আর কাউকে লুটপাট করতে দেবো না: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র এবং মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।’ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় পিরোজপুর শহরের জেলা স্কুল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, যারা জনগণের সরকার চায় না, দেশকে গোলাম বানিয়ে রাখতে চায় তারা এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের পর মিথ্যাচার করছে। তিনি আরো বলেন, ‘অতীতে অনেক ম্যাগা প্রকল্পের নামে ম্যাগা দুর্নীতি হয়েছে। আমার দেশের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা চুরি করে পাচার করেছে স্বৈরাচার সরকার। এই টাকার মালিক জনগণ। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আর কাউকে লুটপাট করতে দেবো না। মুখে হাত ভরে দিয়ে সব বের করে নিয়ে আসবো।’এ সময় যারা জনগণের টাকা চুরি ও ডাকাতি করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান।তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা কাজের অধিকার চেয়েছিল । যুবসমাজকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা যুবমাজকে কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তাদের সঠিক শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগত দক্ষ করে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে যোগ্য সম্মানজনক কাজ তুলে দেওয়া হবে।’ নারীদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মায়েদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। মায়ের অপমান এ জাতি সহ্য করবে না। ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল-সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা উপজাতি বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আপনাদের প্রিয় নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী সহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিচার করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিবেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ নির্মানের নির্বাচন। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ মানে আজাদি’, ‘না মানে গোলামী’এই কথা মাথায় রেখে দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান। পিরোজপুর ১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর ২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী ও পিরোজপুর ৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদী সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।পরে পিরোজপুর-১ ও ২ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদীর হাতে দলীয় প্রতিক দাড়িপাল্লা, পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপির শামীম হামিদীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা শুরু
অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বৈঠক শুরু হয়। এতে ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ। এছাড়া ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনারও ওমানে এসেছেন।বৈঠক শুরুর আগে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্বাভাবিক দাবিদাওয়া ও রাজনৈতিক হঠকারিতার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষার জন্য প্রস্তুত আছেন।স্টিভ উইটকোফের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন আরাগচি। তিনি সেখানে জানান, ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা কূটনীতির পথকে বেঁছে নেবেন।এদিকে গত বছরের জুনেও আলোচনায় বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ইরান। কিন্তু ওই আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়ে বসে দখলদার ইসরায়েল। এরপর শুরু হয় যুদ্ধ। যা ১২দিন স্থায়ী হয়। সে যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিনিরা মূলত ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।আলোচনার মধ্যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে হামলা চালানোয় মার্কিনিদের বিশ্বাস করা বন্ধ করে দেয় ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ফের সেই বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে।জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশপাশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও প্রক্সি বাহিনীকে সহায়তা নিয়েও আলোচনা করতে চায়। তবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে তারা তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।এমআর-২
জাতীয়
সব দেখুন
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ, সরকারের বিবৃতি
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (lethal weapon) ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।সরকার দেশের সব নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে।আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।এনআই
হাদি হত্যার বিচার: জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার
শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছোড়া হয়নি।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে শহিদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগে থেকেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথম দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগ করেনি।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের গাড়ির ওপর উঠে পড়লে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কোনও আগ্নেয়াস্ত্র বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনও ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনি সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনও ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়।এনআই
ইনকিলাব মঞ্চের জাবের গুলিবিদ্ধ
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রার সময় এ ঘটনা ঘটে। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে নেতাকর্মীরা ইনকিলাব মঞ্চের যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন।আন্দোলনকারীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।এর আগে, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কয়েক দফা আলটিমেটাম দিয়ে জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। পরে শুক্রবার বেলা ৩টার সময় এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও আন্দোলনকারীদের আন্দোলন চলমান রাখতে দেখা গেছে।এমআর-২
যমুনার সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে যমুনার সামনে থেকে সরে গেছেন আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার পর আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটকও করা হয়।এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হন আন্দোলনরতরা। বেলা ১১টার দিকে তারা ঘোষণা দিয়ে যমুনার অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা হন। শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে সেখানে প্রথম পুলিশি বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও সেখানে লাঠিচার্জ করা হয়নি। তবে জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়।এরপর পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে যমুনার সামনে পৌঁছান। সেখানে তারা সড়কে বসে পড়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর সেখানে আরও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে বিজিবি সদস্যরাও ঘটনাস্থলে আসেন।প্রথমে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায় পুলিশ। তবে তারা সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বারবার জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।পুলিশি অভিযানের মুখে আন্দোলনকারীরা রমনা পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানেও পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপকভাবে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন বলে জানা গেছে।দুপুর ১টার পর আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা পুরোপুরি ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৪ থেকে ৫ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর থেকে আসা আন্দোলনকারীরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।এমআর-২
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি
নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ তথ্য জানান।এদিকে যমুনার নিরাপত্তায় রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি মোতায়েনের পর ডিএমপির পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।অন্যদিকে শহীদ শরীফ ওসনান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে যমুনার সামনে অবস্থান করছে ইনকিলাব মঞ্চ। আজ জুমার পর ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সবাইকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এর সামনে অবস্থান গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।এমআর-২
রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন
রাজধানীতে ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।বিজিবি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনার নিরাপত্তায় কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।এদিকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। বেলা সোয়া ১১টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রবেশ মুখে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন সরকারি চাকরিজীবীরা। কিছুক্ষণ পর আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করতে দেখা যায় পুলিশকে।আন্দোলনকারীরা বলেন, আজকের মধ্যেই ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে আন্দোলন থেকে একচুলও সরবেন না তারা।এমআর-২
ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা ঘেরাও সরকারি কর্মচারীদের, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ
৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের দেয়া ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রবেশ মুখে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগন দেন সরকারি চাকরিজীবীরা। কিছুক্ষণ পর আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করতে দেখা যায় পুলিশকে। এর আগে সকালে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরপর সেখান থেকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন তারা।আন্দোলনকারীরা বলেন, আজকের মধ্যেই ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে, অন্যথায় তারা বাড়ি ফিরবেন না। বিগত দিনে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও গেজেট প্রকাশ না করায় ক্ষোভ জানান তারা। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পে কমিশন গঠন হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় অবিচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।এর আগে সকালে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরপর সেখান থেকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন তারা।অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানান, পে কমিশনের প্রতিবেদন শুধু গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবে। গত ২৭ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। এমআর-২
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্রিটিশদের বাংলাদেশ ভ্রমণ না করার পরামর্শ
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতা ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হামলার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সমাবেশ এবং ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা হতে পারে বলে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে।বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো আগাম পূর্বাভাস ছাড়াই বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের ক্ষেত্রে আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিসহ বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ ও জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।একইসঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ, সাবধানে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে বলা হয়েছে।এর আগে ২২ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে দেশটির সরকার।পিএম
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ ছাড়েন তারা।এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনটির এক নেতা। তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এসময় ডাকসুর দুই নেতা এবি জুবাইর ও মুসাদ্দেক আলী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানাল ইনকিলাব মঞ্চ শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এনআই
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ ছাড়েন তারা।এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনটির এক নেতা। তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এসময় ডাকসুর দুই নেতা এবি জুবাইর ও মুসাদ্দেক আলী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানাল ইনকিলাব মঞ্চ শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এনআই
‘লীগ এক্টিভ হয়েছে, সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যান’
চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৩ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দেওয়া হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে।শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এসময় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা।এ সময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’; ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’; ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’; ‘তুমি কে আমি কে, জাবির জাবির’; ‘বাংলাদেশের জনগণ, নেমে আসুন, নেমে পড়ুন’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। মিছিলটি শাহবাগে পৌঁছানোর পর তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।এনআই
ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা তারেক রহমানের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে দলটি।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ‘জুলাই সনদ’ অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশ পরিচালনা করেছেন।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজ একটি নতুন ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটেছে। জাতি আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তার নেতৃত্বে দেশ একটি নতুন বার্তা পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণসহ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়।এমআর-২
৫১ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বিএনপির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কী কী করবে, সেই ফর্দ জাতির সামনে তুলে ধরছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।‘কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫১ দফার এ নির্বাচনি ইশতেহার সাজানো হয়েছে।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়।দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সেই হিসেবে এটিই তার প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা।পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনিই প্রতিটি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি ছিলেন। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।এমআর-২
৮ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ বাতিল করল বিএনপি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।রিজভী জানান, ‘গতকাল আমরা একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। পরবর্তী সময় নেতাদের সভায় আলাপ-আলোচনা করে ৮ তারিখের সমাবেশ বাতিল করেছি। এ সময় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় জনসভা করবেন। ঢাকা মহানগরীতে কেন্দ্রীয় যে জনসভা করার কথা ছিল, আপাতত তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন প্রান্তে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী বক্তব্য দিতে পারেন।’এর আগে গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেছিলেন, আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের আগে বিএনপির শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।এমআর-২
‘আমরা দুর্নীতির পাতা বা ডাল নয়, ঘাড় ধরে টান দেব’
আগামীতে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতির জড় আমরা কেটে দিতে চাই। আমরা দুর্নীতির পাতা আর ডাল ধরে টান দেব না, আমরা দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেব ইনশাআল্লাহ।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াত আমির বলেন, ‘রাঘব বোয়াল, গডফাদার, মাফিয়া এরা থাকবে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর ওই যারা ছিঁচকে চোর তাদেরকে আনবেন আপনি আইনের আওতায় শাস্তি দেবেন; এটা চরম অন্যায়। জড়ে-মূলে হাত দিতে হবে ইনশাআল্লাহ। তাই আমরা অঙ্গীকার করেছি, আল্লাহ যদি আমাদেরকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, আমরা নিজেরা চাঁদাবাজি করব না, করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না।’ জনসভায় তিনি বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক, বিমা ও মেগা প্রজেক্টের নামে জনগণের টাকা লুট করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতেই বিদেশে পাচার হয়েছে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা, যা দেশের চারটি বাজেটের সমান। তিনি বলেন, ‘লুণ্ঠন ও পাচারের সাথে যারা জড়িত, তারা জীবনেও এই টাকা ফেরত আনতে চাইবে না। আমরা কথা দিচ্ছি, এই টাকা ১৮ কোটি মানুষের টাকা। আমরা চূড়ান্ত লড়াই করব এই টাকা ফেরত আনার জন্য।’ শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে বড় মজলুম দল। জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে দলের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মতো বিশ্ববিখ্যাত মুফাসসিরে কুরআনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার কর্মীকে হত্যা ও ৫ হাজার সহকর্মীকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। সাড়ে ১৩ বছর আমাদের অফিসগুলো বন্ধ ছিল এবং শেষমেশ দল ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার বিদায়ের পর আমরা ঘোষণা করেছি, দলের পক্ষ থেকে আমরা কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেব না। তবে শহীদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। আমরা তাদের আইনি সহায়তা দেব।’ এসময় তিনি মিথ্যা মামলা ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধেও কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। নারীর মর্যাদা ও যুবকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা দিয়ে কাউকে বেইজ্জত করতে চাই না। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। আর নারী জাতি আমাদের মা। তাদের ইজ্জতের শতভাগ গ্যারান্টি, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না।’ বরিশাল অঞ্চলের নদী ভাঙন সমস্যা নিয়ে তিনি আরও বলেন, নদী শাসন নয়, নদী সংস্কার প্রয়োজন। নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বাজেট লুটপাট না করে সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদী সংস্কার করলে ১০ বছরে এই অঞ্চলের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। এমআর-২
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা আজ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে আজ বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সে হিসাবে এটিই তার প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা। পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া। সেই সময়ে তিনিই প্রতিটি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি ছিলেন। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি।নির্বাচনি ইশতেহার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনপি গণমানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়েছি। সেই জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ওপর ভিত্তি করে যুগের চাহিদা মিলিয়ে জনমানুষের সমস্যার সমাধানের জন্য, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার হবে।’ তিনি আরও জানান, ‘ইশতেহারে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে উনাদের যে ভিশন রয়েছে তা যেমন প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে একদম সাধারণ মানুষের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তারা কী চাচ্ছেন তাও। আমাদের মূল লক্ষ্য এমনভাবে পরিকল্পনাগুলো সাজানো যেটি বাস্তবভিত্তিক হয়, যেটা টেকসই হয়।’এমআর-২
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
‘লীগ এক্টিভ হয়েছে, সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যান’
চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৩ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দেওয়া হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে।শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এসময় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা।এ সময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’; ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’; ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’; ‘তুমি কে আমি কে, জাবির জাবির’; ‘বাংলাদেশের জনগণ, নেমে আসুন, নেমে পড়ুন’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। মিছিলটি শাহবাগে পৌঁছানোর পর তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।এনআই
রাজধানীতে একই বাসা থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্প থেকে ২ শিশু সন্তান ও তাদের বাবা-মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, শিশু সন্তানদের হত্যার পর বাবা-মা আত্মহত্যা করেছেন।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্পের বি-ব্লক থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ মাসুম (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০), তাদের ৪ বছর বয়সী ছেলে মিনহাজ ও ২ বছর বয়সী ছেলে আসাদ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় তাদের মৃত্যু হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, নিহত দম্পতি বিহারি ক্যাম্পের একটি টিনশেড বাসায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী রিকশা চালাতেন এবং স্ত্রী বাসা-বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ পরিবার বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিল। প্রতিদিন কেউ না কেউ ঋণের কিস্তির জন্য বাসায় আসতো। হয়তো কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের শিশুদের নিয়ে স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ম্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।এমআর-২
শাহজালাল বিমানবন্দর: সক্ষমতার দ্বিগুণ চাপে স্থবির যাত্রী সেবা
