প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবেন জামায়াত আমির
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যুমনায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে থাকবে।দলের অন্য সদস্যরা হলেন- নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।এর আগে সবশেষ গত বছর অক্টোবরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতের প্রতিনিধি দল৷এইচএ
চলছে শেষ দিনের আপিল শুনানি, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েও সিদ্ধান্ত দেবে ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রির্টানিং কর্মকর্তাদের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানির শেষ দিন আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীরা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এদিন সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে শেষ দিনের আপিল শুনানি শুরু হয়। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আজ অবশিষ্ট সব আপিলের শুনানি গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। বাতিল হয়েছে ২০০টি আবেদন। স্থগিত রয়েছে ৩০টি। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) অষ্টম দিনে ১১২টি আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা হয়। এতে ৪৫টি আপিল মঞ্জুর হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে ৪৩টি আবেদন এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে দুটি আবেদন। কমিশন ৩৭টি আপিল নামঞ্জুর করেছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে নামঞ্জুর হয়েছে ১৩টি আবেদন এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে নামঞ্জুর হয়েছে ২৪টি আবেদন। এছাড়া শুনানিকালে ৯টি আপিল আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং ২ জন আপিলকারী অনুপস্থিত ছিলেন। আর ১৯টি আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ রাখে কমিশন। গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের বিপরীতে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।এইচএ
জাতীয়
সব দেখুন
নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি
৩টি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ও দাবিকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।তাদের দাবি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।এছাড়া ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন, বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি ভয়াবহ অশনিসংকেত।অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল নেতারা বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ব রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তাহলে গণতন্ত্র ও ছাত্র রাজনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা অবিলম্বে এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।এইচএ
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবেন জামায়াত আমির
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যুমনায় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে থাকবে।দলের অন্য সদস্যরা হলেন- নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।এর আগে সবশেষ গত বছর অক্টোবরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জামায়াতের প্রতিনিধি দল৷এইচএ
রাজধানীর শ্যামপুর থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানী শ্যামপুরে ফুটপাত থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে শ্যামপুর থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।শ্যামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল সুমন জানান, শ্যামপুর ঢালকানগর এলাকায় ময়লার স্তূপ থেকে কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ওই নবজাতককে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলেনও জানান তিনি।এইচএ
বিকেলে সিইসির সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, রবিবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তোলে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তখন নির্বাচন কমিশনের কাছে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করে। বিএনপির অভিযোগ, পোস্টাল ব্যালট প্রস্তুত ও প্রেরণের পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে, যার ফলে দলটি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোটার স্লিপ সংক্রান্ত আচরণবিধি নিয়েও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং একাধিক রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগও তুলে ধরে বিএনপি। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই আজকের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এইচএ
মগবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে নারীর আত্মহত্যা
রাজধানী হাতিরঝিল থানাধীন বড় মগবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে শম্পা আক্তার (২৬) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৭টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে পাঠানো হয়।নিহত ওই নারী বড় মগবাজারে আশরাফুল ভিলার ৭তলার ৬তলায় স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে ভাড়া থাকতেন।হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মো. রেজোয়ান বাবু জানান, আমরা খবর পেয়ে সকালের দিকে বড় মগবাজারের একটি বাসার ৭তলা ভবনের ৬তলার একটি কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়।তিনি আরও জানান, আমরা পরিবারে কাছ থেকে জানতে পারি পারিবারিক কলহের জেরে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নেন ওই নারী। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এইচএ
চলছে শেষ দিনের আপিল শুনানি, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েও সিদ্ধান্ত দেবে ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রির্টানিং কর্মকর্তাদের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানির শেষ দিন আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীরা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এদিন সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে শেষ দিনের আপিল শুনানি শুরু হয়। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, আজ অবশিষ্ট সব আপিলের শুনানি গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। বাতিল হয়েছে ২০০টি আবেদন। স্থগিত রয়েছে ৩০টি। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) অষ্টম দিনে ১১২টি আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা হয়। এতে ৪৫টি আপিল মঞ্জুর হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে ৪৩টি আবেদন এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে দুটি আবেদন। কমিশন ৩৭টি আপিল নামঞ্জুর করেছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে নামঞ্জুর হয়েছে ১৩টি আবেদন এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে নামঞ্জুর হয়েছে ২৪টি আবেদন। এছাড়া শুনানিকালে ৯টি আপিল আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং ২ জন আপিলকারী অনুপস্থিত ছিলেন। আর ১৯টি আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ রাখে কমিশন। গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের বিপরীতে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।এইচএ
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে অনীহা ও শৈথিল্য দেখালে ব্যবস্থা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতন হয়ে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য বা ভুল তথ্য প্রদর্শন করলে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর বিধান অনুসরণ সংক্রান্ত পরিপত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাতে বলা হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগও তাদের আওতাধীন সকল অধিদপ্তর, দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে পত্র পাঠিয়েছে।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. খালিদ হোসেন মন্ত্রণালয়ের পত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, গত ৯ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিবুল আলম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনাপত্র পত্র আমাদের কাছে এসেছে।সহকারী পরিচালক বলেন, ‘আমরা আমাদের অধস্তন মাঠ পর্যায়ের সকল অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এবং সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্র ও নির্দেশনাপত্রটি পাঠিয়ে দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সকলকে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুসরণ করে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে।’এর আগে সরকারের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধাস্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান/সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের কাছে পাঠানো গত ৩০ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর বিধানবলির প্রতি সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে। এই আইনের ৪ ধারায় নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি এবং ৫ ধারায় শৃঙ্খলামূলক বিধানাবলি বিধৃত রয়েছে।পরিপত্রে যা আছে:মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার এবং ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।এছাড়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধাস্বায়ত্তশাসিত অফিস/প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে থেকে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সকলেই ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’ হিসেবে গণ্য হবেন এবং তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিকট দায়ী থাকবেন।নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর কথা উল্লেখ করে পরিপত্রে আরও বলা হয়, নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব পালনে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য বা ভুল তথ্য প্রদান করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এ অভিযোগে নির্বাচন কর্মকর্তাকে সরকার অভিযুক্ত করতে পারবে এবং শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ নির্বাচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাউশি, নায়েম, ব্যানবেইস, এনটিআরসিএ, এনসিটিবি, ইইডিসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:পরিপত্রে সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র না থাকলেও নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা কমিশনের কোনো নির্দেশ পালন বা তথ্য সরবরাহের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন। দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা যাবে এবং শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা ও সম্পাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীকে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সাথে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনে কোনোরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেছে।এফএস
পে স্কেল কার্যকর চলতি মাসেই, কার বেতন কত বাড়ছে?
অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি নতুন বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেবে বেতন কমিশন।এরপর প্রতিবেদনটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।নতুন বেতনকাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। বেতন কমিশনের হিসাবে, প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। সুপারিশকৃত কাঠামোয় নিচের দিকের গ্রেডগুলোর বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে বেতন কমিশন গঠন করা হয়।সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। ২১ সদস্যের এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।এফএস
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় ট্রাম্পের চেয়েও এগিয়ে তারেক রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়েবসাইট সোশ্যাল ব্ল্যাড প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তার অবস্থান ৬৩ নম্বরে। এমনকি জনপ্রিয়তার দিক থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।তালিকায় দেখা যায়, ফেসবুকে কনটেন্ট পোস্টের সংখ্যা ও আলোচনার মাত্রার ভিত্তিতে তারেক রহমানের অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও ওপরে।সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম সোশ্যাল ব্ল্যাড–এর তথ্যমতে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বর্তমানে মোট লাইক সংখ্যা ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৬, আর টকিং অ্যাবাউট বা এনগেজমেন্ট রয়েছে ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭২।এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সোশ্যাল ব্ল্যাড র্যাঙ্কিংয়ে তারেক রহমানের অবস্থান ৬৩তম, যেখানে পেজটি পেয়েছে এ ++ গ্রেড। সবশেষ ১৪ দিনে তার পেজে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার নতুন লাইক, দৈনিক গড়ে লাইক বৃদ্ধির হার ৩৯ হাজারের বেশি। ফেসবুক কার্যক্রম ও আলোচনার পরিসংখ্যান বিবেচনায় বিএনপির চেয়ারম্যানের এই পেজটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সক্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ফেসবুক পেজগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে।সোশ্যাল ব্ল্যাডের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যাদের নিয়ে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করা হয়, তাদেরই ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই হিসেবে তারেক রহমান বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন।এইচএ
বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় ট্রাম্পের চেয়েও এগিয়ে তারেক রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়েবসাইট সোশ্যাল ব্ল্যাড প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তার অবস্থান ৬৩ নম্বরে। এমনকি জনপ্রিয়তার দিক থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।তালিকায় দেখা যায়, ফেসবুকে কনটেন্ট পোস্টের সংখ্যা ও আলোচনার মাত্রার ভিত্তিতে তারেক রহমানের অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও ওপরে।সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম সোশ্যাল ব্ল্যাড–এর তথ্যমতে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বর্তমানে মোট লাইক সংখ্যা ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৬, আর টকিং অ্যাবাউট বা এনগেজমেন্ট রয়েছে ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭২।এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সোশ্যাল ব্ল্যাড র্যাঙ্কিংয়ে তারেক রহমানের অবস্থান ৬৩তম, যেখানে পেজটি পেয়েছে এ ++ গ্রেড। সবশেষ ১৪ দিনে তার পেজে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার নতুন লাইক, দৈনিক গড়ে লাইক বৃদ্ধির হার ৩৯ হাজারের বেশি। ফেসবুক কার্যক্রম ও আলোচনার পরিসংখ্যান বিবেচনায় বিএনপির চেয়ারম্যানের এই পেজটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সক্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ফেসবুক পেজগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে।সোশ্যাল ব্ল্যাডের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যাদের নিয়ে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করা হয়, তাদেরই ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই হিসেবে তারেক রহমান বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন।এইচএ
‘মব সন্ত্রাস’ করে জুলাই ঐক্য নষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: নুরুল হক নুর
নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল ‘মব সন্ত্রাস’ চালিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জাতীয় ঐক্য নসাৎ করতে নানা বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা রেললাইন এলাকায় আয়োজিত এক শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পূর্বে একটি মহল ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধি অবস্থান নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছিল। তবে ৫ আগস্টের পরে তারা রাতারাতি বদলে যায়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে তারাই এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভারতের দালাল বলে আখ্যা দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তারা অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।‘ঢাকাস্থ গলাচিপা-দশমিনার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত এই শোক সভায় গণঅধিকার পরিষদের জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।এবি
আঙুল উঁচিয়ে ‘শেষবার’ ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করলেন রুমিন ফারহানা!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা তাঁর মতবিনিময়সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেখে বেশ চটেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখালেও কিছু করা হয় না উল্লেখ করে চটে যান তিনি। শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মতবিনিময়সভা করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানের ভ্রাম্যমাণ আদালত রুমিন ফারহানার সমর্থক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াগাঁও ইসলামাবাদ গ্রামের লোকজন শনিবার দুপুরে রুমিন ফারহানার সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করে। আয়োজনে কোনো ব্যানার বা মাইক ছিল না। রুমিন ফারহানা এ আয়োজনে হাজির হলে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান উপস্থিত হন। রুমিন ফারহানাকে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন।তবে রুমিন ফারহানা বক্তব্য দিয়ে মঞ্চ থেকে নামেন। যাওয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে বেশ ক্ষিপ্ত হন।এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে বলতে শুনা যায়, ‘এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি স্যার। দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ।’ এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শুনতে যায়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তো আমরা ব্যবস্থা নেব। তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সব জায়গায় হচ্ছে।’ পাশের একজন বলেন, ‘আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় কিছু বলতে পারেন না।’ তখন রুমিন বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচিয়ে বলেন, ‘এইরকম দেখায় আপনাদেরকে।প্রশাসনে বসে আছেন। খোঁজ নেন।’ সবাইকে চুপ থাকতে বলে রুমিন বলেন, ‘আজকে শুনছি। আঙুল তুলে বলে গেলাম ভবিষ্যতে আর শুনব না। আমি যদি না বলি এখান থেকে বের হতে পারবেন না। বের হতে পারবেন না স্যার, মাথায় রাখবেন। আমি রুমিন ফারহানা, কোনো দল লাগে না।’ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বিধায় ওনাকে (রুমিন ফারহানা) চলে যেতে বলা হয়। ওনি যাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবুবকর সরকার বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫ এর ১৮ এর ধারায় একজনকে জরিমানা করা হয়।এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি আশা করব এ নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ আচরণ করবে। পক্ষ হয়ে কিছু করবে নাএফএস
ইসলামী আন্দোলনের জন্য জোটের দরজা খোলা: জামায়াত
আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, জামায়াত বলেছে এখনও জোটের দরজা খোলা রয়েছে দলটির জন্য।শনিবার রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকের বিষয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সবার জন্য জামায়াতের দরজা খোলা আছে।’আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে মতবিরোধে ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে গত শুক্রবার। এর আগের দিন জামায়াত, এনসিপিসহ ১০ দল ২৫০ আসনে সমঝোতা ঘোষণা করে। পাঁচটি উন্মুক্তসহ ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০টি আসন রাখা হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন ৪৫ আসনে সমঝোতায় রাজি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ার পর ৩০ আসনে ছাড় পাওয়া এনসিপি এবং ২০ আসন পাওয়া বাংলাদেশ খেলাফতও কিছু আসন নতুন করে চাইছে।এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার বলেন, ‘আসনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে লিয়াজোঁ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে জানালে শীর্ষ নেতৃত্ব বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।’দলীয় ইশতেহার চূড়ান্ত করাসহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আলোচনা চলছে বলে জানিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘পরিষদের সদস্য ছাড়াও মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল ও বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন বৈঠকে। নির্বাচনী প্রচারের সূচিও ঠিক হবে এ বৈঠকে।’এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নীতি চূড়ান্ত করতে বৈঠকে পেশ করছে। তারপর তা দলীয় ইশতেহারে যুক্ত হবে। জাতিকে জানানো হবে এবং দলের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হবে।’এফএস
নির্বাচনে ঋণ খেলাপিদের সুযোগ দিলে আন্দোলনের হুশিয়ারি আসিফের
আপিল শুনানিতে এফিডেভিটের মাধ্যমে ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।আসিফ মাহমুদ বলেন, আগামীকাল (রোববার) আপিল শুনানির শেষ দিনে যদি ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে অ্যাকশনে যাব।তিনি আরও বলেন, বিদেশি নাগরিককে নির্বাচন করতে দেবো না। কোনো ব্যাখ্যা বা এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে কমিশন তাদের কোনো সুযোগ দিলে আদালত ও রাজপথে লড়ব।বিএনপির দিকেও আঙ্গুল তুলে এনসিপির এ নেতা বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের ধারক বলে প্রচার করলেও তারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে।এসময় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা অভিযোগ করেন, বিএনপির অনেকে ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে অংশ নেয়ার চেষ্টা করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে তাদের বৈধতা দিয়েছে। দ্বৈত্ব নাগরিকত্ব বিষয়ে ইসি সংবিধানের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছে, এটি খুবই বিপজ্জনক প্রবৃত্তি। কমিশন আইন অনুসরণ করবেন, ব্যাখ্যা দেয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।আরডি
তারেক রহমানের সাথে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।এ সময় সারাহ কুক বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতি যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।এর আগে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূত।আরডি
ইসিতে আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও হাসনাত আব্দুল্লাহর বাকবিতণ্ডা, যা ঘটেছিল
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে শুনানির সময় ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও আলোচিত ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন ভবনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।আইনজীবীদের ব্যাখ্যা শেষে কমিশন দুপুরে আধাঘণ্টার জন্য শুনানি মুলতবি করলে কমিশন কক্ষ ত্যাগের পর আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিরোধী পক্ষের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এতে অডিটোরিয়ামে অন্য শুনানির জন্য উপস্থিত এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ আপত্তি জানালে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায় তাবিথ আউয়াল তার বাবা আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে কমিশন থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।বিরতির পর শুনানি শুরু হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ কমিশনের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। ব্লাডি সিটিজেন, বলে গালিগালাজ করেন এবং বল প্রয়োগেরও চেষ্টা করেন। এ সময় এনসিপির এই নেতা ইসির কাছে রুলিং দাবি করেন।পরে গণমাধ্যমকর্মীদের হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা এলিটিসিজম দেখাতে আসে তারা রাজনৈতিক এলিটিসিজম বাসায় রেখে তারপর যেন বের হন। আপনি ব্লাডি সিটিজেন বলবেন, আবার তাদের কাছেই ভোট চাইবেন, সেটি হবে না।আবদুল আউয়াল মিন্টুকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত বলেন, তার মতো বিদেশে টাকা পাচারকারী এলিটব্রিড আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নিজেদের ব্যবসা ঠিক রাখে। রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা ব্যবসা করেন, সেফ এক্সিট নেন, তাদের চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে দেখতে চাই না।তিনি আরও বলেন, স্বয়ং ইসির সামনে যেভাবে মানুষকে প্রহার করা হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য। অন্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা ইসি কীভাবে নিশ্চিত করবে? ইসি হাদির ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলার চেষ্টা করেছেন। আগে ঢাবিতে দেখতাম প্রক্টরের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে গেলে লিখিত দিতে বলতো। এখন ইসির রেসপন্স সেরকম মনে হয়েছে।এফএস
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
পুরান ঢাকায় কারখানায় আগুন
পুরান ঢাকার নাজিরা বাজার এলাকায় একটি জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে পুরান ঢাকার ওই কারখানায় আগুনের খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। পরে একে একে চারটি ইউনিট প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত পৌনে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক (জোন-১) মো. এনামুল হক জানান, জুতার কারখানাটি একটি চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত। খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। ইতোমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিস্তারিত তদন্তের পর আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বলা যাবে।এফএস
