আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল: প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উই আর ভেরি হ্যাপি।তিনি বলেন, আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ। আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল (গুরুত্বপূর্ণ)।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।শনিবার রাতে যমুনার বাইরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান।প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে শফিকুল আলম জানান, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সারাদেশে উৎসাহ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে।তিনি বলেন, কেউ কারোর বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণ ও অভদ্র কথা হচ্ছে না। এটি আমাদের রাজনীতি ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এই খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন।এফএস
এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না: ইসি মাছউদ
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, দেশে ভোটের সাংস্কৃতিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষের চাপে নেই, তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি। দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এখন যথেষ্ট ভালো আছে। নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ রয়েছে। এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রংপুর সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। জাতিকে ভালো নির্বাচন দেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার সবই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে ধরনের মানসিকতা তাদের মাঝে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তুলনামূলক ভালো রয়েছে।তিনি বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো চাপ নেই। তবে নির্বাচনকে সহজ, গ্রহণযোগ্য করতে সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচনের প্রতিকূলে যায় আমরা এসব মুভমেন্ট বিরোধী। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনগণকে তাদের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।ইসি মাছউদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বড় দুই দলের নেতা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের কথা রেখেছে। নির্বাচন কমিশনের কথামতো দলের নেতারা তাদের পোস্টার অপসারণ, সফর বাতিল করেছে।তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে যে কথা বলছেন, এটি ভোটযুদ্ধের অংশ, রাজনৈতিক কৌশল। আমরা দেশের সব ধরনের সহিংসতা ও হত্যার নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। সভায় জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য, রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ অংশ নেন।এ সময় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।এফএস
জাতীয়
সব দেখুন
আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল: প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উই আর ভেরি হ্যাপি।তিনি বলেন, আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ। আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল (গুরুত্বপূর্ণ)।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।শনিবার রাতে যমুনার বাইরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান।প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে শফিকুল আলম জানান, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সারাদেশে উৎসাহ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে।তিনি বলেন, কেউ কারোর বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণ ও অভদ্র কথা হচ্ছে না। এটি আমাদের রাজনীতি ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এই খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন।এফএস
এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না: ইসি মাছউদ
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, দেশে ভোটের সাংস্কৃতিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষের চাপে নেই, তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি। দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এখন যথেষ্ট ভালো আছে। নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ রয়েছে। এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রংপুর সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। জাতিকে ভালো নির্বাচন দেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার সবই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে ধরনের মানসিকতা তাদের মাঝে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তুলনামূলক ভালো রয়েছে।তিনি বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো চাপ নেই। তবে নির্বাচনকে সহজ, গ্রহণযোগ্য করতে সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচনের প্রতিকূলে যায় আমরা এসব মুভমেন্ট বিরোধী। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনগণকে তাদের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।ইসি মাছউদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বড় দুই দলের নেতা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের কথা রেখেছে। নির্বাচন কমিশনের কথামতো দলের নেতারা তাদের পোস্টার অপসারণ, সফর বাতিল করেছে।তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে যে কথা বলছেন, এটি ভোটযুদ্ধের অংশ, রাজনৈতিক কৌশল। আমরা দেশের সব ধরনের সহিংসতা ও হত্যার নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। সভায় জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য, রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ অংশ নেন।এ সময় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।এফএস
স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা অবহেলার শিকার, ইসির উদাসীনতায় হতাশ ইওএস
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য পাঁচ তারকা হোটেল, গাড়ি ও আনুষঙ্গিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও, নিজ দেশের ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষকের ন্যূনতম থাকা–খাওয়ার ব্যয় দিতেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির এমন উদাসীনতায় হতাশা প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছে ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি (ইওএস)।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: দেশব্যাপী সার্বিক অবস্থা ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইওএস সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন হীরা। তিনি বলেন, “নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা–খাওয়ার জন্য কমিশন পাঁচ তারকা হোটেলের ব্যবস্থা করলেও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে কমিশনের কোনো আগ্রহ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।”তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী অধিকাংশ স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রথমবারের মতো মাঠে কাজ করবেন এবং তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন।ইওএস সভাপতি বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে থাকা–খাওয়া কিংবা আর্থিক সহায়তা নিচ্ছি না। অতীতে দলীয় অর্থায়নে পর্যবেক্ষণ করে অনেকেই পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দিয়েছেন, আমরা সেই পথ এড়াতে চাই।”তিনি আরও বলেন, ইসির কাছে নির্বাচনকালীন মাত্র তিন দিনের থাকা–খাওয়ার খরচ চাওয়াটাও তাদের জন্য লজ্জার, তবে নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক দলের সহায়তা নেওয়া সম্ভব নয়।ইওএস সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, সংগঠনের পক্ষে বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষকের ন্যূনতম ব্যয় বহন করা সম্ভব নয় জানালেও কমিশন থেকে বলা হয়েছে,“আপনাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকার প্রয়োজন নেই।”সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৩টি। এসব তথ্য মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।ইওএস জানায়, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো বিপুল ব্যয় করলেও ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের মাত্র তিন দিনের খাবার ও যাতায়াত খরচের বিষয়ে বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও কমিশন কোনো সাড়া দেয়নি।সংগঠনটি আরও জানায়, দাবির পক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি, এমনকি স্মারকলিপিও গ্রহণ করা হয়নি।তবে এই পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের নির্বাচনী প্রত্যাশা ও জাতীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে আপাতত সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে জানানো হয়।নির্বাচনী পরিচয়পত্র ইস্যু নিয়েও পর্যবেক্ষকদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ইওএস জানায়, কখনো অনলাইন, কখনো অফলাইন পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত বদলের কারণে অনেক জেলা এখনো পরিচয়পত্র পেতে বিলম্ব ও জটিলতার মুখে পড়ছে।সংবাদ সম্মেলনে ইওএস গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের থাকা–খাওয়ার অর্থায়ন কীভাবে হবে এবং এর দায় কমিশনের কি না—সে প্রশ্নটি গণমাধ্যমে জোরালোভাবে তুলে ধরা জরুরি।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইওএসের প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম আপ্পি, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহ-সভাপতি বশির আহমেদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।ইখা
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ডব্লিউএইচও
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। যদিও সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনও কম।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও জানায়, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সি এক নারী গত জানুয়ারি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মারা যান। পরদিন পরীক্ষাগারে তার নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট’ (আইএইচআর এনএফপি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে অবহিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর ২১ জানুয়ারি জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়। তার কোনো ভ্রমণের ইতিহাস না থাকলেও তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা নিপাহ সংক্রমণের একটি পরিচিত উৎস। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত তার সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনকে পরীক্ষা করেছে, তবে নতুন কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক দুটি নিপাহ সংক্রমণ শনাক্তের পর এ ঘটনা সামনে এলো। এ ভাইরাসের ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি বলেছে, নিপাহ ভাইরাসজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে কম বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কম বলে উল্লেখ করা হয়। ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস নিপাহকে একটি ‘বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর বিস্তার রোধে কর্তৃপক্ষ নজরদারি, পরীক্ষা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে। সাধারণত শীত এলেই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১-২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩২টি জেলায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত মোট ৩৪৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৫ জন মারা গেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে এই রোগে মৃত্যুর গড় হার ৭১ শতাংশ।ইখা
নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না: মির্জা আব্বাস
নির্বাচন কমিশন (ইনি) দায়িত্বশীল আচরণ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ করেন।মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। এরইমধ্যে অনেকগুলো অভিযোগ করেছি। কিন্তু একটারও রেস্পন্স পাইনি। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী বলেন, একটা বিশেষ দলের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচন জিতে বসে আছে। এত বছর নির্বাচন করেছি, কিন্তু আমরা প্রেডিকশন করতে পারিনি যে আমরা জিতে গেছি, অথচ তারা পারে কীভাবে! জনগণ ঠিক করবে তারা কাকে ভোট দেবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তো হচ্ছে, সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। এই পক্ষপাতিত্ব খুব খারাপ। একটা ভুয়া ফলাফল নিয়ে তারা সংসদে যাবে? এটা তো হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ভোটারদের অনুরোধ জানাবো তারা যেনো সব চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে ইলেকশনের দিন যথাযথভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।ইখা
ইনকিলাব মঞ্চ-পুলিশ সংঘর্ষের নিন্দা জানালেন আজহারি
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব ড. মিজানুর রহমান আজহারি। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পুলিশের মারমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। আজহারি তার পোস্টে প্রশ্ন তোলেন যে, কেন পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর এতটা আগ্রাসী মনোভাব দেখাল, যেখানে চাইলেই মানবিক উপায়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব ছিল। বিচার চাইতে এসে শিক্ষার্থীদের এমন নির্মমতার শিকার হওয়াকে তিনি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভবিষ্যতে আরও সংযত ও পেশাদার আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জাতিসংঘের অধীনে ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে রওনা হলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে প্রথম দফায় সংঘর্ষ বাধে। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়ার সময় দ্বিতীয় দফায় পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নারী কর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে আন্দোলনকারীদের রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে দেখা গেছে।পুলিশ ও সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৬০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে অনেকের মাথায়, মুখে ও পায়ে ক্ষতচিহ্ন থাকলেও কোনো গুলিবিদ্ধ বা স্প্লিন্টার ইনজুরির রোগী পাওয়া যায়নি। চিকিৎসাধীন ৩০ জনের শরীরে বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনা ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। পুলিশের দাবি, হাই-সিকিউরিটি জোন হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তারা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে শাহবাগ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।এইচএ
নির্বাচন উপলক্ষে ২ দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব দোকান-শপিংমল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) ঢাকাসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।এতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সেইসঙ্গে কারখানার শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারিও ছুটির ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) এমনিতেই সাধারণ ছুটি থাকে।এইচএ
যতটা সম্ভব কম বল প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে পুলিশ: ডিএমপি
রাজধানীর যমুনা ভবনের আশপাশে সব ধরনের গণজমায়েত নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে অনেকেই আন্দোলন করেছে, পেশাদারিত্বের সঙ্গে ধৈর্য্য ধরে সে আন্দোলন দমনে কাজ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পুলিশ কাউকে টার্গেট করে মারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি তালেবুর রহমান।আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ।গতকাল (৬ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, গতকাল ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে পুলিশ। কাউকে টার্গেট করে বল প্রয়োগ করা হয়নি।এর বাইরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে জানিয়ে তালেবুর রহমান বলেন সাংবাদিকদের পেটানোর ঘটনা অনিচ্ছাকৃত। সামনে নির্বাচন, তাই শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট হয়, এমন কিছু না করার আহ্বানও জানান তিনি।এ সময় পুলিশকে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার এবং লাঠিপেটা করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।পরবর্তীতে ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আজ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, তা ডিএমপির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং এতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (লেথাল উইপন) বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি।ডিএমপি বলেছে, ওই ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারীও সামান্য আহত হন। এ নিয়ে কোনো প্রকার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ডিএমপি সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ করেছে।এইচএ
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
মির্জা আব্বাসের বাসায় মেঘনা আলম
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে ভোটের লড়াইয়ের মাঠ থেকে দৃশ্যপট বদলে গেল এই আলাপচারিতায়।বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের চায়ের দাওয়াতে তার বাসভবনে গিয়েছেন আলোচিত মডেল ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও চা-চক্রে অংশ নেন ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মেঘনা।এদিন দুপুরে মেঘনা আলমের নির্বাচনি প্রচারণার সমন্বয়ক তাহরিন জেরিন জানান, বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের চায়ের দাওয়াত গ্রহণ করেছেন মেঘনা আলম। তবে ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এই সৌজন্য সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যের কথা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।মির্জা আব্বাসের বাসায় যাওয়ার পর মেঘনা আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের সঙ্গে একই টেবিলে বসে আলাপচারিতার একাধিক ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। ছবিগুলোতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে।এফএস
মির্জা আব্বাসের বাসায় মেঘনা আলম
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে ভোটের লড়াইয়ের মাঠ থেকে দৃশ্যপট বদলে গেল এই আলাপচারিতায়।বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের চায়ের দাওয়াতে তার বাসভবনে গিয়েছেন আলোচিত মডেল ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও চা-চক্রে অংশ নেন ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মেঘনা।এদিন দুপুরে মেঘনা আলমের নির্বাচনি প্রচারণার সমন্বয়ক তাহরিন জেরিন জানান, বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের চায়ের দাওয়াত গ্রহণ করেছেন মেঘনা আলম। তবে ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এই সৌজন্য সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যের কথা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।মির্জা আব্বাসের বাসায় যাওয়ার পর মেঘনা আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের সঙ্গে একই টেবিলে বসে আলাপচারিতার একাধিক ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। ছবিগুলোতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে।এফএস
দাঁড়িপাল্লা বাতিল মার্কা, এখন আর কেউ ব্যবহার করতে চায় না: টুকু