আকাশ পথে দেশের প্রধান বহির্গমন পথ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যায় রেকর্ড গড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তি। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অনিশ্চয়তা এবং আকাশচুম্বী বিমানভাড়ার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীরা। বার্ষিক ৮০ লাখ যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে এই বন্দর এখন প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ যাত্রীর চাপ সামলাচ্ছে!বিমানবন্দর সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন অন্তত ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ এবং ২০২৩ সালে ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ১.৮ শতাংশ। মোট যাত্রীর বড় অংশই (১ কোটি ৩১ হাজার ২০০ জন) আন্তর্জাতিক রুটের, যা মূলত প্রবাসীদের ওপর বিমানবন্দরের নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করে। বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী সেবা দিচ্ছে বিমানবন্দরটি! যাত্রী বাড়লেও বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল এখনো চালু না হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। অপারেটর নিয়োগ নিয়ে জটিলতা থাকায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এর সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ফলে আধুনিক সেবার সুফল পেতে আরও দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।অন্যদিকে সরকারের নানা নির্দেশনার পরও টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। ট্রাভেল এজেন্টরা জানিয়েছেন-মধ্যপ্রাচ্যের টিকিটের দাম ৩৫–৪০ হাজার থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭৫–৮০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক রুটের ৬৬ শতাংশ বাজার বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে থাকায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়িয়ে আসন সংকট দূর না করলে ভাড়া কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে শীতকালীন ঘন কুয়াশার সাথে যোগ হয়েছে কারিগরি ত্রুটি। গত ২৯ অক্টোবর রানওয়ের লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আইএলএস (ILS) ক্যাটাগরি-২ থেকে ১-এ নেমে এসেছে। এতে ৫০০ মিটারের পরিবর্তে ১,২০০ মিটার দৃশ্যমানতা ছাড়া ফ্লাইট নামতে পারছে না। ফলে প্রায়ই ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হচ্ছে, যা পরবর্তীতে টার্মিনালে অতিরিক্ত ভিড় ও ট্রলি সংকটের সৃষ্টি করছে।কাতার প্রবাসী এক যাত্রী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমাদের বিমান বন্দরে যত বিমান উঠানামা করে তার কয়েকগুন আন্তর্জাতিক বিমান কাতারের বিমান বন্দরে উঠানামা করে। তারপরও সেখানে কোন ভোগান্তির শিকার হতে হয়না । এর প্রধানতম কারণ সেখানে সব কিছু নিয়মের মধ্যে হয় এবং যারা দায়িত্বশীল আছেন তারা তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করেন। আর আমাদের দেশে আসলে এটা বিমান বন্দর না কোন হাটবাজারের দৃশ্য দেখে বুঝার উপায় নেই। ডিজিটাল প্রযুক্তি বসানো হলেও সেগুলোর ব্যবহার কার্যত না হওয়ায় সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হচ্ছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ই-গেটে পাসপোর্ট স্ক্যান করার সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে যায়। এরপর যাত্রী ই-গেটের মনিটরে তাকালে পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাই হয়। এ প্রক্রিয়া শেষে যাত্রীকে যেতে হয় ইমিগ্রেশন পুলিশের ডেস্কে। সেখানে আবার তাঁর তথ্য যাচাই করা হয়। ছবি তোলা ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখার পর পাসপোর্টে বহির্গমন সিল দেওয়া হয়।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ই-গেট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা নেই। এ জন্য ই-গেট পার হয়েও যাত্রীকে আবার ইমিগ্রেশন ডেস্কে যেতে হচ্ছে।জানা যায়, সাধারণত বিদেশগামী যাত্রীর নাম-পরিচয়, পাসপোর্ট, ভিসা নম্বরসহ ২১ ধরনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিললে তিনি ই-গেটের চার ধাপ পেরোতে পারবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অন্য কোনো কর্মকর্তার সহযোগিতা তাঁর লাগার কথা নয়। ই-গেটই বলে দেবে যাত্রীর সব তথ্য ঠিক আছে। অথচ সেখানে ম্যানুয়্যালি আবার কাজ করতে হচ্ছে ফলে বাড়তি যাত্রীদের সামলানোর ক্ষেত্রে ই-গেট যেভাবে ভুমিকা রাখতে পারতো সেভাবে পারছে না।এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের দ্রুত ও আধুনিক ইমিগ্রেশন সেবা দিতে ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট চালু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুটি স্থলবন্দরে মোট ৪৪টি ই-গেট স্থাপন করা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ২৬টি ই-গেট রয়েছে। কেন ই-গেটের সুফল যাত্রীরা পাচ্ছেন না– এমন প্রশ্নে ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ই-গেটে যাত্রীর বিদেশযাত্রার সরকারি আদেশ, শ্রম ভিসায় যাদের জনশক্তি, তাদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সনদ, গন্তব্যস্থলের ঠিকানা বা নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই যাত্রীদের ইমিগ্রেশনে এসবির ডেস্কে গিয়ে এসব তথ্য যাচাই করতে হয়। এ জন্য পুরোপুরি ই-গেটের মাধ্যমে যাত্রীর ইমিগ্রেশন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।এতসব সংকটের মধ্যেও কিছু আশার কথা শুনিয়েছেন আরএমএমআরইউ-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি জানান- সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ও হটলাইন চালুর ফলে হয়রানি কিছুটা কমেছে। লাগেজ হ্যান্ডলারদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য দুটি বিশেষ লাউঞ্জ ও ভর্তুকি মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ জানান, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ট্রলি সংকট ও যানজটকে তিনি সাময়িক বলে উল্লেখ করেন। নিরাপত্তা এবং যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।পিএম
বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করতে গিয়ে হাসিনা নিজেই অস্তিত্বহীন: এসএম জাহাঙ্গীর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, পলাতক হাসিনা বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আজ তিনি নিজেই অস্তিত্বহীন হয়ে গেছেন। জুলুম-নির্যাতনের ফল কখনোই ভালো হয় না, আর তার প্রমাণ তিনি নিজেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর দক্ষিণখান ৪৭নং ওয়ার্ডের ফায়দাবাদ চৌরাস্তা প্রাঙ্গণে নির্বাচনের ১৩তম দিনের প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরুর আগে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।বক্তব্যে এস এম জাহাঙ্গীর বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে। তিনি বলেন,"আমরা যখন ফ্যাসিস্ট সরকারের মিথ্যা মামলায় জেলে ছিলাম, তখন সেখানে আলেমদের সাথে আমাদের দেখা হতো। এই সরকারের জুলুমের কারণে বিএনপির বহু নেতাকর্মীর পরিবার আজ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। ভবিষ্যতে আর কোনো নেতাকর্মী যেন এমন অন্যায়ের শিকার না হয়, আমি সেই চেষ্টা করবো।বিগত নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পলাতক হাসিনার আমলে আপনারা আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবার সময় এসেছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবেন।দক্ষিণখান এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, এই এলাকাটি বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। আমি যদি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারি, তবে এই এলাকার প্রতিটি সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করার কাজ শুরু করবো।গণসংযোগ ও পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম.কফিল উদ্দিন। এছাড়া দক্ষিণখান ও উত্তরখান থানা এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পথসভা শেষে তিনি বিশাল এক মিছিল নিয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়কে গণসংযোগ করেন।পিএম
রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নের কারণ জানাল তিতাস
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থার উন্নতি কখন হবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর শনির আখড়া, রায়েরবাগ, হাবিব নগর এলাকায় উচ্চচাপ বিশিষ্ট গ্যাস পাইপলাইন থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ চলছে। এ অবস্থায় ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।গ্রাহকদের এ সমস্যার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। এমআর-২
যশোরে ৩০২ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসি ও পুলিশের বডি ক্যামেরা
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬ টি আসনে ৮২৪ টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০২ টি আসন ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ছাড়াও দায়িত্বরত পুলিশের বডি ক্যামেরা থাকবে। জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৮২৪ কেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯ কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন ৮২৪ প্রিজাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৬৭৯ সহপ্রিজাইডিং অফিসার, ৯ হাজার ৩৫৮ পোলিং অফিসার। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে ১৪ হাজার ৬২ পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনী ও এয়ারফোর্সের সদস্য। এর সাথে থাকবে র্যাবের পেট্রোল টিম, বিজিবির প্লাটন। এর মধ্যে যশোর-১ শার্শা আসনে ১০২ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১০২ প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৭৭ কক্ষে ৫৭৭ সহপ্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ১৫৪ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে ১৭৫ কেন্দ্রে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৭৫ প্রিজাইডিং অফিসার, ৯০৫ কক্ষে ৯০৫ সহপ্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৮১০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-৩ সদর আসনে ১৯০ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৯০ প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ১৮৩ কক্ষে ১ হাজার ১৮৩ সহপ্রিজাইডিং অফিসার ও ২ হাজার ৩৬৬ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে ১৪৮ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৪৮ প্রিজাইডিং অফিসার, ৮৬৯ কক্ষে ৮৬৯ সহপ্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৭৩৮ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে ১২৮ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১২৮ প্রিজাইডিং অফিসার, ৭২০ কক্ষে ৭২০ সহপ্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৪৪০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-৬ কেশবপুর আসনে ৮১ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ৮১ প্রিজাইডিং অফিসার, ৪২৫ কক্ষে ৪২৫ সহপ্রিজাইডিং অফিসার ও ৮৫০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।ভোটের দিন আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে ১৪ হাজার ৬২ পুলিশ, আনসার সেনাবাহিনী ও এয়ারফোর্সের সদস্য। এর সাথে থাকবে র্যাবের পেট্রোল টিম বিজিবির প্লাটন।র্যাবের মেজর ফজলে রাব্বি জানান, যশোরের ৬টি আসনে ২টি করে মোট ১২টি পেট্রোল টিমে ৯৬ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। বিজিবি থেকে জানানো হয়, বিজিবির ১৫ প্লাটুন নির্বাচনের আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবে।যশোর জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট সেফাউল হোসেন জানান, নির্বাচনের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ হাজার ৭১২ স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।সেনাবাহিনীর মেজর ইফতেখার জানান, শার্শা ও চৌগাছা-ঝিকরগাছায় নির্বাচনের কঠোরভাবে দায়িত্ব থাকবে বিজিবির। বাকি চারটি আসনে সাড়ে ৮শ’ সেনাবাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। সেই সাথে থাকবে এয়ারফোর্সের ৫০ সদস্য।যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস) আবুল বাশার জানান- যশোরের ৬টি আসনে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে ৩০২টি। কেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরার সাথে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে যশোর-১ শার্শা আসনে ১০২ কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৫১, যশোর-২ চৌগাছা ও ঝিকরগাছা আসনে ১৭৫ কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৪৫, যশোর-৩ সদর আসনে ১৯০ কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৫০, যশোর-৪ বাঘারপাড়া ও অভয়নগর আসনে ১৪৮ কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৪২, যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে ১২৮ কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৯৩, যশোর-৬ কেশবপুর আসনে ৮১ কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ২১টি।যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবে ২ হাজার ৫শ বেশি পুলিশ সদস্য। সেই সাথে থাকবে ১৮০ স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম। ভোটারদের সকল ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এসআর
মেহেরপুরে বেড়েই চলছে সর্বনাশা তামাক চাষ
মেহেরপুরের বাড়ছে সর্বনাশা তামাক চাষ। তামাক কোম্পানীর নানা প্রলোভনে পড়ে ধান গম ও সবজী চাষ কমিয়ে কোম্পানিগুলোর চমক প্রদায়ক লোভণীয় অফারের কারণে তামাক চাষের প্রতি অনুরাগী করে তুলছে চাষিদের। তামাক চাষের ফলে একদিকে জমির উর্ব্বরতা কমছে ঠিত তেমনি তামাকের ধোয়ায় শরীরের মারত্বক ক্ষতিও হচ্ছে। তামাক কোম্পানিগুলোর লোভনীয় অফারের কারনে জেলায় প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকায় সম্প্রসারণ হচ্ছে তামাক চাষ।তামাক চাষের ফলে একদিকে জমির উর্ব্বরতা কমছে ঠিক তেমনি তামাকের ধোয়ায় শরীরের মারত্বক ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি বিভাগের উদাসীনতা ও তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রলোভনে বাড়ছে সর্বনাশা তামাক চাষ। তামাক চাষীরা বলছেন বিভিন্ন কোম্পানীর সারবীজ সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে তাই তামাক চাষ করছি।তবে তামাক পোড়ানোর পর বিক্রি করতে গেলে তামাক কোম্পনীর প্রতিনিধির বিশেষ নজর না থাকলে মূল্যে কম দেয়া সহ অনেক সময় তামাক ফেরত পাঠানো হয়। তবে প্রকৃত চাষীদের কাছে বিশেষ বিশেষ প্রণোদনা নিশ্চিত করা হলে প্রান্তিক চাষিদের শস্য উৎপাদনে আগ্রহী উঠতে পারে। এক সময় উপজেলার উৎপাদিক সবজি ও খাদ্য পন্য এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করতো কিন্তু তামাক কোম্পানীর আগ্রাসনে কমে গেছে সবজি ও খাদ্য পন্য উৎপাদন। তামাক উৎপাদনকালীন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যবহারকালীন এবং সর্বশেষ বর্জ্য পর্যন্ত সব পর্যায়ে যেমন জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে একই রকমভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এ জেলার করমদী মাঠ,ধলার মাঠ,চোখতোলার মাঠ,ছাতিয়ান মাঠ,বাওট মাঠ,তেরাইল মাঠ,মোহাম্মদপুর মাঠ,খাসমহল মাঠ সহ বিভিন্ন মাঠে তামাক চাষ হয়েছে।গম,ভুট্টা,কলা,সরিষা সহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে।তামাক চাষীরা বলেন, বিভিন্ন কোম্পানী সার বীজ সহ নানা সুবিধা দিয়ে থাকে। এজন্য জমির ক্ষতি হলেও তামাক চাষ করেন তারা। চাষীরা আরো বলেন, তামাকের চেয়ে সবজীতে লাভ বেশি কিন্তু তামাক কোম্পানী যে সুবিধা দেয় কৃষি বিভাগ সে সুবিধা দেয় না। তাই অনেকেই তামাক চাষ করে।স্থানীয়রা জানান, তামাক চাষে জমির উর্ব্বরতা কমার পাশাপাশি মানব দেহের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া তামাক কোম্পানীর বিভিন্ন প্রলোভন দেয়।তামাক চাষের বিরুদ্ধে কৃষি বিভাগ যদি দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ না করে তাহলে দিন দিন তামাক চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে।তামাক চাষী বাবর আলী বলেন,এক বিঘা তামাক আবাদ করতে গিয়ে খরচ হয় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।এর জন্য একটি কোম্পানি আবাদ করার জন্য স্যার,বিষ,ঘর তৈরি করার জন্য টাকা,বীজের জন্য টাকা দেয়। পোশাক তৈরি করার জন্য অগ্রিম টাকা দেয়।তিন থেকে চার মাসের এই আবাদে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা লাভ হবে আশা করছি।তিন থেকে চার মাসের আবাদে যে লাভ হয় তা অন্য ফসলে আদৌ সম্ভব নয়।এর আগে আমি অন্য ফসল আবাদ করেছি এবার তামাকের আবাদ করছি।আর আমাদের আবাদ করতে যা লাগছে দিচ্ছে আবার তামাক বিক্রয়ের সময় কেটে নেবে।তিনি আরও বলেন,তামাক নিয়ে সবচেয়ে বড় ভয় হল ঝড় ও শিলাবৃষ্টির। ঝড় ও শিলাবৃষ্টি যদি না হয় তাহলে প্রত্যেকটা চাষি তামাক চাষে লাভবান হবে।তামাক চাষি মহিবুল বলেন, তামাক চাষের জন্যে কোম্পানিগুলো বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকে।তবে আমার কার্ড না থাকায় কোন সুবিধা পাইনি। এ কারণে আমি নিজ খরচে তামাক চাষ করছি।সুবিধা পেলে আরও ভালো হতো।তাছাড়া অন্যান্য ফসলের তুলনায় তামাক চাষে লাভ বেশি হয়।এ আবাদে বেশি খরচ হলেও চার মাসের এই চাষে লাভ হবে প্রায় ১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।অন্যান্য ফসলে এই লাভ অসম্ভব গাংনী উপজেলায় অনেক চাষী তামাক চাষে ঝুঁকেছে।তামাক চাষি রাজু আহমেদ বলেন, বিদেশ থেকে বাড়ি এসে দীর্ঘদিন বসে আছি।অনেক চেষ্টা করছি বিভিন্ন জটিলতার কারণে যাওয়া হচ্ছে না।তাই বসে না থেকে তামাক চাষ করছি।আশা করছি তামাকে ভালো লাভ হবে।আবদুল মান্নান নামের এক কৃষক বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো যেভাবে সুবিধা দিয়ে তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।কৃষি অধিদপ্তর যদি আমাদেরও এর চেয়ে ভালো সুযোগ-সুবিধা দেয় তাহলে তামাক চাষ কমতে থাকবে এবং অন্যান্য আসলে চাষি ঝুঁকবে।তামাক চাষিদের তামাক চাষ বাবদ স্যার,বীজ সহ যে সুবিধাগুলো দেয়া হয় কি-না সে বিষয়ে জানতে বিটিসির এক মাঠকর্মীকে ফোন দেয়া হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি জানান, তামাক চাষীদের তামাক চাষ করতে সার,বীজ,টাকাসহ যে সুবিধা গুলো লাগে সেগুলো দেওয়া হয়।তামাক তুলে বিক্রয় করার সময় এ টাকা কেটে নেওয়া হয়।সাধারণত এই সুবিধা গুলো তামাক চাষীদের দিলে তাদের আবাদ করাটা সহজ হয়।তবে কি পরিমান জমিতে তামাক চাষ হয়েছে তার সঠিক তথ্য নেই জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে। গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মতিয়র রহমান বলেন, কৃষককে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার জন্য কাজ করছে গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস।কারণ তামাক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।তাই তামাকের বিকল্প হিসেবে অন্য ফসল চাষ করে কিভাবে বেশি লাভবান হওয়া যায় সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক চাষীদের সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছি। এসআর
গ্রামাঞ্চলে অন্ধকারে গণভোট
আর মাত্র ছয় দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত প্রচার–প্রচারণায়। নিজ দলের পক্ষে ভোট চাইতে প্রার্থীরা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। চলছে মিছিল ও সমাবেশ। তবে একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট সম্পর্কে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো রয়ে গেছেন অস্পষ্টতায়।সচেতন ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে কিছুটা ধারণা থাকলেও গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত ভোটারদের অনেকেই জানেন না ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ কিংবা এটি কীভাবে দিতে হবে। ফলে গণভোট নিয়ে তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।আসন্ন নির্বাচনে সীমান্ত জনপদ শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোর–১ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।এই আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যশোর–১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।বেনাপোল ও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোটের বিষয়টি তেমন আলোচনায় নেই। অধিকাংশ ভোটারই জানিয়েছেন, তাঁরা শুধু নিজেদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেবেন।সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকেরই। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানানো হলেও বাস্তবে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে তেমন কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি।প্রার্থীরাও মূলত নিজেদের প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়ে তাঁরা খুব একটা কিছু বলছেন না। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।বেনাপোল পৌরসভার দিঘীরপাড় গ্রামের ভোটার আনিছুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ–না ভোটের কথা আমি কিছুই বুঝি না। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছি। প্রতীক ছাড়া ভোট দেওয়া আমার জন্য কঠিন।’ওই এলাকার ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ‘যাকে ভালো লাগবে তাকেই ভোট দেব।’শার্শার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ–না ভোট সম্পর্কে কিছুই জানি না।’বাগআঁচড়া এলাকার নাজিম উদ্দিন জানান, একদিন ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের প্রচারণার একটি গাড়ি এসেছিল। এরপর আর কোনো প্রচার চোখে পড়েনি।তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতীকেই ভোট দিয়ে আসছি।’যশোর–১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমরা প্রচারের সময় আমাদের প্রতীকের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়েও প্রচার করছি। আমাদের নেতা-কর্মীরাও এ বিষয়ে ভোটারদের জানাচ্ছেন।’জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ আজীজুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিটি সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও প্রচারণায় আমাদের প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়েও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করি, এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হবে।’শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পর্যায়ের সভা-সমাবেশ, মাইকিং, ভোটের গাড়ি ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ ও প্রভাব তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে ভোটারদের বিভ্রান্তি দূর হয়।’ইখা
যশোরে ওয়ান শুটারগানসহ একজন আটক
যশোরে র্যাবের অভিযানে একটি ওয়ান শুটারগানসহ একাধিক মামলার আসামি মারুফ হোসেন আটক হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার মধুগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক মারুফ মধুগ্রাম এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে র্যাব-৬ ও সিপিসি-৩ যশোরের একটি টিম মধুগ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মারুফের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওয়ান শুটার গানসহ মারুফকে (২৭) আটক করা হয়। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মারুফ একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। যা আদালতে বিচারাধীন। অবৈধভাবে শুটার গান রাখার দায়ে তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।ইখা
জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে নড়াইলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়