সোমবার আবারও সাইন্সল্যাবে গণজমায়েতের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি দিয়েছে রাজধানীর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ স্থাপন করে গণজমায়েতের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের প্রতিনিধি ও ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাওলাদার।এতে বলা হয়েছে, সাত কলেজের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ এর খসড়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।খসড়াটি প্রকাশের পর তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে একাধিক পরামর্শ সভা আয়োজন করে। এসব সভায় প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে খসড়াটি হালনাগাদ করা হয়।সর্বশেষ গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের টানা অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যেই আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারি করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।এতে আরও বলা হয়েছে, এক দফা দাবিতে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অবিলম্বে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির লক্ষ্যে আগামী সোমবার সকাল ১১টায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে গণজমায়েত ও ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ স্থাপন করা হবে। ওই মঞ্চ থেকেই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান আন্দোলনের নেতারা।এর আগে, গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে অর্ধ দিনব্যাপী রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর রাস্তায় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়।আরডি
উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক
রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি সাততলা ভবনে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের ছয়জন নিহত এবং আরও অনেকে দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় জামায়াতের আমির গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সমবেদনা জানিয়েছেন।জামায়াত আমির বলেন, ‘এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় যারা ইতোমধ্যে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা কামনা করছি।’তিনি প্রার্থনা করেন, আল্লাহ তাদের জান্নাতবাসী হিসেবে কবুল করুন এবং নিহতদের স্বজনদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন।সর্বশেষে তিনি আহতদের সুস্থতা কামনা করে বলেন, হে আরশের মালিক, তাদের দ্রুত সুস্থতার নিয়ামত দান করুন এবং তাদের বিশেষভাবে রহম করুন।ইখা
একজন খালেদা জিয়া ছিলেন বলেই সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত ছিল: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘একজন খালেদা জিয়া ছিলেন বলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত ছিল। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতির শাহাবুদ্দিন পার্কে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি, ঢাকা আয়োজন করেছে। এই প্রদর্শনী চলবে আগামী আরও দুই দিন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে যে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছে সেই বিদ্যুৎ প্লান্টটি খোদ ভারত সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদের সময় প্রকল্পটি বাংলাদেশের রামপালেও বাস্তবায়ন করার হয়েছে। তবে এই ধরনের দেশবিরোধী প্রকল্প বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে কখনোই করানো সম্ভব হয়নি বলেই তাকে জেলে ঢোকানো হয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনও কয়লা এবং গ্যাস রয়েছে সেগুলো কুক্ষিগত করার জন্য আঞ্চলিক মহাশক্তি ও বৈশ্বিক মহাশক্তি ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।’এ সময় সংগঠনটির উপদেষ্টা ও আমরা বিএনপি পরিবারে আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, দৈনিক করোতোয়া সম্পাদক হেলালুজ্জামান লালু, সভাপতি মারুফা রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি, ঢাকার উপদেষ্টা আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘এই সামান্য কয়েকটা ছবি দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তরুণরা বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা আরো বড় পরিসরে দেশের বিভিন্ন জেলায় তার রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবো।’অনুষ্ঠানে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার সিনিয়র সহসভাপতি আদনান আজাদ, সহসভাপতি জুলফিকার হোসাইন সোহাগ, কেএম রাশেদ হোসাইন ও ফেরদৌস মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম আমিনুল ইসলাম ও গোলাম রাব্বী সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম জনি, অর্থ সম্পাদক ইসহাক আসিফ, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রামিম হাসান, প্রচার সম্পাদক জাহিন তালুকদার, প্রকাশনা সম্পাদক টিনা খানম, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, নাট্যবিষয়ক সম্পাদক বিভান বাদল, সমাজসেবা সম্পাদক আজাদ আহমেদ,আইনবিষয়ক সম্পাদক নিশাদ তামান্না জামান এবং অরণ্য পাশা সহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
উত্তরায় বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৬
রাজধানীর উত্তরায় সাততলা একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। সকালে ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার শাহরিয়ার আলী।নিহত ৩ জনের মধ্যে দুইজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু। নিহত অন্যদের নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি।ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের বাড়িটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় তলায় আগুন লেগেছিল। আগুনে পুড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ১৩ জনকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান। দুপুরে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার শাহরিয়ার আলী এ খবর জানান। এ আগুনে এত হতাহত কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তালহা বিন জসিম বলেন, ঘরে প্রচুর আসবাব ছিল। সেগুলোয় আগুন লেগে যায়। আগুন তাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন–৩–এর উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। আগুন দ্বিতীয় তলায় লেগে তা তিনতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল ১০টার দিকে পুরোপুরি নিভেছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়।এমআর-২
হাসপাতালের ওষুধ গোডাউনের সামনে থেকে ১ হাজার পিস সিরিঞ্জ উদ্ধার
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ১হাজার পিস সিরিঞ্জ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে ওষুধের গোডাউনের সামনের রাস্তা থেকে সিরিঞ্জগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সিরিজগুলো বুঝে নেন।হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য সোহেল রানা জানান, ওষুধ গোডাউনের গেটের সামনের রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি কাটুন পড়ে ছিল। রোগীর লোকজন দেখে বিষয়টি পুলিশ সদস্যদের অবগত করেন। পরে কাটুনটি উদ্ধার করা হয়। কাটুনের মধ্যে থাকা ১০ টি বক্সে ১ হাজার পিস সিরিঞ্জ রয়েছে। তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হয়।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, ১ হাজার পিস সিরিঞ্জ ভর্তি কাটুন গোডাউনের সামনে পড়ে ছিল। পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সিরিঞ্জগুলো বুঝে নিয়েছি। গোউডানের সামনের রাস্তায় সিরিঞ্জগুলো কোথা থেকে আসলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এসআর
কোকোর নাম বিকৃত করে অবমাননার অভিযোগ, ইবি ছাত্রদলের নিন্দা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে ২০২৩ সালের এক ভিডিও বক্তব্যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননার অভিযোগ ওঠেছে কুষ্টিয়া সদর এমপি প্রার্থী (জামায়াত সমর্থিত) মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সেই ভিডিও ভাইরাল হলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইবি শাখা ছাত্রদল। এ নিয়ে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়া, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ও নির্বাচন কমিশনারকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংগঠনটি।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ও সদস্যসচিব মাসুদ রুমী মিথুনের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে ক্ষোভ প্রকাশ প্রকাশ করেন।প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, কুষ্টিয়া সদর আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা কর্তৃক মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকো-এর নাম বিকৃত করে কুরুচিপূর্ণ ও অমানবিক ভাষা ব্যবহার করায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।একজন সংসদীয় আসনের প্রার্থী হয়ে এ ধরনের নোংরা, অসভ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবারকে অপমান নয় বরং এটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। এই বক্তব্য প্রমাণ করে অভিযুক্ত প্রার্থীর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও অসহিষ্ণু মানসিকতা।মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন একজন ভদ্র, শালীন ও দেশপ্রেমিক ক্রীড়া সংগঠক, যিনি রাজনীতির বাইরে থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। একজন প্রয়াত ব্যক্তিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার শুধু অমানবিকই নয়, এটি সভ্য সমাজে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।প্রতিবাদলিপিতে ইবি ছাত্রদল দাবি জানান, অভিযুক্ত প্রার্থীর প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করছে; জামায়াতে ইসলামীকে এই বক্তব্যের দায় স্বীকার করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে; নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের অবমাননাকর ও উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আইনগত ও গণতান্ত্রিক সকল কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে বলে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি। শহীদ জিয়ার আদর্শ, গণতন্ত্র ও সম্মানজনক রাজনীতির প্রশ্নে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আপসহীন থাকবে-এই প্রত্যয় আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালে শহীদ জিয়া পরিবারের ছোট ছেলে কোকো-কে নিয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে কুকুর বানানোর চেষ্টা করেছিলেন আমার হামজা। তখন ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি। ভিডিওটি ফের ভাইরাল হলে শুরু হয় আবারও সমালোচনা। ফের আবারও ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) তিনি জানান, আলোচিত ওই বক্তব্যটি সাম্প্রতিক নয়; এটি ২০২৩ সালের এবং সে সময়েই তিনি বিষয়টি নিয়ে অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন।সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমির হামজা বলেন, ‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে তার বক্তব্যটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। একটি বিষয় বোঝাতে গিয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ভুল করেছিলেন এবং সে কারণেই তখনই দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এখন আবারও তিনি ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।’ইখা
মোংলায় জীবন সংগ্রামে হার না মানা ময়না বেগম
জীবন মানেই যুদ্ধ। মানুষের চলার পথ পুষ্প সজ্জিত নয়। প্রতিটি মানুষকে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। এমনি এক জীবন সংগ্রামী নারী মোংলা উপজেলার ময়না বেগম।৪২ বছর বয়সী ময়না বেগম পৌর শহরের মামার ঘাটের পাশে একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে প্রতিদিন ভোর ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করে। এই পিঠা বিক্রির টাকায় চলে তার সংসার, মেয়েদের পড়াশোনা এবং তাদের চিকিৎসা খরচ। তবুও থেমে নেই উদ্যোমী এই নারী। ময়না বেগম উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের কচুবুনিয়া এলাকার মো: আবুল হোসেনের স্ত্রী।পিঠা বিক্রেতা ময়না বেগম জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। জীবনের কোন শখ-আল্লাদ পূরণ করতে পারেনি বাবার অভাব অনটনের সংসারে। টাকার অভাবে পড়াশোনাও করতে পারেননি তিনি। সংসারে অভাব থাকায়, টানাপোড়েনের সংসারে শৈশবেই বিয়ে দেন তার পরিবার। বিয়েও হয় আরেক অভাবের সংসারে। বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি সবখানেই যেন কষ্ট, কষ্ট যেন আর শেষই হয়না তার জীবনে। চার মেয়ে নিয়েই তার জীবন সংসার। বড় মেয়ে মুন্নি (১৮) আর মেঝো মেয়ে জুঁই ( ১৭) এর বিয়ে হয়েছে। আর ছোট দুই মেয়ে আকলিমা (৮) ও তাসলিমা (৭) সরকরী প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়াশোনা করছে।তিনি আরো বলেন ২২ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল মো: আবুল হোসেনের সাথে। অভাবের তারনায় জীবনের প্রয়োজনে, বেঁচে থাকার তাগিদে বেড়িয়ে পড়েন কর্মের সন্ধানে। সেই থেকে বিরামহীনভাবে ভাবে চলছে তার জীবন সংগ্রাম। বিপদ যেন তার পিছু ছাড়ে না।দুই স্বামী স্ত্রী আর ছোট সন্তানদের নিয়ে চলছে তাদের টিকে থাকার সংগ্রাম। তবুও হার মানেনি তিনি, হাত পাতেনি সমাজের কারো কাছে। নিজেই পিঠা বিক্রি করে, সেই টাকা দিয়ে চালাচ্ছেন সংসার খরচ, মেয়েদের পড়াশুনা ও নিজের ঔষধ খরচের টাকা। তার এ কাজে তার মেঝো মেয়ে ও তার ছোট মেয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে সহযোগিতা করে থাকেন।ময়না বেগম বলেন, সারা বছরই তিনি ভোরবেলা থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চালের গোড়া দিয়ে চিতই পিটা ও তেলের পিঠা তৈরি করে তা বিক্রি করে থাকেন। প্রতিটি চিতই পিঠা ও তেলের পিঠা বিক্রি হয় ১০ টাকা মূল্যে। চিতই পিঠার সাথে দেওয়া হয় ধনিয়া , মরিচ, শুটকিসহ বিভিন্ন ধরনের বাটা মশলার ভর্তা। আগে প্রতিদিনই তিনি ৮ থেকে ১০ কেজি চালের পিঠা বিক্রি করতেন। এতে তার দৈনিক সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা থাকতো। মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মতো আয় রোজগারে তার সংসার চলে যেতো। কিন্তু এখন দোকান বেশী হওয়ায় ৪ থেকে ৫ কেজি চালের পিঠা বিক্রি করতে হচ্ছে। তাতে সংসার খরচ ও মেয়ের পড়াশোনার টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। এই দুর্মূল্যের বাজারে যা রোজগার করি তা দিয়ে ঠিকমত তিনবেলা খাওয়াই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা বছর তেমন একটা পিঠার চাহিদা থাকে না। তবে শীতের সময় আসলে পিঠার চাহিদা বাড়ে বলে জানান তিনি।তৎকালীন সরকারের সময়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘর পেয়েছেন তিনি। তার নিজের বলতে সম্বল এই ঘরটি। এ ছাড়া আর কোন জমি জমা তার নেই। চলাফেরার অসুবিধার জন্য তিনি যে ঝুপড়ি ঘরে পিঠা বিক্রি করেন এবং রাতে সেই ঘরেই থাকেন বলে জানান।এফএস
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল বিনামূল্যে ক্যাটগার্ড ও ভিকরিল মিলছে না!
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের অস্ত্রোপচারে সরকারের বিনামূল্যে সরবরাহ করা ক্যাটগার্ড ও ভিকরিল (সুতা) মিলছে না। সামান্য কিছু প্রোলিন থাকলেও চিকিৎসকরা তা অস্ত্রোপচারে ব্যবহার করছেন না। ফলে রোগীর স্বজনদের বাইরের ফার্মেসী থেকে এসব সুতা কিনে আনতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ভুক্তভোগীদের আর্থিক ব্যয় বাড়ছে।জানা গেছে, যশোরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলার রোগীদের আশা ভরসার স্থল হলো যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল । সরকারি এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠনে প্রতিদিন দ্বিগুনের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। স্বনামধন্য এই হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত পাওয়ায় যশোরসহ নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাগুরা জেলার অধিকাংশ গরিব মানুষ চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন। উদ্দেশ্য একটাই অল্প খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া। গরিব মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে এই হাসপাতালে ৮৪ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ কর হয়। এর মধ্যে ইডিসিএল ৪৪ প্রকার ও স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্থানীয় অর্থে টেন্ডারের মাধ্যমে অবশিষ্ট ৪০ প্রকার ওষুধ কর্তৃপক্ষ ক্রয় করে।সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরে রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য বিনামূল্যের ক্যাটগার্ড , ভিকরিল ও প্রোলিন মিলছে না। ভর্তি রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য অধিকাংশ ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এরপরেও অস্ত্রোপচার চলাকালীন সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীরা শর্ট স্লিপের মাধ্যমে আরও ওষুধ হাতিয়ে নেন। বিনামূল্যের ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। যা নিয়ে রোগী স্বজনদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।সরেজমিনে অবস্থান করে দেখা গেছে, রোগীদের অস্ত্রোপচারে বিনামূল্যের ক্যাটগার্ড , ভিকরিল ও প্রোলিন দেয়া হচ্ছে না। রোগীর স্বজনদের কেনা ওষুধ সামগ্রী দিয়ে রোগীর অস্ত্রোপচার কার্যক্রম করা হচ্ছে।মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর গ্রামের বরকতউল্লাহ জানান, তার আত্মীয়ের স্ত্রীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য ২৬৮০ টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। অস্ত্রোপচার চলাকালীন আরও দুইটা সুতা কিনে আনতে হয়েছে। অপারেশনের আগের রাতেও ওষুধের লম্বা লিস্টের কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল ।যশোর সদর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের রোকেয়া বেগম জানান, রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় এক হাজার টাকার সুতা কেনানো হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ওষুধ কিনতে হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায়। কিন্তু তার উল্টোটা হয়েছে।সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামানের কঠোরতায় অস্ত্রোপচার কক্ষ নিয়মের মধ্যে ছিল। চিকিৎসকরা রোগীর অস্ত্রোপচার সেলাই কাজে ক্যাটগার্ড ভিকরিল ও প্রোলিন ব্যবহার করতেন। এছাড়া অস্ত্রোপচারের জন্য ১৫ প্রকারের ইনজেশনসহ আরও ৩২ প্রকারের ওষুধ সামগ্রী পেয়েছেন রোগীরা। এরমধ্যে স্যালাইন হার্টসল, নরমাল, ইনজেকশন সেফট্রিঅ্যাকসন ১ গ্রাম, ওমেপ্রাজল ৪০এমজি, কিটোরোলাক ৬০ এমজি, থিওপেন্টাল, নিওসুক্সাস, নালবান ২ এম এল, কিটোমিন উল্লেখযোগ্য। ডা. আখতারুজামানের অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ার পর আবারও সরকারি ওষুধ সামগ্রী বঞ্চিত হতে থাকেন রোগীরা।হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষের ইনচার্জ নাজমুন জানান, সরকারের বিনামূল্যে সরবরাহ করা ক্যাটগার্ড ও ভিকরিল (সুতা) দুই মাস আগে শেষ হয়ে গেছে। ফলে রোগীদের এসব সুতা কিনে আনতে হচ্ছে।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, সরকারি হাসপাতালে গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। আর তাদের জন্য সরকার বিনামূল্যের ওষুধ সামগ্রী সরবরাহ করেছেন। কিছু ওষুধ সামগ্রী শেষ হয়ে যাওয়ায় রোগীরা আপাতত পাচ্ছে না। তবে নতুন অর্থ বছরে ওষুধ আসার পর সংকট কেটে যাবে।এসআর
যশোরে সাবেক স্ত্রীসহ ৩ জনকে ছুরিকাঘাত
যশোরে সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনকে ছুরিকাঘাত করেছেন ডালিম হোসেন ওরফে ইমরান নামে এক ব্যক্তি।শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে যশোর শহরের নাজির শংকরপুর ও কোল্ডস্টোর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন নাজির শংকরপুরের বশির শেখের মেয়ে শিউলী খাতুন (৪০), ছেলে সুমন শেখ (৩৮) ও সুমনের ছেলে ইমন হোসেন (২০)। আহত দুই জন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যজন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। জানা গেছে, যশোর মনিহার সিনেমা হল এলাকার শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের পাশের বাসিন্দা আকবর আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া ডালিম হোসেন ওরফে ইমরানের সাথে বিয়ে হয় শিউলী খাতুনের। পারিবারিক কলহের কারণে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। এরপর থেকে শিউলী নাজির শংকরপুর বাবার বাড়িতে থাকেন। শুক্রবার রাত পৌনে একটার দিকে ইমরান ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে শিউলীকে ছুরিকাঘাত করে। পরে কোল্ডস্টোর মোড়ে সুমন শেখ ও ইমনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ইমরান। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, আহতদের মধ্যে শিউলী ও ইমনকে ভর্তির পর সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থা গুরুতর। সুমন শেখকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, ঘটনা তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসআর
কক্সবাজারে জ্বালানি অচলাবস্থা, গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত
পর্যটন শহর কক্সবাজারে হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করেছে এলপিজি অটোগ্যাসের সংকট। এতে জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ অটোগ্যাস স্টেশনে ‘গ্যাস শেষ’ লেখা নোটিশ ঝুলতে দেখা যায়।অটোগ্যাসের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারেও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সংকট। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও অনেক গ্রাহক গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। কোথাও দোকানগুলোতে ‘গ্যাস নেই’ বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও সীমিত মজুত থাকলেও তা নির্দিষ্ট কিছু ক্রেতার জন্য গোপনে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। হোটেল–রেস্তোরাঁ, ছোট খাবারের দোকান ও আবাসিক ভবনগুলোতে রান্না কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশে এলপিজি সংকট চললেও কক্সবাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় হঠাৎ করেই পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এতে অটোগ্যাসনির্ভর হাজারো পরিবহনচালক বিপাকে পড়েছেন। এই সংকট শুধু জেলা শহরে সীমাবদ্ধ নয়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহনচালক ও সাধারণ যাত্রীরা।শনিবার রাতে শহরের কালুর দোকান এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন নোহা মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও এলপিজিচালিত বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা।খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মুরাদ জানান, হঠাৎ গ্যাস না পাওয়ায় তাঁদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি আশপাশের কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কাল গাড়ি নিয়ে বের হতে পারব কি না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।’একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান উখিয়াগামী নোহা মাইক্রোবাস চালক মহিউদ্দিন। পথিমধ্যে গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েন। তিনি বলেন, ‘পাম্পে এসে জানতে পারি গ্যাস নেই। মনে হয় আজ রাতে আর গন্তব্যে ফেরা হবে না। কাল সকালের ভাড়ার ট্রিপটাও মিস হয়ে যাবে।’ফিলিং স্টেশনগুলোর কর্মীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। কালুর দোকান এলাকার একটি স্টেশনের কর্মী মোহাম্মদ রানা জানান, সকালে এলপিজি কোম্পানির একটি গাড়ি এলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল খুবই কম। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘দাম বাড়েনি, কিন্তু গ্যাসই নেই। আগামীকাল গ্যাস পাওয়া যাবে কি না, তা পুরোপুরি কোম্পানির গাড়ি আসার ওপর নির্ভর করছে।’এর আগে গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দেশে বর্তমানে এলপিজির মোট চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫ হাজার টন এলপিজি ব্যবহৃত হয় অটোগ্যাস হিসেবে।সংগঠনটির নেতারা বলেন, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অটোগ্যাস খাত মারাত্মক সংকটে পড়বে এবং এই শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। এ জন্য তাঁরা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।অন্যদিকে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ দুই মাসের পরিসংখ্যানে এলপিজি আমদানি বেড়েছে। সে তুলনায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তবে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকটের ইঙ্গিত মিলছে। এতে সরকারি সংস্থাগুলোর ‘পর্যাপ্ত মজুত’ দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।দ্রুত সংকট সমাধান না হলে পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে পরিবহন ও জনজীবনে আরও বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ইখা