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা এখন বাতিল মার্কা, আধুনিক যুগে মানুষ আর এটি ব্যবহার করতে চায় না।শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাঘিল ইউনিয়নের বিলমুড়িল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এখন দাঁড়িপাল্লার কোনো প্রয়োজন হয় না। বাজারে আধুনিক ডিজিটাল মেশিন এসেছে। তাই মানুষ দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করতে চায় না। এটি এখন বাতিল মার্কা, গ্রামাঞ্চলেও আর চলে না।তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে বিএনপির এমন একটি মার্কা মিলেছে, যা চিরদিন থাকবে। পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন ধানের শীষ থাকবে ইনশাআল্লাহ। ধানের শীষ এই দেশের প্রতিটি মানুষের মার্কা, দেশ রক্ষার মার্কা।টুকু আরও বলেন, ১৭ বছর পর আমরা এই মার্কা পেয়েছি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। দিনের ভোট রাতে নিয়ে গেছে। এই নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি করতে গিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী খুন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমি নিজেও সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলাম এবং রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অসংখ্য মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আজ ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচনের সুযোগ এসেছে। কেউ যদি হেলাফেলা করে ভোট না দেয়, তার মতো দুর্ভাগা আর কেউ থাকবে না। সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন, আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে, যেন একটি ধানও নষ্ট না হয়, মাটিতে না পড়ে।তিনি আরও বলেন, ধানের শীষ আমাদের প্রিয় মার্কা। এই মার্কা দেখলে হৃদয় জুড়িয়ে যায়। এটি পবিত্র ও মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক।এফএস
এবার বিএনপির কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে নাহিদ
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নাহিদ ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, আগামীকাল (রোববার) চেম্বার বিচারপতির আদালতে এই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নাহিদ ইসলামের রিট সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। কাইয়ুমের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার কাজী আক্তার হোসেন।গত ২ ফেব্রুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়। নাহিদ ইসলাম এ রিট দায়ের করেন। রিটে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত চাওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।তার আগে, ঢাকা-১১ আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম এর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।এফএস
ক্ষমতায় গেলে এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দেয়া হবে: জামায়াত আমির
ক্ষমতায় গেলে এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নবীনচন্দ্র মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।এসময় জামায়াত আমির বলেন, ‘যারা বুক চিতিয়ে এ দেশকে নতুন করে অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াত ভবিষ্যতে আপসহীনভাবে কাজ করবে।’ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যের শুরুতে স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশের দায়িত্ব পেলে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হবে।’ এছাড়া বিমানে লোকসান হয় দুর্নীতির জন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রাধান্য দিয়ে তা চিরতরে বন্ধ করা হবে। কারণ জামায়াতের একমাত্র লক্ষ্য চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়া।’ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ হবে সকল নাগরিকের যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না উল্লেখ করে বক্তব্য শেষ করেন জামায়াত আমির। জনসভা শেষে মঞ্চে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় করে দেন তিনি।এইচএ
পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিনিকল-তাঁত শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিনিকল, তাঁত শিল্পের পাশাপাশি ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।এ সময় জনগণের কিছু দাবি নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। জানান, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিনিকল, তাঁত শিল্প গড়ে তুলতে চাই। ক্যাডেট কলেজ করার দাবি আছে, সেই চেষ্টাও করা হবে। সমগ্র এলাকায় হিমাগার করে দিতে চাই। এই এলাকায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনও লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায় আমরা মানুষের জন্য কি করবো। এজন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনও ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এজন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।তিনি আরও বলেন, ২৪ সালে অভ্যুত্থান দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছি। এখন দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের। ২৪ এও একই। এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামীতেও তাই হবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না। বিএনপি ক্ষমতায় এলে যত দ্রুত সম্ভব ঠাকুরগাঁও এয়ারপোর্ট চালু করা হবে বলে জানান তারেক রহমান।এইচএ
শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, এই নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ ভোটের হারানো দিনের অধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন।আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী জনসভায় তিনি একথা বলেন।নারীদের নিয়ে বলেন, নারীকে কর্মের সাথে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষি কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেয়া হয়েছে সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।তারেক রহমান বলেন, এই এলাকা কৃষনির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াবো তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করবো। যাতে কর্মসংস্থান হয়। বহু যুবক আছে যারা বেকার। যুবকদের ট্রেনং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগীতা লাগবে। এইচএ
চা শ্রমিকদের সন্তানরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না: জামায়াতে আমির
চা শ্রমিকদের সন্তানেরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জে নিউ ফিল্ড মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ আশ্বাস দেন। জামায়াত আমির বলেন, তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করে। তাদের সন্তানেরা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের সেবা থেকে বঞ্চিত। যুগ যুগ ধরে একই পেশায় পড়ে আছে হাড়ভাঙ্গা মানুষগুলো। চা বাগানের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ করবো। সেই মানুষগুলারও জীবনমানে পরিবর্তন আনবো ইনশাআল্লাহ। তাদের একটা সন্তানও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না।বাংলাদেশকে আর বিভক্ত করতে দেব না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ দেশে চারটা ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান। এটি একটি ফুলের বাগানের মতো। ধর্মের ভিত্তিতে কারও ওপর বাড়াবাড়ি ইসলাম পছন্দ করে না, এটা হারাম। কোনো ধার্মিক মানুষ কোনোদিন অপর ধর্মের মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারে না।এইচএ
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না: মির্জা আব্বাস
নির্বাচন কমিশন (ইনি) দায়িত্বশীল আচরণ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ করেন।মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। এরইমধ্যে অনেকগুলো অভিযোগ করেছি। কিন্তু একটারও রেস্পন্স পাইনি। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী বলেন, একটা বিশেষ দলের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচন জিতে বসে আছে। এত বছর নির্বাচন করেছি, কিন্তু আমরা প্রেডিকশন করতে পারিনি যে আমরা জিতে গেছি, অথচ তারা পারে কীভাবে! জনগণ ঠিক করবে তারা কাকে ভোট দেবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তো হচ্ছে, সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। এই পক্ষপাতিত্ব খুব খারাপ। একটা ভুয়া ফলাফল নিয়ে তারা সংসদে যাবে? এটা তো হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ভোটারদের অনুরোধ জানাবো তারা যেনো সব চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে ইলেকশনের দিন যথাযথভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।ইখা
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ ছাড়েন তারা।এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনটির এক নেতা। তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এসময় ডাকসুর দুই নেতা এবি জুবাইর ও মুসাদ্দেক আলী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানাল ইনকিলাব মঞ্চ শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এনআই
‘লীগ এক্টিভ হয়েছে, সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যান’
চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৩ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দেওয়া হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে।শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এসময় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা।এ সময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’; ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’; ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’; ‘তুমি কে আমি কে, জাবির জাবির’; ‘বাংলাদেশের জনগণ, নেমে আসুন, নেমে পড়ুন’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। মিছিলটি শাহবাগে পৌঁছানোর পর তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।এনআই
রাজধানীতে একই বাসা থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্প থেকে ২ শিশু সন্তান ও তাদের বাবা-মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, শিশু সন্তানদের হত্যার পর বাবা-মা আত্মহত্যা করেছেন।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্পের বি-ব্লক থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ মাসুম (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০), তাদের ৪ বছর বয়সী ছেলে মিনহাজ ও ২ বছর বয়সী ছেলে আসাদ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় তাদের মৃত্যু হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, নিহত দম্পতি বিহারি ক্যাম্পের একটি টিনশেড বাসায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী রিকশা চালাতেন এবং স্ত্রী বাসা-বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ পরিবার বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিল। প্রতিদিন কেউ না কেউ ঋণের কিস্তির জন্য বাসায় আসতো। হয়তো কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের শিশুদের নিয়ে স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ম্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।এমআর-২
শাহজালাল বিমানবন্দর: সক্ষমতার দ্বিগুণ চাপে স্থবির যাত্রী সেবা
আকাশ পথে দেশের প্রধান বহির্গমন পথ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যায় রেকর্ড গড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তি। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অনিশ্চয়তা এবং আকাশচুম্বী বিমানভাড়ার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীরা। বার্ষিক ৮০ লাখ যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে এই বন্দর এখন প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ যাত্রীর চাপ সামলাচ্ছে!বিমানবন্দর সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন অন্তত ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ এবং ২০২৩ সালে ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ১.৮ শতাংশ। মোট যাত্রীর বড় অংশই (১ কোটি ৩১ হাজার ২০০ জন) আন্তর্জাতিক রুটের, যা মূলত প্রবাসীদের ওপর বিমানবন্দরের নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করে। বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী সেবা দিচ্ছে বিমানবন্দরটি! যাত্রী বাড়লেও বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল এখনো চালু না হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। অপারেটর নিয়োগ নিয়ে জটিলতা থাকায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এর সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ফলে আধুনিক সেবার সুফল পেতে আরও দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।অন্যদিকে সরকারের নানা নির্দেশনার পরও টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। ট্রাভেল এজেন্টরা জানিয়েছেন-মধ্যপ্রাচ্যের টিকিটের দাম ৩৫–৪০ হাজার থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭৫–৮০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক রুটের ৬৬ শতাংশ বাজার বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে থাকায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়িয়ে আসন সংকট দূর না করলে ভাড়া কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে শীতকালীন ঘন কুয়াশার সাথে যোগ হয়েছে কারিগরি ত্রুটি। গত ২৯ অক্টোবর রানওয়ের লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আইএলএস (ILS) ক্যাটাগরি-২ থেকে ১-এ নেমে এসেছে। এতে ৫০০ মিটারের পরিবর্তে ১,২০০ মিটার দৃশ্যমানতা ছাড়া ফ্লাইট নামতে পারছে না। ফলে প্রায়ই ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হচ্ছে, যা পরবর্তীতে টার্মিনালে অতিরিক্ত ভিড় ও ট্রলি সংকটের সৃষ্টি করছে।কাতার প্রবাসী এক যাত্রী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমাদের বিমান বন্দরে যত বিমান উঠানামা করে তার কয়েকগুন আন্তর্জাতিক বিমান কাতারের বিমান বন্দরে উঠানামা করে। তারপরও সেখানে কোন ভোগান্তির শিকার হতে হয়না । এর প্রধানতম কারণ সেখানে সব কিছু নিয়মের মধ্যে হয় এবং যারা দায়িত্বশীল আছেন তারা তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করেন। আর আমাদের দেশে আসলে এটা বিমান বন্দর না কোন হাটবাজারের দৃশ্য দেখে বুঝার উপায় নেই। ডিজিটাল প্রযুক্তি বসানো হলেও সেগুলোর ব্যবহার কার্যত না হওয়ায় সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হচ্ছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ই-গেটে পাসপোর্ট স্ক্যান করার সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে যায়। এরপর যাত্রী ই-গেটের মনিটরে তাকালে পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাই হয়। এ প্রক্রিয়া শেষে যাত্রীকে যেতে হয় ইমিগ্রেশন পুলিশের ডেস্কে। সেখানে আবার তাঁর তথ্য যাচাই করা হয়। ছবি তোলা ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখার পর পাসপোর্টে বহির্গমন সিল দেওয়া হয়।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ই-গেট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা নেই। এ জন্য ই-গেট পার হয়েও যাত্রীকে আবার ইমিগ্রেশন ডেস্কে যেতে হচ্ছে।জানা যায়, সাধারণত বিদেশগামী যাত্রীর নাম-পরিচয়, পাসপোর্ট, ভিসা নম্বরসহ ২১ ধরনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিললে তিনি ই-গেটের চার ধাপ পেরোতে পারবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অন্য কোনো কর্মকর্তার সহযোগিতা তাঁর লাগার কথা নয়। ই-গেটই বলে দেবে যাত্রীর সব তথ্য ঠিক আছে। অথচ সেখানে ম্যানুয়্যালি আবার কাজ করতে হচ্ছে ফলে বাড়তি যাত্রীদের সামলানোর ক্ষেত্রে ই-গেট যেভাবে ভুমিকা রাখতে পারতো সেভাবে পারছে না।এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের দ্রুত ও আধুনিক ইমিগ্রেশন সেবা দিতে ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট চালু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুটি স্থলবন্দরে মোট ৪৪টি ই-গেট স্থাপন করা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ২৬টি ই-গেট রয়েছে। কেন ই-গেটের সুফল যাত্রীরা পাচ্ছেন না– এমন প্রশ্নে ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ই-গেটে যাত্রীর বিদেশযাত্রার সরকারি আদেশ, শ্রম ভিসায় যাদের জনশক্তি, তাদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সনদ, গন্তব্যস্থলের ঠিকানা বা নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই যাত্রীদের ইমিগ্রেশনে এসবির ডেস্কে গিয়ে এসব তথ্য যাচাই করতে হয়। এ জন্য পুরোপুরি ই-গেটের মাধ্যমে যাত্রীর ইমিগ্রেশন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।এতসব সংকটের মধ্যেও কিছু আশার কথা শুনিয়েছেন আরএমএমআরইউ-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি জানান- সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ও হটলাইন চালুর ফলে হয়রানি কিছুটা কমেছে। লাগেজ হ্যান্ডলারদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য দুটি বিশেষ লাউঞ্জ ও ভর্তুকি মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ জানান, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ট্রলি সংকট ও যানজটকে তিনি সাময়িক বলে উল্লেখ করেন। নিরাপত্তা এবং যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।পিএম
মাগুরায় মোটরসাইকেল-ট্রাক সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য নিহত
মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী নবগঙ্গা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রোডে নবগঙ্গা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত পুলিশ সদস্যের নাম বাদশা মোড়ল (২৬)। তিনি মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আইলিয়া গ্রামে। তিনি ওমর আলীর ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরা পুলিশ লাইন থেকে রেশন নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির ট্রাক তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদিয়া ঝরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ইখা
কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সপ্তম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী গ্রামের মাদ্রাসা মোড় থেকে কিশোরীনগরগামী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে রহমত আলী (১৪) এবং আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবী (১৪)। তারা দুজনই দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহত শিক্ষার্থী হলেন একই এলাকার জিয়ার আলীর ছেলে সাইফ আলী (১৪)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে তিন বন্ধু একটি পালসার মোটরসাইকেলে করে দৌলতখালী মাদ্রাসা মোড়ে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে হাজীপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে চলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হয়।স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রহমত আলী ও সাহাবীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাইফ আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।ইখা
যশোর সীমান্ত থেকে চারটি এয়ারগান ও একটি গ্যাস পিস্তল উদ্ধার
যশোরের চৌগাছা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি ভারতীয় এয়ারগান ও একটি বিদেশি গ্যাস পিস্তলসহ বিভিন্ন চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে যশোর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ আন্দুলিয়া ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা থানার দৌলতপুর গ্রামের একটি মাঠে অভিযান পরিচালনা করে এসব অস্ত্র উদ্ধার করে।বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে চারটি ভারতীয় এয়ারগান, একটি বিদেশি গ্যাস পিস্তল, ট্রিগার স্প্রিং ৩০টি, ব্যাকসাইড ইউ ১৪টি এবং ফ্রন্ট সাইড টিপ ২৯টি। এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।উদ্ধার অস্ত্র ও মালামাল মামলা দায়েরের মাধ্যমে চৌগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এ বিষয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।ইখা
জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের হাতে মাদকসহ দুই বাংলাদেশি আটক
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে মাদক সংগ্রহের সময় ভারতের অভ্যন্তরে দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ভারতের প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।আটক ব্যক্তিরা হলেন জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মো. সন্তো হোসেনের ছেলে মো. রকো হোসেন (৩৫) ওরফে রকো এবং মো. খোদাবকশের (খুদু) ছেলে মো. রাশিদুল ইসলাম (৩৬) ওরফে দুলি।স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক দুজন দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা জীবননগরের মাধপখালী সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভারতে প্রবেশ করে মাদক সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে।ঘটনাটি নিশ্চিত করে বিজিবির মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম পিএসসি জানান, ভারতের অভ্যন্তরে মাদকসহ দুই বাংলাদেশি আটক হওয়ার পর বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।তিনি বলেন, বিএসএফ জানিয়েছে আটক ব্যক্তিদের মাদকসহ ধরা পড়ার কারণে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।ইখা