নড়াইলে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শাফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এ মতবিনিময় করেন জেলা জামায়াত। আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু জানান, আগামীকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ২ টায় শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ জনসভায় আমিরে জামায়াত ডা.শফিকুর রহমান বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরেই চলছে মঞ্চ তৈরি এবং মাইক লাগানোর কাজ। এ জনসভা উপলক্ষে শহরজুড়ে ১০০ মাইক টাঙানো হয়েছে। জনসভা সফল করার লক্ষে ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা জনসভা সফল করতে বিশেষ ধরনের কটি পরে জনসভা স্থলে থাকবেন।বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। জনসাধারণ তার কথা শোনার জন্য অধির অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা আশা করছি জনসভায় লক্ষ্যধীক লোকের সমাগম ঘটবে।এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি ও নড়াইল-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ কায়সার ও প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক ড. খান আব্দুস সোবহান উপস্থিত ছিলেন।পিএম
সাতকানিয়ায় ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
“মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ”—এই প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণ শাখা আয়োজিত র্যালিটি সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিটি কেরানীহাট সি-ওয়ার্ল্ড রেস্টুরেন্টের সামনে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। এতে ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এলাকাটিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।র্যালি-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণ সভাপতি আসিফুল্লাহ মুহাম্মদ আরমান। তিনি বলেন, “ছাত্রসমাজকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে গড়ে তুলতে ছাত্রশিবির আপসহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আদর্শবান ছাত্রসমাজই হবে মূল শক্তি।”সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবু নাসের। তিনি বলেন, “দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সংকট উত্তরণে মেধাবী, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। ছাত্রশিবির সেই লক্ষ্যেই প্রায় পাঁচ দশক ধরে শিক্ষার্থীদের আদর্শিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”জেলা সেক্রেটারি ডি.এম. আসহাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় মাদরাসা সম্পাদক নুরুল হক, সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক তৌহিদুল হক মিসবাহ, সাবেক জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক জেলা সেক্রেটারি এবিএম শহীদুল্লাহ ও তৈয়ব হোসাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।বক্তারা বলেন, শিক্ষা, চরিত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ছাত্রশিবির সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।শেষে দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।এনআই
হাদি হত্যার বিচার ও ইনকিলাব মঞ্চে হামলার প্রতিবাদে কর্ণফুলীতে বিক্ষোভ
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরলক্ষ্যা এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্ণফুলী উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী ইমরান হোসেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্য এহান ফয়সাল। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সদস্য নওশাদুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন সৈকত, আব্দুল আওয়াল রানা, মো. ফরিদ ও আরফিন সুমন। এ ছাড়া জাতীয় যুবশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সংগঠক ইশতিয়াকুল ইসলাম ও আফতাব আকিব এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সংগঠক আকাশ ও মাউনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন।মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইমরান হোসেন তারা বলেন, “শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির একজন যোদ্ধা। তাঁর হত্যার বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব ছিল। কিন্তু অদৃশ্য কোনো চাপের কারণে সরকার এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইনকিলাব মঞ্চ যখন জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে, তখন সেই দাবি উপেক্ষা করে উল্টো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ব্যাখ্যা সরকারকে জনগণের কাছে দিতে হবে।সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, শহীদ হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার নির্দেশদাতা ও জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান বক্তারা।এনআই
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪৮ জনই ব্যবসায়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে পেশাগত ও আর্থিক অবস্থানের একটি বিস্তারিত চিত্র পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের এই ১৬ আসনে মোট ১১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৮ জন পেশায় ব্যবসায়ী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৪১ শতাংশ।রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এবারের নির্বাচনে হলফনামায় প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়, সম্পদ, দেনা, মামলা সংক্রান্ত তথ্যসহ মোট ১০ ধরনের তথ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়- ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী নিজেদের মূল পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন।জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী প্রার্থীর হার কিছুটা কম হলেও এখানেও পেশাগত দিক থেকে ব্যবসায়ীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন।চট্টগ্রামের ১৬ আসনের প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের পরেই অবস্থান করছেন আইনজীবী, চাকরিজীবী ও শিক্ষক পেশার প্রার্থীরা। এছাড়া পেশা হিসেবে রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, ইসলামি বক্তা, দলিল লেখক, টিউটর, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, জমিদারি ও মাছ চাষ, এ ধরনের মোট ২০টি ভিন্ন পেশার উল্লেখ পাওয়া গেছে।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ১২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭২ জন পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই তুলনায় এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে।এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের সবকটিতেই প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জন পেশায় ব্যবসায়ী।এই ব্যবসায়ী প্রার্থীরা হলেন, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর–ডবলমুরিং) সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) জসীম উদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) নাজমুল মোস্তফা আমীন এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী।অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের মোস্তফা কামাল পাশা পেশায় মাছ চাষ ও সমাজসেবায় যুক্ত এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন পেশায় আইনজীবী।হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের সম্পদের পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী আয়কর রিটার্নে ৩৬৫ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৬ টাকা সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন।সবচেয়ে কম সম্পদের তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী, ৮৪ লাখ ২০ হাজার ২৬২ টাকা। এরপর নাজমুল মোস্তফা আমীন উল্লেখ করেছেন ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৮০২ টাকা।এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কারণে চট্টগ্রাম-৫ ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে তারা প্রার্থী দেয়নি। তবে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় জামায়াতের প্রার্থীর নাম ব্যালটে থাকছে।জামায়াতের ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁরা হলেন, চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপে মুহাম্মদ আলা উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ডে মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম-৬ রাউজানে মো. শাহাজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি–বাকলিয়ায় এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ হালিশহর–ডবলমুরিংয়ে মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী এবং চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া–লোহাগাড়ায় শাহজাহান চৌধুরী।চিকিৎসক হিসেবে তিনজন প্রার্থী রয়েছেন, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) এ টি এম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) মো. আবু নাছের এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম।হলফনামা অনুযায়ী, শিক্ষকতা করেন বা করতেন, এমন প্রার্থীর সংখ্যা তিনজন। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) মাহমুদুল হাসান এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।আইনজীবী হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান এবং চাকরিজীবী হিসেবে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) মোহাম্মদ শফিউল আলম।এবারের নির্বাচনে পেশা হিসেবে কৃষি উল্লেখ করেছেন মাত্র একজন প্রার্থী। তিনি চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ বাদশা মিয়া। আগের নির্বাচনে কৃষক পেশার প্রার্থী ছিলেন আটজন।হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আইনজীবী প্রার্থী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। গত নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ৯। চাকরিজীবী প্রার্থী বেড়ে হয়েছে ১৪ জন (গতবার ১১)। শিক্ষকতা করেন বা করতেন, এমন প্রার্থী এবার ১৪ জন, যেখানে আগের নির্বাচনে ছিলেন ৮ জন। চিকিৎসক প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন, আগের নির্বাচনে ছিলেন ২ জন।পেশা হিসেবে রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন চারজন প্রার্থী। তাঁরা সবাই বামপন্থী দল থেকে নির্বাচন করছেন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) থেকে চট্টগ্রাম-৯ আসনের মো. শফি উদ্দিন কবির, চট্টগ্রাম-১০ আসনের আসমা আক্তার, চট্টগ্রাম-১১ আসনের দীপা মজুমদার এবং বাসদ থেকে চট্টগ্রাম-১১ আসনের মো. নিজামুল হক আল কাদেরী।পিএম
নির্বাচনের প্রাক্কালে মেঘনায় অবৈধ মোটরসাইকেলের দাপট, নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ প্রশাসন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অনুপস্থিতিতে পুরো উপজেলাজুড়েই সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে। এদের অনেকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন কিংবা বৈধ কাগজপত্র।দীর্ঘ এক বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে উপজেলার মানিকারচর ও টিএনটি মোড় এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলীন রাজ্জাক একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬৬ ও ৯২ ধারায় তিনটি মামলায় ১ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ও নামমাত্র অভিযান বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় একেবারেই নগণ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার অসংখ্য মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র নেই। এর ওপর অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বেপরোয়া গতি ও একাধিক যাত্রী বহনের প্রবণতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী অনেক নেতাকর্মীও নিয়ম ভেঙে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই এই প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। তাদের মতে, নামমাত্র জরিমানা সমস্যার সমাধান না করে উল্টো নিয়ম ভাঙার প্রবণতাকে উৎসাহ দিচ্ছে।চন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা ও বড় সাপমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন বলেন, “প্রায়ই দেখি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। তাদের কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার মতো বয়স হয়নি। প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে যোগাযোগ করতে বলেন। অফিসের সময়ের পর ব্যক্তিগত কারণে বক্তব্য দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। তবে জরুরি প্রয়োজনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মাধ্যমে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকায় এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।এনআই
ধানের শীষের পক্ষে প্রচার, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার
ধানের শীষের পক্ষে ভোটের প্রচারের অভিযোগে নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সুবর্ণচর উপজেলার মো. আক্তার হোসেন নামে এক সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এবং তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আকিব ওসমান প্রতিবেদককে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।আকিব ওসমান জানান, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর জেলা নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।এছাড়া কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।অভিযুক্ত মো. আক্তার হোসেন সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। এসআর
ভৈরবে কলেজ শিক্ষার্থী আবুসুফিয়ান হত্যায় জড়িত মিরাজ ৩ দিনের রিমান্ডে
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ানের মূল হত্যাকারী মিরাজকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও আরএনবির (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) কড়া প্রহরায় আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শিশুসহ ৩ জন কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি রাত ১টায় ভৈরব আউটার সিগন্যাল এলাকা থেকে ঢাকা পল্লবী কলেজের শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ানের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। ছিনতাইকারীরা তাকে হত্যা করার পর মরদেহটি রেললাইনে ফেলে যায়, যাতে বিষয়টি ‘ট্রেন দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলা দায়েরের পর ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। এ সময় ১৪টি মামলার পলাতক আসামি ও চিহ্নিত ছিনতাইকারী মিরাজ ও ইব্রাহিমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৬ জনকে আটক করা হয়।রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ আহমেদ জানান, আটক মিরাজ একাই তিনটি ছিনতাইকারী দলের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের ধরতেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এনআই
যারা অস্ত্রের খেলা খেলেছে, তাদের বোরকা পরে পালাতে হয়েছে: হাবিব উন নবী সোহেল
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল বলেছেন, “রাজনীতিতে অস্ত্রের খেলা খেললে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। রাজনীতি করতে হলে মাঠের খেলাই খেলতে হয়। মাঠের খেলা খেললে পালিয়ে যেতে হয় না। কিন্তু যারা অস্ত্রের খেলা খেলেছে, তাদের বোরকা পরে পালিয়ে যেতে হয়েছে। সে কারণেই আপনারা পালিয়েছেন, আপনাদের নেত্রীও পালাতে বাধ্য হয়েছেন।”শুক্রবার(৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ সদরের রামপাল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, “দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ৯ থেকে ১০ হাজার নেতাকর্মী রয়েছেন, যারা এমপি প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু দল সবার হাতে মনোনয়ন তুলে দিতে পারে না। বিএনপি সবাইকে সম্মান করে। তবে যাকে দিয়ে এলাকায় উন্নয়ন সম্ভব, তাকেই দল মনোনয়ন দিয়েছে।” এ সময় তিনি উপস্থিত সবার কাছে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।জনসভায় মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিকেলে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।এনআই
গজারিয়ায় পুলিশকে বাড়ি ভাড়া দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে গুলি, আহত ২
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য বাড়ি ভাড়া দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কাইয়ুম দেওয়ান (৪২) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধসহ দুইজন আহত হয়েছেন।আহত কাইয়ুম দেওয়ান জামালপুর গ্রামের মৃত আহমেদ দেওয়ানের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করেন। অন্য আহত ব্যক্তি হলেন তাঁর আত্মীয় শরীফ প্রধান (৪১)। কাইয়ুমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কাইয়ুম দেওয়ান নারায়ণগঞ্জে থাকলেও শুক্রবার একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গ্রামে আসেন। আসরের নামাজ শেষে বাবার কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার পথে চিহ্নিত নৌ-ডাকাত নয়ন, পিয়াস ও শাহাদাতসহ তাঁদের সহযোগীরা কাইয়ুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।আহত কাইয়ুমের ছোট ভাই মাইনুদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, “গুয়াগাছিয়ায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য আমার বড় ভাই বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নৌ-ডাকাত বাহিনীর সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে। প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই সন্ত্রাসীরা এলাকায় নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হামলার সাহস পাচ্ছে।”আহত শরীফ প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামলার সময় পাশেই পুলিশ ক্যাম্প ছিল, কিন্তু তাঁরা এগিয়ে আসেননি। মসজিদের মাইকে সাহায্য চাইলেও ডাকাতদের ভয়ে কেউ তাঁদের বাঁচাতে আসেনি।গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামরুন নাহার জানান, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। কাইয়ুম দেওয়ানের পায়ে গুলি সদৃশ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”এনআই
তরুণ প্রজন্ম ভোট দিতে পারেনি, এবার তারা অপেক্ষমাণ রয়েছে: মামুনুল হক
শহীদদের রক্ত থেকে ১১ দলীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে এ দেশের মানুষকে গুম ও খুন করা হয়েছে। এতে করে এ দেশের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। এ অবস্থা দেখে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ দেশে দামাল ছেলে রাস্তায় নেমে আসলো। সর্বস্তরের মানুষ ঐক্য তৈরি করে যুদ্ধে নেমেছিল। দেড় হাজার মানুষের শাহাদাত ও ৩০ হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ থেকে নরসিংদী যাত্রাপথে রাত ৮টায় পৌর শহরের এমপি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (গার্লস্ স্কুল) মাঠে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা আমীরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক। তিনি আরো বলেন, এ দেশের কৃষকরা সোনার ফসল ফলায়, শ্রমিক ভাই ও বোনেরা শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বৃদ্ধি করে, শ্রমিক ভাইয়ের বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধি করে। প্রবাসীরা রাতদিন পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠায়। কিন্তু বিগত দিনে এ দেশের উন্নয়ন না করে আমাদের শাসকরা নিজেদের দেশের সম্পদ নিয়ে বিদেশে বেগম পাড়া গড়েছেন। ৫৪ বছরের রাজনীতির বন্দোবস্তে এ দেশে দুইটি ভূত সাওয়ার হয়েছে। এক নাম্বার ভূত হলো সন্ত্রাস বাদ ও গুন্ডামির তন্ত্র ও দুই নাম্বার ভূত হলো লুটপাট ও দুর্নীতি তন্ত্র। মামুনুল হক আরো বলেন, একবার হয়েছে বিনা ভোটের নির্বাচন, একবার রাতের ভোটে নির্বাচন, একবার হয়েছে ডামি নির্বাচন। এ ভাবে ব্যালটের অধিকার ছিনতাই হয়েছে। এ দেশের তরুণ প্রজন্ম ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা অপেক্ষমাণ রয়েছে। এ দেশের মানুষ পরিবর্তন চাই। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও গুন্ডামি দেশ থেকে বিতাড়িত করার নির্বাচন আসছে। এটা বাংলাদেশের নতুন বন্দোবস্তে আমূল সংস্কারের নির্বাচন। এবার মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে।পথ সভায় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ভৈরবের সার্বিক উন্নয়নে রোড ম্যাপে নির্বাচনী ইশতাহার ঘোষণা করেন। ভৈরবের উন্নয়ন নিয়ে নির্বাচনী ইশতাহারে তিনি বলেন, ভৈরব জেলা বাস্তায়ন ও কুলিয়ারচরের উন্নয়ন করা হবে। দুর্নীতি মুক্ত ও স্মার্ট নাগরিক সমাজ, নিরাপদ সমাজ, মাদক ছিনতাই ও সন্ত্রাস নির্মূল করা, আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা ভৈরব কুলিয়ারচরের মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানো, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা, সংস্কৃতির বিকাশ ও কালচারাল সেন্টার নির্মাণ করা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করা, লঞ্চঘাট ও বাস টার্মিনাল ইজারা মুক্ত করা, নদী ভাঙন রোধ ও ভৈরবে রক্ষাবাঁধ তৈরি করা, ভূমিদস্যুমুক্ত অঞ্চল ও জমির অধিকার আদায় করা, পাদুকা শিল্পের আধুনিকায়ন ও বিশ্বায়ন করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা করা, আধুনিক বিনোদন ও দূষণমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা, দক্ষ জনশক্তি ও স্মার্ট কর্মসংস্থান তৈরি করা, শিল্প ও ব্যাবসা প্রসার ব্যবসায়ী বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, খেলা ধুলার প্রসার ও মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গড়া, যানজট নিরসন ও উন্নয়ন ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলা। তিনি আরো বলেন, ১৭টি ইশতাহার ঘোষণা হলেও আরো তিনটি ভৈরববাসীর সাথে আলোচনা করে তাদের চাহিদা মতো ইশতাহার তৈরি করা হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভৈরব উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা কবির হোসাইন এর সভাপতিত্বে পথ সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলাম যোগদানকৃত কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন, শিক্ষানুরাগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস ভৈরব উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল হক জয়, কিশোরগঞ্জ জেলার গণঅধিকার পরিষদ যুগ্ম সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, জনতার দল কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম মহাসচিব নুরুল কাদের সোহেল প্রমুখ৷ পথ সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, বাংলার মাটিতে আর কোন আলেমদেরকে রাজাকার বলা যাবে না। আমরা আলেমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি নাই। আমরা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। আমরা জুলাই আন্দোলন করেছি। আমরা নতুনভাবে বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই। বিচারের নামে একটি দল বাণিজ্য করছে। পুলিশকে ব্যবহার করছে। পুলিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ১১ দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় গেলে ১০০ দিনের মধ্যে ভৈরবকে জেলা করা হবে। বিকাল থেকে পথসভা ঘিরে ভৈরব-কুলিয়ারচরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলার মানুষ রিকশা মার্কার সমর্থনে মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হয়। জামায়াত ইসলামের ভৈরব উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল মতিন এর সঞ্চালনায় ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত নেতারা বক্তব্য রাখেন। আলোচনা শেষে ভৈরবকে জেলা করার দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা আমীরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক। এসআর