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভূমিহীনদের বিক্ষোভ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের নামে দেওয়া খাসজমির বন্দোবস্ত বাতিল করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাসরত ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ভূমিহীনরা।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা গ্রামের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যাদের নামে খাসজমির বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনুপস্থিত। অথচ প্রকৃত ভূমিহীনরা বছরের পর বছর ওই জমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন। বাস্তবে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করলেও তাঁরা এখন উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ফারুক হোসেন নামের এক ভূমিহীন বলেন, ‘আমরা ২১ বছর ধরে এই জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছি, ফসল ফলাচ্ছি। কিন্তু যাদের নামে বন্দোবস্ত, তাঁদের কাউকেই এখানে কখনো দেখিনি। কাগজে মালিক আর মাঠে আমরা—এটা কেমন বিচার? আমরা সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চাই।’বিবি কুলসুম নামের এক ভূমিহীন নারী বলেন, ‘এই জমিই আমাদের একমাত্র আশ্রয়। যদি এখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা কোথায় যাব? এই জমিতে টিকে থাকতে আমরা লড়াই করেছি। ভূমির জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। শহরের লোকজন বন্দোবস্ত পেলেও আমরা ভূমিহীনরা কিছুই পাই না। সরকার যেন আমাদের বাস্তব অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে।’কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ভূমিহীনরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অনুপস্থিতদের নামে দেওয়া বন্দোবস্ত বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের নামে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবি জানান।এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন বলেন, ‘সরকারি বিধি অনুযায়ী যাদের নামে জমির বন্দোবস্ত রয়েছে, তারাই ওই জমির বৈধ মালিক। তবে কীভাবে তারা জমি পেয়েছেন, সে বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। এ বিষয়ে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ইখা
কুমিল্লায় এলপি গ্যাস সংকট, অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য ভোক্তারা
কুমিল্লা নগরসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে এলপি গ্যাসের অঘোষিত সংকটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের সময় টাকা থাকলেও গ্যাসের সিলিন্ডার না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেকেই। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল–রেস্তোরাঁ পর্যন্ত রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।সরকার ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করলেও কুমিল্লার বাজারে সেই দামে গ্যাস মিলছে না। ক্রেতাদের অভিযোগ, খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। তাদের দাবি, অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।নগরের টমছমব্রিজ এলাকার গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, ‘তিন দিন ধরে গ্যাস খুঁজছি। কোনো দোকানেই সিলিন্ডার নেই। এক দোকানে পেলেও ১ হাজার ৯০০ টাকা দাম চেয়েছে। এত টাকা দিয়ে কীভাবে কিনব? বাধ্য হয়ে কাঠের চুলায় রান্না করছি।’ঝাউতলা এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া জানান, তার ছোট খাবারের দোকানটি গ্যাস না পাওয়ায় দুই দিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বেশি দামে কিনলে লাভ থাকে না, আবার না কিনলে দোকান বন্ধ রাখতে হয়। দুই দিক থেকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’তবে এলপি গ্যাসের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, কোম্পানি ও ডিলার পর্যায় থেকেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। চকবাজার এলাকার এক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা বেশি দামে কিনলে কম দামে কীভাবে বিক্রি করব? ডিলাররা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, অথচ দায় পড়ছে আমাদের ওপর।’ডিলারদের দাবি, কোম্পানিগুলো থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ডিলার বলেন, ৫০০ সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও তারা পাচ্ছেন ২০০টির মতো। এতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি গ্যাস আনার গাড়ি দেরিতে ছাড়ার কারণে পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে বলে তাদের দাবি।এদিকে নগরের কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা কলেজছাত্র রায়হান বলেন, ‘বাসায় গ্যাস না থাকায় প্রতিদিন হোটেলে খেতে হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।’স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার মিয়া বলেন, ‘ডিলারদের সঙ্গে এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কথা বলা হয়েছে। তাদের দাবি, কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করছে না।’ তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকসহ ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযানও চলছে।’দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কুমিল্লাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতন মহলের মতে, কঠোর নজরদারি ও সরকারি সিদ্ধান্তের কার্যকর বাস্তবায়নই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ।ইখা
মিরসরাইয়ে স্কুলছাত্রের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নাস্তা আনতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন এক স্কুল শিক্ষার্থী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) উপজেলার পৌর সদরের পৌরসভা মার্কেটের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. সাখাওয়াত হোসেন (১৫)। তিনি মিরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্কুল বন্ধ থাকায় সকালে বাবা ইকবাল হোসেনের সঙ্গে তার ফলের দোকানে যান সাখাওয়াত। একসঙ্গে নাস্তা করার জন্য বাবা তাকে পাশের একটি হোটেল থেকে রুটি আনতে পাঠান। রুটি কিনতে গেলে মুখে মানকি ক্যাপ (শীতের মাস্ক) পরিহিত তিন যুবক দূর থেকে তার নাম ধরে ডেকে নেয়। পরে তাকে পৌরসভা মার্কেটের ছাদে নিয়ে গিয়ে ছুরি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।হামলার পর প্রায় ২০ মিনিট সাখাওয়াত মার্কেটের ছাদে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিচে নামতে সক্ষম হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে ২৬টি সেলাই দিতে হয়েছে।আহত শিক্ষার্থীর বাবা ইকবাল হোসেন বলেন, “স্কুল বন্ধ থাকায় ছেলেকে সঙ্গে করে দোকানে এনেছিলাম। সকালে বাজারেও লোকজন কম ছিল। হঠাৎ এভাবে দিনেদুপুরে সন্ত্রাসী হামলা আমাদের আতঙ্কিত করেছে। ছেলের কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল কি-না তাও জানা নেই। আমি থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ হোসাইন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনিতেই নাজুক। তার মধ্যে প্রকাশ্যে একজন স্কুলছাত্রের ওপর এ ধরনের হামলা খুবই উদ্বেগজনক। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “ঘটনাটি আমরা জেনেছি। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”ইখা
লক্ষ্মীপুরে জামায়াত-বিএনপির মারামারি, পাল্টাপাল্টি মামলায় আসামি ৩৮৭
লক্ষ্মীপুরে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের মামলায় ১৭০ জন ও বিএনপির মামলায় ২১৭ জনকে আসামি করা হয়।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা হেজবুল্লাহ ও বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।পুলিশ জানায়, হামলার অভিযোগ এনে জামায়াতের যুববিভাগের চরশাহী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল বাদী হয়ে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৬০ জনকে আসামি করা হয়। একই ঘটনায় চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে চরশাহী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে বটগাছতল এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাদেরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে।এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান লক্ষ্মীপুরের ৪ টি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী আচরণ বিধি নিয়ে অবহিতকরণ সভা ডাকেন। সেখানে চরশাহীর মারামারির ঘটনা আলোচনায় উঠে আসে। এসময় রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক উভয়পক্ষকে আচরণ বিধি মেনে চলতে আহবান জানান।বিএনপি নেতাকর্মীরা জানায়, মহিলা সভার নামে জামায়াতের কর্মীরা ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এতে বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় জামায়াত।লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতের মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আমাদের মহিলা কর্মীদের প্রোগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এটি মীমাংসা হয়েছিল। এরপরই তারা ফের আমাদের পুরুষ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জামায়াতের লোকজন ভোটারদের কাছ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করে। ঘটনার সূত্রপাত সেখান থেকে। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে অপরাধ প্রবনতা দেখা দিয়েছে। আমি শুধু বিএনপির আহত নেতাকর্মী নয়, হাসপাতারে জামায়াত নেতাকর্মীদেরও দেখতে গিয়েছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি সুষ্ঠু তদন্ত করে সুন্দর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তিনি।চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, চরশাহীর ঘটনায় জামায়াত ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। ঘটনাটি তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ করছে।এবি
গাজীপুরে ৪ শতাধিক আ.লীগ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
গাজীপুর-৪ কাপাসিয়া আসনে নেতৃত্বশূন্য আওয়ামী লীগের প্রায় ৪ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ঘিঘাট গ্রামে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছেন। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ স্বতস্ফুর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন।উপস্থিত আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রতি আস্থা রাখেন ও পূর্ণ সমর্থন জানান।স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে, সাহাদাতুজ্জামান মুন্নার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।এ সময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। দল সরকার গঠন করলে কাপাসিয়ায় পরিবেশবান্ধব কলকারখানা স্থাপন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং মা-বোনদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’সমর্থন প্রদানকারী নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন জানানো সমাজের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। তাই দেশ বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ সবাইকে বিগত দিনের প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে।এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আব্দুল বাতেনের বাড়ি আঙ্গিনায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিল ও অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলায়মান মোল্লা, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ সরকার, বিএনপি নেতা সাব্বির আহমেদ, খালেদ হোসেন খান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, উপজেলা যুবলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সাহাদাত হোসেন সেলিম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাইয়ুম মোল্লা মেম্বার, উপজেলা তাঁতি লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীলিপ, যুবদল নেতা মোস্তাক আহমেদ, পরাগ, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব শিবলু আলম সোহেল প্রমুখ।ইখা
ফরিদপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে হুমকি বিএনপি নেতার, কলরেকর্ড ভাইরাল
ফরিদপুর–২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি সংক্রান্ত একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কলরেকর্ডটি ভাইরাল হওয়ার পর পুরো নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।ভাইরাল হওয়া কলরেকর্ডটি নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা, বিএনপি সমর্থক ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার এবং একই এলাকার রিকশা প্রতীকের সমর্থক মাওলানা শোয়াইব ইসলামের মধ্যকার কথোপকথন বলে দাবি করা হচ্ছে। মাওলানা শোয়াইব ইসলাম স্থানীয় মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীকে বনগ্রাম এলাকায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ওই এলাকায় তার আগমন নিয়ে আপত্তি তোলেন রবি মেম্বার।ভাইরাল হওয়া কলরেকর্ডে রবিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘তোর ভোট দেওয়ার দরকার হইলে তুই হুজুরকে ভোট দে। কিন্তু হুজুরকে আনার দরকার নাই। তুই হুজুরকে আনলে আমার সমস্যা হয়।’ একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, ‘তোর ধলা হুজুর কেন, ধলা হুজুরের বাপও বনগ্রাম মোড়ে আসতে পারবে না। গাড়ি দিলে জ্বালাইয়া দেব।’এই কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ফরিদপুর–২ আসনের ভোটার ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এমন বক্তব্যকে নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার বলেন, ‘কলরেকর্ডটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘মাওলানা শোয়াইব ইসলাম আমার এলাকার এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জোর করে ধলা হুজুরকে নিয়ে কর্মসূচি করতে চেয়েছিলেন। ওই পরিবারটি এতে বিব্রত হয়ে আমাকে জানায়। আমি শুধু বলেছি, যেখানে বাড়ির মালিকই কর্মসূচি চান না, সেখানে জোর করে যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। আমার বক্তব্য এআইয়ের মাধ্যমে সম্পাদনা করে ভিন্ন অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।’এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনী মুখপাত্র মুফতি সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের জনপ্রিয়তা দেখে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রবি মেম্বারের বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে আমাদের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা প্রশাসনের কার্যকর ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ভাইরাল কলরেকর্ডটির সত্যতা যাচাই এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।ইখা
সিদ্ধিরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ক্যানেল থেকে ড্রামেভর্তি একটি অজ্ঞাত যুবকের (৩২) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গোদনাইল নয়াপাড়া এলাকার হৃদয়মনি স্কুল সংলগ্ন জালকুড়ি সড়কের ক্যানেল পাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করে।সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই নুর আলম সিদ্দিকী জানান, স্থানীয়রা ক্যানেলে একটি ড্রাম ভাসতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রামটি উদ্ধার করে খুললে ভেতরে একটি অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়।মরদেহটি পচন ধরতে শুরু করেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত ব্যক্তির পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ড্রামের ভেতরে ভরে ক্যানেলে ফেলে দেওয়া হয়েছে।সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করণে পিবিআই ও সিআইডি টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে।ইখা
ফরিদপুরে শরীফ ওসমান হাদী স্মরণে খেলাফত মজলিসের দোয়া মাহফিল
ফরিদপুরের সদরপুরে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সদরপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা–সদরপুর–চরভদ্রাসন) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মো. মিজানুর রহমান।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সদরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সদরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশিদ, উপদেষ্টা জাকির হুসাইন ফরিদী এবং ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ অন্য নেতারা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশ ও জনগণের কল্যাণে শহীদ ওসমান হাদীর আদর্শ আমাদের ধারণ করতে হবে। তিনি ছিলেন একজন অকুতোভয় ও দেশপ্রেমিক নেতা। দুঃখজনক হলেও সত্য, হত্যাকাণ্ডের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি। এই নৃশংস হত্যার বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’স্মরণ সভায় খেলাফত মজলিসের শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকের পাশাপাশি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
ফরিদপুরে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী নারী গর্ভবতী, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মো. কাইয়ুম মোল্যা (৪৫) নামে দুই সন্তানের এক জনককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে ফরিদপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে।এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা সাধুপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে কাইয়ুম মোল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মো. রোকন মোল্যার ছেলে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভাওয়াল ইউনিয়নের ২৮ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী নারীকে ফুসলিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন কাইয়ুম মোল্যা। ধারাবাহিক নির্যাতনের ফলে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ভুক্তভোগীর পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সালথা থানায় মামলা করে।মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনায় ওই প্রতিবন্ধী নারী গর্ভবতী হয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ইখা
বাউফলে পুকুরে ডুবে গৃহবধুর মৃত্যু
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে মোসা. মরিয়ম বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরিয়ম বেগম উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড এলাকার সুজন শিকদারের স্ত্রী।নিহতের পরিবার সুত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে থালা-বাসন ধোয়ার জন্য পুকুর ঘাটে যান মরিয়ম। এরপর অনেক সময়ে ধরে তার খোঁজ না পেয়ে সন্তানরা তার শাশুড়িকে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজা খুঁজি করে, এক পর্যায়ে পুকুরে থেকে ডুবন্ত অবস্থায় মরিয়মকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের পরিবারের দাবি, গৃহবধূ মরিয়ম মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। পুকুর ঘাটে গিয়ে রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পানিতে ডুবে যান। এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে গৃহবধূ মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।ইখা
বরিশালে জাতীয় পার্টির সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
বরিশাল-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারন সম্পাদক রাজিব আহসানের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করলেন একই আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান এর নেতৃত্বে সহস্রাধিক নেতাকর্মী।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে সময় রাজিব আহসান এর বদরপুর ওয়ার্ডে অবস্থিত নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় আয়োজন করা হয় যোগদান অনুষ্ঠানের।আনুষ্ঠানিকভাবে রাজিব আহসান এর হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা যোগদান করেন। এসময় জাতীয় পার্টির মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ও কাজীরহাট থানা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে জাতীয় পার্টির সকল নেতাকর্মীদের বরণ করে নেন বিএনপির প্রার্থী।মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সিহাব আহমেদ সেলিম এর সঞ্চালনায় বরিশাল -৪ আসন এর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান বলেন, যারা যোগদান করেছেন তাদের এই যোগদান দলের জন্য শক্তি হিসেবে কাজ করবে।আপনারা বিভিন্ন দলের কর্মকান্ড দেখেছেন। এখন আবার বিএনপির আদর্শ ও নীতিকে ভালোবেসে আমাদের সাথে এসেছেন। পাশাপাশি আপনারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাজনীতি কর্মকান্ড দেখে উৎসাহিত হয়েছেন। অতিতেও আপনারা আমাদের দেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও দেখবেন। আপনারা আমাদের পরিবারের লোক হয়ে গেলেন।বিএনপিতে যোগদানকৃতদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, তিনি বলেন, আমি আজকের আগে থেকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলাম।২৪শের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছি। এবারও নির্বাচনে আমি জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী। কিন্তু মনোনয়ন ফরম জমা দেইনি, কারণ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনেক ঘাটতি রয়েছে।জাতীয় পার্টি এরশাদ সাহেব এর সময় যে একটা সংগঠন ছিলো সেই সংগঠনের মধ্যে একটা গুনাপোকা ধরে মরে গেছে। চিন্তাভাবনা করে দেখলাম মরা গাছে আর পানি ঢেলে লাভ নেই, এই গাছ আর সতেজ হবে না।সেই কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের সাথে সমর্থণ করে তার সিপাহিশালা হিসাবে আমার এলাকার বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসানের প্রেমে আসক্ত হয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছি। একই সাথে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ও কাজীরহাট থানার জাতীয় পার্টির সকল স্তরের কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ বিএনপিতে যোগদান করলাম।একই সাথে হিজলা উপজেলার আংশিক নেতাকর্মী যোগদান করেছি। আরো বক্তব্য রাখেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু মুসা, সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রোমান ফকির প্রমুখ।এ সময় উপজেলা বিএনপি নেতারা নবযোগদানকৃত নেতাকর্মীদের মাঝে দুপুরের খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করেন।এফএস
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আমতলীর ৯৯টি লোহার সেতু এখন মৃত্যুফাঁদ
বরগুনার আমতলী উপজেলায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ৯৯টি লোহার সেতু বর্তমানে কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় এসব সেতু ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারবার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির পরও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।২০২৪ সালের ২২ জুন আমতলীর হলদিয়া বাজারসংলগ্ন একটি লোহার সেতু মাইক্রোবাসসহ ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনার পর বিষয়টি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে এবং উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নড়েচড়ে বসে।দুর্ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর দুই পাশে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া এবং ভারী যান চলাচল বন্ধে খুঁটি স্থাপন করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ব্যবস্থা দায়সারা ও সাময়িক। স্থায়ী সমাধানে কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে ২০০৮-০৯ সাল পর্যন্ত ‘হালকা যান চলাচল প্রকল্প’-এর আওতায় আমতলীর সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় শতাধিক লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ২০০৮-০৯ সালের পর প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ায় এসব সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেতুগুলো একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর থেকে শুরু করে আইলা, মহাসেন, রোয়ানু এবং সর্বশেষ রিমালের প্রভাবে উপজেলার অধিকাংশ লোহার সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত ১৭ বছরে অন্তত ১৫টি সেতু ধসে পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—২০০৭ সালে কেওয়াবুনিয়া খাল, ২০১৫ সালে সোনাখালী মুচল্লী বাড়ি ও সোনাখালী স্কুলসংলগ্ন খাল, ২০১৬ সালে বাঁশবুনিয়া ও আমড়াগাছিয়া খাল, ২০১৯ সালে কুতুবপুর খাল, ২০২২ সালে কাউনিয়া, আরপাঙ্গাশিয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের একাধিক খাল, ২০২৪ সালে মধ্য চন্দ্রা খাল এবং সর্বশেষ ২২ জুন ২০২৪ সালে হলদিয়া বাজারসংলগ্ন সেতু ধসের ঘটনায় নয়জনের প্রাণহানি ঘটে।হলদিয়া বাজারের সেতু ধসের পর পুরো ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ছিল ওই সেতুটি। বর্তমানে নারী সংসদ সদস্য প্রভাষক ফারজানা সুমির অনুদানে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।হলদিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ‘ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন মহিলা এমপির অনুদানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনোরকমে চলাচল করছি।’হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের বাঁশবুনিয়া খালের সেতুটি ২০১৬ সালে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সময় ধসে পড়ে। দীর্ঘ ৯ বছরেও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ হয়নি। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ডিঙি নৌকায় খেয়া পারাপার চালু করেছেন। কাউনিয়া খালের সেতু ধসের পর স্থানীয়রা চাঁদা তুলে প্লাস্টিকের ড্রাম ও কাঠ দিয়ে ভাসমান সেতু তৈরি করেছেন। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এসব ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে স্কুলে যাচ্ছে।স্থানীয় শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এক পাশে স্কুল, আরেক পাশে গ্রাম। সেতু না থাকায় বাঁশের সাঁকোই এখন হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা।’উপজেলা এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, গুলিশাখালী ইউনিয়নে ২৫টি, আঠারগাছিয়ায় ২১টি, হলদিয়ায় ১৮টি, চাওড়ায় ১২টি, আরপাঙ্গাশিয়ায় ৮টি, আমতলী সদরে ৮টি, কুকুয়ায় ৪টি এবং পৌরসভা এলাকায় ৪টি—মোট ৯৯টি সেতু বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। আপাতত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব সেতু অপসারণ করে গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদি হাসান খান বলেন, ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো অগ্রাধিকার তালিকায় পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করার আশা করছি।’স্থানীয়দের আশঙ্কা, বারবার সেতু ধস, প্রাণহানি ও দুর্ভোগের পরও যদি উদ্যোগ কেবল ‘আশা’ আর ‘পরিকল্পনা’-তেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে আমতলীর মানুষকে আরও লাশ গুনতে হবে। সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড নয়—জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও স্থায়ী সেতু নির্মাণই এখন সময়ের দাবি।এফএস