নির্বাচনকে ঘিরে জীবননগরে পুলিশের কড়াকড়ি, বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে জীবননগর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থানা পুলিশের উদ্যোগে যানবাহনে তল্লাশি ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চেকিং করা হচ্ছে।জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে এ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাড়ির কাগজপত্র যাচাইসহ সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।”তিনি আরও জানান, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।স্থানীয়রা আশা করছেন, পুলিশের নিয়মিত চেকিং ও সক্রিয় উপস্থিতির ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা, অপরাধ বা অবৈধ কার্যক্রম প্রতিহত করা সম্ভব হবে।ইখা
ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে: সালাহউদ্দিন
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার ( ৭ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের বাঁক বদলে যাবে। দেশ নিয়ে বিএনপি যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরো জানান, দেশের আঠারো কোটি মানুষের ছত্রিশ কোটি হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করতে চায় বিএনপি। যার ফলে দেশে কোন বেকার থাকবে না। নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের কৃষি কার্ড, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে হেলথ কার্ড দেয়ার কথা জানিয়ে ক্ষমতায় গেলে মাতামুহুরি উপজেলা বাস্তবায়ন, লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন বিএনপি এই জ্যেষ্ঠ নেতা। ধানের শীষকে মানুষের, গণতন্ত্রের মার্কা উল্লেখ করে তার আশাবাদ দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী দেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিবেন।এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী এডভোকেট হাসিনা আহমদ, তাদের পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজুতুর রহমান চৌধুরী টিপুসহ আরো অনেকে। এদিকে শনিবার সকালে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের গণসংযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। গণসংযোগে তিনি একটি পথসভায় যোগ দিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের সব ধর্ম বর্ণের মানুষকে সাথে নিয়ে তারুণ্যের ভাবনাকে ধারণ করে দেশ নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছে বিএনপি। দল যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। এ দলের গণতান্ত্রিক ইতিহাস আছে। যতবার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে ততবারই গণতন্ত্র রক্ষা করেছে বিএনপি। এসময় এতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, সুরাজপুর সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মৌলভী জয়নাল আবেদীনসহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য এবারেই প্রথম বারের মতো পিতার জন্য নির্বাচনী মঞ্চে আসলেন সালাহউদ্দিন পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ। সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ এসময় সকলের কাছে দোয়া ও পিতার জন্য ভোট চান। এতে উপস্থিত জনতা সাঈদ ইব্রাহিম আহমদকে শুভেচ্ছা জানান।পিএম
সাতকানিয়ায় যৌথ অভিযানে ১১ রোহিঙ্গা আটক
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় যৌথ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে ১১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড়সংলগ্ন এলাকায় পরিচিত বার্মা কলোনিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান। এ সময় সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান শামীম পারভেজের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কথিত বার্মা কলোনিতে বসবাসকারীদের একটি বড় অংশ রোহিঙ্গা পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কেউ কেউ অবৈধভাবে জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে বলেও জানা গেছে।এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কম মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগের লোভে কিছু অসাধু নিয়োগদাতা রোহিঙ্গাদের কাজে লাগাচ্ছেন। এতে একদিকে স্থানীয় শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে পরিচয় গোপন রেখে অবাধ চলাচলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে থাকা ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সেখানে অবস্থানরত ১১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। তাদের প্রাথমিক যাচাই–বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হবে।এ বিষয়ে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান বলেন, সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গারা নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করতে পারেন না। এ বিষয়ে প্রশাসন নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হবে।তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কার্যক্রমে স্থানীয়দের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা চলাফেরা নজরে এলে প্রশাসনকে অবহিত করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।পিএম
কুমিল্লাকে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করা হবে: মনির চৌধুরী
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা ৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, কুমিল্লাকে নিয়ে আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। কুমিল্লায় বিমানবন্দর পুনরায় চালু, ঢাকা-চট্টগ্রাম সরাসরি রেললাইন স্থাপন, চাঁদপুর-নোয়াখালী সড়কের সঙ্গে সরাসরি সমুদ্রবন্দরের সংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে। আর এসব করতে পারলে কুমিল্লা হবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ডে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরবর্তীতে তিনি দৌলতপুর চৌমুহনী, বড় পুকুরপাড়, থিরা পুকুরপাড়, কাচিয়াতলীতে পৃথক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।এসময় মনিরুল হক চৌধুরী আরো বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন। এ নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি নির্বাচিত হবে ইনশাআল্লাহ। আর নির্বাচিত সরকারের প্রধান হবেন তারেক রহমান এবং তাঁর দেশ গড়ার নেতৃত্ব হবে বিশ্ব কাঁপানো নেতৃত্ব।তিনি বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে একটি নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ সঠিকভাবে চলতে পারে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইশারায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের লন্ডনর ঐতিহাসিক বৈঠকই দেশকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যায়। একটি মহল ৫ আগস্টের পর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র করে দেশকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চেয়েছে। এখনো ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ষড়যন্ত্র রুখে দিতে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশন হয়েছে আজ ১২ বছর। শাসনগাছা শহর হয়েও এখনো ইউনিয়ন কেনো? আমি নির্বাচিত হলে শাসনগাছা সহ দুর্গাপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনে একীভূত করা হবে। এসময়, সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বপন, জেলা কৃষকদলের সভাপতি মোস্তফা জামান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আক্তার হোসেন, মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন হাসেম, আদর্শ সদর উপজেলার যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুল আলী রাশেদসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
নোয়াখালীতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক যুবতীকে দীর্ঘদিন ধর্ষণের অভিযোগে মো. ফারুক ওরফে ড্রাইভার ফারুক (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে একই রাতে চরজব্বার থানা পুলিশ উপজেলার চর আমিনুল হক গ্রাম থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তার ফারুক চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামের মৃত অজি উল্যার ছেলে।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়। তখন সে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই যুবতীকে ফুসলিয়ে রান্নাঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন।ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় তাদের বাড়িতে আসতেন। সম্প্রতি তিনি ভোট চাইতে এসেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তাদের জানা নেই। তিনি বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তার শাস্তি হওয়া উচিত।”চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।ইখা
রায়পুরে দেশীয় অস্ত্রসহ কারখানার মালিক আটক
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মিয়ারহাট বাজার থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ কালু চৌকিদার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ী।পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়ারহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই কারখানার মালিক কালু চৌকিদারকে আটক করা হয়।আটক কালু চৌকিদার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, জাকির চৌকিদার নামে এক ব্যক্তি তাকে অস্ত্র তৈরি করতে দিয়েছিলেন।স্থানীয়দের দাবি, জাকির চৌকিদার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আরও অস্ত্র তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল অবৈধ অস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।ইখা
মাদারীপুরে কৃষকদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার পক্ষে কৃষকদের অংশগ্রহণে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্যপুর বাজারে খাদেমসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।বৈঠকে বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক কৃষক অংশ নেন। তারা কৃষি খাতে বিদ্যমান সংকট, সার-বীজের মূল্য বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার সমস্যা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্রণোদনা বঞ্চনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। কৃষকদের দাবিদাওয়া শুনে বক্তারা বলেন, দেশের কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—কৃষি ও কৃষকের অধিকার রক্ষায় ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করা প্রয়োজন।গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এম এ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষকরা নানামুখী সংকটে জর্জরিত। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফসলের ন্যায্যমূল্য মিলছে না। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় ধানের শীষের বিজয়ের বিকল্প নেই।কুনিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান বাবুলের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক অলিউর রহমান দর্জি, সদর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব এস এম সম্রাটসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।বক্তারা বলেন, জাহান্দার আলী মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। কৃষকদের দাবি-দাওয়া সংসদে তুলে ধরতে এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করতে তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তারা।বৈঠক শেষে উপস্থিত কৃষকরা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।পিএম
মুন্সিগঞ্জে স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে লিজন (৩০) নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জালাল সরকার (৬৫) মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্য আহতরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন ও বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক এবং মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, প্রথমে নোয়াদ্দা গ্রামে প্রচারণা চালিয়ে মুন্সীকান্দি গ্রামে ভোট চাইতে গেলে ধানের শীষের সমর্থকরা হামলা চালায়।অন্যদিকে বিএনপি সমর্থক ও মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আলী বলেন, তিনি ঢাকায় ছিলেন। মুন্সীকান্দি গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন তার ভাইকে মারধর করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আতাউর করিম জানান, ককটেলে আহত লিজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং জালালকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজিব দে বলেন, “দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বের আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”ইখা
স্কুল শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান, দুই শিক্ষককে নোটিশ
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে স্কুল শিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’-এর পক্ষে স্লোগান দেওয়ানোর ঘটনায় দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।কমিটির চেয়ারম্যান ও সিভিল জজ খাদিজা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ‘সময়ের কণ্ঠস্বর’-এ এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়।অভিযোগে বলা হয়, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের দিয়ে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীনের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ানো হয়।এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রূপন দাস সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(খ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।নোটিশে বলা হয়েছে, কেন অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না এবং কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— সে বিষয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রোববার) দুপুর ১২টায় বাজিতপুর চৌকি আদালতে নিকলী সিভিল জজ আদালতের কার্যালয়ে স্বশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিএনপি প্রার্থী মো. জালাল উদ্দীনের আগমনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেওয়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে সরকারি শিক্ষক আতাউর রহমান বকুল একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে স্লোগান দিতে নির্দেশ দেন। এ সময় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকেও সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।ইখা
সিরাজদিখানে ঘুড়ি নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বিদ্যুতের তারে আটকে থাকা ঘুড়ি নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সিদু বর্মন (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের বরম বাজারসংলগ্ন বর্মনপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সিদু বরম গ্রামের জীবন বর্মনের ছেলে।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় সিদুর ঘুড়িটি পাশের একটি বৈদ্যুতিক তারে আটকে যায়। পরে ঘুড়িটি নামাতে গিয়ে সে একটি লোহার রড দিয়ে তারে স্পর্শ করে। এতে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় শিশুটি।পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিমতলা অফিসের ইনচার্জ এজিএম আরিফ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।শেখরনগর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) সানজিত বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইখা
মানিকগঞ্জে পাঁচ এমপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আচরণবিধি লঙ্ঘন, পুলিশের হয়রানি এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাঁচজন সংসদ সদস্য প্রার্থী।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব দাশড়া এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খান কামালের বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা, জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস এবং বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী মো. সাহজাহান আলী।প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার সমর্থকেরা নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এ বিষয়ে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলেও দাবি করেন তারা।তারা বলেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।ইখা
বরিশালের অধিকাংশ মানুষ জানেন না গণভোটের হ্যাঁ-না ভোট কী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। তবে গণভোটকে ঘিরে বরিশালে সরকারি প্রচার থাকলেও এর প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ফলে শহর থেকে শুরু করে উপজেলার অধিকাংশ ভোটার এখনো জানেন না গণভোট কী, কেন হচ্ছে কিংবা কোন প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিলে কী হবে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডিজিটাল বিলবোর্ড ও প্রচারগাড়ির মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও তা মূলত জেলা শহরকেন্দ্রিক। প্রত্যন্ত গ্রাম, হাটবাজার কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ে গণভোট নিয়ে মাইকিং বা সরাসরি প্রচারণা খুব কমই চোখে পড়েছে।গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সংসদ নির্বাচনের কথা সবাই জানলেও গণভোট সম্পর্কে তেমন আলোচনা নেই। অনেক ভোটার জানেন না, ভোটের দিন সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি আলাদা একটি গণভোটের ব্যালটও দেওয়া হবে। এতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত ছয়টি সংসদীয় আসনে একজন নারীসহ মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীরা উন্নয়ন, মামলা-হামলা, ভোটের পরিবেশ ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মতো ইস্যুতে কথা বললেও গণভোট বিষয়ে এক ধরনের নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।গণভোটকে সামনে রেখে জাতি পুনর্গঠন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বৈপ্লবিক রূপান্তর নিশ্চিতে বরিশালে ‘হ্যাঁ’ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সভা শেষে নগরীতে মিছিল বের করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই।তবে দিনমজুর ও সাধারণ ভোটারদের বড় অংশ এখনো গণভোটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানেন না।এক ভোটার বলেন, “গণভোটে কী আছে কিছুই জানি না। কেউ এসে বুঝায়ও নাই। হ্যাঁ দিলে কী হবে, না দিলে কী হবে—কিছুই বুঝি না।”এক নারী ভোটার বলেন, “আমরা হ্যাঁ ভোট দিব নাকি না ভোট দিব, এইডা এখনো জানি না। বুঝি না।”সচেতন মহলের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও গণভোট সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়নি। বিভ্রান্তি এড়াতে নির্বাচনের আগে আরও জোরালো ও কার্যকর প্রচার জরুরি।ইখা
দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় গোপনে আমেরিকা, অপর পাল্লায় গোপনে ভারত: চরমোনাই পীর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, “আজ যারা দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আসছে তারা স্বার্থান্বেষী মহল। তারা বলে দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। কিন্তু কোন ইনসাফ? দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় দেখি গোপনে আমেরিকা, অপর পাল্লায় গোপনে ভারত।”তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মানুষ। আমরা আমেরিকার ইনসাফ চাই না, ভারতের ইনসাফ চাই না। আমরা ইসলামের ইনসাফ চাই।”শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় পটুয়াখালীর বাউফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।চরমোনাই পীর বলেন, বিএনপি-জামায়াত কেউ বলেনি তারা ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তারা প্রচলিত ধারায় রাষ্ট্র চালানোর কথা বলেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করেছে বলে জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, “৫৪ বছরেও প্রচলিত আইনের কারণে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে বিদেশে চলে গেছে। অন্য দেশের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে।”তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় এলে কোনো নিরপরাধ মানুষকে দেশ ছাড়তে হবে না। এ সময় তিনি হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হাতপাখায় একটি ভোট পড়লে ইসলামের পক্ষে শক্তি বাড়বে।”সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপজেলা কমিটির সভাপতি ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারী।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা নাসির আহমেদ কাউসার, হাবিবুর রহমান মিসবাহ, উপজেলা আহ্বায়ক আবুল হোসেন হাওলাদার এবং মাওলানা নুরুল আমিন।ইখা
