যালটগুলোই কেবল গণনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।এমআর-২
নেত্রকোণা-৪: আসন লুৎফুজ্জামান বাবর বড় ব্যবধানে বিজয়ী
নেত্রকোণা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল-হেলাল তালুকদার।বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নেত্রকোণা-৪ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলের হিসেব করে দেখা গেছে, লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আল-হেলাল তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট।আসনটিতে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৯ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ২১৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৩ জন।এসআর
তিন আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখবে নির্বাচন কমিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গেলেও ৩টি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখবে নির্বাচন কমিশন। আসনগুলো হলো- শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪।মূলত এসব আসনে জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর ফলাফল ঘোষণা স্থগিত থাকবে।গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ইসির এ সংক্রান্ত তিনটি আলাদা চিঠি জারি করা হয়েছে।চট্টগ্রাম-৪ (আসলাম চৌধুরী) ইসির জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৭৪/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনী এলাকা ২৮১, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে ওই মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকায় কমিশন ফলাফল স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।চট্টগ্রাম-২ (সরোয়ার আলমগীর) একইভাবে চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের বিষয়ে জানানো হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ (রিট পিটিশন নং ১০৫৩/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের প্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে বলে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।শেরপুর-২ (মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী) এদিকে শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর বিষয়ে জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬ (রিট পিটিশন নং ১১৮৬/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে ওই মামলার চূড়ান্ত আদেশের ওপরই মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভরশীল হবে মর্মে সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।এমআর-২
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড় শতাধিক আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ভোট গণনা শেষে ২১১টি আসনের বেরসকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ১৫২টি আসনে জয় পেয়েছেন।পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৫৩টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৫টি আসনে জয় পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে এই ২১১টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়।এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। এরপর থেকে কেন্দ্রগুলোয় ভোটগণনা চলছে।এদিন সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার পর ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ভোটাররা নিজেদের মতামত দিয়েছেন। এখন অপেক্ষা ফল প্রকাশের।২০০৮ সালে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ জন। এছাড়া নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। আর সবমিলিয়ে এবার ১১৯টি নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।এফএস
নোয়াখালী-৫ আসনে ২৭ হাজার ৩৫৫ ভোটে ধানের শীষের জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ২৭ হাজার ৩৫৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসনের মোট ১৫৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে (পোস্টাল ব্যালটসহ) ধানের শীষের প্রার্থী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বেলায়েত হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট।ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।বিজয়ের প্রতিক্রিয়ায় মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের দেওয়া এই রায়ের মর্যাদা রক্ষা করে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করবেন।ইখা
নেত্রকোনা-১ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির কায়সার কামাল
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসনে ১,৫৯,৭০৯ ভোট পেয়ে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।১১ দলীয় জোটের রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম রব্বানীকে ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।এবার মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন। নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছে ১ হাজার ১২০ জন।ইখা
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
ঢাকা-১৪ আসনে বিজয়ী জামায়াতের ব্যারিস্টার আরমান
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় মোট ১৭৩ কেন্দ্রের ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।বেসরকারি ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার আরমান পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট। এতে ব্যারিস্টার আরমান ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ব্যারিস্টার আরমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে প্রায় ৮ বছর ধরে গুমের শিকার ছিলেন। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে।এমআর-২
ঢাকা-১৪ আসনে বিজয়ী জামায়াতের ব্যারিস্টার আরমান
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় মোট ১৭৩ কেন্দ্রের ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।বেসরকারি ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার আরমান পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট। এতে ব্যারিস্টার আরমান ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ব্যারিস্টার আরমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে প্রায় ৮ বছর ধরে গুমের শিকার ছিলেন। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে।এমআর-২
কুষ্টিয়া-৩ আসনে মুফতি আমির হামজার জয়
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা ১৪২টি কেন্দ্রের ফলাফলে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১২টার দিকে ১৪২টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ১৪২টি কেন্দ্রে ফলাফলে মুফতি আমির হামজা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৫৩ হাজার ৭৮১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে মুফতি আমির হামজা পেয়েছেন ১লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০৯ পেয়েছেন।ফল ঘোষণা হওয়ার পরে সাংবাদিকদের মুফতি আমির হামজা বলেন, সবার আগে আমি আল্লাহকে স্মরণ করি। আজ যদি আমাদের প্রায়ত জেলা আমির অধ্যাপক আবুল হাসেম মহোদয় বেঁচে থাকতেন তিনি বেশি খুশি হতেন। আমার এই বিজয় কুষ্টিয়া ৩ আসনের জনগণের বিজয়। আমি সবসময় এই আসনের জনগণের পাশে থেকে কাজ করব।আসনটিতে মোট ১৪২টি কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৬০০। এই আসনে ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪০ টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৪৩ টি। বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮'শ ৯৭ টি। ভোটের শতকরা হার ৭২.৯৫ শতাংশ।এমআর-২
ঢাকা-১১ আসনে বিজয়ী নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬২টি কেন্দ্রের সব কটির ফলাফলে তাঁর জয় নিশ্চিত হয়।ঘোষিত ফল অনুযায়ী, শাপলা কলি প্রতীকে নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ৯৮ হাজার ২০২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৯২ হাজার ২১২ ভোট। ফলে ৫ হাজার ৯৯০ ভোটের ব্যবধানে জয় পান তিনি।পোস্টাল ভোটেও শাপলা কলি এগিয়ে ছিল। নাহিদ ইসলাম পোস্টাল ভোটে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪ ভোট, আর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৮৬৬ ভোট।বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলামের বিজয় হয়েছে বলে দাবি করেন।এর আগে রাত সাড়ে ১০টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল আটকে রেখে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নিশ্চিত জয় টের পেয়ে কয়েকটি কেন্দ্রের ফল আটকে রেখে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।’এমআর-২
হেরে গেলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ
বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে বেসরকারি ফলে ২১ হাজার ভোটে হেরেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির আলোচিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া (ব্যারিস্টার ফুয়াদ)। তিনি বিএনপির প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের কাছে হেরেছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাবুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা এ ফলাফল ঘোষণা করেন।১২৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। ঈগল প্রতীক নিয়ে ফুয়াদ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট।এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১০ হাজার ৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৪৬ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৫৩ হাজার ২৪৫ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন।এমআর-২
নোয়াখালী-৬ আসনে বিজয়ী হান্নান মাসউদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম থেকে ২৬ হাজার ৭৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ফলাফল ঘোষণা করেন।ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, শাপলা কলি প্রতিকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ ৯০ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে হরিণ প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম ৪৬৮০ ভোট, ফুটবল প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩৭১৪ ভোট, হাত পাখা প্রতিকের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ ২১৭৯ ভোট, তারা প্রতিকে মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব ১২৩৭ ভোট, একতারা প্রতিকের আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক ৩৮৯ ভোট, লাঙ্গল প্রতিকের এটিএম নাবী উল্যাহ ২৭১ ভোট, ট্রাক প্রতিকে মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন ১৯১ ভোট, ছাতা প্রতিকে মোহাম্মদ আবুল হোসেন ৮৫ ভোট পেয়েছেন।এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৪ জন। মোট প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫১। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯২৫ জন, না ভোট দিয়েছেন ৫৩ হাজার ২৪৮ জন।হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনে সামান্য কয়েকটি ছোট খাটো ঘটনা ছাড়া সুস্থ সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সম্পর্ণ হয়েছে।’এমআর-২
আমিনুলকে হারিয়ে জিতলেন জামায়াতের কর্নেল আব্দুল বাতেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনের ১৩৭টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে ২ হাজার ৬১৬ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন।ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৬ আসনের ১৩৭টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩টি। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক পেয়েছেন মোট ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট।এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। এরপর থেকে কেন্দ্রগুলোয় ভোটগণনা চলছে।এদিন সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার পর ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যায়।এমআর-২
নওশাদের কাছে হারলেন সারজিস
নির্বাচন ঘিরে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। রাজনৈতিক মহলের শঙ্কা দূর করে অবশেষে আজ (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তাতে গণতন্ত্র ফেরানোর অনিশ্চয়তাও দূর হতে চলেছে।পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। ১৫৫ কেন্দ্রের এ আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৮৩০৪।এফএস
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-১৩ : ৫৮ কেন্দ্রের ফলাফলে ৩৩১ ভোটে পিছিয়ে মামুনুল
ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ৩৩১ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের ৫৮টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৭৬৪ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৩৩ ভোট।ইখা
ঢাকা-১৩ : ৪৯ কেন্দ্রের ফলাফলে ১৭০ ভোটে পিছিয়ে মামুনুল, এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ১৭০ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের ৪৯টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ২৮ হাজার ৪৫৬ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ২৮ হাজার ২৮৬ ভোট।ইখা
ঢাকা-১৩ : ৩৭ কেন্দ্রে ৬৭৪ ভোটে মামুনুলের চেয়ে এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ৬৭৪ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে ৩৭টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ২১ হাজার ৯৯২ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ২১ হাজার ৩১৮ ভোট।ইখা
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে: এহসানুর মাহবুব জুবায়ের
সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাটিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে ভোট সফল হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই নির্বাচন উৎসবমুখর হয়েছেবলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ভোটগ্রহণ শেষে জোটের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে রাজধানীতে।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার দিকে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জোটের অবস্থান তুলে ধরেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।তিনি দাবি করেন, সারা দেশে জনগণের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে দেশবাসী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। জুবায়ের বলেন, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে সবার প্রচেষ্টা দৃশ্যমান ছিল।নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে বলে তাদের প্রত্যাশা।ইখা
জনগণের রায় মাথা পেতে নেব, হানাহানি-রাহাজানি চাই না: জাহাঙ্গীর
ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, জনগণের রায় তিনি সাদরে গ্রহণ করবেন। বৃহস্পতিবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি )দুপুরে রাজধানীর উত্তরার আবদুল্লাহপুরের মালেকাবানু আদর্শ বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।ভোটের ফলাফল মেনে নেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর বলেন, "জনগণ যে রায় দেবে, সে রায় আমি অবশ্যই মাথা পেতে নেব। আর নির্বাচিত হতে পারলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের পথ চলব।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন এবং সন্ধ্যার ফলাফলে জনগণের প্রকৃত প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিএনপি প্রার্থী বলেন, "ভোটের জন্য আমরা কোনো হানাহানি বা রাহাজানি চাই না। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবে এবং যার ওপর আস্থা রাখবে, তাকেই ভোট দেবে। আমরা সবাই সহাবস্থান বজায় রেখে একটি সুন্দর আগামীর ঢাকা-১৮ গড়তে চাই।" তিনি আরও যোগ করেন, দেশের মানুষ দীর্ঘকাল ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল; এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারা একটি মানবিক ও জনগণের সরকার পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, "আমি নিজে ভোট দিয়েছি, এখানকার পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো। বাকি সেন্টারগুলো ঘুরে দেখব।" ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে। সবাই মিলে চাইলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তবে কোনো গোষ্ঠী যদি পরাজয়ের ভয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে জনগণ ও প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "বিগত ৩০ বছর ধরে আমি এই এলাকার মানুষের সুখে-দুখে পাশে আছি। সাধারণ মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, ঢাকা-১৮ আসনের জনগণ আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে।মডার্ন ঢাকা-১৮ গড়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার লক্ষ্য ঢাকা-১৮ আসনকে একটি আধুনিক আসন হিসেবে গড়ে তোলা। আমি সবাইকে নিয়ে এই এলাকার উন্নয়ন করতে চাই। একা কোনো কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গেও আমার সুসম্পর্ক রয়েছে; আমরা মিলেমিশে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।পিএম
যশোর-১ বেসরকারিভাবে বিজয়ী জামায়াতের আজীজুর রহমান
যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ আজীজুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১,১৮,২৫৫ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২,৯০৯ ভোট।শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফজলে ওয়াহিদ ভোট গণনা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (কিংবা আপনার তথ্যমতে ৭:৩০ থেকে ৪:৩০) শার্শা আসনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। অনেক কেন্দ্রে সকাল ৭টার আগেই নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কেন্দ্র খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক নারী ভোটার দলবদ্ধভাবে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন। তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের মধ্যেও ছিল বিশেষ উচ্ছ্বাস। এছাড়া প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তায় নিয়োজিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।উল্লেখ্য, এই আসনে মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁরা হলেন— মুহাম্মদ আজীজুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী), নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি), আলহাজ্ব বখতিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি)।এনআই
মেহেরপুরের দু’টি আসনেই জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী
মেহেরপুর জেলার দু’টি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন— মেহেরপুর-১ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজ উদ্দীন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা।বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে।মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর): এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দীন খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১,২১,১৬১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মাসুদ অরুণ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,০৪,৭৭৯ ভোট।মেহেরপুর-২ (গাংনী): এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হুদা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৪,৩৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫,৯৪১ ভোট।এনআই
কুষ্টিয়া-২ আসনে ৭৬ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল গফুর
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল গফুর ভোটের ফলাফলে এগিয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে ৭৬টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ৭৬ কেন্দ্রে মুফতি আমির হামজা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী পেয়েছে ৬৩ হাজার ৩৪৫ ভোট। আসনটিতে মোট ১৭০টি কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৩হাজার ৩৫৫জন। এসআর
যশোরে ৩৫ বছর পর ভোট দিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম
যশোরে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে যশোর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় সরকারি দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁর আর ভোট দেওয়া হয়নি।অধ্যাপক রবিউল ইসলাম যশোর শহরের ঘোপ এলাকার বাসিন্দা। তিনি যশোর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান।নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, "ছাত্রজীবনে ডাকসু নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। জাতীয় নির্বাচনে সর্বশেষ ভোট দিয়েছিলাম ৯১ সালে। এরপর ৯৩ সালে ১৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেওয়ার পর প্রতিটি নির্বাচনেই আমাকে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হতো। কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের ভোটটি আর দেওয়া হয়ে ওঠেনি।"তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালে সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার পর তাঁর আর নির্বাচনের ডিউটি পড়েনি। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একদলীয় নির্বাচনের আমেজ না থাকায় ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। ফলে ২০১৮ বা ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি কেন্দ্রে যাননি। তবে এবার ভোটের পরিবেশে উৎসবের আমেজ থাকায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ব্যালট পেপারে নিজের রায় দিলেন এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।এনআই
কুষ্টিয়া-৩ আসনে ৪৫ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে আমির হামজা
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা ভোটের ফলাফলে এগিয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৪৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ৪৫ কেন্দ্রে মুফতি আমির হামজা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার পেয়েছে ৪১ হাজার ৯৯৮ ভোট। আসনটিতে মোট ১৪২টি কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ জন। এবি
নবীনগরে ধানের শীষের জয়, বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এডভোকেট আব্দুল মান্নান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–০৫ (নবীনগর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল মান্নান ধানের শীষ প্রতীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১টায় নবীনগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি কেন্দ্রভিত্তিক গণনার চূড়ান্ত ফলাফল তুলে ধরেন।১৫৪ কেন্দ্রের ফলাফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সমাপ্তি। নবীনগর উপজেলার মোট ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল অনুযায়ী ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে বিজয়ী হন এডভোকেট আব্দুল মান্নান। চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৭৬১ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী নাজমুল হোসেন তাপস পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৯৯৫ ভোট। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৪৯ ভোট।জয় নিশ্চিত হওয়ায় নবীনগর আসনের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও আলোচিত। ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় নবীনগর রাজনীতিতে নতুন বার্তা বহন করবে।এসআর
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে দাঁড়িপাল্লার জহির বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে একটানা ভোটগ্রহণ চলে। দিনভর কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ সংসদীয় আসনটি বাঁশখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলায় রয়েছে মোট ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলক সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক গণনা শেষে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। দীর্ঘ সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক লড়াই শেষে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে জয় নিশ্চিত করেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট। ফলাফলে দেখা যায়, তিন প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল।অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৮ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুল হক ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ২৪১ ভোট। ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মালেক চেয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ৮১১ ভোট এবং মুসলিম লীগের প্রার্থী এহছানুল হক হারিকেন প্রতীকে পেয়েছেন ১০৪ ভোট।ভোটগ্রহণ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। প্রশাসন সূত্র জানায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনভর ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের দিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।এসআর
কুমিল্লা-২ আসনে বেসরকারিভাবে বিএনপি'র প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিজয়ী
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) সংসদীয় আসনের ১১০টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর ভোট গণনা শেষে বিএনপি প্রার্থী মো. সেলিম ভূঁইয়া বিজয়ী হয়েছেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১৩ হাজার ৯৯২ ভোট বেশি পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭৭৫ জন।ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মো. সেলিম ভূঁইয়া পেয়েছেন পোস্টাল ভোটসহ ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (তালা প্রতীক) মো. আবদুল মতিন পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪৫ ভোট।হোমনা ও তিতাস অংশের সম্মিলিত হিসাবে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোট ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী তালা প্রতীকে মোট ৬৩ হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ৫০ হাজার ১৩৬৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।ফলাফল ঘোষণার পর সেলিম ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিজয় মিছিল বের করে আনন্দ উদ্যাপন করেন। প্রতিক্রিয়ায় মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, এই বিজয় হোমনা ও তিতাসের সাধারণ জনগণের। এই আসনে সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।এনআই
চট্টগ্রাম-১১ বিপুল ভোটে বিজয়ী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬–এ চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, সাবেক মন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৪১ হাজার ২৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে একে একে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের ফলাফল আসতে শুরু করে। পরে সব কেন্দ্রের ফলাফল একত্রিত হওয়ার পর বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেয়েছেন মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট। ফলে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ২৬৯, যা এই আসনে একটি বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রতীকের মুহাম্মদ আবু তাহের পেয়েছেন ৫ হাজার ১০১ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের মো. নুর উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ৫১৫ ভোট। লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আবু তাহের পেয়েছেন ৯৭৬ ভোট, মই প্রতীকের মো. নিজামুল হক পেয়েছেন ১২১ ভোট এবং আপেল প্রতীকের মো. আজিজ মিয়া পেয়েছেন ২০৯ ভোট।এ ছাড়া সূর্যমুখী ফুল প্রতীকের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূইয়া পেয়েছেন ১৭১ ভোট, ট্রাক প্রতীকের মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন পেয়েছেন ১০২ ভোট এবং কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী দীপা মজুমদার পেয়েছেন ২১৩ ভোট। উদীয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী উজ্জ্বল ভৌমিক পেয়েছেন ২৯৭ ভোট।সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রাপ্ত বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৮। এই আসনে মোট ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী এলাকা বন্দর ও পতেঙ্গা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৭৬ জন।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভোটগ্রহণকালীন সময় সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ ও গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।এনআই
নোয়াখালী-৫ আসনে ২৭ হাজার ৩৫৫ ভোটে ধানের শীষের জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ২৭ হাজার ৩৫৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসনের মোট ১৫৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে (পোস্টাল ব্যালটসহ) ধানের শীষের প্রার্থী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বেলায়েত হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট।ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।বিজয়ের প্রতিক্রিয়ায় মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের দেওয়া এই রায়ের মর্যাদা রক্ষা করে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করবেন।ইখা
শরীয়তপুর ১ও ৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এর ভোট গণনা শেষে শরীয়তপুর ১ (পালং-জাজিরা) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া শরীয়তপুর ৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু বিজয়ী হয়েছেন। শরীয়তপুর ১ আসনে মোট ভোটার ৩ লহ্ম ৯০ হাজার ৩৬১জন। মোট কেন্দ্র ছিলো ১৩৯ টি এবং সব কটি কেন্দ্র এর প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের সাঈদ আহমেদ পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৩ শত ৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতিক এর জালালুদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৭ শত ১৭ ভোট । এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী একতারা প্রতিক এর নুর মোহাম্মদ মিয়া ৬১৬, শাপলা কলির আব্দুর রহমান ৪৭৫, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফার ঘোড়া ৩৫৯, হাত পাখার তোফায়েল আহমেদ ১০৮১৭, স্বতন্ত্র সৈয়দ নজরুল ইসলাম মোটর সাইকেল ১৩৯৮৭, ট্রাক প্রতিকের ফিরোজ আহমেদ ৫৫১ ভোট শরীয়তপুর ৩ ( ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ) মোট ভোটার ৩৩৫০৯০।মোট কেন্দ্র ১১৭ এবং প্রাপ্ত ফলাফল ১১৭ অনুযায়ী মিয়া নুরুদ্দিন অপু ধানের শীষ ১ লহ্ম ৭ হাজার ৫১৬ বিজয়ী,মুহাম্মাদ আজাহারুল ইসলাম( দাড়িপাল্লা) ৭৯ হাজার ৬ শত ৮৪, মোঃ আব্দুল হান্নান (লাঙ্গল) ও হাজার ৬৪, মোঃ হানিফ মিয়া হাতপাখা ৯ হাজার ৮ শত ১৪ ভোট।এসআর