বর্ণাঢ্য আয়োজনে কিশোরগঞ্জে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
আনন্দ আর উৎসবমুখর পরিবেশে কিশোরগঞ্জে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কিশোরগঞ্জ।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদী মসজিদের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রশিবির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাসান আল মামুন ও সেক্রেটারি ফকির মাহবুবুল আলম।জানা যায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই র্যালিতে অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে র্যালি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে শহীদী মসজিদের সামনে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য মাহমুদুল হাসান, সাবেক জেলা সভাপতি আব্দুস সাত্তার, খালেদ হাসান জুম্মন, আলী কাওসার রানী, আবু নাসের মু নঈম শাহরিয়ার মাহমুদ শাকিলসহ জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।এ সময় বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এখন সময়ের দাবি। তারা অভিযোগ করেন, এ হত্যার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। বক্তারা বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।বক্তারা আরও বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যেমন শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, তেমনি আগামী ১২ তারিখের গণভোটেও জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানাবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই গণভোট ও সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে এবং জনগণের রায়ের মাধ্যমে অন্যায় ও দুষ্কর্মের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট বার্তা যাবে।এসআর
আর কাউকে লুটপাট করতে দেবো না: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র এবং মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।’ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় পিরোজপুর শহরের জেলা স্কুল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, যারা জনগণের সরকার চায় না, দেশকে গোলাম বানিয়ে রাখতে চায় তারা এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের পর মিথ্যাচার করছে। তিনি আরো বলেন, ‘অতীতে অনেক ম্যাগা প্রকল্পের নামে ম্যাগা দুর্নীতি হয়েছে। আমার দেশের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা চুরি করে পাচার করেছে স্বৈরাচার সরকার। এই টাকার মালিক জনগণ। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আর কাউকে লুটপাট করতে দেবো না। মুখে হাত ভরে দিয়ে সব বের করে নিয়ে আসবো।’এ সময় যারা জনগণের টাকা চুরি ও ডাকাতি করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান।তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা কাজের অধিকার চেয়েছিল । যুবসমাজকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা যুবমাজকে কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তাদের সঠিক শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগত দক্ষ করে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে যোগ্য সম্মানজনক কাজ তুলে দেওয়া হবে।’ নারীদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মায়েদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। মায়ের অপমান এ জাতি সহ্য করবে না। ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল-সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা উপজাতি বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আপনাদের প্রিয় নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী সহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিচার করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিবেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ নির্মানের নির্বাচন। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ মানে আজাদি’, ‘না মানে গোলামী’এই কথা মাথায় রেখে দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান। পিরোজপুর ১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর ২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী ও পিরোজপুর ৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদী সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।পরে পিরোজপুর-১ ও ২ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদীর হাতে দলীয় প্রতিক দাড়িপাল্লা, পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপির শামীম হামিদীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।পিএম
কুয়াকাটায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রাতের আঁধারে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন জমি নিয়ে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর ভাগ্নে এবং কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী বায়তুল মাল সম্পাদক ও জামায়াতের রোকন সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজীর নেতৃত্বে ১৫–২০ জন লোক তাঁর মালিকানাধীন জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে জমিটি দখলের চেষ্টা চালায়।মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন ১২৪/১২২৬ নম্বর খতিয়ানের জমিটি তাঁর পিতার মালিকানাধীন ছিল। পিতার মৃত্যুর পর বৈধ বণ্টনের মাধ্যমে তিনি ওই জমির মালিকানা লাভ করেন। তবে একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করে আসছে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময়ে জাল দলিল ও প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারি তারা গেস্ট হাউসের পেছনের অংশে ঘর নির্মাণের হুমকি দিলে তিনি মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত রাতে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে টিনের বেড়া ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এতে পর্যটক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিজের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে জামায়াত নেতা শাহাবুদ্দিন ফরাজী বলেন, “আমি কোনো জমি দখল করতে যাইনি। এখানে আমার মা ও খালাদের ন্যায্য অংশ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলেও মামা (মোতালেব শরীফ) আমাদের অংশ বুঝিয়ে দেননি। নিজেদের জায়গা বুঝে নেওয়ার জন্যই আমরা সেখানে গিয়েছি।”এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি জমি সংক্রান্ত বিরোধ, যা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এনআই
মনপুরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৪
ভোলার মনপুরা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কামালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—আবদুল গনি, তাহেরা খাতুন, ইদ্রিস ও রাসেল হাওলাদার। তাঁরা সবাই কামালপুর এলাকার বাসিন্দা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রচারণার অগ্রাধিকার নিয়ে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।আহত আবদুল গনি জানান, তিনিসহ আরও কয়েকজন বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গেলে জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থকরা সেখানে বাধা দেন। আগে প্রচারণা চালানো নিয়ে বিতণ্ডার জেরে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থক মো. ইদ্রিস অভিযোগ করেন, মারামারির খবর শুনে ঘটনাস্থলে গেলে বিএনপির লোকজন উল্টো তাঁকে মারধর করে।মনপুরা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালানোর সময় জামায়াত সমর্থকরা আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের একজন কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।”অভিযোগের বিষয়ে মনপুরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আমিমুল ইহসান জসিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এনআই
বিএনপির জনসভায় ‘খুদে খালেদা জিয়া’ নজর কাড়ল ৯ বছরের আয়শা
১১৪ পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের নির্বাচনী জনসভায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজে সজ্জিত এক কিশোরীর উপস্থিতি জনসভায় বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করে।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চরচাপলী ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সেজে মঞ্চে উপস্থিত হয় ৯ বছর বয়সী আয়শা আকন। তার উপস্থিতি মুহূর্তেই উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।আয়শা আকন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের (U-Lab) তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে কলাপাড়ার ধুলাসার এলাকার বাসিন্দা করিম আকনের মেয়ে।মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আয়শা আকন বলে, “আমি খালেদা জিয়াকে অনেক ভালোবাসি। তিনি দেশের মানুষের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আমি চাই আমার দেশ ভালো থাকুক, মানুষ যেন নিজের ভোট নিজে দিতে পারে।” তার কণ্ঠে এমন সাহসী বক্তব্য শুনে উপস্থিত জনতা করতালিতে ফেটে পড়ে।আয়শার বাবা করিম আকন বলেন, “আমার মেয়ে ছোট হলেও সে দেশ ও গণতন্ত্র সম্পর্কে সচেতন। খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই সে আজ এই সাজে এসেছে। আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করুক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের পেছনে কোনো চাপ নেই, এটি সম্পূর্ণ আয়শার নিজের আগ্রহে হয়েছে।জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, “আজকের এই শিশুর উপস্থিতি প্রমাণ করে—বিএনপির রাজনীতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে। খালেদা জিয়া শুধু একজন নেত্রী নন, তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক। শিশুরাও আজ সেই প্রতীকে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। এই প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা জরুরি।”জনসভা শেষে আয়শা আকনের সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় করেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তেই ‘খুদে খালেদা জিয়া’র ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে।এনআই
মামলা-বাণিজ্যকে আমরা ঘৃণা করি: ডা. শফিকুর রহমান
“মামলা-বাণিজ্যকে আমরা ঘৃণা করি। আমরা একে প্রশ্রয় দিই না। অনেকে আছেন যারা মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়; তাদের আমরা ছাড় দেব না। বরং যারা মিথ্যা মামলা-বাণিজ্য করবে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পাবলিক মাঠে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন। গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। আমরা গোলামি চাই না, আজাদি চাই। ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে দেশ থেকে চিরতরে ফ্যাসিবাদ বিদায় হবে; কোনোদিন স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে না। বিগত সরকার আমাদের দুর্নীতি, মামলাবাজি, দখলদারিত্ব, ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতা উপহার দিয়েছে। এই বাংলাদেশকে পাল্টে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। মহান রব্বুল আলামিন যদি আমাদের সুযোগ দেন, তবে ১৩ তারিখ নতুন সূর্য উদিত হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা দখলবাজি করি না, কাউকে করতে দেব না। আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতে দেব না। আমরা দুর্নীতি করি না, কাউকে করতে দেব না। এই বাংলাদেশে ব্যাংক লুট ও শেয়ারবাজার ডাকাতি করতে দেওয়া হবে না। যারা দুর্নীতি করে দেশের লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, আল্লাহ তৌফিক দিলে সেই টাকা উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।”এর আগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে বাউফল সরকারি কলেজ মাঠে নামেন তিনি। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তায় জনসভাস্থলে পৌঁছান। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়া।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “গত ৫৫ বছরে যেসব নেতা, এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন, তারা রাষ্ট্রকে ভাঙার কাজে জড়িত ছিলেন। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে অর্থনীতি ধ্বংস করেছেন। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। তবে এই দেশ গড়ার মানুষও আছে, আর সেই মানুষ হলেন ডা. শফিকুর রহমান।” তিনি পটুয়াখালী-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ ১১ দলীয় প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মো. বাবর, পটুয়াখালী জেলা আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, পটুয়াখালী-১ আসনের এবি পার্টির প্রার্থী (ঈগল প্রতীক) মেজর ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, পটুয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী ডা. মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পটুয়াখালী-৩ আসনের মো. শাহ আলম, পটুয়াখালী-৪ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. মো. জহিরুল ইসলাম এবং বরগুনা-১ আসনের প্রার্থী আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সাংবাদিক মেহেদী হাসানের মা মাহমুদা বেগমসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এনআই
বকশীগঞ্জে বিএনপি’র দুই শতাধিক কর্মীর জামায়াতে যোগদান
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুই শতাধিক কর্মী সমর্থক। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখা কার্যালয়ে এ যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান ও মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা মাসুদ মিয়ার নেতৃত্বে যোগদান কারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জামালপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম মনোনীত এমপি প্রার্থী এডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী। এ সময় বকশীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মাওলানা আদেল ইবনে আউয়াল, উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মোসাদ্দেকুর রহমান মানিক, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল মতিন, অফিস সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, পৌর সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাশেদী, মেরুরচর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি কামরুজ্জামান মিষ্টার, অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ হোসেনসহ জামায়াত, শিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতে যোগ দেয়া বিএনপি নেতা মাসুদ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দু:সময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন কিন্তু দলের কাছ থেকে প্রাপ্য সম্মান পাননি। জামায়াতে ইসলামীর নীতি আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যোগদান করেছেন। আজীবন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দিনের পথে কাজ করে যাবেন বলে জানান।পিএম
বিধবা ভাতাভোগী মালেকাকে মৃত দেখিয়ে নাম কর্তন, অন্যজনের নাম অন্তর্ভুক্ত
নান্দাইলে বিধবা ভাতাভোগী এক বৃদ্ধাকে জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি নথিতে মৃত দেখিয়ে তার নাম কর্তন করে অন্য একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।ভুক্তভোগীর নাম মোছা. মালেকা বেগম (৭০)। তিনি নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের মৃত চান মিয়ার স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিত বিধবা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে গত দুই কিস্তি অর্থাৎ ছয় মাস ধরে তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে ভাতার টাকা জমা হচ্ছিল না।ভাতা বন্ধের কারণ জানতে মালেকা বেগম উপজেলা সদরের সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে এবং তার স্থলে অন্য একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তথ্য শুনে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি। সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মীদের উদ্দেশে তার প্রশ্ন ছিল, ‘আমি আবার মরলাম কবে?’মালেকা বেগম বলেন, ‘তিন মাস পরপর মোবাইলে ভাতার টাকা পেতাম। সেই টাকা তুলে কোনোমতে দিন চলত। এখন ভাতা বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে আছি। আমি জীবিত থাকা সত্ত্বেও কে বা কারা আমাকে মৃত দেখাল এটাই জানতে চাই।’সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, কোনো ভাতাভোগী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অপেক্ষমান তালিকা থেকে নতুন করে অন্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মালেকা বেগমের ক্ষেত্রেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন মালেকা বেগমের মৃত্যু সনদসহ একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে একই গ্রামের মো. আবদুল হাই (৭০) নামে একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এ প্রক্রিয়ায় যথাযথ তদন্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘মালেকা বেগম যাতে দ্রুত পুনরায় ভাতার অর্থ পেতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’এসআর
হাদীর হত্যাকারীকে যে আইনজীবী জামিন করিয়েছে তা সবাই জানে: মামুনুল হক
শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীকে কোন আইনজীবী জামিন করিয়েছেন তা সবার জানা—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের দুর্গাপুর সুসং ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “আপনারা জানেন শরিফ ওসমান হাদীকে কে হত্যা করেছে—তার নাম ফয়সাল করিম। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে একজন আইনজীবী তাকে জামিন করিয়ে বের করে এনেছেন। আমি তার নাম বলবো না, কিন্তু বাংলার মানুষ জানতে চায়—ফয়সাল করিমদের মতো খুনিরা কাদের বদান্যতায় কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে আবার হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে?”তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করার পেছনে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে।” জনসভায় উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কি আবার খুন, গুম ও সন্ত্রাসের বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান? রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যে অর্থ দেশে পাঠান, তা কি আবার লুটপাট হয়ে বিদেশে বেগমপাড়ায় চলে যাবে—এটাই কি আপনারা চান?”মামুনুল হক বলেন, “যদি না চান, তাহলে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শামিল হতে হবে।” স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তিনি বলেন, “ব্রিটিশ, কলকাতার দাদাবাবু ও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসনের পর মানুষ আশা করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশে আর শোষণ থাকবে না। কিন্তু ৫৪ বছরে শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, শোষণের ধরন বদলেছে।”তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাঁধে দুটি ভূত চেপে বসেছে—একটি সন্ত্রাস ও গুন্ডামিতন্ত্র, অন্যটি লুটপাট ও দুর্নীতিতন্ত্র।”জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-১ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী। তিনি ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি আল্লামা জিয়া উদ্দিন (দা. বা.)।এনআই
‘বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জে আর কোনো আওয়ামী লীগের সমর্থক গ্রেপ্তার হবে না’
নির্বাচনী জনসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বক্তব্যকে ঘিরে জামালপুর জেলায় আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, থানায় বলা আছে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গ্রেপ্তার বা হেনস্থা করা হবে না এবং সবাই মিলে মিশে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেবেন।ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের হারুয়াবাড়ী রহমানী মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির এক নির্বাচনী জনসভায়। ওই সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন।এক মিনিটের ওই বক্তব্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘এখানে যারা আওয়ামী লীগের সমর্থক আছেন, তাদের আমি অনুরোধ করব—যেহেতু আওয়ামী লীগ আর ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরতে পারবে না, কাজেই আওয়ামী লীগের সমর্থকরা আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সকলে মিলেমিশে ধানের শীষে ভোট দেবেন এবং একসঙ্গে থাকবেন। এখানে থানায় বলে দেওয়া আছে, কাউকে কোনো রকম হেনস্থা করবে না, কাউকে গ্রেপ্তার করবে না। বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জে কোনো গ্রেপ্তার হবে না।’তিনি আরো বলেন, ‘অন্যায় যে করবে সেটা অন্য ব্যাপার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা স্টেপ নেব, যাতে কেউ অন্যায় না করতে পারে। তাদের বিচার হবে। অন্যায় হলে আমরা নিজেরা বিচার করব—এমন যেন না হয়। আইনগতভাবে আমরা বিচার করব।’বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ওই বক্তব্যের ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকে বিষয়টিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।উল্লেখ্য, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।ইখা
ধানের শীষে ভোট চাইলেন সাংবাদিক হত্যার প্রধান আসামি আ.লীগ নেতা বাবু চেয়ারম্যান
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ধানের শীষের ভোট চাইলেন বাংলানিউজ২৪ ডটকমের সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার আলোচিত প্রধান আসামি ও সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়াররি) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধানের শীষের পক্ষে তার ভোট চাওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।ভিডিওতে দেখা যায় মাহমুদুল আলম বাবু বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া এলাকায় ধানের শীষ মার্কায় ভোট চাইছেন। এ সময় ভিডিওতে মাহমুদুল আলম বাবুকে বলতে শোনা যায়- এই সাধুরপাড়া মানে এই বকশীগঞ্জ থানার সাতটি ইউনিয়ন, তার মধ্যে আমার বকশীগঞ্জে যেহেতু বড় একটি কাজ করে দিয়েছে, আগে কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারও যেন ওর চেয়ে বেশি কিছু করে নিতে পারি এবং ১২ তারিখে সবাই সুষ্ঠভাবে আপনারা সকাল সকাল ভোটটা ধানের শীষে দেবেন। ভালো থাকেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।প্রকাশ্যে বাবু চেয়ারম্যানের ধানের শীষে ভোট চাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলসহ জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর ১ সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন।উল্লেখ্য, বাংলানিউজ২৪ ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী নাদিম গত ২০২৩ সালের ১৪ জুন রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের গরুহাটি এলাকায় হামলার শিকার হন। হামলার পরদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার তিনদিন পর ২০২৩ সালের ১৭ জুন নিহত নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান করে ২২ জনকে আসামি করা হয়। ওইদিনই পঞ্চগড় থেকে মাহমুদুল আলম বাবুকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে তিনি জামালপুর জেলা কারাগারে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গত ২০২৪ সালের ১০ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই মাহমুদুল আলম বাবু আত্মগোপনে ছিলেন।ইখা