ভোলার ৫২৫ ভোটকেন্দ্রের ১৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ, বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৫২৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৩১টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি আসনে মোট ৫২৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ভোলা-১ (সদর) আসনে ১১৪টি, ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে ১৩৮টি, ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে ১১৯টি এবং ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে ১৫৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ৬২২টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ হবে।প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ভোলা-৩ আসনে। এ আসনের ৫০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে তজুমদ্দিন উপজেলায় ৩৬টি এবং লালমোহনে ১৪টি।ভোলা-২ আসনে ৩২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে, যার মধ্যে দৌলতখানে ২৫টি। এছাড়া ভোলা-৪ আসনে চরফ্যাশনে ১৬টি ও মনপুরায় ১১টি এবং ভোলা-১ সদর আসনে ২২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।ইখা
এনআইটেকের ফ্রন্টিয়ার গবেষক দলে আমন্ত্রণ পেলেন ববি শিক্ষক
জাপানের খ্যাতনামা নাগোয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটেক)-এর ফ্রন্টিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আরিফ উল ইসলাম। তিনি বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।এনআইটেকের প্রেসিডেন্ট (উপাচার্য) ওবাতা মাকোতো স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমন্ত্রণ অনুযায়ী গবেষক দলে যোগ দিতে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।উল্লেখ্য, এনআইটেকের ফ্রন্টিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সমসাময়িক গবেষণাক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করে থাকে। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক ও শিক্ষাবিদরা যৌথভাবে গবেষণার সুযোগ পেয়ে থাকেন।ড. আরিফ উল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে এনআইটেকের গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি থার্মোইলেকট্রিক ডিভাইস উন্নয়নের কাজে যুক্ত রয়েছেন। এই ডিভাইস মানবদেহের তাপমাত্রা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম, যা ভবিষ্যতে পরিধানযোগ্য (ওয়্যারেবল) ডিভাইসসহ মেডিকেল ও হেলথকেয়ার অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত যন্ত্রের জন্য টেকসই বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি আরও জানান, গবেষণায় ব্যবহৃত কোয়ান্টাম ডট (কিউডি) ভিত্তিক স্যাম্পলগুলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোটেকনোলজি ও এনার্জি ডিভাইস ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। ল্যাবের তরুণ গবেষকরা সফলভাবে এসব স্যাম্পলের ফ্যাব্রিকেশন সম্পন্ন করেছেন এবং ইতোমধ্যে ডিভাইস উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।ড. আরিফ উল ইসলাম বলেন, এই যৌথ গবেষণা প্রকল্প এনআইটেক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।ড. আরিফ উল ইসলামের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে।ইখা
ভোলায় অস্ত্র ও গুলিসহ দুই ডাকাত আটক
ভোলায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গুলিসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের কাঠিরমাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।আটকরা হলেন- হাসান আলী (৪৪) ও সেলিম গাজি (৪৮)। তারা ধনিয়া ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।নৌবাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে কাঠিরমাথা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ রাউন্ড গুলি, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, দুটি দেশীয় অস্ত্র এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।নৌবাহিনী আরও জানায়, আটকরা একটি সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।উদ্ধার অস্ত্রসহ আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।ইখা
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে সাধারণ মানুষও ভাতা পাবেন: ডা. লিটন
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেছেন, আগামীতে তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নিলে এবং প্রধানমন্ত্রী হলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে ভাতা পান, সাধারণ মানুষও বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবে।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ত্রিশাল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. লিটন বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে। “তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার গঠিত হলে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হবে,” বলেন তিনি।এলাকার উন্নয়নের জন্য ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বিএনপির এই প্রার্থী।আব্দুল খালেক মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং আ. ন. ম ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক মেয়র আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার, পৌর বিএনপির সভাপতি আলেক চান দেওয়ান, সাবেক কাউন্সিলর এবি সিদ্দিক শাহজাহান, সাবেক কাউন্সিলর রাশেদুল হাসান বিপ্লব, সাবেক যুবদল নেতা মশিউর রহমান শরীফসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।বক্তারা আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।ইখা
ভালুকায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে একজনকে জরিমানা
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভালুকা ইউনিয়নের মেদিলা বাজার এলাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে একজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে মেদিলা বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ৪(১) বিধি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) বসিয়ে এই অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।আদালত পরিচালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. বি. এম. কাউসার জামান।এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, “নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভোটারদের মাঝে অর্থ বা উপহার বিতরণ করে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের এমন তৎপরতা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।এনআই
বকশীগঞ্জে বিএনপি’র দুই শতাধিক কর্মীর জামায়াতে যোগদান
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুই শতাধিক কর্মী সমর্থক। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখা কার্যালয়ে এ যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান ও মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা মাসুদ মিয়ার নেতৃত্বে যোগদান কারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জামালপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম মনোনীত এমপি প্রার্থী এডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী। এ সময় বকশীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মাওলানা আদেল ইবনে আউয়াল, উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মোসাদ্দেকুর রহমান মানিক, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল মতিন, অফিস সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, পৌর সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাশেদী, মেরুরচর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি কামরুজ্জামান মিষ্টার, অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ হোসেনসহ জামায়াত, শিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতে যোগ দেয়া বিএনপি নেতা মাসুদ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দু:সময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন কিন্তু দলের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্মান পাননি। জামায়াতে ইসলামীর নীতি আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যোগদান করেছেন। আজীবন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দিনের পথে কাজ করে যাবেন বলে জানান।পিএম
বিধবা ভাতাভোগী মালেকাকে মৃত দেখিয়ে নাম কর্তন, অন্যজনের নাম অন্তর্ভুক্ত
নান্দাইলে বিধবা ভাতাভোগী এক বৃদ্ধাকে জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি নথিতে মৃত দেখিয়ে তার নাম কর্তন করে অন্য একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।ভুক্তভোগীর নাম মোছা. মালেকা বেগম (৭০)। তিনি নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের মৃত চান মিয়ার স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিত বিধবা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে গত দুই কিস্তি অর্থাৎ ছয় মাস ধরে তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ভাতার টাকা জমা হচ্ছিল না।ভাতা বন্ধের কারণ জানতে মালেকা বেগম উপজেলা সদরের সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে এবং তার স্থলে অন্য একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তথ্য শুনে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি। সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মীদের উদ্দেশে তার প্রশ্ন ছিল, ‘আমি আবার মরলাম কবে?’মালেকা বেগম বলেন, ‘তিন মাস পরপর মোবাইলে ভাতার টাকা পেতাম। সেই টাকা তুলে কোনোমতে দিন চলত। এখন ভাতা বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে আছি। আমি জীবিত থাকা সত্ত্বেও কে বা কারা আমাকে মৃত দেখাল এটাই জানতে চাই।’সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, কোনো ভাতাভোগী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অপেক্ষমান তালিকা থেকে নতুন করে অন্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মালেকা বেগমের ক্ষেত্রেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন মালেকা বেগমের মৃত্যু সনদসহ একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে একই গ্রামের মো. আবদুল হাই (৭০) নামে একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এ প্রক্রিয়ায় যথাযথ তদন্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘মালেকা বেগম যাতে দ্রুত পুনরায় ভাতার অর্থ পেতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’এসআর
হাদীর হত্যাকারীকে যে আইনজীবী জামিন করিয়েছে তা সবাই জানে: মামুনুল হক
শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীকে কোন আইনজীবী জামিন করিয়েছেন তা সবার জানা—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের দুর্গাপুর সুসং ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “আপনারা জানেন শরিফ ওসমান হাদীকে কে হত্যা করেছে—তার নাম ফয়সাল করিম। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে একজন আইনজীবী তাকে জামিন করিয়ে বের করে এনেছেন। আমি তার নাম বলবো না, কিন্তু বাংলার মানুষ জানতে চায়—ফয়সাল করিমদের মতো খুনিরা কাদের বদান্যতায় কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে আবার হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে?”তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করার পেছনে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে।” জনসভায় উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কি আবার খুন, গুম ও সন্ত্রাসের বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান? রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যে অর্থ দেশে পাঠান, তা কি আবার লুটপাট হয়ে বিদেশে বেগমপাড়ায় চলে যাবে—এটাই কি আপনারা চান?”মামুনুল হক বলেন, “যদি না চান, তাহলে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শামিল হতে হবে।” স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তিনি বলেন, “ব্রিটিশ, কলকাতার দাদাবাবু ও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসনের পর মানুষ আশা করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশে আর শোষণ থাকবে না। কিন্তু ৫৪ বছরে শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, শোষণের ধরন বদলেছে।”তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাঁধে দুটি ভূত চেপে বসেছে—একটি সন্ত্রাস ও গুন্ডামিতন্ত্র, অন্যটি লুটপাট ও দুর্নীতিতন্ত্র।”জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-১ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী। তিনি ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি আল্লামা জিয়া উদ্দিন (দা. বা.)।এনআই
ফুলবাড়ী সীমান্তে গাঁজা ও ইস্কাপ জব্দ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ভারতীয় গাঁজা ও ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার( ৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে অনন্তপুর বিওপির সদস্যরা ফুলবাড়ী উপজেলার নাখরাজ এলাকায় ৫০ বোতল ইস্কাপ জব্দ করা হয়। অন্য দিকে একই উপজেলার কাশিপুর বিওপির সদস্যরা শুক্রবার গভীর রাতে অনন্তপুর সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযানে চোরাকারবারীদেন গতিবিধি লক্ষ্য করলে তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরে সেখান থেকে ১ কেজি গাঁজা জব্দ করে ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। এ বিষয়ে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।এই সময়ে যাতে কোন ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে সকল প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হচ্ছে।পিএম
ক্ষমতায় গেলে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: তারেক রহমান
বিএনপি ক্ষমতায় এলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীর পৌর মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “এই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা। ১২ তারিখ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অন্যতম প্রধান কাজ হবে যত দ্রুত সম্ভব এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, যাতে তিস্তা অববাহিকা আবার সবুজ ও শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে।”তিনি বলেন, “১২ তারিখ দেশের মানুষ ভোট দেবে। শুধু ভোট দিলেই চলবে না, দেশ গঠন করতে হবে। এটি করতেই হবে—কারণ আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।”তারেক রহমান বলেন, নীলফামারী এলাকায় বিদ্যমান ইপিজেড আরও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে স্থানীয় যুবসমাজ দক্ষ শ্রমিকে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।নারীদের স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি নারীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকারিভাবে সহায়তা পাবে মা-বোনেরা।কৃষকদের জন্য পৃথক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অঞ্চল কৃষিনির্ভর। কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে।তারেক রহমান বলেন, “এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সহজে ঋণ নিতে পারবেন, সার ও কীটনাশক পাবেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে।”তিনি আরও জানান, রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণ সরকার পরিশোধ করবে।ধর্মগুরুদের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের অনেক ধর্মগুরু মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।তিনি নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর এলাকাকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলে রেল কারখানাসহ নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান।জনসভায় ভোটকেন্দ্রে যেতে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, যারা ভোট দিতে বাধা দেবে বা ভয় দেখাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইখা
দিনাজপুরের লিচু, আম ও কাঠারিভোগ চাল বিশ্ববাজারে নেওয়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের
দীর্ঘ বহু বছর পর নিজের নানাবাড়ি দিনাজপুরে ফিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দিনাজপুরের মানুষকে নাতি–নানীর সম্পর্কের আবেগে যুক্ত করে তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমেই জনগণকে তাদের হারানো অধিকার ফিরিয়ে নিতে হবে।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।তারেক রহমান বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে বহু বছর পর আমি আমার নানাবাড়িতে এসেছি। নানাবাড়িতে এলে নাতিকে যেমন ভালোবাসা ও আপ্যায়ন করা হয়, ঠিক তেমনই ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।”তিনি বলেন, নানাবাড়িতে নাতি এলে তাকে খালি হাতে পাঠানো হয় না। ঠিক তেমনি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোট দিয়েই জনগণকে তাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে।“নাতি যখন আসে, তাকে কিছু না দিলে কি চলে? ভোট দিয়েই জনগণ তাদের প্রাপ্য বুঝে নেবে,”—বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।বক্তব্যে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চল ও সারাদেশের মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। গণতন্ত্র সংকুচিত হয়েছে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নারীদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি।তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট সংস্কার হয়নি, নতুন মিল-ফ্যাক্টরি গড়ে ওঠেনি। হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, স্কুল-কলেজে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে সাধারণ মানুষ মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।দিনাজপুরের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কৃষির সঙ্গে শিল্পায়নের সমন্বয় জরুরি। দিনাজপুরের বিশ্বখ্যাত লিচু ও কাঠারিভোগ চালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,“দিনাজপুরের লিচু শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অথচ আজও আমরা লিচু প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারিনি।”বিএনপি ক্ষমতায় এলে দিনাজপুরে আধুনিক হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। এতে লিচু সংরক্ষণ ও রপ্তানি সহজ হবে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে।একইভাবে কাঠারিভোগ চাল রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় শিল্পকারখানা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই নীতিকে সামনে রেখে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে দিনাজপুরের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেওয়া হবে।”তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, দিনাজপুরে ভোকেশনাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি বিদেশি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে যুবকরা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।বক্তব্যের একপর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবুও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি।“তিনি বলেছেন—বাংলাদেশই আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা,”—বলেন তারেক রহমান।শেষদিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে দিনাজপুরের আমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আম—ম্যাঙ্গো—এই আম দিয়েই একদিন পৃথিবীর মানুষ দিনাজপুরকে চিনবে। ইনশাআল্লাহ, দিনাজপুরের আম ও আম থেকে তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার সব ব্যবস্থা আমরা করব।”বক্তব্যের সমাপ্তিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য দিনাজপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।ইখা
তারাগঞ্জে বাবার পক্ষে প্রচারে এ টি এম আজহারুল ইসলামের ছেলে
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের ছেলে তাসনিম আজহার সুমন বাবার পক্ষে ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তারাগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন।এ সময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন এবং বাবার পক্ষে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।উল্লেখ্য, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এর আগেও এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়লাভ করতে পারেননি। তবে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় এই আসনে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তারা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে যোগ্য ও আদর্শবান নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।ইখা
ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে গড়তে চাই, এজন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে নারীরা সাবলম্বী হবে। এ ছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। এতে কৃষক সহজে ঋণ-সার-ফসলের বীজ পাবেন। ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে বলেও প্রতিশ্রতি দেন তিনি।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এসময় তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ ভোটের হারানো দিনের অধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছেন মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগের সময় এসেছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন আর দেশ পুনর্গঠনে হাত দেওয়ার।দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ দেশের মালিক জনগণ। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।বক্তব্যে অঞ্চলটির উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। বলেন, চিনিকলসহ এই অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ক্যাডেট কলেজ করার চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া হিমাগার তৈরি করা হবে, যেন কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে আইটি সেক্টরেও হাব তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, মেডিক্যাল কলেজের দাবি বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারেও ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি তিনি।পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যতো দ্রুত সম্ভব এই এলাকার বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।ফ্যাসিষ্ট সরকার নিজেদের স্বার্থ দেখেছে, জনগণের স্বার্থ দেখেনি মন্তব্য করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হেলথ কেয়ারার নিযুক্ত করে ঘরে বসে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।সমাবেশে উপস্থিত হাজারও জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দেশটি সবার, বিএনপির শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চায় বিএনপি, যেখানে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোটি মানুষের নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করতে চায় বিএনপি।তিনি বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, প্রতিটি মানুষকে বিচার করা হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। এসময় নিরাপদ দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলবো। শেষে তিনি এই এলাকার উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।ধানের শীষের কোনো বিকল্প নাই মন্তব্য করেন মহাসচিব বলেন, ধানের শীষের জয়ের মাধ্যমে দেশকে বাঁচাবেন তারেক রহমান।ইখা
হাদির বিচার নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নওগাঁয় সড়ক অবরোধ
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিতের দাবিতে যমুনায় চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ও হামলার প্রতিবাদে নওগাঁয় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মুক্তির মোড় শহীদ মিনারের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।পরে আন্দোলনকারীরা মুক্তির মোড়ের প্রধান সড়কে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি আরমান হোসেনের সভাপতিত্বে মুখ্য সংগঠক মেহেদী হাসান, সংগঠক রাফিউল বারী রাজন, সহকারী মুখপাত্র নাইম হাসানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও দেশে আগ্রাসন ও দমননীতি বন্ধ হয়নি। তারা দাবি করেন, পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে এবং কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে।বক্তারা আরও জানান, হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।ইখা
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু, দিশেহারা পরিবার
নওগাঁর ধামইরহাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাফি চৌধুরী (১৭) ও আতিক চৌধুরী (১৫) নামে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।নিহতরা উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের লোদিপুর গ্রামের বাসিন্দা। রাফি হালিম চৌধুরীর ছেলে এবং আতিক মান্নান চৌধুরীর ছেলে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর দুজন বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে সাপাহার উপজেলায় ঘুরতে যান। বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে সাপাহার গোডাউনপাড়া এলাকায় একটি পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আতিককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।রাফি সাপাহার সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আতিক পত্নীতলা উপজেলার মধইল আল ইনসাফ ইসলামী একাডেমির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।সন্তানদের হারিয়ে পরিবার দুটি শোকাহত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে।খেলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহিল মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হবে।ইখা
সিংড়ায় বালির ট্রলির চাপায় হেলপার নিহত
নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের সূর্যপুর গ্রামে বালিবাহী ট্রলির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে জিসান (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সূর্যপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত জিসান উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের ইসরাফিলের ছেলে। সে ওই গ্রামে নানার বাড়িতে থাকত এবং একটি বালিবাহী ট্রলির হেলপার হিসেবে কাজ করত।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিসান ও চালক ফারুক বালি বোঝাই করে ট্রলি নিয়ে সূর্যপুর এলাকায় যাচ্ছিলেন। সেখানে রাস্তা নিচু হওয়ায় ট্রলির চাকা ঠেকাতে ইট দেওয়ার জন্য চালক জিসানকে নামতে বলেন। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রলিটি জিসানের শরীরের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুন নূর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।ইখা
বিএনপির অঙ্গীকার দেশের প্রতিটি সন্তানকে সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, কেবল রাস্তা নির্মাণ করেই একটি জনপদের উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাস্তার ওপর দিয়ে চলা কোনো সন্তান যদি সম্পদে পরিণত না হয়, তাহলে প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। বিএনপির অঙ্গীকার দেশের প্রতিটি সন্তানকে সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, “আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি যদি ছোট হয়, স্বপ্ন যদি ছোট হয়, তাহলে মানুষ আমাদের ঠকাবেই। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা সন্তুষ্ট থাকতে চাই না। আমরা ঘরে ঘরে সরকারি চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই।”তিনি আরও বলেন, “আমরা মা-বোনদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করতে চাই। কৃষকদের মর্যাদা দিতে চাই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য লালপুর-বাগাতিপাড়ায় এমন একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের ও এলাকার সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে, বোঝা হিসেবে নয়।”নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “অন্যান্য প্রার্থীদের স্বাগত জানাই। নির্বাচন একটি প্রতিযোগিতার মাঠ। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে ফাউল করলে মাঠের বাইরে চলে যেতে হবে। ফাউল করা বন্ধ করুন।”জনসভায় উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ফিরোজ উদ্দিন, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল বারি, সাধারণ সম্পাদক হজরত আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।ইখা
নাটোরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা, আটক ১
নাটোরের লালপুরে নাটোর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ খলিলুর রহমান নামে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর এক সমর্থককে আটক করেছে।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার আরবাব ইউনিয়নের কচুয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে।আটককৃত খলিলুর রহমান আরবাব ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।এ বিষয় বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও উপজেলা বিএনপি সাবেক সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ পাপ্পু বলেন, এশার নামাজের পর আরবাব ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া নির্বাচনী অফিসে আমাদের কয়েকজন লোক বসেছিল। এসময় সালামপুর থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর এক- দেড়শ সমর্থকরা কচুয়া বাজারে এসে মিছিল শুরু করে। মিছিলটি আমাদের অফিস অতিক্রম করে আবারো ঘুরে আসে। একপর্যায়ে আমাদের অফিসে তারা হামলা চালিয়ে অফিস তছনছ করে দেয়। আমাদের প্রার্থী ও তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করে। এ সময় আমাদের তিনজন সমর্থক আহত হয়। আমরা অভিযোগ করার জন্য থানায় এসেছি।অভিযোগের বিষয় জানতে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এবিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি আসনটির স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। স্থানীয় জনগণ একজনকে আটকে রেখেছিল, তাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে এসেছে। আটককৃত ওই ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থক। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।পিএম
সুনামগঞ্জে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি)উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা নির্বাচন অফিসার শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মতিন খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা, একই সাথে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।এই কর্মশালায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী আইন, বিধিনিষেধ এবং ভোটগ্রহণের টেকনিক্যাল বিষয় গুলো সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই পর্যায়ক্রমে এই ধরণের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ডাঃ ইলিয়াস মিয়া।পিএম
বিএনপির প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জ–১ (বাহুবল–নবীগঞ্জ)। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী, সদ্য দলে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থান এখনো শক্ত।প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।তবে এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ–১ আসন ঘিরে।নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী থাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট।পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে থাকলেও মাঠে অনেক কর্মীকে শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গেও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছে।স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাতই এখন ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ‘গলার কাঁটা’।প্রথমদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তিনি আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।অনেকের ধারণা, জামায়াতের কিছু ভোটও শেখ সুজাত মিয়ার ঝুলিতে যেতে পারে। সে কারণেই এই আসনে তাঁর অবস্থান বেশ শক্ত বলে মনে করছেন ভোটাররা।জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ সুজাত মিয়া। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে থেকে যান। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সংসদে যেতে চান শেখ সুজাত মিয়া।অন্যদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হওয়ায় এলাকাতেও রয়েছে পারিবারিক জনপ্রিয়তা। এ কারণে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।হবিগঞ্জ–১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।ইখা
হবিগঞ্জে ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিতনী বিল এলাকার হাওরে প্রায় ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানক্ষেতের একাংশে পড়ে আছে যুদ্ধবিমানটির কিছু অংশ।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের দিকে আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অনেকে ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। পরে ধোঁয়া সরে গেলেও প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানে আগুন জ্বলতে থাকে।বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুদিন পর নৌকায় করে অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় বিমানের ভেতরে থাকা একটি মিসাইল হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে শ্রীমতপুর গ্রামের সাজিদ মিয়া ও খালেক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আতঙ্কে কেউ বিমানের কাছে যাননি বলেও জানান স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, মাটির ওপর বিমানের সামান্য অংশ দৃশ্যমান হলেও এর বৃহৎ অংশ এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম সংরক্ষণ না থাকায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে।এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে ভয় পেতেন। এখনো ওই জমির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে।শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিমানটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করব। বিধি মোতাবেক স্মৃতি হিসেবে জাদুঘরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে উপজেলা প্রশাসন সে উদ্যোগ নেবে। পিএম
গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে শানাজ আহমদ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ সরকারি এমসি একাডেমির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শানাজ বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর রামপাশা গ্রামের মখন মিয়ার ছেলে। তিনি সিলেট নগরীর একটি পোল্ট্রি ফার্মের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সিলেট থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে এক বিয়ের দাওয়াত খেতে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে এসেছিলেন শানাজ। দাওয়াত খেয়ে অন্য একজনের মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে সরকারি এমসি একাডেমির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে ডিভাইডারের অপর প্রান্তে গিয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮২৮৬৯) চাকার নিচে তিনি পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে যান।গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এনআই
সুনামগঞ্জ ২: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর, আহত ২
সুনামগঞ্জ ২ (দিরাই শাল্লা) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।হামলায় প্রচার গাড়িতে থাকা ২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দিরাই থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মত সুনামগঞ্জ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তার প্রচারের গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসা মাত্র দুটি মোটরসাইকেল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এসে শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যখন জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসে তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি আরও জানান, সেই দুজনের হেলমেট পড়া থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের ধরতে কিংবা চিহ্নিত করতে।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে খুঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এসআর
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
মালয়েশিয়ায় ক্রেনচাপায় বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান পেরাক এলাকায় কাজ করার সময় একটি ‘স্পাইডার লিফট’ (এক ধরনের ছোট ক্রেন) উল্টে চাপা পড়ে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে সাইন বোর্ড মেরামতের কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহত বাংলাদেশি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে স্পাইডার লিফটটি পরিচালনা করছিলেন। ফুটপাতের ধারে ধাক্কা লেগে ক্রেনটি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং তৎক্ষণাৎ ওই বাংলাদেশি কর্মীর ওপর উল্টে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ক্রেনটি উল্টে যাওয়ার সময় পাশে থাকা একটি প্রোটন পারসোনা এবং একটি বিএমডব্লিউ ৫২৩আই গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত গাড়ি দুটির ভেতরে থাকা কেউ আহত হননি। কুয়ালালামপুর ট্রাফিক তদন্ত ও প্রয়োগ বিভাগের প্রধান অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ঈসা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর ধারা ৪১(১) অনুযায়ী তদন্ত করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং ক্রেন মালিকের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। কুয়ালালামপুর সিটি হলের পক্ষ থেকে কাজের কোনো বৈধ পারমিট ছিল কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে, পুলিশ এই ঘটনা সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানায় বা ট্রাফিক পুলিশের ০৩-২০৭১ ৯৯৯৯ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে।ইখা
যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডেথ ক্যাপ’ মাশরুম খেয়ে নিহত ৪, ৩ জনের লিভার প্রতিস্থাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অত্যন্ত বিষাক্ত ‘ডেথ ক্যাপ’ মাশরুম খেয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিষাক্ত মাশরুম খাওয়ার কারণে আরও ৩ জনের লিভার প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে।চলতি মৌসুমে ভারী বৃষ্টির কারণে এই বিষাক্ত মাশরুম অস্বাভাবিক হারে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগনজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ জানিয়েছে, এ বছর সাধারণ মানুষকে বন্য মাশরুম সংগ্রহ থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ, ডেথ ক্যাপ দেখতে অনেক নিরাপদ ও ভোজ্য মাশরুমের মতো হওয়ায় সহজেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৮ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তিন ডজনের বেশি ডেথ ক্যাপ বিষক্রিয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩ জনের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয়েছে।এইচএআক্রান্তদের অনেকেই দ্রুতগতিতে তীব্র লিভার ক্ষতি ও লিভার ফেইলিউরে ভুগেছেন। কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করতে হয়েছে। আক্রান্তদের বয়স ছিল ১৯ মাস থেকে ৬৭ বছর পর্যন্ত।ডেথ ক্যাপ বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত মাশরুমগুলোর একটি। এটি ‘অ্যামাটক্সিন’ নামের শক্তিশালী বিষাক্ত উপাদানযুক্ত অল্প কয়েকটি মাশরুমের মধ্যে পড়ে যা বিশ্বজুড়ে মাশরুম বিষক্রিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী। এই মাশরুম শহরের পার্ক ও বনাঞ্চলে বিশেষ করে ওক গাছের নিচে জন্মায়।ক্যালিফোর্নিয়া পয়জন কন্ট্রোল সিস্টেমের সান ফ্রান্সিসকো বিভাগের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. ক্রেগ স্মোলিন বলেছেন, সাধারণত বছরে দুই থেকে পাঁচটি ডেথ ক্যাপ বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু এ বছর প্রায় ৪০টি ঘটনা হওয়া খুবই অস্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণ শরৎকালীন আবহাওয়া ও আগাম বৃষ্টির কারণে চলতি বছর ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেথ ক্যাপ মাশরুমের এক ধরনের ‘সুপার ব্লুম’ ঘটেছে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই মাশরুমের অল্প পরিমাণ খেলেও মৃত্যু হতে পারে। রঙ দেখে বিষাক্ততা নির্ণয় করা যায় না, আর কাঁচা, শুকনো বা রান্না-যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, বিষক্রিয়ার ঝুঁকি একই থাকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষাক্ত মাশরুম খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া বা বমিভাব দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো এসব উপসর্গ একদিনের মধ্যে সেরে গেলেও ২–৩ দিনের মধ্যে মারাত্মক বা প্রাণঘাতী লিভার ক্ষতি হতে পারে। সূত্র: সিএনএন
