নির্বাচনের আগে সুসংবাদ পেলেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) শিক্ষক ও কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক ব্যাংকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অর্থ শাখা থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক আজ অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।এতে করে শিক্ষক-কর্মচারীরা পরবর্তী কার্যদিবসে নিজ নিজ ব্যাংক থেকে জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন।এফএস
যমুনার সামনে দাবি আদায়ে ‘অনড়’ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে ওসমান হাদির স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় যমুনার সামনে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত পৌনে ৯টা) দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তারা।ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এ কারণে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চারবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পিছিয়েছে। দেশে নির্বাচনের আমেজে তাদের শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সরকার ব্যস্ত থাকলেও, যাদের মাধ্যমে দেশে সরকার এসেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করতে পারছে, সেই সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলগুলো কেউই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিচার না করে, তাহলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।’যমুনার সামনে দাবি আদায়ে ‘অনড়’ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা নির্বাচনের আগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বদলিডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ইনকিলাব মঞ্চ সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বারবার সবাই হাত গুটিয়ে নিয়েছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ ও শহীদের স্ত্রী যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘অসহযোগিতা বাড়তে থাকলে ইনকিলাব মঞ্চ জনগণের সহায়তা নেবে এবং সারা দেশের জনগণকে নিয়ে যমুনার সামনে অবস্থান করবে। পরিস্থিতি সামলানোর দায়ভার সরকারের।’এফএস
জাতীয়
সব দেখুন
অবশেষে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত জানাল ইসি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমান সাংবিধানিক বাস্তবতায় নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ইসি সদস্য আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ কার্যত শূন্য থাকায় সংবিধানের বিশেষ বিধান অনুযায়ী সিইসিই শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালন করবেন।সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত আগের সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গত ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। অপরদিকে, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি।সংবিধানের ৭৪(৬) অনুচ্ছেদে বলা আছে, নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হচ্ছে।সংবিধানের ১৪৮(১) ও ১৪৮(২) অনুচ্ছেদে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিধান রয়েছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় প্রযোজ্য হচ্ছে ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ। এতে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত কেউ শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারবেন।এ ছাড়া সংবিধানের তপশিল-৩ অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়েই দায়িত্বে না থাকলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শপথ পড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। এই বিধান অনুযায়ীই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।এফএস
আমির হামজার ফেসবুক পেজ বন্ধ করল মেটা
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ বন্ধ করেছে মেটা কর্তৃপক্ষ। কপিরাইট স্ট্রাইকে সাইবার হামলার মাধ্যমে তার পেজটি অপসারণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া শহর শাখার আমির এনামুল হক।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আমাদের সকল অনুসারী, শুভানুধ্যায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, মুফতি আমির হামজার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ গত কয়েকদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির পরিকল্পিত ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক ও সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে পেজটি অপসারণ করেছে। এটি কোনো নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে নয় বরং উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ ও ভুয়া রিপোর্টিংয়ের ফল।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চিহ্নিত মহল এই ন্যাক্কারজনক কাজটি করেছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- ফেসবুক থেকে একটি পেজ সরিয়ে দিলেও মানুষের হৃদয় থেকে আমির হামজাকে সরানো যাবে নাএতে আরও জানানো হয়, ইতোমধ্যে পেজ পুনরুদ্ধারের জন্য মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এনামুল হক জানান, আমাদের সকল সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ ভুয়া আইডি, গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্য ও সচেতনতা বজায় রাখুন। ইনশাআল্লাহ, সত্যের বিজয় হবেই।এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করার প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া শহর শাখার আমির এনামুল হক।এমআর-২
১০ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা যেসব কারখানা কার্যকর করবে, তারা চাইলে পরবর্তীতে যেকোনো একদিন শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, ‘জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা যেসব কারখানা কার্যকর করবে, তারা প্রয়োজনে পরবর্তীতে যেকোনো দিনে শ্রমিকদের দিয়ে একদিন কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে।’এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিজিএমইএ'র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।এমআর-২
আমিরের এক্স আইডি হ্যাক: বঙ্গভবনের সেই কর্মকর্তার জামিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স' (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালত এই আদেশ দেন।গত মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশলাইন্স অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশের সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে বঙ্গভবনের কর্মী ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হয়। পরদিন প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয় ও কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিয়েই গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণও আমাদের হাতে রয়েছে। গ্রেপ্তার কর্মকর্তার ব্যবহৃত সব ধরনের ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, জব্দ সব ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা হয়েছে। যার সঙ্গে পূর্বের করা জিডি মার্জ হয়ে গেছে। হ্যাক ইস্যুতে কোনো অপতথ্য না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে। প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি রাতে জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেখা যায়। পরে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্ট সরিয়ে নেয়াও হয়। জামায়াত বিবৃতি দিয়ে জানায়, সাইবার হামলা করে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।এমআর-২
নির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রুতই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে: প্রেস সচিব
যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এটা ৩ দিনের মধ্যেও হতে পারে। তবে ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।সরকার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, এই সরকারের আমলে রেকর্ড সংখ্যক আইন পাশ হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে গুম উঠে গেছে।তিনি বলেন, নির্বাচনের আমেজ খুব উৎসবমুখর হচ্ছে। কোথাও তেমন কোন সহিংসতা হয়নি। বেশ ভালো নির্বাচন হবে।এ সময় নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো অপ তথ্য ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।এমআর-২
পেছাচ্ছে না বইমেলা, শুরু ২০ ফেব্রুয়ারিই
এবারের অমর একুশে বইমেলা পূর্বনির্ধারিত সময় ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হবে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। একই সঙ্গে পবিত্র রমজান মাসে মেলা আয়োজন করায় মেলা প্রাঙ্গণে ইফতার, নামাজ ও তারাবির ব্যবস্থা রাখা হবে।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। প্রকাশকরা ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের যে দাবি জানিয়েছেন, তার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, দীর্ঘকাল ধরে একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি প্রকাশক ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বয়ে ভাষাশহীদদের স্মরণে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে আসছে। মাসব্যাপী এই বইমেলা ও অনুষ্ঠানমালা এখন আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু অনিবার্য বাস্তবতার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এ বছর বইমেলা ১ ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা সম্ভব হয়নি। বইমেলা শুরু হচ্ছে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে।‘তাই সামগ্রিক বাস্তবতার আলোকে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারিতেই বইমেলা শুরু হবে। আমরা এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেলার সময় নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশকারী সম্মানিত প্রকাশকদের অনুরোধ করছি কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও বইমেলায় অংশ নিতে এগিয়ে আসার জন্য।’এমআর-২
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম
ভারতীয় ভিসা দিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার আইভ্যাক। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন ব্যবস্থায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইস্যু শুরু হয়েছে। এদিন দুপুর ১২টায় সাইনআপ খোলা হয়েছে এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লটগুলির বুকিং সন্ধ্যা ৬টায় খোলার কথা। আজ ৮ ফেব্রুয়ারির অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করা যাচ্ছে। নতুন এই সিস্টেমে পরের দিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে মিলবে। তবে, সেক্ষেত্রে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সাইনআপ করে ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। এর আগে, আইভ্যাক এক নোটিশে জানায়, বৃহস্পতিবার একটি নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। নতুন সিস্টেমের লিংকটি অফিসিয়াল আইভিএসি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এবং পরবর্তী তারিখগুলোর জন্য সমস্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট এই নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে বুক করা হবে। সব আবেদনকারীকে সফলভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার জন্য জারি করা নির্দেশিকাগুলো সাবধানতার সঙ্গে অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করেছে আইভ্যাক।আবেদনকারীদের সাইন-আপ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করার জন্য বিকাল সাড়ে ৫টার আগে প্রয়োজনীয় ওয়েব ফাইলগুলো আপলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের শুরুতেই জাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট গ্রহণ করা থেকে বিশেষ নির্দেশনা জানানো হয়েছে এবং সাইনআপ বাটনে ক্লিক করে ভিসার ওয়েব ফাইলে থাকা ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে সাইনআপ করতে বলা হয়েছে। সাইনআপ করার একটি ওটিপি এসএমএসে যাবে এবং আরেকটি যাবে ইমেইলে। প্রথমে ইমেইলের ওটিপি এবং পরবর্তী সময়ে মোবাইল এসএমএসের ওটিপি সাবমিট করার মাধ্যমে ইমেইল এবং মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে সাইনআপ করতে হবে। বিকাল সাড়ে ৫টার আগে সাইনআপ না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।সাইনআপ শেষ হলে মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর মোবাইলে ওটিপি পাঠানো হবে। ওটিপি দিয়ে প্রবেশ করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতা চলে আসবে। সেখানে প্রথমে ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হবে। ডকুমেন্টগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে। আপলোড করার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। লগইন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের জন্য নির্বাচিত একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট দেখাবে। সেটি পরিবর্তন করতে চাইলে একবার বদলানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক হওয়ার পর ভিসা অনুযায়ী ফি পেমেন্ট করতে হবে।এইচএ
কার কাছে শপথ নেবেন নতুন সংসদ সদস্যরা, যা জানালেন আইন উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যরা (এমপি) রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নিতে পারেন বলেও জানিয়েছেন উপদেষ্টা।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা (নতুন এমপিরা কার কাছে শপথ নেবেন) সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, এ বিষয়ে এখন চূড়ান্ত কিছু বলতে পারবো না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ পড়াবেন। সে ক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে, তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।’তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন যারা সংসদ সদস্য হবেন ইনশা আল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনের পর তাদের শপথ গ্রহণ করানোর কথা হচ্ছে স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। তারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে। এখন আমাদের এখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন জেলে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে এবং তারা পদত্যাগও করেছেন, বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এই অবস্থায় তাদের দ্বারা শপথ গ্রহণ করার কোনো রকম স্কোপ আছে বলে আমি মনে করি না।আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের আইনে আছে তারা (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন তাহলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। এটা হচ্ছে এক। দুই হচ্ছে তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয় তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।এখন বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে আলোচনা হবে জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, তিনি আসবেন, তার সঙ্গে কথা বলবো। আইনটা দেখবো। তারপর চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টাকে আমার অভিমত জানাবো।এমআর-২
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
‘দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের হাত থেকে দখলমুক্ত করার জন্য।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বড়ঘোপে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থীর সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পরে যারা নতুন করে চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের নীতি নিয়েছে, তারাই বাংলাদেশের 'নতুন জালেম' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই জালেমদের রুখে দেওয়ার দিন হচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের সরকার কে গঠন করবে তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ, দিল্লি থেকে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না এবং এদেশে আর কখনও দিল্লির দাদাগিরি চলবে না। তিনি বলেন, আমাদের এই নির্বাচনী লড়াই শুধু কক্সবাজার-২ আসনের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।এমআর-২
‘দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের হাত থেকে দখলমুক্ত করার জন্য।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বড়ঘোপে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থীর সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পরে যারা নতুন করে চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের নীতি নিয়েছে, তারাই বাংলাদেশের 'নতুন জালেম' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই জালেমদের রুখে দেওয়ার দিন হচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের সরকার কে গঠন করবে তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ, দিল্লি থেকে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না এবং এদেশে আর কখনও দিল্লির দাদাগিরি চলবে না। তিনি বলেন, আমাদের এই নির্বাচনী লড়াই শুধু কক্সবাজার-২ আসনের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।এমআর-২
‘বিএনপির বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে ‘প্রোপাগান্ডা বট’ তৈরি করা হয়েছে’
প্রযুক্তির মাধ্যমে আজ ‘প্রোপাগান্ডা বট’ বলে একটা জিনিস তৈরি হয়েছে। এই প্রোপাগান্ডা বট দিয়ে মানুষের চরিত্রহনন, কুৎসা রটনা ও অপপ্রচারের যেন শেষ নেই। তবে অপপ্রচার আর মিথ্যা দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির শেকড় উপড়ে ফেলা যাবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শিল্পকলার চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।রুহুল কবির রিজভী বলেন, সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনটা আমাদেরকে একটা সংগ্রামের মতো বিজয় ঘটাতে হবে। কারণ চারিদিকে নানা চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, মিথ্যাচার এবং আজ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা বট বলে একটা জিনিস তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করল, যারা গুপ্ত এবং সুপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগের বোরখার নিচে থাকেনি, আওয়ামী লীগের আবরণের মধ্যে যারা থাকেনি, যারা সত্য এবং ন্যায়কে সুস্পষ্টভাবে রুদ্রালোকের মধ্যে যারা বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আজ কেন জানি মনে হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে এক ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির শেকড় এত গভীরে যে, একটা গাছ বা বটগাছের যে শেকড় যতদূরে যায়, তার চাইতেও অনেক গভীরের শেকড়। এই শেকড়কে অপপ্রচার দিয়ে মিথ্যার ঝলকানি দিয়ে এটিকে ঢেকে রাখা যাবে না। এটাকে নুইয়ে ফেলা যাবে না। এটা একেবারে সোজা মেরুদন্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।তিনি নেতা বলেন, এই সমস্ত কুৎসা, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমাদের কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গীতিকার, অভিনয় শিল্পী, সুরকার যারা আছেন- সবাই মিলে আপনাদের সুললিত ধ্বনি, আপনাদের অত্যন্ত শক্তিশালী শব্দ সবগুলোকে ব্যবহার করে আমরা এই অপপ্রচারের যে কষাঘাত চলছে, সেটাকে আমরা পরাজিত করবো। আমরা সত্য, ন্যায় এবং ধানের শীষের নিশ্চিত বিজয় ঘটাতে সক্ষম হবো।জাসাস নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, সবসময় বলেছি তোমাদেরকে মিছিল করতে হবে না। তোমাদের এই স্লোগান দেওয়ার দরকার নাই। তোমরা যারা এখানে আছো, তাদের অবশ্যই আমরা বুঝবো। জাসাসের প্রোগ্রামে এলেই বুঝবো, এখানে আমি কবিদের মাঝে এসেছি। এখানে আমি লেখকদের মাঝে এসেছি। এখানে আমি কন্ঠশিল্পীদের মাঝে এসেছি। এখানে গীতিকারদের মাঝে এসেছি এবং এই তাদের যে সান্নিধ্য, আমাকে আমার যে বর্তমান সাংস্কৃতিক অবস্থান, সে সাংস্কৃতিক অবস্থানকে পরিবর্তন করে দেয়। রুচির পরিবর্তন করে দেয়। এই সমস্ত ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে থাকলে একজন মানুষের রুচির পরিবর্তন হতে পারে। তার যে ভাষা এবং শব্দ, তার কন্ঠের সুর, তার উদ্দীপনামূলক গান সবকিছুই একজন মানুষ সে যে সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসে, সেই সামাজিক অবস্থানটার পরিপূর্ণ পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে একেবারে এক অসাধারণ উন্নত রুচিসম্পন্ন মানুষে পরিণত করতে পারে।এমআর-২