প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, দিনাজপুর-৪ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে ভোটের উত্তাপ চোখে পড়ার মতো। আসনটি মূলত কৃষিপ্রধান এবং গ্রামবাংলার সংযোগ সড়কের দুর্বলতার কারণে বহুদিন ধরে উন্নয়নের আলো থেকে দূরে। তাই প্রতিটি প্রার্থী এবার ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার গ্রাম, হাটবাজার এবং সড়কের মোড়গুলোতে চলছে পথসভা, উঠান বৈঠক এবং লিফলেট বিতরণ। ব্যানারে ছেয়ে গেছে জনপদ। ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর জন্য প্রার্থীরা প্রতিদিন ঘুরছেন ঘুরছেন, কথা বলছেন, শুনছেন এলাকার মানুষদের সমস্যার গল্প।এই আসনের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন। কেউ বলছেন সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি, কেউ চাকরি ও নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টির আশ্বাস দিচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিক করার কথা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও সব প্রার্থীর বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া গ্রামের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানেও জোর দেওয়া হচ্ছে।কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় কৃষকদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রার্থীরা বলছেন, সেচ সুবিধা বাড়ানো, সার ও উন্নত বীজ সহজলভ্য করা এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। কৃষক যদি ভালো থাকেন, পুরো এলাকার উন্নয়ন হবে এভাবেই তারা ভোটারদের কাছে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় দেখা গেছে বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান মিয়া এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লাকে। তারা খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত পথসভা ও গণসংযোগ করছেন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, তাদের সমস্যা শুনছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনোয়ার হোসাইন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল আমিন শাহ এখনো তেমনভাবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় নেই। তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে কম। এই বিষয়টিও ভোটারদের নজরে এসেছে এবং তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া বেশ মিশ্রিত। অনেকেই বলছেন, তারা এবার শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চান। আগের নির্বাচনে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সবগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এবারের ভোটে প্রার্থীর সততা, কাজের বাস্তবতা এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।তরুণ ভোটারদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো। তারা চাকরি, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক শিক্ষার সুযোগ চান। নারী ভোটাররা নিরাপদ সড়ক, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন।নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর–৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লক্ষ সতেরো হাজার সাতশ সাতষট্টি জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লক্ষ আট হাজার ছয়শ আটাত্তর জন, নারী ভোটার দুই লক্ষ নয় হাজার সাতাশি জন এবং হিজড়া ভোটার দুই জন। ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে মোট একশ ছাব্বিশটি ভোটকেন্দ্র।নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসনও তৎপর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে, নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে প্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে, দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি আর প্রত্যাশার দোলাচলে ভোটাররা ভাবছেন, শেষ পর্যন্ত কারা মাঠে সক্রিয় থাকবেন এবং কারা ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন। সেটিই এই আসনের ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করবে।এসআর
রংপুর বিভাগের কয়েক জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত
ভারতের হিমালয় কন্যা সিকিমে গত কয়েক ঘণ্টায় দফায় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। অন্তত আট থেকে ১০ বার কম্পনে কেঁপে উঠেছে সিকিমের গ্যাংটক, নামচি ও মাঙ্গান এলাকা। সিকিমের এই সিরিজ ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও; বিশেষ করে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের নামচি এবং মাঙ্গান এলাকায়।বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়; যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৬। এরপর রাত ২টা ৫০ মিনিটে ৪.৪ মাত্রা এবং ভোর ৩টা ৩১ মিনিটে ৪.০ মাত্রার আরও দুটি মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত অন্তত আরও ৫-৬টি ছোট আকারের আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।ভূমিকম্পগুলোর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে, যা অত্যন্ত অগভীর হওয়ার কারণে কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে।ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিকিম ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ ‘ফল্ট লাইন’-এর ওপর অবস্থিত। বড় কম্পনের পর ছোট ছোট আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক।এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমারের ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান কেঁপে ওঠে। পিএম
জনগণের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করতে চাই: এটিএম আজহারুল ইসলাম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের কল্যাণে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে উৎসর্গ করাই তাঁর একমাত্র অঙ্গীকার। তিনি বলেন, স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আমি টানা ১৪ বছর বিনা কারণে কারাবরণ করেছি। এই দীর্ঘ সময় আমাকে অমানবিক নির্যাতন, অবিচার ও অবহেলার মধ্য দিয়ে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিন কাঁটাতে হয়েছে। ডান্ডাবেরি পরে রাখা হয়েছিল আমাকে। ১৪ টি মামলা চাপানো হয়েছিল আমার বিরুদ্ধে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও সাজানো মামলায় ফাঁসির আদেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সব ষড়যন্ত্র ও অবিচারের অবসান ঘটেছে। কিন্তু ২৪ এর জুলাই ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ওই হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আমার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ যা ছিল তা আল্লাহর পথে দান করে দিয়েছি। জীবনে আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। বাকি জীবন আপনাদের খেদমত ও জনগণের কল্যাণেই উৎসর্গ করবো।আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে দেশ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার কবলে ছিল। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলবে, যেখানে কেউ নিপীড়নের শিকার হবে না এবং সকল নাগরিক ন্যায়বিচার পাবে।সয়ার ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কাজী ইলিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির এস.এম আলমগীর হোসেন, রংপুর জেলা জামায়াতে সুরা পরিষদ সদস্য আব্দুল হান্নান খান, বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির শাহ মোহাম্মদ রুস্তম আলী, মো. ইয়াকুব আলী ও প্রভাষক আমিনুল ইসলাম। এছাড়া স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজ থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম দূর করা সম্ভব। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে জামায়াতে ইসলামের কোনো বিকল্প নেই। তারা উপস্থিত জনতার প্রতি আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। এফএস
তারেক রহমানের জনসভা সফল করতে হাকিমপুরে বিএনপির বিশাল মিছিল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দিনাজপুর-৬ আসনের বিরামপুরে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এই সফর ও পথসভা সফল করতে হিলিতে (হাকিমপুর) বিশাল মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাদ মাগরিব হাকিমপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে বন্দরের চারমাথা মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সভার মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলটি ‘লাগারে লাগা ধান লাগা’ স্লোগানে মুখরিত ছিল।সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের নির্বাচনী পথসভায় আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এতে আমরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত।” তিনি আরও বলেন, ডা. জাহিদ হোসেন এই এলাকাকে স্বাস্থ্যসেবার মডেলে পরিণত করেছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাঁকে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।এদিকে, তারেক রহমানের জনসভাস্থল পরিদর্শন করতে আজ রাত সাড়ে আটটায় বিরামপুরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শাহিনুর ইসলাম শাহীন, মো. এরফান আলী, যুগ্ম সম্পাদক এস এম রেজা বিপুল, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহেদুর রহমান রিপন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এনামুল হক তাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান আলী, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মোফা, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আলী মুর্তজা সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার আলী ও রাহুল হোসেনসহ বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।এনআই
যারা এমপি নির্বাচিত হবেন তারা শাসক নয়, হবেন সেবক: শিবির সেক্রেটারি
“যারা এমপি নির্বাচিত হবেন তারা শাসক হবেন না, তারা হবেন সেবক,” মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম সিবগাতুল্লাহ।আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরামপুর উপজেলা ও পৌর শাখার আয়োজনে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। বিরামপুর পৌর শহরের পল্লবী মোড়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।তিনি বলেন, “আমাদের সামনে একদল সৎ লোক দাঁড়িয়েছে। তারা যদি সংসদে চলে যায়, তাহলে এই দেশটা পরিবর্তন হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই যারা আমাদের এমপি নির্বাচিত হবেন তারা শাসক হবেন না, তারা হবেন সেবক। আগামী ১৩ তারিখে যে সরকার গঠন হবে, সে সরকার হবে ন্যায় ও ইনসাফের সরকার; সে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের সরকার।”তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশের ছাত্রসমাজ সচেতন হয়েছে এবং তারা বাংলার মাটিতে আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদকে মেনে নেবে না।বিরামপুর উপজেলা আমির হাফিজুল ইসলাম বিএসসি-র সভাপতিত্বে ও উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবু হানিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম।এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য ও দিনাজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও দিনাজপুর শহর সভাপতি মুশফিকুর রহমান, দিনাজপুর জেলা দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি সাজিদুর রহমান সাজু, নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী, ডাকসু’র নির্বাচিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার ও সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- এবি পার্টির দিনাজপুর জেলা আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা আবুল কাশেম, হাকিমপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আমির মাওলানা আমিনুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট উপজেলা আমির মোফাখখারুল ইসলাম মোল্লা, বিরামপুর বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, পৌরসভা আমির অধ্যাপক মাওলানা মামুনুর রশিদ, পৌরসভা সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার শাহীনুর রহমান, পৌরসভা শিবিরের সভাপতি জহুরুল ইসলাম ও মুফতি মাওলানা আব্দুন নূর।পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় সংগঠনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের গাড়ি সম্বলিত একটি বিশাল মিছিল বিরামপুর শহর প্রদক্ষিণ করে।এইচএ
লুটেরাদের পেট থেকে জনগণের টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "যারা আগে দেশের টাকা চুরি করেছে, তারা এখনো চুরি করছে। যারা ব্যাংক লুণ্ঠন ও চাঁদাবাজি করেছে, তারা এখনো সেই অপকর্মে লিপ্ত। ১২ তারিখ দেশের সাড়ে ১২ কোটি ভোটার তাদের জন্য ‘লাল কার্ড’ তৈরি করে রেখেছেন।"বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাটোর নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “লুটেরারা ও শেয়ারবাজার লুণ্ঠনকারীরা এ দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ যদি আমাদের সামর্থ্য দেন, তবে পাচার হওয়া সেই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে। দেশের যে এলাকা যতটা বঞ্চিত, সেখানে আগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। যার যেটা প্রাপ্য, তাকে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমরা এমন ন্যায়বিচার চাই যা সবার জন্য সমান হবে। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে শাস্তি পাবেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি একই অপরাধ করলে তাঁকেও একই বিচারের আওতায় আনতে হবে। জাতি এমন ইনসাফ দেখার জন্যই মুখিয়ে আছে।”তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের যুবসমাজ দেশ গড়ার যে সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল, তা দেওয়া হয়নি। আমরা ইনশাআল্লাহ সেই সুযোগ নিশ্চিত করব।”নির্বাচিত হলে শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবে। এছাড়া ৬০-৬৫ ঊর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণ দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।”নির্বাচনী জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ এবং চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনিসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।এনআই
ঈশ্বরদীতে বিএনপির শতাধিক নেতার স্বেচ্ছায় গণপদত্যাগ, মিষ্টি বিতরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে নির্বাচন করায় বহিষ্কারের হুমকির প্রতিবাদে এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর অভিমান করে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।দুপুরে ঈশ্বরদী পৌর শহরের কাচারীপাড়া মাঠে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা এই গণপদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ইউনিয়ন-ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল এবং উপজেলা ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের শতাধিক পদধারী নেতা রয়েছেন। এ সময় কয়েক শ কর্মী-সমর্থক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল পারভেজ বলেন, “বিগত সরকারের আমলে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। হামলা-মামলার শিকার হয়েছি ও জেল খেটেছি। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা থাকায় আমরা আশা করেছিলাম জাকারিয়া পিন্টু ‘ধানের শীষ’ পাবেন। কিন্তু তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং আমরা তাঁর পক্ষে কাজ করছি।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, “তৃণমূলের সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও দলীয় প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বারবার আমাদের বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি কেন্দ্র থেকেও ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে বহিষ্কারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমরা অভিমান করে একযোগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম।”সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা পৃথকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বারবার বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে আমাদের আদর্শকে দমানো যাবে না। আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও বেগম খালেদা জিয়ার সৈনিক হিসেবে রাজনীতি করি। নির্বাচনের পর আবারও দলীয় কর্মসূচিতে ফিরব, তবে বর্তমানে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল।”এ বিষয়ে জানতে পাবনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গণসংযোগে ব্যস্ত থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মখলেছুর রহমান বাবলু বলেন, “রাজনীতিতে মান-অভিমানের কোনো মূল্য নেই। দলকে ভালোবাসলে ভোটের আগে পদত্যাগ করা শুভলক্ষণ নয়। দলীয় সিদ্ধান্ত মানা সবার দায়িত্ব। এর বাইরে কেউ পদত্যাগ করলে সেটি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।”এনআই
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক, সহিংসতা নয়- উল্লাপাড়ায় জেলা পুলিশ সুপার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কিন্তু সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণ যাতে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সানতু।তিনি বলেন, "আমরা চাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক, কিন্তু কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা না ঘটে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।"তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেউ যেন নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উল্লাপাড়া সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান শাকিল, ওসি (তদন্ত) রূপকসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।এনআই
সিরাজগঞ্জে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের দুই কর্মীকে জরিমানা
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর পক্ষে রঙিন পোস্টার ও ব্যানার টাঙানোর দায়ে দুই কর্মীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসান আহমেদ খান।সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো তথ্যে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর হাটিকুমরুল ইউনিয়ন সেক্রেটারি মোজদার হোসেনকে দুই হাজার টাকা এবং একই অপরাধে হাটিকুমরুল ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এ ছাড়া অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের পক্ষে অবৈধভাবে টাঙানো রঙিন পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ করা হয়। অভিযানে বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
সিরাজগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত, আহত ২
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান উল্টে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের দরগার চর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম চাঁদ মিয়া সরকার (৭০)। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের মালতিডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে। তিনি বানিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে।শাহজাদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, লোহার পাইপবোঝাই একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত (করিমন) যানকে ওভারটেক করার সময় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি উল্টে যায়। এ সময় অটোভ্যানের যাত্রী চাঁদ মিয়া সরকার লোহার পাইপের সঙ্গে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।দুর্ঘটনায় আহত অটোভ্যানের চালক ও আরেক যাত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।ইখা
বিএনপির প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জ–১ (বাহুবল–নবীগঞ্জ)। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী, সদ্য দলে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থান এখনো শক্ত।প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।তবে এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ–১ আসন ঘিরে।নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী থাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট।পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে থাকলেও মাঠে অনেক কর্মীকে শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গেও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছে।স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাতই এখন ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ‘গলার কাঁটা’।প্রথমদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তিনি আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।অনেকের ধারণা, জামায়াতের কিছু ভোটও শেখ সুজাত মিয়ার ঝুলিতে যেতে পারে। সে কারণেই এই আসনে তাঁর অবস্থান বেশ শক্ত বলে মনে করছেন ভোটাররা।জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ সুজাত মিয়া। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে থেকে যান। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সংসদে যেতে চান শেখ সুজাত মিয়া।অন্যদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হওয়ায় এলাকাতেও রয়েছে পারিবারিক জনপ্রিয়তা। এ কারণে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।হবিগঞ্জ–১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।ইখা
হবিগঞ্জে ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিতনী বিল এলাকার হাওরে প্রায় ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানক্ষেতের একাংশে পড়ে আছে যুদ্ধবিমানটির কিছু অংশ।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের দিকে আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অনেকে ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। পরে ধোঁয়া সরে গেলেও প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানে আগুন জ্বলতে থাকে।বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুদিন পর নৌকায় করে অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় বিমানের ভেতরে থাকা একটি মিসাইল হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে শ্রীমতপুর গ্রামের সাজিদ মিয়া ও খালেক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আতঙ্কে কেউ বিমানের কাছে যাননি বলেও জানান স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, মাটির ওপর বিমানের সামান্য অংশ দৃশ্যমান হলেও এর বৃহৎ অংশ এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম সংরক্ষণ না থাকায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে।এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে ভয় পেতেন। এখনো ওই জমির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে।শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিমানটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করব। বিধি মোতাবেক স্মৃতি হিসেবে জাদুঘরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে উপজেলা প্রশাসন সে উদ্যোগ নেবে। পিএম
গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে শানাজ আহমদ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ সরকারি এমসি একাডেমির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শানাজ বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর রামপাশা গ্রামের মখন মিয়ার ছেলে। তিনি সিলেট নগরীর একটি পোল্ট্রি ফার্মের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সিলেট থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে এক বিয়ের দাওয়াত খেতে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে এসেছিলেন শানাজ। দাওয়াত খেয়ে অন্য একজনের মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে সরকারি এমসি একাডেমির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে ডিভাইডারের অপর প্রান্তে গিয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮২৮৬৯) চাকার নিচে তিনি পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে যান।গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এনআই
সুনামগঞ্জ ২: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর, আহত ২
সুনামগঞ্জ ২ (দিরাই শাল্লা) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।হামলায় প্রচার গাড়িতে থাকা ২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দিরাই থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মত সুনামগঞ্জ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তার প্রচারের গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসা মাত্র দুটি মোটরসাইকেল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এসে শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যখন জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসে তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি আরও জানান, সেই দুজনের হেলমেট পড়া থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের ধরতে কিংবা চিহ্নিত করতে।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে খুঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এসআর
সুনামগঞ্জ ২: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর, আহত ২
সুনামগঞ্জ ২ (দিরাই শাল্লা) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।হামলায় প্রচার গাড়িতে থাকা ২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দিরাই থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মত সুনামগঞ্জ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তার প্রচারের গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসা মাত্র দুটি মোটরসাইকেল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এসে শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যখন জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসে তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি আরও জানান, সেই দুজনের হেলমেট পড়া থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের ধরতে কিংবা চিহ্নিত করতে।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে খুঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এসআর
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
নারী শিক্ষক প্রেম প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় শিক্ষার্থীর কাণ্ড
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরিতে স্কুলের এক নারী শিক্ষককে প্রকাশ্য রাস্তায় আক্রমণ করে তার ঠোঁট কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া অখণ্ড প্রতাপ নামের ওই শিক্ষার্থী ঠোঁট কেটে দেয়। ঘটনার পর ওই শিক্ষক আগ্রার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অখণ্ড প্রতাপ নামের ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘ দিন ধরেই ওই শিক্ষককে হেনস্তা করছিল। আগ্রা রোডের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই অখণ্ড ওই শিক্ষককে হেনস্তা করতে শুরু করে।শিক্ষকের ভাইয়ের অভিযোগ, হেনস্তার কারণে সেই শিক্ষক ওই স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। পরে তিনি অন্য একটি বেসরকারি স্কুলে যোগ দেন। আগেই ওই শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তারপরেও অখণ্ড তাকে অনুসরণ করে নানাভাবে বিরক্ত করত।অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি অখণ্ড ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই শিক্ষককে আক্রমণ করে। জোর করে তার সঙ্গে কথা বলার সময়েই ওই আক্রমণ করা হয়। আক্রমণের একপর্যায়ে সে তার ঠোঁট কেটে দেয়। জ্যোতি তিহারা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ছবি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানার কর্মকর্তা ফতে বাহাদুর সিং জানান, এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষকের পরিবার থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষককে যৌন হেনস্তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরার জন্য অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।এনআই
পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩১
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মসজিদটি। ২০২৩ সালে পেশোয়ারে একটি মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল। ওই ঘটনার পর আজকে পাকিস্তানে কোনো মসজিদে বিস্ফোরণে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটল।প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) এক সন্ত্রাসী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তবে এখনো কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে পুলিশ জানায়, জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়।বার্তাসংস্থা এএফপিকে একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হামলকারীকে মসজিদের প্রবেশদ্বারে আটকে দেওয়া হয়। তখন তিনি নিজের শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।ইসলামাবাদ প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা চিকিৎসার জন্য ১৬৯ জনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মসজিদের ভেতর মানুষের মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। আর মসজিদের জানালার গ্লাসগুলো সব ভেঙে গেছে।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।গত বছরের নভেম্বরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ইসলামাবাদ ডিস্ট্রিক জুডিশিয়াল কমপ্লেক্ষের গেটে নিজেকে উড়িয়ে দেন। এতে ১২ জন নিহতসহ কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।এছাড়া ২০০৮ সালে এক হামলাকারী ইসলামবাদের ম্যারিয়ট হোটেলের সামনে ময়লার ট্রাকে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ৬৩ জন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।এমআর-২
প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ২
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌযানে চালানো মার্কিন হামলায় ২ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ইউএস সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) এক বিবৃতিতে জানায়, এই অভিযানে ‘দু’জন মাদক-সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে’।তবে জাহাজটি এবং নিহত দুই ব্যক্তি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি সাউথকম।২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে চালানো ৩৪টি হামলায় অন্তত ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে ব্যাপকভাবে নিন্দা জানানো হয়েছে।নজরদারি সংস্থা এয়ারওয়ার্সের তথ্য মতে, ২০২৬ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এটি প্রথম হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।এমআর-২
হজযাত্রীদের ভিসা ইস্যুর তারিখ জানালো সৌদি আরব
পবিত্র হজের মৌসুম সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য ভিসা ইস্যু শুরুর তারিখ নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের জন্য হজ ভিসা ইস্যু শুরু করবে। বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর জিও নিউজের। অন্যদিকে সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রায় চার মাস আগেই ভিসা কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সেবাপ্রস্তুতি আরও জোরদার করা এবং হজযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা। আর এই উদ্যোগ সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানায়, বিদেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সব সেবার শতভাগ চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মক্কার সব আবাসনসংক্রান্ত চুক্তিও সম্পন্ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি ৩০ হাজার হজযাত্রী হজ প্যাকেজ বুক করেছেন বলে জানানো হয়েছে।মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে প্রায় ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৩টি হজবিষয়ক দপ্তর তাদের প্রাথমিক চুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।এদিকে বাংলাদেশ থেকে ২০২৬ সালের হজের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমে নিবন্ধনকারী সব হজযাত্রীর সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নেয়া সম্পন্ন করে ফিটনেস সনদ নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।এ পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধিত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সব হজযাত্রীকে বাংলাদেশের যেকোনও সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত টিকাকেন্দ্র থেকে টিকা নিয়ে ফিটনেস সনদ গ্রহণ এবং ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছর ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনও হজযাত্রী হজে যেতে পারবেন না। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে। এমআর-২
ভারতের যেকোনো উসকানির জবাব কঠোরভাবে দেবে পাকিস্তান: শাহবাজ
ভারতের যেকোনও ধরনের উসকানির জবাব কঠোরভাবে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। কাশ্মীর সংহতি দিবসে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে তিনি বলেন, ভারতের যে কোনো উসকানির জবাব পাকিস্তান সমান শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে, একই ময়দানে দেবে। খবর দ্য নিউজের। বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) শাহবাজ শরিফ বলেন, ভারত যদি কোনও ধরনের উসকানি দেয়, তাহলে পাকিস্তান তার জবাব দেবে সমান ও দৃঢ় শক্তিতে এবং যে ফ্রন্ট থেকে উসকানি আসবে, ঠিক সেখানেই তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অপমানজনক পরাজয়ের পর ভারত আবারও তার মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা জোরদার করেছে। ভারত তাদের আগ্রাসী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী নীতি পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।তিনি বলেন, ‘ভারতের মদদে পরিচালিত যেকোনও সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একই দৃঢ়তা ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করবে, যেভাবে শত্রু যুদ্ধবিমান মোকাবিলা করা হয়েছিল।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান শান্তি চায়, তবে তা হবে সমতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে।’ তার ভাষায়, ‘মারকা-ই-হক’ কেবল পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদার দক্ষতার বিজয় নয়, এটি কাশ্মীরি জনগণের ত্যাগেরও বিজয়।তিনি বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাশ্মীর ইস্যু নতুন করে শক্তভাবে ফিরে এসেছে। এর মাধ্যমে কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের মিথ্যা বয়ান কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং এটি পাকিস্তানের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ পুনর্ব্যক্ত করেন, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান তার রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম চলবে বলেও তিনি জানান। তিনি কাশ্মীরি জনগণের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— কাশ্মীরিরা জীবন ও সন্তান বিসর্জন দিতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করে না। এমআর-২
ভারতে কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ১৬ জন নিহত
ভারতের মেঘালয় রাজ্যে একটি অবৈধ কয়লা খনিতে ভয়াহব বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৬ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন খনিটির ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার থাংস্কু এলাকায় অবৈধ কয়লা উত্তোলনের সময় এই ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির। রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক আই নংরাং বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ১৬টি লাশ উদ্ধার করেছি। বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কবে আরও অনেক লোক আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে’।পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়ের পুলিশ সুপার (এসপি) বিকাশ কুমার জানান, বিস্ফোরণে আহত একজনকে প্রথমে সুতঙ্গা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলং হাসপাতালে পাঠানো হয়।খনিটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল কিনা জানতে চাইলে কুমার বলেন, ‘হ্যাঁ, মনে হচ্ছে তাই।’ তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত করা হবে।উল্লেখ্য, জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) ২০১৪ সালে মেঘালয়ে পরিবেশগত ক্ষতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ‘র্যাট-হোল’ (সাধারণত ৩-৪ ফুট উঁচু সরু সুড়ঙ্গ খনন করা হয়) এবং অন্যান্য অবৈজ্ঞানিকভাবে কয়লা খনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, একই সাথে এই ধরনের পদ্ধতির মাধ্যমে উত্তোলিত কয়লা অবৈধ পরিবহণকেও সীমিত করেছিল। তবে তা সত্ত্বেও অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন চলছে এবং প্রায় এই ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এমআর-২
বৈঠকের আগেই হঠাৎ নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বললো যুক্তরাষ্ট্র
সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। ওমানের রাজধানী মাসকাটে দেশ দু’টির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। তবে বৈঠকের আগেই ইরানে থাকা নিজ নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্ডিয়া টুডে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অবস্থানরত তার নাগরিকদের জন্য একটি সতর্কতা জারি করেছে। দেশটিতে চলমান অস্থিরতা ও ভ্রমণ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে মার্কিনিদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভর না করেই ইরান ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস জানায়, ‘ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ এবং অনিশ্চিত পরিবহন সংযোগ’ এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। প্রতিবেদন অনুসারে, এসবের মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতাও নজরে এসেছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রায় নয় মাস পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। ওমান সময় শুক্রবার সকাল ১০টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লেও উভয় পক্ষ কূটনৈতিক পথ অনুসন্ধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সরকারের সহিংস পদক্ষেপের ঘটনায় মার্কিন প্রতিক্রিয়ার পরই এই আলোচনা শুরু হচ্ছে। যদিও বৈঠকের স্থান এবং এর পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আলোচনা পণ্ড হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই আলোচনাকে। উভয় দেশ এখনও বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকলেও আশা করা হচ্ছে, যদি আলোচনা সফল হয়, তাহলে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি দেশটির সমর্থন এবং নাগরিকদের প্রতি তাদের আচরণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যদিও ইরান বলেছে যে আলোচনা কেবল তার পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই মতপার্থক্যগুলো কতটা সমাধান হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। খুব শিগগিরই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানের ওপর বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে আক্রমণের জবাবে শক্তি প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরানও। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরাইলে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক সম্পদে আঘাত করার হুমকি দিয়েছে তারা। বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনায় যোগ দিতে তিনি এরইমধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পৌঁছেছেন বলে বিবিসি পার্সিয়ানের খবরে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এমআর-২
সিকিমে দফায় দফায় ভূমিকম্পের আঘাত, কেঁপে উঠল বাংলাদেশও
ভারতের সিকিমে দফায় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। অন্তত আট থেকে ১০ বার কম্পনে কেঁপে উঠেছে সিকিমের গ্যাংটক, নামচি ও মাঙ্গান এলাকা। সিকিমের এই সিরিজ ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও; বিশেষ করে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের নামচি এবং মাঙ্গান এলাকায়।বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়; যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬। এরপর রাত ২টা ৫০ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রা এবং ভোর ৩টা ৩১ মিনিটে ৪ দশমিক ০ মাত্রার আরও দুটি মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত অন্তত আরও ৫-৬টি ছোট আকারের আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।ভূমিকম্পগুলোর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে, যা অত্যন্ত অগভীর হওয়ার কারণে কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে।ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিকিম ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ ‘ফল্ট লাইন’-এর ওপর অবস্থিত। বড় কম্পনের পর ছোট ছোট আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক।এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমারের ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান কেঁপে ওঠে। এদিন ভোরেও সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।এমআর-২
বিশ্ববাজারে ফের দাম কমলো স্বর্ণ ও রুপার
বড় ধরনের দরপতনের পর সম্প্রতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল মূল্যবান ধাতুর বাজার। তবে সেই পুনরুদ্ধার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি-নির্ভর শেয়ারবাজারে ধস এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপে আবারও বড় ব্যবধানে কমছে স্বর্ণ ও রুপার দাম।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই দিন এপ্রিলে ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৭৫২ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।রুপার বাজারেও বড় দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৭ ডলারে নেমে এসেছে। আগের সেশনেই রুপার দাম ১৯ দশমিক ১ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল।অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ওঠানামা দেখা গেছে। ২৬ জানুয়ারি সর্বকালের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯১৮ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছানোর পর স্পট প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯১৬ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বেড়ে ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৩৮ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।পিএম
প্রতিরক্ষা খাতে সৌদি-তুরস্কের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর
নিজ নিজ দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক ও সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কায়রো সফর থেকে ফেরার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোয়ান।সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোয়ান জানিয়েছেন, মিশর সফরে তুরস্কের নিজস্ব উৎপাদিত স্টিলথ যুদ্ধ বিমান ‘কান’ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।এরদোয়ান বলেন, ‘কান নিয়ে আমরা অনেক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। এই ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে এবং আমরা চাইলে যে কোনো মুহূর্তে এই অংশীদারিত্ব বাস্তবায়ন করতে পারি।’তিনি আরও বলেন, আঙ্কারা ও রিয়াদ ‘বড় ধরণের’ প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তুরস্ক এ চুক্তি সম্প্রসারণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সম্পর্কে এরদোয়ান জানিয়েছেন, তিনি আশা করেন যে উভয় পক্ষ সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমাবে এবং এর জন্য আলোচনার টেবিল স্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ।গাজা পরিস্থিতি নিয়ে এরদোয়ান বলেছেন, গাজা শান্তি পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে তুরস্ক ।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সিএবি
খেলা
সব দেখুন- শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ডের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
- বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফেরালে বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মহারণ
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, জরুরি বৈঠক ডেকেছে আইসিসি
- বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ভারতের মুখোমুখি হলে যা করবে পাকিস্তান
- মারা গেছেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক রঞ্জিত দাস
- পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট নিয়ে যা বললো আইসিসি
বিনোদন
সব দেখুন
শাকিব-বুবলীর ঘরে আসছে নতুন অতিথি
ফের বাবা-মা হতে যাচ্ছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেতা শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী। প্রথম সন্তানের জন্মের ৫ বছর পর ফের মাতৃত্বের পথে হাঁটছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই নায়িকা।গত বছরের শেষের দিকে ছেলেকে নিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ছুটি কাটান বুবলী। তখন তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কথা ওঠে। অনেকেই বলতে শুরু করেন শাকিব-বুবলী ফের এক হতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সম্প্রতি বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। এটা গুঞ্জন হিসেবে চলতে শুরু করার মাঝেই জানা গেল ঘটনার সত্যতা। শাকিব ও বুবলীর ঘরে শেহজাদ খান বীর নামে এক সন্তান রয়েছে। শাকিব খানের পরামর্শেই সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী।বুবলী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তাই ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিং করতে চাইছেন না বুবলী। প্রথম দফায় আদর আজাদের বিপরীতে ৪ দিন শুটিংয়ে অংশও নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ের জন্য শিডিউল দিচ্ছিলেন না। সন্তান জন্মের পর শারীরিকভাবে ফিট হয়ে বাকি অংশের শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে প্রযোজক-পরিচালককে জানিয়েছেন বুবলী।সিনেমাটির প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, সিনেমার প্রথম লটে ৪ দিনের শুটিং হয়েছে। দ্বিতীয় লটে রোজার মধ্যে শুটিং থাকলেও বুবলীকে ছাড়া বাকি কাজ শেষ করতে হবে। সন্তান জন্ম দিতে এই মাসেই তিনি আমেরিকায় যাচ্ছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জুনে শিডিউল দিলেও আমরা ধারণা করছি, তখন তিনি পুরোপুরি ফিট নাও হতে পারেন। তাই সেপ্টেম্বরের দিকে শুটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।জানা গেছে, এখন বুবলী শুটিং করছেন না ঝুঁকির কারণে। তবে আগামীকাল রাজধানীর একটি শপিং কমপ্লেক্সে হাজির হবেন বুবলী। একটি আউটলেট-এর ওপেনিং সেরেমনি হবে বুবলীর হাত ধরে। সেখানেই বুবলী জানাতে পারেন মা হতে যাওয়ার বিষয়টি।এদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, বুবলী সন্তান জন্ম দিতে এ মাসেই উড়াল দেবেন যুক্তরাষ্ট্রে। শেহজাদ খান বীরেরও জন্ম হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বুবলী। এ খবর ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে বুবলী নিজেই সামনে আনেন। তবে তার আগে নানা নাটকীতায় অংশ নেন তিনি। মা হওয়ার খবর কেন্দ্র করে সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত মা হওয়ার গুঞ্জনই সত্যি হয়েছিল। এবারও দেখানো পথেই হাটছেন বুবলী। বর্তমানে এই অভিনেত্রীর ‘পিনিক’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায়। সর্বশেষ তাকে ‘জংলি’ সিনেমায় দেখা গেছে।এইচএ