ভারতীয় পণ্যে আরোপ করা অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সখ্যতার খবর নতুন কিছু নয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় বসার পর শুল্ক নিয়ে মোদি-ট্রাম্পের বন্ধুত্বে টানাপড়েন শুরু হয়। অবশেষে সেই সম্পর্ক আবার চমৎকার হতে চলেছে। বার্তাসংস্থা এএফপি'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর পূর্বে আরোপ করা অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে ঘোষিত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে শুক্রবার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সই করা নির্বাহী এক আদেশে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।এতে আরও বলা হয়, দিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য কিনবে। সেইসঙ্গে ভারত আগামী ১০ বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি রূপরেখা তৈরিতেও সম্প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।দেশটির স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমাতে বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিন পরই এ নির্বাহী আদেশ জারি করলেন ট্রাম্প। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্কের হারও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে। তবে এই শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের নতুন এই পদক্ষেপ ট্রাম্প ও মোদির ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করল। বিভিন্ন সময় ট্রাম্প মোদিকে ‘অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে অভিহিত করেছেন। এইচএ
গাজায় মৃত্যু ২ লাখ ছাড়াতে পারে: জেনেভা অ্যাকাডেমি
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক জেনেভা অ্যাকাডেমির প্রধান স্টুয়ার্ট কেসি ম্যাসলেন সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।তার মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গাজার জনসংখ্যা ১০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার তথ্য এমন ইঙ্গিতই দেয়—যার অর্থ প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু।আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাসলেন বলেন, জেনেভা অ্যাকাডেমির ‘ওয়ার ওয়াচ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে গাজাসহ গত ১৮ মাসে সংঘটিত ২৩টি সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তিনি গাজার পরিস্থিতিকে নাটকীয় বলে বর্ণনা করেন।তিনি বলেন, গত বছরের মতো ভারি সামরিক সংঘর্ষ এখন নেই, এটি অবশ্যই স্বস্তির বিষয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে গাজার মানুষের দুর্ভোগ শেষ হয়েছে। গাজার পুরো জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমরা এখনো গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।বিশেষ করে আহতদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে ম্যাসলেন বলেন, যাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন, তারা তা পাচ্ছেন না।মানুষ এখনো গাজায় গিয়ে মারা যাচ্ছে।ম্যাসলেন জোর দিয়ে বলেন, গাজার জনগণের জন্য আরো অনেক বেশি মানবিক সহায়তা জরুরি, খাদ্য ও পানি ছাড়াও প্রয়োজন আশ্রয়, শীতের কঠোর আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা।এবি
জিল বাইডেনের প্রাক্তন স্বামী খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফ্রার্স্টলেডি এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্ত্রী জিল বাইডেনের প্রাক্তন স্বামী উইলিয়াম স্টিভেনসনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উইলিয়ামের বিরুদ্ধে তার বর্তমান স্ত্রী লিন্ডা স্টিভেনসনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।উইলিয়াম স্টিভেনসনের বয়স ৭৭ বছর এবং লিন্ড স্টিভেনসনের বয়স ৬৪ বছর। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের নিউ ক্যাসেল শহরে লিন্ডা স্টিভেনসনের বাড়ি থেকে তাকে মৃতপ্রায় অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।নিউ ক্যাসেল পুলিশের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, পারিবারিক বিবাদের সংবাদ পেয়ে লিন্ডা স্টিভেনসনের বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, বাড়ির লিভিংরুমে পড়ে আছেন লিন্ডা।এই অবস্থায় লিন্ডাকে উদ্ধারের পর তার প্রাণ বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছিল পুলিশ। কিন্তু সেসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে তদন্তের পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় উইলিয়াম স্টিভেনসনকে। নিউ ক্যাসেল পুলিশের বরাতে জানা গেছে, উইলিয়ামের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা আনা হয়েছে।বর্তমানে ডেলাও্যায়ারের উইলমিংটন শহরের একটি কারাগারে আছেন উইলিয়াম। তার অবশ্য জামিনের সুযোগ ছিল, কিন্তু সেজন্য প্রয়োজনীয় ৫ লাখ ডলার জমা দিতে না পারায় কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাকে।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে খ্যাতি পাওয়া উইলিয়াম স্টিভেনসনের সঙ্গে জিল বাইডেনের বিয়ে হয়েছিল ১৯৭০ সালে। সে সময় উইলিয়ামের বয়স চিল ২৩ বছর এবং জিলের ১৮ বছর। ১৯৭৫ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের।ওই বছরই জো বাইডেনের সঙ্গে পরিচয় ঘটে জিলের এবং তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৭৭ সালে।উইলিয়াম স্টিভেনসন একজন ব্যবসায়ী। ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের কাছে স্টেন বেলুন নামে একটি পানশালাও আছেন তার।লিন্ডা স্টিভেনসনের মৃত্যু এবং তার সঙ্গে উইলিয়ামের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। জো বাইডে, জিল বাইডেন এবং লিন্ডা-উইলিয়ামের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি। তারাও এ ব্যাপারে কথা বলতে চাননি।তবে লিন্ডার এক আত্মীয় বিবিসিকে বলেছেন, “লিন্ডা খুবই পরিবার অন্তঃপ্রাণ ছিলেন। তার একটি মেয়ে এবং এক নাতনি ছিল। বেশিরভাগ সময় তাদের সঙ্গেই কাটত তার।”সূত্র : বিবিসিএবি
ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে, বললেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা পরোক্ষ সংলাপে বসেন। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করেছে মার্কিনিরা। এরমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনার লক্ষ্য ছিল উত্তেজনা বৃদ্ধি আটকানো।ভালো আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প তার সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, “ইরান নিয়ে আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে ইরান চুক্তি করতে মরিয়া। আমরা আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছি।”এদিকে আলোচনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেন ট্রাম্প প্রশাসন। ওমানে আলোচনা চলার মধ্যেই দেশটিকে নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরমাধ্যমে তেহরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প এই আদেশে বলেছেন, যেসব দেশ ইরান থেকে পণ্য কিনবে সেসব দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করবে।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েলএবি
বিএনপি জামাতের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠন করবে না: তারেক রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলেও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির এমন অবস্থানের কথা জানান তারেক রহমান।রয়টার্সকে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, তারা কয়টি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দল হয়, তাহলে আমি আশা করি, তাদের ভালো বিরোধী দল হিসেবে পাব।’বিএনপি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্বাচনে ৩শ’ আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনেই জয়লাভের বিষয়ে আশাবাদী তারা। এরমধ্যে ২৯২টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোয় জোটের শরিকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।তবে নির্বাচনে বিএনপি কতটি আসন পেতে পারে সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে নির্দিষ্টভাবে আসনসংখ্যা না বললেও সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন পাবে এমনটা জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সব জনমত জরিপেই বিএনপির জয়লাভের আভাস পাওয়া গেছে। তবে এ ক্ষেত্রে বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেও জরিপে উঠে এসেছে। যারমধ্যে তরুণদের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন-জিদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) রয়েছে।এবি
নারী শিক্ষক প্রেম প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় শিক্ষার্থীর কাণ্ড
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরিতে স্কুলের এক নারী শিক্ষককে প্রকাশ্য রাস্তায় আক্রমণ করে তার ঠোঁট কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া অখণ্ড প্রতাপ নামের ওই শিক্ষার্থী ঠোঁট কেটে দেয়। ঘটনার পর ওই শিক্ষক আগ্রার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অখণ্ড প্রতাপ নামের ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘ দিন ধরেই ওই শিক্ষককে হেনস্তা করছিল। আগ্রা রোডের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই অখণ্ড ওই শিক্ষককে হেনস্তা করতে শুরু করে।শিক্ষকের ভাইয়ের অভিযোগ, হেনস্তার কারণে সেই শিক্ষক ওই স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। পরে তিনি অন্য একটি বেসরকারি স্কুলে যোগ দেন। আগেই ওই শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তারপরেও অখণ্ড তাকে অনুসরণ করে নানাভাবে বিরক্ত করত।অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি অখণ্ড ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই শিক্ষককে আক্রমণ করে। জোর করে তার সঙ্গে কথা বলার সময়েই ওই আক্রমণ করা হয়। আক্রমণের একপর্যায়ে সে তার ঠোঁট কেটে দেয়। জ্যোতি তিহারা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ছবি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানার কর্মকর্তা ফতে বাহাদুর সিং জানান, এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষকের পরিবার থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষককে যৌন হেনস্তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরার জন্য অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।এনআই
পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩১
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মসজিদটি। ২০২৩ সালে পেশোয়ারে একটি মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল। ওই ঘটনার পর আজকে পাকিস্তানে কোনো মসজিদে বিস্ফোরণে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটল।প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) এক সন্ত্রাসী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তবে এখনো কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে পুলিশ জানায়, জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়।বার্তাসংস্থা এএফপিকে একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হামলকারীকে মসজিদের প্রবেশদ্বারে আটকে দেওয়া হয়। তখন তিনি নিজের শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।ইসলামাবাদ প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা চিকিৎসার জন্য ১৬৯ জনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মসজিদের ভেতর মানুষের মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। আর মসজিদের জানালার গ্লাসগুলো সব ভেঙে গেছে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।গত বছরের নভেম্বরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ইসলামাবাদ ডিস্ট্রিক জুডিশিয়াল কমপ্লেক্ষের গেটে নিজেকে উড়িয়ে দেন। এতে ১২ জন নিহতসহ কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।এছাড়া ২০০৮ সালে এক হামলাকারী ইসলামবাদের ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে ময়লার ট্রাকে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ৬৩ জন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।এমআর-২
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা শুরু
অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বৈঠক শুরু হয়। এতে ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ। এছাড়া ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনারও ওমানে এসেছেন।বৈঠক শুরুর আগে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্বাভাবিক দাবিদাওয়া ও রাজনৈতিক হঠকারিতার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষার জন্য প্রস্তুত আছেন।স্টিভ উইটকোফের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন আরাগচি। তিনি সেখানে জানান, ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা কূটনীতির পথকে বেঁছে নেবেন।এদিকে গত বছরের জুনেও আলোচনায় বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ইরান। কিন্তু ওই আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়ে বসে দখলদার ইসরায়েল। এরপর শুরু হয় যুদ্ধ। যা ১২দিন স্থায়ী হয়। সে যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিনিরা মূলত ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।আলোচনার মধ্যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে হামলা চালানোয় মার্কিনিদের বিশ্বাস করা বন্ধ করে দেয় ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ফের সেই বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে।জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশপাশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও প্রক্সি বাহিনীকে সহায়তা নিয়েও আলোচনা করতে চায়। তবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে তারা তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।এমআর-২
বিনোদন
সব দেখুন
শাকিব-বুবলীর ঘরে আসছে নতুন অতিথি
ফের বাবা-মা হতে যাচ্ছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেতা শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী। প্রথম সন্তানের জন্মের ৫ বছর পর ফের মাতৃত্বের পথে হাঁটছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই নায়িকা।গত বছরের শেষের দিকে ছেলেকে নিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ছুটি কাটান বুবলী। তখন তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কথা ওঠে। অনেকেই বলতে শুরু করেন শাকিব-বুবলী ফের এক হতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সম্প্রতি বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। এটা গুঞ্জন হিসেবে চলতে শুরু করার মাঝেই জানা গেল ঘটনার সত্যতা। শাকিব ও বুবলীর ঘরে শেহজাদ খান বীর নামে এক সন্তান রয়েছে। শাকিব খানের পরামর্শেই সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী।বুবলী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তাই ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিং করতে চাইছেন না বুবলী। প্রথম দফায় আদর আজাদের বিপরীতে ৪ দিন শুটিংয়ে অংশও নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ের জন্য শিডিউল দিচ্ছিলেন না। সন্তান জন্মের পর শারীরিকভাবে ফিট হয়ে বাকি অংশের শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে প্রযোজক-পরিচালককে জানিয়েছেন বুবলী।সিনেমাটির প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, সিনেমার প্রথম লটে ৪ দিনের শুটিং হয়েছে। দ্বিতীয় লটে রোজার মধ্যে শুটিং থাকলেও বুবলীকে ছাড়া বাকি কাজ শেষ করতে হবে। সন্তান জন্ম দিতে এই মাসেই তিনি আমেরিকায় যাচ্ছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জুনে শিডিউল দিলেও আমরা ধারণা করছি, তখন তিনি পুরোপুরি ফিট নাও হতে পারেন। তাই সেপ্টেম্বরের দিকে শুটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।জানা গেছে, এখন বুবলী শুটিং করছেন না ঝুঁকির কারণে। তবে আগামীকাল রাজধানীর একটি শপিং কমপ্লেক্সে হাজির হবেন বুবলী। একটি আউটলেট-এর ওপেনিং সেরেমনি হবে বুবলীর হাত ধরে। সেখানেই বুবলী জানাতে পারেন মা হতে যাওয়ার বিষয়টি।এদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, বুবলী সন্তান জন্ম দিতে এ মাসেই উড়াল দেবেন যুক্তরাষ্ট্রে। শেহজাদ খান বীরেরও জন্ম হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বুবলী। এ খবর ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে বুবলী নিজেই সামনে আনেন। তবে তার আগে নানা নাটকীতায় অংশ নেন তিনি। মা হওয়ার খবর কেন্দ্র করে সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত মা হওয়ার গুঞ্জনই সত্যি হয়েছিল। এবারও দেখানো পথেই হাটছেন বুবলী। বর্তমানে এই অভিনেত্রীর ‘পিনিক’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায়। সর্বশেষ তাকে ‘জংলি’ সিনেমায় দেখা গেছে।এইচএ
জেলে যাওয়ায় কাছের বন্ধুরাও নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে ছবি মুছে ফেলেন
গ্রেপ্তার ও কারাবাসের দীর্ঘ কয়েকমাস পর অবশেষে সম্প্রতি পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। বিমানবন্দরে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরবর্তী ২ দিনের জেলজীবন তার জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুন করে চিনিয়েছে। শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গিয়েই তিনি প্রথম পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পান।ফারিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে- এমন খবর তিনি আগেই শুনেছিলেন। তবে সে সময় দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। ফারিয়া বলেন, গানের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে।কিন্তু তারা যখন আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।কারাগার থেকে বের হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে কাটানো মাত্র দুই দিনেই তিনি জীবনের বড় শিক্ষা পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল তার চারপাশের মানুষদের আচরণে।এই ঘটনার পর সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তার সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন। যেন তারা স্পষ্ট করে দিতে চান, এই মুহূর্তে তার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, কারণ তিনি তখন ঝামেলায় ছিলেন। নুসরাত ফারিয়ার ভাষ্য, এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কে আমার আপন, আর কে নয়। ফারিয়া বলেন, যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোর অস্তিত্বও নতুন করে চিনেছি।আজ তারা ফিরতে চাইলেও তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা- সবখানেই বড় পরিবর্তন দেখেছি। তবে কিছু মানুষও পেয়েছেন এই ঘটনার পর, যাদের জন্য আপ্লুত এই অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, এই ঘটনাটার পর যাদের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে বাচ্চা পর্যন্ত- সবার চোখেই আমি সেই দৃষ্টি দেখেছি। যেন তারা বলতে চেয়েছে, আমরা তোমার জন্য দোয়া করেছিলাম, আমরা চাইছিলাম তুমি ফিরে আসো। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সবকিছু ভুল দিকে যাচ্ছে।উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে নুসরাত ফারিয়া জানান, এক দিন, এক দিন এক রাত আমাকে জেলে থাকতে হয়েছিল। সেখানে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইভেন ইনসাইড দেম… জেলের ভেতরে জেলারের থেকে শুরু করে সবাই যে সহানুভূতি আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ট্রিট করেছে, আমি বলব- আমি ভেরি ব্লেসড। এটা পুরোপুরি আলাদা এক অভিজ্ঞতা।তবে বিষয়টি খুব বেশি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, এটা খুব কনফিডেনশিয়াল, সবাই জানুক- আমি তা চাই না। কিন্তু আমি রেসপেক্টেড ছিলাম, আমাকে নাইসভাবে ট্রিট করা হয়েছে। কোনো ধরনের ডিসরেসপেক্ট ছিল না, বরং আমি ভালোবাসাই পেয়েছি।নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমার তো খাওয়াই হজম হয়নি, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আমি কিছু খাইনি। কিন্তু দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে। সকালে রুটি ছিঁড়ে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে খাওয়াচ্ছে।তিনি আরও বলেন, আমি শুধু মনে করতে পারি—আমার চোখ দিয়ে টিয়ারড্রপ পড়ছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। এমন মানুষ, যাদের আমি চিনি না, হয়তো জীবনে আর কখনো দেখবও না। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমি মন থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের সব কষ্ট দূর করে দেন। কারণ ওই ক্রুশাল মোমেন্টে তারা আমার সঙ্গে কিছু না হয়ে শুধু ভালো আর দয়ালুই ছিল।উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়, যেখানে ফারিয়াকে আসামি করা হয়। মামলার নথিতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।এইচএ
বিড়ম্বনায় সাদিয়া ইসলাম মৌ হাঁটলেন আইনি পথে
ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিড়ম্বনায় আইনি পথে হাঁটলেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় মডেল, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও পরিচিতদের প্রতারিত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। শোবিজ দুনিয়ার এ উজ্জ্বল নক্ষত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব কমই একটিভ থাকেন। ভার্চুয়াল জগতে মৌ মাত্র একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানান। তার আইডির নাম ‘সাদিয়া ইসলাম’।অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সাদিয়া ইসলাম মৌ’ নামে একাধিক ফেসবুক আইডি বা পেজ রয়েছে। এ সব আইডি ভুয়া বলে দাবি করেন মৌ। ওই সব ভুয়া আইডিতে নিয়মিত স্ট্যাটাস দেয়া, ছবি আপলোড করা এবং পরিচিতজনদের পোস্টে মন্তব্য করা হচ্ছে বলে নজরে পড়ে তার।বিষয়টিতে চরম বিরক্তি, বিব্রতবোধ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৌ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের খুব সুন্দর করে অনুরোধ করছি এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করুন। আমার অনুমতি ছাড়া ছবি পোস্ট করা, লেখা দেয়া এসব আইনত অপরাধ। যারা এসব করছে, সাবধান হোন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থায় যা হওয়ার তাই হবে।মৌ আরও বলেন, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি এবং সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবো। ভক্ত, দর্শক ও পরিচিতজনদের উদ্দেশে আমি বলবো ভুয়া অ্যাকাউন্টের বন্ধু হয়ে আপনারা প্রতারিত হবেন না। আবারও বলছি, আমার কোনো ফ্যান পেজ নেই, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নেই।নব্বই দশকে বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল ও নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান সাদিয়া ইসলাম মৌ। ক্যারিয়ারে শীর্ষে থাকা অবস্থায় অভিনেতা জাহিদ হাসানকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে পুষ্পিতা নামে একটি কন্যা এবং পূর্ণ নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।এইচএ
২৩ বছর পর আবার মুক্তি পাচ্ছে সালমানের ‘তেরে নাম’
বলিউডের বিখ্যাত একটি চরিত্র রাধে। ২০০৩ সালের সিনেমা ‘তেরে নাম’-এ সালমান খান অভিনয় করেছিলেন এই চরিত্রটিতে। মুক্তির পর গান, গল্প ও সালমানের দুর্দান্ত অভিনয়ে সিনেমাটি ভারতবর্ষজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। কামাই করে নেয় কাড়ি কাড়ি টাকাও। পুনরায় দর্শকদের সামনে আসছে ছবিটি।সিনেমাটি ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের বিভিন্ন হলে প্রদর্শিত হবে। পিঙ্কভিলা এমনই তথ্য দিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সিনেমা আবার নতুন করে প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালের ‘তেরে নাম’-ও ফিরে আসছে। নতুন শোতে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সালমান খানের প্রেমিক চরিত্রের জন্য আলোচিত এই সিনেমা ধীরে ধীরে একটি কাল্ট ফলোয়িং অর্জন করেছে। এবার শক্তিশালী কমব্যাকের প্রত্যাশা রয়েছে ছবিটিকে ঘিরে।‘তেরে নাম’ সিনেমায় সালমান খানের অসহায়ত্বের অভিনয় দর্শকের মন কাঁদায় আজওসিনেমার জনপ্রিয় গানগুলো গেয়েছিলেন ছিলেন হিমেশ রেশমিয়া। সাজিদ ওয়াজিদ গানের সংযোজন করেছেন, এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সংগীত তৈরি করেছেন বিক্রম বিকি গোস্বামী। মুক্তির সময় এটি ১৫ আগস্টের বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রকাশ পেয়েছিল এবং বাজেটের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আয় করেছিল। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছে সিনেমার আবেগপূর্ণ দৃশ্যায়নের জন্য।সালমান খানের নায়িকা হয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান ভূমিকাগল্পের কেন্দ্রে রয়েছে রাধে মোহন চরিত্রে সালমান খান এবং নির্জারা ভরাডওয়াজ চরিত্রে ভূমিকা চাওলা। গল্পটি তাদের দুঃখজনক ও নাটকীয় প্রেমের উপর ভিত্তি করে যা নানা মোড় নিয়ে দর্শকদের অবাক করে। রাধে অবিরাম চেষ্টা করেন নির্জারাকে জিততে। যদিও তার পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা তাদের একসঙ্গে হতে বাধা দেয়।সিনেমার ট্র্যাজিক সমাপ্তি দর্শকদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে অম্লান হয়ে আছে। এবার বড় পর্দায় এই আবেগ পুনরায় অনুভব করার সুযোগ মিলবে।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
রোজার আগেই বাড়ল মুরগি-খেজুর-লেবুর দাম
পব্ত্রি রমজানের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। এর মধ্যেই ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ লেবু ও খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মুরগি ও কাঁচা মরিচের দামও। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলছে সবজি ও পেঁয়াজের বাজারে।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। দেখা যায়, রমজানে বেশি চাহিদা থাকা লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। এরই সঙ্গে বেড়েছে খেজুরের দাম।খুচরা বিক্রেতারা বলেন, শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরই রোজার আগে লেবুর চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বেড়ে যায়। কারওয়ান বাজারের এক লেবু বিক্রেতা বলেন, এ সময় চাহিদা বেশি থাকে, সরবরাহও কমে যায়। তাই দাম একটু বাড়তি।এদিকে, তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে সবজির বাজারে। প্রতিকেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।পেঁয়াজের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বাজার করতে আসা ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের দাম এখন মোটামুটি ঠিক আছে। যদি এমন থাকে, তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি।গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, শবেবরাত উপলক্ষে মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে গরুর মাংস ও মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও যেখানে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে তা বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে।সোনালি মুরগির দাম বেড়ে বিভিন্ন জাতভেদে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে উঠেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১৮০ টাকা হয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম এখনো স্বস্তি দিচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।তবে মুরগির বাজারে বাড়তি চাপ দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি।বিক্রেতারা বলছেন, বিয়ে-শাদি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে। এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, এ সময় অনুষ্ঠান বেশি থাকে, চাহিদা বেড়ে যায়। তাই দাম একটু বেশি।বর্তমানে বাজারে কম দামে বিক্রি হয় জাহিদী খেজুর কেজি ২৮০ টাকা। এই খেজুরের দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২৫০ টাকার আশপাশে। অন্যান্য ধরনের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০-৭০০ টাকা; সুক্কারি ৭০০-৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এমআর-২
রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ১৯.৬৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৯ কোটি ৬৫ লাখ (১৯৬.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ক্রয় করা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগে, গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ (১৭১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।এসব ডলার কেনার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬ মিলিয়ন বা ৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৪৫১৯.৫০ মিলিয়ন (৪৫১ কোটি ৯৫ লাখ) মার্কিন ডলার।এর আগ একই দরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার আগে গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৯৬.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছি। ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয়ের পরিমাণ ৪,৫১৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।এফএস
ফেব্রুয়ারির ৪ দিনে দেশে এলো ৫০ কোটি ডলার
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে দেশে প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ছয় হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে প্রবাস আয় এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাস আয় এসেছে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাস আয় এসেছিল ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।এবি
অনুরোধেও মন গলেনি শ্রমিক নেতাদের, সরকারকে আলোচনার আহ্বান ব্যবসায়ীদের
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলের লবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ উদ্বেগের কথা জানান তারা। এসময় তারা এনসিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।এর আগে এদিন দুপুর আড়াইটায় আগ্রাবাদ হোটেলের কর্ণফুলী হলে আন্দোলনকারী শ্রমিকদল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। এসময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জাতীয় নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে সংকটকালীন আন্দোলন পরিহার করার জন্য শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ জানালেও তারা তাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকেন। শ্রমিক নেতারা বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার ও এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে আলোচনার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীদের।সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেপজিয়া), সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সভা শেষে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ নেতা এবং এশিয়ান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ সালাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বন্দরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে শুধু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, তারাও (শ্রমিক) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ অনেক শ্রমিক দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন, তারাও মার খাচ্ছেন। এ অবস্থায় এখন ব্যবসায়ীরা চোখে অন্ধকার দেখছেন।এম এ সালাম বলেন, বন্দর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো- বাংলাদেশের লাইফ লাইন, ৯০ শতাংশ আমদানি রপ্তানি যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয় তা চারদিন বন্ধ থাকতে পারে না। একটা বিষয় সবাই খেয়াল করবেন, আগেও একদিন, দুদিন বন্দর বন্ধ ছিল- কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি। এবার প্রথম জাহাজ চলাচল বন্ধ। ইন্টারন্যাশনালি সবাই এটার দিকে তাকিয়ে আছে।এটা সুনাম বয়ে আনছে না, বরং দুর্নাম বয়ে আনছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারকে অনুরোধ করবো শিগগির আলোচনা করার জন্য। খুব একটা বড় সমস্যা নয়। আমরা যা আলোচনা করেছি, এটাতে কী উপকার হবে, কী অপকার হবে তা যদি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, নেগোসিয়েশনের কোনো বিকল্প নেই। সরকার গত চারদিন (আলোচনা) করেনি। এখন দ্রুত আলোচনা শুরু করলে, সেটি রাত হোক, দিন হোক কোনো ব্যাপার নয়, তারা কথা দিয়েছেন কাজে অংশগ্রহণ করবেন।এদিকে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ এ নেতা আরও বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসেছিলাম অনুরোধ করতে তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য। বিশদ আলোচনা হয়েছে, প্রায় চার ঘণ্টা। সামনে নির্বাচন, তিনদিনের ছুটি। এর সাত-আটদিন পর রমজান। রমজানের পণ্যগুলো কীভাবে ডেলিভারি করবে সেগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। গার্মেন্টস সেক্টর বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে কাজ করবে মাত্র ১৮ দিন, মার্চে কাজ করবে মাত্র ১৬-১৭ দিন। তিনি আরও বলেন, এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য যদি বন্দর বন্ধ থাকে উৎপাদন করা পণ্য যাবে না, আবার ভবিষ্যৎ কাঁচামাল আসবে না। এর ওপর আবার ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ থেকে চীনে ছুটি ১৬ দিনের জন্য। আমরা অসম্ভব ক্ষতির মুখে আছি, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং রমজানের বিষয়ে পুরো দেশবাসী। বন্দর যদি এভাবে বন্ধ থাকে বন্দরের যে চার্জেস আসবে তার দায়ভার ব্যবসার ওপর আসবে। ব্যবসার ওপর আসলেও ব্যবসায়ী তো আর দেবেন না, আলটিমেটলি কনজিউমারের ওপর যাবে। সে জন্যই আমরা উদ্বিগ্ন, সে জন্যই আমরা বসেছিলাম।তিনি বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন মাত্র বাকি। তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি সরকারকে অনুরোধ করা। এনসিটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়ে তারা কনসার্ন। আলোচনা ছাড়া কোনো সমাধান হবে না। যদি এনসিটি নিয়ে বৃহৎ আকারে আলোচনা হয় তারা কর্মসূচি বন্ধ রেখে কাজে যোগ দেবেন। সরকারের ওপরের লেভেলের সবাইকে অনুরোধ করছি, বন্দর ব্যবহারকারীরা এখন যে কষ্টে আছেন- দেশবাসী কষ্টে কিন্তু কাল থেকে পড়বে। মাত্র ১৫ দিন পরে ছোলা, খেজুর, কিশমিশ, ডালসহ রমজানের সব ভোগ্যপণ্য লাগবেই। সাপ্লাই চেন অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। অ্যাট দ্য সেম টাইম ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর ও রপ্তানি অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আলোচনা শুরু হলে, তাদের যদি কথা দেওয়া হয়, বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাহলে অনতিবিলম্বে কাজে ফেরত যাবেন।এদিকে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা এবং মঙ্গলবার থেকে টানা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির প্রভাবে কার্যত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জেটি, টার্মিনাল, শেড, ইয়ার্ডে টানা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ও শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকার যতক্ষণ ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে না আসবে ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতিতে সাড়া দিয়েছেন।জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে নতুন জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। এমনকি বহির্নোঙরে যাওয়ার জন্য তৈরি জাহাজগুলোও বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। আন্দোলনকারীরা বন্দরের প্রতিটি প্রবেশপথে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি।ফলে জেটি থেকে ইয়ার্ড—সর্বত্রই ছিল জনমানবহীন। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে রপ্তানি ও আমদানি পণ্যবাহী লরি ও ট্রেইলারের দীর্ঘ সারি থাকে। গতকাল গেটের দুই পাশ ছিল তালাবদ্ধ। মাঝে মধ্যে দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি যাতায়াতের জন্য ছোট দরজা খোলা হলেও পণ্যবাহী কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি। গতকাল পর্যন্ত জেটি ও বহির্নোঙরে ১৪২টি জাহাজ আটকা পড়েছিল। এর মধ্যে উল্লেযোগ্যসংখ্যক জাহাজে রয়েছে চিনি, ভোজ্যতেল ও ডালের মতো পণ্য।এদিকে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে শাস্তিমূলক বদলি করলেও তারা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি।এবি
এবার পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা
পে-স্কেলের দাবি বাস্তবায়নের জন্য টানা তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে সময় লাগলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।বর্তমান সরকারের অবস্থান ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরবর্তী সরকারের জন্য একটা স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অর্থনীতি দেড় বছরে ঠিক হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণভোটের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নয়। গণভোটের কারণে এবার নির্বাচনে অন্যবারের চেয়ে বরাদ্দ বেশি লাগছে।তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হবে কিছুটা।এফএস
৫ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ১০ হাজার ৯০৬ টাকা
মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিন দফা সোনার দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হম ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা।একদিনে তিন দফা কমানোর পর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এ দাম বাড়ানোর পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৮ হাজার ৯২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। আজ বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এ দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৬৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এই দাম কমানোর ২৪ ঘণ্টা পর একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা। এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে।স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
রোজার আগেই বাড়ল মুরগি-খেজুর-লেবুর দাম
পব্ত্রি রমজানের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। এর মধ্যেই ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ লেবু ও খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মুরগি ও কাঁচা মরিচের দামও। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলছে সবজি ও পেঁয়াজের বাজারে।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। দেখা যায়, রমজানে বেশি চাহিদা থাকা লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। এরই সঙ্গে বেড়েছে খেজুরের দাম।খুচরা বিক্রেতারা বলেন, শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরই রোজার আগে লেবুর চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বেড়ে যায়। কারওয়ান বাজারের এক লেবু বিক্রেতা বলেন, এ সময় চাহিদা বেশি থাকে, সরবরাহও কমে যায়। তাই দাম একটু বাড়তি।এদিকে, তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে সবজির বাজারে। প্রতিকেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।পেঁয়াজের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বাজার করতে আসা ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের দাম এখন মোটামুটি ঠিক আছে। যদি এমন থাকে, তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি।গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, শবেবরাত উপলক্ষে মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে গরুর মাংস ও মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও যেখানে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে তা বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে।সোনালি মুরগির দাম বেড়ে বিভিন্ন জাতভেদে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে উঠেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১৮০ টাকা হয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম এখনো স্বস্তি দিচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।তবে মুরগির বাজারে বাড়তি চাপ দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি।বিক্রেতারা বলছেন, বিয়ে-শাদি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে। এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, এ সময় অনুষ্ঠান বেশি থাকে, চাহিদা বেড়ে যায়। তাই দাম একটু বেশি।বর্তমানে বাজারে কম দামে বিক্রি হয় জাহিদী খেজুর কেজি ২৮০ টাকা। এই খেজুরের দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২৫০ টাকার আশপাশে। অন্যান্য ধরনের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০-৭০০ টাকা; সুক্কারি ৭০০-৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এমআর-২
রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ১৯.৬৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৯ কোটি ৬৫ লাখ (১৯৬.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ক্রয় করা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগে, গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ (১৭১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।এসব ডলার কেনার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬ মিলিয়ন বা ৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৪৫১৯.৫০ মিলিয়ন (৪৫১ কোটি ৯৫ লাখ) মার্কিন ডলার।এর আগ একই দরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার আগে গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৯৬.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছি। ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয়ের পরিমাণ ৪,৫১৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।এফএস
ফেব্রুয়ারির ৪ দিনে দেশে এলো ৫০ কোটি ডলার