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মুন্সিগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন বিজয়ী হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা করেন।এ আসনে মোট ১৭০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সবকটি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল এবং পোস্টাল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে।চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে মো. কামরুজ্জামান রতন মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট। এতে মূল ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৭৫৫।এছাড়া আনারস প্রতীকের প্রার্থী আনিস মোল্লা ২৯৪ ভোট, রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী নুর হোসাইন নূরানী ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোট, নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. আরিফুজ্জামান দিদার ৮০৪ ভোট, কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী শেখ মো. কামাল হোসেন ৩০৪ ভোট, কোদাল প্রতীকের প্রার্থী শেখ মো. শিমুল ১৭৪ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সুমন দেওয়ান ৬ হাজার ৩৯২ ভোট পেয়েছেন।এ আসনে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯২টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৫৮ হাজার ৮৫২টি।এসআর
কিশোরগঞ্জে ছয় আসনের পাঁচটিতে বিএনপির জয়, একটিতে স্বতন্ত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটিতে স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এসব আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে এই তথ্য জানা গেছে।ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী,কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ২৩ হাজার ৪৫৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। মাজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৪৬ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৪৮৮ ভোট।কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন ২৪ হাজার ৬৫৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬১৬ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৭ ভোট।কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ড. এম ওসমান ফারুক ১১ হাজার ২০২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। ড. এম ওসমান ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২২৪ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ২২২ ভোট।কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ৭৬ হাজার ৯০৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৩ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৪৬ ভোট।কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুল আলম ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। প্রার্থী মো. শরীফুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯৮ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫২৫ ভোট।অপরদিকে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী ১৩ হাজার ৯৩ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন। শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল হাঁস প্রতীক নিয়ে ৭৯ হাজার ২১০ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদা হেয়েছে ৬৬ হসজার ১১৮ ভোট।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ভোটাররা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের আশা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘিরে বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।পিএম
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের জয়, আব্দুস সালাম আজাদ নির্বাচিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মুন্সীগঞ্জ-২ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে টঙ্গীবাড়ী ও লৌহজং উপজেলার সহকারী রিটারনিং কর্মকর্তারা পৃথকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।মুন্সীগঞ্জ-২ (নির্বাচনী এলাকা নং–১৭২) আসনটি টঙ্গীবাড়ী ও লৌহজং উপজেলা নিয়ে গঠিত। প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ৪৮৯ জন। এর মধ্যে টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৫৮৭ জন এবং লৌহজং উপজেলায় ৮৯ হাজার ৯০২ জন।দুই উপজেলায় মোট ১৩০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে লৌহজং উপজেলায় ৫৫টি এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ৭৫টি কেন্দ্র রয়েছে। সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে।ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে আব্দুস সালাম আজাদ লৌহজং উপজেলায় ৫৬ হাজার ৩১৫ ভোট এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ৬১ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ১০৯ ভোট অর্জন করেন।তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম লৌহজং উপজেলায় ২৫ হাজার ৪১৪ ভোট এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ৩০ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে মোট ৫৫ হাজার ৫৬০ ভোট পান।এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কে. এম. বিল্লাল মোট ১৩ হাজার ২১৩ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী আশিক মাহমুদ ৬৩৭ ভোট এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. নোমান মিয়া ২ হাজার ৮০৫ ভোট পেয়েছেন।সব মিলিয়ে বিএনপি প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬২ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন।দুই উপজেলার সহকারী রিটারনিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।এসআর
নরসিংদী-২ বিপুল ভোটে বিজয়ী মঞ্জুর এলাহী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (শিবপুর) আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ধানের শীষের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী।শিবপুর আসনের মোট ১০১টি কেন্দ্রের সবকটির প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে মঞ্জুর এলাহী পেয়েছেন ৮১,৪১৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আরিফ উল ইসলাম মৃধা হাঁস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫,৪০১ ভোট।১০১টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে। বিজয়ী প্রার্থী তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩৬,০১৪ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।এনআই
বরিশাল মানেই ধানের শীষ: সব আসনেই বিএনপির জয়জয়কার
যুগ যুগ ধরে রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি ছিল ‘বরিশাল মানেই বিএনপির ঘাঁটি’। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই দুর্গের পতন ঘটাতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মরিয়া হয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বরিশালের ৬টি আসনেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, হেভিওয়েট প্রার্থীদের হারিয়ে ধানের শীষের জোয়ারে ভেসেছেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন ৯৯,৪১৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কামরুল ইসলাম খান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৪৫,১৪৩ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান পেয়েছেন ৪৩,৮০৮ ভোট।বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর): ৩২টি কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন ধানের শীষের শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তিনি পেয়েছেন ২৮,৭৩৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১৭,২৫৯ ভোট।বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ১৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৪টির ফলাফল অনুযায়ী বিএনপির জয়নুল আবেদীন ৭৮,০৬৭ ভোট পেয়ে জয়ের পথে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ (ঈগল) পেয়েছেন ৫৬,৮৪৫ ভোট।বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): ৪৮টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে ধানের শীষের রাজিব আহসান ৪৩,০৫১ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আব্দুল জব্বার (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ২২,৬৪৬ ভোট।বরিশাল-৫ (সদর): বরিশাল সদর আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মজিবর রহমান সরোয়ার ১,৩৩,০০৬ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৯৩,২১৬ ভোট।বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): এই আসনেও আধিপত্য বজায় রেখেছেন ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন খান। ৫৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ৬৯,৭২৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাহমুদুন্নবী তালুকদার (দাঁড়িপাল্লা) ৪৭,৫৫৮ ভোট এবং হাতপাখার ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৪,৯৭০ ভোট।নির্বাচন চলাকালীন বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও উজিরপুরের কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সেনাবাহিনী কয়েকজনকে আটক করেছে বলে প্রিসাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ফলাফল ঘোষণা চলছে।এনআই
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিজয়ী নুরুল হক নুর
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। তার নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণ ও নেতাকেরা ফুলেল মালায় শুভেচ্ছা জানান। বিএনপির কার্যালয়ে নুরুল হক নুরকে ফুলের মালা পড়িয়ে দেন পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শিপলু খান। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ আসনের মোট ১২৪টি ভোটকেন্দ্রে ট্রাক প্রতীকে নুরুল হক নুর পেয়েছেন ৯৬,৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন ৭৯,৬১৯ ভোট। ফলে ১৬,৮২৪ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন নুর।যদিও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। গণঅধিকার পরিষদের নির্বাচনের প্রধান এজেন্ট মহিবুল্লাহ এনিম বিজয়ের তথ্য নিশ্চিত করেন।দীর্ঘ দেড় যুগ পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনটি ছিল দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের নিজ এলাকায় প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং তার বিপরীতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের শক্ত অবস্থান লড়াইকে চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।উল্লেখ্য, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে এ আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে ২৮ ডিসেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরকে অভিনন্দন জানান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান মামুন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “অভিনন্দন, ভিপি নুরুল হক নুর। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, পটুয়াখালী–৩। বিজয়ী হয়ে নুরুল হক নুর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দলমতের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য গড়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের কমিটমেন্ট।এসআর
ভোলা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফলাফল গণনার পর এই তথ্য জানা গেছে। বেসরকারিভাবে ১৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লোকমান হোসেন।বেসরকারি ফলাফলের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই আসনের মোট ১৫৪টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৫ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩৯৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬০৭ ভোট, যা এই আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থানকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।পিএম
পটুয়াখালী-৪ আসনে বেসরকারি ফলে বিএনপির জয়
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) সংসদীয় আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন জয়লাভ করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই কেন্দ্রীয় নেতা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনের মোট ৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৮ ভোটারের বিপরীতে ১১১টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৭ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৩৬ ভোট। ফলে মোশাররফ হোসেন ৫৩ হাজার ৭২৮ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেন।এছাড়া ১০-দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিশের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫৮৫ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. রবিউল হাসান ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ১৫১ ভোট।ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিএনপি নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেনের সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং একে অপরকে অভিনন্দন জানান।উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ ভোটাররাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।এসআর
পিরোজপুর-১ আসনে এগিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাসুদ সাঈদী
পিরোজপুর ১ (সদর-নাজিরপুর-জিয়ানগর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। ঘোষিত ফলাফলে, জিয়ানগর উপজেলার ২৯টি কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাসুদ সাঈদী ৩৩ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১২ হাজার ৪১৩ ভোট। সদর ও পৌরসভার ৬৬ কেন্দ্রের ফলাফলে মাসুদ সাঈদী পেয়েছেন ২১ হাজার ৪৩৩ ভোট। আর ধানের শীষের আলমগীর ১৪ হাজার ২৮৫ ভোট। নাজিরপুর উপজেলার ৭২ কেন্দ্রের মধ্যে ২০টির ফলাফল সরকারিভাবে ঘোষণা হয়েছে। ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১৩ হাজার ২৬৮ ভোট। আর ধানের শীষ ১৫ হাজার ৭০৬ ভোট। ১৯৯৬ আর ২০০১-এর নির্বাচনে এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছিলেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ৯৬-এর ভোটে এককভাবে নির্বাচন করে সাঈদী জেতেন ২৬০ ভোটের ব্যবধানে।এসআর
ময়মনসিংহ-৩ বিদ্রোহী প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী ইকবাল হোসাইন
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে প্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফলে জয়লাভ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ফলাফল ঘোষণা করে।এই আসনে মূল লড়াই হয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করা দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৯,৩২৫ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন ধানের শীষের প্রার্থী এম ইকবাল হোসাইন।প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফল: ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন (ধানের শীষ): ৭৫,৩২০ ভোট। আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ (ঘোড়া): ৬৫,৯৯৫ ভোট।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।এনআই
ত্রিশালে ধানের শীষের জয়: এমপি নির্বাচিত হলেন ডা.মাহবুবুর রহমান লিটন
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ঘোষিত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনের ১২১টি কেন্দ্রে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন পেয়েছেন ৯৮,২২১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল (দাড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৩,৬১৭ ভোট। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ত্রিশালের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় প্রশাসন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গণনা শেষে ডা.লিটনকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।এসআর
নেত্রকোনা-১ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির কায়সার কামাল
