প্রধানমন্ত্রীর পূর্বঘোষিত দুই ইফতার মাহফিল বাতিল
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনীতিবিদ এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত পূর্বঘোষিত দুটি ইফতার মাহফিল বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান অবস্থা এবং জনগণের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার আয়োজন থেকে বিরত থাকার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।অতিরিক্ত প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৮ মার্চ দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের সম্মানে এবং ১০ মার্চ গণমাধ্যম কর্মীদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই মুহূর্তে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের চেয়ে জনগণের সেবায় মনোযোগ দেওয়া বেশি জরুরি। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, আগামী ৬ মার্চ কূটনীতিকদের জন্য এবং ৭ মার্চ এতিম, আলেম ও ওলামাদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই দুটি অনুষ্ঠানে নিজে উপস্থিত থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং কুশল বিনিময় করবেন।বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মানে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ এবং বড় পরিসরে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হতো। এফএস
বাগেরহাট-১ আসনের ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট) সংসদীয় আসনের প্রাপ্ত ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেনের একক নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। ওই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণের করা আবেদনের শুনানির পর এ আদেশ দেন আদালত। অ্যাডভোকেট হাসানুল আলম আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।আদালতে কপিল কৃষ্ণের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট গাজী মোস্তাক। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসানুল আলম।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট। তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৪৭টি।ভোটের ফল প্রকাশের পর ওই আসনের কিছু কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে আপত্তি তুলে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরে যান বিএনপি প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ। প্রতিকার না পেয়ে তিনি হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত আজ ভোট পুনর্গণনার আদেশ দেন।ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতেই জয় পায় জামায়াতের প্রার্থীরা। এরমধ্যে বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল আলিম জয়ী হন। আর বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন।এমআর-২
জাতীয়
সব দেখুন
প্রধানমন্ত্রীর পূর্বঘোষিত দুই ইফতার মাহফিল বাতিল
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনীতিবিদ এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত পূর্বঘোষিত দুটি ইফতার মাহফিল বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান অবস্থা এবং জনগণের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার আয়োজন থেকে বিরত থাকার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।অতিরিক্ত প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৮ মার্চ দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের সম্মানে এবং ১০ মার্চ গণমাধ্যম কর্মীদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই মুহূর্তে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের চেয়ে জনগণের সেবায় মনোযোগ দেওয়া বেশি জরুরি। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, আগামী ৬ মার্চ কূটনীতিকদের জন্য এবং ৭ মার্চ এতিম, আলেম ও ওলামাদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই দুটি অনুষ্ঠানে নিজে উপস্থিত থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং কুশল বিনিময় করবেন।বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মানে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ এবং বড় পরিসরে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হতো। এফএস
মাইলস্টোনের সেই শিক্ষিকা পাচ্ছেন মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার
সমাজসেবা বা জনসেবা সার্বিক অবদানের জন্য (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত সেই শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরী।এবার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এ বছর ২০ জন স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) হুমায়ুন কবিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নিম্নবর্ণিত ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্ব স্ব নামের পার্শ্বে উল্লিখিত ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন যারা-১. বেগম খালেদা জিয়া (মরণোত্তর) স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদান২. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, মুক্তিযুদ্ধ৩. মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ8. অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি৫. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চিকিৎসাবিদ্যা৬.ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সাহিত্য৭. এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), সংস্কৃতি৮. বশির আহমেদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতি৯. জোবেরা রহমান (লিনু), ক্রীড়া১০. পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), পল্লী উন্নয়ন১১. ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা/ জনসেবা১২. এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, সমাজসেবা/ জনসেবা১৩. মো. সাইদুল হক, সমাজসেবা/ জনসেবা১৪. গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, সমাজসেবা/ জনসেবা১৫. মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা/ জনসেবা১৬. কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), জনপ্রশাসন১৭. মোহাম্মদ আবদুল বাকী, পি এইচ ডি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ১৮. অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ১৯. অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ২০. আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু), পরিবেশ সংরক্ষণএমআর-২
স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত হয়। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য বেগম খালেদা জিয়া (মরণোত্তর)।মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ও মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর)।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে এ কে এস হানিফ (হানিফ সংকেত) ও বশির আহমেদ (মরণোত্তর),ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) সমাজসেবা/ জনসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, সাইদুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে পি এইচ ডি কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর)।গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।এমআর-২
ঈদ যাত্রায় সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই: পরিবহনমন্ত্রী
ঈদ যাত্রা উপলক্ষ্যে সড়কে চাঁদাবাজি করার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এ বিষয়ে পরিবহন সেক্টরে যারা জড়িত সবাই তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিকেলে ঈদে সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এখানে মনিটরিং করার দরকার সেটা আছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত আছে। হাইওয়ে পুলিশ তৎপর। স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে সড়ক-মহাসড়ক যে সমস্ত থানা জেলার অধীনে তারাও সক্রিয়। পরিবহন শ্রমিক নেতারা যারা আছেন তারাও এ ব্যাপারে তৎপর। তারাও নিজেরা দায়িত্ব নিয়েছেন কোনো অবস্থাতে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠার সুযোগ নেই। বিস্তারিত আসছে...এমআর-২
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নিজ দপ্তরে লাইট ও এসির মাত্রা কমালেন প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎপ্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রায় নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।রুমন বলেন, শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন।সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। এই দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগের পর তার দপ্তরের সব কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সব মন্ত্রণালয়, সারাদেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়িঘরের পর্দার জানালার সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্য সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ রেখেছেন।এমআর-২
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সবাইকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি নিজেও বিদ্যুৎ ব্যবহারকে সাশ্রয়ী করতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দফতরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন।সচিবালয়ের ১ নং ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর দফতর। এই দফতরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগের পরে তাঁর দফতরের সব কক্ষে তাৎক্ষনিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়।প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয়, সারাদেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপনী বিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়ি-ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্যও সকলকে পরামর্শ দেন।এমআর-২
বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে ষড়যন্ত্র করেছেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী: তাহের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে বিগত সরকারের মধ্যে থেকে নানা ষড়যন্ত্র করেছেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক নানা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।তাহের বলেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ছিলেন লন্ডন ষড়যন্ত্রের মূল হোতা৷ তিনি বিগত সরকারের মধ্যে থেকে নানা ষড়যন্ত্র করেছেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানার বক্তব্যের মাধ্যমে বিগত সরকারের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগের ব্যাপারে জাতির কাছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে৷ সাবেক এই উপদেষ্টারা জাতির সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষাকে ভণ্ডুল করে দিয়েছে।গণভোটের রায় নিয়ে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু এই সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে নানাভাবে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে।তাহের বলেন, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এটা সরকারের স্পষ্ট ব্যর্থতা৷ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে জামায়াতের এ নেতা বলেন, সংবিধানের আলোকে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে ভেবে দেখবে জামায়াত। তবে সেক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে৷ইখা
ঈদুল ফিতরের ছুটি বাড়ল, যোগ হলো ১৮ মার্চও
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগামী ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে ঈদের আগে ১৮ মার্চ (বুধবার) ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এমআর-২
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
ওমরাহ পালনে সৌদি গেলেন জামায়াত আমির
পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রাতে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। পবিত্র ওমরা পালন শেষে আগামী ৬ মার্চ সকালে তার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।এইচএ
ওমরাহ পালনে সৌদি গেলেন জামায়াত আমির
পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রাতে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। পবিত্র ওমরা পালন শেষে আগামী ৬ মার্চ সকালে তার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।এইচএ
‘জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি’
জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেওয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সোমবার (০২ মার্চ) সচিবালয়ে এ কথা জানান তিনি।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান মেনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। শুধুমাত্র সংসদ সদস্যরাই জাতীয় সংসদে অংশ নিতে পারেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে বা রাজনীতির মাঠে নানা কথা হচ্ছে, সেটি রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে বলা যেতে পারে। কিন্তু অসাংবিধানিক কিছু জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে পারি না।তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অনুসারে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ করতে হয়, সেটি জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনী আনতে হবে। সংশোধনী এনে সেটি সংবিধানে ধারণ করার পরেই, কোন প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ হতে পারে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কারা পড়াবেন, কীভাবে হতে পারে সে বিষয় চূড়ান্ত হতে পারে।এমআর-২
হাসপাতালে ভর্তি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘মন্ত্রী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন সরকারে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।এমআর-২
ইরানে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন।জামায়াত আমির লিখেছেন, ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের দাবানল—হে আল্লাহ, তোমার অসীম মেহেরবানিতে নিভিয়ে দাও। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পবিত্র রমজানের সংযম, সহনশীলতা ও মানবতার শিক্ষা ধারণ করার তাওফিক দান করো। তিনি আরও লিখেছেন, নিরীহ নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করো, আহতদের আরোগ্য দাও, বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ আশ্রয় দাও। সমগ্র দুনিয়াবাসীর প্রতি রহম করো—হৃদয়গুলোকে নরম করো, ঘৃণা ও প্রতিহিংসা দূর করো।সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, হে রব্বুল আলামিন, ন্যায়ের ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করো এবং একটি নিরাপদ শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করে দাও।আমিন।এইচএ
এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’—এই স্লোগানে আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে কেন্দ্রীয়ভাবে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবে দলটি।জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ওই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সরব ছিল দলটি।সর্বশেষ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এনসিপি। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এক বছর ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত দল হিসেবে থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এনসিপি শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বছরে পা দিতে যাচ্ছে। এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি তুলে ধরেছেন দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির এক বছর পূর্তি। এই দিনটি উপলক্ষ্যে গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, ফ্যাসিবাদবিরোধী দল–সংগঠন, সাংবাদিক, শিক্ষক, শ্রমিকসহ সবাইকে নিয়ে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করতে যাচ্ছি। ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার ধানমন্ডিতে আবাহনী মাঠে এনসিপির ইফতার মাহফিল হবে উল্লেখ করে আরিফুল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের অসংখ্য সহযোদ্ধা, বন্ধু ও সাংবাদিকদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে ইফতার করা হবে। সেখানে চিত্রপ্রদর্শনীও চলবে। পাশাপাশি দীর্ঘ এক বছরে দলটির রাজনৈতিক পথচলার উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটা ধারাবাহিক প্রোমো থাকবে। নাম হবে স্ট্রিট ওয়াল। সেখানে থাকবে ফটো বুথও। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটায় এই আয়োজন শুরু হবে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ২ মার্চ চট্টগ্রাম, ৪ মার্চ সিলেট, ৫ মার্চ ময়মনসিংহ, ৭ মার্চ ফরিদপুর, ৮ মার্চ বরিশাল, ৯ মার্চ খুলনা, ১০ মার্চ রাজশাহী ও ১১ মার্চ রংপুরে বিভাগীয় এবং ৩ মার্চ কুমিল্লায় ইফতার মাহফিল করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে এনসিপি। এনসিপির নেতা, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও গুণিজনেরা এসব ইফতারে অংশ নেবেন বলে তারা জানিয়েছে।এমআর-২
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন বাদশা
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন বগুড়া-৬ থেকে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রেজাউল করিম বাদশাকে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এই তথ্য জানান।তিনি ফেসবুক পোস্ট করে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাইকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হলো।গুঞ্জন ছিল এই আসন থেকে জিয়া পরিবারের কেউ উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত হয় জিয়া পরিবারের কেউ এখান থেকে নির্বাচন করছেন না।গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এমআর-২
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় শামীমা আক্তার রুবী
সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে কারা মনোনয়ন পাবেন-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত আসন বণ্টনকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।গেজেট অনুযায়ী, ৩৫ সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি জোট এবং ১৩টি জামায়াত জোট পেতে পারে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে। অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ইসিতে পাঠাবে। এরপর তফশিল ঘোষণা করা হবে।ইসি সূত্র জানায়, সংসদ সচিবালয় তালিকা পাঠালেই তফশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হবে এবং পরিকল্পনা রয়েছে ঈদের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দলটি। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ও তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে। দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই মূল সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একাধিক নারী নেতৃত্ব। তারমধ্যে অন্যতম কেন্দ্রীয় মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার রুবী। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসন আমলের পুরোটা সময় জুড়ে ছিলেন রাজপথে। দেশের বাইরে যেখানেই ফ্যাস্টিস হাসিনার আগমন সেখানেই ছিলো প্রবাসী নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ। আর এই প্রতিরোধের অগ্রভাগে ছিলেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শামীমা আক্তার রুবী। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৭ বছরের শাসন আমলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি, দুর্নীতি দুঃশাসন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা, বাংলাদেশের সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার উপর মিথ্যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মূলক মামলা ও প্রহসন মুলক রায়ে কারাবন্দির প্রতিবাদ, দলের চেয়ারম্যানে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা রাজনৈতিক হয়রানি মামলারা সাজর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামীমা আক্তার রুবী ছুটে গেছেন ইউরোপ, জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট, ইউরোপিয়ান কমিশন, ইউরোপিয়ান প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন জেনেভাতে নানা কর্মসূচি বিক্ষোভ প্রতিবাদ, মিটিং মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, এম্বাসির ঘেরাও কর্মসূচি, স্মারকলিপির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছি তিনি। গ্রেফতার আতঙ্কের মধ্যেও ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে এসে অংশগ্রহণ করেন জুলাই আন্দোলনে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ি আন্দোলনে রাজপথের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর বাংলাদেশের রাজপথে যেমন সক্রিয় ছিলেন তেমনিভাবে বহির্বিশ্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপ আমেরিকা সহ ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট, ইউরোপীয়ান কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, আন্তর্জাতিক আদালত, জাতিসংঘসহ যেখানে হাছিনা সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তাঁর প্রতিটি মিটিং মিছিলে থেকে রাজনীতি করেছেন। মহিলা দলের পক্ষে থেকে বহুবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্টেজে বক্তব্য রেখেছেন। ঢাকা -১৭ এবং কুমিল্লা -৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহ সমন্বয়ক, ও প্রচার প্রচারণা ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিকভাবে দক্ষ ও সাংগঠনিকভাবে যথেষ্ট সুপরিচিত। বিগত স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন যেমনি ছিলেন রাজপথে তেমনি ছিলেন দুঃসাহসিক লেখক পত্রিকায় সম্পাদকীয় কলাম লেখালেখি করতেন। বেগম জিয়ার নামে মুক্তি চাই শিরোনামে একটি গান লিখেছেন যা মিডিয়া সেলে প্রচারিত হয়েছে ইথুন বাবুর সুরে মৌসুমি ও পরানের কণ্ঠে তারুণ্যের সমাবেশে প্রচারিত হয়েছে যা সারা বাংলাদেশের জনতার স্রোতে জনতার হৃদয়ে স্থান পেয়েছে।ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত শামীমা আক্তার রুবী। ১৯৯০ এরশাদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসী আদর্শকে লালন করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে ইমন আদি ও হাবীব পরিষদে ছাত্রদলের প্যানেলে ব্যালট ও মাইলা সম্পাদিকা পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।১৯৯৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটে পিজিডিতে অধ্যয়নরত অবস্থার ছাত্র রাজনীতি সক্রিয় থাকেন তিনি। ২০০১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে গমন করেন। ফ্রান্স বিএনপির সাথে একত্রে কাজ করেন, এবং বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ফ্রান্স শাখার সহ সভাপতি পদে আছেন রুবী।২০০৫-২০০৯ সালে জাপানে অবস্থান করেন এবং সেখানে গিয়ে দলের জন্য কাজ করেন। ২৫শে এপ্রিল ২০১৬ তে 'জাতীয়তাবাদী নাগরিক মুক্তি পরিষদ" নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন যা ফ্রান্সের সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন তিনি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বাংলাদেশের সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম খুন হত্যা ধর্ষণ সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির লক্ষ্য কাজ করে জাতীয়তাবাদী নাগরিক মুক্তি পরিষদ। আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি শামীমা আক্তার রুবী বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন একাধিক সামাজিক পুরস্কারএক প্রতিক্রিয়ায় শামীমা আক্তার রুবী বলেন, সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপি হলে দেশের জন্য দেশের নারীদের জন্য আমার স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে-১️. নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন•গ্রামে গ্রামে নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা।•বেকার তরুণী ও স্বল্পশিক্ষিত নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন (আইটি, হস্তশিল্প, কৃষিভিত্তিক কাজ)।•স্থানীয় বাজারে নারীদের পণ্যের জন্য আলাদা কর্নার/ই-কমার্স সংযোগ।২️ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন•স্কুলছুট মেয়েদের পুনরায় শিক্ষায় ফেরানো।•ডিজিটাল শিক্ষা ও ফ্রি কোচিং সাপোর্ট।•উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের স্কলারশিপের ব্যবস্থা বাড়ানো।৩️ নারী ও শিশুর নিরাপত্তা•বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর মনিটরিং।•থানায় ও প্রশাসনে নারী সহায়তা ডেস্ক সক্রিয়করণ।•সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও আইনি সহায়তা সেল গঠন।৪️ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন•মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা জোরদার।•গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নারী চিকিৎসক নিশ্চিতের উদ্যোগ।•মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য করা।৫️ নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা•সংসদে নারীর অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে সোচ্চার থাকা।•এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা।•জনগণের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভা।সংরক্ষিত আসন শুধু একটি পদ নয়—এটি নারীদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করার একটি দায়িত্ব।আমি চাই, আমার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে যে সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরাও উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারেন।পিএম