পাথরঘাটায় রাজনৈতিক উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি মামলায় গ্রেপ্তার ১২
বরগুনার পাথরঘাটায় পাল্টাপাল্টি মামলায় পাথরঘাটার রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের আমিরসহ ১২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পাথরঘাটা থানা পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অভিজানে এদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মংচেনলা।আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি পাথরঘাটায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ১২ জানুয়ারি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল সম্পাদক নাসির উদ্দিনকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে হামলা করে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মী নুর আলমের বিরুদ্ধে। এর পরের দিন (১৩ জানুয়ারি) চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাট চৌরাস্তায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম বেপারী এবং উপজেলা বিএনপির নির্বাচন কমিটির সদস্য সরোয়ার হোসেন ফারুকের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের মধ্যে একই অভিযোগে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি সংঘটিত হয়, এতে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হন। উভয় দল পাথরঘাটা থানায় মামলা দায়ের করে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলা ছাড়াও জামাত-বিএনপির উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি একাধিক মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার এড়াতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী পাথরঘাটা ত্যাগ করেছেন।অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা বজলুর রহমান (৫০), রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: আবুল কালাম উরফে গদি কালাম (৫৫), চরদুয়ানী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ওমরসানি (৩০), এছাড়াও হৃদয় মোল্লা (১৯), ইমরান (১৮), এমদাদুল হক(৩০), মো: মুন্না (২৪), মো: নাসির চৌধুরী (৪৭), মো আব্দুর রহমান (৩৫), তোহা ইব্রাহিম (২৪), মোঃ মোস্তফা হাং (৫৩), মোঃ নাসির শেখ (২৫)।জামায়াতের অভিযোগ করেছে, তাদের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের কেউ আটক হয়নি, অথচ পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা বজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বরগুনা-২ আসনের জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শামীম হাসান বলেন, বিএনপির যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে তারা নির্বিঘ্নে চলাফেরা ও নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের না ধরে জামায়াত নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। দুই দলকে ‘ব্যালেন্স’ করার নামে নিরীহ জামায়াত নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে।অপরদিকে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, রাতের অভিযান ও আটককৃতদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ । এমন গণআটকের ফলে ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আমার দলের নেতাকর্মীসহ নিরহ ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে তাদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মংচেনলা বলেন, নির্বাচনের আগে পাথরঘাটার পরিবেশ শান্ত রাখতে ডিআইজি মহোদয়ের করা নির্দেশ রয়েছে। এজন্য পাথরঘাটায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি নৌবাহিনী সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরো বাড়বে।এসআর
পাথরঘাটায় ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম
বরগুনার পাথরঘাটায় ইমাম হোসেন নামে এক ছাত্রদল নেতাকে রাতের আধারে মুখোশ পরে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার ( ১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১ টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।ইমাম হোসেন পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ১ টার দিকে নিজ বাসা থেকে খাবার খেয়ে ভাড়া বাসায় যাওয়ার সময় পাথরঘাটা কলেজের পিছনে খালি রাস্তায় একা পেয়ে মুখ বাধা চার পাঁচজন দুর্বৃত্ত এসে ছাত্রদল নেতা ইমাম হোসেনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে ছাত্রদল নেতার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান।উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কে এম হাসিবুল্লাহ বলেন, ‘ইমাম হোসেন ছাত্রদলের একজন ত্যাগী নেতা। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তার। কারা ইমামকে আক্রমণ করেছে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে যারাই জড়িত থাকুক দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মংচেনলা বলেন, ‘ঘটনা শোনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। হামলাকারীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ইখা
বাকৃবিতে শহীদ হাদীর সাহসী রূপ, গ্রাফিতিতে প্রতিবাদের ভাষা
“বল বীর, বল উন্নত মম শির!শির নেহারি’ আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রির!”জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার এই পঙ্ক্তিগুলো যেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর জীবন ও চেতনার সঙ্গেই মিলে যায়। আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট উচ্চারণ এবং প্রথাগত রাজনীতির ভণ্ডামির বিরুদ্ধে দৃপ্ত প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে হাদী ছিলেন এক সাহসী বিপ্লবী কণ্ঠস্বর।শরীফ ওসমান হাদী শুধু একটি নাম নয়। তিনি ছিলেন একজন জুলাই যোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক, একজন শিক্ষক ও একজন বাবা। তাঁর শহীদ হওয়া দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁর মাথার দিকে ধেয়ে আসা বুলেট শুধু একজন মানুষকেই হত্যা করেনি, বরং রাষ্ট্র ও সমাজে সৃষ্টি করেছে গভীর ক্ষত।‘জান দেব, তবু জুলাই দেব না’—হাদীর এই উচ্চারণ আজ আরও বেশি জীবন্ত। জীবন দিয়ে তিনি প্রমাণ করে গেছেন, জুলাই চেতনার বিনাশ তিনি হতে দেননি।এই বিপ্লবী চেতনাকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আঁকা হয়েছে শহীদ হাদীর সাহসী ভঙ্গিমার দুটি বড় গ্রাফিতি। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী হৃদয় হাসান ও তাঁর দল এই চিত্রকর্মগুলো অঙ্কন করেন।একটি চিত্রকর্ম আঁকা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ও পূবালী ব্যাংকের সামনের দেয়ালে, অন্যটি পশুপালন অনুষদের দেয়ালে। লাল রঙের পটভূমিতে সাদা ও কালোর মিশেলে আঁকা এসব চিত্রকর্ম যেন নীরব অথচ তীব্র প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে।চিত্রে দেখা যায়, হাদী দুই হাত প্রসারিত করে আহ্বানের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর উঁচু করা আঙুল যেন অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শপথের প্রতীক। লাল রঙ তাঁর রক্তের বিনিময়ে বাংলার জমিনে ঝরে পড়া রক্তের ইঙ্গিত দেয়। সাদা রঙে ফুটে উঠেছে তাঁর সাদামাটা জীবনযাপন ও মানুষের কল্যাণে নির্মল চিন্তা।চিত্রকর্মের পাশে লেখা রয়েছে একটি উক্তি—“যে জমিনের দাসত্ব নিশ্চয় নিয়তি, লড়াই সেখানে ইবাদত সর্বোত্তম।”গ্রাফিতিগুলো দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ সেলফি, কেউ দলগতভাবে দাঁড়িয়ে স্মৃতি ধরে রাখছেন। অনেকের মতে, এই চিত্রকর্ম শুধু শিল্প নয়, এটি এক ধরনের চেতনার দলিল।চিত্রশিল্পী হৃদয় হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করে তুলতেই আমরা এই চিত্রকর্ম এঁকেছি। হাদী আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর ন্যায় ও ইনসাফের ভাবনা বেঁচে আছে। একজন হাদী শহীদ হয়েছেন, কিন্তু লক্ষ হাদী তৈরির লক্ষ্যেই এই আয়োজন।’চিত্রাঙ্কনে সহযোগী সংগঠন বাকৃবি সলিডারিটি সোসাইটির সদস্য ছাব্বির হোসেন রিজন বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলাই তার দায়িত্ব। অন্যায় দেখে চুপ থাকাও এক ধরনের অন্যায়। এই চিত্রকর্ম ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর মানসিকতার প্রতীক।’পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী মোতমাইন্না আক্তার মুন্নী বলেন, ‘এটি শুধু একটি চিত্রকর্ম নয়, এটি আমাদের সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক। দেয়ালে আঁকা হলেও এটি খুব জীবন্ত মনে হয়। যেন আমাদের সঙ্গে কথা বলে, প্রশ্ন তোলে এবং জাগিয়ে তোলে।’কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী সাইয়্যেদা গালিবা রুহী বলেন, ‘হাদী বলতেন, বুলেট ছাড়া তাঁকে থামানো যাবে না। বাস্তবে তাই হয়েছে। এই চিত্রকর্ম এখন শুধু শিল্প নয়, ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নীরব আর্তচিৎকারের প্রতীক। মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানো এখন দায়িত্ব।’ইখা
ময়মনসিংহের নান্দাইলে সেচযন্ত্রের মোটর চুরির হিড়িক
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরাঞ্চলে অবস্থিত চর বেতাগৈর ইউনিয়নে সেচযন্ত্রের মোটর চুরির হিড়িক পড়েছে। গত ১ মাসে ইউপি’র ৩টি গ্রাম থেকে প্রায় শতাধিক মোটর চুরি হয়েছে। কোথাও মোটর চুরির সাথে সাথে ট্রান্সফরমার চুরিও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক কৃষক টাকার অভাবে নুতন মোটর কিনতে পারছেনা। ফলে ওই এলাকার কয়েক’শ একর জমিতে এবার বোরোধান চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চর কামটখালি গ্রাম থেকেই ৫০টি মোটর চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোন কোন কৃষক মোটর কিনে পানি সেচ চালু করলেও পুনরায় চুরির ভয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। সরজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, গত এক মাসে ওই গ্রামের শাহজাহান,সিদ্দিক হোসেন,শিপন মিয়া সহ প্রায় ১৫ কৃষকের সেচ মোটর চুরি হয়েছে। বীর কামটখালী গ্রামের রিটন মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার জানান, তার স্বামী সন্ধ্যা বেলায় মোটর চালু করে পাশের বাজারে চা খেতে যান, কিছুক্ষণ পরে এসে দেখেন মোটরটি নেই। এখন নুতন একটি কিনে সেচ দিচ্ছেন, কিন্তু পুনরায় চুরির ভয়ে সন্ধ্যাবেলায় সেটি খুলে বাড়িতে এনে রাখেন। স্থানীয় একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রহমান জানান,গত আটদিন আগে তার একটি সেচ মোটর চুরি হয়েছে। মোটর চুরি হওয়া নূরুল ইসলামের স্ত্রী খুকি আক্তার বলেন, এইবার কিবায় যে ধান চাষ করবাম হেইডা মাথায় ধরেনা’। চর কোমরভাঙ্গা গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, কৃষক আল-আমিন শেখ, খোকন শিকদার, হবি শিকদার,ফজলুল শিকদার সহ প্রায় ৩০-৪০ জনের মোটরও গত ১ একমাসে চুরি হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম মোটর চুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, চুরি হলেও চোর ধরা পড়ছেনা। তাই চুরির বিচার করা যাচ্ছেনা। সন্দেহের বশে তো আর কাউকে চোর সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়া যায়না। তবে তিনি কৃষকদের সর্তক থাকতে বলেছেন। নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল-অমিন জানান, তিনি এখানে নুতন এসেছেন। এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ তিনি পাননি, পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবেন। এফএস
বাকৃবিতে ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষের পুনর্মিলনী শুরু
"দূরত্ব যতই হোক, ভালোবাসা থাকে অটুট" এই মন্ত্র ধারণ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে।শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি হেলিপ্যাড থেকে শুরু হয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে দিয়ে কেআর বাজার প্রদক্ষিণ করে সমাবর্তন চত্ব্বরের সামনে এসে শেষ হয়।এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীমসহ ওই ব্যাচের শিক্ষার্থী ও তাদের সন্তানরা।স্মৃতিচারণ করে অংশগ্রহণকারী মাসুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পরীক্ষা ও ভাইভাগুলো আমাকে এখনও আবেগাপ্লুত করে। ভাইভায় ভুল তথ্য উপস্থাপন করা কিংবা শিক্ষকদের বকা মনে হলে চোখে পানি চলে আসে। আমরা সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের অবদানের কারণেই আজ আমরা এই অবস্থানে পৌঁছেছি।আরেক শিক্ষার্থী শিল্পী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। পাশাপাশি ছিল কিছু দুঃখও। মাত্র ১ নম্বরের জন্য আমি ফার্স্ট ক্লাস পাইনি, যেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ নম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আমাদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিষয়টি আমাকে খুব পীড়া দিয়েছে। তবে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়ার পর সব কষ্ট ভুলে গেছি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুরোধ করব, কেউ যেন এমন বৈষম্যের শিকার না হন। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, এই আয়োজনটি অত্যন্ত নান্দনিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়া, কথা বলা সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ব্যাচের রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত হলেও আজকের আয়োজনটি অন্য সবার থেকে ভিন্ন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্যাম্পাসে নীয়ন আলোর সাজ পুরো পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। কেউ যেন কোনো খারাপ স্মৃতি নিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।ইখা
ভালুকায় ট্রাকচাপায় প্রধান শিক্ষক নিহত
ময়মনসিংহের ভালুকায় মাছভর্তি ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে আবু বকর সিদ্দিক (৫৫) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক আজহারুল ইসলাম (৪৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সিডষ্টোর–বাটাজোর সড়কের পাড়াগাঁও মেম্বারবাড়ি মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত আবু বকর সিদ্দিক উপজেলার কাচিনা গ্রামের খানপাড়ার বাসিন্দা। তিনি আলীম উদ্দিনের ছেলে এবং পশ্চিম পাড়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শেষে আবু বকর সিদ্দিক ভালুকা সদর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পাড়াগাঁও এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি মাছভর্তি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে যান এবং ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই সময় মোটরসাইকেল চালক আজহারুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।আহত আজহারুল ইসলামকে উদ্ধার করে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোবিন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা আবু বকর সিদ্দিকের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।এনআই
নেত্রকোণা-৫ আসনে মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পেলেন জামায়াতের প্রার্থী
নির্বাচন কমিশনের শুনানি শেষে মনোনয়নের বৈধতা ফিরে পেয়েছেন নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা।বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মামলা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করলে কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।এর আগে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণ দেখিয়ে নেত্রকোমায় ৫টি আসনের মধ্যে নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাসুম মোস্তফার মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান। রোববার (৪ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে মামলা সংক্রান্ত সব তথ্য ও উপযুক্ত কাগজপত্র দাখিল করেন অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তাঁর উপস্থাপিত কাগজপত্র সন্তোষজনক বিবেচনা করে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে নেত্রকোণা-৫ আসনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও প্রাণবন্ত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন থেকে জামায়াত প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন।পিএম
তারাগঞ্জে আলোচিত রূপলাল ও প্রদীপ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত রূপলাল ও প্রদীপ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি এবি পার্টির নেতা ইউনুস আলীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত ইউনুস আলী সয়ার ইউনিয়নের দামোদরপুর মামুনপাড়া গ্রামের খয়রাত হোসেনের ছেলে। ও তারাগঞ্জ উপজেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব।তারাগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত খন্দকার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রাতে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা এলাকায় চোর সন্দেহে স্থানীয় গণপিটুনিতে নিহত হন দলিত সম্প্রদায়ের রূপলাল দাস (৪০) ও তার ভাগ্নে জামাই প্রদীপ লাল (৩৫)।এ ঘটনায় নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে ইউনুস আলীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেই প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে। এফএস
সাংবাদিকদের ‘পোষা কুকুর’ মন্তব্যে, চাপের মুখে বদিউল আলম
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। সাংবাদিকদের ‘রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিদের পোষা কুকুর’ বলে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের তীব্র তোপের মুখে তিনি নিজের বক্তব্যকে ভুল বলে স্বীকার করেন এবং তা প্রত্যাহার করেন।শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পলাশবাড়ী বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরে সাংবাদিকদের আপত্তি ও চাপের মুখে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তার মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল এবং তিনি তা প্রত্যাহার করছেন।আলোচনায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। নির্বাচনী অঙ্গন ও রাজনৈতিক দলগুলো কুলষিত হয়ে পড়েছে এবং এখনো অধিকাংশ প্রার্থী কালো টাকা ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনের সংস্কার। তার ভাষায়, শেখ হাসিনার চেয়েও নির্বাচন কমিশনের লোকজন বড় আওয়ামী লীগারে পরিণত হয়েছিল।সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায়ন করতেই সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলে প্রধানমন্ত্রী অসীম ক্ষমতার অধিকারী হন। সেই পুরোনো পথেই হাঁটতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ‘দানবে’ পরিণত হতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।ড. বদিউল আলম আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো নির্বাচন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মতো জুলাই অভ্যুত্থানকেও ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। বক্তব্যে গণভোট বিষয়েও তিনি বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।মতবিনিময় সভায় ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুজন ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়ক জয়ন্ত কর, জেলা ফ্যাসিলিটেটর আতিক সুমন, ম্যানেজার মেহেরুন নেসা। এছাড়া পলাশবাড়ী উপজেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষক জাহিদুল ইসলাম, সদস্য আলিউল ইসলাম বাদল, আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু এবং সুজনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় সুধীজনরা সভায় অংশ নেন।এসআর
ঠাকুরগাঁওয়ে চিরকুট লিখে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের পাশে রাখা চিরকুট পেয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টায় জেলা শহরের হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা। নিহত শিক্ষার্থী হুমাইরা আক্তার মিম (১৬) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তার বাড়ি জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের বেংরোল জিয়াবাড়ী গ্রামে। সে ওই এলাকার হুমায়ুন কবিরের মেয়ে। হুমাইরা আক্তার মিমের মরদেহের পাশে পাওয়া চিরকুটে লেখা ছিল "Result দেওয়ার জন্য আমার জম্ম তো,এই লা/না ? শুধু ভালো Result দেওয়ার বিনিময়েই তো আমার বড় হওয়া। ইংরেজি অংশে লেখা আছে- "So, I am giving you my last result।জানা গেছে, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে। চাচার বাড়িতে দুই ভাই-বোন পড়াশোনা করছিল। শুক্রবার রাতে হঠাৎ মোবাইল ফোনে কথা বলার এক ফাঁকে দরজা বন্ধ করে দেয় মীম। পরে খাবার খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে দেখে গলায় ফাঁস দিয়েছে সে।ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। তার বাবা-মা আসলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।এইচএ
অজ্ঞানপার্টির ডিম খেয়ে টাকা–মোবাইল খোয়ালেন এমপি প্রার্থী
ঢাকা থেকে নিজ জেলায় ফেরার পথে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েছেন গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজার রহমান। এ ঘটনায় তিনি নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন খুইয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুরের মডার্ন মোড় থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তাজহাট থানা পুলিশ।তাজহাট থানা পুলিশ জানায়, বিকেলে পিংকি এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাচ্ছিলেন আজিজার রহমান। পথিমধ্যে বাসের ভেতরে অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা কৌশলে তাকে ডিম খাওয়ায়। এরপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।পুলিশ জানায়, অজ্ঞান অবস্থায় তাকে রংপুরের মডার্ন মোড়ে নামিয়ে দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান।তিনি জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে ত্রুটির কারণে আজিজার রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরবর্তীতে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানিতে তিনি মনোনয়ন ফেরত পেয়ে বাসযোগে নিজ এলাকায় বাড়িতে ফিরছিলেন। সন্ধ্যায় পুলিশ মহাসড়কের পাশে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।ওসি আতাউর রহমান আরও বলেন, বর্তমানে আজিজার রহমান কিছুটা সুস্থ হয়েছেন। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আজিজার রহমানকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। এনআই
ঠাকুরগাঁওয়ে টপ সয়েল কাটার দায়ে দুইজনের কারাদন্ড
ঠাকুরগাঁওয়ে আবাদি জমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রির দায়ে দুজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে দুটি ট্রাক্টর জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।শুক্রবার(১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহসান উল হক এ রায় দেন।দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুজন হলেন হরিপুর উপজেলার পশ্চিম বনগাঁও গ্রামের মৃত দুলাল হোসেনের ছেলে রিপন (২২) এবং একই গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে মোতালেব (৩৪)।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহসান উল হক জানান, দুওসুও ইউনিয়নের সনগাঁও গ্রামে আবাদি জমি থেকে টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয় এবং দুটি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। অপরাধ স্বীকার করায় দুজনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং জব্দকৃত ট্রাক্টর দুটি পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এনআই
আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে পাবনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান পাবনার সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক সঞ্চিতা ইসলাম এ নোটিশ দেন।কারণ দর্শানোর নোটিশে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তার (হাসান জাফির তুহিন) বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই বিষয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে তাকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা জানাতে বলা হয়েছে।এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাসান জাফির তুহিন পাবনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী। লিখন সরকার নামের ফেসবুক আইডিসহ বেশকিছু ফেসবুক আইডি থেকে ধানের শীষের ভোট চেয়ে এবং শ্লোগান দিয়ে স্থিরচিত্রসহ ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি নির্বাচনি অনুসন্ধানী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তার এসব কার্যকলাপ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৮ এর লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়।নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে হাসান জাফির তুহিনের কাছ থেকে লিখিত জবাব চেয়ে নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে নির্বাচনী প্রচার শুরু করার কোনো সুযোগ নেই। সেই হিসেবে এ ধরনের কার্যক্রম সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উপর্যুক্ত কারণে কেন আপনার (হাসান জাফির তুহিন) বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়ে আগামী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পাবনার সিভিল জজ আদালতের বিচারক সঞ্চিতা ইসলামের কার্যালয়ে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্য/ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ করা হলো।এ বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।আরডি
ধামইরহাট সীমান্তে ২৯ লক্ষ টাকার মাদক জব্দ