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসনে ১,৫৯,৭০৯ ভোট পেয়ে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।১১ দলীয় জোটের রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম রব্বানীকে ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।এবার মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন। নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছে ১ হাজার ১২০ জন।ইখা
ভালুকায় ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ। মোট ১০৭টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ফখর উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম (হরিণ প্রতীক) পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট। আর শাপলা কলি প্রতীকে জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ২১ হাজার ৫২৯ ভোট।অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ট্রাক প্রতীকে আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৮৬ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকে মো. মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ১ হাজার ৮০৭ ভোট।ভোটের হিসাব বলছে, ফখর উদ্দিন আহমেদ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৪৪ হাজার ৬২৩ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রেই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একতরফা ভোট পড়েছে।পিএম
জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনে বিএনপির প্রার্থী বাবু নির্বাচিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে বুএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ৯৫ হাজার ৬৭৮ ভোট পেয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামী দাড়িপাল্লা প্রতীকের ড. সামিউল হক ফারুকী ৬১ হাজার ৬৫৫ ভোট পেয়েছেন। সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা নাজমূল হোসাইণ বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।এ আসনে ৯২টি ভোট কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু ৯৫ হাজার ৬৭৮ ভোট,জামায়াত ইসলামী দাড়িপাল্লা প্রতীকের ড. সামিউল হক ফারুকী ৬১ হাজার ৬৫৫ ভোট,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী সুলতান মাহমুদ সিরাজী ১হাজার ৪শত ৭৪ ভোট,সতন্ত্র প্রার্থী অর্নব ওয়ারেছ খান ঘোড়া প্রতিক ১শত ৩৭ ভোট পেয়েছেন।এসআর
দিনাজপুর-৬ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির ডা. জাহিদ
দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর) আসনে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১৫ হাজার ১৬৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় বিরামপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি কেন্দ্রভিত্তিক গণনার চূড়ান্ত ফলাফল তুলে ধরেন।১৯৯টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল অনুযায়ী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মোট ২ লাখ ৩ হাজার ৮৮৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৯ ভোট।ভোট গণনা শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন বিএনপির এই প্রার্থী।এনআই
লালমনিরহাটের ৩টি আসনেই বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়
লালমনিরহাটের তিনটি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম): এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান ৯২,৭৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম রাজু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫,৪৮৯ ভোট।লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ): এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল। তিনি ১,২৩,৩৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১,১৬,২৩৬ ভোট।লালমনিরহাট-৩ (সদর উপজেলা): লালমনিরহাট সদর আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি ১,৪০,১০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫,৩৮৭ ভোট।এনআই
দিনাজপুরের ছয় আসনের পাঁচটিতে বিএনপি, একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম জয়লাভ করেছেন। দিনাজপুর-২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির সাদিক রিয়াজ চৌধুরী। দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং দিনাজপুর-৪ আসনে বিএনপির আক্তারুজ্জামান চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (বিএনপির বিদ্রোহী) এ জেড এম রেজওয়ানুল হক বিজয় অর্জন করেছেন। অপরদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেন দিনাজপুর-৬ আসনে জয় পেয়েছেন ।জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থীদের জয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘিরে বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।এনআই
ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি আসনেই বিএনপির বিজয়
ঠাকুরগাঁওয়ের সংসদীয় তিনটি আসনেই বিএনপি'র জয় হয়েছে। ঠাকুরগাঁও ১ আসনে বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতের প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৯৬ হাজার ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও ২ আসনে বিএনপি'র প্রার্থী ডা. আব্দুস সালাম ৫৯০০ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন এবং ঠাকুরগাঁও ৩ আসনে বিএনপি'র প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ ৩৩ হাজার ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।বৃহস্পতিবার রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি আসনের দায়িত্বে থাকা সহকারী রিটানিং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এসব নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল শীট এখনও প্রকাশ করেনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। অল্প সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ফলাফল শীট প্রকাশ হবে।এদিকে বিজয়ের খবরের শোনার পর ঠাকুরগাঁও জেলার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, আবারও জেলার মানুষ আমাকে ভালোবাসার পরিচয় পরিচয় দিয়েছে, বিরাট দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের কথা রেখেছে। আমি চিরকৃতজ্ঞ।এসআর
রংপুর-২ আসনে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বিজয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম। এ টি এম আজহারুল ইসলাম মোট ভোট পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৭টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯,৮৬২ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩,৬৮১ ভোট। এ আসনে মোট পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেন।এর আগে এ দিন বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭ টার সময় ভোট শুরু হয় এবং বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় ভোট শেষ হয়।এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮০,৯২১। মোট ভোট কেন্দ্র ১৩৭ টি।পিএম
সিরাজগঞ্জ-৪ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এগিয়ে আকবর আলী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শিক্ষানুরাগী এম আকবর আলী স্বল্প ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এম আকবর আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮ ভোট। অপরদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ ভোট। এতে বিএনপি প্রার্থী এম আকবর আলী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭৬৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বলে বেসরকারিভাবে জানা গেছে। তবে এখনো পোস্টাল ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এটিএম আরিফ জানান, উল্লাপাড়া আসনের মোট ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ করে এ বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। পোষ্টাল ভোটের ফলাফল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ঘোষণা করা হবে।এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৬ হাজার ২১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৫১৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৬ জন।পোস্টাল ভোটের ফলাফল ঘোষণা হলে চূড়ান্ত ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।এনআই
পাবনা-৪ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় আবু তালেব মন্ডলের
উৎসবমুখর পরিবেশে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে ৩৭৫২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল।জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার ১২৯টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ঈশ্বরদীতে ৮৪টি ও আটঘরিয়ায় ৪৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিপক্ষে লড়াই করেছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল এবং বিএনপিরই বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু (স্বতন্ত্র)।১২৯টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল পেয়েছেন ১,৩৭,৭৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাবিবুর রহমান হাবিব ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,৩৪,০২৩ ভোট। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু পেয়েছেন ২৫,৮৪১ ভোট।লড়াই ও সংগ্রামের পর নিজ এলাকায় নির্বাচনে জয়লাভ করে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিলেন অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। তাঁর এই জয়কে এই জনপদের মানুষের ‘ভালোবাসার প্রতিফলন’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।বিজয় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, "এ বিজয় আমার ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার প্রাণের মানুষের বিজয়। সবাই দোয়া রাখবেন, আমরা যেন সবাই মিলে এই এলাকার উন্নয়নের সারথি হতে পারি।"এসআর/এনআই
নওগাঁর ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে এগিয়ে বিএনপি
নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ৫টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে নওগাঁর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় হতে প্রাপ্ত ফলাফলে এমন চিত্র দেখা গেছে।নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর): ১৬৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪৭,৪২৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাহাবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৩০,৮১৯ ভোট।নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামুইরহাট): ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের এনামুল হক (দাঁড়িপাল্লা) ২৪,৯৯৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২৪,০৫৩ ভোট।নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর): ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৯টির ফলাফলে বিএনপির ফজলে হুদা পেয়েছেন ৫৯,৭৩২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাহফুজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৪৩,৩৬৭ ভোট।নওগাঁ-৪ (মান্দা): ১১৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টির ফলাফলে বিএনপির ইকরামুল বারী টিপু পেয়েছেন ৬৩,৬২২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আব্দুর রাকিব পেয়েছেন ৪০,৬৮৫ ভোট।নওগাঁ-৫ (সদর): ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টির ফলাফলে বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু পেয়েছেন ৪২,৬৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম পেয়েছেন ২৯,৪৮৫ ভোট।নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর): এই আসনের ৪১টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির রেজাউল ইসলাম রেজু ৩৮,৪৬৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের খবিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৪,১০০ ভোট।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, "জেলার ৭৮২টি কেন্দ্রে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ফলাফল আসা শুরু হয়েছে, সব কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে।"উল্লেখ্য, নওগাঁর ৬টি আসনে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন, নারী ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২১ জন।এনআই
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে এগিয়ে জামায়াতের প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের ২১টি কেন্দ্রের ফলাফলে প্রায় ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৭টা ৪০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং অফিসার মারুফ আফজাল রাজন আংশিক ফলাফল ঘোষণা করেন।ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২১ টি কেন্দ্রের গণনা শেষে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১১ হাজার ৯৪৪ ভোট।এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলাম (প্রতীক: ট্রাক) পেয়েছেন ১ হাজার ২০৭ ভোট, মো. ফজলুর ইসলাম খান (প্রতীক: তারা) পেয়েছেন ৭৯ ভোট এবং মনিরুল ইসলাম (প্রতীক: হাতপাখা) পেয়েছেন ৯৩ ভোট। এই ২১ টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ২১ হাজার ২৫৩ টি। না ভোট পড়েছে ৬ হাজার ৬১৯ ভোট।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬০ জন।এসআর
বগুড়া-৬ আসনে ১২ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ১২টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৯৮ ভোট।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ। ভোট গণনা শেষে ১২টি কেন্দ্রের ফলাফল সদর উপজেলায় পৌঁছানোর পর তিনি বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করেন।এবি
দিদি-মাসি বলে ভোট চায়, ভোটের পর পাওয়া যায় না