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
রাজধানীতে প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৮
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডে প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৮ জন দগ্ধ হয়েছে।সোমবার (০২ মার্চ) বিকেলে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।দগ্ধরা হলেন- মো. তারেক রহমান (২৩), মো. মনা (৪০), মিরাজ (৩৬), রেহান বাদল (২৩), মো. জনি (৩৫), মো. আকাশ (২৫), মো. আজাদ (৫৫) ও ইরফান (১১)।জাতীয় ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ অবস্থায় আটজনকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুজনকে ভর্তি দেওয়া হয়েছে।এমআর-২
বায়তুল মোকাররমের পাশ থেকে কাটা হাত-পা উদ্ধার
ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পাশ থেকে দুটি কাটা হাত এবং স্কাউট ভবনের পাশ থেকে একটি কাটা পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওবায়দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির দেহের অংশ এগুলো।শুক্রবার রাত ২টার দিকে পা এবং শনিবার সকালে কাঁটা দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ।পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান বলেন, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও উত্তর গেটের মাঝামাঝি এলাকায় রাস্তায় বিচ্ছিন্ন দুই হাত পাওয়া যায়। এছাড়া স্কাউট ভবনের সামনের রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিচ্ছিন্ন পা।তিনি আরও জানান, পরে হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জানা যায়, ওবায়দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির দেহের অংশ এই হাত ও পা। তার বাড়ি নরসিংদী শিবপুর উপজেলায়। দেহের অংশ বিশেষ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।এমআর-২
রাজধানীতে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা
ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তের জন্য ওই ছাত্রীর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাজারীবাগ এলাকার হায়দার হোটেলের গলির ভেতরে ওই ছাত্রীর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের শিকার ছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি রায়েরবাজার হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। তার বাবার নাম বিল্লাল হোসেন। সে হাজারীবাগের হায়দার হোটেলের পাশে একটি ভবনে পরিবারের সঙ্গে থাকত।পুলিশ জানায়, ওই ছাত্রীকে পিঠের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে স্বজনরা উদ্ধার করে, প্রথমে শিকদার মেডিকেলে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের কবর্ত্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কী কারণে এমন ঘটনা, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি। এফএস
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিচয় পেয়েও সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করার সময় বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর লাঠিচার্জ করে একদল পুলিশ সদস্য। বারবার নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ।জনগুরুত্বপূর্ণ এই অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভ করছিলেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইভ চলাকালীন কোনো উসকানি ছাড়াই একদল পুলিশ সদস্য এসে তোফায়েলকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পুলিশ। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং একের পর এক লাঠির আঘাত করা হয়।ঘটনাস্থলে উপস্থিত আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসের আহম্মেদ রিপন বলেন, ‘পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তোফায়েলকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এতটাই মারমুখী ছিলেন যে, তারা আমাদেরও লাঠিপেটা করে।’পুলিশের পিটুনিতে গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।মাথায় ও পিঠে আঘাতের ফলে তার রক্তক্ষরণ হয়। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের (লাঠি) আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অপেশাদার আচরণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে সংবাদকর্মীদের ওপর এমন হামলাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘যেহেতু ভিডিও ফুটেজ আছে, তাই ভিডিও দেখে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন আক্রমণ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল। তারা অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।অপরাধ দমনের নামে পুলিশের এমন ‘বেপরোয়া’ আচরণ খোদ বাহিনীর ইমেজকে সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয়। তাছাড়া অতি উৎসাহী এসব পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।এবি
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
রাজধানীর হাজারীবাগে একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- শেখ রোমান (৩৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২) ও তাদের ছেলে রুহান (৩), ও রোমানের শ্যালক অপু (২৩)। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়েছে।দগ্ধ রুমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তিনি একটি রিয়েল এস্টেট কম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকেন। দগ্ধ রোমানের ভাই মামুন বলেন, পূর্ব রায়েরবাজারের একটি ৬ তলা ভবনের নিচতলায় ভোর ৪টার দিকে রান্না করতে গ্যাসের চুলা জ্বালালে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে র্তি করা হয়।বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, দগ্ধ ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে শেখ রোমানের শরীরের ৭০ শতাংশ, পিংকি আক্তারের ৭৫ শতাংশ, রুহানের শরীরের ৩৫ ও অপুর শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।এমআর-২
নড়াইলে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর বড়কালিয়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক ইজারাদারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দুপুরে অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাস। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার কাজিরপাগলা এলাকার আজিজুল হককে (৫৪) এ জরিমানা করা হয়। তিনি সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী বিশ্বাস বলেন, “সংশ্লিষ্ট ইজারাদার কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের বৃ-হাচলা মৌজায় ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে বড়কালিয়া এলাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহনের চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে বালুকাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে দুই লাখ টাকা জরিমানাসহ অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এসআর
বঙ্গোপসাগর থেকে অবৈধ তিন ট্রলিং বোটসহ ৩৭ জেলে আটক
বঙ্গোপসাগরে অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় তিনটি আর্টিসানাল ট্রলিং বোটসহ ৩৭ জন জেলেকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বুধবার বিকেলে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট দিয়ে মাছ ধরছিলেন জেলেরা। এ সময় কোস্ট গার্ডের টহলরত জাহাজ সিজিএস সোনারবাংলা অভিযান চালিয়ে এফবি মায়ের দোয়া-২৭, সীমা-০২ ও আসমা নামের তিনটি বোটসহ জেলেদের আটক করে।তিনি আরও জানান, আটক করা বোটগুলো বৃহস্পতিবার বিকেলে মোংলায় আনা হয়। পরে মোংলা ফেরিঘাট এলাকায় এনে তিনটি বোট ও ৩৭ জেলেকে থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।আটক বোটে থাকা মাছের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে মাছ নিলামে বিক্রি করা হতে পারে অথবা এতিমখানায় দেওয়া হতে পারে।মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।এসআর
শৈলকুপায় বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ট্রাকে ধাক্কা, আহত ১০
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ এলাকার জেভি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে কুষ্টিয়া থেকে গড়াই পরিবহনের একটি বাস খুলনা যাচ্ছিলো। পথে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ জেভি ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে বাসটি একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে যায়। সেসময় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা বালি বোঝায় ড্রাম ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত গতি আর ওভারট্রেকিং করার কারণে এই দূর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এসআর
সংবাদ প্রকাশের জেরে বেনাপোলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
বেনাপোল স্থলবন্দরকে ঘিরে চাঁদাবাজি, দালালি ও নানা অনিয়ম সংক্রান্ত ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর অপপ্রচারের মুখে পড়েছেন দৈনিক যুগান্তর-এর বেনাপোল প্রতিনিধি কামাল হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিকৃত ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদা শারমিন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।অভিযোগ রয়েছে, মামলা ও চার্জশিটের পরও সংশ্লিষ্ট একটি চক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে গত ২০ জানুয়ারি বেনাপোল রহমান চেম্বারের দি সান রুফে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে ব্যবসায়ী নেতারা চাঁদাবাজি, পাসপোর্ট দালালি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে ধরেন।সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিক কামাল হোসেনকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে। তাদের দাবি, সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তাদের সম্মানহানি হয়েছে।বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান মতি ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়াসহ সংগঠনের নেতারা বলেন, বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় ওই চক্র সাংবাদিক কামালের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তার প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে আগের মতো প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেই তারা সংগঠিতভাবে অপপ্রচারে নেমেছে।অভিযোগ রয়েছে, নামসর্বস্ব নিউজ পোর্টাল, ভুয়া ফেসবুক আইডি ও অজ্ঞাত পরিচয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাংবাদিক কামাল হোসেনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। বিকৃত তথ্য পরিবেশন, ভিত্তিহীন অভিযোগ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্যের মাধ্যমে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।বিষয়টি নজরে আসার পর কামাল হোসেন যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি জিডিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, কামাল হোসেন দীর্ঘ এক যুগ ধরে যমুনা টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর-এ দায়িত্ব পালন করছেন। বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন সাংবাদিক।সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে একজন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে সংগঠিত অপপ্রচার কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।ইখা
নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক বিজিবি সদস্য নিহত
নড়াইলে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নড়াইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় যশোর-নড়াইল-কালনা-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের নাম বুলবুল আক্তার (৬৪)। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে। বর্তমানে তিনি নড়াইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় বসবাস করতেন।স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে মোটরসাইকেলযোগে বাসা থেকে বের হয়ে পাশের সড়ক যশোর-নড়াইল-কালনা-ঢাকা মহাসড়কে ওঠার সময় যশোর থেকে ছেড়ে আসা লোহাগড়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন বুলবুল আক্তার। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।ইখা
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার তৈরি, চট্টগ্রামের ‘শপিং ব্যাগ’ সুপারশপকে জরিমানা
চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত এবং খাবারে অননুমোদিত রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের দায়ে ‘শপিং ব্যাগ’ সুপারশপকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এই দণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কাজীর দেউড়ি এলাকার সুপরিচিত এই সুপারশপের ভেতরে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিপুল পরিমাণ ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছিল। রান্নাঘরের মেঝে ছিল অপরিচ্ছন্ন এবং খাদ্য সংরক্ষণে কোনো স্বীকৃত স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি কর্মীরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই খাদ্য প্রস্তুতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।অভিযানের সময় খাবারে সুগন্ধি হিসেবে কেওড়াজলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব উপাদান অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহৃত হলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা জানান, “প্রতিষ্ঠানটিতে অত্যন্ত নিম্নমানের পরিবেশে ইফতার তৈরি এবং খাবারে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম পাওয়া গেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”নগরের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান হলেও ‘শপিং ব্যাগ’-এর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করোনা মহামারির সময় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে কর্মী পরিবহনের দায়েও প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছিল। এছাড়া অবকাঠামোগত ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন ভোক্তারা।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নগরের বিভিন্ন বাজার, সুপারশপ ও রেস্তোরাঁয় ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য রোধে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান আরও জোরদার করা হবে।এনআই
ফটিকছড়িতে প্রধান শিক্ষক ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বকেয়া বেতন ও বিল সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে করোনেশন মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য পুরো কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, করোনেশন মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন একটি পুরোনো বিল উত্তোলনের উদ্দেশ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যান। সেখানে বিলের নথিপত্রে কিছু আইনি জটিলতার বিষয় তুলে ধরেন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন।ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, “বেতন সংক্রান্ত বিল ফরম নিয়ে অফিসে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিলটি নিষ্পত্তি না করে বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছিল। এতে আমি বিরক্ত হয়ে বিল ফরম নিয়ে চলে আসতে চাইলে আমাকে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।”অন্যদিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম দাবি করেন, “জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ের কিছু বিল নিয়ে তিনি এসেছিলেন, যার সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় আমরা তা গ্রহণ করতে পারিনি। পরে তিনি অফিস থেকে কিছু নথি নিয়ে জোরপূর্বক চলে যেতে চাইলে আমরা বাধা দেই। এতেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।”উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হিসাবরক্ষণ অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মো. ইব্রাহিম জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে দুই পক্ষই নিজেদের ভুল উপলব্ধি করে একে অপরের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এনআই
সুবর্ণচরে এইচএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে চরজব্বর ডিগ্রি কলেজের মূল ফটকে তালা দিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে কলেজ প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চরজব্বর ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ৪৫০ টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার ২৫০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ৫০০ টাকার স্থলে ৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও দ্বিগুণ ফি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তাঁরা।শিক্ষার্থীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে চলে আসা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তাই বাধ্য হয়েই আজ তাঁরা কলেজের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।টানা দুই ঘণ্টা বিক্ষোভের পর দুপুর ১২টার দিকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন এবং আন্দোলন স্থগিত করেন।চরজব্বর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জামশেদুর রহমান কিসলু জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে কলেজের সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।এনআই
প্রেমের ফাঁদ ও ভিডিও ফাঁসের হুমকি, কারাগারে জামায়াত নেতা
কক্সবাজারে প্রবাসীর স্ত্রীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি আইনের এক মামলায় জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।অভিযুক্ত সাইদুল আরেফিন মিরাজ (২৮) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল আলমের ছেলে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় শাখার অর্থ সম্পাদক বলে জানা গেছে।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন উখিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম গিয়াস উদ্দিন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী পেনাল কোড ১৮৬০–এর ৪০৬, ৪২০ ও ৪৯৩ ধারার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২–এর ৮ (১) ও ৮ (২) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী নারী প্রথম স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সাইদুল আরেফিন মিরাজ তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং প্রতারণামূলকভাবে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১৮ দিন আমাকে কক্সবাজার শহরের একটি ভাড়া বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল। প্রতারণার মাধ্যমে আমার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাও নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও যাচাই–বাছাই করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।পিএম
মিরসরাইয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর নিজামপুর রেলস্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজামপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মোঃ বেলাল হোসেনের নির্মাণাধীন নতুন বাড়িতে কাজ করছিলেন সাইফুল। কাজ করার সময় হঠাৎ মাচা ভেঙে পড়ে গেলে তিনি পাশের বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে পড়েন। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সীতাকুণ্ড মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত সাইফুলের প্রতিবেশী মোঃ নুর নবী জানান, সাইফুল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার স্ত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।এ বিষয়ে নিজামপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রশিদ বলেন, “মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর খবর শুনেছি। আমি বর্তমানে মামলার কাজে কোর্ট বিল্ডিংয়ে আছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”এসআর
ঈদ উপলক্ষে বাসা ভাড়া নিয়ে চুরি ও ছিনতাই করেন তারা!