প্রধানমন্ত্রী অপরাধ করলে তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াতে আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে বিচার-শাস্তি হবে, একজন প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী সেই অপরাধ করলে তাদেরকেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা বাংলাদেশে সেই বিচার কায়েম করতে চাই। এ বিচার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সবার জন্য সমান। আমরা বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।জামায়াত আমির বলেন, তিস্তা পাড় থেকে শুরু করে সমুদ্র পাড়, জাফলং থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সব জায়গায় আজ মুক্তির পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে, মানবিক বাংলাদেশের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই চাঁপাইনবাবগঞ্জ তার গর্বিত অংশীদার। তিনি বলেন, কেন এই গণজোয়ার। মানুষ বিগত ৫৪ বছর শাসন আর অপশাসন তা দেখেছে, দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এখন বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। পুরনো বন্দোবস্তের রাজনীতি আর দেখতে চাই না। জুলাই যোদ্ধারা সেদিন রাস্তায় নেমে বলেছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, আমরা সর্বক্ষেত্রে সেই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত রাষ্ট্রের দায়িত্বে গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করে গড়ে তোলা হবে। সভায় জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের দলীয় তিন প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে তাদেরকে বিজয়ী করতে সকলকে আহ্বান জানান।এইচএ
রাজধানীতে বিএনপির নির্বাচনি সমাবেশ ৮ ফেব্রুয়ারি
রাজধানী ঢাকায় আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি জনসমাবেশ করবে বিএনপি। ওইদিন দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে এ জনসমাবেশে বক্তব্য রাখবেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান।সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মীরা এ জনসমাবেশে অংশ নেবেন। দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হবে।এছাড়া আগামীকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা হবে বলেও জানান তিনি।দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য এবারে নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষের পক্ষে রায় দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। রিজভী বলেন, কোনো চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করে বিএনপির অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলবে।এইচএ
তারেক রহমানের উদ্দেশে বিদিশার খোলা চিঠি
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা। সোমবার তিনি এই চিঠিটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেন। তারেক রহমানের উদ্দেশে সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি আজ বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং অনেক নাগরিকের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আপনাকে একজন আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী নেতা হিসেবে দেখতে চায়।তারা বিশ্বাস করতে চায় যে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অগ্রসর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’তিনি লেখেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনি বিভিন্ন সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—বিশেষ করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট এবং পরবর্তী সময় ‘ঘরে ঘরে ফ্রি ইন্টারনেট’ নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। পাশাপাশি কড়াইল বস্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এজন্য অনেক নাগরিক আপনাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।তবুও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি আপনার কাছে কয়েকটি বিনীত প্রশ্ন রাখতে চাই—এই প্রশ্নগুলো সমালোচনা নয়, বরং আপনার পরিকল্পনাকে আরো ভালোভাবে বোঝার আগ্রহ থেকে।”‘প্রথমত, বাংলাদেশ প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশ। এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য দেশব্যাপী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করা প্রযুক্তিগত ও আর্থিকভাবে বিশাল চ্যালেঞ্জ। আপনি কি দয়া করে সংক্ষেপে জানাবেন—এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার সরকার কী ধরনের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক মডেল বিবেচনা করছে?’‘দ্বিতীয়ত, দেশের টেলিকম অপারেটররা বর্তমানে ইন্টারনেটকে ব্যবসা হিসেবে পরিচালনা করে।এই প্রেক্ষাপটে সরকার কীভাবে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করবে—সেটি জানার জন্য নাগরিকদের কৌতূহল রয়েছে। আপনি কি মনে করেন, এটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব?’‘তৃতীয়ত, অনেকেই সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দেন। তবে সিঙ্গাপুরের আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কাঠামো বাংলাদেশের তুলনায় ভিন্ন। আপনি কোন আন্তর্জাতিক মডেলকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মনে করেন—তা জানলে জনগণ আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ভালোভাবে বুঝতে পারবে।’‘একই সঙ্গে আমি বিনীতভাবে কিছু বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা তুলে ধরতে চাই—যদি আপনি উপযুক্ত মনে করেন, এগুলো বিবেচনা করতে পারেন: সারা দেশে পাবলিক ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন সম্প্রসারণ, নিম্ন-আয়ের পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে দ্রুত ইন্টারনেট, গ্রামাঞ্চলে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিস্তার, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইন্টারনেট সুবিধা।’বিদিশা লেখেন, ‘জনাব তারেক রহমান, আপনার প্রতিশ্রুতি মানুষের মনে প্রত্যাশা জাগিয়েছে—এটি সত্য। সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে আপনার পরিকল্পনার স্বচ্ছ রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরলে তা আরো বেশি আস্থা তৈরি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনি এই প্রশ্নগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং ভবিষ্যতে আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃষ্টিভঙ্গি আরো স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করবেন। আমি একজন স্পেশাল চাইল্ড এর মা, আমার সন্তান এরিক এরশাদ যখনই জানতে পেরেছে আপনি ঘরে ঘরে ফ্রি ইন্টারনেট পৌঁছে দিবেন সে খুব খুশি হয়েছে ( যদিও তার প্রয়োজন নেই) , কারণ তার লেখাপড়া, গান বাজনা সবকিছু ইন্টারনেট নির্ভরশীল।’শ্রদ্ধাসহ, একজন সচেতন নাগরিক; বিদিশা এরশাদ (এরিক এরশাদের মা)।’এইচএ
ইরানের মতো হিজাব আইন সাধারণ মানুষ চাইলে সমর্থন করবে জামায়াত
এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি।এরমধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল— অনেক বাংলাদেশির ভয় যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে বর্তমানে তাদের যে জীবনযাত্রা রয়েছে সেটি পরিবর্তন হয়ে যাবে। জামায়াত নৈতিকতার পুলিশিং করবে। তারা হয়ত নারীদের ওপর হিজাব চাপিয়ে দেবে। এ ব্যাপারে আপনার জবাব কি?জবাবে জামায়াতের এ নেতা বলেন, “এটি সঠিক নয়। এর বদলে আমাদের নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ পরিবেশ পাবেন। তারা সম্মান ও মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার সুরক্ষা করা হবে।”“আমাদের আমির প্রস্তাব দিয়েছেন যেসব মায়ের শিশু সন্তান রয়েছে তারা কম সময় কাজ করবেন। কিন্তু সরকারি তহবিলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বেতন পাবেন।”“আমাদের তৈরি পোশাক খাতে ৫০ লাখের বেশি নারী কাজ করেন। কিন্তু তাদের জন্য কোনো নিরাপদ পরিবেশ নেই। তাদের শিশু সন্তানদের জন্য কোনো ডে কেয়ার নেই। তাদের ব্যাপারে কেউ ভাবেন না। ফলে বাধ্য হয়ে নিজেদের শিশুদের তারা ফ্যাক্টরিতে নিয়ে আসেন। নারীদের জন্য আমাদের নীতিগুলো বৈজ্ঞানিক, মানবিক এবং বাস্তববাদী।”ক্ষমতায় আসলে হিজাব নিয়ে কী নীতি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, “নারীরা যেটি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, তারা যেটিকে মনে করবেন তাদের জন্য মানানসই, তারা সেটিই পরবেন। আমরা কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না। একজন নারী হিজাব পরতে পারেন, আরেকজন চাইলে না পরতে পারবেন।”“এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ আসবে না। একজন নারী তার স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং শিক্ষা অনুযায়ী পোশাক নির্ধারণ করবেন। কোনটি ভালো, কোনটি খারাপ, সে সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন।”তাকে প্রশ্ন করা হয়— ইরানে বাধ্যতামূলকভাবে হিজাব পরার আইন রয়েছে। আপনি কি এটি ভুল মনে করেন?জবাবে তিনি বলেন, “আমি বলছি না এটি ভুল। প্রত্যেক দেশের আলাদা আইন আছে, নীতি আছে। সাধারণ মানুষের সমর্থন অনুযায়ী এগুলো করা হয়েছে।”“বাংলাদেশ তার সংবিধান অনুযায়ী চলে। ভারত তার সংবিধান অনুযায়ী চলে। ইরান তার সংবিধান অনুযায়ী চলে। সৌদি আরবের নিজস্ব আইন আছে।”যদি একদিন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষ হিজাব (আইন) চায়? জবাবে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলন বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যদি ভবিষ্যতে হিজাব আইন চায়, আমরা এটি করব। এটি কেন একটি সমস্যা হবে। যদি মানুষ চায় আমরা এটি করব। কেন নয়?”“বাংলাদেশে ইসলামিক দল আছে, আবার সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টিও আছে। তারা সমাজতন্ত্র কায়েম করতে চায়। যদি মানুষ সমাজতন্ত্র চায়, তাহলে সমাজতন্ত্র হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাজতন্ত্র হয়েছে। হয়নি কি? অনেক মুসলিম প্রধান দেশে সমাজতন্ত্র আছে? নাকি নেই?”“এটি হলো গণতন্ত্রের সৌন্দয্য। মানুষ চিন্তাশক্তি, বুদ্ধি ও বিচার দিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা সেটিকে সম্মান জানাব।” সূত্র: স্ক্রলএবি
’আমি প্রথম বিদ্রোহ করেছি, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ঠিক আছে’
এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, আমি প্রথম বিদ্রোহ করেছি, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ঠিক আছে, কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি ঠিক আছে।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১১-দলীয় জোটের এক সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, জামায়াতের আমির কোথাও বলেননি যে তিনি (কর্নেল অলি) স্বাধীনতার ঘোষক। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় কর্নেল অলি বলেন, তিনি বলেছেন, প্রথম বিদ্রোহ হয়েছে এটা সত্য।এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আয়োজিত এক সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং চট্টগ্রাম থেকেই প্রথম ‘We revolt’ বলে বিদ্রোহ করা হয়। ওই বক্তব্যে তিনি কর্নেল অলি আহমেদের নাম উল্লেখ করে তাকে স্বাধীনতার ঘোষণাদাতা হিসেবে উপস্থাপন করেননি বলেই কর্নেল অলি তার বক্তব্যে বলেছেন।একই দিন জামায়াত আমিরের ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে লোহাগাড়ায় ১১-দলীয় জোটের আরেক সমাবেশে কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আমি বিদ্রোহ ঘোষণা করি। এই বক্তব্যগুলোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দাবি করেন, জামায়াতের আমির নাকি কর্নেল অলি আহমেদকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।তিনি দাবি করেন, তবে চট্টগ্রাম বন্দরের সমাবেশের ভিডিও যাচাই করে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমান শুধু বলেছেন চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়, তিনি কোথাও কর্নেল অলি আহমেদের নাম উল্লেখ করেননি।রাঙ্গুনিয়ায় দেওয়া বক্তব্যে কর্নেল অলি আহমেদ আরো বলেন, ডা. শফিকুর রহমান কারও সম্মানহানিকর কোনো কথা বলেননি। তিনি বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন।এফএস
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
শাহজালাল বিমানবন্দর: সক্ষমতার দ্বিগুণ চাপে স্থবির যাত্রী সেবা
আকাশ পথে দেশের প্রধান বহির্গমন পথ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যায় রেকর্ড গড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তি। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অনিশ্চয়তা এবং আকাশচুম্বী বিমানভাড়ার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীরা। বার্ষিক ৮০ লাখ যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে এই বন্দর এখন প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ যাত্রীর চাপ সামলাচ্ছে!বিমানবন্দর সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন অন্তত ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ এবং ২০২৩ সালে ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ১.৮ শতাংশ। মোট যাত্রীর বড় অংশই (১ কোটি ৩১ হাজার ২০০ জন) আন্তর্জাতিক রুটের, যা মূলত প্রবাসীদের ওপর বিমানবন্দরের নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করে। বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী সেবা দিচ্ছে বিমানবন্দরটি! যাত্রী বাড়লেও বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল এখনো চালু না হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। অপারেটর নিয়োগ নিয়ে জটিলতা থাকায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এর সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ফলে আধুনিক সেবার সুফল পেতে আরও দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।অন্যদিকে সরকারের নানা নির্দেশনার পরও টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। ট্রাভেল এজেন্টরা জানিয়েছেন-মধ্যপ্রাচ্যের টিকিটের দাম ৩৫–৪০ হাজার থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭৫–৮০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক রুটের ৬৬ শতাংশ বাজার বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে থাকায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়িয়ে আসন সংকট দূর না করলে ভাড়া কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে শীতকালীন ঘন কুয়াশার সাথে যোগ হয়েছে কারিগরি ত্রুটি। গত ২৯ অক্টোবর রানওয়ের লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আইএলএস (ILS) ক্যাটাগরি-২ থেকে ১-এ নেমে এসেছে। এতে ৫০০ মিটারের পরিবর্তে ১,২০০ মিটার দৃশ্যমানতা ছাড়া ফ্লাইট নামতে পারছে না। ফলে প্রায়ই ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হচ্ছে, যা পরবর্তীতে টার্মিনালে অতিরিক্ত ভিড় ও ট্রলি সংকটের সৃষ্টি করছে।কাতার প্রবাসী এক যাত্রী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমাদের বিমান বন্দরে যত বিমান উঠানামা করে তার কয়েকগুন আন্তর্জাতিক বিমান কাতারের বিমান বন্দরে উঠানামা করে। তারপরও সেখানে কোন ভোগান্তির শিকার হতে হয়না । এর প্রধানতম কারণ সেখানে সব কিছু নিয়মের মধ্যে হয় এবং যারা দায়িত্বশীল আছেন তারা তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করেন। আর আমাদের দেশে আসলে এটা বিমান বন্দর না কোন হাটবাজারের দৃশ্য দেখে বুঝার উপায় নেই। ডিজিটাল প্রযুক্তি বসানো হলেও সেগুলোর ব্যবহার কার্যত না হওয়ায় সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হচ্ছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ই-গেটে পাসপোর্ট স্ক্যান করার সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে যায়। এরপর যাত্রী ই-গেটের মনিটরে তাকালে পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাই হয়। এ প্রক্রিয়া শেষে যাত্রীকে যেতে হয় ইমিগ্রেশন পুলিশের ডেস্কে। সেখানে আবার তাঁর তথ্য যাচাই করা হয়। ছবি তোলা ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখার পর পাসপোর্টে বহির্গমন সিল দেওয়া হয়।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ই-গেট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা নেই। এ জন্য ই-গেট পার হয়েও যাত্রীকে আবার ইমিগ্রেশন ডেস্কে যেতে হচ্ছে।জানা যায়, সাধারণত বিদেশগামী যাত্রীর নাম-পরিচয়, পাসপোর্ট, ভিসা নম্বরসহ ২১ ধরনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিললে তিনি ই-গেটের চার ধাপ পেরোতে পারবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অন্য কোনো কর্মকর্তার সহযোগিতা তাঁর লাগার কথা নয়। ই-গেটই বলে দেবে যাত্রীর সব তথ্য ঠিক আছে। অথচ সেখানে ম্যানুয়্যালি আবার কাজ করতে হচ্ছে ফলে বাড়তি যাত্রীদের সামলানোর ক্ষেত্রে ই-গেট যেভাবে ভুমিকা রাখতে পারতো সেভাবে পারছে না।এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের দ্রুত ও আধুনিক ইমিগ্রেশন সেবা দিতে ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট চালু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুটি স্থলবন্দরে মোট ৪৪টি ই-গেট স্থাপন করা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ২৬টি ই-গেট রয়েছে। কেন ই-গেটের সুফল যাত্রীরা পাচ্ছেন না– এমন প্রশ্নে ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ই-গেটে যাত্রীর বিদেশযাত্রার সরকারি আদেশ, শ্রম ভিসায় যাদের জনশক্তি, তাদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সনদ, গন্তব্যস্থলের ঠিকানা বা নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই যাত্রীদের ইমিগ্রেশনে এসবির ডেস্কে গিয়ে এসব তথ্য যাচাই করতে হয়। এ জন্য পুরোপুরি ই-গেটের মাধ্যমে যাত্রীর ইমিগ্রেশন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।এতসব সংকটের মধ্যেও কিছু আশার কথা শুনিয়েছেন আরএমএমআরইউ-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি জানান- সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ও হটলাইন চালুর ফলে হয়রানি কিছুটা কমেছে। লাগেজ হ্যান্ডলারদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য দুটি বিশেষ লাউঞ্জ ও ভর্তুকি মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ জানান, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ট্রলি সংকট ও যানজটকে তিনি সাময়িক বলে উল্লেখ করেন। নিরাপত্তা এবং যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।পিএম
বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করতে গিয়ে হাসিনা নিজেই অস্তিত্বহীন: এসএম জাহাঙ্গীর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, পলাতক হাসিনা বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আজ তিনি নিজেই অস্তিত্বহীন হয়ে গেছেন। জুলুম-নির্যাতনের ফল কখনোই ভালো হয় না, আর তার প্রমাণ তিনি নিজেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর দক্ষিণখান ৪৭নং ওয়ার্ডের ফায়দাবাদ চৌরাস্তা প্রাঙ্গণে নির্বাচনের ১৩তম দিনের প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরুর আগে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।বক্তব্যে এস এম জাহাঙ্গীর বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে। তিনি বলেন,"আমরা যখন ফ্যাসিস্ট সরকারের মিথ্যা মামলায় জেলে ছিলাম, তখন সেখানে আলেমদের সাথে আমাদের দেখা হতো। এই সরকারের জুলুমের কারণে বিএনপির বহু নেতাকর্মীর পরিবার আজ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। ভবিষ্যতে আর কোনো নেতাকর্মী যেন এমন অন্যায়ের শিকার না হয়, আমি সেই চেষ্টা করবো।বিগত নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পলাতক হাসিনার আমলে আপনারা আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবার সময় এসেছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবেন।দক্ষিণখান এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, এই এলাকাটি বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। আমি যদি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারি, তবে এই এলাকার প্রতিটি সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করার কাজ শুরু করবো।গণসংযোগ ও পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম.কফিল উদ্দিন। এছাড়া দক্ষিণখান ও উত্তরখান থানা এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পথসভা শেষে তিনি বিশাল এক মিছিল নিয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়কে গণসংযোগ করেন।পিএম
রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নের কারণ জানাল তিতাস
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থার উন্নতি কখন হবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর শনির আখড়া, রায়েরবাগ, হাবিব নগর এলাকায় উচ্চচাপ বিশিষ্ট গ্যাস পাইপলাইন থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ চলছে। এ অবস্থায় ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।গ্রাহকদের এ সমস্যার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। এমআর-২
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্রি ইন্টারনেট পাবে সবাই: মাহদী আমিন
বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে সবার জন্য বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। পাশাপাশি দলটি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতেও কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে।’তিনি আরও জানান, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি।’তিনি আরও বলেন, ‘যারা মেধাবী তাদের জন্য জুতসই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো রেখেছেন।’ আরডি
‘কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে'