“যখন নির্বাচন আসে তখন প্রার্থীরা আমাদের কাছে এসে দিদি-মাসি বলে ভোট চায়। তারা বলে, তোমাদের মজুরি বৃদ্ধি করে দেব, উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, সন্তানদের পড়ালেখার জন্য স্কুল করে দেব। ভোটের পরে আর তাদের পাওয়া যায় না। তারা আমাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে শুধু।” এভাবেই আপেক্ষ করছিলেন বাহুবলের রশিদপুর চা বাগানের শ্রমিক রীতা রাণী গোয়ালা। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা বাগানের সাবেক শ্রমিক সরদার আমোদ মালের কণ্ঠেও হতাশা। নির্বাচন ও ভোট তাদের কাছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছাড়া কিছুই নয়।আমোদ মাল বলেন, “নির্বাচনে আসলে প্রার্থীরা আসেন, দেন নানা প্রতিশ্রুতি কিন্তু পরে আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না। তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও বাস্তাবায়ন করেন না। আমাদের ভোটে নির্বাচিতদের জীবনে পরিবর্তন আসে। তাদেরকে ভোট দিয়ে আমাদের শিকলবন্দি জীবনে আসে না পরিবর্তন। সন্তানদের অনেক কষ্ট করে স্কুলে যেতে হয়। চা শ্রমিকের সন্তান হওয়ায় চাকরি পাওয়া কঠিন, এসব দেখার যেন কেউ নেই।”ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা আমাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন, তাদের ভোট দেব।”দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত নেতা কার্তিক বাকতির কথায় উঠে এল তারা আর ঠকতে চান না। এবার তারা এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, যিনি তাদের জন্য কাজ করবেন। কার্তিক বাকতির ভাষ্য, ভোট এলে তাদের কাছে ধর্না ধরেন প্রার্থীরা। দাদা-দিদি, মেসো-মাসি ডেকে মন জয় করার চেষ্টা করেন। ভোটে নির্বাচিত হলে তাদের আর খোঁজ নিতে আসেন না। এজন্য এবার তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বুঝে-শুনে ভোট দেবেন। চা শ্রমিকরা জানান, বাগানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা। এ মজুরিতে সংসার চলছে না তাদের। ৫৪ বছরেও নিজেদের জীবনমান উন্নত হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। তারা জানান, নানা সময়ে দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে, পরিবর্তন আসেনি শুধু চা-শ্রমিকদের কষ্টের জীবনে।হবিগঞ্জ জেলায় ছোট ও বড় মিলিয়ে চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ৪১টি। এসব বাগানের বাসিন্দা প্রায় দেড় লাখ। তাদের মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ হাজার শ্রমিক চা পাতা উত্তোলনে জড়িত। বাগানে কাজ না পেয়ে বাকিদের জীবিকার জন্য বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অর্থ উপার্জন করতে হচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারাও এলাকায় ফেরেন। জেলার নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসন। এখানে ভোটার আছেন ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। চুনারুঘাট-মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে ভোটার ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১জন। এই দুই আসনে চা শ্রমিকদের ভোট প্রায় লক্ষাধিক। চা বাগানের শ্রমিকদের ভোট প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “উচুঁ নিচু টিলায় থাকা গাছ থেকে চায়ের সবুজ পাতা সংগ্রহ করেন শ্রমিকরা। এ পাতা ফ্যাক্টরিতে প্রক্রিয়াজাত হয়ে রপ্তানি হয়। দেশি-বিদেশি অর্থ পান বাগান মালিকরা। চা শ্রমিকদের নেই উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা। পদে পদে তারা বাধার মুখে পড়েন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা এগোতে পারছেন না। তাদের জীবনমানের পরিবর্তনে উদ্যোগ নেয় না তেমন কেউ। ভোটের সময় আসলে চা শ্রমিকদের ভোট আদায় করতে প্রার্থীরা নানা ধরনের স্বপ্ন দেখান, দেন প্রতিশ্রুতি। পরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন না কেউ। এনিয়ে চা বাগানের বাসিন্দাদের মনে অনেক কষ্ট। এবার তারা ভোট দিতে হিসাব নিকাশ করছেন।”তিনি বলেন, “দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে চা শিল্প। এই শিল্পকে নিখুঁত হাতের ছোঁয়ায় যুগের পর যুগ টিকিয়ে রেখেছেন চা শ্রমিকেরা। শুধু ভোট নয়, চা-শিল্পের সমৃদ্ধির জন্যও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা জরুরি।”বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার বলেন, “যদি বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে চা শ্রমিকদের জীবনমান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন করা হবে।”হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চা শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করবে।” হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র শেখ সুজাত মিয়া (ঘোড়া), ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা), জাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ (মোটরগাড়ি), ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা (চেয়ার)। হবিগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- বিএনপির সৈয়দ মো. ফয়সল (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের (দেওয়াল ঘড়ি), ইসলামিক ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন (মোমবাতি), বাসদের মো. মুজিবুর রহমান (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল), সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি), মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন (হারিকেন), স্বতন্ত্র মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ও এস এ সাজন (ফুটবল)। এসআর
তাহিরপুরে ধানের শীষের প্রচারে বালিজুড়ী ইউনিয়নের ১১ ইউপি সদস্য
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের ১১ জন ইউপি সদস্য।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ এবং ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তারা। প্রচার কাজে অংশ নেন ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া, ইকবাল হোসেন, যোতিশ পাল, ইসমাইল হোসেন, মো. আলী নেওয়াজ, আজিজ মিয়া, কামাল হোসেন, খলিলুর রহমান, রোহেনা বেগম, মাহমুদা বেগম ও পারুল বেগম।সকালে আনোয়ারপুর বাজারে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বালিজুড়ী বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজার এলাকায় প্রচার কর্মসূচি চালানো হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন তারা।এ সময় ইউপি সদস্যরা ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার কথাও বলেন তারা।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা কর্মসূচি শেষ করেন ইউপি সদস্যরা।ইখা
এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের নুর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রচার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুন নুর। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহ-সম্পাদক।শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বড়লেখার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।এর আগে ওইদিন রাত পর্যন্ত তিনি দলের জেলা নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান এবং ট্রাক প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন।সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজার-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে আব্দুন নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদের একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে তিনি দিন-রাত নির্বাচনি মাঠে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, এলাকার মানুষ পরিবর্তনের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন। এজন্য তিনি ভোটার ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, বড়লেখা ও জুড়ীর ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।আব্দুন নুর জানান, দলের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এ সময় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। আব্দুন নুর বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র দখলের ঘটনায় জড়িত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার নিজ এলাকার ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুন নুর।তিনি বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সে দায়ভার সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। তবে জীবনের পরোয়া না করেই মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি অতীতেও ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান তিনি। এফএস
সুনামগঞ্জে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি)উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা নির্বাচন অফিসার শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মতিন খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা, একই সাথে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।এই কর্মশালায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী আইন, বিধিনিষেধ এবং ভোটগ্রহণের টেকনিক্যাল বিষয় গুলো সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই পর্যায়ক্রমে এই ধরণের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ডাঃ ইলিয়াস মিয়া।পিএম
বিএনপির প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জ–১ (বাহুবল–নবীগঞ্জ)। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী, সদ্য দলে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থান এখনো শক্ত।প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।তবে এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ–১ আসন ঘিরে।নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী থাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট।পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে থাকলেও মাঠে অনেক কর্মীকে শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গেও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছে।স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাতই এখন ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ‘গলার কাঁটা’।প্রথমদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তিনি আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।অনেকের ধারণা, জামায়াতের কিছু ভোটও শেখ সুজাত মিয়ার ঝুলিতে যেতে পারে। সে কারণেই এই আসনে তাঁর অবস্থান বেশ শক্ত বলে মনে করছেন ভোটাররা।জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ সুজাত মিয়া। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে থেকে যান। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সংসদে যেতে চান শেখ সুজাত মিয়া।অন্যদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হওয়ায় এলাকাতেও রয়েছে পারিবারিক জনপ্রিয়তা। এ কারণে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।হবিগঞ্জ–১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।ইখা
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
নির্বাচনে এগিয়ে ‘ক্ষমতার পুরোনো বলয়’ না জেন জি, স্পষ্ট করল মার্কিন গণমাধ্যম
দেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জেন জি–নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই প্রথম জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন। ২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন তরুণদের শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনের অবসানকে অনেকেই স্বাগত জানান। আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র মির্জা শাকিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘এই বিপ্লব দেখিয়েছে জেন জি কী করতে পারে।’ তবে যাদের হাত ধরে এই পরিবর্তন এসেছে, নির্বাচনের মাঠে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।শেখ হাসিনা অনুপস্থিত থাকলেও ‘প্রথাগত ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বলয়’ আবারও সামনে চলে এসেছে। নির্বাচনে এগিয়ে আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ভোটের দৌড়ে সবাইকে ছাপিয়ে ফ্রন্টরানার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন দমন-পীড়নের শিকার ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও জোরালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।অন্যদিকে, ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে হিমশিম খাচ্ছে। নিরাপত্তা ও আসন নিশ্চিত করতে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে, যা অনেক আন্দোলনকারীকে হতাশ করেছে। শিক্ষার্থী নাজিফা জান্নাত বলেন, ‘সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তির স্বপ্ন দেখানো দলটি এমন একটি দলের সঙ্গে জোট করেছে, যারা একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি-এটা বিশ্বাসঘাতকতা।’এদিকে সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমালোচনার মুখে পড়েছে।তবুও অনেকের কাছে এই নির্বাচন এক দশকের বেশি সময় পর প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের আশা জাগাচ্ছে। সাবেক আন্দোলনকারী শাকিল বলেন, ‘এই নির্বাচন নতুন কিছু আনতে পারে। আমরা সেই প্রত্যাশাই অধীর হয়ে আছি।’এবি
নতুন সংবিধান প্রশ্নে কাজাখস্তানে গণভোট ১৫ মার্চ
নতুন সংবিধান প্রশ্নে আগামী ১৫ মার্চে গণভোট আয়োজন করতে যাচ্ছে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান। গণভোটের ফল নতুন সংবিধানের পক্ষে গেলে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ ২০২৯ সালের পর পর্যন্ত শাসনক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেতে পারেন। ২০২৯ সালের পর তোকায়েভের শাসনক্ষমতায় থাকার নিয়ম নেই। নতুন খসড়া মৌলিক আইনে কাজাখস্তানের পার্লামেন্টের আকৃতি কমবে।দুই কক্ষের পার্লামেন্টের স্থলে হবে এক কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট এবং আইনপ্রণেতার সংখ্যাও কমানো হবে। ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ পুনর্বহাল করা হবে, যে পদ বিলুপ্ত করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।সাবেক সোভিয়েত ও কাজাখ কূটনীতিক তোকায়েভ ২০২২ সালে নিজেই এক মেয়াদে সাত বছর প্রেসিডেন্ট থাকার নিয়ম চালু করেছিলেন। নতুন খসড়াতেও এক মেয়াদে সাত বছরের সীমাবদ্ধতা বহাল রাখা হয়েছে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সংবিধান পাস হলে তোকায়েভের আগের মেয়াদটি পুরোনো সংবিধানের আওতাভুক্ত হিসাবে বাতিল বলে গণ্য হতে পারে, যা তাকে আবারও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেবে।এর আগে রাশিয়া, বেলারুশ ও উজবেকিস্তানের নেতারাও একইভাবে সংবিধান সংশোধন করে নিজেদের মেয়াদের সময়সীমা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন।কাজাখস্তানে এই গণভোট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন দেশটিতে ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি চরমে এবং কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।২০১৯ সালে কাজাখস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট নূরসুলতান নাজারবায়েভের উত্তরসূরি হিসেবে তোকায়েভ ক্ষমতায় আসেন।শুরুতে নাজারবায়েভের প্রভাব থাকলেও ২০২২ সালের প্রাণঘাতী দাঙ্গার পর তোকায়েভ তার পূর্বসূরিকে সব ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন।বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২ শতাংশ উৎপাদনকারী এই দেশটি বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব, রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে।রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন সংবিধানের অধীনে তোকায়েভের পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনও কোনও স্থির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।এবি
৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন কারাবন্দি ইমরান খান
আদিয়ালা কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার দৃষ্টিশক্তির ৮৫ শতাংশই হারিয়ে অন্ধ হতে যাচ্ছেন। কারাবন্দি অবস্থায় নানা জটিলতার কারণে তার ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টি অবশিষ্ট রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া এক মেডিকেল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এ তথ্য।ইমরান খানের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সাফদার অভিযোগ করেছেন, টানা তিন মাস অভিযোগ জানানোর পরও কারা কর্তৃপক্ষ তার চোখের চিকিৎসার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুই ঘণ্টা ধরে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং কারাগার পরিদর্শন করেন সালমান সাফদার। এরপর বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টে সাত পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেন ওই আইনজীবী।সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান গত তিন মাসে দ্রুত দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং এক পর্যায়ে তার ডান চোখে হঠাৎ সম্পূর্ণ দৃষ্টি চলে যায়।গত ৬ ফেব্রুয়ারির একটি মেডিকেল রিপোর্টে তার রাইট সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন রোগ নির্ণয় করা হয়। এ রোগে চোখে রক্ত জমাট বেঁধে রেটিনার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, চিকিৎসায় আরও বিলম্ব হলে ইমরান খানের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দ্রুত স্বাধীন মেডিকেল বোর্ড গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ইমরান খানের চোখ পরীক্ষা করতে একটি মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তার দুই ছেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি বলেন, ইমরার খানের স্বাস্থ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।সূত্র: আল-জাজিরাএবি