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঈদ উপলক্ষে ভিড় জমে বিভিন্ন হাট বাজারে। ভিড়কে পুঁজি করে সক্রিয় নারী চোর চক্রের সদস্যরা। নারী ক্রেতাদের টার্গেট করে ফাঁদে ফেলে বিশেষ কৌশলে স্বর্ণালংকার ও ব্যানিটি ব্যাগ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। বুধবার (৪ মার্চ) ভৈরব বাজারের সাপ্তাহিক হাটে এক নারী ক্রেতাকে ফাঁদে ফেলে গলা থেকে ছিনিয়ে নেয় ৭ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন। এঘটনার সাথে জড়িত দুইজন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব শহর ফাঁড়ি থানা পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকার কেনু মিয়ার মেয়ে লায়লী বেগম ওরে ফাতেমা (২৮) ও একই এলাকার সাদেক মিয়ার মেয়ে আমেনা বেগম ওরফে হালেমা বেগম (৩৫)। তারা ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডিবের কালা মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, বুধবার দুপুরে রীনা বেগম নামে এক নারী ঈদ শপিংয়ের জন্য ভৈরব বাজারে যায়। জামে মসজিদ রোড এলাকায় ৪/৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র চারদিক দিয়ে ঘিরে রীনা বেগমকে ফাঁদে ফেলে তাঁর গলা থেকে ৭ আনা ওজনের একটি চেই ছিনিয়ে নেয়। এসময় রিনা বেগমের চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয়রা দুই নারীকে আটক করে। খবর পেয়ে শহর ফাঁড়ি পুলিশ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে থানা আনে। ফাতেমা বেগম নামে এক ছিনতাইকারীর সাথে তাঁর একটি শিশু সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিনা বেগম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় মামলা দায়ের করেছেন।ওসি আরো জানান, এই নারী চক্র পকেট মারার কাজেও বেশ অভ্যস্ত। এসব নারীরা সঙ্গে ছোট শিশুদেরও রাখে। মানুষকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করতে তারা শিশুদের সাথে রাখে। এমনকি কখনো ভাড়া করা শিশু এনেও সঙ্গে রাখেন। এতে তাদের ভাল পরিবারের মতোই মনে হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নারী চক্রটি হবিগঞ্জ থেকে এসেছে। তারা পৌর শহরের চণ্ডিবের এলাকায় একমাসের জন্য একটি বাসা ভাড়া নিয়েছে। সঙ্গবদ্ধ চক্রকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।পিএম
পাগলা মসজিদে নিলাম সিন্ডিকেটের হামলায় দুই সাংবাদিক আহত
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের নিলাম ডাকের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছে। এ সময় স্থানীয় নিলাম সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের ওপর এ হামলা চালায়।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) আসরের নামাজের পর মসজিদের নিলাম ঘরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই সাংবাদিক আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আহতরা হলেন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আলম ফয়সাল (৩৭) এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু (৪২)। তারা দুজনই কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।জানা গেছে, প্রতিদিন আসরের নামাজের পর পাগলা মসজিদের দানের বিভিন্ন সামগ্রী নিলামে তোলা হয়। এই নিলামকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কম দামে এসব দানের সামগ্রী ক্রয় করে আসছিল। ওই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান দুই সাংবাদিকসহ চারজন সংবাদকর্মী।এ সময় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের লোকজন হঠাৎ করে মব সৃষ্টি করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে খায়রুল আলম ফয়সাল ও ফয়জুল ইসলাম ভূইয়া পিংকু গুরুতর আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় মসজিদের দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তি তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেননি। বরং তাদের কেউ কেউ ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে মসজিদের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সহায়তায় আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি নূর মোহাম্ম্মদ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। অবিলম্বে জড়িত সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন।পিএম
মানিকগঞ্জে সরকারি অফিসে সময়সূচি মানছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
মানিকগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সরকার নির্ধারিত অফিস সময়সূচি মানছেন না অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে এর তার প্রমাণ মিলেছে। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত পরিদর্শনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ মৎস্য, সমাজসেবা, সমবায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, এলজিইডি, কৃষি, দারিদ্র্য বিমোচন, আনসার ভিডিপি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ অন্তত ১৩টি সরকারি দপ্তর রয়েছে। পরিদর্শনকালে নির্ধারিত সময়ে অফিসে পাওয়া যায়নি সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া জামান রত্না, সমবায় কর্মকর্তা রিনাৎ ফৌজিয়া, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলী নূর, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. রইসুল আরেফিন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানাকে।এ বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া জামান রত্না জানান, তিনি একদিনের ছুটিতে থাকায় অফিসে আসেননি।সমবায় কর্মকর্তা রিনাৎ ফৌজিয়াকে বেলা ১২টার দিকেও অফিসে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তিনি অফিসে এসেছিলেন এবং পরে অফিসিয়াল কাজে বাইরে গেছেন। তবে অফিসের এক স্টাফ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কর্মকর্তা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সাংবাদিকদের কারণে তিনি ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। এছাড়া ওই অফিসে তার অধীনে একজন মাত্র স্টাফ কর্মরত রয়েছেন।এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. রইসুল আরেফিন ছুটিতে আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী লুৎফর রহমান।অন্যদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে আসেন। তিনি জানান, তিনি নিয়মিত সাভার থেকে অফিস করেন এবং সড়কে যানজটের কারণে তার দেরি হয়েছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলী নূর মোবাইল ফোনে জানান, ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে অফিসে এসেছেন।সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়সূচি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, সেবাপ্রার্থীরা সময়মতো কর্মকর্তা না পেলে সরকারি সেবা গ্রহণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।এসআর
সিরাজদিখানে অবৈধ ভাট্টি কারখানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটি অবৈধ ভাট্টি কারখানা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের গুয়াখোলা গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বারি। এ সময় পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ওই অবৈধ ভাট্টি কারখানাটি ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট মো. সানোয়ার, সিরাজদীখান থানা পুলিশের সদস্যরা এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বারি বলেন, জনবসতি এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ভাট্টি কারখানা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।এসআর
পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ: জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন
অবৈধভাবে খাল ভরাট ও ড্রেন–কালভার্ট বন্ধ করে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখা ও সদর উপজেলার সতাল এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় মূল সতাল ভট্টাচার্য্যপাড়া এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাল ও নর্দমা ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও নর্দমা পুনঃখনন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তারা।বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের বসবাসকারী সতাল ভট্টাচার্য্যপাড়া এলাকায় তিন বছর আগে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল ও ড্রেন–কালভার্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। ফলে এলাকার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা কমতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগে। এতে শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।এলাকাবাসী জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য তারা একাধিকবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। খাল ও নর্দমা পুনঃখনন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানালেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমরা আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আজ এই প্রতিবাদে নেমেছি। আমরা আশ্বাস নয়, স্থায়ী সমাধান চাই।”কর্মসূচিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, প্রভাবশালীরা সরকারি জায়গায় অবস্থিত খাল, ড্রেন ও নর্দমা ভরাট করে বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছে। এর ফলে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।বাপা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদা বেগম বলেন, অবৈধভাবে খাল ভরাট ও ড্রেন–কালভার্ট বন্ধ করার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। বর্ষা মৌসুমে মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গিয়ে মানুষের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে। একটি প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ তৈরি করছে।ইখা
সরকারি ঘোষণার পরও সকাল ৯টায় সেবা শুরু হয়নি গৌরনদী উপজেলা কার্যালয়ে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে সরকারি দপ্তরে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বরিশালের গৌরনদী উপজেলা কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে অধিকাংশ অফিস বন্ধ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গৌরনদী উপজেলা পরিষদের একাধিক দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা যায়।সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে টানা ৪০ মিনিট সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়ার কথা। যাতে সেবা নিতে এসে কেউ হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন এমন নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।যেসব দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, পিআইও অফিস, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ আরও কয়েকটি দপ্তর।তবে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে উপজেলার এলজিইডি কার্যালয়ে। সেখানে প্রকৌশলী অহিদুর রহমানকে সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ করতে দেখা যায়।অন্যান্য অনেক কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া না গেলেও যাদের পাওয়া গেছে, তাদের মাধ্যমে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের কাজও সম্পন্ন হয়নি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসের নাজির সাইদুল ইসলাম সাঈদের সঙ্গে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কথা হলে তিনি বলেন, “স্যার এখনো অফিসে আসেননি, হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবেন।”পিআইও অফিসের এক অফিস সহায়ক, মৎস্য অফিসের মাঠ সহকারী খাদিজা এবং উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মচারী আয়া নাসিমাও একই ধরনের কথা জানান।এদিকে আইসিটি কর্মকর্তাকে নৈমিত্তিক ছুটিতে থাকায় তাকেও অফিসে পাওয়া যায়নি।সেবা নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী তারা সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে এসেছেন যাতে দ্রুত কাজ শেষ করে ফিরতে পারেন।এ বিষয়ে শেফালী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের ভুল সংশোধনের আবেদনের সুপারিশ নিতে এসেছি। এরপর আমাকে বরিশাল যেতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেবা না পেলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।”এদিকে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহিম হোসেনও নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।ইখা
পটুয়াখালীতে যুবদল নেতাকে বহিষ্কার
দলীয় শৃ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জহিরুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সালিশের নামে এক যুবককে মারধরের ঘটনায় তার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এ প্রেক্ষাপটে দলীয় নীতি-আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে কেন্দ্রীয় কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে জানানো হয়।ইখা
হিজলায় জাটকা নিধনবিরোধী অভিযান, ২৪ জেলের জরিমানা
জাটকা ইলিশ রক্ষায় দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বরিশালের হিজলা উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। বুধবার (৪ মার্চ) মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম ও এর শাখা নদীগুলোতে দিনভর অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা শিকারের দায়ে ২৪ জেলেকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।বুধবার রাতে হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাটকা রক্ষায় বর্তমানে মেঘনা নদীর ৮২ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম হিসেবে মাছ শিকার নিষিদ্ধ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় মেঘনা নদী থেকে ৫৫ হাজার মিটার কারেন্ট জালসহ ২৪ জেলেকে আটক করা হয়।পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও হিজলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল আটক জেলেদের মোট ৪১ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে ১৭ জনকে ২ হাজার টাকা করে এবং বাকি ৭ জনকে ১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা পরিশোধ ও মুচলেকা নিয়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত কারেন্ট জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।এর আগে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হিজলা উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। জরিমানা পাওয়া জেলেরা হলেন—বশির আকন, নাজমুল, আরিফ হোসেন, সাইদুল ঢালী, ফরিদ সরদার, মো. শাহীন, মোহাম্মদ আলী, দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহাগ, সাগর হোসেন হাওলাদার, ইয়াছিন মোল্লা, খলিলুর রহমান, আবু হানিফ, বাবুল হোসেন, মো. হারুন, মো. নাইম, মো. সবুজ, নজরুল ইসলাম, মো. রাকিব, মো. সজিব, মো. বাকের ঢালী, মো. মনির, বাকের বিশ্বাস ও আজাদ।উল্লেখ্য, বরিশালের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং জাটকা নিধন রোধে প্রশাসনের এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে।এনআই
বরিশালের অর্ধশতাধিক যুবকের ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন লিবিয়ায় বন্দি
বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তত অর্ধশতাধিক যুবকের ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন এখন লিবিয়ায় বন্দি। দালালের খপ্পরে পড়ে জিম্মি অবস্থায় সেখানে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুক্তিপণ দিয়ে ১৫ যুবক দেশে ফিরলেও বাকিদের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত।ইতালি পাঠানোর নামে পাচার করে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণসহ প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা মেহেদী হাসান খান, আব্দুল হামিদ ও আব্দুর রহিম সরদার বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।আদালতের নির্দেশে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ মামলাগুলো নথিভুক্ত করেছে। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন—গৌরনদী উপজেলার জামাল মোল্লা (৫০), তাঁর দুই ইতালি প্রবাসী ছেলে জাকির মোল্লা (৩৫) ও সাকিব মোল্লা (৩৩) এবং জামালের দুই শ্যালক বাবুল বেপারী (৪৫) ও হাবুল বেপারী (৪২)। বর্তমানে জামাল মোল্লা ও তাঁর দুই শ্যালক কারাগারে রয়েছেন। তবে দুই ছেলে বিদেশে থাকায় তদন্তে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।বাদীদের ভাষ্যমতে, ‘বৈধ ওয়ার্ক পারমিট’ ও ‘মোটা অঙ্কের বেতনের’ প্রলোভন দেখিয়ে জামাল মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা জনপ্রতি ১৬ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেন। বিশ্বাস জোগাতে প্রায়ই ভিডিও কলে ইতালি প্রবাসী ছেলেদের সাথে কথা বলিয়ে দেওয়া হতো। এরপর গত ২৬ আগস্ট ভুক্তভোগীদের ইতালি পাঠানোর নাম করে সৌদি আরব ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। সেখানে ঠিকমতো খাবার না দিয়ে চলে অবর্ণনীয় নির্যাতন। পরবর্তীতে লিবিয়ার পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান জানান, লিবিয়ার কারাগারে থাকাকালীন দালালেরা তাঁর পরিবারের কাছে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়। জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে সেই টাকা দেওয়ার পর গত ৪ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।লিবিয়াবন্দি যুবকদের অভিভাবকদের তথ্যমতে, গৌরনদীর জাকির মোল্লা, বগুড়ার সাজু ও কুষ্টিয়ার লিটনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বড় চক্র কয়েক জেলার ১০৮ জন যুবককে জনপ্রতি ১৫-১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালি পাঠানোর পথে পা বাড়ায়। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনটি স্পিডবোটে করে লিবিয়া থেকে ইতালির পথে রওয়ানা হলে কোস্টগার্ড তাঁদের আটক করে। বর্তমানে ফিরে আসা ১৫ জন বাদে বাকিরা এখনো দালালের জিম্মায় বা কারাগারে আটকে আছেন।গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, দুটি মানব পাচার মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তিনজন আসামি কারাগারে আছেন এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আগৈলঝাড়া থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পলাতক ও বিদেশে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের প্রভাবে অকার্যকর দেড় হাজার নলকূপ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকহারে নিচে নেমে গেছে। এতে ওই উপজেলার পাঁচটি এলাকার প্রায় ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৯৪ জন মানুষ সুপেয় পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, চাষাবাদের জন্য সাবমারসিবল সেচ পাম্প দিয়ে অবৈধভাবে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে হস্তচালিত প্রায় দেড় হাজার নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কৃষকদের ভাষায়, পাশ্ববর্তী খালে পানি থাকায় ভূগর্ভস্থ থেকে সাব মারসিবল সেচ পাম্প দ্বারা উত্তলিত পানি কৃষি জমিতে ব্যবহার করছে।উপজেলা বিএডিসি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জিন্নাগড়, মাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভায় বেসরকারীভাবে ১০০ সাব মারসিবল সেচ পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প থেকে কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন আট ঘন্টায় গড়ে ৮ লাখ ৬ হাজার ৪০০ লিটার পানি উত্তোলন করা হয়।সুপেয় পানির সংকটে পড়া এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, আগে যেখানে হস্তচালিত টিউবওয়েল থেকে সহজেই সুপেয় পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে কয়েক মিনিট চাপ দিলেও পানি উঠছে না। কৃষিকাজ, মাছের ঘের এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অনেকেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছেন। এসব পাম্প ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। গত কয়েক মাস থেকে এ সমস্যা প্রকট হয়েছে। অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্ত থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বাজার এলাকাতেও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।এদিকে কৃষকরা তাদের বোরো আবাদের জন্য প্রতিনিয়ত সাব মারসিবল পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করছে। এছাড়াও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গভীর নলকূপে শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে অতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছেন। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর প্রভাবে আশপাশের গভীর টিউবওয়েলগুলোতে পানি উঠছে না। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তাদের পক্ষে মোটরচালিত পাম্প ব্যবহার করা সম্ভব নয়।চর মাদ্রাজ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আগে আমাদের বাড়ির টিউবওয়েলে সারাবছর পানি থাকত। এখন এক ফোঁটাও উঠছে না। পাশের বাড়িতে গভীর নলকূপে সাব মারসিবল পাম্প বসানোর পর থেকেই এই সমস্যা শুরু।'একই অভিযোগ করেছেন জিন্নাগড় এলাকায় বাসবাসকারী গৃহিণী নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, 'বিলের মধ্যে অবৈধভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে পানি উত্তোলনের ফলে আমাদের নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ভোরে দূরের একটি নলকূপ থেকে পানি আনতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর। এমনকি অনেক সময় পুকুরের পানি পান করতে হচ্ছে এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।'সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনকারী জিন্নাগড় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক কেরানী বলেন, 'খাল শুকিয়ে যাওয়ায় আমরা বিকল্প পদ্ধতিতে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তলন করতে বাধ্য হয়েছি। বোরোর আবাদ বাঁচাতে সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছি।'উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্যমতে, একই এলাকায় একাধিক গভীর নলকূপ ও শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহারের কারণে অগভীর টিউবওয়েলগুলো অচল হয়ে পড়ছে। চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৭৩টি হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল ও ২২২টি অকেজো রয়েছে। অদ্য পর্যন্ত ২৮টি মেরামত করা হয়েছে। তবে হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য মতে ১০ হাজার ৭৩টি হলেও সরেজমিনে এর পরিমাণ প্রায় চারগুণ। এ উপজেলার ৬০ শতাংশ বাসিন্দা নিজস্ব অর্থায়নে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাসিন্দার নলকূপ অকেজো রয়েছে।জিন্নাগড় ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি জামাল মোল্লা বলেন, 'অপরিকল্পিতভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অনুমতি বা পরিবেশগত যাচাই ছাড়াই সাব মারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।'উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, 'নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ পুকুর, খাল বা দূষিত উৎসের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।'উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, 'জানুয়ারীর পর যখন সেচকাজের জন্যে পানি উত্তোলন শুরু হয় তখন পানির স্তর দ্রুত হারে নামতে থাকে। অবৈধভাবে স্থাপন করা সাব মারসিবল পাম্পগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করলে সুপেয় পানির সাম্প্রতিক সংকট থেকে সাধারণ মানুষ রেহায় পেত।'উপসহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) আরিফ হোসেন বলেন, 'সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে স্থাপিত সাব মারসিবল পাম্পগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'এসআর
এএমআর ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাকৃবিতে ‘ক্লাইমেট-স্মার্ট’ গবেষণা প্রকল্প
বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, যা পশুপালন ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ফেলছে চরম ঝুঁকির মুখে। এই জটিল ও আন্তঃসম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট-স্মার্ট’ বা জলবায়ু সহনশীল কৌশল উদ্ভাবনে নতুন একটি গবেষণা প্রকল্প শুরু করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এক ইনসেপশন কর্মশালার মাধ্যমে গবেষণা প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ‘ওয়ান হেলথ কাঠামোর মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ পরিবেশ ব্যবস্থায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলা ও খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষায় ক্লাইমেট-স্মার্ট কৌশল’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগ।বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘হিট’ প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণাটি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাণিসম্পদের মাধ্যমে মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে এএমআর ও ভারী ধাতব দূষণ কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধান করা।কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান ব্যবস্থাপক ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমূদুল হাসান শিকদার। তিনি বলেন, “তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার কারণে খামার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসছে, যা রোগজীবাণুর ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে খামারিরা অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার করছেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মানবদেহে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ছে।”তিনি আরও জানান, এই গবেষণার মাধ্যমে সমস্যার কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি টেকসই সমাধানও খোঁজা হবে। প্রকল্পের আওতায় ‘ক্লাইমেট-স্মার্ট’ প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল উদ্ভাবন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা, অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে প্রোবায়োটিক ও উদ্ভিদজাত ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং প্রাণিজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নত মডেল তৈরি।ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গবেষণার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায় থেকেই গবেষণামুখী করে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত; একটির সংকট অন্য দুটিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।ফার্মাকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান এবং বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান।গবেষকরা আশা করছেন, ২০২৮ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের ফলাফল দেশের প্রাণিসম্পদ নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পথ সুগম করবে।ইখা
বাউফলের আগাম জাতের তরমুজ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল এলাকার উর্বর জমি আর অনুকুল আবহাওয়ার কারণে আগাম জাতের তরমুজ ভালো ফলন হয়েছে। রমজান উপলক্ষে বাজার দর ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় চাষ হওয়া আগাম জাতের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বাউফলে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর আগাম জাতের। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়তদাররা ভীর করছেন উপজেলার তরমুজ চাষিদের কাছে। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময় থেকেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে এ তরমুজ, যা ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, কুষ্টিয়া ও সিলেট অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।উপজেলার তেতুঁলিয়া নদীর তীরবর্তী চরবেষ্ঠিত চন্দ্রদ্বীপ, কালাইয়া, কেশবপুর, নাজিরপুর, ধুলিয়া এলাকায় ব্যাপক ভাবে চাষ হয়েছে তরমুজ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমে ফলনও ভালো হয়েছে।চন্দ্রদ্বীপের কৃষক মো. সিদ্দিককুর রহমান বলেন, ৩ একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। প্রতি একরে তার সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে ১লাখ ৩৫ হাজার টাকা। প্রতি একরে গড়ে ১৪০০ থেকে ১৫০০ পিচ তরমুজ পাওয়া যায়। রমজানে তরমুজের চাহিদা বেশি থাকায় আড়তদাররা প্রতি একর তরমুজ খেত সারে ৩ থেকে ৪লাখ টাকায় কিনে নিচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে বিগত বছরের চেয়ে ভালো লাভে আশা করছেন তিনি।চরকালাইয়া এলাকায় আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন মো. হান্নান প্যাদা। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে ৪ একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। রমজান উপলক্ষে ঢাকার এক আড়ৎদারের কাছে চার একর খেতের সব তরমুজ ঠিকা বিক্রি করে দিয়েছে। তাতে তার বিগত বছরের চেয়ে বেশি লাভ হয়েছে।খুলনা থেকে তরমুজ কিনতে এসেছেন আড়তদার সাহেব আলী প্যাদা বলেন, বাউফলের তরমুজের স্বাদ ও মিষ্টতা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি খেতে এসে কিনছেন।ঢাকার কাওরান বাজার থেকে বেপাড়ি আব্দুল গনি সিকদার বলেন, বাউফলের চরাঞ্চলের এলাকার তরমুজ সুমিষ্ট কয়েকবছর ধরে এই এলাকায় আসি তরমুজ কেনার জন্য। বিশেষ করে আগাম জাতের তরমুজ।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, বাউফলের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ সরবরাহ ও নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়ার ফলে আগাম উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এসআর
জামালপুরে বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
জামালপুরের মেলান্দহে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত সাইম (২২) নামে অপর মোটরসাইকেলচালক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বুধবার (০৪ মার্চ) রাত ২টার দিকে মেলান্দহ পৌর এলাকার মিয়ারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন, মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌরসভার ঢালুয়াবাড়ী এলাকার ধীরেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে কাজল মিয়া (৪২) ও তার ভাতিজা উজ্জল মিয়ার ছেলে আকাশ মিয়া (২০)। তারা দুজনেই হাজরাবাড়ী বাজারে একটি সেলুনে কাজ করতেন। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, রাত ২টার দিকে মাহমুদপুর এলাকায় একটি বিয়ের দাওয়াত শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন কাজল মিয়া ও আকাশ মিয়া। পথে মিয়া পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আকাশ মিয়া মারা যান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা কাজল মিয়াকে উদ্ধার করে মেলান্দহ হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠায়। পরে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।রাতেই ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মোটরসাইকেলদুটি ও মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলে ও অপরজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে বাইক দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এসআর
ত্রিশালে পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিলেন সংসদ সদস্য ডা. লিটন
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে একটি পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ত্রিশাল আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। একইসঙ্গে ত্রিশালকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান, ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান মৃধা, ত্রিশাল থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা রুবেল, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মুজিব এবং কাঁঠাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।সভায় বক্তারা এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ছিনতাই রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, সামাজিক অপরাধ নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।এনআই
হাসপাতাল থেকে কোনো রোগী যেন চিকিৎসা ও ওষুধ ছাড়া না ফেরে: ডা. লিটন
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেছেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার কোনো রোগী যেন চিকিৎসা এবং ওষুধ ছাড়া হাসপাতাল থেকে ফেরত না যায়। রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং তাদের পরিপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”বুধবার (০৪ মার্চ) ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে ডা. লিটন আরও বলেন, “রোগীরা যেন চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে বলতে পারে আগের চেয়ে এখনকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখানে সব ধরনের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম জিয়াউল বারীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এনামুল হক ভুঁইয়া, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মজিব প্রমূখ।এসআর
উলিপুরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, ২ লাখ টাকা জরিমানা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় অনুমোদনহীন ইটভাটার স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি ২ লাখ টাকা জরিমানা করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মেসার্স এইচবিইউ ইটভাটায় এই অভিযান চালানো হয়।জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে প্রসিকিউটর হিসেবে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। এতে জেলা পুলিশ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশ নেন।পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মেসার্স এইচবিইউ ইটভাটারবিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) লঙ্ঘনের অপরাধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতীত ইট প্রস্তুতকরণের উদ্দেশ্যে মাটি সংগ্রহ করার অপরাধে ওই ইটভাটাকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া হালনাগাদ কাগজপত্র না থাকায় ভাটাটির অবকাঠামো স্কেভেটর দিয়ে ভেঙে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'এই ইটভাটাটি আইনের কোনও ধারা অনুসরণ করে স্থাপন করা হয়নি। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) লঙ্ঘনের অপরাধে ইটভাটা মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। কৃষিজমি রক্ষা এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।'এসআর
পৌরবাসীর উন্নয়নকে পাশ কাটিয়ে পৌর প্রশাসকের বাগান বিলাস!