শেখ হাসিনার হাত থেকে দেশ পরিত্রাণ পেয়েছে। পাশাপাশি কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনের আনন্দ ভবনে বায়রা ও হাব নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কিছু ছেলে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলছে। ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম না নিলেও তারা আমার নাম নেয়। আরে ভাই, ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম নাও, প্রশংসা করো।’তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা ৮ আসনে তারা এমন কিছু করতে চাচ্ছে যাদের সারাদেশের ভোট বন্ধ হয়ে যায়। তবুও আমরা ধৈর্য ধরে আছি, সহ্য করে আছি। কিন্তু ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গবে না। বিএনপি স্বচ্ছ নির্বাচন চায়।’তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কেউ দান করেনি। কেউ কেউ বলে ৫ আগস্ট সবকিছু করে ফেলেছে, অথচ ১৭ বছর আমরা কী পরিমাণ ত্যাগ করেছি। শেখ হাসিনা পালানোর পালানোর পর আমাদের যেই রকম ভালো থাকার কথা ছিলো, সেই রকম ভালো আমরা নেই। কোন স্বার্থের জন্য মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারেনি।’এসময় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের পর যদি ১২ ঘন্টার বেশি ফল দিতে দেরি করে, সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। এজন্য ভোটের আগে দরকার হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেন্দ্র ভিত্তিক ফল ঘোষণার আগে কোন পোলিং এজেন্ট কেন্দ্র ছাড়বে না।’
গ্রামাঞ্চলে অন্ধকারে গণভোট
আর মাত্র ছয় দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত প্রচার–প্রচারণায়। নিজ দলের পক্ষে ভোট চাইতে প্রার্থীরা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। চলছে মিছিল ও সমাবেশ। তবে একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট সম্পর্কে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো রয়ে গেছেন অস্পষ্টতায়।সচেতন ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে কিছুটা ধারণা থাকলেও গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত ভোটারদের অনেকেই জানেন না ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ কিংবা এটি কীভাবে দিতে হবে। ফলে গণভোট নিয়ে তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।আসন্ন নির্বাচনে সীমান্ত জনপদ শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোর–১ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।এই আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যশোর–১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।বেনাপোল ও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোটের বিষয়টি তেমন আলোচনায় নেই। অধিকাংশ ভোটারই জানিয়েছেন, তাঁরা শুধু নিজেদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেবেন।সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকেরই। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানানো হলেও বাস্তবে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে তেমন কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি।প্রার্থীরাও মূলত নিজেদের প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়ে তাঁরা খুব একটা কিছু বলছেন না। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।বেনাপোল পৌরসভার দিঘীরপাড় গ্রামের ভোটার আনিছুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ–না ভোটের কথা আমি কিছুই বুঝি না। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছি। প্রতীক ছাড়া ভোট দেওয়া আমার জন্য কঠিন।’ওই এলাকার ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ‘যাকে ভালো লাগবে তাকেই ভোট দেব।’শার্শার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ–না ভোট সম্পর্কে কিছুই জানি না।’বাগআঁচড়া এলাকার নাজিম উদ্দিন জানান, একদিন ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের প্রচারণার একটি গাড়ি এসেছিল। এরপর আর কোনো প্রচার চোখে পড়েনি।তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতীকেই ভোট দিয়ে আসছি।’যশোর–১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমরা প্রচারের সময় আমাদের প্রতীকের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়েও প্রচার করছি। আমাদের নেতা-কর্মীরাও এ বিষয়ে ভোটারদের জানাচ্ছেন।’জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ আজীজুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিটি সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও প্রচারণায় আমাদের প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়েও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করি, এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হবে।’শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পর্যায়ের সভা-সমাবেশ, মাইকিং, ভোটের গাড়ি ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ ও প্রভাব তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে ভোটারদের বিভ্রান্তি দূর হয়।’ইখা
যশোরে ওয়ান শুটারগানসহ একজন আটক
যশোরে র্যাবের অভিযানে একটি ওয়ান শুটারগানসহ একাধিক মামলার আসামি মারুফ হোসেন আটক হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার মধুগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক মারুফ মধুগ্রাম এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে র্যাব-৬ ও সিপিসি-৩ যশোরের একটি টিম মধুগ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মারুফের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওয়ান শুটার গানসহ মারুফকে (২৭) আটক করা হয়। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মারুফ একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। যা আদালতে বিচারাধীন। অবৈধভাবে শুটার গান রাখার দায়ে তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।ইখা
জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে নড়াইলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়
নড়াইলে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শাফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এ মতবিনিময় করেন জেলা জামায়াত। আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু জানান, আগামীকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ২ টায় শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ জনসভায় আমিরে জামায়াত ডা.শফিকুর রহমান বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরেই চলছে মঞ্চ তৈরি এবং মাইক লাগানোর কাজ। এ জনসভা উপলক্ষে শহরজুড়ে ১০০ মাইক টাঙানো হয়েছে। জনসভা সফল করার লক্ষে ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা জনসভা সফল করতে বিশেষ ধরনের কটি পরে জনসভা স্থলে থাকবেন।বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। জনসাধারণ তার কথা শোনার জন্য অধির অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা আশা করছি জনসভায় লক্ষ্যধীক লোকের সমাগম ঘটবে।এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি ও নড়াইল-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ কায়সার ও প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক ড. খান আব্দুস সোবহান উপস্থিত ছিলেন।পিএম
‘সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ফাদার রিগনের কাছে ঋনী’
‘সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ফাদার মারিনো রিগনের কাছে ঋণী। ফাদার রিগনকে বাদ দিয়ে মোংলাকে ভাবা যায়না। পঞ্চাশের দশকে ফাদার রিগন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে স্কুলে আসার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। ফাদার রিগন না আসলে অনেককেই অন্ধকারে থাকতে হতো।’বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় ফাদার মারিনো রিগনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধি চত্বরে স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন। সেন্ট পল্স ক্যাথলিক চার্চ, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, মোংলা সরকারি কলেজ, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, মোংলা নাগরিক সমাজ, হলদিবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সেবা সংস্থা এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে।ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।এ সময়ে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সেন্ট পল্স ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল, সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মোঃ নূর আলম শেখ, মোংলা সরকারি কলেজের প্রভাষক শ্যামা প্রসাদ সেন, বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার, গোলাম নূর জনি, সহকারি পালক পুরোহিত রিপন সরদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মনীন্দ্র নাথ হালদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নিশিকান্ত বিশ্বাস, সার্ভিস বাংলাদেশ'র মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, সেবা সংস্থার মিনা হালদার, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলম বাবু, শিল্পকলা একাডেমির মোল্লা আল মামুন, ইয়ুথ লিডার মেহেদী হাসান, পরিবেশকর্মী কমলা সরকার প্রমূখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফাদার মারিনো রিগন এই সুন্দরবন উপকূলে মানব ও প্রকৃতির মুক্তি এবং উন্নয়নের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। কেবল মানব সেবায় করেননি; তিনি গভীর ভাবে এদেশের শিল্প -সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রেমে পড়ে যান।মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, ফাদার মারিনো রিগনের মস্তকে রবীন্দ্রনাথ এবং অন্তরে ছিলো লালন। তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের অঘোষিত রাস্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফাদার রিগন রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি বই এবং লালন সাঁইয়ের সাড়ে তিনশো গান ইতালি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। তিনি লালন সঙ্গীতের মাঝে ঐশ্বরিক অনুভূতি খুঁজে পেয়েছিলেন।সভাপতির বক্তব্যে ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মোংলা অঞ্চলে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেন্ট পল্স স্কুল , হাসপাতাল ও সেলাই শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করে ফাদার রিগন শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ফাদার মারিনো রিগন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম অবদান রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশে ফাদার মারিনো রিগন নানা বিষয়ে অনন্য অবদান রাখায় তাঁকে সম্মানসূক নাগরিকত্ব প্রদান ও মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়। স্মরণানুষ্ঠানে ফাদার রিগনের জন্মদিন উপলক্ষে কেককাটা হয়। এ ছাড়াও ফাদার রিগনের সমাধিতে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ও সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং কেককাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।ইখা
বেনাপোলের পল্লীতে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণ, তিন শ্রমিক আহত
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার একটি গ্রামে মাটি কাটার সময় মাটির নিচে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে তিনজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী ইউনিয়নের বালুন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন বালুন্ডা গ্রামের নূরজাক সরদারের ছেলে আব্দুল কাদের (৪৮), আব্দুল বারিকের ছেলে জাকির হোসেন (৪৫) এবং একই গ্রামের সুলতান আউলিয়ার ছেলে আব্দুল কাদের (৪৬)। তাঁদের মধ্যে জাকির হোসেন ও আব্দুল কাদেরের (৪৬) অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বালুন্ডা গ্রামের ননী ঢালির ছেলে প্রবাসী জাকির ঢালির বাড়িতে বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের গর্ত খননের কাজ করছিলেন ওই তিন শ্রমিক। এ সময় কোদালের আঘাতে গর্তের ভেতরে আগে থেকেই পুঁতে রাখা একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জাকির হোসেন ও আব্দুল কাদেরের অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তাঁরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বালুন্ডা এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়েছে বলে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় বোমা তৈরির সময় এক ব্যক্তির সহযোগীর হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি।যশোরের নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কে বা কারা বোমাটি সেখানে পুঁতে রেখেছিল এবং এর পেছনে কোনো নাশকতার উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।ইখা
নির্বাচনী প্রচারে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সালাহউদ্দিন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার–১ আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই দেখা যাচ্ছে মানুষের ভিড়। তার উপস্থিতির খবরে ছুটে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। প্রচার কাজের প্রতিদিনের চিত্রে মিলছে জনসমর্থনের সেই চিত্র—যা অনেকের কাছে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্পের সঙ্গে তুলনীয়।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে তিনি চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এ সময় হাফালিয়া কাটা, ল্যাং মিজ্জিপাড়া, সবুজপাড়া, গোবিন্দপুর পশ্চিমপাড়া, গোবিন্দপুর পূর্বপাড়া, দক্ষিণপাড়া, সর্দারপাড়া, সিকদারপাড়া ও মৌলভীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে ঘিরে ধরেন। করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। প্রবীণ থেকে তরুণ—সবার চোখেমুখেই ছিল প্রত্যাশা ও আস্থার ছাপ।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন একজন নেতাকে তারা কাছ থেকে পাচ্ছেন, যিনি মানুষের কথা শোনেন এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই নেতৃত্ব এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারে।গণসংযোগে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানুষের এই ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন বলে জানান তিনি।এর আগে আজ বিকেলে তিনি পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ও রাজাখালী এবং রাতে মগনামা ও পেকুয়া বাজারে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।ইখা
লক্ষ্মীপুরে বিএনপির দেড় শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এসব নেতাকর্মী দলীয় নীতি ও আদর্শের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবাগতদের ফুলের মালা পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—সদর থানা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল আবেদিন নিশান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জোবায়ের হোসেন সুজন, পৌর যুবদলের সদস্য মেহেদী হাসান হেদায়েত, পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন হিরন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খোকন।জামায়াতে যোগদানকারী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক জোবায়ের হোসেন সুজন বলেন, ‘দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর আমি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, দলটি ইসলামী আদর্শ ও নৈতিক রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করছে।’জেলা জামায়াতের এক নেতা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তরুণদের জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের প্রবণতা বাড়ছে, যা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাসির উদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ, যুব জামায়াতের শহর সভাপতি নাছির উদ্দিন এবং আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট মাহির আসহাব। তাঁরা নবাগতদের শুভেচ্ছা জানান এবং দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।ইখা
লক্ষ্মীপুরে ৯০০ ভোটারের জন্য খাবার প্রস্তুত: বিএনপি নেতাকে জরিমানা
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৯০০ ভোটারের জন্য খাবার প্রস্তুত করার অভিযোগে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মাস্টার রিয়াজ উদ্দিনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাস এই অভিযান পরিচালনা করেন।উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় ৯০০ ভোটারের জন্য খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে—এমন তথ্য প্রশাসনকে জানানো হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মাস্টার রিয়াজ উদ্দিনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাস বলেন, কোনো প্রার্থীর পক্ষে তার সমর্থকেরা সভা, সমাবেশ বা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে পারবেন। তবে এসব কর্মসূচির আগে বা পরে খাবার পরিবেশন কিংবা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। নির্বাচনী আচরণবিধি–২০২৫ লঙ্ঘনের দায়ে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।ইখা
বাঁশখালীতে সেনা অভিযানে মাদকসহ স্ত্রী আটক, স্বামী পলাতক
বাঁশখালী সেনা ক্যাম্পের অভিযানে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় মূল অভিযুক্ত কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী নিশ্চিত হয় কুখ্যাত মাদক কারবারি মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৬) কালীপুর ইউনিয়নের গুণাগরী বাজার এলাকায় নিজ বসতবাড়িতে অবস্থান করছিল। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম পালিয়ে যায়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার স্ত্রী ও মাদক ব্যবসার সহযোগী পারভীন আক্তারকে (২৬) আটক করা হয়।এ সময় তার হেফাজত থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা, ১৩ হাজার ৩৩০ টাকা নগদ, একটি ২০ ইঞ্চি মনিটর, একটি সিসিটিভি ক্যামেরা, একটি টিভি অ্যাডাপ্টার, তিনটি ফাঁকা ও তিনটি লিখিত স্ট্যাম্প, চারটি মোবাইল ফোন, চারটি সিম কার্ড এবং এক লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়।আটক পারভীন আক্তারকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।বাঁশখালী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার জানান, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।ইখা
নির্বাচনে পঁচা শামুকে পা কাটলে, কিয়ামত পর্যন্ত পস্তাতে হবে: মনির চৌধুরী
কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে পঁচা শামুকে পা কাটলে, কিয়ামত পর্যন্ত পস্তাতে হবে। কুমিল্লার উন্নয়ন করতে হলে আমাকে একবার সুযোগ দিন। বুধবার রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ৩ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে যুবদল নেতা হাজী আনোয়ারুল হকের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লা শহর আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। নাগরিক দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে ওভারপাসসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হবে। কুমিল্লাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তরের জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৬ আসনে ধানের শীষের পক্ষে টানা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন মনিরুল হক চৌধুরী। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এলাকায় এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নিজের নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। বুধবার সারাদিনের ধারাবাহিক গণসংযোগ শেষে সন্ধ্যায় দুর্গাপুর ইউনিয়নের এই জনসমাবেশে অংশ নেন তিনি। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে জনসভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব, আদর্শ সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান মামুন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট হেনা আলাউদ্দিন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি কবির হোসেন, মোস্তফা সারওয়ার ও আবুল হোসেন, কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নূরে আলম, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম শামু, কুমিল্লা শহর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম অন্তর, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, ৩ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহম্মদ এবং ৩ নং দক্ষিণ দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা অলি উল্লাহ জাহিদ।জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ৩ নং দক্ষিণ দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ৩ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ হোসেন। জনসভা শেষে নেতৃবৃন্দ ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।এফএস
সরকারি অফিস টাইমে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখেন ডা এমদাদুল!