নীল নদে ডুবে মারা গেল নারী-শিশুসহ ২১ জন
উত্তর সুদানের নাইল রাজ্যে নীল নদে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে নারী, শিশু ও বৃদ্ধাসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সুদানের সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জানায়, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টাইবা আল-খাওয়াদ ও ডেইম আল-কারাই গ্রামের মধ্যে চলাচলের সময় ফেরিটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।ফেরিটিতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে সুদানের সিভিল ডিফেন্স বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক, পুলিশ মেজর জেনারেল কুরাশি হুসেইন জানান, দুর্ঘটনার পর ছয় থেকে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ১২ জন নিখোঁজ থাকায় তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকাজ জোরদার করতে রাজধানী খার্তুম থেকে একটি বিশেষ দক্ষ দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নাইল নদী রাজ্যের সব সিভিল ডিফেন্স ইউনিটকে অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, সুদান ডাক্তার নেটওয়ার্ক এক পোস্টে জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনা সুদানের নদী পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবকে আবারও সামনে এনেছে।উত্তর সুদানের নদীতে ফেরি দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০১৮ সালে নীল নদে একটি ফেরি ডুবে অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারান, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু। সে সময় শিশুদের স্কুলে নেয়ার পথে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।সূত্র: আল জাজিরাএবি
উত্তরসূরি হিসেবে মেয়েকে প্রস্তুত করছেন কিম জং উন
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার মেয়েকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে ধারণা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ সদস্যরা বলেছেন, দেশের নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়েও কিম জং উনের মেয়ে মতামত দিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার এক ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির সংসদ সদস্যরা।সংসদ সদস্যরা বলেছেন, কিম জং উনের কন্যা কিম জু আয়ে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির আসন্ন বৈঠকে উপস্থিত থাকেন কি না এবং তাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, এমনকি তিনি কোনও আনুষ্ঠানিক পদ গ্রহণ করেন কি না, সেই বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস)।এনআইএসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির আইনপ্রণেতা লি সিয়ং কুয়েন বলেন, অতীতে এনআইএস কিম জু আয়েকে ‘উত্তরসূরি হিসেবে শেখার পর্যায়ে আছে বলে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু আজ যে শব্দচয়ন ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে তিনি অভ্যন্তরীণভাবে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর্যায়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।কিম জু আয়ের বয়স কিশোর বয়সের শুরুর দিকে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মধ্যে জল্পনা রয়েছে, তাকে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের নেতা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যেই তিনি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থিত হচ্ছেন। অস্ত্র প্রকল্প পরিদর্শনসহ বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের নির্দেশনামূলক কার্যক্রমে বাবার সঙ্গে তাকে দেখা যাচ্ছে।লি সিয়ং কুয়েন ও আরেক আইনপ্রণেতা পার্ক সুন-উন বলেছেন, এনআইএস মনে করে, তিনি নীতিগত বিষয়ে মতামত দেওয়া শুরু করেছেন এবং বাস্তবে তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।উত্তর কোরিয়া ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ওয়ার্কার্স পার্টি নবম কংগ্রেসের উদ্বোধনী বৈঠক আয়োজন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ওই বৈঠকে আগামী কয়েক বছরের জন্য অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বড় ধরনের নীতিগত লক্ষ্য প্রকাশ করা হবে।আইনপ্রণেতা পার্ক ও লি বলেছেন, নেতা কিম জং উন বড় আকারের সাবমেরিন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যা সর্বোচ্চ ১০টি সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহনে সক্ষম হতে পারে। তাদের মতে, জাহাজটির স্থানচ্যুতি ৮ হাজার ৭০০ টন হওয়ায় এটি পারমাণবিক চুল্লিচালিত হিসেবে নকশা করা হয়ে থাকতে পারে।সূত্র: রয়টার্স।এবি
বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি: ভারত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল না আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে চলমান নির্বাচন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মন্তব্য করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করব এবং দেখব কেমন ম্যান্ডেট আসে, তারপর আমরা বাকি বিষয়গুলো দেখব।’ জয়সওয়াল বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিবেশী দেশটিতে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচ’-এর পক্ষে নয়াদিল্লি সবসময় অবস্থান নিয়েছে।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর এটি দেশটির প্রথম নির্বাচন। এরপর থেকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দেশ পরিচালনা করে আসছে।বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যার দিকে গণনা শুরু হয়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থি জোটকে পরাজিত করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান।প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তারেক রহমান দেশের সবচেয়ে বড় দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোটের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। বিএনপি শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। মা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারেক রহমান গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন। খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যান।অন্যদিকে, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি নির্বাচনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ফলাফল নিশ্চিত করতে তার দল ‘যা প্রয়োজন, তাই করবে।’বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ফলাফল রাতের মধ্যেই আসতে পারে। বাংলাদেশের উভয় পক্ষের রাজনৈতিক নেতারা হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে, দেশটির নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত কেবল কয়েকটি ছোটখাটো বিঘ্নের ঘটনা জানিয়েছে।এমআর-২
ট্রাম্পকে নিয়ে তর্ক করায় মেয়েকে গুলি করে হত্যা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে রাজনৈতিক তর্কের জেরে টেক্সাসে নিজের বাবার হাতেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন লুসি হ্যারিসন (২৩) নামে এক ব্রিটিশ তরুণী। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের চেশায়ার কর্নার্স কোর্টে শুরু হওয়া এক ইনকুয়েস্ট (তদন্ত শুনানি) থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।নিহত লুসি হ্যারিসন চেশায়ারের ওয়ারিংটনের বাসিন্দা ছিলেন। গত বছরের ১০ জানুয়ারি টেক্সাসের ডালাসের কাছে প্রসপার এলাকায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। শুনানিতে লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার বলেন, ঘটনার দিন সকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ ও তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে বাবা ক্রিস হ্যারিসনের সঙ্গে লুসির ব্যাপক তর্কাতর্কি হয়। তর্কের একপর্যায়ে লুসি তার বাবাকে প্রশ্ন করেন, ট্রাম্পের দ্বারা লাঞ্ছিত কোনো নারীর জায়গায় যদি লুসি নিজে থাকতেন, তবে তার বাবা কেমন বোধ করতেন? জবাবে ক্রিস হ্যারিসন তাচ্ছিল্য করে বলেন, তার আরও দুই মেয়ে আছে, তাই এতে তিনি খুব একটা বিচলিত হবেন না। বাবার এমন মন্তব্যে লুসি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।তদন্তে জানা যায়, ওইদিনই বিকালে লুসি এবং তার প্রেমিকের বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল। রওনা হওয়ার ঠিক আধা ঘণ্টা আগে ক্রিস হ্যারিসন তার মেয়েকে হাত ধরে বেডরুমে নিয়ে যান তার নতুন কেনা ‘গ্লক ৯এমএম’ সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগানটি দেখানোর জন্য। এর মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মাথায় একটি বিকট গুলির শব্দ শোনা যায়। লুসির প্রেমিক ঘরে ঢুকে দেখেন লুসি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন এবং ক্রিস পাগলের মতো চিৎকার করছেন।আদালত জানতে পেরেছে, ক্রিস হ্যারিসন আগে থেকেই মদ্যপানের সমস্যায় ভুগে রিহ্যাবে ছিলেন। দুর্ঘটনার দিন তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে আবারও প্রায় ৫০০ মিলিলিটার মদপান করেন। পুলিশ অফিসার লুসিয়ানা এসক্যালেরা জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ক্রিসের নিশ্বাসে অ্যালকোহলের তীব্র গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মদ কিনতে দেখা গেছে।টেক্সাসের গ্র্যান্ড জুরি ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আনেনি, যা নিয়ে লুসির পরিবারে অসন্তোষ রয়েছে। তবে ক্রিস হ্যারিসন এক বিবৃতিতে জানান, এই ভুলের বোঝা তিনি সারা জীবন বয়ে বেড়াবেন। অন্যদিকে, লুসির মা জেন কোটস তার মেয়েকে একজন ‘প্রাণবন্ত ও সংবেদনশীল মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, লুসি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ভালোবাসত।এমআর-২
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যা বলছে বিশ্ব মিডিয়া
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর বাংলাদেশে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি দেশের ইতিহাসের ১৩তম জাতীয় নির্বাচন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু মৌলিক প্রশ্নে হচ্ছে গণভোটও। বাংলাদেশের এই নির্বাচনের খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘লাইভ নিউজ’ করছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোট দিতে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর দেশটিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।এতে আরও বলা হয়, এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টিসহ (এনসিপি) ১১টি দলের জোটের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। জাতিসংঘ নারীর উপর সহিংসতা ও হয়রানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলেও জানিয়েছে আল জাজিরা।বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘লাইভ নিউজ’ করছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরুর খবর প্রকাশ করা হয়েছে। বিবিসির লাইভে বলা হয়েছে, এটি শুধু ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনই নয়, বরং কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবার বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া কেউ-ই নির্বাচনের মাঠে নেই। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে প্রধান ইসলামপন্থি দল।এতে আরও বলা হয়, ভোটাররা কেবল নতুন সরকারই নির্বাচন করবেন না, তারা একটি সাংবিধানিক গণভোটেও অংশ নেবেন, যেখানে ‘জুলাই সনদ’ নামে ব্যাপক সংস্কার প্যাকেজ বাস্তবায়িত হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।‘জেন-জি বিপ্লবের পর বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শুরুর সময় বাংলাদেশিরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা বলছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, যা ২০২৪ সালে জেন-জিদের অভুত্থ্যানে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক।রয়টার্স আরও জানায়, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগে রাজধানী ঢাকায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে বহু মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেনের মতো আগ্রহী অংশগ্রহণকারীরাও ছিলেন। তিনি জানান, শেষবার ২০০৮ সালে তিনি ভোট দিয়েছিলেন।‘বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের তরুণ ভোটারদের নানা দাবি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, তরুণ ভোটারদের অনেকেই ২০২৪ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের আশা, আসন্ন নির্বাচন দেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা বয়ে আনবে।বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে তুর্কিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লবে ১৫ বছরের হাসিনা শাসনের পতনের পর আওয়ামী লীগকে ছাড়া এটিই প্রথম নির্বাচন।‘বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। এতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্য যে কোনো নির্বাচনের মতো নয়। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট করে একটি ইসলামপন্থি দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে।ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থি শক্তিগুলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী উপস্থিতি দেখাতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশার নতুন রূপ তৈরি করছে।নির্বাচন নিয়ে লাইভ আপডেন দিচ্ছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম। এর মধ্যে এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে। অতীতের এক বিস্ময়কর রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করে জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান এতে অংশ নিয়েছেন। ৬০ বছর বয়সী বিএনপির এই নেতা প্রায় ১৭ বছর নির্বাসন থেকে দেশে ফেরেন গেল ডিসেম্বরে।এছাড়া ‘বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু’ শিরোনামে লাইভ আপডেট দিচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের জন্য অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এসব কেন্দ্রের ৯০ শতাংশে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ঢাকায় মোতায়েন থাকা অনেক পুলিশ সদস্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।‘বাংলাদেশের নির্বাচন: ভুয়া তথ্যে সয়লাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এখন ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বড় একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। নির্বাচনকে ঘিরে বানানো উক্তি, বিকৃত ছবি এবং বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নামে মিথ্যা বক্তব্য ছড়িয়ে ক্ষোভ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে মানুষের মধ্যে। এমআর-২
মাদাগাস্কারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড বন্দরনগরী, নিহত অন্তত ৩১