নওগাঁর ধামইরহাট সীমান্তে বাংলাদেশ বিজিবির অভিযানে ১৪ হাজার ৬শত পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে ১৪ বিজিবি। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার চকিলাম বিওপি’র টহল কমান্ডার হাবিলদার মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ২৬৬/১ এস হতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চকশব্দল এলাকার মাঠ থেকে মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পত্নীতলা ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মামুন পিএসসি। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও জানান চকশব্দল গ্রামে মাঠের সরিষা ক্ষেতের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি ১৪ হাজার ৬শত পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ধামইরহাট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে যার সিজার মূল্য ২৯লক্ষ ২০ হাজার টাকা। একই রাতে অপর আরও এক অভিযানে কালুপাড়া বিওপি’র টহল কমান্ডার হাবিলদার বাদশা আলমগীর এর নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ২৭২ এমপি হতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উস্তমাবাদ এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১২৬ বোতল নেশাজাতীয় কাশির সিরাপ জব্দ করা হয়।এসআর
পাবনার ফরিদপুরে চার দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় মোছা. সুরাইয়া খাতুন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রী চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।সুরাইয়া ফরিদপুর উপজেলার বৃলাহিড়ীবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচ জন্তিহার গ্রামের মো. স্বপন খানের মেয়ে। সে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।সুরাইয়ার পরিবার জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে পাঁচ জন্তিহার গ্রাম থেকে সে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।মেয়েকে হারিয়ে মা-বাবা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজে পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ফরিদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুরাইয়ার বাবা স্বপন খান বলেন, “নিখোঁজ কিংবা অপহরণের ঘটনায় অভিভাবক ও স্বজনদের ভীষণ ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে কোথাও পাচ্ছি না। এ নিয়ে আমরা পরিবারের সবাই মহাদুশ্চিন্তায় রয়েছি।”এ বিষয়ে ফরিদপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ সরকার বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।এনআই
‘তিন উপজেলার সমন্বয়ে ঈশ্বরদী জেলা গঠন করা হবে’
পাবনা-৪ আসনের (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী ও নাটোরের লালপুর উপজেলার সমন্বয়ে ঈশ্বরদী জেলা গঠন করা হবে।’বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার দাশুড়িয়া মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠপ্রাঙ্গনে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নির্বাচনী লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বার্তাটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ভোটারদের নানারকম মন্তব্য লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনী এ লাইভ অনুষ্ঠানে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কঠিন ইচ্ছে ছিল ঈশ্বরদীকে মহানগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। বর্তমানে ঈশ্বরদী পর্যটন ও শিল্প নগর হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছে। এখানে দেশের মেগাপ্রকল্প রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ইপিজেড ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ রয়েছে যা বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম। সবকিছু মিলিয়ে ঈশ্বরদী একটি জেলা হতে পারে। পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর যেমন দুটি উপজেলা নিয়ে জেলা গঠন করেছে ঠিক তেমনি আমরাও আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী ও লালপুর মিলে ঈশ্বরদীকে একটি জেলায় রুপান্তর করতে পারি।এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে একটি স্পেশালাইজড হাসপাতাল করা হবে এবং শিক্ষা নগর হিসেবে ঈশ্বরদীকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো। শুধু তাই নয় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন জেলা হিসেবেই ঈশ্বরদীকে এগিয়ে নেওয়ার আপ্রান চেষ্টা থাকবে আমার।’এদিকে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, নানরকম প্রতিশ্রুতি আর প্রচার নয়, সবকিছুর বাস্তবায়ন হতে হবে। ঈশ্বরদীকে জেলা করা হলে মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেকটাই পরিবর্তন হবে যা গত কোন নির্বাচনের মাধ্যমে হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। সব মিলিয়ে একটি সুন্দর আর সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি এ আসনের ভোটারদের।ইখা
নওগাঁয় ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাশ ও লাইসেন্স দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাশ ও লাইসেন্স দেওয়ার নামে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁ সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’র (টিটিসি) বিরুদ্ধে। পরীক্ষায় পাশ করে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি দুই হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে। টিটিসির ড্রাইভিং প্রশিক্ষক ওয়ালীউল্লাহ সনি ও মাহবুব আলম টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ প্রশিক্ষণার্থীদের।প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ না জানলেও ড্রাইভিং প্রশিক্ষকদের দাবি, উত্তোলনকৃত টাকা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) অফিসে দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে প্রশিক্ষণার্থীদের ফেল করে দেওয়া হয়।জানা যায়, স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) প্রকল্পের আওতায় ফ্রিতে চার মাস মেয়াদি ‘মোটর ড্রাইভিং উইথ বেসিক মেইন্টেনেন্স’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বছরে তিনবার হয় এই প্রশিক্ষণ। জনপ্রতি প্রতিদিন ১৫০ টাকা ভাতা বরাদ্দ। এরমধ্যে যাতায়াত ভাড়া ১শ টাকা আর নাস্তা বাবদ ৫০টাকা। গত ডিসেম্বর মাসে দুই ব্যাচে ৪৯জন প্রশিক্ষণার্থী চার মাস ব্যাপী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শেষ হয়। পরে ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাশ ও লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএ অফিস টাকা দিতে হবে বলে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয় প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে।ভুক্তভোগী আহসান হাবিব ও শামীমসহ কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৯ ডিসেম্বর লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিআরটিএ’তে পরীক্ষা হয়। এরআগে ২৮ডিসেম্বর ড্রাইভিং প্রশিক্ষক স্যাররা দুই হাজার টাকা করে সবার কাছ থেকে তোলেন। পরে জানতে চাইলে বলা হয় বিআরটিএ’তে পরীক্ষার বিষয়ে এই টাকা। অথচ এই কোর্স করতে কোথায় কোন টাকা দিতে হয় না। সম্পন্ন ফ্রি জেনেই আমরা ভর্তি হয়েছিলাম।’ বিষয়টা তদন্তের দাবি তাঁদের।এসব বিষয়ে ড্রাইভিং প্রশিক্ষক ওয়ালীউল্লাহ সনি ও মাহবুব আলম বলেন, ‘বিআরটিএ অফিসকে টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে ড্রাইভিং পরীক্ষায় প্রশিক্ষণার্থীদের ফেল করে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে কোন ঝামেলায় না পড়ে এজন্য কিছু টাকা তোলা হয়। সেই টাকা দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীসহ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে তাদের (বিআরটিএ) কর্মকর্তাদের দাওয়াত দেওয়া হয়। খাওয়া-দাওয়া শেষে তাদের খুশি করতে (বিআরটিএ) কর্মকর্তাদের হাতে টাকা দেওয়া হয়। এই নিয়ম বহুদিন ধরে চলে আসছে। বিআরটিএ-এর কাছে আমরাও জিম্মি।’নওগাঁ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সামছুজ্জামান বলেন, ‘আমার জানামতে কোন প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকেই কোন টাকা নেয়া হয়না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’টিটিসির ড্রাইভিং প্রশিক্ষকদের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে নওগাঁ বিআরটিএ-এর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নওগাঁতে নতুন। বিষয়টি জানা নেই। আর পরীক্ষায় পাশ করে দেওয়ার নামে টাকা গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কোর্স কমিটির সভাপতি জান্নাত আরা তিথি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষায় পাশ করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ইখা
সিলেটে ৩ বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১২
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৩ বাসের সংঘর্ষে ২জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত আরো ১২ জন।আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওসমানীনগ উপজেলার দয়ামীর মাদরাসার সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদুল হাসান ভুঁইয়া।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দয়ামীর মাদরাসার সামনে এলে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া শ্যামলী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় এনা বাসের পেছনে থাকা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসও সংঘর্ষের কবলে পড়ে। দুর্ঘটনায় এনা ও শ্যামলীর সম্মুখভাগ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।খবর পেয়ে ওসমানীনগরের তাজপুর ফায়ার সার্ভিস, থানা ও হাইওয়ে পুলিশ এসে হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সকাল সাড়ে ৯টায়) ঘটনাস্থলের দু’পাশে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট ছিল। পুলিশ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।এইচএ
গোলাপগঞ্জে গরুর খামারে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়ে বোবা প্রাণীর মৃত্যু
সিলেটের গোলাপগঞ্জে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়ে খামারের ১০টি গরু দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের উত্তর ধারাবহর গ্রামে উজ্জ্বল আহমদ নামের এক খামারির ডেইরি ফার্মে এই ঘটনা ঘটে।পরিবারের সুত্র জানা যায়, দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে খামারে থাকা ১০ টি গরুর মধ্যে দগ্ধ হয়ে দুটি গরু মারা গেছে ও বাকি গরু আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে এবং চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে । এতে তাদের প্রায় ঊনিশলক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে খামারে আগুন লাগার খবর পেয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পরিচালক ডা.জুনায়েদ কবির বলেন, এখানে বিভিন্ন বয়সের ১০টি গরু আক্রান্ত হয়েছে এবং দুটি গরু মারা গেছে। কয়েকটি গরুর পুরো চামড়া পুড়ে গেছে। ভেটেনারি সার্জনসহ আমরা সবাই মিলে আক্রান্ত গরুগুলোকে চিকিৎসা প্রদান করছি । ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক ধারাবহর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে উজ্জল আহমদ বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম। দেশে ফিরে দুধ উৎপাদনের জন্য গরুর খামার তৈরি করি। গরুগুলো প্রতিদিনের মতো ফার্মে ছিল। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ গভীর রাতে কুকুরের ডাকাডাকিতে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। বাইরে এসে দেখি খামারে আগুন জ্বলছ। এরপর দ্রুত কম্বল ভিজিয়ে গায়ে জড়িয়ে গরুর গলা থেকে দড়ি খুলে দিয়ে বাইরে বের করার চেষ্টা করি। এসময় ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ততক্ষণে সবগুলো গরুই আগুনে দগ্ধ হয়। পরে দুটি গরু মারা যায়।তিনি আরও জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে আমাদের গোয়ালে আগুন দেয়া হয়েছে। তাই প্রশাসনের কাছে তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু বিচারে দাবি করেছেন প্রবাস ফেরত এ উদ্যোক্তা।রাতে খামারে আগুন লাগার খবর পেয়ে, গোলাপগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ফায়ার ও সিভিল সার্ভিসের ষ্টেশন মাষ্টার ফাহিম আহমদ বলেন - বৈদ্যুতিক সট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয় নি।এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবরটি শুনে মডেল থানার একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ দাখিল করেন নি খামারি, অভিযোগ করলে, আমরা আইননুক ব্যবস্থা নেব।এসআর
হবিগঞ্জের পাচারকালে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ
সিলেট থেকে বালুভর্তি ট্রাকে করে অভিনব কৌশলে ঢাকায় পাচারকালে ভারতীয় কসমেটিকস ও শাড়ীর বড় একটি চালান ধরা পড়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুরে। প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের এই চোরাচালানটি জব্দ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৫৫ বিজিবি। এসময় চোরাচালানে ব্যবহত ট্রাকও আটক করা হয়।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় দিবাগত রাত ২টার দিকে ৫৫ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল মাধবপুর উপজেলার ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের সাতছড়ি তেলিয়াপাড়া এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।এ সময় সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি বালুবাহী ট্রাককে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। তল্লাশিকালে ট্রাকের বালুর নিচে বিশেষভাবে নির্মিত গোপন চেম্বার থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস ও শাড়ী উদ্ধার করা হয়।হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত অবৈধ ভারতীয় পণ্য ও জব্দকৃত ট্রাকের মোট সিজার মূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা। এসব পণ্য সিলেট থেকে অবৈধভাবে ঢাকায় পাচার করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।তিনি আরও জানান, জব্দকৃত ভারতীয় কসমেটিকস, শাড়ী ও ট্রাক আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবিগঞ্জ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।এসআর
হবিগঞ্জে প্রকাশ্য ‘ইয়াবার’ বিজ্ঞাপন, জনমনে উদ্বেগ
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ বাজারে দেখা গেছে এক অদ্ভুত পোস্টার। যেখানে লেখা ছিল ‘ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়’ এবং দুটি মুঠোফোন নম্বর দেওয়া ছিল। এ পোস্টার স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।সরেজমিন গেলে, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার দাউদনগর মাছ বাজারের দেওয়ালে একটি পোস্টার লাগানো দেখা যায়। পোস্টার লেখা রয়েছে, ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায় বলে দুইটি মুঠোফোনের নম্বর দেওয়া আছে। মাছ ক্রয়-বিক্রি করতে আসা সাধারণ মানুষ এই পোস্টার দেখে বিস্মিত হয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন ও পোস্টার দেখেছেন, কিন্তু সরাসরি মাদকদ্রব্য পাওয়া যাবে এমন পোস্টার এটি প্রথম। জনমনে প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে এবং পোস্টারটি সামাজিকভাবে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ শহরের কয়েকটি চিহ্নিত স্থানে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পুরানবাজার রেলওয়ে গেট, উলুকান্দি রেলওয়ে গেট, নিজগাঁও দিঘীরপাড়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণভাবে অন্তত ৪–৫টি স্থানে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এভাবে মাদকদ্রব্য বিক্রি হওয়ায় একশ্রেণির লোক বিপদগামী হয়ে পড়েছে। বাড়ছে চুরিসহ নানা অপরাধ। অপরাধ দমনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সচেতন লোকেরা। আরডি
হবিগঞ্জে নিখোঁজের ৩দিন পর মাদ্রাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার
হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর খোয়াই নদীর পাড়ের ঢালু স্থান থেকে রাজি বিন মাহবুব (৯) নামে এক মাদরাসা ছাত্রের চোখ উপড়ে ফেলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ধারণা, তাকে হত্যা করা হয়েছে।শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় সদর মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। রাজি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে। সে শায়েস্তানগর দারুন্নাজাত হিফজুল কোরআন মাদরাসার ছাত্র।পরিবারের সদস্যরা জানান, ৬ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রাজি সহপাঠীদের সঙ্গে ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলা করছিল। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির অদূরে খোয়াই নদীর পাড়ের ঢালুতে তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা দেখেন, রাজির বাম চোখটি উপড়ে ফেলা হয়েছে। খবর পেয়ে থানার এসআই প্রদীপ রায় সরকারসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন।এসআই প্রদীপ সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকান্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।ইখা
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
ইউরোপের ৮ দেশের ওপর শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও ইউরোপের দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনায় বাধা দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না গ্রিনল্যান্ড ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে’ ক্রয় করতে পারছে, ততক্ষণ এই শুল্ক বলবৎ থাকবে। শুল্ক তালিকার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো— ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড।এইচএ
আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট থেকে বেরোচ্ছে ইরান, আনছে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন-ম্যাসেজিং অ্যাপ
ইরান সরকার স্থায়ীভাবে বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বেরিয়ে আশার পরিকল্পনা করছে। জানা গেছে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহার আর নাগরিক অধিকার হিসেবে গণ্য হবে না দেশটিতে। আর এ সুবিধা নিশ্চিতে নিজস্ব প্রযুক্তির ইন্টারনেট সুবিধা আনার পরিকল্পনা করছে দেশটি।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্টারওয়াছের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটকে ‘সরকারি বিশেষাধিকার’ হিসেবে রূপান্তরের একটি গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।প্রতিবেদনে ইরানের ভেতরের একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সরকারি মুখপাত্ররা ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৬ সালের পর আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের আর অবাধ ইন্টারনেট ফেরানো হবে না।ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রাশিদি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থায় শুধুমাত্র নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত বা সরকারি যাচাই প্রক্রিয়া উত্তীর্ণ ব্যক্তিরাই সীমিত ও ফিল্টার করা বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সাধারণ নাগরিকদের জন্য থাকবে কেবল একটি জাতীয় ইন্টারনেট, যা সম্পূর্ণভাবে দেশীয়, আর এটি হবে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন।এই জাতীয় ইন্টারনেট মূলত একটি সমান্তরাল ডিজিটাল অবকাঠামো, যা সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে থাকবে শুধু সরকার অনুমোদিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ, ন্যাভিগেশন সেবা এবং দেশীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, যাকে অনেকেই ‘ইরানি নেটফ্লিক্স’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।টানা ১২ দিনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গত ৮ জানুয়ারি ইরানে চলমান ইন্টারনেট বন্ধের সূচনা হয়। ওই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। কঠোর দমন-পীড়নের মুখে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও দেশটি কার্যত তথ্য-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ব্যাপক দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু স্থাপনা, নিহত হয়েছেন বহু নিরাপত্তাকর্মীও।এই ব্ল্যাকআউটকে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও কঠোর ইন্টারনেট বন্ধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি ২০১১ সালের মিশরের তাহরির স্কয়ার আন্দোলনের সময়কার ইন্টারনেট বন্ধের চেয়েও দীর্ঘ। ইরানের এক সরকারি মুখপাত্র দেশীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অন্তত নওরোজ বা পারস্যের নববর্ষ (২০ মার্চ) পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।এবি
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতায় শুল্ক: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ইউরোপ
গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ইউরোপের আটটি মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপের শীর্ষ নেতারা। একইসঙ্গে এই হুমকিকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন তারা। এমন অবস্থায় বিদ্যমান পরিস্থিতি ঘিরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও দ্রুত বাড়ছে।সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতার জেরে ইউরোপের আটটি মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। পরে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। কোনও সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের প্রতিবাদে শনিবার গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। কম জনবসতিপূর্ণ হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থান হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক নৌযান চলাচল নজরদারিতে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘সহজ পথে’ কিংবা ‘কঠিন পথে’ গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারে। এমন অবস্থায় গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। তারা বলছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর যৌথ দায়িত্ব হওয়া উচিত। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে তথাকথিত ‘রিকনেসান্স মিশনের’ অংশ হিসেবে সীমিত সংখ্যক সেনা গ্রিনল্যান্ডে পাঠিয়েছে।শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শুল্ক ঘোষণার সময় ট্রাম্প বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ‘খুবই বিপজ্জনক খেলা খেলছে’। তার মতে, এখানে প্রশ্নের মুখে রয়েছে ‘পুরো গ্রহের নিরাপত্তা ও টিকে থাকা’। তিনি আরও জানান, আগামী মাসে আরোপ করা ১০ শতাংশ শুল্ক জুনে বেড়ে ২৫ শতাংশ হবে এবং গ্রিনল্যান্ডকে ‘সম্পূর্ণভাবে কিনে নেয়ার’ বিষয়ে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে।এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘ন্যাটো মিত্রদের যৌথ নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করার কারণে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা বিষয়টি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব’। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে শুল্কের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়... আমরা কোনও ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না।’সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, ‘আমরা ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করব না’। তিনি জানান, সুইডেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথ প্রতিক্রিয়া নির্ধারণে আলোচনা চালাচ্ছে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব সময় আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় দৃঢ় থাকবে।’ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানান, শুল্ক আরোপের হুমকি তাদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল।এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে রক্ষণশীল ইপিপি গোষ্ঠীর প্রধান জার্মান এমইপি মানফ্রেড ওয়েবার বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ গত বছর আলোচিত কিন্তু এখনও অনুমোদন না পাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে এবং কিছু মার্কিন পণ্যে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেবে ইইউ।ওয়েবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ইপিপি এই চুক্তির পক্ষে থাকলেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির কারণে এখনই এটি অনুমোদন সম্ভব নয়। মার্কিন পণ্যের ওপর শূন্য শুল্ক স্থগিত রাখতে হবে।’তবে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ডেনমার্কের ‘উত্তরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় কাজ করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই’। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে গ্রিনল্যান্ডবাসীর জীবন হবে ‘আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ’।এবি
দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীর হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ৭
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরের বাইরে একটি টাউনশিপে শনিবার ভোরে বন্দুকধারীদের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মারিকানা এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও ছয়জন পুরুষ, যাদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। হামলায় আরো তিনজন আহত হন। ঘটনাটি মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর ঘটে এবং পুলিশ বলছে, এটি এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে এবং এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।আফ্রিকার সবচেয়ে শিল্পোন্নত দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠিত অপরাধচক্রের কারণে সৃষ্ট অপরাধ ও দুর্নীতির সমস্যায় ভুগছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৩ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। গত ডিসেম্বরে আলাদা দুটি গণগুলির ঘটনায় বন্দুকধারীরা একটি হোস্টেল ও একটি বারে হামলা চালায়। এসব হামলায় কয়েকজন শিশুসহ মোট ২৪ জন নিহত হন।শনিবারের হামলাটি কেপটাউনের কেপ ফ্ল্যাটস এলাকায় ঘটে। এলাকাটি গ্যাং সহিংসতার জন্য কুখ্যাত। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই সেখানে দুই হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে।সূত্র : আরব নিউজএবি