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ইমদাদুল হক ইমনের বিরুদ্ধে সরকারি অফিস সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে ।জানা গেছে, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের জয়রা রোড়ে অবস্থিত আল-বারাকাহ জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অফিস সময়ে রোগী দেখে আসছেন তিনি।সরেজমিনে, ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আল বারাকাহ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তার চেম্বারে গিয়ে দেখা যায়, ডা. ইমদাদুল হক ইমন রোগী দেখছেন । সেই সাথে জটিল এক রোগীকে সঙ্গে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে হাসপাতালের নিচতলায় নামতেও দেখা যায় তাকে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকগন অফিসের ছুটি থাকলেও অফিস টাইমে প্রাইভেট চেম্বার নিষেধ। অথচ এই নিয়ম- নীতির কোন তোয়াক্কাই করছে না এই চিকিৎসক । এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা.এমদাদুল হক ইমন বলেন, তিনি সপ্তাহে শুধুমাত্র বুধবার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিউটি করেন। এত সুবিধা কীভাবে সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরকার আমাকে এই সুবিধা দিয়েছে।”তবে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “অফিস টাইমে কোনো চিকিৎসকের প্রাইভেটে রোগী দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি দেখব।”উল্লেখ্য, এই চিকিৎসক সদ্য যোগদান করেন মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাজার্রী বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে। এখানে এসেই শুরু করেছে তার অনিয়ম আর দুনীতি। সদ্য বিদায় নেওয়া দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও একই কাজ করতেন বলে জানা যায়। এছাড়াও এর আগ ডা. ইমদাদুল হক ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সচেতন মানুষের দাবি, আর কত অন্যায় করা হলে থামবে এই ডাক্তার এবং আর চোখ খুলবে প্রশাসনের।এফএস
নতুন করে ফ্যাসিবাদ ফেরাতে কেউ কেউ পাগল হয়ে উঠেছে: মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, “চব্বিশের বিপ্লবের মাধ্যমে পুনর্বাসিত কিছু মানুষ আবার নতুন করে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ নামক স্বৈরতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পাগল হয়ে উঠেছে।”বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।এ সময় আল্লামা মামুনুল হক আরও বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় করা হবে।”নির্বাচনি জনসভা উপলক্ষে দুপুর থেকেই কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে দলে দলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জনসভায় যোগ দেন। এতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল মুমিন শেরজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের ১১-দলীয় জোট ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।এনআই
শ্রীনগরে ব্যবসায়ী আলমগীর হত্যা, আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন শেখের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে শ্রীনগর–দোহার আঞ্চলিক সড়কের বালাশুর চৌরাস্তা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে ওই সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন শেখ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হান্নান হাজী, মানিক ওরফে বাচ্চু ডাকাত, তাপস মোল্লা ও শম্ভুসহ সকল আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হান্নান হাজী, মানিক ওরফে বাচ্চু ডাকাত, শম্ভু ও তাপসদের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল বালাশুর এলাকায় আলমগীর শেখের মালিকানাধীন একটি নির্মাণাধীন মার্কেট দখলের চেষ্টা করে। এ সময় আলমগীর শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে আলমগীর শেখসহ পরিবারের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর শেখ মারা যান। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এনআই
দেলদুয়ারে ৫৮টি ভোটকেন্দ্রের ৪৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৬ জন। এ উপজেলায় ৫৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১৬টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।ইউনিয়নভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, দেলদুয়ার সদর ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। পাথরাইল ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি ঝুঁকিপূর্ণ; এর মধ্যে মঙ্গলহোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। আটিয়া ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রের সব কটিই ঝুঁকিপূর্ণ; যার মধ্যে এমএ করিম উচ্চ বিদ্যালয়, নান্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গজিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র তিনটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।এলাসিন ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ; যার মধ্যে আবাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারপাখিয়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ফাজিলহাটী ইউনিয়নের ৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি ঝুঁকিপূর্ণ; এর মধ্যে সোনারবাংলা উচ্চ বিদ্যালয়, ফাজিলহাটী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, লালহাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুলতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।ডুবাইল ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রের সব কটিই ঝুঁকিপূর্ণ; যার মধ্যে ধানকি মহেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বার্ণি সুফিয়া ওমর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ। লাউহাটি ইউনিয়নের ৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ; এর মধ্যে কাতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া দেওলী ইউনিয়নের ৪টি কেন্দ্রের সব কটিই ঝুঁকিপূর্ণ; যার মধ্যে চকতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ।দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এনআই
জামায়াত-শিবির ভোট চুরির কূটকৌশল শিখে ফেলেছে: আবিদ
বিগত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদ অভিযোগ করেছেন, জামায়াত-শিবির বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সাথে মিলেমিশে 'গুপ্ত রাজনীতি' করেছে এবং পলাতক সরকারের সংস্পর্শে থেকে ভোট চুরির কূটকৌশল রপ্ত করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা সারাদেশে ভোট চুরির পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি দাবি করেন।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নির্বাচনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আবিদুল ইসলাম আবিদ তার বক্তব্যে সতর্ক করে বলেন, "ইতোমধ্যেই একজন জামায়াত নেতা ভোটের সিলসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এতেই প্রমাণিত হয় তারা বড় ধরণের চুরির পরিকল্পনা করছে। বিএনপির প্রতিটি কর্মীকে সতর্ক থাকতে হবে যেন তারা কোনোভাবেই অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ও সিল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে।"তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের এই ভোট চুরির পরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে আবিদ বলেন, "এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই।ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ মোস্তফা জামান।সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, মহানগর উত্তর বিএনপি নেতৃবৃন্দ: আকতার হোসেন, এম. কফিল উদ্দিন, মোঃ আফাজ উদ্দিন।থানা বিএনপি নেতৃবৃন্দ: তুরাগ থানা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আমান উল্লাহ, হারুন অর রশিদ খোকা, চাঁন মিয়া বেপারী, জহির উদ্দিন, আবু তাহের খান, এ বি সিদ্দিক। আজমল হুদা মিঠু, আলমগীর হোসেন শিশির, মোঃ আলাউদ্দিন, মোস্তফা সরকার। যুবদল নেতা মোঃ আমিনুল ইসলাম ও মোঃ মিলন মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।বক্তারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।এসআর
শরিয়তকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করা হবে: পীর সাহেব চরমোনাই
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছি। ইশতেহারে আমরা পরিস্কারভাবে বলেছি শরিয়তকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করা হবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বরিশাল-১ আসনের গৌরনদী পৌরসভা সংলগ্ন বালুরমাঠে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর আরও বলেছেন, দেশ চালাতে ভালো নেতা ও ভালো নীতি লাগবে। পূর্বে যারা দেশ পরিচালনা করেছিলো তাদের মধ্যে ভালো নেতা ও ভালো নীতি কিছুই ছিলোনা। যে কারনে দেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। তাদের শাসনামলে বেগমপাড়া তৈরি হয়েছিলো। তিনি আরও বলেছেন, ১৯৭১ সালে আমার দাদা-বাবা হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য আমাদের বাড়িতে নিরাপদভাবে আশ্রয় দিয়েছিলেন।আমরা ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে হিন্দু ভাইদের উপসনালয়গুলো পাহারা দিয়েছি, তাদের জানমাল রক্ষায় নিরাপত্তা দিয়েছি।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হাতপাখা মার্কা বিজয়ী হলে দেশ নিরাপদ থাকবে। এ দেশের হিন্দুরা নিরাপদ থাকবে। তাইতো হিন্দু ভাইয়েরা হাতপাখাকে বিজয়ী করার জন্য জোট বেঁধেছে।ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-১ আসনের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদীকে একজন ভালো নেতা দাবি করে পীর সাহেব চরমোনাই হাতপাখা মার্কাকে বিজয়ী করতে সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতি আহবান করেন।তিনি আরও বলেছেন, এ দেশ আলেম ওলামায়ের দেশ। এই পবিত্র জমিনে ইসলাম থাকবেনা তা হতে পারেনা। আমরা মনে করেছিলাম আমরা একা হয়ে গেছি কিন্তু আমরা একা না। আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন, আলেমরা সাথে রয়েছেন, দেশপ্রেমিকরা সঙ্গে রয়েছেন, ইসলাম প্রেমিরা সঙ্গে রয়েছেন।পীর সাহেব চরমোনাই বরিশাল-১ আসনের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদীকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতি আহবান করেন।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা মার্কার বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী মো. রাসেল সরদার মেহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গৌরনদী উপজেলা শাখার নেতা ওবায়দুল হক নবী, আগৈলঝাড়ার হিন্দু নেতা নিপুল রায়সহ দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা।এফএস
ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ
ভোলা-২ আসনের দৌলতখান উপজেলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্নাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগের সময় নারী কর্মীদের বাধা ও হেনস্তার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নারীদের হেনস্তার অভিযোগ করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দৌলতখান উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি মিনারা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে দৌলতখান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ চলাকালে স্থানীয় বিএনপি কর্মী রিপন ও সেলিমের নেতৃত্বে কয়েকজন আমাদের নারী কর্মীদের গালিগালাজ, হেনস্তা এবং নির্বাচনী প্রচার কাজে বাধা দেয়। তারা বিভিন্ন রকম কটুক্তি মূলক আচরণ করেন।তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনি মাঠে তাদের জনসমর্থন হারিয়ে ভয়ভীতি ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছেন। এসময় তিনি প্রশাসনের কাছে নারী হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান ও নিরাপদ গণসংযোগের পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ তিন দফা দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে দৌলতখান উপজেলা মহিলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কুমকুম আক্তারসহ মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এবং উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।এফএস
গলাচিপায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
পটুয়াখালীর গলাচিপায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে লক্ষণ দেবনাথ (৫০) ও নিমাই চন্দ্র দেবনাথ (৪৫) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা, দেশীয় অস্ত্র, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে গলাচিপা পৌরশহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরদি রোড এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে নিজ বাসা থেকে মাদক ও অস্ত্রসহ ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গলাচিপা সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর তানজিলুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানকালে ১০টি দেশীয় অস্ত্র, ৪৮ পিস ইয়াবা, গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ ২৩ হাজার ৩০০ টাকা এবং ব্যবহৃত ৩টি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চাপাতি ২টি, বাংলা দা ২টি, বগি ২টি, কুড়াল ১টি ও লোহার পাতি।গ্রেপ্তারকৃতরা গলাচিপা পৌরসভার সাগরদি রোড এলাকার বাসিন্দা ধীরেন দেবনাথ ও নিতাই চন্দ্র হাওলাদারের সন্তান বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, গলাচিপা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে লক্ষণ দেবনাথের বসতঘর থেকে ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ টাকা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। এ সময় লক্ষণ ও নিমাই দেবনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়।তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার লক্ষণ দেবনাথ ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।এসআর
বরগুনায় মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় বাবা গ্রেফতার
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় মেয়েকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় ওই মেয়ের মা পাথরঘাটা থানায় মামলা করেন। পরে মেয়েও থানায় গিয়ে তার বাবার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মেয়ে (১৫) স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত জানুয়ারি মাসে নিজ বাড়িতে দুই দফায় বাবার মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর তাঁকে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধও সেবন করানো হয়।স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবেশি এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের কথা এলাকায় শোনা গিয়েছিল। পরে স্থানীয়ভাবে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছিল।পাথরঘাটা থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর কথা আছে। পরবর্তী নির্দেশনার জন্য কিশোরীকেও আদালতে নেওয়া হবে।পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মং চেনলা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই কোনো দেরি না করে দ্রুত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্তও সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে।এসআর
নুরের পক্ষে কাজ না করায় গলাচিপায় বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তার পক্ষে কাজ না করায় সাংগঠনিক এবং চলমান জাতীয় সংসদ নির্বাচন কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আওতাধীন সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গলাচিপা পৌর বিএনপির অধীন সকল ওয়ার্ড কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ৪ ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিলুপ্ত কমিটিগুলোর পরিবর্তে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে দলীয় নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করা হবে। এ উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃত্বপ্রত্যাশী নেতাকর্মীকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।এ সিদ্ধান্ত গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা এবং সদস্য সচিব আলতাফ খান অনুমোদন করেছেন।বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।এদিকে পৃথক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গলাচিপা পৌর বিএনপি জানায়, সাংগঠনিক ও চলমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনী কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে পৌর বিএনপির আওতাধীন সকল ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বিএনপির কার্যালয়ে মতামত গ্রহণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।এই সিদ্ধান্ত গলাচিপা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম খান এবং সদস্য সচিব সাহেবআলী মাতব্বর যৌথভাবে অনুমোদন করেছেন।দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর নির্বাচন করছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ নুরের পক্ষে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। এর ফলেই সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে এ কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আসন সমঝোতার প্রার্থী নুরুল হক নুর এবং ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে গত ১৮ দিনে একাধিক কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কারাদেশ ও নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার ঘটনা ঘটেছে।সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি গলাচিপা, দশমিনা উপজেলা ও পৌর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সাথে দুই উপজেলার ৫ যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে পটুয়াখালী-৩ আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩০ ডিসেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগের দিন, ২৮ ডিসেম্বর তিনি দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানান।ইখা
‘বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জে আর কোনো আওয়ামী লীগের সমর্থক গ্রেপ্তার হবে না’
নির্বাচনী জনসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বক্তব্যকে ঘিরে জামালপুর জেলায় আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, থানায় বলা আছে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গ্রেপ্তার বা হেনস্থা করা হবে না এবং সবাই মিলে মিশে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেবেন।ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের হারুয়াবাড়ী রহমানী মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির এক নির্বাচনী জনসভায়। ওই সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন।এক মিনিটের ওই বক্তব্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘এখানে যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক আছেন, তাদের আমি অনুরোধ করব—যেহেতু আওয়ামী লীগ আর ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরতে পারবে না, কাজেই আওয়ামী লীগের সমর্থকরা আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সকলে মিলেমিশে ধানের শীষে ভোট দেবেন এবং একসঙ্গে থাকবেন। এখানে থানায় বলে দেওয়া আছে, কাউকে কোনো রকম হেনস্থা করবে না, কাউকে গ্রেপ্তার করবে না। বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জে কোনো গ্রেপ্তার হবে না।’তিনি আরো বলেন, ‘অন্যায় যে করবে সেটা অন্য ব্যাপার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা স্টেপ নেব, যাতে কেউ অন্যায় না করতে পারে। তাদের বিচার হবে। অন্যায় হলে আমরা নিজেরা বিচার করব—এমন যেন না হয়। আইনগতভাবে আমরা বিচার করব।’বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ওই বক্তব্যের ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকে বিষয়টিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।উল্লেখ্য, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।ইখা
ধানের শীষে ভোট চাইলেন সাংবাদিক হত্যার প্রধান আসামি আ.লীগ নেতা বাবু চেয়ারম্যান
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ধানের শীষের ভোট চাইলেন বাংলানিউজ২৪ ডটকমের সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার আলোচিত প্রধান আসামি ও সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়াররি) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধানের শীষের পক্ষে তার ভোট চাওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।ভিডিওতে দেখা যায় মাহমুদুল আলম বাবু বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া এলাকায় ধানের শীষ মার্কায় ভোট চাইছেন। এ সময় ভিডিওতে মাহমুদুল আলম বাবুকে বলতে শোনা যায়- এই সাধুরপাড়া মানে এই বকশীগঞ্জ থানার সাতটি ইউনিয়ন, তার মধ্যে আমার বকশীগঞ্জে যেহেতু বড় একটি কাজ করে দিয়েছে, আগে কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারও যেন ওর চেয়ে বেশি কিছু করে নিতে পারি এবং ১২ তারিখে সবাই সুষ্ঠভাবে আপনারা সকাল সকাল ভোটটা ধানের শীষে দেবেন। ভালো থাকেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।প্রকাশ্যে বাবু চেয়ারম্যানের ধানের শীষে ভোট চাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলসহ জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর ১ সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন।উল্লেখ্য, বাংলানিউজ২৪ ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী নাদিম গত ২০২৩ সালের ১৪ জুন রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের গরুহাটি এলাকায় হামলার শিকার হন। হামলার পরদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার তিনদিন পর ২০২৩ সালের ১৭ জুন নিহত নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান করে ২২ জনকে আসামি করা হয়। ওইদিনই পঞ্চগড় থেকে মাহমুদুল আলম বাবুকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে তিনি জামালপুর জেলা কারাগারে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গত ২০২৪ সালের ১০ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই মাহমুদুল আলম বাবু আত্মগোপনে ছিলেন।ইখা
অপহরণের নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা, যুবক আটক
নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগে আশরাফুল নামের এক যুবককে আটক করেছে মদন থানা–পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক একটার দিকে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে তাঁকে আটক করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল নিজেকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন তথ্য পরিবারের সদস্যদের জানান। বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে মদন থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে অপহরণের আশঙ্কা ও মুক্তিপণের দাবির বিষয় উল্লেখ থাকায় পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয়, আশরাফুল প্রকৃতপক্ষে অপহৃত নন; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে মদন নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার রায়হান নামের এক ব্যক্তির বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।মদন থানার ওসি (তদন্ত) দেবাংশু দে বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল স্বীকার করেছেন যে, তিনি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন এবং বাস্তবে কোথাও অপহৃত হননি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইখা
ত্রিশালে উন্নয়ন হবে দল–মত নির্বিশেষে, সবার জন্য দরজা খোলা: ডা. লিটন
বিগত সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে জনপ্রতিনিধি পরিবর্তনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন।বুধবার সকালে ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানিবাড়ি মোড়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্যই আমাদের রাজনীতি। তাই জনগণের মন জয় করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুধাবন করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দিনে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী দিনে দল–মত নির্বিশেষে ত্রিশালের উন্নয়ন করা হবে। সাধারণ মানুষের সেবায় আমার দরজা সব সময় খোলা থাকবে।’বিএনপি নেতা রুবায়েত হোসেন শামীম মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক মেয়র আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার, উপজেলা যুবদলের অন্যতম নেতা মাজহারুল আলম জুয়েল মণ্ডল, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম শোভা, মামুনুর রশিদ দীপক, মাসুদ আলম, আবুল কালাম আজাদ, আতাউর রহমান, সোহাগ ও রাজুসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা।সভায় বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।ইখা
‘আগামী ভালুকা’র রূপরেখা দিলেন ডা. জাহিদুল ইসলাম
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভালুকা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আগামী ভালুকার ইশতেহার’ শীর্ষক এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ১২ দফা অঙ্গীকারের মাধ্যমে একটি আধুনিক, উন্নত ও টেকসই ভালুকা গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।শাপলা কুঁড়ি প্রতীকের প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধি নয়, জনগণের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে চান। তার ভাষায়, ‘এই ইশতেহার কোনো অলীক স্বপ্ন নয়; এটি ভালুকার প্রতিটি মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ।’সংবাদ সম্মেলনে ভালুকার বর্তমান অবকাঠামোগত দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি তিনি দেখেছেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। পাশের উপজেলাগুলো যেখানে আধুনিক সড়ক ও অবকাঠামোতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ভালুকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অবস্থা এমন যে অনেক জায়গায় ধান চাষ করা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে বারবার ভালুকার অভ্যন্তরীণ সড়কের খানাখন্দ ও ভেঙে পড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার খবর প্রকাশিত হলেও কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে তার ইশতেহারে অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।ইশতেহারে ঘোষিত ১২ দফার মধ্যে রয়েছে—পরিবেশ সুরক্ষায় রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও বনায়ন, প্রতিটি ইউনিয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ১০০ শয্যার আধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মোবাইল ক্লিনিক চালু, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন, নারী ক্ষমতায়নে আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা চালু, কোডিং ও ম্যাথ সলভিংসহ আধুনিক শিক্ষার প্রসার, মাতৃস্বাস্থ্যে ‘মমতা কেন্দ্র’ স্থাপন, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সড়ক উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং মাসিক গণশুনানির মাধ্যমে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা।ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পর অনেক জনপ্রতিনিধিকে এলাকায় পাওয়া যায় না। তবে তিনি নির্বাচিত হলে প্রতি মাসে জনগণের কাছে তার কাজের হিসাব তুলে ধরবেন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও উন্নত ভালুকা গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।ইখা
তারেক রহমানের জনসভা সফল করতে হাকিমপুরে বিএনপির বিশাল মিছিল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দিনাজপুর-৬ আসনের বিরামপুরে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এই সফর ও পথসভা সফল করতে হিলিতে (হাকিমপুর) বিশাল মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাদ মাগরিব হাকিমপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে বন্দরের চারমাথা মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সভার মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলটি ‘লাগারে লাগা ধান লাগা’ স্লোগানে মুখরিত ছিল।সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের নির্বাচনী পথসভায় আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এতে আমরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত।” তিনি আরও বলেন, ডা. জাহিদ হোসেন এই এলাকাকে স্বাস্থ্যসেবার মডেলে পরিণত করেছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাঁকে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।এদিকে, তারেক রহমানের জনসভাস্থল পরিদর্শন করতে আজ রাত সাড়ে আটটায় বিরামপুরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শাহিনুর ইসলাম শাহীন, মো. এরফান আলী, যুগ্ম সম্পাদক এস এম রেজা বিপুল, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহেদুর রহমান রিপন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এনামুল হক তাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান আলী, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মোফা, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আলী মুর্তজা সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার আলী ও রাহুল হোসেনসহ বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।এনআই
যারা এমপি নির্বাচিত হবেন তারা শাসক নয়, হবেন সেবক: শিবির সেক্রেটারি
“যারা এমপি নির্বাচিত হবেন তারা শাসক হবেন না, তারা হবেন সেবক,” মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম সিবগাতুল্লাহ।আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরামপুর উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। বিরামপুর পৌর শহরের পল্লবী মোড়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।তিনি বলেন, “আমাদের সামনে একদল সৎ লোক দাঁড়িয়েছে। তারা যদি সংসদে চলে যায়, তাহলে এই দেশটা পরিবর্তন হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই যারা আমাদের এমপি নির্বাচিত হবেন তারা শাসক হবেন না, তারা হবেন সেবক। আগামী ১৩ তারিখে যে সরকার গঠন হবে, সে সরকার হবে ন্যায় ও ইনসাফের সরকার; সে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের সরকার।”তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশের ছাত্রসমাজ সচেতন হয়েছে এবং তারা বাংলার মাটিতে আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদকে মেনে নেবে না।বিরামপুর উপজেলা আমির হাফিজুল ইসলাম বিএসসি-র সভাপতিত্বে ও উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবু হানিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম।এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য ও দিনাজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও দিনাজপুর শহর সভাপতি মুশফিকুর রহমান, দিনাজপুর জেলা দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি সাজিদুর রহমান সাজু, নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী, ডাকসু’র নির্বাচিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার ও সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- এবি পার্টির দিনাজপুর জেলা আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা আবুল কাশেম, হাকিমপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আমির মাওলানা আমিনুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট উপজেলা আমির মোফাখখারুল ইসলাম মোল্লা, বিরামপুর বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, পৌরসভা আমির অধ্যাপক মাওলানা মামুনুর রশিদ, পৌরসভা সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার শাহীনুর রহমান, পৌরসভা শিবিরের সভাপতি জহুরুল ইসলাম ও মুফতি মাওলানা আব্দুন নূর।পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় সংগঠনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের গাড়ি সম্বলিত একটি বিশাল মিছিল বিরামপুর শহর প্রদক্ষিণ করে।এইচএ
বিরামপুরে চার্জার চালকের মরদেহ উদ্ধার
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় রাস্তার পাশ থেকে এক চার্জার চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ধানজুড়ি ও সন্দলপুর গ্রামের মধ্যবর্তী পাকা রাস্তার পাশে বন বিভাগের জমিতে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা বিষয়টি বিরামপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন।নিহত ব্যক্তি বাবুল (৪৭), তিনি উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের মাগুরাপাড়া গ্রামের মৃত কচির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি আটো চার্জার চালক ছিলেন। জানা গেছে, তিনি পৌর শহরের বেগমপুর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন।পুলিশ জানায়, নিহতের পরনে ছিল লুঙ্গি ও সাদা-কালো রঙের একটি সুইটার। তার এক পায়ে জুতা ছিল।বিরামপুর থানার তদন্ত ওসি মো. আতাউর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি প্রস্তুতির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।তিনি আরও জানান, নিহতের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।এসআর
দিনাজপুরে চায়না কোম্পানিতে নারী শ্রমিকদের মাঝে হঠাৎ আতঙ্ক, আহত অর্ধশত
দিনাজপুর সদর উপজেলার বড়ইল গ্রামে অবস্থিত নথ হেয়ার প্রোডাক্ট বিডি কোম্পানি লিমিটেডে কর্মরত নারী শ্রমিকদের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ১৪ জনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শ্রমিকরা হলেন— রুনা খাতুন (২২), শিউলি (৪৫), রুবিনা খাতুন (৬২), গীতা রানী (৪০), নুপুর (১২), শারমিন (১৮), জান্নাতুল ফেরদৌস (২৫), রেশমা (৩৫), লাবনী আক্তার (১৯), রূপা খাতুন (১৮), কৌশী রায় (১৫) ও জাহানারা খাতুন (২১)।জানা গেছে, দিনাজপুর সদর উপজেলার বনকালি গ্রামে কয়েক বছর আগে গড়ে ওঠে এই চীনা কোম্পানিটি। এতে আশপাশের এলাকার কয়েক হাজার নারী ও কিশোরীর কর্মসংস্থান হয়েছে। বুধবার সকালে হঠাৎ করে কারখানার ভেতরে নারী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় আতঙ্কজনিত কারণে অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।পরে ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ ১৪ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এ বিষয়ে কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কী কারণে নারী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হঠাৎ এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। তবে বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।এনআই
ধানের শীষে ভোট দিয়ে জনগণের সেবার সুযোগ দিন: ডা. জাহিদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জনগণের পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ চেয়েছেন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। সেই সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে বাওনা বাজারে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি ওই ইউনিয়নের মনশাপুর, হরিহরপুর ও সাদুড়িয়া বাজারেও নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন।আলীহাট ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বুলবুল আহম্মেদের সভাপতিত্বে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ভোট আপনার অধিকার। কোনো প্রলোভন বা প্রতারণায় কান না দিয়ে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। আপনাদের ভোটে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করলে আমি আজীবন আপনাদের পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ পাব, ইনশাআল্লাহ।”বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন—আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। মা-বোনেরা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য থাকবে বিশেষ কৃষি কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষিপণ্য, রাসায়নিক সার ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। মনে রাখতে হবে, বিএনপি অগ্রগতি ও উন্নয়নের দল।”তিনি আরও বলেন, “হাকিমপুর-হিলি পোর্টসহ এই আসনের চার উপজেলার রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা হবে। যেহেতু এই এলাকা কৃষিপ্রধান, তাই কৃষকরা যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং এলাকার উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করুন।”পথসভায় উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমান, সহ-সভাপতি মো. শাহিনুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, যুগ্ম সম্পাদক এস এম রেজা বিপুল, ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদ খান, সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ। এ ছাড়া উপজেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, তাঁতি দল এবং আলীহাট ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।এনআই
ঈশ্বরদীতে বিএনপির শতাধিক নেতার স্বেচ্ছায় গণপদত্যাগ, মিষ্টি বিতরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে নির্বাচন করায় বহিষ্কারের হুমকির প্রতিবাদে এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর অভিমান করে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।দুপুরে ঈশ্বরদী পৌর শহরের কাচারীপাড়া মাঠে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা এই গণপদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ইউনিয়ন-ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল এবং উপজেলা ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের শতাধিক পদধারী নেতা রয়েছেন। এ সময় কয়েক শ কর্মী-সমর্থক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল পারভেজ বলেন, “বিগত সরকারের আমলে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। হামলা-মামলার শিকার হয়েছি ও জেল খেটেছি। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা থাকায় আমরা আশা করেছিলাম জাকারিয়া পিন্টু ‘ধানের শীষ’ পাবেন। কিন্তু তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং আমরা তাঁর পক্ষে কাজ করছি।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, “তৃণমূলের সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও দলীয় প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বারবার আমাদের বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি কেন্দ্র থেকেও ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে বহিষ্কারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমরা অভিমান করে একযোগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম।”সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা পৃথকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বারবার বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে আমাদের আদর্শকে দমানো যাবে না। আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার সৈনিক হিসেবে রাজনীতি করি। নির্বাচনের পর আবারও দলীয় কর্মসূচিতে ফিরব, তবে বর্তমানে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল।”এ বিষয়ে জানতে পাবনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গণসংযোগে ব্যস্ত থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মখলেছুর রহমান বাবলু বলেন, “রাজনীতিতে মান-অভিমানের কোনো মূল্য নেই। দলকে ভালোবাসলে ভোটের আগে পদত্যাগ করা শুভলক্ষণ নয়। দলীয় সিদ্ধান্ত মানা সবার দায়িত্ব। এর বাইরে কেউ পদত্যাগ করলে সেটি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।”এনআই
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক, সহিংসতা নয়- উল্লাপাড়ায় জেলা পুলিশ সুপার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কিন্তু সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণ যাতে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সানতু।তিনি বলেন, "আমরা চাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক, কিন্তু কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা না ঘটে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।"তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেউ যেন নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উল্লাপাড়া সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান শাকিল, ওসি (তদন্ত) রূপকসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।এনআই
সিরাজগঞ্জে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের দুই কর্মীকে জরিমানা
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর পক্ষে রঙিন পোস্টার ও ব্যানার টাঙানোর দায়ে দুই কর্মীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসান আহমেদ খান।সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো তথ্যে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর হাটিকুমরুল ইউনিয়ন সেক্রেটারি মোজদার হোসেনকে দুই হাজার টাকা এবং একই অপরাধে হাটিকুমরুল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এ ছাড়া অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের পক্ষে অবৈধভাবে টাঙানো রঙিন পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ করা হয়। অভিযানে বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
সিরাজগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত, আহত ২
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান উল্টে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের দরগার চর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম চাঁদ মিয়া সরকার (৭০)। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের মালতিডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে। তিনি বানিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে।শাহজাদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, লোহার পাইপবোঝাই একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত (করিমন) যানকে ওভারটেক করার সময় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি উল্টে যায়। এ সময় অটোভ্যানের যাত্রী চাঁদ মিয়া সরকার লোহার পাইপের সঙ্গে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।দুর্ঘটনায় আহত অটোভ্যানের চালক ও আরেক যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।ইখা
ঈশ্বরদীতে চাঁদা না পেয়ে কৃষকের দেড় বিঘা জমির ফসল লুটের অভিযোগ
পাবনার ঈশ্বরদীতে চাহিদাকৃত চাঁদা না পেয়ে মোঃ শরিফুল ইসলাম নামে এক কৃষকের দেড় বিঘা জমির গাজর ও আবাদী সবজি লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশলীর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার(৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পাকশি ইউনিয়নের বেলতলা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই কৃষকের প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল১১ টার দিকে ভুক্তভোগী ওই কৃষক থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরন দাবি করেছেন।ভুক্তভোগী কৃষক শরীফুল ইসলাম উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল লতিফ প্রামানিকের ছেলে।লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে কৃষকের আবাদি জমিতে গিয়ে দেখা গেছে, আবাদী জমি থেকে সদ্য তুলে নেওয়া গাজর ও অন্যান্য সবজির উপকরন পড়ে রয়েছে। জমির বিপরীত পার্শ্বে প্রায় ১৫ কাঠা জমিতে বর্তমানে পেয়াজ চাষ করা রয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মাস আগে কৃষক শরিফুল ইসলাম পাকশি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম হব্বুলের নামে লিজকৃত ৪ বিঘা জমি এক বছর মেয়াদের জন্য ৪০ হাজার টাকায় খাজনা নেয়। পরে সেখানে লাউ আবাদ করলে ষড়যন্ত্রপূর্বক পাশের জমির মোঃ বিপ্লব নামে একজন লাউগাছের জাংলা ভেঙে দিলে তার সঙ্গে কৃষক শরিফুল ইসলামের বাকবিতন্ডা হয়। আর সেই বাকবিতন্ডার মিমাংসার জন্য স্থানীয় আবুল কালামের ছেলে মোঃ আশিকের সহযোগিতা চাইলে মিমাংসা বাবদ ভুক্তভোগী কৃষকের নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা নেয় আশিক। হটাৎ কিছুদিন পর আশিক ও স্থানীয় পলাশ ৩/৪ জনের একটি গ্রুপ এসে পার্টনারে ব্যবসা করছে বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষক শরিফুল ইসলামকে জোরপূর্বক তারা তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের হুমকি ও কখনও এক লক্ষ আবার কখনও দুই লক্ষ টাকাও দাবি করে। তোপের মুখে পড়ে উপায়ন্তর না পেয়ে মুঠোফোনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাঁদের দেওয়া হয়। আরো ২০ হাজার টাকা কিছুদিন পর দিতে হবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় তারা। তবে সেই টাকা না দেওয়ার কারনে আশিক বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে দেড় বিঘা জমির গাজর ও অন্যান্য সবজি লুট করে নিয়ে যায়।এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন কৃষকের কষ্টে ফলানো ফসল যখন লুট হয়ে যায় তখন বোঝা যায় কতটা রাহাজানির শিকার আমরা সাধারন মানুষ। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঠিক বিচার দাবী করছি।ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, আশিক সম্পর্কে আমার এলাকার জামাই হন। পার্শ্ববর্তী জমির মালিকের সঙ্গে ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে আশিকের দারস্থ হয়েছি। এখন দেখছি সেই দলবল নিয়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করছে। সেই চাঁদা না পেয়ে জোরপূর্বক ক্ষেতের সব গাজর ও সবজি লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছি, আমি আমার ক্ষতিপুরনটুকু চাই।ঘটনার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত মোঃ আশিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সরাসরি কথা হবে বলেই মুঠোফোনে সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করেন।ঈশ্বরদী থানার ওসি মোঃ মমিনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ দিয়েছে কি না নিশ্চিত হয়ে খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এসআর
হবিগঞ্জে ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিতনী বিল এলাকার হাওরে প্রায় ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানক্ষেতের একাংশে পড়ে আছে যুদ্ধবিমানটির কিছু অংশ।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের দিকে আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অনেকে ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। পরে ধোঁয়া সরে গেলেও প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানে আগুন জ্বলতে থাকে।বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুদিন পর নৌকায় করে অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় বিমানের ভেতরে থাকা একটি মিসাইল হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে শ্রীমতপুর গ্রামের সাজিদ মিয়া ও খালেক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আতঙ্কে কেউ বিমানের কাছে যাননি বলেও জানান স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, মাটির ওপর বিমানের সামান্য অংশ দৃশ্যমান হলেও এর বৃহৎ অংশ এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম সংরক্ষণ না থাকায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে।এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে ভয় পেতেন। এখনো ওই জমির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে।শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিমানটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করব। বিধি মোতাবেক স্মৃতি হিসেবে জাদুঘরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে উপজেলা প্রশাসন সে উদ্যোগ নেবে। পিএম
গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে শানাজ আহমদ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ সরকারি এমসি একাডেমির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শানাজ বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর রামপাশা গ্রামের মখন মিয়ার ছেলে। তিনি সিলেট নগরীর একটি পোল্ট্রি ফার্মের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সিলেট থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে এক বিয়ের দাওয়াত খেতে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে এসেছিলেন শানাজ। দাওয়াত খেয়ে অন্য একজনের মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে সরকারি এমসি একাডেমির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে ডিভাইডারের অপর প্রান্তে গিয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮২৮৬৯) চাকার নিচে তিনি পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে যান।গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এনআই
সুনামগঞ্জ ২: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর, আহত ২
সুনামগঞ্জ ২ (দিরাই শাল্লা) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।হামলায় প্রচার গাড়িতে থাকা ২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দিরাই থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মত সুনামগঞ্জ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তার প্রচারের গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসা মাত্র দুটি মোটরসাইকেল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এসে শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যখন জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসে তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি আরও জানান, সেই দুজনের হেলমেট পড়া থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের ধরতে কিংবা চিহ্নিত করতে।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে খুঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এসআর
সুনামগঞ্জ ২: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর, আহত ২
সুনামগঞ্জ ২ (দিরাই শাল্লা) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।হামলায় প্রচার গাড়িতে থাকা ২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দিরাই থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মত সুনামগঞ্জ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তার প্রচারের গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসা মাত্র দুটি মোটরসাইকেল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এসে শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যখন জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসে তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি আরও জানান, সেই দুজনের হেলমেট পড়া থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের ধরতে কিংবা চিহ্নিত করতে।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে খুঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এসআর
টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
ট্রান্সফরমার মেরামত, সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন কাজের জন্য আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে সিলেট নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গতকাল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৩ কেভি গোটাটিকর ও জগন্নাথপুর এবং ১১ কেভি বরইকান্দি, স্টেশন, কদমতলী, শিববাড়ী, লালাবাজার, কামারবাজার ও মাসুকগঞ্জ ফিডারের আওতাধীন নগরীর অন্তত ৬২টি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বরইকান্দি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সুনামপুর, কামুসনা, ধরাধরপুর, পুরান তেতলী, টেকনিক্যাল রোড, খোজারখলা, বাবনা পয়েন্ট, পুলেরমুখ, ঝালপাড়া, চাঁদনীঘাট, কদমতলী, রেলওয়ে স্টেশন, বঙ্গবীর রোড, মোমিনখলা, বারখলা, গালিমপুর, মুন্সিবাজার, আলমনগর, পিঠাকরা, ফরহাদপুর, গাঙপাড়, বনগাঁও, কামালবাজার, পুরানগাঁও, ছোট দিঘলী, বাইপাস রোড, মাসুক বাজার, তাজপুর, মিরেরগাঁও, গুপ্তেরগাঁওসহ আশপাশের এলাকা।তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর কর্তৃপক্ষ।এইচএ
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
প্রতিরক্ষা খাতে সৌদি-তুরস্কের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর
নিজ নিজ দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক ও সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কায়রো সফর থেকে ফেরার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোয়ান।সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোয়ান জানিয়েছেন, মিশর সফরে তুরস্কের নিজস্ব উৎপাদিত স্টিলথ যুদ্ধ বিমান ‘কান’ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।এরদোয়ান বলেন, ‘কান নিয়ে আমরা অনেক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। এই ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে এবং আমরা চাইলে যে কোনো মুহূর্তে এই অংশীদারিত্ব বাস্তবায়ন করতে পারি।’তিনি আরও বলেন, আঙ্কারা ও রিয়াদ ‘বড় ধরণের’ প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তুরস্ক এ চুক্তি সম্প্রসারণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সম্পর্কে এরদোয়ান জানিয়েছেন, তিনি আশা করেন যে উভয় পক্ষ সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমাবে এবং এর জন্য আলোচনার টেবিল স্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ।গাজা পরিস্থিতি নিয়ে এরদোয়ান বলেছেন, গাজা শান্তি পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে তুরস্ক ।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সিএবি
ফের গাজার উদ্দেশে যাত্রা করবে ‘গ্লোবাল সুমুদ’ ফ্লোটিলা
দখলদার ইসরায়েলি হামলায় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর জন্য ‘গ্লোবাল সুমুদ’ অ্যাড ফ্লোটিলা আবার যাত্রা শুরু করবে। আগামী ২৯ মার্চ বার্সেলোনা থেকে এ যাত্রা শুরু হবে। এবারের যাত্রায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।ফ্লোটিলার সক্রিয় সদস্য সুমেইরা আকদেনিজ ওর্ডু জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু হবে। এরপর তিউনিসিয়া, ইতালি এবং অন্যান্য ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর থেকে অন্যান্যরা এ যাত্রায় যোগ দিবে।এবার আমরা হাজার হাজার অংশগ্রহণকারী নিয়ে যাচ্ছি যার মধ্যে এক হাজারেরও বেশি ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। এছাড়াও আমাদের সঙ্গে থাকবে ইকো-নির্মাণকর্মী এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারীরা যা আগের মিশনের থেকে এটি আলাদা করে।তিনি আরও বলেন, এটি ‘ট্রাম্প পরিকল্পনার বিকল্প’ কারণ এতে প্যালেস্টিনিয়ানরা নিজ দেশের পুনর্গঠন কীভাবে হবে তা নিজেই ঠিক করতে পারবে।অন্য একজন কর্মী জানিয়েছেন, সমুদ্র মিশনের পাশাপাশি নতুন বৃহৎ ল্যান্ড কনভয় গঠন করা হচ্ছে।তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, এই মানবিক কনভয়ে চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী থাকবে। ডাক্তার, প্রকৌশলী ও অন্যান্য পেশাজীবীরা অংশ নেবেন।এই ল্যান্ড মিশন উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু হয়ে মিশের মধ্য দিয়ে রাফাহ সীমান্তে পৌঁছাবে। দ্বিতীয় ল্যান্ড কনভয় দক্ষিণ এশিয়া থেকে যাত্রা করবে, যার বিস্তারিত শিঘ্রই ঘোষণা করা হবে।আরেকজন কর্মী বলেন, ‘আমরা জানি তুর্কি জনগণ ফিলিস্তিন ও গাজাকে ভালোবাসে। আমরা তাদের কাছে বড় আশা রাখি এবং সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।’এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, তার সরকার পরবর্তী সুমুদ মিশনে সরাসরি অংশ নেবে।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সিএবি
বাংলাদেশসহ ১৯ দেশকে নিয়ে সামরিক মহড়া শুরু করল পাকিস্তান
বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশের অংশগ্রহণে পাকিস্তানে শুরু হয়েছে নবম ‘ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান আর্মি টিম স্পিরিট কম্পিটিশন (প্যাটস)–২০২৬’ সামরিক মহড়া। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে এই মহড়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। সেনাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও বাস্তবভিত্তিক সামরিক দক্ষতা যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ বলছে, পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়ার পাব্বি শহরের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ৬০ ঘণ্টাব্যাপী টহলভিত্তিক মহড়া শুরু হয়েছে।আইএসপিআর জানায়, এই মহড়ায় অংশ নিতে প্রয়োজন সর্বোচ্চ শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও সামরিক দক্ষতা। পাশাপাশি প্রায় বাস্তব যুদ্ধপরিস্থিতির কাছাকাছি পরিবেশে চ্যালেঞ্জিং উপ-সামরিক অভিযানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতাও যাচাই করা হচ্ছে।আইএসপিআরের তথ্যমতে, সৌদি আরব, বাহরাইন, বাংলাদেশ, বেলারুশ, মিসর, ইরাক, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, নেপাল, কাতার, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও উজবেকিস্তানসহ ১৯টি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মোট ২৪টি আন্তর্জাতিক দল এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড এই আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়ায় পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে অংশগ্রহণ করছে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।পাকিস্তান আইএসপিআর আরও জানায়, ‘পাকিস্তান আর্মি টিম স্পিরিট’ একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ও কাজকেন্দ্রিক পেশাদার সামরিক মহড়া, যা প্রতিবছর পাকিস্তানে আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ১৬টি স্থানীয় দল অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন।মূলত পাকিস্তানে প্রতিবছর এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সর্বশেষ অষ্টম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে।আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দলগত চেতনার মাধ্যমে ধৈর্য ও সহনশীলতা গড়ে তোলা। একইসঙ্গে অংশগ্রহণকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে নতুন ধারণা ও সেরা দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সমন্বয় ও সক্ষমতা বাড়ানোই এই মহড়া আয়োজনের লক্ষ্য।এবি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে তুরস্ক: এরদোয়ান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা যাতে মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন যুদ্ধের দিকে না নিয়ে যায়, সেজন্য তুরস্ক সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধের জেরে যেকোনও ধরনের সমঝোতা ভেস্তে যেতে পারে এমন আশঙ্কার মাঝে ওই মন্তব্য করেন তিনি।মিসর সফর শেষে দেশে ফেরার পথে বিমানে সাংবাদিকদের এরদোয়ান বলেন, শুক্রবার ওমানে অনুষ্ঠেয় নিচু স্তরের পারমাণবিক আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হলে তা সহায়ক হবে। বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রকাশিত বক্তব্যের লিখিত অনুলিপিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, উত্তেজনা বাড়তে না দেওয়ার জন্য তুরস্ক সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আঙ্কারার কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তৃত করেছেন।ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতবিরোধ এখনও কাটেনি। ওমানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ওয়াশিংটন। যদিও ইরান বলছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে। এই অচলাবস্থার মধ্যে উভয়পক্ষই পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার হুমকি দেওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।আলোচনার পরিধি ও স্থান নিয়ে মতভেদের কারণে বৈঠকটি আদৌ হবে কি না, সেই বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর যে হুমকি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রয়েছে।বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি বলব, তার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। হ্যাঁ, হওয়া উচিত। তিনি বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে তেহরান কী ধরনের আলোচনা করছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট।ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ইস্তাম্বুলে বৈঠকে সম্মত হলেও পরে আলোচনার স্থান মাসকাটে স্থানান্তরের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। তবে আলোচনার এজেন্ডা নিয়ে কোনও সমঝোতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্ৎস বৃহস্পতিবার বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল সফরের সময় ইরান ঘিরে সংঘাত আরও বাড়তে পারে— তার আলোচনায় এমন আশঙ্কাই প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি ইরানকে ‘আগ্রাসন’ বন্ধ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান এবং বলেন, উত্তেজনা কমাতে ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোতে জার্মানি সব ধরনের চেষ্টা চালাবে।দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গতকাল ও আজ আমার সব আলোচনায় ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়তে পারে—এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।এমআর-২
এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের জেফরি এপস্টেইনের যৌন পাচার মামলা সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এই তদন্তের সমাপ্তি ঘোষণা করলেও বিষয়টি এতো সহজে মিটে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে এই বিতর্ক পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।তবে বিচার বিভাগের তদন্ত শেষ হলেও কংগ্রেসের বিশেষ তদন্ত কমিটি এবং ভুক্তভোগীদের অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি হোয়াইট হাউসের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত রোববার জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত দীর্ঘ পর্যালোচনার পর নতুন কোনো মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। বিপুল পরিমাণ ইমেল, ছবি ও নথিপত্র হাতে থাকলেও সেগুলো কাউকে নতুন করে অভিযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু বিচার বিভাগের এই নথিতে সন্তুষ্ট নয় মার্কিন প্রতিনিধি সভা। রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা এই ইস্যুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে তলব করেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এমনকি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, প্রকাশিত নথিতে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর কিছুই পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এসব বাদ দিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই দাবি পুরোপুরি নির্ভুল নয়। প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম ছয় হাজারেরও বেশিবার এসেছে। যদিও নব্বইয়ের দশকের পর তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলে ট্রাম্প দাবি করেন। কিন্তু ২০১১ সালে এপস্টেইনের লেখা একটি ইমেল নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওই ইমেলে এপস্টেইন লিখেছিলেন যে, ট্রাম্পের বিষয়টি এখনো জনসমক্ষে আসেনি।শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নন এই নথির কারণে বিপাকে পড়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিত্ব। বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ধনকুবেরদের এই নথিতে তাদের নামের উপস্থিতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং ল্যারি সামারসের মতো ব্যক্তিরা ইতোমধ্যেই তাদের এপস্টাইন সংযোগের কারণে সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমআর-২
যুদ্ধক্ষেত্রে ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত: জেলেনস্কি
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান তিনি। খবার টিআরটি ওয়ার্ল্ড।ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের সংখ্যা পেশাদার কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মোট ৫৫ হাজার। তিনি আরও বলেন, এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক-ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে ২০২৬ সালের বসন্তের মধ্যে উভয় পক্ষ মিলিয়ে মোট সামরিক হতাহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে।সিএসআইএস- এর হিসাবে, এই যুদ্ধে রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে এবং ইউক্রেনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৫ থেকে ৬ লাখের মধ্যে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর প্রায় চার বছরে রাশিয়ার প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অন্যদিকে, যুদ্ধটি বেসামরিক জনগণের ওপরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৫ সালে ইউক্রেনে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় জানায়, শুধু ২০২৫ সালেই অন্তত ২ হাজার ৫০০ বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।এমআর-২
উত্তেজনার মধ্যেই বিদেশি ট্যাঙ্কার জব্দ করলো ইরান
জ্বালানি পাচারের অভিযোগে উপসাগরীয় জলসীমায় বিদেশি নাবিকসহ ২টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ইরান।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিদেশি ওই দুই ট্যাঙ্কার জব্দ করা হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ইরানের সামরিক বাহিনী উপকূলীয় জলসীমায় জ্বালানি তেলবাহী দুটি ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। ওই দুই ট্যাঙ্কারে করে জ্বালানি পাচার করা হচ্ছিল বলে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।তবে ট্যাঙ্কার দুটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল কিংবা নাবিকরা কোন দেশের সেই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি।ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন ঘিরে ওই অঞ্চলে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে, সেই সময় বিদেশি ট্যাঙ্কার জব্দের এই ঘটনা ঘটলো। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভ পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।এই আন্দোলন দমনে ইরানের শাসকগোষ্ঠী ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে। এতে বিক্ষোভে ৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে। তেহরানের প্রাণঘাতী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক চুক্তি মেনে নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে একটি নৌবহর পাঠিয়ে দিয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী উপসাগরে ১০ লাখ লিটারের বেশি পাচার করা জ্বালানি বহনকারী দুটি ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। ট্যাঙ্কার দু’টির ১৫ বিদেশি নাবিককে ইরানি বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।এমআর-২
মাটির নিচের নতুন মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করল ইরান
মাটির নিচে থাকা নতুন আরেকটি মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির চৌকস ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) এ ঘাঁটির তথ্য সামনে নিয়ে আসে।ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের এরোস্পেস বিভাগের প্রধান সায়েদ মাজেদ মৌসাভি ওই ঘাঁটিতে যান। তখন এটি উন্মোচন করা হয়।সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ এ দুই কর্মকর্তা বিপ্লবী গার্ডের মিসাইল সক্ষমতা এবং প্রস্তুতি বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। তাদের পাশাপাশি অন্যান্য কমান্ডারদেও এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়।সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জানান, “শত্রুদের যে কোনো কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে আমরা আমাদের রণকৌশল পরিবর্তন করেছি। আমরা এখন প্রতিরক্ষামূলক থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছি। যার ভিত্তিতে দ্রুত সময়ে এবং বৃহৎ পরিসরে অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি অনুসরণ করছি। একইসঙ্গে অসম যুদ্ধ এবং প্রতিপক্ষের সামরিক কৌশলকে চূর্ণ করার কৌশল অবলম্বন করছি আমরা।”যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েকদিন ধরে ইরানের আশপাশে যুদ্ধজাহাজসহ ব্যাপক সেনার উপস্থিতি ঘটিয়েছে। এরমধ্যে দুই দেশ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শঙ্কা করা হচ্ছে যদি আলোচনায় কোনো সমাধান না আসে তাহলে ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।তবে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, এবার যুদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তাহলে এটির প্রভাবে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হবে।এমআর-২
এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিল গেটস
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের বিল গেটস। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনের কয়েক লাখ নথি প্রকাশ করেছে।ওইসব নথির মধ্যে রয়েছে একটি ড্রাফট ইমেইল। এতে এপস্টেইন লিখেন, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিল গেটস এক রুশ নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। যার প্রভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুস্থ হতে বিল গেটসকে ওষুধও দেন বলে দাবি করেন তিনি। যেন তিনি অন্য বিবাহিত নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে পারেন।তবে এ ইমেইলের তথ্য অসত্য বলে দাবি করেছেন বিল গেটস। তিনি সংবাদমাধ্যম ৯নিউজ অস্ট্রেলিয়াকে বলেছেন, “আমি তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য আমি দুঃখিত, ক্ষমা চাই। ওই ইমেইল কখনো কোথাও পাঠানো হয়নি। ইমেইলটি মিথ্যা। আমি জানি না এ ব্যাপারে তার কি মতলব ছিল। এপস্টেইন কি কোনোভাবে আমাকে আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন?”বিল গেটস আরও বলেন, এপস্টেইনের ২০১১ সালে প্রথম যোগাযোগ হয় তার। এরপর পরের তিন বছর একাধিকবার এপস্টেইনের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। কিন্তু কখনো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত তার সেই দ্বীপে যাননি এবং কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্কও ছিল না। বিল গেটসের এক মুখপাত্রও একই দাবি করে বলেছেন, বিল এসব ব্যাপারে অবগত নন।এমআর-২