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘গেজানি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মাদাগাস্কারের প্রধান বন্দরনগরী তুয়ামাসিনা। ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগের ঝড়ে অন্তত ৩১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ধসে পড়েছে অসংখ্য বাড়িঘর, অন্ধকারে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। চলতি বছর দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়ের এই আঘাতে নতুন করে গভীর সংকটে পড়েছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এই দ্বীপরাষ্ট্রটি।সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ মাদাগাস্কারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ‘গেজানি’ নামের এই ঘূর্ণিঝড় গত মঙ্গলবার উপকূলে আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর তুয়ামাসিনা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত এলাকায় ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে এবং সেখান থেকেই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।এছাড়া বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় বহু এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছ, উড়ে যায় ঘরের ছাদ। গত বছরের অক্টোবরে ক্ষমতা দখল করা দেশটির সামরিক নেতা কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘যা ঘটেছে তা এক ভয়াবহ বিপর্যয়। তুয়ামাসিনা শহরের প্রায় ৭৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মাদাগাস্কারের একার পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব নয়’। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের রিইউনিয়ন দ্বীপভিত্তিক সিএমআরএস ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাসকেন্দ্রের মতে, স্যাটেলাইট যুগে তুয়ামাসিনার আশপাশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি সম্ভবত সবচেয়ে তীব্র ঝড়ের একটি।জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় জানায়, অনেকেই বাড়িঘর ধসে পড়ায় প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তুয়ামাসিনায় ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার (১৫৫ মাইল) বেগে বাতাস বয়ে যায়।মানবিক সহায়তাসংস্থা অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান রিজা র্যান্ড্রিয়ানারিসোয়া এএফপিকে বলেন, ‘পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থা। প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়ির ছাদ আংশিক বা সম্পূর্ণ উড়ে গেছে।’দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানায়, তুয়ামাসিনা শহরসংলগ্ন একটি এলাকা থেকে ডজনখানেক আহত ব্যক্তি ও শত শত বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শহরটিতে প্রায় চার লাখ মানুষ বসবাস করেন।ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানার সময় তুয়ামাসিনা ও আশপাশের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। হারিমাঙ্গা রানাইভো বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এত ভয়াবহ বাতাস আমি কখনও দেখিনি... লোহার দরজা-জানালাও প্রবলভাবে কাঁপছিল।’এ বছর মাদাগাস্কারে আঘাত হানা এটি দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়। জাতিসংঘের মানবিক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ দিন আগে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ‘ফাইটিয়া’র আঘাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আরও ৩১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।এদিকে মাদাগাস্কারের আবহাওয়া অধিদপ্তর বুধবার সকালে জানায়, গেজানি দুর্বল হয়ে মাঝারি মাত্রার ট্রপিক্যাল ঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং পশ্চিমমুখে অগ্রসর হয়ে রাজধানী আনতানানারিভোর প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) উত্তরে স্থলভাগে অবস্থান করছে। অধিদপ্তর জানায়, ‘গেজানি আজ পূর্ব থেকে পশ্চিমে মধ্যাঞ্চলের উচ্চভূমি অতিক্রম করবে এবং সন্ধ্যা বা রাতে মোজাম্বিক চ্যানেলে গিয়ে সমুদ্রে প্রবেশ করবে।’এবি
থাইল্যান্ডের স্কুলে প্রবেশ করা বন্দুকধারী আটক, সব জিম্মি মুক্ত
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের হাত ইয়াই জেলায় একটি স্কুলে গুলি চালানো বন্দুকধারীকে বুধবার আটক করা হয়েছে এবং জিম্মি হওয়া সবাইকে মুক্ত করা হয়েছে বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।প্রাদেশিক প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানায়, ১৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বুধবার সকালেই সংখলা প্রদেশের হাত ইয়াইয়ে অবস্থিত পাতংপ্রাথানকিরিওয়াত স্কুলে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেন।ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট উইচিয়ান সোবেন রয়টার্সকে বলেন, ‘অপরাধীকে আটক করা হয়েছে।’আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।থাইল্যান্ডে অস্ত্রধারণ ও বন্দুক সহিংসতা অস্বাভাবিক নয়। ২০২২ সালে দেশটির পূর্বাঞ্চলে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা একটি নার্সারিতে বন্দুক ও ছুরি হামলায় ২২ শিশুসহ ৩৬ জনকে হত্যা করেছিলেন।এবি
বিনোদন
সব দেখুন
ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরেই মারা গেলেন অভিনেতা তিনু করিম
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তিনু করিম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অভিনেতা আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে নিজ গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী হুমায়রা নওশিন। অভিনেতার ১১ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন আগেই স্ত্রী-সন্তানসহ বরিশালের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনু করিম। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। হঠাৎ দুপুরের দিকে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাকেই তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে নতুন করে জীবনে ফিরেছিলেন এই অভিনেতা। গত বছরের নভেম্বর মাসে বরিশালে অবস্থানকালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় এনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ৪০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আইসিইউ ও লাইফ সাপোর্টে কাটাতে হয়েছে অনেকটা সময়। চিকিৎসকেরা যখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখনই আশ্চর্যজনকভাবে সাড়া দেন তিনু করিম। পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে জানুয়ারির শুরুতে বাসায় ফেরেন। কিন্তু সুস্থতার সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলো না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবারও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন তিনি।অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলেন, তিনু করিম পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বরিশাল গেল। তার গলায় দীর্ঘদিন নল দেয়ার কারণে কথা বলতে একটু সমস্যা হতো। এছাড়া সে সুস্থ ছিল। আজকে সকালে সে ভোট দিয়ে এসেছে। এর পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার স্ত্রী জানালো সে ভোট দিয়ে এসে অসুস্থ অনুভব করে, এরপর তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনু করিম। ২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক ঘটে তার। এরপর একে একে অভিনয় করেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও বিজ্ঞাপনে। ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায়ও কাজ করেন। ‘রাত জাগা ফুল’, ‘আলতা বানু’সহ নানা নাটকে তার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একটি মুঠোফোন অপারেটরের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। তার অকাল প্রয়াণে সহকর্মী ও ভক্তদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁর স্মৃতিচারণ করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এইচএ
বান্দার কঠিন সময়গুলোতে শুধু আমাদের রব থাকবেন: সালমা
ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা। ৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন তার দ্বিতীয় স্বামী আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরে। বিচ্ছেদের এই ধকল সামলাতে গিয়ে তীব্র একাকিত্বে ভুগছেন ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ খ্যাত এই তারকা। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি জানালেন নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থার কথা।বিচ্ছেদের যন্ত্রণার মাঝেও সৃষ্টিকর্তার ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখেছেন সালমা। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “মাঝে মাঝে আল্লাহ তায়ালা আমাদের একা করে দেন, পুরোপুরি একা। ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা বুঝি এই দুনিয়ায় আমরা যাদের বাঁচাতে চেয়েছি, যাদের আপন ভেবেছি, নিজের থেকেও যাদের ওপর বেশি ভরসা করেছি, তারা কেউই পুরোপুরি আমাদের নয়। কেউ না।”জীবনের এই দুঃসময়ে তিনি নবী-রাসুলদের পরীক্ষার উদাহরণ টেনেছেন। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে সালমা লিখেছেন, “ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য গভীর সমুদ্রে মাছের পেটে যেমন কেউ ছিল না, বিবি হাজেরার জন্য জনশূন্য মরুভূমিতে যখন কেউ ছিল না, নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া শিশু মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশেও কেউ ছিল না। সর্বদা মনে রাখবেন, বান্দার কঠিন সময়গুলোতে শুধু আমাদের রব ছিলেন, তিনি আছেন এবং শেষ পর্যন্ত শুধু তিনিই থাকবেন।”প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের শেষদিনে পারিবারিকভাবে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সালমা। পরের বছর জানুয়ারিতে ধুমধাম করে স্বামীকে গণমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সাত বছরের মাথায় এসে সেই সংসারও টিকল না। এর আগে ২০১১ সালে দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন সালমা। তাদের সংসারে স্নেহা নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৬ সালে বনিবনা না হওয়ায় সেই সংসারেরও ইতি ঘটেছিল।এইচএ
সৌদি বিমানবন্দরে পূর্ণিমাকে দেখে তরুণের কাণ্ড
ওমরাহ পালন করতে কিছুদিন আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখানের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। গতকাল একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।ভিডিওটিতে দেখা যায়, সৌদিতে অবস্থানকালে বিমানবন্দরে এক যুবকের মুখোমুখি হন পূর্ণিমা।সেখানে কথা বলার এক পর্যায়ে ওই যুবক পূর্ণিমাকে উদ্দেশ্য করে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘চেহারা দেখে তো একদম পূর্ণিমা আপুর মতো লাগছে।’ সরাসরি নিজের প্রশংসা শুনে স্বভাবসুলভ হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানান এই অভিনেত্রী। মজার ছলে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমাকেও সবাই বলে, আমার চেহারা নাকি দেখতে পূর্ণিমার মতো লাগে।’তাদের এই কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আসার পর থেকেই অনুরাগী ও সাধারণ নেটিজেনরা বেশ উপভোগ করছেন।মন্তব্যের ঘরে কেউ কেউ বলছেন, চিরযৌবনা এই নায়িকার চেহারার উজ্জ্বলতা যেন সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে। ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখান থেকে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকাই সিনেমার অন্যতম এই শীর্ষ নায়িকা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন।বর্তমানে সিনেমার কাজ কমিয়ে দিলেও বিশেষ বিশেষ কাজ ও অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়।এইচএ
৫২ বছরে রানওয়েতে রাজকীয় গ্ল্যামার দেখালেন কারিশমা কাপুর
৯০ দশকের পর্দা কাঁপানো গ্ল্যামার কুইন কারিশমা কাপুর। সময় বদলেছে, ফ্যাশনের সংজ্ঞা বদলেছে,তবু তার স্টাইল সেন্স চিরসবুজ। ক্লাসিক শাড়ির আভিজাত্য হোক বা এলিগ্যান্ট কুর্তা সেটের সৌন্দর্য, প্রতিটি লুকে তিনি রয়ে যান মার্জিত ও আত্মবিশ্বাসী।৫২-এ পা রেখেও ফ্যাশনের ক্ষেত্রে তার কোনও আপস নেই। বরং বয়স যেন তাকে দিয়েছে আরও পরিপক্কতা। তার উপস্থিতিতেই তিনি আলাদা করে নজর কাড়েন। দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন তার মোহময় ব্যক্তিত্ব,ভঙ্গি এবং অনবদ্য স্টাইল দিয়ে।সম্প্রতি দুবাইয়ের শো-স্টাপার হিসেবে হাজির হয়ে কারিশমা যেন অন্য যুগে নিয়ে গেলেন দর্শকদের। ঝলমলে নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত রাজকীয়তায় মোড়া একটি উপস্থিতি-যেখানে আভিজাত্যই ছিল মূল আকর্ষণ। রানওয়েতে পা রাখতেই মনে হলো যেন ব্রিজারটনের রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এসেছেন।পীচ রঙের ফিটেড, মেঝে ছোঁয়া গাউন হাঁটু পর্যন্ত শরীরকে জড়িয়ে ধরে। কাঠামোবদ্ধ অথচ কোমল কাপড়, ভারী পৃষ্ঠকাজ-সব মিলিয়ে গাউনে ছিল নিখুঁত ভারসাম্য।অফ-শোল্ডার বডিসটি সাজানো ছিল থ্রিডি ফুলের অ্যাপ্লিক দিয়ে। গলার রেখা থেকে হাতা পর্যন্ত স্তরভিত্তিক পাপড়ি, স্ফটিক এবং পুঁতির সূক্ষ্ম কাজ গাউনের সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করেছে। কাঁধ থেকে ঝরে পড়া স্ফটিকের সুতা আলো স্পর্শ করলে যেন ঝলসে উঠছিল।গাউনের গায়ে জুড়ে ছোট ছোট পাথর ও সিকুইনের সূক্ষ্ম অলঙ্করণ নাটকীয়তা বাড়িয়েছে।লুকের চূড়ান্ত নাটকীয়তা আসে বিশাল ট্রেনে। প্লিটেড ফ্যাব্রিক প্যানেলে গড়া এই অংশ তরঙ্গের মতো বক্ররেখা তৈরি করে পিছনে ও পাশে স্তরে স্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রতিটি ভাঁজে সূক্ষ্ম অলঙ্করণ চলার সঙ্গে সঙ্গে আলো ধরে এক নতুনমাত্রা তৈরি করছিল।চুল ছিল মসৃণ, নিচু পনিটেলে বাঁধা, যা নেকলাইন ও গাউনের পেছনের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল করেছে। মেকআপে ক্লাসিক ছোঁয়া-মসৃণ বেস, নরম কনট্যুর, পীচি ব্লাশে উজ্জ্বল ত্বক। চোখে নিউট্রাল শ্যাডো, শার্প লাইনার, ঠোঁটে ছিল গোলাপি-বাদামি আভা।গহনায় খুব সাধারণ নেকলেস বা ভারী কানের দুল না পরে শুধু একটি আংটি বেছে নিয়েছিলেন।তার এই লুক একসঙ্গে রাজকীয় এবং রোমান্টিক। ঝলক নয় বরং মাধুর্য দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। দুবাইয়ের সেই সন্ধ্যায়, পীচ রঙা গাউনে তিনি শুধু রানওয়ে হাঁটেননি সময়কেও যেন থামিয়ে দিয়েছিলেন।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
ভোট উৎসবে যমুনা সেতুতে একদিনে পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ উৎসবের সময়কাল বাদ দিলে সাধারণ সময়ে এটি যমুনা সেতুর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২৩ হাজার ৯৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী লেনে পারাপার হওয়া ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা টোল জমা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচলের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত আজ বুধবার সারাদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশ মানুষ আজ বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বুথ সক্রিয় রাখা হয়েছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহনের সংখ্যার কারণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভোটাররা সঠিক সময়ে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন।এইচএ
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
এবারের পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এমআর-২
এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
সরাসরি-বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
আজ রাত ১২টা থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ থাকবে ৪ দিন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বন্ধ থাকবে ৪ দিন। বিকাশ, রকেট ও নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা (শুধু পিটুপি) পাঠানো যাবে।এছাড়া, দিনে সর্বোচ্চ ১০বার লেনদেন করা যাবে, যার মোট সীমা হবে ১০ হাজার টাকা।গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এ সীমা কার্যকর থাকবে। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সোমবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনে বিশেষ সীমা কার্যকর থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে পিয়ার-টু-পিয়ার (পি-টু-পি) লেনদেনে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চলবে। এছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে অন্যান্য সব ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এছাড়া নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি (ক্লোজ মনিটরিং) চালানো হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় পি-টু-পি ইন্টারনেট (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস ও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে বলে জানানো হয়।এইচএ