অভিযানের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকেই দেশটির কট্টর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো ক্যাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এমন তথ্য জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের পরও ক্যাবেলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ৬২ বছর বয়সী ক্যাবেলাকে সতর্ক করেছিলেন যেন তিনি তার নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র সমর্থকদের ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদের টার্গেট না করেন। ক্যাবেলোর অধীনে থাকা এই নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী, যা জানুয়ারি ৩ তারিখের মার্কিন অভিযানের পরও প্রায় অক্ষত রয়েছে।ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে গ্রেপ্তারের জন্য যে মার্কিন মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছিল, তাতে ক্যাবেলোর নামও রয়েছে। তবে অভিযানের সময় ক্যাবেলাকে আটক করা হয়নি। সূত্র জানায়, ক্যাবেলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগে তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও মামলার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর দিক থেকেই এই যোগাযোগ শুরু হয় এবং মাদুরো অপসারণের ঠিক আগ পর্যন্ত তা চলতে থাকে। মাদুরো অপসারণের পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে চারটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।এই গোপন যোগাযোগগুলো ভেনেজুয়েলার ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক সূত্রের মতে, ক্যাবেলো যদি তার নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনীকে সক্রিয় করেন, তাহলে দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র এড়াতে চায় এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতা ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখেও ফেলতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্যাবেলোর আলোচনায় ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, তিনি মার্কিন সতর্কবার্তা কতটা মেনেছেন তাও জানা যায়নি। তবে ক্যাবেলো প্রকাশ্যে রদ্রিগেজের সঙ্গে ঐক্যের ঘোষণা দিয়েছেন, যাকে ট্রাম্প এ পর্যন্ত প্রশংসা করে আসছেন।মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলার জন্য ট্রাম্পের কৌশলের মূল ভরকেন্দ্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র রদ্রিগেজকে দেখলেও, ক্যাবেলোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বা পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে দেয়ার মতো ক্ষমতা রয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। এক সূত্র জানায়, ক্যাবেলো সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।সংবেদনশীল এই আলোচনার বিষয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য সব সূত্রই নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও ভেনেজুয়েলা সরকারকে অনুরোধ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।দিয়োসদাদো ক্যাবেলো দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মাদুরোর রাজনৈতিক গুরু হিসেবে পরিচিত শ্যাভেজের পর তিনি মাদুরোর অন্যতম বিশ্বস্ত অনুগত হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। যদিও রদ্রিগেজ ও ক্যাবেলা দুজনই বহু বছর ধরে সরকার, সংসদ ও ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও তারা মাদুরোর কখনও ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন না।সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ক্যাবেলো দেশটির সামরিক ও বেসামরিক কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সংস্থার ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন, যেগুলো অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তিনি সরকারপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠী, বিশেষ করে ‘কোলেকটিভো’-এর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। মোটরসাইকেলে চলাচলকারী সশস্ত্র এই বেসামরিক গোষ্ঠীগুলো অতীতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ক্যাবেলো সেই অল্প কয়েকজন মাদুরো অনুগতের একজন, যাদের ওপর ভর করে তেলসমৃদ্ধ ওপেকভুক্ত এই দেশে একটি অনির্দিষ্ট রূপান্তরকালীন সময়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তার দমনমূলক অতীত ও রদ্রিগেজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসের কারণে তিনি পুরো প্রক্রিয়ায় ‘স্পয়লার’ বা ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারেন—এমন আশঙ্কাও করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।রদ্রিগেজ ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদে অনুগতদের বসাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে তেল উৎপাদন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিও মেনে চলছেন। ভেনেজুয়েলার ভেতরের সূত্রের বরাতে রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভেনেজুয়েলা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এলিয়ট অ্যাব্রামস বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এগোতে হলে অনেক ভেনেজুয়েলানই আশা করবেন ক্যাবেলোকে একসময় সরিয়ে দেয়া হবে। যখন এবং যদি তিনি বিদায় নেন, তখনই ভেনেজুয়েলানরা বুঝবে যে শাসনব্যবস্থা সত্যিই বদলাতে শুরু করেছে।’এবি
সপ্তমবারের মতো উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মুসেভেনি
আফ্রিকার দেশ উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিক ইয়োওয়েরি মুসেভেনি। শনিবার উগান্ডার নির্বাচন কমিশনের প্রধান তাকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।ব্যাপক সহিংসতা আর জালিয়াতির অভিযোগের মাঝে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পঞ্চম দশকে নিজের শাসনকালকে নিয়ে গেলেন দেশটির এই নেতা। নির্বাচনী এই ফলাফল ৮১ বছর বয়সী মুসেভেনির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান জল্পনার মাঝে এই নির্বাচনী ফলাফলে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।শনিবার দেশটির রাজধানী কাম্পালায় এক অনুষ্ঠানে উগান্ডার নির্বাচন কমিশন বলেছে, মুসেভেনি মোট ভোটের প্রায় ৭২ শতাংশ পেয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পপসংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ববি ওয়াইন পেয়েছেন ২৪ শতাংশ ভোট।নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন ওয়াইন। দেশটির কর্তৃপক্ষ ‘ভুল তথ্য’ ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে নির্বাচনের আয়োজন করেছিল। জালিয়াতির অভিযোগে নিজের সমর্থকদের বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াইন। তবে শনিবার ওয়াইনের অবস্থান জানা যায়নি।তিনি বলেছেন, তার বাড়িতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন। ওয়াইনের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকরা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি উগান্ডার ভেতরেই আত্মগোপনে আছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াইন বলেছেন, গত রাতটি আমাদের বাড়িতে অত্যন্ত কঠিন ছিল... সেনাবাহিনী ও পুলিশ আমাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং আমাদের কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়।তিনি বলেন, আমি নিশ্চিতভাবে তাদের হাত থেকে পালাতে পেরেছি। বর্তমানে আমি বাড়িতে নেই। ওয়াইন বলেন, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন। তবে তার এই অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।এদিকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটিতে বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ বলেছে, উগান্ডার মধ্যাঞ্চলের স্থানীয় সংসদ সদস্য মুওয়াঙ্গা কিভুম্বির সংগঠিত বিরোধী ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে সাতজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। তবে কিভুম্বি এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী তার বাড়িতে ঢুকে ১০ জনকে হত্যা করেছে।গত অক্টোবরে প্রতিবেশী তানজানিয়ায় নির্বাচনের পর শতাধিক মানুষের প্রাণহানির মতো সহিংসতা উগান্ডায় ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে দেখা যায়নি। উগান্ডার এবারের নির্বাচনে মুসেভেনির জয় খুব বেশি অবাক করার মতো ছিল না। কারণ ১৯৮৬ সালে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বয়সসীমা ও মেয়াদসীমা তুলে দিতে সংবিধান দু’বার পরিবর্তন করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন।২০২১ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে ওয়াইনকে ৫৮ শতাংশ ভোটে পরাজিত করেছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র সে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে মন্তব্য করেছিল।এবারের প্রচারণা চলাকালীন ওয়াইনের বিভিন্ন সমাবেশে বারবার টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সহিংসতায় অন্তত একজন নিহত হন এবং শত শত বিরোধী সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়।মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার মতো আঞ্চলিক সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সেনা পাঠানো এবং লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে মুসেভেনি প্রশংসিত হয়েছেন।উগান্ডার অনেক বাসিন্দা তার শাসনামলে আপেক্ষিক স্থিতিশীলতারও প্রশংসা করেছেন। তিনি ‘সব অর্জন রক্ষা করো’ স্লোগান নিয়ে এবারের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এ বছর অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন শুরু হলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ অঙ্কে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।মুসেভেনি তার উত্তরসূরি হিসেবে নিজের ছেলে সেনাবাহিনীর প্রধান মুওজি কাইনেরুগাবাকে পছন্দ করেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। যদিও তিনি এই দায়িত্বের জন্য ছেলেকে প্রস্তুত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।চলতি সপ্তাহে স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতা ছাড়ার আলোচনা উড়িয়ে দেন মুসেভেনি। তিনি বলেন, আমি যদি সুস্থ থাকি, মারা না যাই, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতায় না ভুগি, আমার কিছুটা জ্ঞান থাকে, যদি সত্যিই দেশের ব্যাপারে আন্তরিক হই; তাহলে কেন আমার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইবেন না?সূত্র: রয়টার্সএবি
ইরানে সীমিত আকারে চালু হয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরোনোর পর সীমিত আকারে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করেছে ইরানের সরকার। দেশটির মোবাইল ব্যবাহারকারীরা এখন এসএমএস আদান-প্রদান করতে পারছেন।গতকাল থেকে দেশজুড়ে মোবাইল এসএমএস পরিষেবা চালু হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে এখনও ফোনকল করা বা কথা বলার মতো শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্ক পাননি ইরানের মোবাইল ব্যবহারকারীরা। সেই সঙ্গে এখন পর্যন্ত বন্ধ আছে ইন্টারনেট পরিষেবাও।গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে রীতিমতো কেঁপে উঠেছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লাবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন হওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রি সরকার তাদের শাসনামলের ৪৭ বছরে এত বড় মাত্রার বিক্ষোভ-আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেনি।এই আন্দোলন-বিক্ষোভ উস্কে ওঠার প্রাথমিক কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।বিক্ষোভ দমনে গত ৭ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মোতায়েনপুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংখাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনালএবি
এবার উগান্ডার প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
উগান্ডার বিরোধী দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ববি ওয়াইনকে তার বাড়ি থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ‘জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার দল ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ দাবি জানায়। এর এক দিন আগে থমথমে পরিবেশে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ববি ওয়াইনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে উগান্ডা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দেশটির শীর্ষ বিরোধী নেতা ওয়াইন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে প্রার্থীদের ‘ব্যাপক দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন’ করেছে দেশটির সরকার।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোরে উগান্ডার রাজধানী কামপালা থেকে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ওয়াইনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আল জাজিরার সঙ্গে যোগাযোগ করা ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্মের এক কর্মকর্তা শুধু এটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছেন যে, ‘সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য গোছের লোকজন ওয়াইনের বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছিল।’বৃহস্পতিবারের (১৫ জানুয়ারি) ভোটের পরপরই ওয়াইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে ‘ব্যালট বাক্সে জাল ভোট ভরার’ ঘটনা ঘটেছে। তিনি উগান্ডার জনগণকে ‘সময়োপযোগী ভূমিকা নিতে এবং অপরাধী শাসনব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করতে’ আহ্বান জানান।৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি প্রায় চার দশক ধরে উগান্ডার ক্ষমতা আঁকড়ে রয়েছেন। চলতি সপ্তাহের নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, এবার ৮০ শতাংশ ভোট পাওয়ার আশা করছেন তিনি।শুক্রবার ভোট গণনা চলাকালে মুসেভেনি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রায় ৮১ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তিনি ৭৩.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, আর ওয়াইনের প্রাপ্ত ভোট ২২.৭ শতাংশ।এবি
বিক্ষোভে ‘হাজারো হত্যার’ পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জড়িত: খামেনি
ইরানজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের সময় যে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘‘অপরাধী’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী এই ষড়যন্ত্রটি ছিল ভিন্ন। কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন।বিদেশি শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ দেশজুড়ে ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেন খামেনি। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত শক্তিগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানকে নাড়িয়ে দেওয়া এই বিক্ষোভে বিদেশি শক্তিগুলোই ইন্ধন জুগিয়েছে।দেশজুড়ে চলা অস্থিতিশীলতায় বিদেশি শক্তিগুলোর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে। দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভ সহিংসতায় উসকানি এবং মাঠপর্যায়ে তৎপরতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।সতর্ক করে দিয়ে খামেনি বলেছেন, ইরান সীমান্তের বাইরে সংঘাতের বিস্তার ঘটাবে না। তবে যাদের দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে, তারা পরিণতি এড়াতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেশকে যুদ্ধে জড়াব না। কিন্তু দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’’শনিবার ধর্মীয় এক উৎসবে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা বলেছেন, ‘‘আমরা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দায়ী মনে করি।’’তিনি বলেন, এটি মার্কিন ষড়যন্ত্র। খামেনি বলেন, আমেরিকার লক্ষ্য হলো ইরানকে গ্রাস করা... লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে আবারও মার্কিন সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের অধীনে নিয়ে যাওয়া।’’সূত্র: এএফপিএবি
ইন্দোনেশিয়ায় ১১ আরোহীসহ বিমান নিখোঁজ
ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের মারোস জেলায় ১১জন আরোহীসহ ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের একটি ফ্লাইট নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার সময় এটিআর-৪২-৫০০ মডেলের ফ্লাইটটি জাকার্তা থেকে মাকাসার অভিমুখে যাচ্ছিল।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বেলা ১টা ১৭মিনিটে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে বিমানটির শেষ যোগাযোগ হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাসের অপারেশন ডিরেক্টর এডি প্রকোসো জানিয়েছেন, ফ্লাইটটিতে মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আটজন ক্রু মেম্বার এবং তিনজন যাত্রী। বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও ডেটা পরিষেবা প্রদানকারী এয়ার-নাভ ইন্দোনেশিয়ার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ফ্লাইটটির সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে মারোস জেলার লিয়াং-লিয়াং অঞ্চলের দুর্গম এলাকায়।ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনতানা জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই মাকাসার থেকে ২৫ জন দক্ষ কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি উদ্ধারকারী দল গঠন করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের মোট তিনটি দলে ভাগ করে লিয়াং-লিয়াংয়ের সম্ভাব্য এলাকায় পাঠানো হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাতে একটি আধুনিক ড্রোন ইউনিট, রেসকিউ ভেইকেল এবং পার্সোনেল ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে।বাসারনাসের অপারেশন ডিরেক্টর এডি প্রকোসো বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা ইতিমধ্যে লিয়াং-লিয়াংয়ের চিহ্নিত স্থানাঙ্কের দিকে রওনা হয়েছেন। বিমান এবং এর যাত্রীদের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই নিবিড় অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকবে।’উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার যে এলাকায় ফ্লাইটটি নিখোঁজ হয়েছে, সেটি অত্যন্ত দুর্গম এবং পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। লিয়াং-লিয়াং অঞ্চলটি মূলত প্রাগৈতিহাসিক গুহা এবং চুনাপাথরের পাহাড়ের জন্য বিখ্যাত। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম পথ উদ্ধার অভিযানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আরডি
বিনোদন
সব দেখুন
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড বাতিল, নতুনভাবে গঠন
বিদ্যমান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড বাতিল করে নতুন করে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বোর্ড গঠন করেছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইনের ক্ষমতাবলে সরকার নতুন বোর্ড গঠন করেছে’ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৫-০৯-২০২৪ তারিখে গঠিত পুরনো বোর্ডটি বাতিল করা হয়েছে।নতুন বোর্ডটি ১৫ সদস্যের, যার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান।নতুন বোর্ডের সদস্যরা হলেন— তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি (ন্যূনতম যুগ্মসচিব পদমর্যাদার), প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন প্রতিনিধি (ন্যূনতম যুগ্মসচিব পদমর্যাদার), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি (ন্যূনতম যুগ্মসচিব পদমর্যাদার), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির একজন প্রতিনিধি অথবা একজন প্রথিতযশা প্রযোজক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির একজন প্রতিনিধি অথবা একজন প্রথিতযশা পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির একজন প্রতিনিধি অথবা একজন স্বনামধন্য অভিনেতা বা অভিনেত্রী এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির একজন প্রতিনিধি।চলচ্চিত্রাঙ্গনের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির, চলচ্চিত্র পরিচালক খিজির হায়াত খান, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ এবং চলচ্চিত্র পরিচালক তাসমিয়া আফরিন মৌ।এইচএ
অবশেষে জুবিন গার্গের মৃত্যুর কারণ জানাল সিঙ্গাপুর পুলিশ
জনপ্রিয় গায়ক ও গীতিকার জুবিন গার্গের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নয়, বরং দুর্ঘটনার কারণে হয়েছে বলে সিঙ্গাপুর পুলিশ জানিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গার্গ লাইফ জ্যাকেট পরতে অস্বীকার করেছিলেন, যা তার মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এনডিটিভিগত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর, ৫২ বছর বয়সী জুবিন গার্গ একটি ইয়ট পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার ঠিক একদিন আগে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।কোরোনার কোর্টে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুবিন প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরলেও পরে তা খুলে ফেলেন। দ্বিতীয়বার লাইফ জ্যাকেট দেয়া হলেও তিনি তা পরতে অস্বীকার করেন এবং একা লাজারাস আইল্যান্ডের দিকে সাঁতরাতে শুরু করেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি ইয়টের দিকে সাঁতার দেয়ার সময় নিস্তেজ হয়ে ভেসে যাচ্ছিলেন এবং মুখ পানির মধ্যে ছিল। দ্রুত উদ্ধার করা হলে তাকে সিপিআর দেয়া হয়, কিন্তু তিনি সেদিনই মারা যান।রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, গার্গের রক্তচাপের সমস্যা ছিল এবং তিনি মৃগী রোগেও আক্রান্ত ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার দিন তিনি নিয়মিত ওষুধ নিয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রথমবার সাঁতার শুরু করার সময় জুবিন লাইফ জ্যাকেট খুলে ফেলেছিলেন। পরে ইয়টে ফিরে এসে ক্লান্তি প্রকাশ করলে দ্বিতীয়বার লাইফ জ্যাকেট দেয়া হলেও তিনি তা পরতে অস্বীকার করেন।অটোপসি রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ড্রাউনিং’ বা ডুবে মৃত্যু উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারকালে কিছু আঘাত পাওয়া গেছে, তবে সেগুলো সিপিআর বা উদ্ধার কার্যক্রমের সময় প্রাপ্ত বলে জানা গেছে। রক্তে রক্তচাপ এবং মৃগীর ওষুধের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, কিন্তু অন্য কোনো ড্রাগ শনাক্ত হয়নি।মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ইয়টে প্রায় ২০ জন উপস্থিত ছিলেন, যারা খাবার, পানীয় ও অ্যালকোহল গ্রহণ করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জুবিনও অ্যালকোহল পেয়েছিলেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী উল্লেখ করেছেন, তিনি কিছু কাপ লিকার, জিন, হুইস্কি এবং কয়েক সিপ গিনেস স্টাউট পান করেছিলেন।টক্সিকোলজি রিপোর্টে দেখা গেছে, জুবিনের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ৩৩৩ মিলিগ্রাম প্রতি ১০০ মিলিলিটার, যা গুরুতর মাতাল অবস্থার ইঙ্গিত দেয় এবং সমন্বয় ও প্রতিক্রিয়াশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।ফরেনসিক প্যাথোলজিস্ট জানান, কোনও আক্রমণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যেমন চিবানো বা আঘাতের নিদর্শন। তাই বলা যায়, এটি একমাত্র দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।এবি
মালয়েশিয়ায় শীত খুঁজছেন পরিমণি
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন অভিনেত্রী পরীমণি। একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে এখন সময় কাটাচ্ছেন সন্তানদের নিয়ে মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লাংকাউই দ্বীপে।লাংকাউইয়ের নীল সমুদ্র, খোলা আকাশ আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে ছেলে-মেয়ের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন পরীমণি।আজ (১৪ জানুয়ারি) বুধবার একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিগুলোতে মালয়েশিয়ার প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ওঠার দৃশ্য ধরা দিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার পরী। ছবিগুলোর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শীত নেই। কেন শীত নেই।’মালয়েশিয়ার রোদেলা আবহাওয়া, দ্বীপের নিরিবিলি পরিবেশ আর সন্তানদের সান্নিধ্যে পরীমণির সময় যে দারুণ কাটছে, তা তার পোস্ট করা ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়। ভক্তরাও মন্তব্যে অভিনেত্রীর সুখী মুহূর্তগুলোর জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।এদিকে, ‘প্রীতিলতা’ নিয়ে ফের ক্যামেরার সামনে ফিরছেন অভিনেত্রী পরীমণি। ২০২০ সালে কয়েক দিনের শুটিং শেষে আটকে যাওয়া ‘প্রীতিলতা’ ছবির কাজও আবার শুরু হচ্ছে। চট্টগ্রামে চিত্রায়ণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা চলছে। সিনেমাটির নির্মাতা রাশিদ পলাশ জানান, পরীমণির সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে শুটিংয়ের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।২০২১ সালে সিনেমাটির ফার্স্ট লুক প্রকাশিত হলে প্রীতিলতার বেশে পরীমণির উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছিল। এবার সেই অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নির্মাতা। শুটিং শেষ করে দ্রুত সম্পাদনা ও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।এইচএ
অসুস্থ শবনম ফারিয়া কথা বলতে পারছেন না ৮ দিন ধরে
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী গুরুতর অসুস্থ শবনম ফারিয়া। গত এক সপ্তাহ ধরে গলার তীব্র সংক্রমণ ও টনসিলের প্রদাহে ভুগছেন তিনি। অসুস্থতার এ তথ্য অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন তার ফেসবুকে।গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে ফারিয়া নিজেই তার অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি গলায় গুরুতর সংক্রমণ ও টনসিলের প্রদাহে ভুগছি। ৮ দিন ধরে আমার কণ্ঠস্বর বন্ধ হয়ে আছে।’ অসুস্থতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘৫ তারিখে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং নিজেকে কথা বলার জন্য জোর করার ফলে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। দুঃখের বিষয়, আমাকে কয়েকটি নির্ধারিত কাজ ও শুটিং বাতিল করতে হয়েছে।’বর্তমানে কোনো ফোনকলও রিসিভ করতে পারছেন না বলে জানান ফারিয়া। তিনি বলেন, ‘আমার অনেক কল আসছে। কিন্তু ধরতে পারছি না। খুব জরুরি হলে দয়া করে টেক্সট করুন।’২০১৮ সালে শবনম ফারিয়া ‘দেবী’ চলচ্চিত্র দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। যে কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ নবীন অভিনয়শিল্পী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