জেলে যাওয়ায় কাছের বন্ধুরাও নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে ছবি মুছে ফেলেন
গ্রেপ্তার ও কারাবাসের দীর্ঘ কয়েকমাস পর অবশেষে সম্প্রতি পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। বিমানবন্দরে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরবর্তী ২ দিনের জেলজীবন তার জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুন করে চিনিয়েছে। শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গিয়েই তিনি প্রথম পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পান।ফারিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে- এমন খবর তিনি আগেই শুনেছিলেন। তবে সে সময় দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। ফারিয়া বলেন, গানের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে।কিন্তু তারা যখন আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।কারাগার থেকে বের হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে কাটানো মাত্র দুই দিনেই তিনি জীবনের বড় শিক্ষা পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল তার চারপাশের মানুষদের আচরণে।এই ঘটনার পর সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তার সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন। যেন তারা স্পষ্ট করে দিতে চান, এই মুহূর্তে তার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, কারণ তিনি তখন ঝামেলায় ছিলেন। নুসরাত ফারিয়ার ভাষ্য, এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কে আমার আপন, আর কে নয়। ফারিয়া বলেন, যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোর অস্তিত্বও নতুন করে চিনেছি।আজ তারা ফিরতে চাইলেও তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা- সবখানেই বড় পরিবর্তন দেখেছি। তবে কিছু মানুষও পেয়েছেন এই ঘটনার পর, যাদের জন্য আপ্লুত এই অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, এই ঘটনাটার পর যাদের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে বাচ্চা পর্যন্ত- সবার চোখেই আমি সেই দৃষ্টি দেখেছি। যেন তারা বলতে চেয়েছে, আমরা তোমার জন্য দোয়া করেছিলাম, আমরা চাইছিলাম তুমি ফিরে আসো। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সবকিছু ভুল দিকে যাচ্ছে।উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে নুসরাত ফারিয়া জানান, এক দিন, এক দিন এক রাত আমাকে জেলে থাকতে হয়েছিল। সেখানে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইভেন ইনসাইড দেম… জেলের ভেতরে জেলারের থেকে শুরু করে সবাই যে সহানুভূতি আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ট্রিট করেছে, আমি বলব- আমি ভেরি ব্লেসড। এটা পুরোপুরি আলাদা এক অভিজ্ঞতা।তবে বিষয়টি খুব বেশি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, এটা খুব কনফিডেনশিয়াল, সবাই জানুক- আমি তা চাই না। কিন্তু আমি রেসপেক্টেড ছিলাম, আমাকে নাইসভাবে ট্রিট করা হয়েছে। কোনো ধরনের ডিসরেসপেক্ট ছিল না, বরং আমি ভালোবাসাই পেয়েছি।নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমার তো খাওয়াই হজম হয়নি, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আমি কিছু খাইনি। কিন্তু দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে। সকালে রুটি ছিঁড়ে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে খাওয়াচ্ছে।তিনি আরও বলেন, আমি শুধু মনে করতে পারি—আমার চোখ দিয়ে টিয়ারড্রপ পড়ছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। এমন মানুষ, যাদের আমি চিনি না, হয়তো জীবনে আর কখনো দেখবও না। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমি মন থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের সব কষ্ট দূর করে দেন। কারণ ওই ক্রুশাল মোমেন্টে তারা আমার সঙ্গে কিছু না হয়ে শুধু ভালো আর দয়ালুই ছিল।উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়, যেখানে ফারিয়াকে আসামি করা হয়। মামলার নথিতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।এইচএ
বিড়ম্বনায় সাদিয়া ইসলাম মৌ হাঁটলেন আইনি পথে
ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিড়ম্বনায় আইনি পথে হাঁটলেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় মডেল, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও পরিচিতদের প্রতারিত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। শোবিজ দুনিয়ার এ উজ্জ্বল নক্ষত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব কমই একটিভ থাকেন। ভার্চুয়াল জগতে মৌ মাত্র একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানান। তার আইডির নাম ‘সাদিয়া ইসলাম’।অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সাদিয়া ইসলাম মৌ’ নামে একাধিক ফেসবুক আইডি বা পেজ রয়েছে। এ সব আইডি ভুয়া বলে দাবি করেন মৌ। ওই সব ভুয়া আইডিতে নিয়মিত স্ট্যাটাস দেয়া, ছবি আপলোড করা এবং পরিচিতজনদের পোস্টে মন্তব্য করা হচ্ছে বলে নজরে পড়ে তার।বিষয়টিতে চরম বিরক্তি, বিব্রতবোধ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৌ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের খুব সুন্দর করে অনুরোধ করছি এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করুন। আমার অনুমতি ছাড়া ছবি পোস্ট করা, লেখা দেয়া এসব আইনত অপরাধ। যারা এসব করছে, সাবধান হোন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থায় যা হওয়ার তাই হবে।মৌ আরও বলেন, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি এবং সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবো। ভক্ত, দর্শক ও পরিচিতজনদের উদ্দেশে আমি বলবো ভুয়া অ্যাকাউন্টের বন্ধু হয়ে আপনারা প্রতারিত হবেন না। আবারও বলছি, আমার কোনো ফ্যান পেজ নেই, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নেই।নব্বই দশকে বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল ও নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান সাদিয়া ইসলাম মৌ। ক্যারিয়ারে শীর্ষে থাকা অবস্থায় অভিনেতা জাহিদ হাসানকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে পুষ্পিতা নামে একটি কন্যা এবং পূর্ণ নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।এইচএ
২৩ বছর পর আবার মুক্তি পাচ্ছে সালমানের ‘তেরে নাম’
বলিউডের বিখ্যাত একটি চরিত্র রাধে। ২০০৩ সালের সিনেমা ‘তেরে নাম’-এ সালমান খান অভিনয় করেছিলেন এই চরিত্রটিতে। মুক্তির পর গান, গল্প ও সালমানের দুর্দান্ত অভিনয়ে সিনেমাটি ভারতবর্ষজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। কামাই করে নেয় কাড়ি কাড়ি টাকাও। পুনরায় দর্শকদের সামনে আসছে ছবিটি।সিনেমাটি ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের বিভিন্ন হলে প্রদর্শিত হবে। পিঙ্কভিলা এমনই তথ্য দিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সিনেমা আবার নতুন করে প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালের ‘তেরে নাম’-ও ফিরে আসছে। নতুন শোতে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সালমান খানের প্রেমিক চরিত্রের জন্য আলোচিত এই সিনেমা ধীরে ধীরে একটি কাল্ট ফলোয়িং অর্জন করেছে। এবার শক্তিশালী কমব্যাকের প্রত্যাশা রয়েছে ছবিটিকে ঘিরে।‘তেরে নাম’ সিনেমায় সালমান খানের অসহায়ত্বের অভিনয় দর্শকের মন কাঁদায় আজওসিনেমার জনপ্রিয় গানগুলো গেয়েছিলেন ছিলেন হিমেশ রেশমিয়া। সাজিদ ওয়াজিদ গানের সংযোজন করেছেন, এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সংগীত তৈরি করেছেন বিক্রম বিকি গোস্বামী। মুক্তির সময় এটি ১৫ আগস্টের বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রকাশ পেয়েছিল এবং বাজেটের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আয় করেছিল। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছে সিনেমার আবেগপূর্ণ দৃশ্যায়নের জন্য।সালমান খানের নায়িকা হয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান ভূমিকাগল্পের কেন্দ্রে রয়েছে রাধে মোহন চরিত্রে সালমান খান এবং নির্জারা ভরাডওয়াজ চরিত্রে ভূমিকা চাওলা। গল্পটি তাদের দুঃখজনক ও নাটকীয় প্রেমের উপর ভিত্তি করে যা নানা মোড় নিয়ে দর্শকদের অবাক করে। রাধে অবিরাম চেষ্টা করেন নির্জারাকে জিততে। যদিও তার পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা তাদের একসঙ্গে হতে বাধা দেয়।সিনেমার ট্র্যাজিক সমাপ্তি দর্শকদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে অম্লান হয়ে আছে। এবার বড় পর্দায় এই আবেগ পুনরায় অনুভব করার সুযোগ মিলবে।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ১৯.৬৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৯ কোটি ৬৫ লাখ (১৯৬.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ক্রয় করা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগে, গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ (১৭১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।এসব ডলার কেনার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬ মিলিয়ন বা ৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৪৫১৯.৫০ মিলিয়ন (৪৫১ কোটি ৯৫ লাখ) মার্কিন ডলার।এর আগ একই দরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার আগে গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৯৬.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছি। ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয়ের পরিমাণ ৪,৫১৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।এফএস
ফেব্রুয়ারির ৪ দিনে দেশে এলো ৫০ কোটি ডলার
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে দেশে প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ছয় হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে প্রবাস আয় এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাস আয় এসেছে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাস আয় এসেছিল ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।এবি
অনুরোধেও মন গলেনি শ্রমিক নেতাদের, সরকারকে আলোচনার আহ্বান ব্যবসায়ীদের
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলের লবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ উদ্বেগের কথা জানান তারা। এসময় তারা এনসিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।এর আগে এদিন দুপুর আড়াইটায় আগ্রাবাদ হোটেলের কর্ণফুলী হলে আন্দোলনকারী শ্রমিকদল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। এসময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জাতীয় নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে সংকটকালীন আন্দোলন পরিহার করার জন্য শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ জানালেও তারা তাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকেন। শ্রমিক নেতারা বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার ও এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে আলোচনার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীদের।সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেপজিয়া), সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সভা শেষে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ নেতা এবং এশিয়ান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ সালাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বন্দরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে শুধু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, তারাও (শ্রমিক) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ অনেক শ্রমিক দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন, তারাও মার খাচ্ছেন। এ অবস্থায় এখন ব্যবসায়ীরা চোখে অন্ধকার দেখছেন।এম এ সালাম বলেন, বন্দর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো- বাংলাদেশের লাইফ লাইন, ৯০ শতাংশ আমদানি রপ্তানি যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয় তা চারদিন বন্ধ থাকতে পারে না। একটা বিষয় সবাই খেয়াল করবেন, আগেও একদিন, দুদিন বন্দর বন্ধ ছিল- কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি। এবার প্রথম জাহাজ চলাচল বন্ধ। ইন্টারন্যাশনালি সবাই এটার দিকে তাকিয়ে আছে।এটা সুনাম বয়ে আনছে না, বরং দুর্নাম বয়ে আনছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারকে অনুরোধ করবো শিগগির আলোচনা করার জন্য। খুব একটা বড় সমস্যা নয়। আমরা যা আলোচনা করেছি, এটাতে কী উপকার হবে, কী অপকার হবে তা যদি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, নেগোসিয়েশনের কোনো বিকল্প নেই। সরকার গত চারদিন (আলোচনা) করেনি। এখন দ্রুত আলোচনা শুরু করলে, সেটি রাত হোক, দিন হোক কোনো ব্যাপার নয়, তারা কথা দিয়েছেন কাজে অংশগ্রহণ করবেন।এদিকে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ এ নেতা আরও বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসেছিলাম অনুরোধ করতে তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য। বিশদ আলোচনা হয়েছে, প্রায় চার ঘণ্টা। সামনে নির্বাচন, তিনদিনের ছুটি। এর সাত-আটদিন পর রমজান। রমজানের পণ্যগুলো কীভাবে ডেলিভারি করবে সেগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। গার্মেন্টস সেক্টর বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে কাজ করবে মাত্র ১৮ দিন, মার্চে কাজ করবে মাত্র ১৬-১৭ দিন। তিনি আরও বলেন, এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য যদি বন্দর বন্ধ থাকে উৎপাদন করা পণ্য যাবে না, আবার ভবিষ্যৎ কাঁচামাল আসবে না। এর ওপর আবার ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ থেকে চীনে ছুটি ১৬ দিনের জন্য। আমরা অসম্ভব ক্ষতির মুখে আছি, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং রমজানের বিষয়ে পুরো দেশবাসী। বন্দর যদি এভাবে বন্ধ থাকে বন্দরের যে চার্জেস আসবে তার দায়ভার ব্যবসার ওপর আসবে। ব্যবসার ওপর আসলেও ব্যবসায়ী তো আর দেবেন না, আলটিমেটলি কনজিউমারের ওপর যাবে। সে জন্যই আমরা উদ্বিগ্ন, সে জন্যই আমরা বসেছিলাম।তিনি বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন মাত্র বাকি। তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি সরকারকে অনুরোধ করা। এনসিটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়ে তারা কনসার্ন। আলোচনা ছাড়া কোনো সমাধান হবে না। যদি এনসিটি নিয়ে বৃহৎ আকারে আলোচনা হয় তারা কর্মসূচি বন্ধ রেখে কাজে যোগ দেবেন। সরকারের ওপরের লেভেলের সবাইকে অনুরোধ করছি, বন্দর ব্যবহারকারীরা এখন যে কষ্টে আছেন- দেশবাসী কষ্টে কিন্তু কাল থেকে পড়বে। মাত্র ১৫ দিন পরে ছোলা, খেজুর, কিশমিশ, ডালসহ রমজানের সব ভোগ্যপণ্য লাগবেই। সাপ্লাই চেন অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। অ্যাট দ্য সেম টাইম ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর ও রপ্তানি অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আলোচনা শুরু হলে, তাদের যদি কথা দেওয়া হয়, বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাহলে অনতিবিলম্বে কাজে ফেরত যাবেন।এদিকে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা এবং মঙ্গলবার থেকে টানা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির প্রভাবে কার্যত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জেটি, টার্মিনাল, শেড, ইয়ার্ডে টানা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ও শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকার যতক্ষণ ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে না আসবে ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতিতে সাড়া দিয়েছেন।জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে নতুন জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। এমনকি বহির্নোঙরে যাওয়ার জন্য তৈরি জাহাজগুলোও বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। আন্দোলনকারীরা বন্দরের প্রতিটি প্রবেশপথে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি।ফলে জেটি থেকে ইয়ার্ড—সর্বত্রই ছিল জনমানবহীন। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে রপ্তানি ও আমদানি পণ্যবাহী লরি ও ট্রেইলারের দীর্ঘ সারি থাকে। গতকাল গেটের দুই পাশ ছিল তালাবদ্ধ। মাঝে মধ্যে দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি যাতায়াতের জন্য ছোট দরজা খোলা হলেও পণ্যবাহী কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি। গতকাল পর্যন্ত জেটি ও বহির্নোঙরে ১৪২টি জাহাজ আটকা পড়েছিল। এর মধ্যে উল্লেযোগ্যসংখ্যক জাহাজে রয়েছে চিনি, ভোজ্যতেল ও ডালের মতো পণ্য।এদিকে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে শাস্তিমূলক বদলি করলেও তারা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি।এবি
এবার পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা
পে-স্কেলের দাবি বাস্তবায়নের জন্য টানা তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে সময় লাগলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।বর্তমান সরকারের অবস্থান ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরবর্তী সরকারের জন্য একটা স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অর্থনীতি দেড় বছরে ঠিক হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণভোটের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নয়। গণভোটের কারণে এবার নির্বাচনে অন্যবারের চেয়ে বরাদ্দ বেশি লাগছে।তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হবে কিছুটা।এফএস
৫ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ১০ হাজার ৯০৬ টাকা
মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিন দফা সোনার দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হম ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা।একদিনে তিন দফা কমানোর পর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এ দাম বাড়ানোর পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৮ হাজার ৯২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। আজ বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এ দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৬৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
স্বর্ণের দাম বাড়লো ভরিতে ৫৪২৪ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণের) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।গতকাল তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা। একদিনে তিন দফা কমানোর পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো। এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।এর আগে গতকাল বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা। আজ সকাল ১০টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত এই দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
রোজার আগেই বাড়ল মুরগি-খেজুর-লেবুর দাম
পব্ত্রি রমজানের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। এর মধ্যেই ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ লেবু ও খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মুরগি ও কাঁচা মরিচের দামও। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলছে সবজি ও পেঁয়াজের বাজারে।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। দেখা যায়, রমজানে বেশি চাহিদা থাকা লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। এরই সঙ্গে বেড়েছে খেজুরের দাম।খুচরা বিক্রেতারা বলেন, শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরই রোজার আগে লেবুর চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বেড়ে যায়। কারওয়ান বাজারের এক লেবু বিক্রেতা বলেন, এ সময় চাহিদা বেশি থাকে, সরবরাহও কমে যায়। তাই দাম একটু বাড়তি।এদিকে, তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে সবজির বাজারে। প্রতিকেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।পেঁয়াজের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বাজার করতে আসা ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের দাম এখন মোটামুটি ঠিক আছে। যদি এমন থাকে, তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি।গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, শবেবরাত উপলক্ষে মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে গরুর মাংস ও মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও যেখানে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে তা বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে।সোনালি মুরগির দাম বেড়ে বিভিন্ন জাতভেদে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে উঠেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১৮০ টাকা হয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম এখনো স্বস্তি দিচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।তবে মুরগির বাজারে বাড়তি চাপ দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি।বিক্রেতারা বলছেন, বিয়ে-শাদি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে। এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, এ সময় অনুষ্ঠান বেশি থাকে, চাহিদা বেড়ে যায়। তাই দাম একটু বেশি।বর্তমানে বাজারে কম দামে বিক্রি হয় জাহিদী খেজুর কেজি ২৮০ টাকা। এই খেজুরের দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২৫০ টাকার আশপাশে। অন্যান্য ধরনের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০-৭০০ টাকা; সুক্কারি ৭০০-৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এমআর-২
রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ১৯.৬৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৯ কোটি ৬৫ লাখ (১৯৬.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ক্রয় করা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগে, গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ (১৭১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।এসব ডলার কেনার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬ মিলিয়ন বা ৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৪৫১৯.৫০ মিলিয়ন (৪৫১ কোটি ৯৫ লাখ) মার্কিন ডলার।এর আগ একই দরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার আগে গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৯৬.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছি। ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৫৮৬.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয়ের পরিমাণ ৪,৫১৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।এফএস
ফেব্রুয়ারির ৪ দিনে দেশে এলো ৫০ কোটি ডলার
চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে দেশে প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ছয় হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে প্রবাস আয় এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাস আয় এসেছে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাস আয় এসেছিল ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার।এবি
অনুরোধেও মন গলেনি শ্রমিক নেতাদের, সরকারকে আলোচনার আহ্বান ব্যবসায়ীদের
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদ হোটেলের লবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ উদ্বেগের কথা জানান তারা। এসময় তারা এনসিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।এর আগে এদিন দুপুর আড়াইটায় আগ্রাবাদ হোটেলের কর্ণফুলী হলে আন্দোলনকারী শ্রমিকদল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা। এসময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং জাতীয় নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে সংকটকালীন আন্দোলন পরিহার করার জন্য শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ জানালেও তারা তাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকেন। শ্রমিক নেতারা বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার ও এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে আলোচনার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীদের।সভায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেপজিয়া), সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।সভা শেষে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ নেতা এবং এশিয়ান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ সালাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, বন্দরে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক কর্মবিরতিতে শুধু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, তারাও (শ্রমিক) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ অনেক শ্রমিক দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন, তারাও মার খাচ্ছেন। এ অবস্থায় এখন ব্যবসায়ীরা চোখে অন্ধকার দেখছেন।এম এ সালাম বলেন, বন্দর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো- বাংলাদেশের লাইফ লাইন, ৯০ শতাংশ আমদানি রপ্তানি যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয় তা চারদিন বন্ধ থাকতে পারে না। একটা বিষয় সবাই খেয়াল করবেন, আগেও একদিন, দুদিন বন্দর বন্ধ ছিল- কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি। এবার প্রথম জাহাজ চলাচল বন্ধ। ইন্টারন্যাশনালি সবাই এটার দিকে তাকিয়ে আছে।এটা সুনাম বয়ে আনছে না, বরং দুর্নাম বয়ে আনছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারকে অনুরোধ করবো শিগগির আলোচনা করার জন্য। খুব একটা বড় সমস্যা নয়। আমরা যা আলোচনা করেছি, এটাতে কী উপকার হবে, কী অপকার হবে তা যদি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, নেগোসিয়েশনের কোনো বিকল্প নেই। সরকার গত চারদিন (আলোচনা) করেনি। এখন দ্রুত আলোচনা শুরু করলে, সেটি রাত হোক, দিন হোক কোনো ব্যাপার নয়, তারা কথা দিয়েছেন কাজে অংশগ্রহণ করবেন।এদিকে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের শীর্ষ এ নেতা আরও বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসেছিলাম অনুরোধ করতে তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য। বিশদ আলোচনা হয়েছে, প্রায় চার ঘণ্টা। সামনে নির্বাচন, তিনদিনের ছুটি। এর সাত-আটদিন পর রমজান। রমজানের পণ্যগুলো কীভাবে ডেলিভারি করবে সেগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। গার্মেন্টস সেক্টর বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে কাজ করবে মাত্র ১৮ দিন, মার্চে কাজ করবে মাত্র ১৬-১৭ দিন। তিনি আরও বলেন, এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য যদি বন্দর বন্ধ থাকে উৎপাদন করা পণ্য যাবে না, আবার ভবিষ্যৎ কাঁচামাল আসবে না। এর ওপর আবার ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ থেকে চীনে ছুটি ১৬ দিনের জন্য। আমরা অসম্ভব ক্ষতির মুখে আছি, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এবং রমজানের বিষয়ে পুরো দেশবাসী। বন্দর যদি এভাবে বন্ধ থাকে বন্দরের যে চার্জেস আসবে তার দায়ভার ব্যবসার ওপর আসবে। ব্যবসার ওপর আসলেও ব্যবসায়ী তো আর দেবেন না, আলটিমেটলি কনজিউমারের ওপর যাবে। সে জন্যই আমরা উদ্বিগ্ন, সে জন্যই আমরা বসেছিলাম।তিনি বলেন, নির্বাচনের কয়েকদিন মাত্র বাকি। তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি সরকারকে অনুরোধ করা। এনসিটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়ে তারা কনসার্ন। আলোচনা ছাড়া কোনো সমাধান হবে না। যদি এনসিটি নিয়ে বৃহৎ আকারে আলোচনা হয় তারা কর্মসূচি বন্ধ রেখে কাজে যোগ দেবেন। সরকারের ওপরের লেভেলের সবাইকে অনুরোধ করছি, বন্দর ব্যবহারকারীরা এখন যে কষ্টে আছেন- দেশবাসী কষ্টে কিন্তু কাল থেকে পড়বে। মাত্র ১৫ দিন পরে ছোলা, খেজুর, কিশমিশ, ডালসহ রমজানের সব ভোগ্যপণ্য লাগবেই। সাপ্লাই চেন অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। অ্যাট দ্য সেম টাইম ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর ও রপ্তানি অসম্ভব ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আলোচনা শুরু হলে, তাদের যদি কথা দেওয়া হয়, বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাহলে অনতিবিলম্বে কাজে ফেরত যাবেন।এদিকে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা এবং মঙ্গলবার থেকে টানা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির প্রভাবে কার্যত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জেটি, টার্মিনাল, শেড, ইয়ার্ডে টানা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ও শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকার যতক্ষণ ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে না আসবে ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতিতে সাড়া দিয়েছেন।জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে নতুন জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। এমনকি বহির্নোঙরে যাওয়ার জন্য তৈরি জাহাজগুলোও বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। আন্দোলনকারীরা বন্দরের প্রতিটি প্রবেশপথে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি।ফলে জেটি থেকে ইয়ার্ড—সর্বত্রই ছিল জনমানবহীন। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে রপ্তানি ও আমদানি পণ্যবাহী লরি ও ট্রেইলারের দীর্ঘ সারি থাকে। গতকাল গেটের দুই পাশ ছিল তালাবদ্ধ। মাঝে মধ্যে দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি যাতায়াতের জন্য ছোট দরজা খোলা হলেও পণ্যবাহী কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি। গতকাল পর্যন্ত জেটি ও বহির্নোঙরে ১৪২টি জাহাজ আটকা পড়েছিল। এর মধ্যে উল্লেযোগ্যসংখ্যক জাহাজে রয়েছে চিনি, ভোজ্যতেল ও ডালের মতো পণ্য।এদিকে, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে শাস্তিমূলক বদলি করলেও তারা বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি।এবি
এবার পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা
পে-স্কেলের দাবি বাস্তবায়নের জন্য টানা তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে সময় লাগলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।বর্তমান সরকারের অবস্থান ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরবর্তী সরকারের জন্য একটা স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অর্থনীতি দেড় বছরে ঠিক হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণভোটের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নয়। গণভোটের কারণে এবার নির্বাচনে অন্যবারের চেয়ে বরাদ্দ বেশি লাগছে।তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হবে কিছুটা।এফএস
৫ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ১০ হাজার ৯০৬ টাকা
মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিন দফা সোনার দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হম ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা।একদিনে তিন দফা কমানোর পর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এ দাম বাড়ানোর পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৮ হাজার ৯২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। আজ বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এ দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৬৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
‘যারা মুচলেকা দিয়ে পালিয়েছেন তাদের বিশ্বাস করবো না’
আমরা দেখেছি অনেক নেতা জুলাই আন্দোলনের দেড় বছর পর দেশে এসেছেন। তারা আজকে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া কথাবার্তা বলছেন। তাদের এ ভুয়া কথাবার্তা আপনারা বিশ্বাস করবেন না। আমরা কাজের কথা বিশ্বাস করবো। যারা ইতোমধ্যে তাদের কাজের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রমাণ করেছেন। যারা দেশ থেকে মুচলেকা দিয়ে পালিয়েছেন তাদের বিশ্বাস করবো না বলে জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বাউফল পাবলিক স্কুল মাঠে জামায়াতের বাউফল উপজেলার নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপির সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে। আমরা দেখতে পাই বাংলাদেশের পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এ পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের চার কোটি তরুণ রয়েছেন। তারা ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ডাকসু থেকে শুরু হয়েছে, সর্বশেষ জকসু গিয়ে শেষ হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হয়ে আসার পর বলেছিলাম শিক্ষার্থীদের নেতা হবো না, আমরা তাদের প্রতিনিধি হবো। আমরা তাদের সেবক হবো। আমরা আমাদের ছোট ভাইদের একজন অভিভাবক হবো।’সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, আগামীর যে বাংলাদেশ হবে সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ডা. শফিকুর রহমান। তারা সবসময় আপনাদের কাছে জবাবদিহি করবে। আপনাদের তাদের কাছে যেতে হবে না। আপনার এমপি, আপনার মন্ত্রী আপনার কাছে যাবে। আপনার অধিকার নিশ্চিত করবে।’এ সময় জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান, পটুয়াখালী-২ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জেলার চারটি আসনের মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।এমআর-২
নির্বাচনের আগে সুসংবাদ পেলেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) শিক্ষক ও কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক ব্যাংকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অর্থ শাখা থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক আজ অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।এতে করে শিক্ষক-কর্মচারীরা পরবর্তী কার্যদিবসে নিজ নিজ ব্যাংক থেকে জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন।এফএস
এমপিওভুক্ত হচ্ছে আরও ১ হাজার ৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এমপিওভুক্ত হতে যাচ্ছে দেশের আরও ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী সপ্তাহেই সরকার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে পারে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগের সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর মাত্র দুই সপ্তাহ। শেষ সময়ে এসে তাই দ্রুতগতিতে বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে চায় সরকার।এর আগে গত মাসে অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন আহ্বান করে সরকার।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করা হয়েছে। এ জন্য সরকারকে গুনতে হবে বছরে বাড়তি ৬৭০ কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে দরকার হবে ১৬৭ কোটি টাকা। যেখানে ইতোমধ্যে সংশোধিত বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, তালিকায় নিম্ন-মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৭১। যেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬২৩টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০৫টি এবং ১৪৫টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ রয়েছে। এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষায় ৭৮টি দাখিল, ২০২টি আলিম এবং ৩৫টি ফাজিল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের অন্তত অর্ধেক সময়জুড়েই বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির দাবিতে রাস্তায় সরব ছিলেন শিক্ষকরা। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতিতে শুরুর দিকে খানিকটা রক্ষণশীল থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর গত বছরের শেষ দিকে নমনীয় হয় সরকার। ফলে চূড়ান্ত করা হচ্ছে এমপিওভুক্তির নীতিমালা।এমআর-২
নির্বাচনের আগে হাবিপ্রবিতে ভর্তির তড়িঘড়ি, ভোগান্তির আশঙ্কা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) স্নাতক প্রথম মেধা তালিকা থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম নির্ধারিত হয়েছে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি, অথচ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন দূরবর্তী অঞ্চল থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের দিনাজপুরে আসতে হবে। অভিভাবকরা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের আগে যাতায়াত ও নিরাপত্তাজনিত কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। বিশেষ করে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে দূরপাল্লার যান চলাচল সীমিত করার সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনী সভা, মিটিং-মিছিলের কারণে ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়তে পারেন। ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা যায়, তারা নির্বাচনের পর ভর্তি কার্যক্রম আয়োজনের সুপারিশ করেছিলেন। তবে উপাচার্য প্রফেসর ড. এনামউল্যা সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে একক সিদ্ধান্তে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে বিমানে অবস্থান করছেন এবং কথা বলতে পারবেন না বলে ফোন কেটে দেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ভর্তি কার্যক্রম নির্বাচনের পর নির্ধারণ করলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও অংশগ্রহণ আরও নির্বিঘ্ন হতো। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকালীন ছুটির কোনো নোটিশ না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের আমেজ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছেন। এসআর
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন মামলার মুখে পড়েছে বিশ্বের ৩ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্ম ফেসবুক, গুগল ও টিকটক। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরি এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। এএফপির প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে আদালত এই মামলার জুরি নির্বাচন শুরু করবে। এই মামলাকে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসের একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।এই মামলার রায় ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে গেলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের আরও হাজারো মামলার ঢেউ উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতে মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। কম বয়সি শিশু, তরুণ ও তরুণীরা ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সেবা ও পণ্য ব্যবহার করে অবসাদ, খাবারে অনাসক্তি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি, আত্মহত্যাও করেছেন—এমন দাবি করেছেন বাদী পক্ষের হাজারো মানুষ। বাদী-পক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে তামাক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা আইনি কৌশল বেছে নিচ্ছেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিশ্বখ্যাত সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ পণ্য বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক নিয়োগের পর আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিচারপতি ক্যারোলিন কুল-এর আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সি এক মার্কিন নারী। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে শুধু নামের আদ্যাক্ষর ‘কে জি এম’ ব্যবহার করে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে তিনি ‘মানসিক ক্ষতির’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলা ও আদালতের অভিযোগ গ্রহণের নজির নেই। সোশাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বার্গম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবারই প্রথম কোনো সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের ক্ষতি করার অভিযোগে বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’ বার্গম্যানের আইনজীবীরা এ ধরনের প্রায় এক হাজার মামলার দায়িত্বে আছেন। আইনজীবীদের এই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে তরুণ-তরুণীদের ক্ষতি করার জন্য সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে। বার্গম্যান বলেন, ‘কে জি এম ও তার পরিবার যে একটি আদালতকক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ক্ষমতাবান ও বিত্তবান প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে পেরেছেন, এটাই একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এ ধরনের মামলাগুলো জেতা অনেক কঠিন এবং আগের, একই ধরনের ঘটনার নজির ও তথ্য-প্রমাণ টেনে বিজয়ী হওয়ার দায়ভার আমাদের ওপর বর্তেছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা কেজিএম-এর (মানসিক) ক্ষতি নিশ্চিত করে। এই দায়িত্ব আমরা খুশি মনেই কাঁধে নিয়েছি।’ এই বিচারের রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের সব মামলার রায়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে মত দেন বার্গম্যান। গত সপ্তাহে অপর সমাজমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট আদালতের বাইরে চুক্তি করে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর দাবি, মার্কিন যোগাযোগ নৈতিকতা আইনের ২৩০ ধারা তাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছেন, তা নিয়ে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেহাই দেয় এই ধারা। তবে মামলায় বিবাদীদের যুক্তি—সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে। পাশাপাশি সেখানে এমন সব কনটেন্টের প্রচারণা করা হয়, যা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। বার্গম্যান আরও বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকারক কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে না পারার জন্য মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছি না।’ তার ভাষায়, ‘তাদের দোষ, তারা এমনভাবে প্ল্যাটফর্মগুলো বানিয়েছে যা শিশুদের আসক্ত করে তোলে। তাদের এলগরিদম এমন যে শিশুরা কনটেন্ট থেকে চোখ সরাতে পারে না।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতেও একই ধরনের অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে উল্লেখিত তিন প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো : সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৭ জনের যাবজ্জীবন, দুইজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড ও রাজসাক্ষী আফজালকে খালাস দিয়েছেন আদালাত। একইসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর ২ সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহা ও যুবলীগ নেতা রনি ভূইয়া। মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।পলাতক ৮ আসামি হলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউসনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহমেদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অপর প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে ৪ আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।গত ২০ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল।এ মামলায় প্রাথমিকভাবে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় ১১ আসামির নাম উল্লেখ করে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে আটজন প্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। পেট্রল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ছাড়া এর আগের দিন একজন শহীদ হয়েছিলেন।এ ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন তিনি।এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া সাক্ষী করা হয়েছে ৬২ জনকে। এর মধ্যে ২৬ জন সাক্ষী দেওয়ার পর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। গত ২ জুলাই জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ ছাড়া গ্রেপ্তার ৮ আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
মোজাম্বিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বাংলাদেশ: ১০ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান
আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা এবং ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা; ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।এই সংকটময় সময়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে মোজাম্বিক সরকার। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোজাম্বিক সরকারকে ১০ লাখ টাকা সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।গতকাল ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) মোজাম্বিকের রাজধানী মাপুতুতে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুয়েলা দোস সান্তোস লুকাসের হাতে এই সহায়তার অর্থ তুলে দেন দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহ আহমেদ শফী।এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত শাহ আহমেদ শফী বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত মোজাম্বিকবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মোজাম্বিক দ্রুত এই দুর্যোগ কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক সহায়তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করে মোজাম্বিক সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিস লুকাস বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।এনআই
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে। এইচএ