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে দেশে প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ছয় হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে প্রবাস আয় এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাস আয় এসেছে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাস আয় এসেছিল ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।এবি
অনুরোধেও মন গলেনি শ্রমিক নেতাদের, সরকারকে আলোচনার আহ্বান ব্যবসায়ীদের
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলের লবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ উদ্বেগের কথা জানান তারা। এসময় তারা এনসিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।এর আগে এদিন দুপুর আড়াইটায় আগ্রাবাদ হোটেলের কর্ণফুলী হলে আন্দোলনকারী শ্রমিকদল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। এসময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জাতীয় নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে সংকটকালীন আন্দোলন পরিহার করার জন্য শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ জানালেও তারা তাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকেন। শ্রমিক নেতারা বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার ও এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে আলোচনার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীদের।সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেপজিয়া), সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সভা শেষে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ নেতা এবং এশিয়ান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ সালাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বন্দরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে শুধু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, তারাও (শ্রমিক) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ অনেক শ্রমিক দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন, তারাও মার খাচ্ছেন। এ অবস্থায় এখন ব্যবসায়ীরা চোখে অন্ধকার দেখছেন।এম এ সালাম বলেন, বন্দর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো- বাংলাদেশের লাইফ লাইন, ৯০ শতাংশ আমদানি রপ্তানি যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয় তা চারদিন বন্ধ থাকতে পারে না। একটা বিষয় সবাই খেয়াল করবেন, আগেও একদিন, দুদিন বন্দর বন্ধ ছিল- কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি। এবার প্রথম জাহাজ চলাচল বন্ধ। ইন্টারন্যাশনালি সবাই এটার দিকে তাকিয়ে আছে।এটা সুনাম বয়ে আনছে না, বরং দুর্নাম বয়ে আনছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারকে অনুরোধ করবো শিগগির আলোচনা করার জন্য। খুব একটা বড় সমস্যা নয়। আমরা যা আলোচনা করেছি, এটাতে কী উপকার হবে, কী অপকার হবে তা যদি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, নেগোসিয়েশনের কোনো বিকল্প নেই। সরকার গত চারদিন (আলোচনা) করেনি। এখন দ্রুত আলোচনা শুরু করলে, সেটি রাত হোক, দিন হোক কোনো ব্যাপার নয়, তারা কথা দিয়েছেন কাজে অংশগ্রহণ করবেন।এদিকে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ এ নেতা আরও বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসেছিলাম অনুরোধ করতে তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য। বিশদ আলোচনা হয়েছে, প্রায় চার ঘণ্টা। সামনে নির্বাচন, তিনদিনের ছুটি। এর সাত-আটদিন পর রমজান। রমজানের পণ্যগুলো কীভাবে ডেলিভারি করবে সেগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। গার্মেন্টস সেক্টর বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে কাজ করবে মাত্র ১৮ দিন, মার্চে কাজ করবে মাত্র ১৬-১৭ দিন। তিনি আরও বলেন, এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য যদি বন্দর বন্ধ থাকে উৎপাদন করা পণ্য যাবে না, আবার ভবিষ্যৎ কাঁচামাল আসবে না। এর ওপর আবার ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ থেকে চীনে ছুটি ১৬ দিনের জন্য। আমরা অসম্ভব ক্ষতির মুখে আছি, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং রমজানের বিষয়ে পুরো দেশবাসী। বন্দর যদি এভাবে বন্ধ থাকে বন্দরের যে চার্জেস আসবে তার দায়ভার ব্যবসার ওপর আসবে। ব্যবসার ওপর আসলেও ব্যবসায়ী তো আর দেবেন না, আলটিমেটলি কনজিউমারের ওপর যাবে। সে জন্যই আমরা উদ্বিগ্ন, সে জন্যই আমরা বসেছিলাম।তিনি বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন মাত্র বাকি। তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি সরকারকে অনুরোধ করা। এনসিটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়ে তারা কনসার্ন। আলোচনা ছাড়া কোনো সমাধান হবে না। যদি এনসিটি নিয়ে বৃহৎ আকারে আলোচনা হয় তারা কর্মসূচি বন্ধ রেখে কাজে যোগ দেবেন। সরকারের ওপরের লেভেলের সবাইকে অনুরোধ করছি, বন্দর ব্যবহারকারীরা এখন যে কষ্টে আছেন- দেশবাসী কষ্টে কিন্তু কাল থেকে পড়বে। মাত্র ১৫ দিন পরে ছোলা, খেজুর, কিশমিশ, ডালসহ রমজানের সব ভোগ্যপণ্য লাগবেই। সাপ্লাই চেন অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। অ্যাট দ্য সেম টাইম ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর ও রপ্তানি অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আলোচনা শুরু হলে, তাদের যদি কথা দেওয়া হয়, বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাহলে অনতিবিলম্বে কাজে ফেরত যাবেন।এদিকে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা এবং মঙ্গলবার থেকে টানা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির প্রভাবে কার্যত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জেটি, টার্মিনাল, শেড, ইয়ার্ডে টানা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ও শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকার যতক্ষণ ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে না আসবে ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতিতে সাড়া দিয়েছেন।জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে নতুন জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। এমনকি বহির্নোঙরে যাওয়ার জন্য তৈরি জাহাজগুলোও বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। আন্দোলনকারীরা বন্দরের প্রতিটি প্রবেশপথে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি।ফলে জেটি থেকে ইয়ার্ড—সর্বত্রই ছিল জনমানবহীন। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে রপ্তানি ও আমদানি পণ্যবাহী লরি ও ট্রেইলারের দীর্ঘ সারি থাকে। গতকাল গেটের দুই পাশ ছিল তালাবদ্ধ। মাঝে মধ্যে দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি যাতায়াতের জন্য ছোট দরজা খোলা হলেও পণ্যবাহী কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি। গতকাল পর্যন্ত জেটি ও বহির্নোঙরে ১৪২টি জাহাজ আটকা পড়েছিল। এর মধ্যে উল্লেযোগ্যসংখ্যক জাহাজে রয়েছে চিনি, ভোজ্যতেল ও ডালের মতো পণ্য।এদিকে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে শাস্তিমূলক বদলি করলেও তারা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি।এবি
এবার পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা
পে-স্কেলের দাবি বাস্তবায়নের জন্য টানা তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে সময় লাগলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।বর্তমান সরকারের অবস্থান ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরবর্তী সরকারের জন্য একটা স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অর্থনীতি দেড় বছরে ঠিক হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণভোটের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নয়। গণভোটের কারণে এবার নির্বাচনে অন্যবারের চেয়ে বরাদ্দ বেশি লাগছে।তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হবে কিছুটা।এফএস
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ দিনের টানা ছুটি
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলতি ফেব্রুয়ারিতেই আসছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই একের পর এক ছুটি মিলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারও বন্ধ থাকবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম।আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ছুটি, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার।এরই ঠিক পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের প্রথম বড় ছুটি এটি। আর তালিকায় থাকা পঞ্চম ছুটি এটি।এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।আর ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে বলে সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়।এফএস
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ
রাজধানীতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নেতৃত্ববৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে রায়সাহেব বাজার প্রদক্ষিণ করে বিশ্বজিৎ চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হাদি হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘জাস্টিস জাস্টিস’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।সমাবেশে জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমাদের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া সরকার আমাদের ওপর গুলি করেছে। এ সরকার আমাদের নয়। পুলিশ সংস্কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। আবার যদি কোনো শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে আহত হয়, আমরা এর জবাব দেব।”জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “এক জুম্মাবারে আমার ভাই হাদিকে হত্যার পর আরেক জুম্মায় আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা আর মার খেতে চাই না। আমরা পুলিশের সংস্কার চাই।”জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বহিষ্কার করে নতুন করে নিয়োগের দাবি জানিয়েছিলাম। পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ন্যায্য দাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায়। আমরা পুলিশের সংস্কার চাই।”ইখা
‘যারা মুচলেকা দিয়ে পালিয়েছেন তাদের বিশ্বাস করবো না’
আমরা দেখেছি অনেক নেতা জুলাই আন্দোলনের দেড় বছর পর দেশে এসেছেন। তারা আজকে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া কথাবার্তা বলছেন। তাদের এ ভুয়া কথাবার্তা আপনারা বিশ্বাস করবেন না। আমরা কাজের কথা বিশ্বাস করবো। যারা ইতোমধ্যে তাদের কাজের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রমাণ করেছেন। যারা দেশ থেকে মুচলেকা দিয়ে পালিয়েছেন তাদের বিশ্বাস করবো না বলে জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বাউফল পাবলিক স্কুল মাঠে জামায়াতের বাউফল উপজেলার নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপির সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে। আমরা দেখতে পাই বাংলাদেশের পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এ পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের চার কোটি তরুণ রয়েছেন। তারা ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ডাকসু থেকে শুরু হয়েছে, সর্বশেষ জকসু গিয়ে শেষ হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হয়ে আসার পর বলেছিলাম শিক্ষার্থীদের নেতা হবো না, আমরা তাদের প্রতিনিধি হবো। আমরা তাদের সেবক হবো। আমরা আমাদের ছোট ভাইদের একজন অভিভাবক হবো।’সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, আগামীর যে বাংলাদেশ হবে সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ডা. শফিকুর রহমান। তারা সবসময় আপনাদের কাছে জবাবদিহি করবে। আপনাদের তাদের কাছে যেতে হবে না। আপনার এমপি, আপনার মন্ত্রী আপনার কাছে যাবে। আপনার অধিকার নিশ্চিত করবে।’এ সময় জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান, পটুয়াখালী-২ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জেলার চারটি আসনের মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।এমআর-২
নির্বাচনের আগে সুসংবাদ পেলেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) শিক্ষক ও কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক ব্যাংকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অর্থ শাখা থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক আজ অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।এতে করে শিক্ষক-কর্মচারীরা পরবর্তী কার্যদিবসে নিজ নিজ ব্যাংক থেকে জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন।এফএস
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন মামলার মুখে পড়েছে বিশ্বের ৩ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্ম ফেসবুক, গুগল ও টিকটক। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরি এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। এএফপির প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে আদালত এই মামলার জুরি নির্বাচন শুরু করবে। এই মামলাকে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসের একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।এই মামলার রায় ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে গেলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের আরও হাজারো মামলার ঢেউ উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতে মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। কম বয়সি শিশু, তরুণ ও তরুণীরা ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সেবা ও পণ্য ব্যবহার করে অবসাদ, খাবারে অনাসক্তি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি, আত্মহত্যাও করেছেন—এমন দাবি করেছেন বাদী পক্ষের হাজারো মানুষ। বাদী-পক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে তামাক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা আইনি কৌশল বেছে নিচ্ছেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিশ্বখ্যাত সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ পণ্য বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক নিয়োগের পর আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিচারপতি ক্যারোলিন কুল-এর আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সি এক মার্কিন নারী। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে শুধু নামের আদ্যাক্ষর ‘কে জি এম’ ব্যবহার করে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে তিনি ‘মানসিক ক্ষতির’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলা ও আদালতের অভিযোগ গ্রহণের নজির নেই। সোশাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বার্গম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবারই প্রথম কোনো সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের ক্ষতি করার অভিযোগে বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’ বার্গম্যানের আইনজীবীরা এ ধরনের প্রায় এক হাজার মামলার দায়িত্বে আছেন। আইনজীবীদের এই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে তরুণ-তরুণীদের ক্ষতি করার জন্য সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে। বার্গম্যান বলেন, ‘কে জি এম ও তার পরিবার যে একটি আদালতকক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ক্ষমতাবান ও বিত্তবান প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে পেরেছেন, এটাই একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এ ধরনের মামলাগুলো জেতা অনেক কঠিন এবং আগের, একই ধরনের ঘটনার নজির ও তথ্য-প্রমাণ টেনে বিজয়ী হওয়ার দায়ভার আমাদের ওপর বর্তেছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা কেজিএম-এর (মানসিক) ক্ষতি নিশ্চিত করে। এই দায়িত্ব আমরা খুশি মনেই কাঁধে নিয়েছি।’ এই বিচারের রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের সব মামলার রায়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে মত দেন বার্গম্যান। গত সপ্তাহে অপর সমাজমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট আদালতের বাইরে চুক্তি করে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর দাবি, মার্কিন যোগাযোগ নৈতিকতা আইনের ২৩০ ধারা তাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছেন, তা নিয়ে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেহাই দেয় এই ধারা। তবে মামলায় বিবাদীদের যুক্তি—সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে। পাশাপাশি সেখানে এমন সব কনটেন্টের প্রচারণা করা হয়, যা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। বার্গম্যান আরও বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকারক কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে না পারার জন্য মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছি না।’ তার ভাষায়, ‘তাদের দোষ, তারা এমনভাবে প্ল্যাটফর্মগুলো বানিয়েছে যা শিশুদের আসক্ত করে তোলে। তাদের এলগরিদম এমন যে শিশুরা কনটেন্ট থেকে চোখ সরাতে পারে না।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতেও একই ধরনের অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে উল্লেখিত তিন প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো : সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৭ জনের যাবজ্জীবন, দুইজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড ও রাজসাক্ষী আফজালকে খালাস দিয়েছেন আদালাত। একইসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর ২ সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহা ও যুবলীগ নেতা রনি ভূইয়া। মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।পলাতক ৮ আসামি হলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউসনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহমেদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অপর প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে ৪ আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।গত ২০ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল।এ মামলায় প্রাথমিকভাবে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় ১১ আসামির নাম উল্লেখ করে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে আটজন প্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। পেট্রল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ছাড়া এর আগের দিন একজন শহীদ হয়েছিলেন।এ ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন তিনি।এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া সাক্ষী করা হয়েছে ৬২ জনকে। এর মধ্যে ২৬ জন সাক্ষী দেওয়ার পর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। গত ২ জুলাই জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ ছাড়া গ্রেপ্তার ৮ আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
মালয়েশিয়ায় ক্রেনচাপায় বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান পেরাক এলাকায় কাজ করার সময় একটি ‘স্পাইডার লিফট’ (এক ধরনের ছোট ক্রেন) উল্টে চাপা পড়ে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে সাইন বোর্ড মেরামতের কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহত বাংলাদেশি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে স্পাইডার লিফটটি পরিচালনা করছিলেন। ফুটপাতের ধারে ধাক্কা লেগে ক্রেনটি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং তৎক্ষণাৎ ওই বাংলাদেশি কর্মীর ওপর উল্টে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ক্রেনটি উল্টে যাওয়ার সময় পাশে থাকা একটি প্রোটন পারসোনা এবং একটি বিএমডব্লিউ ৫২৩আই গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত গাড়ি দুটির ভেতরে থাকা কেউ আহত হননি। কুয়ালালামপুর ট্রাফিক তদন্ত ও প্রয়োগ বিভাগের প্রধান অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ঈসা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর ধারা ৪১(১) অনুযায়ী তদন্ত করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং ক্রেন মালিকের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। কুয়ালালামপুর সিটি হলের পক্ষ থেকে কাজের কোনো বৈধ পারমিট ছিল কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে, পুলিশ এই ঘটনা সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানায় বা ট্রাফিক পুলিশের ০৩-২০৭১ ৯৯৯৯ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে।ইখা
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে। এইচএ