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভায় এডিবি অর্থায়নে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে ৫ লাখ ৫ হাজার ৫০৬ টাকা ব্যয়ে ‘উপজেলা বাগানে ওয়াকওয়ে’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবন সংলগ্ন বাগানে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় ব্লক বসিয়ে একটি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কাজটি গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সম্পন্ন করে বুঝে নেওয়া হয়। বর্তমানে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান। প্রকল্পটি তার অনুমোদনেই গৃহীত হয়।তবে প্রকল্পটির অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক পৌরবাসী। তাদের অভিযোগ, ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন সংলগ্ন বাগান এলাকায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বরাদ্দের পরিমাণ কম হলেও পৌর এলাকার সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন বা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কোনো স্থানে উন্নয়নমূলক কাজে এই অর্থ ব্যয় করা যেত। কিন্তু প্রশাসনিক আবাসনের পাশে বাগানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করায় জনস্বার্থ কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।পৌরবাসীর দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সর্বসাধারণের উপকার নিশ্চিত করা। যেখানে নাগরিকদের দৈনন্দিন চলাচল বা প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, সেখানে উন্নয়ন ব্যয় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি।উল্লেখ্য, এর আগেও সরকারি অফিসে টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও বিশেষ বিবেচনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের জন্য কম্পিউটার ও প্রিন্টার কেনার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রকল্পটি বাতিল করে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।ইখা
উলিপুরে ইটভাটায় অভিযান, জরিমানা ২ লাখ টাকা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইট তৈরি না করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় একটি ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে স্কেভেটর দিয়ে ভাটার অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের আঠারো পাইকার গ্রামে অবস্থিত 'মেসার্স এনএমবি ব্রিকস' নামে ওই ইটভাটায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।আদালত সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া ইট তৈরির উদ্দেশ্যে মাটি সংগ্রহ করায় এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) লঙ্ঘনের দায়ে মেসার্স এনএমবি ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা প্রদানের পর তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া হালনাগাদ কাগজপত্র না থাকায় স্কেভেটর দিয়ে ভাটার চুল্লিসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়।অভিযানে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। এ সময় প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম। অভিযানে জেলা পুলিশ এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহযোগিতা করেন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এনআই
উলিপুরে গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের উলিপুরে চনক্ক চন্দ্র রায় চন্দন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভেলুর খামার এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। চনক্ক চন্দ্র ওই এলাকার মৃত অলন্ত চন্দ্র রায়ের ছেলে।পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উলিপুর থানার এসআই আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভেলুর খামার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে চনক্ক চন্দ্র রায় চন্দনকে তাঁর নিজ শোবার ঘর থেকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাঁর খাটের বালিশের নিচ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে পুলিশ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ হাজার টাকা।এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”এনআই
সবুজ স্বপ্ন ভেঙে চুরমার: খানসামা উপজেলা ভবনের ছাদ বাগান এখন ধ্বংসস্তূপ
কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন একটি ছাদ বাগান। লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক ভবনকে সবুজে ঘেরা রাখা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সাধারণ মানুষকে ছাদ বাগানে উদ্বুদ্ধ করা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই উদ্যোগ আজ অবহেলা ও অদূরদর্শিতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে থাকা প্রায় দুই শতাধিক ফলদ গাছ এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।২০২১ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম–এর উদ্যোগে উপজেলা কমপ্লেক্স প্রশাসনিক ভবনের ছাদে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয় বাগানটি। সেখানে রোপণ করা হয় আম, লিচু, আপেল, পেয়ারা, মিষ্টি জলপাই, সফেদা, শরীফা, মিষ্টি তেঁতুল, লটকন, মিষ্টি কামরাঙা, জাম্বুরা, ড্রাগন ফল, কদবেল, তাইওয়ান কুল, লেবু, কমলা, মাল্টা, করমচা, চেরি ফল, জামরুল, ডালিম, বেল, ক্যাপসিকাম ও আমড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ। একসময় পুরো ছাদ জুড়ে ছিল সবুজের সমারোহ; ভবনে আগত মানুষও এমন উদ্যোগ দেখে প্রশংসা করতেন।তবে বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ গাছই মরে গেছে বা মরে যাওয়ার পথে। অনেক টব ফেটে গেছে, কোথাও মাটি শক্ত হয়ে জমাট বেঁধে আছে। সেচব্যবস্থা অচল, নিয়মিত পরিচর্যার কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই।আগাছা ছড়িয়ে পড়েছে ছাদের বিভিন্ন অংশে। যে বাগান একসময় ছিল পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের উদাহরণ, সেটিই এখন অকার্যকর প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন এত বড় ব্যয়ের পরও কেন দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি? একটি সরকারি প্রকল্প টেকসই না হলে সেই ব্যয়ের দায়ভার কে নেবে? পরিকল্পনা গ্রহণের সময় নিয়মিত তদারকি ও পরিচর্যার বিষয়টি কি গুরুত্ব পায়নি?এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন,আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই ছাদ বাগান মরুভূমির মতো অবস্থায় পড়ে আছে। গাছগুলো অনেক পুরনো হয়ে গেছে। টবের ভেতরে মাটির চেয়ে শিকড় বেশি হয়ে গেছে। এ কারণেই গাছগুলো নষ্ট হয়েছে। এখন ওই টবগুলোতে নতুন করে গাছ লাগাতে হবে।তার বক্তব্যে গাছ নষ্ট হওয়ার কারিগরি কারণ উঠে এলেও ব্যবস্থাপনার প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে। গাছ পুরনো হলে নিয়মিত মাটি পরিবর্তন, শিকড় ছাঁটাই ও সার প্রয়োগের মাধ্যমে সেগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব—এমন মত সংশ্লিষ্টদের। ছাদ বাগানের মতো প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ও নির্দিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।পরিবেশবিদদের মতে, ছাদ বাগান কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না; এটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ু বিশুদ্ধকরণ এবং ভবনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উন্নত করতেও সহায়ক। বিশেষ করে শহর ও উপজেলা পর্যায়ে সবুজায়ন বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই পরিকল্পনার পাশাপাশি ধারাবাহিক পরিচর্যা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নতুন করে গাছ লাগানোর ঘোষণা ইতিবাচক। তবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ, মাটি পরিবর্তন ও পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা না হলে একই পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সরকারি অর্থে গড়ে ওঠা এই ছাদ বাগান আজ অবহেলার কারণে অস্তিত্ব সংকটে। এখন প্রয়োজন সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি। তা না হলে কয়েক লক্ষ টাকার এই সবুজ উদ্যোগ ইতিহাসে আরেকটি ব্যর্থ প্রকল্প হিসেবেই থেকে যাবে।এসআর
বড়াইগ্রামে তালা ভেঙ্গে বাড়ি দখলের অভিযোগ
নাটোরের বড়াইগ্রামে আদালতে মামলাধীন একটি বাড়ির তালা ভেঙে প্রতিপক্ষরা দখল করে নেওয়ায় গত দুই দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ১১০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আমেনা বেগম। গত সোমবার বৃদ্ধা ও তাঁর মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগে এই দখলের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বুধবার (৪ মার্চ) থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।ভূক্তভোগী আমেনা বেগম উপজেলার মহানন্দাগাছা গ্রামের মৃত সফর উদ্দিনের স্ত্রী। সরেজমিনে বুধবার দুপুরে মহানন্দাগাছা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মূল ফটকের সামনে একটি পাটিতে শুয়ে আছেন শতবর্ষী আমেনা বেগম। পাশে বসে আছেন তাঁর ষাটোর্ধ্ব মেয়ে মনোয়ারা বেগম। বাড়ির প্রধান দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো এবং ভেতরে দখলদারদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বৃদ্ধার এই করুণ দৃশ্য দেখতে ভিড় জমিয়েছেন গ্রামবাসী।স্থানীয়রা জানান, আমেনা বেগমের মেয়ে মনোয়ারা বেগম নিঃসন্তান হওয়ায় সাথী আক্তার লিপি নামের এক শিশুকে দত্তক নেন। লালন-পালন শেষে তাঁকে পাবনার চাটমোহরে বিয়ে দেন। পরবর্তীতে মনোয়ারা তাঁর স্বামীর জমি বিক্রির টাকায় মায়ের ভিটায় একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন এবং মাকে নিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন।অভিযোগ উঠেছে, বছরখানেক আগে নাতনি লিপি নানিকে ডাক্তার দেখানোর অজুহাতে বনপাড়ায় নিয়ে কৌশলে বাড়ির জমি নিজ নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে লিপি সেই জমি একই গ্রামের আব্বাস আলীর তিন ছেলে রেজাউল করিম, নাঈম ও নাহিদের কাছে বিক্রি করে অন্যত্র চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে আমেনা বেগম আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকলেও গত সোমবার তাঁরা হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগে প্রতিপক্ষরা তালা ভেঙে বাড়িটি দখলে নেয়।কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে দেখি তারা আমাদের বাড়িঘর দখল করে নিয়েছে। অথচ বাড়ি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এই অসহায় বৃদ্ধা মাকে নিয়ে এখন আমি কোথায় যাব?”তবে অভিযুক্ত নাঈম হোসেন বলেন, “আমরা তিন ভাই টাকা দিয়ে বাড়িসহ জমি কিনেছি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দখল না ছাড়ায় আমরা নিজেরাই দখল নিতে বাধ্য হয়েছি।”বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এনআই
সিংড়ায় ইজিবাইক চুরি নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে আহত ৫
নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের কামার বড়িয়া গ্রামে ইজিবাইক চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন— মো. হানিফ (৬০), মো. বেদন (৩৫), মো. হাসান (২৮), মো. শিমুল (৩০) ও মো. আশিক (২২)। তাদের সবার বাড়ি কামার বড়িয়া গ্রামে। আহতদের মধ্যে হানিফ ও বেদন মৃত নজের আলীর ছেলে, হাসান ভুট্রুর ছেলে, শিমুল আব্দুল হান্নানের ছেলে এবং আশিক দুলালের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে একই গ্রামের মো. বায়েজিদের বাড়ি থেকে একটি ইজিবাইক চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি একই গ্রামের আলামিন (৩৫) ও পাবনা জেলার বাসিন্দা মুনির (৩৬)-এর বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় অভিযোগ করেন। মুনির বর্তমানে কামার বড়িয়া গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করেন এবং তিনি আলামিনের খালাতো ভগ্নিপতি।অভিযোগ দায়েরের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে আলামিন, মুনির ও আশিকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪–৫ জন বায়েজিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে পাঁচজন আহত হন।পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত মো. হানিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.ব.ম আব্দুন নূর জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে। ঘটনায় তিনজনের নাম পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।ইখা
মধ্যে রমজানেও ভাঙ্গুড়ায় চড়া ফলের বাজার: বিপাকে সাধারণ মানুষ
বাজারে সারা বছরই দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ফল থাকে। পবিত্র রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে পুষ্টিকর ফলের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই রোজার আগেও যে ফল সাধারণ মানুষের নাগালে ছিল, চাহিদাকে পুঁজি করে কয়েকদিনের ব্যবধানে তার দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। খুচরা বাজারে ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুর থেকে শুরু করে আঙুর, আনারস বা আপেল-সবকিছুর দামই এখন আকাশচুম্বী। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবারের মতো এবারও ফলের বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অতি মুনাফা লুটছেন ফল ব্যবসায়ীরা।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকালে সরেজমিনে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন ফলের বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি ফলের দাম কেজিতে বা ডজনে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ কলার দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। রমজানে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এক কেজি আঙুর বা আপেল কেনা এখন রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমি ও দেশি ফলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বাজারে নতুন আসা তরমুজ পিস হিসেবে নয়; বরং ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ টাকা হালির কলা এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বিদেশি ফলের বাজার আরও চড়া। ভালো মানের প্রতি কেজি আপেল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৩০০ টাকার মধ্যে। সবুজ আঙুর ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা এবং কালো আঙুর বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকা কেজি দরে। ভালো মানের মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ কেজি দরে এবং ভালো মানের ও বড় আকারের প্রতি পিছ আনারস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। দেশি বেলের দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় ওঠানামা করছে। প্রতি বছর মধ্যে রমজানে বিভিন্ন ফলের দাম কমলেও এবার রোজার দুই সপ্তাহ পার হলেও বাড়তি দাম খুব একটা কমেনি।ভাঙ্গুড়া পৌরসভার চৌবাড়ীয়া মাষ্টার পাড়া এলাকার বাসিন্দা আলহাজ্ব শেখ আব্দুস সামাদ মাষ্টার নামের এক ফল ক্রেতা জানান, পবিত্র রমজানে সব প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়া যেন এক অনিবার্য রেওয়াজ। এবারও সে একই প্রবণতা দেখা গেছে বাজারগুলোতে। রোজার অজুহাতে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া আমাদের দুষ্কর। পরিবারের সবাই রোজা রাখছেন বলেই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে বিক্রেতারা চড়া দাম আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলার ফল ব্যবসায়ীরা জানান, পবিত্র রমজান মাসে ফলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি। ইফতারে খেজুরের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, এক মাসে সারা বছরের তুলনায় অনেক বেশি বিক্রি হয়। পাইকারিতে যেমন দামে কেনা হয়, সীমিত লাভে তেমন দামেই বিক্রি করতে হয় তাদের। আড়ত থেকে দাম না কমলে খুচরা বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম জানান তারা।জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি জানান, পবিত্র রমজান মাস এলে চাহিদা বাড়ায় খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দেন। ভোক্তাদের কথা বিবেচনা করে এ বছর যাতে অতিরিক্ত বাড়াতে না পারেন, সে জন্য প্রথম রমজান থেকে সব পর্যায়ে বাজার তদারকি করা হচ্ছে।এসআর
সাপাহারে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫
নওগাঁর সাপাহারে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪৭) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে উপজেলার গোয়ালা লক্ষিতলা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার গোয়ালা খরিবোন গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে সাপাহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— গোয়ালা মাসনাতলা গ্রামের মৃত ইয়াহিয়ার ছেলে মো. মতিবুর ইসলাম (৫৫) ও তাঁর ছেলে আল মামুন (২০), মৃত নজর আলী মন্ডলের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৭০) এবং খরিবনা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুর রায়হান (২০) ও মো. শফিকুল ইসলাম।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে শহিদুলের পরিবারের সাথে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছিল। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহিদুল তাঁর নিজস্ব অটোচার্জার ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গোয়ালা লক্ষিতলা এলাকায় পৌঁছালে হামলাকারীরা রাস্তায় বাঁশ ফেলে গতিরোধ করে। এরপর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বুধবার রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান।এদিকে হামলার পর ওই রাতেই প্রতিপক্ষরা পুনরায় দলবদ্ধ হয়ে শহিদুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে নিহতের মা ও দুই পুত্রবধূকে মারধর করে জখম করা হয়।সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় এজাহারনামীয় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”এনআই
নদীর তীরে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে নৌকার মাঝি গ্রেফতার
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নদীর তীরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে এশার আলী প্রামানিক (৩৮) নামের এক নৌকার মাঝিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী নারী উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের জনৈক শামীম হোসেনের স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের শ্রীফলতলা গ্রামের বাসিন্দা এক সন্তানের জননী সাথী খাতুন (২৪) পার্শ্ববর্তী করতোয়া নদীতে গরুর জন্য পানি আনতে যান। এসময় ওই ঘাটের ডিঙ্গি নৌকার মাঝি মৃত মমতাজ প্রামাণিকের ছেলে এশার আলী তাকে ভয় দেখিয়ে তাকে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে।পরে ভুক্তভোগী নারী শাহজাদপুর থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত এশার আলী প্রামানিককে গ্রেফতার করে।এই বিষয়ে ধর্ষণের শিকার গৃহবধু সাথী খাতুন বলেন, ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে গরুর জন্য পানি আনতে করতোয়া নদীতে যাই, সেখান থেকে ফেরার পথেই অভিযুক্ত হঠাৎ করেই পিছন থেকে আমার গলায় ছুরি ধরে এবং আমাকে ঘাসের জমির মধ্যে ফেলে ধর্ষণ করে।এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, গৃহবধুর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত মোঃ এশার আলীকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আগামীকাল তাকে শাহজাদপুর আমলী আদালতে প্রেরণ করা হবে।এসআর
মাধবপুরে রঘুনন্দন ছড়া থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রঘুনন্দন ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা ও নোয়াপাড়া ইউনিয়নের শাহপুর এলাকায় দিন-রাত প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, রঘুনন্দন ছড়ার বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও শ্রমিকের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু প্রথমে পাশের খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়, পরে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি ও হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না।পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতভিটাও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুজিবুল ইসলাম বলেন, “রঘুনন্দন ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি যাচাই করছি। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।ইখা
বাহুবলে খরস্রোতা করাঙ্গী নদী এখন মরা খাল, দিশাহারা কৃষক
হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে বর্ষায় উত্তাল খরস্রোতা সেই করাঙ্গী নদী এখন শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর তলদেশ শুকিয়ে যাওয়ায় নাব্যতা হারিয়েছে করাঙ্গী। এতে কৃষিজমিসহ দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা নিবারণে তিন ইউনিয়নের জনসাধারণ পানি সংকটে ভুগছেন। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।একসময় নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য করাঙ্গী নদীর পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন এলাকার কৃষকরা।পরিবেশবিদদের অভিযোগ, খরস্রোতা এ নদীর যৌবন ফিরিয়ে আনতে নেই সরকারি কোনো উদ্যোগ; বরং কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে এ নদীকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলছে।নদীর উজানে চুনারুঘাট অংশে অপরিকল্পিত বাঁধ তৈরি করে ভাটি জনপদে পানির সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে নদীর দুই তীরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পানি ব্যবহার ও গৃহপালিত পশু পালনে বিড়ম্বনায় পড়ছেন।হিমারগাঁও গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার ভাদেশ্বর, বাহুবল সদর ও সাতকাপন ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক আবহমানকাল থেকে করাঙ্গী নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ করতেন। তারা হাঁসের খামার ও গরু-ছাগল পালনে এ নদীর পানিতেই নির্ভরশীল ছিলেন।ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়া বলেন, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ফসলি জমিগুলোয় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া করাঙ্গী নদীর দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছও বিলীন হয়ে গেছে।সমাজকর্মী কাজী আলফু মিয়া বলেন, জীববৈচিত্র্য-সমৃদ্ধ করাঙ্গী নদীর অতীত কেবলই স্মৃতি। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি নদীর আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত খননের দাবি জানান।বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন চন্দ্র দে বলেন, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।ইখা
মসজিদের টাকার হিসাবকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সুনামগঞ্জে নিহত ১
মসজিদের টাকার হিসাবকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ফজল মিয়া নামে ১ জন নিহত হয়েছেন।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ছাতকের পুরান নোয়াপুর গ্রামের মসজিদের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের পুরান নোয়াপুর গ্রামের মসজিদ কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাসুক মিয়া ও ফজল মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেড় ধরে দুপুরে মসজিদের টাকার হিসাবকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটির এক প্রযায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন মসজিদের হিসাবকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ফজল মিয়া নিহত হয়েছেন। বর্তমানে গ্রামের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।এসআর
মৌলভীবাজারে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল আরেক বন্ধুর
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে তারেক মিয়া (১৯) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজনগর উপজেলার ঘরগাঁও গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তারেক ওই গ্রামের গাজি মিয়ার ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে গ্রামের কয়েকজন কিশোর ঘরগাঁও মাঠে ক্রিকেট খেলায় অংশ নেয়। খেলার এক পর্যায়ে প্রতিবেশী আতিক মিয়ার সঙ্গে তারেকের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একসময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আতিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারেকের বুক, হাত ও উরুতে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার বলেন, "ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষ সমাজে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। কিশোরদের মধ্যে সহিংসতা রোধে পরিবার ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।এনআই
টাংগুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ড
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী মাছরাঙা নামের একটি হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাউজবোটটির বেশ কিছু অংশ পুড়ে গেছে। এ সময় হাউসবোটে কোনো পর্যটক না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজারের পূর্ব পাড়ে রক্তি নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রতক্ষ্যদশী ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রক্তি নদীতে নোঙর করে হাউজবোটটির মেরামতের কাজ করছিল মিস্ত্রি ও কর্মচারীরা। হঠাৎ করেই হাউজবোটটির পেছন দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।টাঙ্গুয়া হাওরের পর্যটকবাহী নৌ সমিতির সভাপতি রব্বানী জানান, মাছরাঙা হাউজবোটটিতে আগুন লাগার পর আনোয়ারপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হাউজবোটটির ভেতরের অধিকাংশ সরঞ্জাম পুড়ে যায়।বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া জানান, হাউজবোড লাগা আগুন সবাই মিলে নিভানো হয়েছে। তাহিরপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে বলতে পারবো।ইখা
অনলাইন ভোট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগস্টের পর কিছু সাধারণ ও নিরীহ লোককে আসামি করা হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
আজারবাইজানে হামলার দাবি অস্বীকার ইরানের
আজারবাইজানে কয়েকটি ড্রোন আঘাত হানার পর হামলাটি ইরান থেকে হয়েছে সন্দেহ করার পর তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল বাকু। তবে আজারবাইজানকে টার্গেট করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে আজারবাইজান জানায়, দুটি ইরানি ড্রোন তাদের স্বায়ত্তশাসিত নাখচিভান অঞ্চলে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে একটি বিমানবন্দরের ভবন ছিল।ঘারিবাবাদি বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করি না।’তিনি আরো বলেন, ইরানের নীতি হলো কেবল এ অঞ্চলে সক্রিয় তার ‘শত্রুদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে’ হামলা চালানো, যেগুলো ইরানকে আক্রমণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়; যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘাঁটিগুলো অন্তর্ভুক্ত।সূত্র: আলজাজিরাএবি
গোটা মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্র, কোন দেশে কত নিহত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার হওয়ার পরপরই পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। তারা ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, চলমান যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১ হাজার ২৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া হরমুজগান প্রদেশের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭৫ স্কুলছাত্রী ও স্টাফ নিহত হয়েছেন।অন্যদিকে ইরানের হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে গত ১ মার্চ বেইত শেমেশে এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই ৯ জন নিহত হয়।যুদ্ধের অন্যতম পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত তাদের ছয়জন সেনাকে হারিয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সেনা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।ইরানের পক্ষে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ জড়িয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও। তাদের নির্মূল করতে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইসরায়েল। এতে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে ‘ক্রসফায়ারে’ পড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতে ৪, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩, বাহরাইন ও ওমানে ১ জন করে নিহত হয়েছে।এবি
খামেনির মৃত্যুর ৫ দিনের মাথায় শোক প্রকাশ করল ভারত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডেলে লিখেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ইরান ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসে গিয়ে শোকপুস্তিকায় সই করেছেন।ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব, এরকম একটি ছবিও এক্স হ্যান্ডেলে দিয়েছেন জয়সওয়াল।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দুপুরেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।তাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, তা অবশ্য জানান নি জয়শঙ্কর।খামেনির মৃত্যু হয়েছে শনিবার ভোরে। তার পাঁচদিনের মাথায় শোক প্রকাশ করল ভারত।ভারতের পুরনো মিত্র দেশ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে নরেন্দ্র মোদীর সরকার কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়ায় দেশের মধ্যেই সমালোচনা উঠেছিল।ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পরে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে কথা বলেছেন। পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তবে ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার নিন্দা করে এখনও কোনো বার্তা দেয়নি ভারত সরকার।এমআর-২
ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
এ বছরের পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানান, আগামী ২০ মার্চ শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।ইমেরাতস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, আগামী ১৮ মার্চ বুধবার আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দুবাই সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং ওই দিন সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তের ওপরে অবস্থান করবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ওই দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে ২০ মার্চ শুক্রবার শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।আল জারওয়ান আশা প্রকাশ করেছেন যে, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ এবার একই দিনে ঈদ শুরুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে।তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিটি দেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকেই আসবে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের এক দিন পর বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় যদি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ২০ মার্চ ঈদ হয়, তবে বাংলাদেশে ২১ মার্চ শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২১ মার্চ সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরে ছুটির ক্যালেন্ডার সাজিয়েছে।জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই নতুন পূর্বাভাস সরকারি সেই পরিকল্পনার সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে।এমআর-২
মধ্যপ্রাচ্যে বিভেদ তৈরি করতেই ইরানে হামলা: রাশিয়া
ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার একটি লক্ষ্য হলো, “মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।বৃস্পতিবার (০৫ মার্চ) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।ল্যাভরভ আরও বলেন, ইউক্রেন সংকট, তথ্য নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল হুমকি নিয়ে আয়োজিত রাষ্ট্রদূতদের এক গোলটেবিল বৈঠকে বোঝা গেছে, “ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের মধ্যেই মতপার্থক্য রয়েছে।”এমআর-২
ইরানের সরকার পতনের কোনো লক্ষণ নেই, জানাল ইসরায়েল
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মুখে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের কোনো লক্ষণ নেই মনে করছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা’র এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধ থেকে তেহরান শিক্ষা নিয়েছে। বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মাঝারি থেকে দুর্বল পর্যায়ে থাকলেও তারা এখনো কার্যকর রয়েছে। সেখানে বড় ধরনের প্রতিকূলতা থাকলেও শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ নেই এবং ইরান যেকোনো শূন্যস্থান পূরণে প্রস্তুত রয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরান সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় তারা এখন আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করছে।এদিকে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এই সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায় সেটিই তার প্রশাসনের নীতি। পরে তিনি ইরানি জনগণকে তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব জায়গায় বোমা পড়বে এবং কাজ শেষ হলে জনগণ যেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেয়।একই সুরে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এটি একটি দ্রুত ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে এবং তারা এমন পরিবেশ তৈরি করবেন যাতে ইরানি জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে পারে। তবে গত চার দিনে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এটি তথাকথিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধ নয়।হামলার খতিয়ান তুলে ধরে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও ১ হাজার ৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। তবে তেল আবিব ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস) জানিয়েছে, ইরান পাল্টা বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়তে সক্ষম হয়েছে।আইএনএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ইসরায়েল অভিমুখে প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০০টি ড্রোন ছুড়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ইরান প্রায় ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু মনে করলেও তাদের বেশিরভাগ হামলা নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরই কেন্দ্রীভূত করছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে।এমআর-২
হরমুজ প্রণালির কাছে ট্যাংকারে হামলায় ২ ভারতীয় নিহত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় ২ ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ক্যাপ্টেন আশীষ কুমার ও ক্রু সদস্য দলীপ সিং। আশীষ কুমারের বাড়ি ভারতের বিহার এবং দলীপ সিংয়ের বাড়ি রাজস্থানে।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ‘স্কাইলাইট’ ২২ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে। পরে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপ উপকূলের কাছে জাহাজটিতে হামলা হয়। এর আগে দেশটির দুকম বন্দর এলাকাতেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার (এমএসসি) এক বিবৃতিতে জানায়, পালাউ প্রজাতন্ত্রের পতাকাবাহী ট্যাংকারটি মুসান্দাম গভর্নরেটের খাসাব বন্দর থেকে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল উত্তরে হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে মোট ২০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন—এর মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় এবং ৫ জন ইরানি।হামলার পর জাহাজে থাকা সবাইকে উদ্ধার করা হলেও দুজনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হামলায় তাদের দেহ পুড়ে যায়। ক্যাপ্টেন আশীষ কুমারের দেহাবশেষ তার কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, হামলার সময় দলীপ সিং জাহাজের সামনের অংশে ক্যাপ্টেনের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন।এমআর-২
এবার আজারবাইজানে হামলা চালালো ইরান
নিজেদের ছিটমহল নাখচিভানে ড্রোন হামলা চালানোর জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছে আজারবাইজান। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালের কাছে কালো ধোঁয়া উড়ছে।যা ইরানের সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) দূরে অবস্থিত। আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনার পর তারা ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। পাশাপাশি পালটা হামলার অধিকার রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইরানকে।চলমনা সংঘাতের মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলের দিকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।এমআর-২
সামরিক যুদ্ধের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়: মোদি
ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত আইনের শাসন, সংলাপ ও কূটনীতিতে বিশ্বাস করে। কোনো সমস্যার সমাধান সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে সম্ভব নয়।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি এই বক্তব্য দেন।মোদি বলেন, ভারত ও ফিনল্যান্ড আইনের শাসন, সংলাপ এবং কূটনীতিতে বিশ্বাস করে। শুধু সামরিক সংঘাত দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না— তা ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া। আমরা দু’দেশই মনে করি যে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।এমআর-২
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কার্গো সেবা বন্ধ করছে চীন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে কার্গো পরিবহন সেবা স্থগিত করবে চীন। সৌদি-কাতারসহ বেশ কিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। খবর আনাদালু এজেন্সিদেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং জায়ান্ট কসকো শিপিং লাইনস জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া সব রুটে নতুন বুকিং অবিলম্বে বন্ধ করা হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত থাকবে।বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ট্যাঙ্কার অপারেটররা এই সিদ্ধান্ত এমন সময় নিয়েছে যখন বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানি একই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।সোমবার ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আর অনুমোদন করা হবে না। কোনো জাহাজ সেখানে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।ইরানের ওই হুঁশিয়ারির পর এক বিবৃতিতে কসকো জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক চলাচলের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই স্থগিতাদেশের আওতায় কোম্পানিটি বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কিছু বন্দরের উদ্দেশ্যে নতুন বৈশ্বিক বুকিং গ্রহণ বন্ধ করবে। একই সঙ্গে কাতার, বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কিছু অঞ্চল থেকে পাঠানো পণ্য পরিবহনও বন্ধ থাকবে।তবে কিছু আঞ্চলিক বন্দর এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে, কারণ সেগুলোতে যেতে হরমুজ প্রণালী পার হতে হয় না। কসকো জানিয়েছে, সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান ও ফুজাইরাহ বন্দরে তাদের সেবা স্বাভাবিক থাকবে।এমআর-২
বিনোদন
সব দেখুন
ক্যারিয়ার নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন শ্রেয়া ঘোষাল
এবার নিজের ক্যারিয়ার ও প্লেব্যাক নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন ভারতের সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া ঘোষাল বলেছিলেন, অনেক গানেই নারীদের কেবল ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যেসব গান ছোটরা না বুঝেই গায় এতে তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। তবে অনেকেই শ্রেয়ার এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে তাকে ‘দ্বিচারী’ বলে কটাক্ষ করেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসব সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল। তিনি জানান, গান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এখন তিনি অনেক বেশি সচেতন। ‘চিকনি চামেলি’র মতো গান আর ভুলেও রেকর্ড করব না। এখন ভাবলে লজ্জা হয় যে আমি এমন গান গেয়েছি।’ এমনটাই বলেন তিনি।‘চিকনি চামেলি’র জনপ্রিয়তার পর তার কাছে আরও অনেক আপত্তিকর গানের প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু নিজের নীতিতে অটল থেকে সেসব প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।ইখা
হৃদযন্ত্রে গুরুতর ব্লক ধরা পড়ে ফজলুর রহমান বাবুর