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত–ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁর দেশ ভারত–ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনি বলেন, ‘টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি। আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ, খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি, এটি খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।’বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কা আমলে না নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ দলকে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সিদ্ধান্তটি গত সপ্তাহে জানালেও পাকিস্তান সরকার কারণ জানাল এই প্রথম। এর আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান আইসিসির দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে ২০২৬ আইসিসি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা। তবে গত রোববার পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডল থেকে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়, ভারত–ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান দল।এ বিষয়ে পিসিবি প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। তবে সেদিনই আইসিসি এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের’ কথা মনে করিয়ে সিদ্ধান্ত ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে বলেছিল।ভারতের সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বিশ্বকাপের জন্য ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে অনুরোধ করা হয় ভেন্যু বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ রাখার জন্য। তবে মোস্তাফিজের ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক’ উল্লেখ করে আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আইসিসি ভারতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নেয়নি, ভারত সরকারও নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকার পর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নিয়েছে।অতীতে ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাশঙ্কা আমলে নিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন নয়—এমন প্রশ্ন তুলে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি আইসিসির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন। ‘বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন। এর আগে আইসিসি বোর্ড সভায় ভেন্যু বদলের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন নাকভি।এইচএ
খেলা
সব দেখুন- বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফেরালে বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মহারণ
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, জরুরি বৈঠক ডেকেছে আইসিসি
- বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ভারতের মুখোমুখি হলে যা করবে পাকিস্তান
- মারা গেছেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক রঞ্জিত দাস
- পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট নিয়ে যা বললো আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে পাকিস্তান, বয়কট করবে ভারত ম্যাচ
বিনোদন
সব দেখুন
শাকিব-বুবলীর ঘরে আসছে নতুন অতিথি
ফের বাবা-মা হতে যাচ্ছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেতা শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী। প্রথম সন্তানের জন্মের ৫ বছর পর ফের মাতৃত্বের পথে হাঁটছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই নায়িকা।গত বছরের শেষের দিকে ছেলেকে নিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ছুটি কাটান বুবলী। তখন তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কথা ওঠে। অনেকেই বলতে শুরু করেন শাকিব-বুবলী ফের এক হতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সম্প্রতি বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। এটা গুঞ্জন হিসেবে চলতে শুরু করার মাঝেই জানা গেল ঘটনার সত্যতা। শাকিব ও বুবলীর ঘরে শেহজাদ খান বীর নামে এক সন্তান রয়েছে। শাকিব খানের পরামর্শেই সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী।বুবলী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তাই ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিং করতে চাইছেন না বুবলী। প্রথম দফায় আদর আজাদের বিপরীতে ৪ দিন শুটিংয়ে অংশও নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ের জন্য শিডিউল দিচ্ছিলেন না। সন্তান জন্মের পর শারীরিকভাবে ফিট হয়ে বাকি অংশের শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে প্রযোজক-পরিচালককে জানিয়েছেন বুবলী।সিনেমাটির প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, সিনেমার প্রথম লটে ৪ দিনের শুটিং হয়েছে। দ্বিতীয় লটে রোজার মধ্যে শুটিং থাকলেও বুবলীকে ছাড়া বাকি কাজ শেষ করতে হবে। সন্তান জন্ম দিতে এই মাসেই তিনি আমেরিকায় যাচ্ছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জুনে শিডিউল দিলেও আমরা ধারণা করছি, তখন তিনি পুরোপুরি ফিট নাও হতে পারেন। তাই সেপ্টেম্বরের দিকে শুটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।জানা গেছে, এখন বুবলী শুটিং করছেন না ঝুঁকির কারণে। তবে আগামীকাল রাজধানীর একটি শপিং কমপ্লেক্সে হাজির হবেন বুবলী। একটি আউটলেট-এর ওপেনিং সেরেমনি হবে বুবলীর হাত ধরে। সেখানেই বুবলী জানাতে পারেন মা হতে যাওয়ার বিষয়টি।এদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, বুবলী সন্তান জন্ম দিতে এ মাসেই উড়াল দেবেন যুক্তরাষ্ট্রে। শেহজাদ খান বীরেরও জন্ম হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বুবলী। এ খবর ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে বুবলী নিজেই সামনে আনেন। তবে তার আগে নানা নাটকীতায় অংশ নেন তিনি। মা হওয়ার খবর কেন্দ্র করে সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত মা হওয়ার গুঞ্জনই সত্যি হয়েছিল। এবারও দেখানো পথেই হাটছেন বুবলী। বর্তমানে এই অভিনেত্রীর ‘পিনিক’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায়। সর্বশেষ তাকে ‘জংলি’ সিনেমায় দেখা গেছে।এইচএ
জেলে যাওয়ায় কাছের বন্ধুরাও নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে ছবি মুছে ফেলেন
গ্রেপ্তার ও কারাবাসের দীর্ঘ কয়েকমাস পর অবশেষে সম্প্রতি পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। বিমানবন্দরে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরবর্তী ২ দিনের জেলজীবন তার জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুন করে চিনিয়েছে। শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গিয়েই তিনি প্রথম পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পান।ফারিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে- এমন খবর তিনি আগেই শুনেছিলেন। তবে সে সময় দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। ফারিয়া বলেন, গানের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে।কিন্তু তারা যখন আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।কারাগার থেকে বের হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে কাটানো মাত্র দুই দিনেই তিনি জীবনের বড় শিক্ষা পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল তার চারপাশের মানুষদের আচরণে।এই ঘটনার পর সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তার সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন। যেন তারা স্পষ্ট করে দিতে চান, এই মুহূর্তে তার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, কারণ তিনি তখন ঝামেলায় ছিলেন। নুসরাত ফারিয়ার ভাষ্য, এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কে আমার আপন, আর কে নয়। ফারিয়া বলেন, যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোর অস্তিত্বও নতুন করে চিনেছি।আজ তারা ফিরতে চাইলেও তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা- সবখানেই বড় পরিবর্তন দেখেছি। তবে কিছু মানুষও পেয়েছেন এই ঘটনার পর, যাদের জন্য আপ্লুত এই অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, এই ঘটনাটার পর যাদের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে বাচ্চা পর্যন্ত- সবার চোখেই আমি সেই দৃষ্টি দেখেছি। যেন তারা বলতে চেয়েছে, আমরা তোমার জন্য দোয়া করেছিলাম, আমরা চাইছিলাম তুমি ফিরে আসো। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সবকিছু ভুল দিকে যাচ্ছে।উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে নুসরাত ফারিয়া জানান, এক দিন, এক দিন এক রাত আমাকে জেলে থাকতে হয়েছিল। সেখানে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইভেন ইনসাইড দেম… জেলের ভেতরে জেলারের থেকে শুরু করে সবাই যে সহানুভূতি আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ট্রিট করেছে, আমি বলব- আমি ভেরি ব্লেসড। এটা পুরোপুরি আলাদা এক অভিজ্ঞতা।তবে বিষয়টি খুব বেশি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, এটা খুব কনফিডেনশিয়াল, সবাই জানুক- আমি তা চাই না। কিন্তু আমি রেসপেক্টেড ছিলাম, আমাকে নাইসভাবে ট্রিট করা হয়েছে। কোনো ধরনের ডিসরেসপেক্ট ছিল না, বরং আমি ভালোবাসাই পেয়েছি।নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমার তো খাওয়াই হজম হয়নি, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আমি কিছু খাইনি। কিন্তু দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে। সকালে রুটি ছিঁড়ে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে খাওয়াচ্ছে।তিনি আরও বলেন, আমি শুধু মনে করতে পারি—আমার চোখ দিয়ে টিয়ারড্রপ পড়ছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। এমন মানুষ, যাদের আমি চিনি না, হয়তো জীবনে আর কখনো দেখবও না। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমি মন থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের সব কষ্ট দূর করে দেন। কারণ ওই ক্রুশাল মোমেন্টে তারা আমার সঙ্গে কিছু না হয়ে শুধু ভালো আর দয়ালুই ছিল।উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়, যেখানে ফারিয়াকে আসামি করা হয়। মামলার নথিতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।এইচএ
বিড়ম্বনায় সাদিয়া ইসলাম মৌ হাঁটলেন আইনি পথে
ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিড়ম্বনায় আইনি পথে হাঁটলেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় মডেল, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও পরিচিতদের প্রতারিত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। শোবিজ দুনিয়ার এ উজ্জ্বল নক্ষত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব কমই একটিভ থাকেন। ভার্চুয়াল জগতে মৌ মাত্র একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানান। তার আইডির নাম ‘সাদিয়া ইসলাম’।অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সাদিয়া ইসলাম মৌ’ নামে একাধিক ফেসবুক আইডি বা পেজ রয়েছে। এ সব আইডি ভুয়া বলে দাবি করেন মৌ। ওই সব ভুয়া আইডিতে নিয়মিত স্ট্যাটাস দেয়া, ছবি আপলোড করা এবং পরিচিতজনদের পোস্টে মন্তব্য করা হচ্ছে বলে নজরে পড়ে তার।বিষয়টিতে চরম বিরক্তি, বিব্রতবোধ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৌ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের খুব সুন্দর করে অনুরোধ করছি এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করুন। আমার অনুমতি ছাড়া ছবি পোস্ট করা, লেখা দেয়া এসব আইনত অপরাধ। যারা এসব করছে, সাবধান হোন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থায় যা হওয়ার তাই হবে।মৌ আরও বলেন, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি এবং সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবো। ভক্ত, দর্শক ও পরিচিতজনদের উদ্দেশে আমি বলবো ভুয়া অ্যাকাউন্টের বন্ধু হয়ে আপনারা প্রতারিত হবেন না। আবারও বলছি, আমার কোনো ফ্যান পেজ নেই, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নেই।নব্বই দশকে বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল ও নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান সাদিয়া ইসলাম মৌ। ক্যারিয়ারে শীর্ষে থাকা অবস্থায় অভিনেতা জাহিদ হাসানকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে পুষ্পিতা নামে একটি কন্যা এবং পূর্ণ নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।এইচএ
২৩ বছর পর আবার মুক্তি পাচ্ছে সালমানের ‘তেরে নাম’
বলিউডের বিখ্যাত একটি চরিত্র রাধে। ২০০৩ সালের সিনেমা ‘তেরে নাম’-এ সালমান খান অভিনয় করেছিলেন এই চরিত্রটিতে। মুক্তির পর গান, গল্প ও সালমানের দুর্দান্ত অভিনয়ে সিনেমাটি ভারতবর্ষজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। কামাই করে নেয় কাড়ি কাড়ি টাকাও। পুনরায় দর্শকদের সামনে আসছে ছবিটি।সিনেমাটি ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের বিভিন্ন হলে প্রদর্শিত হবে। পিঙ্কভিলা এমনই তথ্য দিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সিনেমা আবার নতুন করে প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালের ‘তেরে নাম’-ও ফিরে আসছে। নতুন শোতে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সালমান খানের প্রেমিক চরিত্রের জন্য আলোচিত এই সিনেমা ধীরে ধীরে একটি কাল্ট ফলোয়িং অর্জন করেছে। এবার শক্তিশালী কমব্যাকের প্রত্যাশা রয়েছে ছবিটিকে ঘিরে।‘তেরে নাম’ সিনেমায় সালমান খানের অসহায়ত্বের অভিনয় দর্শকের মন কাঁদায় আজওসিনেমার জনপ্রিয় গানগুলো গেয়েছিলেন ছিলেন হিমেশ রেশমিয়া। সাজিদ ওয়াজিদ গানের সংযোজন করেছেন, এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সংগীত তৈরি করেছেন বিক্রম বিকি গোস্বামী। মুক্তির সময় এটি ১৫ আগস্টের বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রকাশ পেয়েছিল এবং বাজেটের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আয় করেছিল। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছে সিনেমার আবেগপূর্ণ দৃশ্যায়নের জন্য।সালমান খানের নায়িকা হয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান ভূমিকাগল্পের কেন্দ্রে রয়েছে রাধে মোহন চরিত্রে সালমান খান এবং নির্জারা ভরাডওয়াজ চরিত্রে ভূমিকা চাওলা। গল্পটি তাদের দুঃখজনক ও নাটকীয় প্রেমের উপর ভিত্তি করে যা নানা মোড় নিয়ে দর্শকদের অবাক করে। রাধে অবিরাম চেষ্টা করেন নির্জারাকে জিততে। যদিও তার পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা তাদের একসঙ্গে হতে বাধা দেয়।সিনেমার ট্র্যাজিক সমাপ্তি দর্শকদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে অম্লান হয়ে আছে। এবার বড় পর্দায় এই আবেগ পুনরায় অনুভব করার সুযোগ মিলবে।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
ফেব্রুয়ারির ৪ দিনে দেশে এলো ৫০ কোটি ডলার
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে দেশে প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ছয় হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে প্রবাস আয় এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাস আয় এসেছে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাস আয় এসেছিল ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।এবি
অনুরোধেও মন গলেনি শ্রমিক নেতাদের, সরকারকে আলোচনার আহ্বান ব্যবসায়ীদের
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলের লবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ উদ্বেগের কথা জানান তারা। এসময় তারা এনসিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।এর আগে এদিন দুপুর আড়াইটায় আগ্রাবাদ হোটেলের কর্ণফুলী হলে আন্দোলনকারী শ্রমিকদল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। এসময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জাতীয় নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে সংকটকালীন আন্দোলন পরিহার করার জন্য শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ জানালেও তারা তাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকেন। শ্রমিক নেতারা বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার ও এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে আলোচনার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীদের।সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেপজিয়া), সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সভা শেষে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ নেতা এবং এশিয়ান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ সালাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বন্দরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে শুধু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, তারাও (শ্রমিক) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ অনেক শ্রমিক দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন, তারাও মার খাচ্ছেন। এ অবস্থায় এখন ব্যবসায়ীরা চোখে অন্ধকার দেখছেন।এম এ সালাম বলেন, বন্দর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো- বাংলাদেশের লাইফ লাইন, ৯০ শতাংশ আমদানি রপ্তানি যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয় তা চারদিন বন্ধ থাকতে পারে না। একটা বিষয় সবাই খেয়াল করবেন, আগেও একদিন, দুদিন বন্দর বন্ধ ছিল- কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি। এবার প্রথম জাহাজ চলাচল বন্ধ। ইন্টারন্যাশনালি সবাই এটার দিকে তাকিয়ে আছে।এটা সুনাম বয়ে আনছে না, বরং দুর্নাম বয়ে আনছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারকে অনুরোধ করবো শিগগির আলোচনা করার জন্য। খুব একটা বড় সমস্যা নয়। আমরা যা আলোচনা করেছি, এটাতে কী উপকার হবে, কী অপকার হবে তা যদি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, নেগোসিয়েশনের কোনো বিকল্প নেই। সরকার গত চারদিন (আলোচনা) করেনি। এখন দ্রুত আলোচনা শুরু করলে, সেটি রাত হোক, দিন হোক কোনো ব্যাপার নয়, তারা কথা দিয়েছেন কাজে অংশগ্রহণ করবেন।এদিকে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ এ নেতা আরও বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসেছিলাম অনুরোধ করতে তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য। বিশদ আলোচনা হয়েছে, প্রায় চার ঘণ্টা। সামনে নির্বাচন, তিনদিনের ছুটি। এর সাত-আটদিন পর রমজান। রমজানের পণ্যগুলো কীভাবে ডেলিভারি করবে সেগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। গার্মেন্টস সেক্টর বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে কাজ করবে মাত্র ১৮ দিন, মার্চে কাজ করবে মাত্র ১৬-১৭ দিন। তিনি আরও বলেন, এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য যদি বন্দর বন্ধ থাকে উৎপাদন করা পণ্য যাবে না, আবার ভবিষ্যৎ কাঁচামাল আসবে না। এর ওপর আবার ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ থেকে চীনে ছুটি ১৬ দিনের জন্য। আমরা অসম্ভব ক্ষতির মুখে আছি, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং রমজানের বিষয়ে পুরো দেশবাসী। বন্দর যদি এভাবে বন্ধ থাকে বন্দরের যে চার্জেস আসবে তার দায়ভার ব্যবসার ওপর আসবে। ব্যবসার ওপর আসলেও ব্যবসায়ী তো আর দেবেন না, আলটিমেটলি কনজিউমারের ওপর যাবে। সে জন্যই আমরা উদ্বিগ্ন, সে জন্যই আমরা বসেছিলাম।তিনি বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন মাত্র বাকি। তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি সরকারকে অনুরোধ করা। এনসিটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়ে তারা কনসার্ন। আলোচনা ছাড়া কোনো সমাধান হবে না। যদি এনসিটি নিয়ে বৃহৎ আকারে আলোচনা হয় তারা কর্মসূচি বন্ধ রেখে কাজে যোগ দেবেন। সরকারের ওপরের লেভেলের সবাইকে অনুরোধ করছি, বন্দর ব্যবহারকারীরা এখন যে কষ্টে আছেন- দেশবাসী কষ্টে কিন্তু কাল থেকে পড়বে। মাত্র ১৫ দিন পরে ছোলা, খেজুর, কিশমিশ, ডালসহ রমজানের সব ভোগ্যপণ্য লাগবেই। সাপ্লাই চেন অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। অ্যাট দ্য সেম টাইম ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর ও রপ্তানি অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আলোচনা শুরু হলে, তাদের যদি কথা দেওয়া হয়, বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাহলে অনতিবিলম্বে কাজে ফেরত যাবেন।এদিকে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা এবং মঙ্গলবার থেকে টানা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির প্রভাবে কার্যত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জেটি, টার্মিনাল, শেড, ইয়ার্ডে টানা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ও শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকার যতক্ষণ ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে না আসবে ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতিতে সাড়া দিয়েছেন।জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে নতুন জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। এমনকি বহির্নোঙরে যাওয়ার জন্য তৈরি জাহাজগুলোও বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। আন্দোলনকারীরা বন্দরের প্রতিটি প্রবেশপথে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি।ফলে জেটি থেকে ইয়ার্ড—সর্বত্রই ছিল জনমানবহীন। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে রপ্তানি ও আমদানি পণ্যবাহী লরি ও ট্রেইলারের দীর্ঘ সারি থাকে। গতকাল গেটের দুই পাশ ছিল তালাবদ্ধ। মাঝে মধ্যে দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি যাতায়াতের জন্য ছোট দরজা খোলা হলেও পণ্যবাহী কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি। গতকাল পর্যন্ত জেটি ও বহির্নোঙরে ১৪২টি জাহাজ আটকা পড়েছিল। এর মধ্যে উল্লেযোগ্যসংখ্যক জাহাজে রয়েছে চিনি, ভোজ্যতেল ও ডালের মতো পণ্য।এদিকে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে শাস্তিমূলক বদলি করলেও তারা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি।এবি
এবার পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা
পে-স্কেলের দাবি বাস্তবায়নের জন্য টানা তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে সময় লাগলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।বর্তমান সরকারের অবস্থান ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরবর্তী সরকারের জন্য একটা স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অর্থনীতি দেড় বছরে ঠিক হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণভোটের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নয়। গণভোটের কারণে এবার নির্বাচনে অন্যবারের চেয়ে বরাদ্দ বেশি লাগছে।তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হবে কিছুটা।এফএস
৫ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ১০ হাজার ৯০৬ টাকা
মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিন দফা সোনার দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হম ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা।একদিনে তিন দফা কমানোর পর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এ দাম বাড়ানোর পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৮ হাজার ৯২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। আজ বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এ দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৬৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