আজ দেশের বাজারে অপরিবর্তিত স্বর্ণের দাম
বিশ্ব বাজারে কয়েক দফা দাম বাড়ার পর কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দামেই আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিক্রি হবে স্বর্ণ। সবশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আছো রুপার দাম। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভরিতে ৪০৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।এইচএ
আজ থেকে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু
দেশের বাজারে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায় বিক্রি হবে। গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ২ হাজার ৬২৪ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বাজুস জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায়।এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায়।এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ৭ম বারের মতো সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।এইচএ
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের নতুন পূর্বাভাস
বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী এ সংস্থাটি বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। তবে, পরের অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস জানুয়ারি সংস্করণে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।বিশ্বব্যাংক বলছে, আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে। এছাড়া, ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও কমবে। এর পাশাপাশি নতুন সরকার এসে কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে, যা শিল্পখাতকে শক্তিশালী করবে। এসব প্রত্যাশা করে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে এখন লক্ষ্যের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি আছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করা হয়েছে। বাংলাদেশে ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে। দেশটিতে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এরপরের স্থানে আছে ভারত। চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ৩ শতাংশ, নেপালে ২ দশমিক ১ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধির কোনো পূর্বাভাস দেয়নি বিশ্বব্যাংক।এদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব দিয়েছে। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।সংস্থাটি জানায়, আগামী দুই বছর ধরে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে তা কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে এবং ২০২৭ সালে তা হবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।প্রতিবেদন অনুসারে, বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতির স্বস্তি এবং বেশ কয়েকটি বৃহৎ অর্থনীতির আর্থিক সম্প্রসারণ মন্দা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নরম শ্রমবাজার ও নিম্ন জ্বালানির দামের প্রতিফলন। বাণিজ্য প্রবাহ সামঞ্জস্য ও নীতিগত অনিশ্চয়তা হ্রাস পাওয়ায় ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।এইচএ
স্বর্ণের দামে রেকর্ড, ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় রুপাও
অস্থির বাজারে এবার আরও এক বড় লাফ দিয়েছে সোনা; অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে গেছে মূল্যবান হলুদ ধাতুটি। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিহাস গড়া দাম উঠেছে রুপারও। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় এবং ফেডারেল ব্যাংকের সুদ কমানোর জল্পনা জোরদার হওয়ায় সোনা–রুপার প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মার্কিন স্পট মার্কেটে সোনার দাম এক শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৩২ দশমিক ০৩ ডলার। এর আগে, লেনদেনের একপর্যায়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায় সোনার দাম। এছাড়া, ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহযোগ্য সোনার ফিউচার দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।এদিন আরও বেশি উত্থান হয়েছে রুপার দামে। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯০ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসে প্রথমবার। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে।বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআইয়ের সর্বশেষ তথ্য বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ভিত্তিতে ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা প্রত্যাশার চেয়ে কম। মাসিক ভিত্তিতে মূল সিপিআই বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে বাজারের পূর্বাভাস ছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ।কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, মূল্যস্ফীতির এই তুলনামূলক শান্ত চিত্র বিনিয়োগকারীদের আরও শিথিল মুদ্রানীতির প্রত্যাশা জিইয়ে রেখেছে।এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের প্রতি সুদহার ‘গুরুত্বপূর্ণভাবে’ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাংকার ও সাবেক ফেড চেয়ারম্যানরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।বিশ্লেষকদের মতে, ডলারসহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের ওপর আস্থার প্রশ্ন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা আরও বাড়িয়েছে। বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে দুই দফায় ০ দশমিক ২৫ শতাংশ করে সুদ কমানো হতে পারে, যার প্রথমটি হতে পারে জুনে।এ অবস্থায় এএনজেড ব্যাংক বলছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই সোনার দাম প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ডলারের ওপর উঠতে পারে। রুপার ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যানের মতে, প্রতি আউন্সে ১০০ ডলার হতে পারে রুপার দাম।অন্যদিকে, বুধবার প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছে। আর প্যালাডিয়ামের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৫৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।এইচএ
আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে এনবিআরের নতুন বিধিমালা
প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের জন্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০২৬ জারি করে প্রজ্ঞাপন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন বিধিমালা কার্যকর করা হয়েছে। ফলে আগের ‘কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০২০ রহিত করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিবৃতিতে এনবিআর জানিয়েছে।এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানান, এতোদিন সি অ্যান্ড এফ এজেন্টদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না, যা এখন নতুন করে প্রণয়ন করা হয়েছে।নতুন এই বিধিমালার ফলে এখন থেকে কাস্টমস স্টেশনভিত্তিক লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এছাড়া লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত পরীক্ষা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে উত্তীর্ণ হওয়া সকল যোগ্য প্রার্থীই লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিধিমালার বিশেষত্ব হলো, কোনো কারণে কোনো স্থল কাস্টমস স্টেশন বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সটি বাতিল হবে না। সেক্ষেত্রে লাইসেন্সধারীরা অধিক্ষেত্র সংযোজনের মাধ্যমে অন্য যেকোনো সচল কাস্টমস স্টেশনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন বিধিমালার প্রধান লক্ষ্য হলো লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়াকে সহজ করা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে আনা। আধুনিক ও যুগোপযোগী এই ব্যবস্থার ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে কাস্টমস এজেন্টদের ভূমিকা আরও গতিশীল হবে। এতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এইচএ
জলবায়ু গবেষণায় এলজিইডির ক্রিলিক ও পাঁচ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চুক্তি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং (ক্রিম্প) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লোকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেন্টার (ক্রিলিক)-এর সঙ্গে জলবায়ু বিষয়ক স্টাডি ও গবেষণা কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাঁচটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এসব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে গবেষণা, ডকুমেন্টেশন ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।চুক্তি অনুযায়ী পরামর্শক ফার্মগুলো বিদ্যমান নলেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আধুনিকায়ন ও উৎকর্ষ সাধন করবে। পাশাপাশি ভিডিও ডকুমেন্টারি ও প্রিন্ট উপকরণ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাক্টশিট প্রস্তুত করা হবে। প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ও উপকরণকে ছয়টি অ্যানিমেটেড ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ ই-লার্নিং কনটেন্টে রূপান্তর করা হবে।এ ছাড়া র্যাপিড ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত জলবায়ু প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা বিবেচনায় বিদ্যমান মানদণ্ড, পদ্ধতি ও নির্দেশিকাগুলোর সমন্বয় সাধন করা হবে। গত ৩০ বছরের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস প্রস্তুত করা হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় উপজেলা পর্যায়ে সময়ের সঙ্গে দুর্যোগের প্রকৃতি কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির হার বাড়ছে কি না তা বিশ্লেষণ করা হবে।পাইলট জেলা হিসেবে বরগুনা, ভোলা ও সাতক্ষীরায় রাস্তা, কালভার্টসহ অন্যান্য গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে বর্তমানে ব্যবহৃত উপকরণ যেমন ইট, বালু, সিমেন্ট কিংবা বিশেষ মিশ্রণ—সম্পর্কে একটি সমন্বিত ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হবে।চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও ক্রিলিকের পরিচালক সৈয়দা আসমা খাতুন, ক্রিম্প প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল খালেক, ক্রিলিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফ হোসেন, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ফাতেমা ইসমত আরা, সহকারী প্রকৌশলী অর্পণ পাল ও তন্ময় চক্রবর্তীসহ ক্রিলিকের বিশেষজ্ঞ পরামর্শকগণ এবং পাঁচটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা।এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে গবেষণালব্ধ তথ্য ও জ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।আরডি
উত্তরার আজমপুর বাজারে সিন্ডিকেটের দাপট, সবজির দামে দিশেহারা ক্রেতারা
রাজধানীর উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজারে সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত উত্তরা—এই অজুহাতে বাজারটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আশপাশের অন্যান্য বাজারের তুলনায় অনেক বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন—শুক্রবার ও শনিবার সরেজমিনে বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।উত্তরা পূর্ব থানার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা আজমপুর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির দামে যেন আগুন লেগেছে। পাইকারি বাজারের দামের সঙ্গে খুচরা বাজারের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো।এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০–৩০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। ধনেপাতার দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৮০–৩০০ টাকায়। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকার কাকরোল খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০–৬০ টাকায়। একইভাবে ৩০ টাকার ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা এবং ৩৫ টাকার পটোল ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৯০–১০০ টাকা, বড় রসুন ২৫০–২৬০ টাকা এবং আলু ৪৫–৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৮০–৪০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৪৫০–৫০০ টাকায়।মাংসের বাজারেও একই চিত্র। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০–৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোলট্রি মুরগির দাম কেজিতে ১৮০–১৯০ টাকা এবং ডিমের ডজন ১৫০–১৫৫ টাকায় পৌঁছেছে।বাজার করতে আসা পোস্টাল কলোনির বাসিন্দা মনির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উত্তরা মডেল টাউন এলাকায় মানুষ একটু আরামপ্রিয়—এই সুযোগটাই নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। হাতের কাছে বাজার থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকলে এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়।’তবে বিক্রেতাদের দাবি ভিন্ন। বাজারের সবজি বিক্রেতা জসিম উদ্দীন ও রাসেল হাসান বলেন, ছুটির দিনে ক্রেতার চাপ বেশি থাকে এবং সাভার–আশুলিয়া থেকে আসা তাজা সবজির চাহিদাও বেশি থাকে। সে কারণে দাম কিছুটা চড়া। যদিও সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি নয়; বরং কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেটের কারসাজির ফল।ইখা
আজ দেশের বাজারে অপরিবর্তিত স্বর্ণের দাম
বিশ্ব বাজারে কয়েক দফা দাম বাড়ার পর কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দামেই আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিক্রি হবে স্বর্ণ। সবশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আছো রুপার দাম। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভরিতে ৪০৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।এইচএ
আজ থেকে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু
দেশের বাজারে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায় বিক্রি হবে। গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ২ হাজার ৬২৪ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বাজুস জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায়।এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায়।এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ৭ম বারের মতো সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।এইচএ
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের নতুন পূর্বাভাস
বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী এ সংস্থাটি বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। তবে, পরের অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস জানুয়ারি সংস্করণে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।বিশ্বব্যাংক বলছে, আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে। এছাড়া, ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও কমবে। এর পাশাপাশি নতুন সরকার এসে কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে, যা শিল্পখাতকে শক্তিশালী করবে। এসব প্রত্যাশা করে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে এখন লক্ষ্যের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি আছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করা হয়েছে। বাংলাদেশে ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে। দেশটিতে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এরপরের স্থানে আছে ভারত। চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ৩ শতাংশ, নেপালে ২ দশমিক ১ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধির কোনো পূর্বাভাস দেয়নি বিশ্বব্যাংক।এদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব দিয়েছে। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।সংস্থাটি জানায়, আগামী দুই বছর ধরে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে তা কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে এবং ২০২৭ সালে তা হবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।প্রতিবেদন অনুসারে, বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতির স্বস্তি এবং বেশ কয়েকটি বৃহৎ অর্থনীতির আর্থিক সম্প্রসারণ মন্দা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নরম শ্রমবাজার ও নিম্ন জ্বালানির দামের প্রতিফলন। বাণিজ্য প্রবাহ সামঞ্জস্য ও নীতিগত অনিশ্চয়তা হ্রাস পাওয়ায় ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।এইচএ
স্বর্ণের দামে রেকর্ড, ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় রুপাও
অস্থির বাজারে এবার আরও এক বড় লাফ দিয়েছে সোনা; অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে গেছে মূল্যবান হলুদ ধাতুটি। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিহাস গড়া দাম উঠেছে রুপারও। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় এবং ফেডারেল ব্যাংকের সুদ কমানোর জল্পনা জোরদার হওয়ায় সোনা–রুপার প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মার্কিন স্পট মার্কেটে সোনার দাম এক শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৩২ দশমিক ০৩ ডলার। এর আগে, লেনদেনের একপর্যায়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায় সোনার দাম। এছাড়া, ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহযোগ্য সোনার ফিউচার দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।এদিন আরও বেশি উত্থান হয়েছে রুপার দামে। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯০ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসে প্রথমবার। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে।বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআইয়ের সর্বশেষ তথ্য বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ভিত্তিতে ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা প্রত্যাশার চেয়ে কম। মাসিক ভিত্তিতে মূল সিপিআই বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে বাজারের পূর্বাভাস ছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ।কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, মূল্যস্ফীতির এই তুলনামূলক শান্ত চিত্র বিনিয়োগকারীদের আরও শিথিল মুদ্রানীতির প্রত্যাশা জিইয়ে রেখেছে।এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের প্রতি সুদহার ‘গুরুত্বপূর্ণভাবে’ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাংকার ও সাবেক ফেড চেয়ারম্যানরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।বিশ্লেষকদের মতে, ডলারসহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের ওপর আস্থার প্রশ্ন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা আরও বাড়িয়েছে। বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে দুই দফায় ০ দশমিক ২৫ শতাংশ করে সুদ কমানো হতে পারে, যার প্রথমটি হতে পারে জুনে।এ অবস্থায় এএনজেড ব্যাংক বলছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই সোনার দাম প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ডলারের ওপর উঠতে পারে। রুপার ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যানের মতে, প্রতি আউন্সে ১০০ ডলার হতে পারে রুপার দাম।অন্যদিকে, বুধবার প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছে। আর প্যালাডিয়ামের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৫৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।এইচএ
আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে এনবিআরের নতুন বিধিমালা
প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের জন্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০২৬ জারি করে প্রজ্ঞাপন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন বিধিমালা কার্যকর করা হয়েছে। ফলে আগের ‘কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০২০ রহিত করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিবৃতিতে এনবিআর জানিয়েছে।এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানান, এতোদিন সি অ্যান্ড এফ এজেন্টদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না, যা এখন নতুন করে প্রণয়ন করা হয়েছে।নতুন এই বিধিমালার ফলে এখন থেকে কাস্টমস স্টেশনভিত্তিক লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এছাড়া লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত পরীক্ষা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে উত্তীর্ণ হওয়া সকল যোগ্য প্রার্থীই লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিধিমালার বিশেষত্ব হলো, কোনো কারণে কোনো স্থল কাস্টমস স্টেশন বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সটি বাতিল হবে না। সেক্ষেত্রে লাইসেন্সধারীরা অধিক্ষেত্র সংযোজনের মাধ্যমে অন্য যেকোনো সচল কাস্টমস স্টেশনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন বিধিমালার প্রধান লক্ষ্য হলো লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়াকে সহজ করা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে আনা। আধুনিক ও যুগোপযোগী এই ব্যবস্থার ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে কাস্টমস এজেন্টদের ভূমিকা আরও গতিশীল হবে। এতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এইচএ
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
বাকৃবিতে শহীদ হাদীর সাহসী রূপ, গ্রাফিতিতে প্রতিবাদের ভাষা
“বল বীর, বল উন্নত মম শির!শির নেহারি’ আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রির!”জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার এই পঙ্ক্তিগুলো যেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর জীবন ও চেতনার সঙ্গেই মিলে যায়। আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট উচ্চারণ এবং প্রথাগত রাজনীতির ভণ্ডামির বিরুদ্ধে দৃপ্ত প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে হাদী ছিলেন এক সাহসী বিপ্লবী কণ্ঠস্বর।শরীফ ওসমান হাদী শুধু একটি নাম নয়। তিনি ছিলেন একজন জুলাই যোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক, একজন শিক্ষক ও একজন বাবা। তাঁর শহীদ হওয়া দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁর মাথার দিকে ধেয়ে আসা বুলেট শুধু একজন মানুষকেই হত্যা করেনি, বরং রাষ্ট্র ও সমাজে সৃষ্টি করেছে গভীর ক্ষত।‘জান দেব, তবু জুলাই দেব না’—হাদীর এই উচ্চারণ আজ আরও বেশি জীবন্ত। জীবন দিয়ে তিনি প্রমাণ করে গেছেন, জুলাই চেতনার বিনাশ তিনি হতে দেননি।এই বিপ্লবী চেতনাকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আঁকা হয়েছে শহীদ হাদীর সাহসী ভঙ্গিমার দুটি বড় গ্রাফিতি। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী হৃদয় হাসান ও তাঁর দল এই চিত্রকর্মগুলো অঙ্কন করেন।একটি চিত্রকর্ম আঁকা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ও পূবালী ব্যাংকের সামনের দেয়ালে, অন্যটি পশুপালন অনুষদের দেয়ালে। লাল রঙের পটভূমিতে সাদা ও কালোর মিশেলে আঁকা এসব চিত্রকর্ম যেন নীরব অথচ তীব্র প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে।চিত্রে দেখা যায়, হাদী দুই হাত প্রসারিত করে আহ্বানের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর উঁচু করা আঙুল যেন অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শপথের প্রতীক। লাল রঙ তাঁর রক্তের বিনিময়ে বাংলার জমিনে ঝরে পড়া রক্তের ইঙ্গিত দেয়। সাদা রঙে ফুটে উঠেছে তাঁর সাদামাটা জীবনযাপন ও মানুষের কল্যাণে নির্মল চিন্তা।চিত্রকর্মের পাশে লেখা রয়েছে একটি উক্তি—“যে জমিনের দাসত্ব নিশ্চয় নিয়তি, লড়াই সেখানে ইবাদত সর্বোত্তম।”গ্রাফিতিগুলো দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ সেলফি, কেউ দলগতভাবে দাঁড়িয়ে স্মৃতি ধরে রাখছেন। অনেকের মতে, এই চিত্রকর্ম শুধু শিল্প নয়, এটি এক ধরনের চেতনার দলিল।চিত্রশিল্পী হৃদয় হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করে তুলতেই আমরা এই চিত্রকর্ম এঁকেছি। হাদী আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর ন্যায় ও ইনসাফের ভাবনা বেঁচে আছে। একজন হাদী শহীদ হয়েছেন, কিন্তু লক্ষ হাদী তৈরির লক্ষ্যেই এই আয়োজন।’চিত্রাঙ্কনে সহযোগী সংগঠন বাকৃবি সলিডারিটি সোসাইটির সদস্য ছাব্বির হোসেন রিজন বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলাই তার দায়িত্ব। অন্যায় দেখে চুপ থাকাও এক ধরনের অন্যায়। এই চিত্রকর্ম ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর মানসিকতার প্রতীক।’পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী মোতমাইন্না আক্তার মুন্নী বলেন, ‘এটি শুধু একটি চিত্রকর্ম নয়, এটি আমাদের সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক। দেয়ালে আঁকা হলেও এটি খুব জীবন্ত মনে হয়। যেন আমাদের সঙ্গে কথা বলে, প্রশ্ন তোলে এবং জাগিয়ে তোলে।’কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী সাইয়্যেদা গালিবা রুহী বলেন, ‘হাদী বলতেন, বুলেট ছাড়া তাঁকে থামানো যাবে না। বাস্তবে তাই হয়েছে। এই চিত্রকর্ম এখন শুধু শিল্প নয়, ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নীরব আর্তচিৎকারের প্রতীক। মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানো এখন দায়িত্ব।’ইখা