জনপ্রিয় অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী ফজলুর রহমান বাবু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এনজিওগ্রাম করার পর তার হৃদযন্ত্রে গুরুতর ব্লক ধরা পড়ে।চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তারিখ তার সফলভাবে ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন নাট্য নির্মাতা ও সংগঠক কামরুজ্জামান সাগর। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল।তার অসুস্থতার খবরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।এইচএ
খামেনির প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ ভারতীয় অভিনেত্রীর
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ফারহানা ভাট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী খামেনির বাসভবনে যৌথ বিমান হামলা চালায়। ১ মার্চ ভোরে ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে।ফারহানা ভাট জানান, খামেনির মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে তিনি এতটাই বিপর্যস্ত যে সাহরির পর আর ঘুমাননি।ফারহানার মতে, সব কাশ্মীরি এই ঘটনায় শোকাহত। তিনি বিশ্বাস করেন, খামেনি মানুষের হৃদয়ে ও মনে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। ফারহানা জানান, অনেকের কাছেই খামেনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক।আন্তর্জাতিক মহলে খামেনিকে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও, কাশ্মীরের একটি বড় অংশের মানুষের সাথে তার গভীর মানসিক ও আধ্যাত্মিক যোগসূত্র ছিল, যা ফারহানার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।এইচএ
ইকরা ২ বছর আগেই জানতে পারেন আলভী মজেছেন অন্য নারীতে
স্ত্রী ইকরার মৃত্যুর পরপরই একজন অভিনয়শিল্পী সহকর্মীর সঙ্গে জাহের আলভীর প্রেমের সম্পর্কের কথা সামনে এসেছে। এই সম্পর্কের জেরে ইকরা ‘আত্মহত্যা’র পথ বেছে নিয়েছেন, এমনটাই অভিযোগ ইকরার মা ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের, এমনকি বন্ধুদেরও।ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী জাহের আলভী ও তাঁর মায়ের নামে মামলা করা হয়েছে। রোববার (১লা মার্চ ) ঢাকার পল্লবী থানায় এই মামলা করা হয়। মামলায় ১ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে জাহের আলভীকে এবং ২ নম্বর আসামি তাঁর মা নাসরিন সুলতানাকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায়ই ইকরাকে অপমান করতেন এবং তাঁদের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এমনকি জাহের আলভী ইকরাকে উদ্দেশ্য করে প্রায়ই উসকানিমূলক কথা বলতেন—যা তাঁর মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় নিজের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইকরা। পরে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পল্লবী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেয়।২৭ ফেব্রুয়ারি জাহের আলভী এক নারীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন, যা ইকরার মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন, অপমান ও উসকানির কারণে ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমেছে ৯২১৪ টাকা
টানা ৬ দফা বাড়ানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। আজ বুধবার (৪ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
১৫ মার্চের মধ্যে বাজেট প্রস্তাবনা চেয়েছে এনবিআর
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যুগোপযোগী ও অংশীদারত্বমূলক বাজেট প্রণয়নে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাবনা চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে বিভিন্ন চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনকে তাদের স্ব স্ব বাজেট প্রস্তাব দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) কাছে লিখিতভাবে সুপারিশ ও প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবের আরেকটি সফটকপি ই-মেইলে: nbrbudget2026@gmail.com এনবিআরে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এসব তথ্য জানিয়েছেন।এনবিআর জানায়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একটি অংশগ্রহণমূলক, গণমুখী ও ন্যায় সম্মত বাজেট প্রণয়নে বরাবরই সব পর্যায়ের সম্মানিত করদাতা, বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের কাছ থেকে এনবিআর বাজেট প্রস্তাব আহ্বান করেছে। রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমকে অধিকতর অর্থবহ, বিশ্লেষণধর্মী ও প্রতিনিধিত্বশীল করার জন্য যারা আগ্রহী তারা এতে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।এইচএ
দেশে কতদিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে, জানালেন বিপিসি চেয়ারম্যান
দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান।আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কারওয়ান বাজার বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি নজরে রেখে তেলের বিকল্প বাজার খোঁজার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তাতে দাম বাড়ার শঙ্কা নেই।নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে গতকাল পর্যন্ত ৭টি জাহাজের এলসি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস ৯৩ দিন ও জেড ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত তালিকা: এইচএ
আরেক দফায় স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ৩৩২৪ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকায়।স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠক করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা ১ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।এর আগে, গতকাল সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।এখন ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের ৩ হাজার ৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ৬৮৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম দুই লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৯ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।সোমবার সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ধরা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ টাকা।এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের ১ ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৯১ টাকা বাড়িয়ে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ২৯৯ টাকা ঠিক করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম ধরা হয় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৩ টাকা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। এখন স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের ১ ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সাত হাজার ১৭৩ টাকা। এছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ৮৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা এবং এবং ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৬৮১ টাকা।আজ সোমবার (২ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সংগঠনটি। জানানো হয়, নতুন নির্ধারিত দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের নতুন দর ঠিক করা হয়েছে। এর ফলে ক্রেতাদের আগের তুলনায় বেশি দামে স্বর্ণ কিনতে হবে।এর আগে, রবিবার (১ মার্চ) ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা। এইচএ
লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে এক লাফে ১০ শতাংশ দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়েছে। রবিবার (১ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।বর্তমানে এ দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। শুক্রবার এটি ৭৩ ডলারে উঠে জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ফিউচারস লেনদেন বন্ধ রয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, তবে দাম আরো দ্রুত বাড়তে পারে।জ্বালানি বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা তেলের দামের পক্ষে সহায়ক হলেও মূল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য বন্ধ হয়ে যাওয়া।রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের ২০ শতাংশেরও বেশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়। বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, তেহরানের সতর্কবার্তার পর বেশিরভাগ ট্যাংকার মালিক, তেল কম্পানি ও ট্রেডিং হাউস ওই পথ দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও এলএনজি পরিবহন স্থগিত করেছে।পারমার জানান, প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকলে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।অন্যদিকে তেল উৎপাদক জোট ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পরিমাণ বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য (০ দশমিক ২ শতাংশেরও কম)।নরওয়ে-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেস্টার্ড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জে লিওনের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের পরও দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, বাজার চালু হলে দাম প্রায় ৯২ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।এফএস
দেশের বাজারে কমেছে রুপার দাম
টানা ৪ দফা বাড়ানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দাম। এবার ভরিতে ৬৪১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা।আজ বুধবার (৪ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে রুপার মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমেছে ৯২১৪ টাকা
টানা ৬ দফা বাড়ানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। আজ বুধবার (৪ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
১৫ মার্চের মধ্যে বাজেট প্রস্তাবনা চেয়েছে এনবিআর
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যুগোপযোগী ও অংশীদারত্বমূলক বাজেট প্রণয়নে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাবনা চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে বিভিন্ন চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনকে তাদের স্ব স্ব বাজেট প্রস্তাব দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) কাছে লিখিতভাবে সুপারিশ ও প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবের আরেকটি সফটকপি ই-মেইলে: nbrbudget2026@gmail.com এনবিআরে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এসব তথ্য জানিয়েছেন।এনবিআর জানায়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একটি অংশগ্রহণমূলক, গণমুখী ও ন্যায় সম্মত বাজেট প্রণয়নে বরাবরই সব পর্যায়ের সম্মানিত করদাতা, বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের কাছ থেকে এনবিআর বাজেট প্রস্তাব আহ্বান করেছে। রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমকে অধিকতর অর্থবহ, বিশ্লেষণধর্মী ও প্রতিনিধিত্বশীল করার জন্য যারা আগ্রহী তারা এতে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।এইচএ
দেশে কতদিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে, জানালেন বিপিসি চেয়ারম্যান
দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান।আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কারওয়ান বাজার বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি নজরে রেখে তেলের বিকল্প বাজার খোঁজার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তাতে দাম বাড়ার শঙ্কা নেই।নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে গতকাল পর্যন্ত ৭টি জাহাজের এলসি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস ৯৩ দিন ও জেড ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত তালিকা: এইচএ
আরেক দফায় স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ৩৩২৪ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকায়।স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠক করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা ১ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।এর আগে, গতকাল সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।এখন ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের ৩ হাজার ৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ৬৮৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম দুই লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৯ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।সোমবার সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ধরা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ টাকা।এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের ১ ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৯১ টাকা বাড়িয়ে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ২৯৯ টাকা ঠিক করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম ধরা হয় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৩ টাকা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। এখন স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের ১ ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সাত হাজার ১৭৩ টাকা। এছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ৮৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকা এবং এবং ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৬৮১ টাকা।আজ সোমবার (২ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সংগঠনটি। জানানো হয়, নতুন নির্ধারিত দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের নতুন দর ঠিক করা হয়েছে। এর ফলে ক্রেতাদের আগের তুলনায় বেশি দামে স্বর্ণ কিনতে হবে।এর আগে, রবিবার (১ মার্চ) ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা। এইচএ
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
সেই নিহত ইবি শিক্ষিকার শরীরে অন্তত ২০টি আঘাতের চিহ্ন: ময়নাতদন্ত রিপোর্ট
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো কিছু দিয়ে ১৮ থেকে ২০টি আঘাতের চিহ্ন সনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম।বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত করেন আরএমও হোসেন ইমাম।তিনি সাংবাদিকদের জানান, নিহত শিক্ষিকার গলা, বুক, পেট, হাত-পাসহ বিভিন্ন স্থানে ১৮ থেকে ২০টি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাতে মনে হয়েছে, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তি হয়েছে। এতে ভিন্ন ভিন্ন স্পটে আঘাত পান।আরএমও হোসেন ইমাম বলেন, নিহত শিক্ষকার গলার নিচে সজোরে আঘাত করা হয়েছে। এতে গভীর ক্ষত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতেই তার মৃত্যু হয়েছে। বাকি আঘাত গুরুতর ছিল না।বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে নিজ কক্ষে অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।এ ঘটনায় আজ সকালে নিহত শিক্ষিকা অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদি হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন, কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।এদিকে আজ জোহরের পর কুষ্টিয়া শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আসমা সাদিয়া রুনার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে দাফন করা হয়।নিহত সাদিয়া রুনার বাবা জানাজায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সে আমার বড় মেয়ে তার ভুল ত্রুটি হলে তাকে সবাই মাফ করে দেবেন আর দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমার মেয়েকে জান্নাত দান করেন। আসল খুনিদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচার হয় সেই প্রত্যাশা করছি।’জানাজায় উপস্থিত হয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ নিহত পরিবারের পাশে সার্বক্ষণিক অভিভাবক রূপে থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়াও ঘটনাটি সিআইডি পুলিশ সংস্থাও তদন্তে মাঠে কাজ করছেন।এসআর
নিজ অফিস কক্ষে ইবি শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজের গলায় ছুরি চালান কর্মচারী
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। ওই শিক্ষিকার ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে কক্ষের দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া শহরস্থ কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ সুলতান। তিনি সংসার জীবনে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী ছিলেন। ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফজলুর রহমানের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। জানা গেছে, সম্প্রতি আসমা সাদিয়া রুনা সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর ফজলুর রহমানকে এক মাস আগে ওই বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করেন। চাকরি জীবনের শুরু থেকে সমাজকল্যাণ বিভাগে থোক বরাদ্দে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন ফজলুর। এর জেরে কর্মচারী ফজলুর রহমান শিক্ষিকা রুনাকে ছুরিকাঘাত করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন বিভাগের শিক্ষকরা।সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হাবিব জানান, প্রায় ৮ বছর ফজলুর এই ডিপার্টমেন্টে থোক বরাদ্দের অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগদান করেন। তারপর থেকে বিভিন্ন কারণবশত কর্মচারী ফজলুর রহমান সবার সাথেই মাঝে মধ্যে খারাপ আচরণ করতো। যার কারণে আমরা সবাই তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করি। তবে ফজলু আমাদের কাছে এসে দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের কথা বলে সমাজকল্যাণ বিভাগেই থাকতে চাইতো। সে আমাদের সবার কাছে এসে বিভাগের রাখার জন্য আবদার করত। তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে তাকে বলি তোমাকে এত সুযোগ দেওয়ার পরেও তুমি যেহেতু এখনো পর্যন্ত তোমার আচার-আচরণ কথাবার্তা সংযত করতে পারোনি। সেহেতু তুমি ওই ডিপার্টমেন্টে থাকো। পরে বিচার বিবেচনা করে দেখা যাবে। বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা- ওই ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনাটি ঘটতে পারে।শিক্ষার্থীরা জানান, আজ বিভাগটির ইফতার মাহফিল ছিল। সে কারণে বিকেল ৩টায় অফিস সময় শেষ হলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে বিভাগের সভাপতির নিজ কক্ষ থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে ভবনের নিচে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। একপর্যায়ে তিনজন শিক্ষার্থী, দুইজন আনসার সদস্য ও আরও দুজন মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা আসমা সাদিয়ার রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় অস্ত্র দিয়ে কাটার চেষ্টা করতে দেখেন। পরে শিক্ষার্থী ও কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পার্শ্ববর্তী ইবি থানাকে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে এসে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠান।কর্তব্যরত আনসার সদস্য আসমত আলী বলেন, আমরা ভবনের নিচে দুইজন মিলে গল্প করছিলাম। হঠাৎ করে আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ভবনের ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজে নিজেই গলায় ছুরি চালাচ্ছেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।ইবি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজন অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তদন্ত করে পরে ঘটনা জানা যাবে।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। এমন সময় শিক্ষিকা রুনাকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আসলে এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা তার রুম পর্যবেক্ষণ করেছি। পুলিশ ও পিবিআই পর্যবেক্ষণ করেছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আমরা তদন্ত কমিটির গঠন করছি। পুলিশ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করেছি।কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানকে হত্যার ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যারা উদ্ধার করেছে আমরা সকলের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেন, ওই ডিপার্টমেন্টে নিযুক্ত আনসার সদস্যদের কাছ থেকে জেনেছি ঘটনাটি ৪টার দিকের। ঘটনার সময় রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। রুমের ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে আনসার সদস্যরা কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে দরজাটি ভেঙে শিক্ষকসহ দুইজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে । পুলিশ সুপার বলেন, আমরা সব কিছু বিবেচনা করে ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করছি।এবি