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
আসন্ন পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।এতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এইচএ
ভোট উৎসবে যমুনা সেতুতে একদিনে পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ উৎসবের সময়কাল বাদ দিলে সাধারণ সময়ে এটি যমুনা সেতুর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২৩ হাজার ৯৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী লেনে পারাপার হওয়া ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা টোল জমা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচলের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত আজ বুধবার সারাদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশ মানুষ আজ বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বুথ সক্রিয় রাখা হয়েছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহনের সংখ্যার কারণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভোটাররা সঠিক সময়ে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন।এইচএ
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
এবারের পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এমআর-২
এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
সরাসরি-বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
নারী ভোটে বাজিমাত করবে জামায়াত: সাদিক কায়েম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারী ভোটে বাজিমাত করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে তিনি লিখেন, নারী ভোটে বাজিমাত করবে জামায়াত। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গ্রামে-গঞ্জে নারীদের গণজোয়ার।এর আগে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোট দিতে ফজরের নামাজ শেষ করেই কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নারী, পুরুষ, তরুণ, প্রবীণ— সব বয়সি ভোটারদের উপস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রেই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে এসেছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সবশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচন বিতর্কের জন্ম দেয়। তাই সবার চোখ এবারের নির্বাচনে।এমআর-২
পদত্যাগ করলেন ঢাবি ভিসি
হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিকাল ৩টায় ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনকে ‘বিশেষ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে জনসংযোগের তরফে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে।জানা গেছে, উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এটি অনুষ্ঠিত হবে। রেজিস্ট্রার অফিস সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এটি পূর্ব সিদ্ধান্ত নয়, হঠাৎ করেই জরুরি ভিত্তিতে সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে; যেখানে উপাচার্য নিজেই কথা বলবেন।এদিকে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে উপাচার্যের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে। এর আগেও উপাচার্যের বিদেশ সফরকে ঘিরে এই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। স্বভাবতই চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ক্যাম্পাস তথা শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল বাড়ছে।যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগের গুঞ্জন নিছকই ‘গুজব’। তবে নির্বাচনের দুদিন আগে ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ তার উপাচার্য থাকা কিংবা না থাকার বিষয়টি পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেবেন। সে হিসেবে ‘সরকার যদি তাকে চান তবে থাকবেন; না চাইলে থাকবেন না’- এমন বক্তব্যও আসতে পারে জুলাই পরবর্তী এই উপাচার্যের পক্ষ থেকে। তবে ঠিক উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন; সেটি তিনি নিজেই জানেন।এইচএ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’: বাকৃবিতে বিভক্ত মত, তর্ক-বিতর্কে মুখর ক্যাম্পাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কার–সংক্রান্ত চারটি প্রশ্নে মত দেবেন। এই গণভোটকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও চলছে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময়। শিক্ষার্থীদের একাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে সময়ের দাবি বলছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ পুরো প্রক্রিয়াটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চব্বিশের গণ-আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। গণভোটে চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধী দল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।বাকৃবির একাংশ শিক্ষার্থীর মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জনগণের মালিকানা ও ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. বেলাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ নির্যাতন ও ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটিয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই দুঃসময় ভাঙলেও প্রকৃত মুক্তি তখনই আসবে, যখন জনগণের অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত হবে। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সরকারি ক্ষমতা সীমিত হবে, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে।একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে পারিবারিক রাজনীতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার অবসানের পথে এগিয়ে যাওয়া। তার ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ—এই ধারণাকে শক্তিশালী করতেই তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।তবে শিক্ষার্থীদের সবাই যে গণভোটের পক্ষে, তা নয়। এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা নাবিলা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন। তার অভিযোগ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্নমত দিয়েছিল, সেগুলো উপেক্ষা করেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চারটি প্রশ্নকে একটি প্যাকেজে বেঁধে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করে। কারও একটি প্রশ্নে আপত্তি থাকলেও তা আলাদা করে জানানোর সুযোগ নেই—এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে করেন তিনি।অন্যদিকে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রেদোয়ান আহমেদ গণভোটকে ‘বৈপ্লবিক উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় মানে ক্ষমতার একচেটিয়া দখল ভেঙে সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। এতে রাষ্ট্র আরও দায়বদ্ধ হবে, বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়বে এবং সহিংস রাজনীতির অবসান ঘটবে—এমন প্রত্যাশা তার।একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. সালমান বলেন, চব্বিশের গণ-আন্দোলন হয়েছিল স্বৈরাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। সেই অর্জন টেকসই করতে হলে স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।সব মিলিয়ে গণভোটকে ঘিরে বাকৃবি ক্যাম্পাসে স্পষ্টভাবে দুই ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। কেউ একে রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটিকে অগণতান্ত্রিক বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন পথে দেশকে এগিয়ে নেবে—সেই অপেক্ষাতেই এখন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।ইখা
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে: হামিম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ সিদ্ধান্ত হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি ইসির এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে হামিম লিখেন, ‘ভোটকেন্দ্র সীমানার ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ সিদ্ধান্তটি সেই মিউজিয়ামে থাকা হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনের অনুমতি দিলে যারা নকল সিল বানিয়েছে ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে, সেই দলটির এ ধরনের কাজ সম্পাদন সহজে হবে না। যারা বিভিন্ন অনিয়ম করতে চায়, ওঁৎ পেতে আছে, তাদের কাজ কঠিন হবে বলেই কি এ ধরনের নিয়ম জারি? এ নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র টালবাহানা, কোন প্রকার প্রতারণা বা কালিমা লেপন আমরা ঐক্যবদ্ধ বংলাদেশীরা কিন্তু মেনে নেব না।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।এমআর-২
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
নিজের ফোনেই পাবেন ভোটের ফলাফল
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের ফলাফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইলেকশন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভোটাররা রিয়েল টাইমে ফলাফল দেখতে পারবেন এবং নির্বাচনি তথ্য সহজে জানতে পারবেন।জেনে নিন কীভাবে ঘরে বসেই এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল জানতে পারবেন-অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন: অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে উভয়েই পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যাবে। ডাউনলোডের পর ফোনে ইনস্টল করে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে।অ্যাকাউন্ট বা লগইন প্রক্রিয়া: সাধারণত ভোটের ফলাফল দেখার জন্য লগইন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য বা ইভিএম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে অ্যাপটি আপনাকে ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে লগইন করতে বলবে। লগইন করলে ভোটের নথি, ভোটার স্ট্যাটাস এবং নির্বাচনী কেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।ভোটের ফলাফল দেখার ধাপক. নির্বাচন ও কেন্দ্র নির্বাচন: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে ‘ইলেকশন রেজাল্টস’ বা ‘ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনটি থাকবে। এখানে নির্বাচনের ধরন নির্বাচন করতে হবে (জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা, বা ইউনিয়ন নির্বাচন)। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।খ. কেস্টিং এবং ফলাফল: নির্বাচনি কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের লাইভ আপডেট দেখার সুযোগ থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড হবে। ভোটের ভোটের সংখ্যা, প্রার্থী বা দল অনুযায়ী ভাগফল এবং ভোটের শতাংশ দেখা যাবে।গ. গ্রাফ এবং চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপনা: অ্যাপটি ফলাফলকে গ্রাফ বা চার্টে দেখায়, যাতে কোন প্রার্থী বা দলের অবস্থান সহজে বোঝা যায়। লাইভ আপডেটের ফলে ভোটের ধাপ ধাপে অগ্রগতি দেখা যাবে।এইচএ
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
কাইয়ুমের বিরুদ্ধে নাহিদের আবেদনের শুনানি নির্বাচনের পর: আপিল বিভাগ
দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আপিলের শুনানি নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বিএনপির দুই প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে আপিল বিভাগে করা লিভ টু আপিল শুনানি হবে নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য থাকলেও নট টুডে আদেশ দেওয়া হয়।বিএনপির দুই প্রার্থী হলেন— ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম ও বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কুমিল্লা-৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রিটটি করেন একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রিটে কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত চাওয়া হয়। রিট খারিজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, আপিল বিভাগে যাবেন নাহিদ ইসলাম। এদিকে এমএ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে রিপাবলিক অব ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ ও সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন তিনি। গত ১৯ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে যে আমি ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক এবং সেখানে আমার বাড়ি বা বিনিয়োগ রয়েছে। এসব তথ্য মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ। ভানুয়াতুতে আমি কখনো পা ফেলিনি এবং অন্য কোনো দেশের দ্বৈত নাগরিক হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষাও আমার কখনো ছিল না। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
দূর মরিশাস থেকেও নাড়ির টান: সাত মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্বে প্রবাসী আকাশ
হাজার মাইল দূরের মরিশাসের ব্যস্ত কর্মজীবনও তাকে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে ফাঁকে তার মন পড়ে থাকে দেশের সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের কথা ভেবে। সেই নাড়ির টান থেকেই ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রবাসী যুবক আকাশ মিয়া।নিজের উপার্জনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি নিয়মিত ব্যয় করছেন এসব এতিমখানার জন্য। প্রতিমাসে চাল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি তীব্র শীত থেকে শিশুদের রক্ষায় এবার পাঠিয়েছেন বিশেষ উপহার—নতুন কম্বল।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমখানায় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন কম্বল পৌঁছে দেওয়া হয়। কনকনে শীতের সকালে উষ্ণ কম্বল পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর আনন্দের হাসি।আকাশ মিয়া ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে মরিশাসের ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। প্রবাসে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছেন।আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের তাহফিজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ইমামুদ্দিন ও জাটিগ্রাম শাহ আরজানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মারুফ বিল্লাহ বলেন, “আকাশ মিয়া নিয়মিত আমাদের মাদ্রাসায় চালসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠান। ফলে এতিম শিশুদের খাদ্যসংকটের চিন্তা করতে হয় না। এবার শীতের সময় কম্বল পাঠিয়ে তিনি বাচ্চাদের প্রতি তার মমতার প্রমাণ দিয়েছেন।”কাশিয়ানীর পোনা মারকাযুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম ও খায়েরহাট ছায়াদাতিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামানও একই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে আকাশ মিয়া যেভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের সামর্থ্যবানরা এভাবে এগিয়ে এলে এতিমদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।”নিজের এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, “আমি প্রবাসে থাকলেও আমার এলাকার এতিম শিশুদের কথা সব সময় মনে পড়ে। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে তাদের পাশে থাকতে চাই। তাদের মুখে হাসি দেখলেই আমার সব কষ্ট ভুলে যাই। এটা কোনো দান নয়, এটা আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আকাশ মিয়ার মতো প্রবাসী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে দেশের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।ইখা
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে। এইচএ