স্বর্ণের দাম বাড়লো ভরিতে ৫৪২৪ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণের) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।গতকাল তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা। একদিনে তিন দফা কমানোর পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো। এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।এর আগে গতকাল বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা। আজ সকাল ১০টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত এই দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য মতে, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন বা ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। প্রসঙ্গত, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।এমআর-২
রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ১৯.৬৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৯ কোটি ৬৫ লাখ (১৯৬.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ক্রয় করা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগে, গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ (১৭১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।এসব ডলার কেনার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬ মিলিয়ন বা ৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৪৫১৯.৫০ মিলিয়ন (৪৫১ কোটি ৯৫ লাখ) মার্কিন ডলার।এর আগ একই দরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার আগে গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৯৬.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছি। ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয়ের পরিমাণ ৪,৫১৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।এফএস
ফেব্রুয়ারির ৪ দিনে দেশে এলো ৫০ কোটি ডলার
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে দেশে প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ছয় হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে প্রবাস আয় এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাস আয় এসেছে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাস আয় এসেছিল ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।এবি
অনুরোধেও মন গলেনি শ্রমিক নেতাদের, সরকারকে আলোচনার আহ্বান ব্যবসায়ীদের
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলের লবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ উদ্বেগের কথা জানান তারা। এসময় তারা এনসিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।এর আগে এদিন দুপুর আড়াইটায় আগ্রাবাদ হোটেলের কর্ণফুলী হলে আন্দোলনকারী শ্রমিকদল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। এসময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জাতীয় নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে সংকটকালীন আন্দোলন পরিহার করার জন্য শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ জানালেও তারা তাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকেন। শ্রমিক নেতারা বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার ও এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে আলোচনার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীদের।সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেপজিয়া), সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সভা শেষে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ নেতা এবং এশিয়ান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ সালাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বন্দরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে শুধু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, তারাও (শ্রমিক) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ অনেক শ্রমিক দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন, তারাও মার খাচ্ছেন। এ অবস্থায় এখন ব্যবসায়ীরা চোখে অন্ধকার দেখছেন।এম এ সালাম বলেন, বন্দর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো- বাংলাদেশের লাইফ লাইন, ৯০ শতাংশ আমদানি রপ্তানি যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয় তা চারদিন বন্ধ থাকতে পারে না। একটা বিষয় সবাই খেয়াল করবেন, আগেও একদিন, দুদিন বন্দর বন্ধ ছিল- কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি। এবার প্রথম জাহাজ চলাচল বন্ধ। ইন্টারন্যাশনালি সবাই এটার দিকে তাকিয়ে আছে।এটা সুনাম বয়ে আনছে না, বরং দুর্নাম বয়ে আনছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারকে অনুরোধ করবো শিগগির আলোচনা করার জন্য। খুব একটা বড় সমস্যা নয়। আমরা যা আলোচনা করেছি, এটাতে কী উপকার হবে, কী অপকার হবে তা যদি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, নেগোসিয়েশনের কোনো বিকল্প নেই। সরকার গত চারদিন (আলোচনা) করেনি। এখন দ্রুত আলোচনা শুরু করলে, সেটি রাত হোক, দিন হোক কোনো ব্যাপার নয়, তারা কথা দিয়েছেন কাজে অংশগ্রহণ করবেন।এদিকে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ এ নেতা আরও বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসেছিলাম অনুরোধ করতে তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য। বিশদ আলোচনা হয়েছে, প্রায় চার ঘণ্টা। সামনে নির্বাচন, তিনদিনের ছুটি। এর সাত-আটদিন পর রমজান। রমজানের পণ্যগুলো কীভাবে ডেলিভারি করবে সেগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। গার্মেন্টস সেক্টর বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে কাজ করবে মাত্র ১৮ দিন, মার্চে কাজ করবে মাত্র ১৬-১৭ দিন। তিনি আরও বলেন, এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য যদি বন্দর বন্ধ থাকে উৎপাদন করা পণ্য যাবে না, আবার ভবিষ্যৎ কাঁচামাল আসবে না। এর ওপর আবার ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ থেকে চীনে ছুটি ১৬ দিনের জন্য। আমরা অসম্ভব ক্ষতির মুখে আছি, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং রমজানের বিষয়ে পুরো দেশবাসী। বন্দর যদি এভাবে বন্ধ থাকে বন্দরের যে চার্জেস আসবে তার দায়ভার ব্যবসার ওপর আসবে। ব্যবসার ওপর আসলেও ব্যবসায়ী তো আর দেবেন না, আলটিমেটলি কনজিউমারের ওপর যাবে। সে জন্যই আমরা উদ্বিগ্ন, সে জন্যই আমরা বসেছিলাম।তিনি বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন মাত্র বাকি। তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি সরকারকে অনুরোধ করা। এনসিটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়ে তারা কনসার্ন। আলোচনা ছাড়া কোনো সমাধান হবে না। যদি এনসিটি নিয়ে বৃহৎ আকারে আলোচনা হয় তারা কর্মসূচি বন্ধ রেখে কাজে যোগ দেবেন। সরকারের ওপরের লেভেলের সবাইকে অনুরোধ করছি, বন্দর ব্যবহারকারীরা এখন যে কষ্টে আছেন- দেশবাসী কষ্টে কিন্তু কাল থেকে পড়বে। মাত্র ১৫ দিন পরে ছোলা, খেজুর, কিশমিশ, ডালসহ রমজানের সব ভোগ্যপণ্য লাগবেই। সাপ্লাই চেন অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। অ্যাট দ্য সেম টাইম ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর ও রপ্তানি অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আলোচনা শুরু হলে, তাদের যদি কথা দেওয়া হয়, বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাহলে অনতিবিলম্বে কাজে ফেরত যাবেন।এদিকে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা এবং মঙ্গলবার থেকে টানা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির প্রভাবে কার্যত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জেটি, টার্মিনাল, শেড, ইয়ার্ডে টানা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ও শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকার যতক্ষণ ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে না আসবে ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতিতে সাড়া দিয়েছেন।জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে নতুন জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। এমনকি বহির্নোঙরে যাওয়ার জন্য তৈরি জাহাজগুলোও বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। আন্দোলনকারীরা বন্দরের প্রতিটি প্রবেশপথে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি।ফলে জেটি থেকে ইয়ার্ড—সর্বত্রই ছিল জনমানবহীন। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে রপ্তানি ও আমদানি পণ্যবাহী লরি ও ট্রেইলারের দীর্ঘ সারি থাকে। গতকাল গেটের দুই পাশ ছিল তালাবদ্ধ। মাঝে মধ্যে দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি যাতায়াতের জন্য ছোট দরজা খোলা হলেও পণ্যবাহী কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি। গতকাল পর্যন্ত জেটি ও বহির্নোঙরে ১৪২টি জাহাজ আটকা পড়েছিল। এর মধ্যে উল্লেযোগ্যসংখ্যক জাহাজে রয়েছে চিনি, ভোজ্যতেল ও ডালের মতো পণ্য।এদিকে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে শাস্তিমূলক বদলি করলেও তারা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি।এবি
এবার পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা
পে-স্কেলের দাবি বাস্তবায়নের জন্য টানা তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে সময় লাগলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।বর্তমান সরকারের অবস্থান ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরবর্তী সরকারের জন্য একটা স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অর্থনীতি দেড় বছরে ঠিক হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণভোটের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নয়। গণভোটের কারণে এবার নির্বাচনে অন্যবারের চেয়ে বরাদ্দ বেশি লাগছে।তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হবে কিছুটা।এফএস
৫ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ১০ হাজার ৯০৬ টাকা
মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিন দফা সোনার দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হম ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা।একদিনে তিন দফা কমানোর পর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এ দাম বাড়ানোর পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৮ হাজার ৯২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। আজ বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এ দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৬৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
স্বর্ণের দাম বাড়লো ভরিতে ৫৪২৪ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণের) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।গতকাল তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা। একদিনে তিন দফা কমানোর পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো। এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।এর আগে গতকাল বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা। আজ সকাল ১০টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত এই দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
নির্বাচনের আগে সুসংবাদ পেলেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) শিক্ষক ও কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক ব্যাংকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অর্থ শাখা থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক আজ অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।এতে করে শিক্ষক-কর্মচারীরা পরবর্তী কার্যদিবসে নিজ নিজ ব্যাংক থেকে জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন।এফএস
এমপিওভুক্ত হচ্ছে আরও ১ হাজার ৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এমপিওভুক্ত হতে যাচ্ছে দেশের আরও ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী সপ্তাহেই সরকার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে পারে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগের সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর মাত্র দুই সপ্তাহ। শেষ সময়ে এসে তাই দ্রুতগতিতে বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে চায় সরকার।এর আগে গত মাসে অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন আহ্বান করে সরকার।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করা হয়েছে। এ জন্য সরকারকে গুনতে হবে বছরে বাড়তি ৬৭০ কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে দরকার হবে ১৬৭ কোটি টাকা। যেখানে ইতোমধ্যে সংশোধিত বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, তালিকায় নিম্ন-মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৭১। যেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬২৩টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০৫টি এবং ১৪৫টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ রয়েছে। এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষায় ৭৮টি দাখিল, ২০২টি আলিম এবং ৩৫টি ফাজিল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের অন্তত অর্ধেক সময়জুড়েই বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির দাবিতে রাস্তায় সরব ছিলেন শিক্ষকরা। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতিতে শুরুর দিকে খানিকটা রক্ষণশীল থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর গত বছরের শেষ দিকে নমনীয় হয় সরকার। ফলে চূড়ান্ত করা হচ্ছে এমপিওভুক্তির নীতিমালা।এমআর-২
নির্বাচনের আগে হাবিপ্রবিতে ভর্তির তড়িঘড়ি, ভোগান্তির আশঙ্কা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) স্নাতক প্রথম মেধা তালিকা থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম নির্ধারিত হয়েছে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি, অথচ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী অঞ্চল থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের দিনাজপুরে আসতে হবে। অভিভাবকরা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের আগে যাতায়াত ও নিরাপত্তাজনিত কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। বিশেষ করে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে দূরপাল্লার যান চলাচল সীমিত করার সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনী সভা, মিটিং-মিছিলের কারণে ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়তে পারেন। ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা যায়, তারা নির্বাচনের পর ভর্তি কার্যক্রম আয়োজনের সুপারিশ করেছিলেন। তবে উপাচার্য প্রফেসর ড. এনামউল্যা সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে একক সিদ্ধান্তে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে বিমানে অবস্থান করছেন এবং কথা বলতে পারবেন না বলে ফোন কেটে দেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ভর্তি কার্যক্রম নির্বাচনের পর নির্ধারণ করলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও অংশগ্রহণ আরও নির্বিঘ্ন হতো। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকালীন ছুটির কোনো নোটিশ না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের আমেজ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছেন। এসআর
জবিতে কয়েক দফা সংঘর্ষে আহত ৩০
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধুপখোলায় ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র হলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ৩-০ গোলে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ জয় লাভ করে। খেলা শেষ হওয়ার পর উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।সংঘর্ষ চলাকালে মাঠে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এইচএ
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন মামলার মুখে পড়েছে বিশ্বের ৩ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্ম ফেসবুক, গুগল ও টিকটক। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরি এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। এএফপির প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে আদালত এই মামলার জুরি নির্বাচন শুরু করবে। এই মামলাকে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসের একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।এই মামলার রায় ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে গেলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের আরও হাজারো মামলার ঢেউ উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতে মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। কম বয়সি শিশু, তরুণ ও তরুণীরা ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সেবা ও পণ্য ব্যবহার করে অবসাদ, খাবারে অনাসক্তি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি, আত্মহত্যাও করেছেন—এমন দাবি করেছেন বাদী পক্ষের হাজারো মানুষ। বাদী-পক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে তামাক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা আইনি কৌশল বেছে নিচ্ছেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিশ্বখ্যাত সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ পণ্য বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক নিয়োগের পর আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিচারপতি ক্যারোলিন কুল-এর আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সি এক মার্কিন নারী। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে শুধু নামের আদ্যাক্ষর ‘কে জি এম’ ব্যবহার করে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে তিনি ‘মানসিক ক্ষতির’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলা ও আদালতের অভিযোগ গ্রহণের নজির নেই। সোশাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বার্গম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবারই প্রথম কোনো সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের ক্ষতি করার অভিযোগে বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’ বার্গম্যানের আইনজীবীরা এ ধরনের প্রায় এক হাজার মামলার দায়িত্বে আছেন। আইনজীবীদের এই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে তরুণ-তরুণীদের ক্ষতি করার জন্য সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে। বার্গম্যান বলেন, ‘কে জি এম ও তার পরিবার যে একটি আদালতকক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ক্ষমতাবান ও বিত্তবান প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে পেরেছেন, এটাই একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এ ধরনের মামলাগুলো জেতা অনেক কঠিন এবং আগের, একই ধরনের ঘটনার নজির ও তথ্য-প্রমাণ টেনে বিজয়ী হওয়ার দায়ভার আমাদের ওপর বর্তেছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা কেজিএম-এর (মানসিক) ক্ষতি নিশ্চিত করে। এই দায়িত্ব আমরা খুশি মনেই কাঁধে নিয়েছি।’ এই বিচারের রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের সব মামলার রায়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে মত দেন বার্গম্যান। গত সপ্তাহে অপর সমাজমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট আদালতের বাইরে চুক্তি করে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর দাবি, মার্কিন যোগাযোগ নৈতিকতা আইনের ২৩০ ধারা তাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছেন, তা নিয়ে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেহাই দেয় এই ধারা। তবে মামলায় বিবাদীদের যুক্তি—সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে। পাশাপাশি সেখানে এমন সব কনটেন্টের প্রচারণা করা হয়, যা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। বার্গম্যান আরও বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকারক কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে না পারার জন্য মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছি না।’ তার ভাষায়, ‘তাদের দোষ, তারা এমনভাবে প্ল্যাটফর্মগুলো বানিয়েছে যা শিশুদের আসক্ত করে তোলে। তাদের এলগরিদম এমন যে শিশুরা কনটেন্ট থেকে চোখ সরাতে পারে না।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতেও একই ধরনের অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে উল্লেখিত তিন প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো : সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৭ জনের যাবজ্জীবন, দুইজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড ও রাজসাক্ষী আফজালকে খালাস দিয়েছেন আদালাত। একইসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর ২ সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহা ও যুবলীগ নেতা রনি ভূইয়া। মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।পলাতক ৮ আসামি হলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউসনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহমেদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অপর প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে ৪ আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।গত ২০ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল।এ মামলায় প্রাথমিকভাবে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় ১১ আসামির নাম উল্লেখ করে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে আটজন প্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। পেট্রল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ছাড়া এর আগের দিন একজন শহীদ হয়েছিলেন।এ ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন তিনি।এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া সাক্ষী করা হয়েছে ৬২ জনকে। এর মধ্যে ২৬ জন সাক্ষী দেওয়ার পর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। গত ২ জুলাই জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ ছাড়া গ্রেপ্তার ৮ আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
মোজাম্বিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বাংলাদেশ: ১০ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান
আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা এবং ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা; ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।এই সংকটময় সময়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে মোজাম্বিক সরকার। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোজাম্বিক সরকারকে ১০ লাখ টাকা সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।গতকাল ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) মোজাম্বিকের রাজধানী মাপুতুতে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুয়েলা দোস সান্তোস লুকাসের হাতে এই সহায়তার অর্থ তুলে দেন দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহ আহমেদ শফী।এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত শাহ আহমেদ শফী বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত মোজাম্বিকবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মোজাম্বিক দ্রুত এই দুর্যোগ কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক সহায়তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করে মোজাম্বিক সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিস লুকাস বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।এনআই
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে। এইচএ