গোপনে নারীদের অপ্রস্তুত ছবি-ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে ববি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে ও গোপনে নারী শিক্ষার্থীদের অপ্রস্তুত ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত তূর্য বাড়ৈর ল্যাপটপ ও ফোনে প্রায় এক হাজারের বেশি ব্যক্তিগত ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সম্পাদিত ভিডিও পাওয়া গেছে।জানা গেছে, ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) রাতে গোপনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীর ছবি তোলার সময় তূর্য বাড়ৈ হাতেনাতে ধরা পড়েন। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তার ডিভাইস তল্লাশি করলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত চার বছর ধরে ল্যাবে প্রাকটিক্যাল ক্লাসসহ বিভিন্ন সময়ে নারীদের পোশাকের অসতর্ক মুহূর্তের ছবি নেওয়া হতো এবং এসব ছবি পেনড্রাইভ ও ইমেইলে ফোল্ডার আকারে সংরক্ষিত ছিল।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়; এটি একটি সংগঠিত চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধও হতে পারে। তারা দাবি করেছেন, ছবিগুলো কোনো পর্নোগ্রাফি সাইটে ব্যবহার হয়েছে কি না বা ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক।এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের আজীবন বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন আয়োজন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে নিরাপদ আশ্রয় হওয়া উচিত, সেখানে সহপাঠীর এমন বিকৃত মানসিকতা আমাদের আতঙ্কিত করেছে।”বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রক্টরিয়াল বডি তদন্ত চালাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, “সাইবার ইনস্ট্রুমেন্টের সীমাবদ্ধতার কারণে বিষয়টি অভিজ্ঞ আইনি সংস্থার কাছে হস্তান্তরের বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।”প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। এছাড়া যাচাই করা হবে অভিযুক্ত ছবিগুলো বাইরে ছড়িয়ে দিয়েছে কি না, বা অন্য কোনো চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত কি না। পুলিশে মামলা দায়ের ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত তূর্য বাড়ৈ বর্তমানে প্রক্টর অফিসে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।এসআর
২৪ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
পবিত্র মাহে রমজান, শব-ই-কদর, ঈদ-উল-ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৪ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে (ববি)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খান সানজিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ৮ মার্চ (রবিবার) থেকে ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, যা মোট ২৪ দিন। অন্যদিকে, অফিস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে ১৫ মার্চ (রবিবার) থেকে ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত, মোট ১৭ দিন।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ছুটিকালীন সিকিউরিটিসহ অন্যান্য জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।ইখা
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আজ, কখন-কীভাবে দেখবেন
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক দুর্লভ মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। পূর্ণিমার রুপালি চাঁদ আজ ঢাকা পড়বে পৃথিবীর ছায়ায়, আর মুহূর্তেই ধারণ করবে টকটকে লাল কিংবা তামাটে আভা।২০২৬ সালের প্রথম এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’ নামে পরিচিত। আজকের পর ২০২৮ সালের আগে বিশ্ববাসী আর কোনো পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দেখা পাবে না।আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের ঠিক পর থেকেই গ্রহণের শেষ অংশ দেখার সুযোগ মিলবে।গ্রহণের সময়সূচি ও স্থায়িত্ব: আইএসপিআরের তথ্যমতে, আজ দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণগ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। এই গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫। নাসা জানিয়েছে, পুরো মহাজাগতিক প্রক্রিয়াটি ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে, যার মধ্যে প্রায় ১ ঘণ্টা চাঁদকে টকটকে লাল দেখা যাবে। বাংলাদেশে কখন দেখা যাবে: ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে পূর্ণগ্রাস অংশটি সরাসরি দেখা না গেলেও চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে।বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণ দেখার সময়: নিচে প্রধান শহরগুলোতে চন্দ্রোদয়ের পর গ্রহণ শুরু ও শেষ হওয়ার সময় দেয়া হলো–শহর শুরু (সন্ধ্যা) গ্রহণ শেষ (রাত)ঢাকা = ৬টা ০১ মি. ১২ সে. ৮টা ২৪ মি. ৪২ সে.চট্টগ্রাম= ৫টা ৫৬ মি. ২৪ সে. ৮টা ১৯ মি. ৫৪ সে.সিলেট= ৫টা ৫৪ মি. ৩০ সে. ৮টা ১৮ মি. ০০ সে.রাজশাহী= ৬টা ০৭ মি. ৩৬ সে. ৮টা ৩১ মি. ০৬ সে.খুলনা= ৬টা ০৫ মি. ১২ সে. ৮টা ২৮ মি. ৪২ সে.বরিশাল= ৬টা ০১ মি. ৫৪ সে. ৮টা ২৫ মি. ১২ সে.রংপুর= ৬টা ০৪ মি. ৩৬ সে. ৮টা ২৮ মি. ০৬ সে.ময়মনসিংহ= ৬টা ০০ মি. ২৪ সে. ৮টা ২৩ মি. ৪৮ সে.‘ব্লাড মুন’ কেন হয়: যখন সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায়। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পারায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল চিরে আসা লাল আলোর প্রতিফলন চাঁদের গায়ে পড়ে। ফলে চাঁদকে গাঢ় লাল বা তামাটে দেখায়, যাকে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।অনলাইনে দেখার সুযোগ: আকাশ মেঘলা থাকলে বা সরাসরি দেখার সুযোগ না মিললে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এটি লাইভ দেখা যাবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্রিফিথ অবজারভেটরি, টাইমএন্ডডেট ডটকম এবং ভার্চুয়াল টেলিস্কোপ প্রকল্প তাদের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে এই মহাজাগতিক দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করবে।জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আজকের এই বিরল সুযোগটি হাতছাড়া করা উচিত নয়। কারণ, পরবর্তী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের জন্য আমাদের ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।এইচএ
উঁকি দিয়েও দেখতে পারবে না চ্যাট, স্যামসাং ফোনে নতুন ফিচার
প্রতিবছরই নতুন কিছু চমক নিয়ে হাজির হয় স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। কখনো ক্যামেরার মেগাপিক্সেল যুদ্ধ, কখনো বা এআই ফিচারের বিস্তার। তবে ২০২৬ সালে এসে তারা নজর কাড়ল এক ভিন্নধর্মী উদ্ভাবনে। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রা-তে যুক্ত হয়েছে ইন-বিল্ট ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’, যা স্মার্টফোন নিরাপত্তাকে একধাপ এগিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে গোপনীয়তা রক্ষার অভিনব প্রযুক্তি এই ডিভাইসটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। ব্যক্তিগত চ্যাট, ব্যাংকিং তথ্য বা সংবেদনশীল নোটিফিকেশন এবার সেগুলোতে পাশের কেউ উঁকি দিতে পারবে না। ফলে আপনি সামনে থেকে পরিষ্কারভাবে সব দেখতে পেলেও পাশের ব্যক্তি শুধুই অন্ধকার বা ঝাপসা স্ক্রিন দেখবেন।ফোনের সেটিংসে একটি নির্দিষ্ট টগল চালু করলেই সক্রিয় হবে প্রাইভেসি মোড। সবচেয়ে বড় কথা, এতে ডিসপ্লের কালার, ব্রাইটনেস বা শার্পনেসে কোনো আপস করতে হয় না। ব্যবহারকারী চাইলে এমন কাস্টম সেটিংও বেছে নিতে পারবেন, যেখানে পুরো স্ক্রিন দৃশ্যমান থাকলেও নির্দিষ্ট মেসেজ বা নোটিফিকেশন শুধু মালিকের চোখেই ভেসে উঠবে। ডিজাইনে বড় পরিবর্তন না আনলেও ফোনটি আগের তুলনায় আরও পাতলা ও হালকা করা হয়েছে। হাতে নিলে প্রিমিয়াম ও শক্তপোক্ত অনুভূতি দেয়। লেটেস্ট স্ন্যাপড্রাগন চিপসেটের কারণে গেমিং, মাল্টিটাস্কিং কিংবা হাই-রেজুলেশন ফটো এডিটিং সবই হবে সাবলীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন দৈনন্দিন ব্যবহারে এনে দিয়েছে বাড়তি স্মার্টনেস।গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রা কেবল আরেকটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন নয়; এটি যেন ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার এক ডিজিটাল দুর্গ। যারা পাবলিক প্লেসে বসে চ্যাট বা ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করতে দ্বিধায় থাকেন, তাদের জন্য এই প্রাইভেসি ডিসপ্লে হতে পারে সত্যিকারের গেম-চেঞ্জার।এইচএ
ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, জানবেন যেভাবে
কনটেন্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন একটি সুবিধা চালু করেছে গুগল। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে এখন আসল ছবি বা ভিডিও আর এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট আলাদা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। গুগলের জেমিনি অ্যাপ ব্যবহার করে এখন সহজেই জানা যাবে কোনো ছবি বা ভিডিও গুগলের এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না। এই সুবিধাটি সম্ভব হয়েছে গুগলের বিশেষ ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তি সিনথআইডির মাধ্যমে, যা এআই-তৈরি কনটেন্টের ভেতরে অদৃশ্য ডিজিটাল চিহ্ন সংযুক্ত করে।কীভাবে যাচাই করবেন এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট, ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি তুলে ধরা হলো— জেমিনি অ্যাপে প্রবেশ: প্রথমে জেমিনি অ্যাপটি চালু করুন। এই যাচাই সুবিধা বর্তমানে সমর্থিত সব ভাষা ও দেশে চালু রয়েছে। সঠিক ফল পেতে অ্যাপটির সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে গুগল। কনটেন্ট আপলোড: যে ছবি বা ভিডিও যাচাই করতে চান, সেটি সরাসরি জেমিনি অ্যাপে আপলোড করুন। ভিডিওর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ এমবি সাইজ এবং ৯০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ফাইল আপলোড করা যাবে। ফাইল যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি সাধারণ মেসেজিং অ্যাপের মতোই সহজ।ফাইল আপলোডের পর জেমিনিকে সরাসরি প্রশ্ন করুন—‘এটি কি গুগল যাচাই দিয়ে তৈরি?’ অথবা ‘এই কনটেন্টটি কি যাচাই -জেনারেটেড?’ স্বাভাবিক ও কথোপকথনের ভঙ্গিতেই প্রশ্ন করা যাবে, কারণ জেমিনি বিভিন্নভাবে করা প্রশ্ন বুঝতে সক্ষম।এরপর জেমিনি আপলোড করা কনটেন্টে সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না তা স্ক্যান করে জানাবে। ভিডিওর ক্ষেত্রে অডিও ও ভিজ্যুয়াল উভয় অংশেই এই শনাক্তকরণ করা হয়। প্রয়োজনে জেমিনি নির্দিষ্ট করে জানাবে ভিডিওর কোন অংশে এআই-তৈরি উপাদান রয়েছে।কীভাবে কাজ করে সিনথআইডি:সিনথআইডি প্রযুক্তি এআই দিয়ে কনটেন্ট তৈরির সময়ই তাতে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে। এটি মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, তবে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। এই ওয়াটারমার্ক এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ক্রপ করা, ফিল্টার দেওয়া, কমপ্রেশন বা ফ্রেমরেট পরিবর্তনের পরও তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।কনটেন্টের স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ: ২০২৩ সালে চালুর পর থেকে গুগল ইতোমধ্যে ২০ বিলিয়নের বেশি এআই-তৈরি কনটেন্টে সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক যুক্ত করেছে।এইচএ
বিশ্বজুড়ে বিভ্রাট ইউটিউব এখন স্বাভাবিক, জানা গেল কারণ
হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাপী ব্যাপক বিভ্রাটের কবলে পড়েছিল জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। মঙ্গলবার গভীর রাতে কয়েক লাখ ব্যবহারকারী সাইটটিতে প্রবেশ করতে বা ভিডিও দেখতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। তবে ভোর রাতে আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে বলে জানা গেছে। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যাটি এখন সম্পূর্ণ সমাধান করা হয়েছে এবং সব পরিষেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।ইন্টারনেট বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১টার দিকে সমস্যার পরিমাণ চরমে পৌঁছায়। সে সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী ইউটিউবে ঢুকতে না পারার অভিযোগ জানান। বিভ্রাট চলাকালীন অনেক ব্যবহারকারী সাইটটির হোমপেজে গেলে তাদের ‘পরে আবার ফিরে আসার’ বার্তা দেখানো হচ্ছিল।ইউটিউব জানিয়েছে, মূলত তাদের ‘সুপারিশ ব্যবস্থা’ বা রিকমেন্ডেশন সিস্টেমে ত্রুটির কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে ইউটিউব অ্যাপ, ইউটিউব মিউজিক, কিডস এবং টিভি—সবগুলো প্ল্যাটফর্মেই ভিডিও প্রদর্শনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল।বিভ্রাট কাটিয়ে ওঠার পর এক বিবৃতিতে ইউটিউব জানায়, ‘আমাদের সুপারিশ ব্যবস্থার সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে। ইউটিউব ডটকমসহ আমাদের সব প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ এখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।’ বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা জিএমটি ভোর ৪টার দিকে সাইটটি ব্যবহার করে দেখেছেন যে এটি পুনরায় সক্রিয় হয়েছে।গুগলের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। প্রতি মাসে প্রায় ২৫০ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী ইউটিউব ব্যবহার করেন। এত বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীর জীবনে ইউটিউব একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে কয়েক ঘণ্টার এই বিভ্রাট বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে।এইচএ
নিজের ফোনেই পাবেন ভোটের ফলাফল
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের ফলাফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইলেকশন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভোটাররা রিয়েল টাইমে ফলাফল দেখতে পারবেন এবং নির্বাচনি তথ্য সহজে জানতে পারবেন।জেনে নিন কীভাবে ঘরে বসেই এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল জানতে পারবেন-অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন: অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে উভয়েই পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যাবে। ডাউনলোডের পর ফোনে ইনস্টল করে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে।অ্যাকাউন্ট বা লগইন প্রক্রিয়া: সাধারণত ভোটের ফলাফল দেখার জন্য লগইন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য বা ইভিএম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে অ্যাপটি আপনাকে ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে লগইন করতে বলবে। লগইন করলে ভোটের নথি, ভোটার স্ট্যাটাস এবং নির্বাচনী কেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।ভোটের ফলাফল দেখার ধাপক. নির্বাচন ও কেন্দ্র নির্বাচন: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে ‘ইলেকশন রেজাল্টস’ বা ‘ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনটি থাকবে। এখানে নির্বাচনের ধরন নির্বাচন করতে হবে (জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা, বা ইউনিয়ন নির্বাচন)। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।খ. কেস্টিং এবং ফলাফল: নির্বাচনি কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের লাইভ আপডেট দেখার সুযোগ থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড হবে। ভোটের ভোটের সংখ্যা, প্রার্থী বা দল অনুযায়ী ভাগফল এবং ভোটের শতাংশ দেখা যাবে।গ. গ্রাফ এবং চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপনা: অ্যাপটি ফলাফলকে গ্রাফ বা চার্টে দেখায়, যাতে কোন প্রার্থী বা দলের অবস্থান সহজে বোঝা যায়। লাইভ আপডেটের ফলে ভোটের ধাপ ধাপে অগ্রগতি দেখা যাবে।এইচএ
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইন-আদালত
সব দেখুন
আইভী ও বদির জামিন স্থগিত
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।এদিকে কক্সবাজারের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে এক মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনও চেম্বার জজ আদালতে স্থগিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। আইভীর জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ৯ মার্চ এবং বদির বিষয়ে শুনানির জন্য ২০ এপ্রিল দিন ঠিক করে দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি।এর আগে, বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি আইভীকে জামিন দেয়। পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আইভীকে। সেগুলো হলো ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়।গত বছরের ৯ মে ভোর রাত ৩টার দিকে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।আর বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি বদিকে জামিন দিয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কক্সবাজারের টেকনাফে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।এফএস
প্রবাস
সব দেখুন
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. বেলায়েত কাজী (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে দেশটির পেরাক অঙ্গরাজ্যের ইপোহ শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত বেলায়েত ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিঘাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত ইউসুফ কাজীর ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ইপোহ শহরে সড়ক সংস্কার কাজ করছিলেন বেলায়েত। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক গাড়িটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে বলে জানা গেছে।স্বজনরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বেলায়েত। তবে শুরুতেই নানা প্রতারণার শিকার হন তিনি। নির্ধারিত কর্মস্থলে কাজ না পেয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন নির্মাণ ও সড়ক মেরামতের কাজে যুক্ত হন। সম্প্রতি ইপোহ এলাকায় সড়ক সংস্কার প্রকল্পে কাজ করছিলেন তিনি।বেলায়েতের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দেশে থাকা স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা কামনা করেছেন।ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আহমদ মুন্সী জানান, সকালে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে প্রবাসীদের মধ্যে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। তারা দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।এইচএ
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ইফতারে বানিয়ে ফেলুন ঝটপট পটেটো চিজ বল
প্রতিদিন ইফতারে একই খাবার খেতে কারই বা ভলো লাগে। তাই ইফতারে স্বাদের পরিবর্তন আনতে চট জলদি বানিয়ে ফেলুন মজাদার পটেটো চিজ বল। অল্প সময়ে খুব সহজ উপকরণে এই চিজ বল ঘরেই বানিয়ে ফেলুন। চলুন জেনে নেয়া যাক পুরো রেসিপিউপকরণ:১. সেদ্ধ আলু ২ কাপ২. কর্ণফ্লাওয়ার ৩ টেবিল চামচ৩. মোজারেলা চিজ কিউব প্রয়োজন অনুযায়ী৪. গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ৫. চিলি ফ্লেক্স অথবা কাঁচামরিচ কুচি ১ চা চামচ৬. ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ৭. লবণ স্বাদমতো৮. ডিম ১টি৯. ব্রেডক্রাম্ব বা বিস্কুটের গুঁড়া ১ কাপ১০.তেল প্রয়োজনমতোপ্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে সেদ্ধ আলু ভালো করে ম্যাশ করে নিন। এরপর এতে লবণ, গোলমরিচ, চিলি ফ্লেক্স, কুচি করা ধনেপাতা ও কর্ণফ্লাওয়ার যোগ করে ভালোভাবে মেখে নিন।এরপর হাতের তালুতে সামান্য তেল মেখে আলুর মিশ্রণ থেকে অল্প পরিমাণ নিয়ে চ্যাপ্টা করুন। মাঝখানে এক টুকরো চিজ রেখে চারপাশ থেকে আলু তুলে ভালোভাবে মুড়িয়ে গোল বল বানিয়ে নিন।বলগুলো প্রথমে ফেটানো ডিমে ডুবিয়ে নিন,এরপর ব্রেডক্রাম্বে বলগুলো কোট করে নিন। বলগুলো তৈরি হয়ে গেলে ৩০ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। এতে ভাজার সময় বল ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে।এরপর মাঝারি আঁচে পরিমান মতো দিয়ে তেল গরম করে বলগুলো সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন।এইচএ