কোকোর নাম বিকৃত করে অবমাননার অভিযোগ, ইবি ছাত্রদলের নিন্দা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে ২০২৩ সালের এক ভিডিও বক্তব্যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননার অভিযোগ ওঠেছে কুষ্টিয়া সদর এমপি প্রার্থী (জামায়াত সমর্থিত) মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সেই ভিডিও ভাইরাল হলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইবি শাখা ছাত্রদল। এ নিয়ে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়া, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ও নির্বাচন কমিশনারকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংগঠনটি।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ও সদস্যসচিব মাসুদ রুমী মিথুনের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে ক্ষোভ প্রকাশ প্রকাশ করেন।প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, কুষ্টিয়া সদর আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা কর্তৃক মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকো-এর নাম বিকৃত করে কুরুচিপূর্ণ ও অমানবিক ভাষা ব্যবহার করায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।একজন সংসদীয় আসনের প্রার্থী হয়ে এ ধরনের নোংরা, অসভ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবারকে অপমান নয় বরং এটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। এই বক্তব্য প্রমাণ করে অভিযুক্ত প্রার্থীর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও অসহিষ্ণু মানসিকতা।মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন একজন ভদ্র, শালীন ও দেশপ্রেমিক ক্রীড়া সংগঠক, যিনি রাজনীতির বাইরে থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। একজন প্রয়াত ব্যক্তিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার শুধু অমানবিকই নয়, এটি সভ্য সমাজে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।প্রতিবাদলিপিতে ইবি ছাত্রদল দাবি জানান, অভিযুক্ত প্রার্থীর প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করছে; জামায়াতে ইসলামীকে এই বক্তব্যের দায় স্বীকার করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে; নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের অবমাননাকর ও উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আইনগত ও গণতান্ত্রিক সকল কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে বলে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি। শহীদ জিয়ার আদর্শ, গণতন্ত্র ও সম্মানজনক রাজনীতির প্রশ্নে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আপসহীন থাকবে-এই প্রত্যয় আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালে শহীদ জিয়া পরিবারের ছোট ছেলে কোকো-কে নিয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে কুকুর বানানোর চেষ্টা করেছিলেন আমার হামজা। তখন ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি। ভিডিওটি ফের ভাইরাল হলে শুরু হয় আবারও সমালোচনা। ফের আবারও ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) তিনি জানান, আলোচিত ওই বক্তব্যটি সাম্প্রতিক নয়; এটি ২০২৩ সালের এবং সে সময়েই তিনি বিষয়টি নিয়ে অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন।সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমির হামজা বলেন, ‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে তার বক্তব্যটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। একটি বিষয় বোঝাতে গিয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ভুল করেছিলেন এবং সে কারণেই তখনই দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এখন আবারও তিনি ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।’ইখা
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল আগামীকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হতে পারে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেই কর্মকর্তা বলেন, উত্তরপত্র স্ক্যানিংয়ের কাজ শেষ। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম এ কাজ করেছে। ফলাফল প্রস্তুতের কাজেও ভালো অগ্রগতি হয়েছে। কাজ শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দিলে আগামীকাল (রোববার) ফল প্রকাশ করা হতে পারে। যদি কোনো কারণে তা না হয়, সেক্ষেত্রে ২০ জানুয়ারির মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে।প্রতি পদের বিপরীতে কতজনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, আগে সিদ্ধান্ত ছিল জেলাভিত্তিক শূন্যপদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থীকে ভাইভায় ডাকা হবে। তবে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরও বেশি প্রার্থীকে ভাইভা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে হয়তো প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে পাঁচজনকে ভাইভায় ডাকা হতে পারে।তিনি আরও বলেন, খুব শিগগির ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রস্তুতে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। প্রস্তুতি শেষে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।এফএস
পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে নোবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের টার্ম পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানা যায়। যার মধ্যে এক শিক্ষার্থীকে ০১ (এক) বছর এবং বাকি চার শিক্ষার্থীকে ০৬ (ছয়) মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্বর্ণা আক্তার, বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিপ্রা রায়, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের যারিন বিনতে মকবুল ইকফা, ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. শাহরিয়ার হাসান শায়েফী ও বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ইসরাত হোসেন।বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, টার্ম পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দোষণীয় কাগজপত্র (নকলের উপাদান) সঙ্গে রাখা ও তা থেকে দেখে লেখা এবং পর্যবেক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে প্রধান পর্যবেক্ষক আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্বর্ণা আক্তারের সংশ্লিষ্ট পত্রের পরীক্ষা বাতিলসহ পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করে এবং শৃঙ্খলা বোর্ড এর সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত শিক্ষার্থীর এই পত্রের পরীক্ষা বাতিলসহ ঐ দিন থেকে পরবর্তী ০১ (এক) বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।বিজ্ঞপ্তি হতে আরও জানা যায়, টার্ম পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দোষণীয় কাগজপত্র (নকলের উপাদান) সঙ্গে রাখা ও তা থেকে দেখে লেখার কারণে প্রধান পর্যবেক্ষক বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিপ্রা রায়, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের যারিন বিনতে মকবুল ইকফা, ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. শাহরিয়ার হাসান শায়েফী ও বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ইসরাত হোসেন'র সংশ্লিষ্ট পত্রের পরীক্ষা বাতিলসহ তাদের পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করে এবং শৃঙ্খলা বোর্ড এর সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত শিক্ষার্থীর এই পত্রের পরীক্ষা বাতিলসহ ঐ দিন থেকে পরবর্তী ০৬ (ছয়) মাসের অন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।এসআর
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
আয় বাড়তে চ্যাটজিপিটিতে ওপেনএআই চালু করলো বিজ্ঞাপন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে এবার বিজ্ঞাপন যুক্ত করতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি ওপেনএআই। আসছে সপ্তাহগুলোতেই পরীক্ষামূলকভাবে এই বিজ্ঞাপন চালু হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানায়, আসন্ন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই বিজ্ঞাপন দেখানো হবে এবং তা সীমাবদ্ধ থাকবে ফ্রি ও নিম্নস্তরের সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীদের জন্য। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, চ্যাটজিপিটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। সেই ব্যয় সামাল দিতেই নতুন আয়ের উৎস হিসেবে বিজ্ঞাপন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।পরীক্ষামূলক এই বিজ্ঞাপন কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও এবং আরও বিস্তৃত পরিসরে বিজ্ঞাপন চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পেইড বা প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীরা আপাতত এই বিজ্ঞাপনের বাইরে থাকবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলেও, বিজ্ঞাপন চ্যাটজিপিটির ব্যবহার অভিজ্ঞতায় কতটা প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই এখন নজর থাকবে গ্রাহকদের।এইচএ
৫৪ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস টু মিশন উৎক্ষেপণ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এটি হবে ১৯৭২ সালের পর মানুষের প্রথম চাঁদ অভিযান। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।এই মিশনের যাত্রা হবে ১০ দিনের। এতে অংশ নেবেন নাসার তিন নভোচারী। তারা হলেন রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ। তাদের সঙ্গে থাকবেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।আর্টেমিস টু মিশনে চাঁদের পৃষ্ঠে নামা হবে না। তবে এই মিশন ভবিষ্যতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ২০২৭ সালের আর্টেমিস থ্রি মিশনের পথ তৈরি হবে। ওই মিশনে বহু বছর পর আবার মানুষ চাঁদে পা রাখবে।এই উৎক্ষেপণের সময়সূচি খুব সীমিত। পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষপথের কারণে এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল উৎক্ষেপণ হবে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে। এখান থেকেই এক সময় অ্যাপোলো মিশনগুলো চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।যদি ৬ ফেব্রুয়ারি উৎক্ষেপণ সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প তারিখ রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য তারিখগুলো হলো ৭, ৮, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি।৫৩ বছর ধরে কোনো মানুষবাহী মহাকাশযান নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথের বাইরে যায়নি। আর্টেমিস টু সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে।এই মিশনে ব্যবহার করা হবে ওরিয়ন মহাকাশযান। এটি বহন করবে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেট। উৎক্ষেপণের পর প্রথমে মহাকাশযানটি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে। সেখানে জীবনধারণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। এরপর এটি চাঁদের দিকে যাবে।চাঁদের কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করা হবে। সেই শক্তিতে ভর করে মহাকাশযানটি আবার পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে।এমআর-২
ঘুমানোর সময় রাউটার বন্ধ রাখলে শরীর যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়
সম্প্রতি এমন দাবি বেশ ছড়িয়ে পড়েছে যে, মাত্র এক সপ্তাহ রাতে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখলেই নাকি ঘুম গভীর হয়, মানসিক চাপ কমে, এমনকি দীর্ঘদিনের মাথাব্যথাও সেরে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই দাবিগুলো কতটা সত্যি। বিশেষজ্ঞরা এ প্রসঙ্গে কথা বিস্তারিত কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-ফাই রাউটার থেকে যে রেডিয়েশন বের হয়, তা অত্যন্ত নিম্নমাত্রার এবং ‘নন-আয়নাইজিং’ ধরনের। হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট চিকিৎসক ডা. হিরণ এস. রেড্ডি জানান, এই ধরনের রেডিয়েশন বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। তাই টানা সাত রাত ঘুমানোর সময় রাউটার বন্ধ রাখলেও শরীরে বড় কোনও জৈবিক পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।তবে কিছু মানুষ মনে করেন, তারা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। এমন ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যা কিছুটা কম মনে হতে পারে। যদিও ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হাইপারসেন্সিটিভিটি’ নামে পরিচিত এই ধারণার পক্ষে এখনও শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। নিউরোলজিস্টদের মতে, ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু ওয়াই-ফাই নয় বরং আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোন আর ল্যাপটপ। অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার বলেন, রাউটার থেকে নির্গত তরঙ্গ ঘরের কয়েক মিটার দূরত্বেই আরও দুর্বল হয়ে যায় এবং তা ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনে তেমন প্রভাব ফেলে না। কিন্তু মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো সরাসরি মেলাটোনিন নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে দেরিতে ঘুম আসে, ঘুম হয় হালকা, আর সকালে উঠেও ক্লান্ত লাগে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে দেন। নোটিফিকেশন বন্ধ থাকে, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং কমে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং ঘুমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। ভালো ঘুম মানেই ভালো মন, উন্নত স্মৃতিশক্তি, কম মানসিক চাপ এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। রাতে ৭ দিন ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখলেই শরীরে বড় কোনও অদ্ভুত পরিবর্তন হবে এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই। তবে যদি এর ফলে আপনার স্ক্রিন টাইম কমে, ঘুম গভীর হয় এবং মন শান্ত থাকে, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো অভ্যাস হতে পারে। অর্থাৎ, উপকারটা রাউটার বন্ধে নয় বরং ভালো ঘুমের অভ্যাসে।এইচএ
পৌনে ২ কোটি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস
ইনস্টাগ্রামের অন্তত ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বিশাল তথ্য ভাণ্ডারে ব্যবহারকারীদের ইমেইল অ্যাড্রেস, ফোন নম্বর, পূর্ণ নাম এবং আংশিক ঠিকানার মতো স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে। খবর আনাদুলো এজেন্সির।সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা 'ম্যালওয়্যারবাইটস' প্রথম এই ফাঁসের বিষয়টি চিহ্নিত করে এবং জানায়, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো পাসওয়ার্ড না থাকলেও, এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে পরিচয় চুরি বা আর্থিক জালিয়াতির মতো অপরাধ ঘটানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি মূলত ২০২৪ সালের ইনস্টাগ্রামের এপিআই-এর একটি ত্রুটি বা দুর্বলতা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। 'সলোনিক' ছদ্মনামের এক হ্যাকার গত সপ্তাহে ডার্ক ওয়েবের একটি ফোরামে এই ১ কোটি ৭৫ লাখ তথ্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা হঠাৎ করে অসংখ্য 'পাসওয়ার্ড রিসেট' ইমেইল পাওয়ার অভিযোগ করছেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হ্যাকাররা ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে।ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা অবশ্য তাদের সিস্টেমে সরাসরি কোনো হ্যাকিং বা অনুপ্রবেশের দাবি অস্বীকার করেছে। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাসওয়ার্ড রিসেট ইমেইল আসার ঘটনাটি একটি কারিগরি সমস্যার কারণে ঘটেছে। তারা জানায়, ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট এখনো সুরক্ষিত আছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে ‘শব্দের মারপ্যাঁচ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সরাসরি সার্ভার হ্যাক না হলেও এপিআই-এর মাধ্যমে বড় বড় ডেটাসেট চুরি হওয়াও সমান ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।এমআর-২
ফ্রিল্যান্সারদের নিবন্ধন ও আইডি কার্ড দেবে সরকার
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ফ্রিল্যান্সারদের নিবন্ধন ও আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) দেবে সরকার। এ জন্য জাতীয় ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড কার্যক্রমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্পন্ন হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হবে। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আইডি কার্ড দিয়ে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা, সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে লাভ করতে পারবেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জিত হলো। দেশের প্রথম জাতীয় ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড কার্যক্রমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম freelancers.gov.bd-এর ভালনারেবিলিটি এসেসমেন্ট এন্ড পেনেট্রেশণ টেস্টিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হবে।এই উদ্যোগটির মাধ্যমে ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের সংযোগ আরো শক্তিশালী হবে। যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আশা।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তরুণ সমাজের আত্মকর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে এটি একটি কৌশলগত জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এইচএ
ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়ে নতুন প্যাকেজ ঘোষণা
ইন্টারনেট প্যাকেজে ৩ গুণ পর্যন্ত গতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড। তবে মাসিক মূল্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।এই উদ্যোগ গ্রাহকদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য, দ্রুত ও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করবে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বিটিসিএল।নতুন প্যাকেজ অনুযায়ী, মাসিক ৩৯৯ টাকায় ৫ এমবিপিএসের ‘সুলভ-৫’ প্যাকেজ এখন ২০ এমবিপিএসের ‘সাশ্রয়ী-২০’ প্যাকেজে উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে ৫০০ টাকায় ১২ এমবিপিএস ‘সুলভ-১২’ প্যাকেজ এখন ২৫ এমবিপিএস ‘সাশ্রয়ী-২৫’ এবং ৫০০ টাকায় ১৫ এমবিপিএস ‘ক্যাম্পাস-১৫’ প্যাকেজ এখন ৫০ এমবিপিএস ‘ক্যাম্পাস-৫০’ প্যাকেজে রূপান্তরিত হয়েছে। এ ছাড়া ৮০০ টাকায় ১৫ এমবিপিএস প্যাকেজ এখন ৫০ এমবিপিএস, ১০৫০ টাকায় ২০ এমবিপিএস প্যাকেজ ১০০ এমবিপিএস, ১১৫০ টাকায় ২৫ এমবিপিএস প্যাকেজ ১২০ এমবিপিএস এবং ১৩০০ টাকায় ৩০ এমবিপিএস প্যাকেজের গতি বাড়িয়ে ১৩০ এমবিপিএস করা হয়েছে।সবচেয়ে উচ্চ গতির প্যাকেজগুলোর মধ্যে ১৫০০ টাকায় ৪০ এমবিপিএস প্যাকেজ এখন ১৫০ এমবিপিএস এবং ১৭০০ টাকায় ৫০ এমবিপিএস প্যাকেজ ১৭০ এমবিপিএসে উন্নীত করা হয়েছে।বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, অনলাইন শিক্ষা, দাপ্তরিক কাজ, ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিংসহ বিভিন্ন স্মার্ট ও ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এএইচ
আইন-আদালত
সব দেখুন
শেখ তাপস-নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়য় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।এ সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) শুনানি হতে পারে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।তিনি বলেন, তাপস, নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের মামলায় ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। আজই এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হতে পারে।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর, কমলো ই-পাসপোর্ট ফি
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট ফি পুনঃনির্ধারণ করেছে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। মার্কিন ডলারের বিপরীতে মালয়েশিয়ান রিংগিতের (RM) বিনিময় হার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগের তুলনায় ই-পাসপোর্ট ফি প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।হাইকমিশন কর্তৃক প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুনঃনির্ধারিত এই নতুন ফি আগামী ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।ক্যাটাগরি অনুযায়ী নতুন ফি তালিকা:১. সাধারণ শ্রমিক ও শিক্ষার্থী:৪৮ পাতা (৫ বছর): বর্তমান ফি ১৬৪ রিংগিত থেকে কমে এখন ১৪০ রিংগিত।৪৮ পাতা (১০ বছর): বর্তমান ফি ২৭৩ রিংগিত থেকে কমে এখন ২৩৩ রিংগিত।৬৪ পাতা (৫ বছর): বর্তমান ফি ৮১৭ রিংগিত থেকে কমে এখন ৬৯৫ রিংগিত।৬৪ পাতা (১০ বছর): বর্তমান ফি ৯৫৩ রিংগিত থেকে কমে এখন ৮১০ রিংগিত।২. অন্যান্য ক্যাটাগরির আবেদনকারী:৪৮ পাতা (৫ বছর): বর্তমান ফি ৫৪৫ রিংগিত থেকে কমে এখন ৪৬৫ রিংগিত।৪৮ পাতা (১০ বছর): বর্তমান ফি ৬৮১ রিংগিত থেকে কমে এখন ৫৮০ রিংগিত।৬৪ পাতা (৫ বছর): বর্তমান ফি ৮১৭ রিংগিত থেকে কমে এখন ৬৯৫ রিংগিত।৬৪ পাতা (১০ বছর): বর্তমান ফি ৯৫৩ রিংগিত থেকে কমে এখন ৮১০ রিংগিত।ইএসকেএল (ESKL) সার্ভিস চার্জ:আবেদন ফরম পূরণ, ডকুমেন্ট প্রস্তুতকরণ, বায়ো-এনরোলমেন্ট এবং পাসপোর্ট ডেলিভারি সংক্রান্ত অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য এক্সপ্যাট সার্ভিসেস লিমিটেড (ESKL)-এর সার্ভিস চার্জ অপরিবর্তিত থাকছে। শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই চার্জ ৩২ রিংগিত এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের জন্য ৬০ রিংগিত নির্ধারিত রয়েছে।হাইকমিশন জানিয়েছে, বিগত ছয় মাসের ডলার ও রিংগিতের গড় বিনিময় হার বিবেচনা করেই এই নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট করার ব্যয় কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।ইখা
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
টক্সিক পরিবারে বড় হয়ে ওঠার কিছু মানসিক ট্রমা
আপনি কেমনভাবে বড় হয়েছেন, তা জীবনের পরবর্তী ধাপেও প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা এখনও বিতর্ক করেন, প্রকৃতি না লালন-পালনের মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু স্পষ্টভাবে বলা যায়, পরিবার এবং বেড়ে ওঠার পরিবেশ আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।কঠিন পরিবেশে বড় হওয়া অনেক সময় এমন মানসিক ও আবেগগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যা অন্যরা পুরোপুরি বুঝতে পারে না। নিজের অতীত ও তার প্রভাব বোঝার চেষ্টা করলে আপনি আরও শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন। একবার এ বিষয়টি বুঝে নিলে এবং গ্রহণ করলে, অতীতের ছায়া থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কঠিন শৈশব কাটিয়ে ওঠা সময়সাপেক্ষ হতে পারে, কিন্তু থেরাপি এবং সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।এখানে কিছু ট্রমা উল্লেখ করা হলো, যা টক্সিক পরিবারে বড় হওয়ার কারণে দেখা দিতে পারে-নিজের পরিচয় বোঝা যায় না: যদি আপনার শৈশব অস্থির হয় বা সবসময় অন্যদের চাহিদা আগে পূরণ করতে হতো, তবে হয়তো আপনি জানেন না আসলে আপনি কে। এ ধরনের পরিবেশে মানুষ নিজের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে না এবং নিজের মত করে বাঁচতে ভয় পায়। সবাইকে দূরত্বে রাখেন: যদি পরিবারে আবেগিক সংযোগ কম থাকে, তাহলে বড় হয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন হতে পারে। অনুভূতি প্রকাশ করা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, তাই মানুষকে দূরে রাখা যায়, যাতে হয়তো হতাশা বা আঘাত কম হয়।সবসময় সাবধান থাকা: টক্সিক পরিবেশে আবেগিক অস্থিরতা সাধারণ। রাগ বা মানসিক সমস্যা থাকা অভিভাবকের মধ্যে বড় হওয়া মানে আপনি ছোট ভুলেও ভয় পেতে পারেন। তাই অনেক সময় আপনি দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলেন এবং নিজের মত কথা বলতে ভয় পান।সবকিছুর জন্য নিজেকে দোষারোপ করা: কিছু পরিবারে অভিভাবক ছোটখাটো ভুলেও সন্তানকে দোষারোপ করেন। এতে আপনি মনে করতে পারেন সব দায়িত্বই আপনার কাঁধে, এমনকি যখন সেটা যুক্তিসঙ্গত নয়।ব্যর্থতা সহ্য করা কঠিন: যদি অভিভাবক কঠোর এবং সর্বদা নিখুঁত হওয়ার আশা রাখতেন, তাহলে ব্যর্থতা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। বড় হয়ে এমন মানুষ হয়তো সবসময় নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ভুল মেনে নিতে ভয় পান।অন্যের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে ভয় পাওয়া: যদি বাড়িতে সবসময় ঝগড়া চলত, আপনি বড় হয়ে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলতে পারেন। নিজের মতামত প্রকাশ করা বা অন্যের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে।পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালে ক্লান্তি অনুভব করা: বড় হয়ে টক্সিক পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক বা আবেগিক ক্লান্তি তৈরি করতে পারে। মূলত পরিবার হওয়া উচিত সমর্থন ও সান্ত্বনার জায়গা, কিন্তু টক্সিক পরিবেশে এটি প্রায়ই বোঝা বা চাপের মতো মনে হয়।বিবাহিত জীবন: এরা বিবাহিত জীবনে পা রাখার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর থেকে তার পার্টনারের কাছ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। এরা তার পার্টনারের আবেগ অনুভূতিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে অনেক পছন্দ করে। যার ফলে দাম্পত্য জীবনে তারা তার পার্টনারকে দূরে রাখতে পছন্দ করে। ছেলেদের ক্ষেত্রে তার স্ত্রীর দায়িত্ব নিতে চায় না। এমন কি সে বাবা হওয়ার পরেও তার বাচ্চার জন্য কিছুই করতে চায় না। সে চায় তার পার্টনারের পক্ষ থেকে সব দায়িত্ব বহন করুক। যার ফলে এদের আক্রোশের বলি হয়ে একসময় বিচ্ছেদও হয়। টক্সি পরিবারের সবার আচরণের ধরন প্রায় এক: এ ধরনের পরিবারে দাওয়াতে গেলে তারা সবার আগে মানুষের আচরণে চেয়ে খাবারের দিকে বেশি খেয়াল করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের জন্য কেমন আয়োজন করলো। অপরদিকে এর বিপরিতের মানুষজন মানুষের আচরণের দিকে বেশি খেয়াল করে। তাকে কেমন সম্মান করলো, কি করলো না। টক্সি পরিবারের সদস্যরা দোষ ধরা: এরা সব সময় মানুষের সমালোচনা করতে পছন্দ করে। এমন কি এরা সবসময় অন্যের সঙ্গে তাল দিয়ে চলতে অনেক স্বাচ্ছন্দবোধ করে। টক্সিক পরিবারের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা জীবনের নানা ধাপকে প্রভাবিত করে। নিজের অতীতকে বোঝা ও গ্রহণ করা, থেরাপি বা সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা অর্জন সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে ভালোবাসা, সীমা নির্ধারণ করা এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্মরণ রাখুন, অতীত আপনাকে সংজ্ঞায়িত করে না - আপনি এখনও নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।এইচএ
