হান্নান মাসউদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।হান্নান মাসউদের অভিযোগ, বিএনপির নেতাকর্মীরা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের স্লোগান দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।এ ঘটনায় হান্নান মাসউদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।হান্নান মাসউদ বলেন, আজ রাতে বুড়িরচর, চর ঈশ্বর ও সোনারদিয়া ইউনিয়নের আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের স্লোগান দিয়ে হামলা চালায়, লুটপাট করে এবং বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলি করে। মূলত আমাদের সমর্থকদের দমন করার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।তবে এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এফএস
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দিচ্ছেন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলবে। সচিবালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা নির্বাচনের দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন এবং নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেবেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসভুক্ত উদয়ন হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। একই এলাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার।এছাড়া রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার ই ব্লকের একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শ্যামলী শিশু মেলার কাছের একটি কেন্দ্রে এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মহাখালী ডিওএসএইচ এলাকার একটি স্কুল কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ঢাকার অন্যান্য এলাকার মধ্যে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গুলশান-২ এর গুলশান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। তবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় ভোট দেবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, জরুরি দাপ্তরিক কাজের কারণে তিনি সম্ভবত এবার চট্টগ্রামে নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন বলেও জানান। উল্লেখ্য, একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।এফএস
জাতীয়
সব দেখুন
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দিচ্ছেন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলবে। সচিবালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা নির্বাচনের দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন এবং নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেবেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসভুক্ত উদয়ন হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। একই এলাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার।এছাড়া রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার ই ব্লকের একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শ্যামলী শিশু মেলার কাছের একটি কেন্দ্রে এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মহাখালী ডিওএসএইচ এলাকার একটি স্কুল কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ঢাকার অন্যান্য এলাকার মধ্যে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গুলশান-২ এর গুলশান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। তবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় ভোট দেবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, জরুরি দাপ্তরিক কাজের কারণে তিনি সম্ভবত এবার চট্টগ্রামে নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন বলেও জানান। উল্লেখ্য, একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।এফএস
নির্বাচনে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৭০: আইজিপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ আট হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী ১৬ হাজার কেন্দ্র মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ। আর প্রায় ১৬ হাজার কেন্দ্রকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উচ্চ ও মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্র বডি-ওর্ন ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।আইজিপি বলেন, প্রথম স্তরে দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯ ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। দ্বিতীয় স্তরে কেন্দ্রের বাইরে ভ্রাম্যমাণ ভিত্তিতে টহল ও তদারকির জন্য পুলিশের মোবাইল টিম থাকবে। তৃতীয় স্তরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, নির্বাচনি নিরাপত্তায় এক লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে নয় হাজার ৩৯১ জন ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্সের দায়িত্ব পালন করবেন। বাকিরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ইউনিটে কাজ করবেন। এ ছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য আরও ২৯ হাজার ৭৯৮ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা বলয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আওতাভুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে। এ ছাড়া প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী পুলিশ সুপারেরা ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণ করবেন।বাহারুল আলম বলেন, সব মিলিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় পুলিশের মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ সদস্যকে মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তা কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও আনসারসহ অন্যান্য বাহিনীও যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে আনসার বাহিনীর সদস্যই সবচেয়ে বেশি। তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। এসব বাহিনী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের মাধ্যমে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। আইজিপি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা, অংশীজনদের পরামর্শ, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।নির্বাচন পূর্ববর্তী সহিংসতা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে পাঁচজন নিহত ও ৬০৩ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমাতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্র জমাদানের বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, এ পর্যন্ত ২৭ হাজার নয়টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র থানায় জমা হয়েছে। লুট হওয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি অস্ত্রের সংখ্যা এক হাজার ৩৩০।তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা যেকোনও অবৈধ অস্ত্রই হুমকি। বিভিন্ন পথ দিয়ে যেসব অবৈধ অস্ত্র দেশে আনা হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে।আইজিপি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন আয়োজনের উদাহরণ সৃষ্টি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অতীতে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির যে হুমকি ছিল, তা কমে এসেছে। এ নির্বাচন যেন ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় নির্বাচন হিসেবে মানুষ মনে রাখে, সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে পুনঃপ্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তবে ১৫ বছরের গড়ে ওঠা অভ্যাস এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়। প্রতিটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে ইউনেস্কো প্রস্তাবিত সেশনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া নির্বাচন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ইউএনওডিসি বেশ কিছু সেশন করেছে, যেখানে পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা ও সাংবাদিকদের কাজ সহজ করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।আইজিপি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা ঘিরে আমাদের মূল উদ্বেগ ছিল। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য প্রচারণায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও বোমা হামলার পরিকল্পনা হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা না ঘটায় আমরা স্বস্তি বোধ করছি। পুলিশের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি থাকলেও নির্বাচন ঘিরে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।এবি
১ বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা
এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদ প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেড়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই হিসাব করা হয়েছে। তাতে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৬ টাকা। ২০২৪ সালের ৩০ জুন মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৭ টাকা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছে। সেখানেই এই তথ্য পাওয়া গেছে। আজ প্রকাশিত সম্পদ বিবরণীতে বিবরণীতে উপদেষ্টাদের আর্থিক, আর্থিক বর্হিভূত সম্পদ (নন-ফাইন্যান্সিয়াল), বিদেশে থাকা পরিসম্পদ এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ের তথ্য দেয়া হয়েছে।বিবরণী অনুধায়ী, এক বছরের ব্যবধানে মুহাম্মদ ইউনূসের স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদও ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৬ টাকা বেড়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৪ টাকা। এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০ টাকায়।প্রধান উপদেষ্টার নামে বাংলাদেশে অবস্থিত সম্পদের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাবও আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই আয় ছিল ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪০ টাকা। ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা। তবে প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের নামে বিদেশে অবস্থিত কোনো সম্পদের তথ্য প্রকাশিত নথিতে দেখানো হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বৃদ্ধির ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত নথির ‘মন্তব্য’ অংশে। সেখানে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদী আমানত বৃদ্ধি, উত্তারিধকার সূত্রে প্রাওয়া শেয়ারসহ বিভিন্ন কারণে মোট সম্পদের পরিবৃদ্ধি হয়েছে।এবি
নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন মেনে নেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফলাফল যাই হোক না কেন, তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।''আমি সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই-নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন,'' বলেন তিনি।আজ সন্ধ্যা সাতটায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কথা বলেন।তিনি বলেছেন, বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না- এমন ‘অপপ্রচারে’ কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হল আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।নাগরিকদের দলে দলে, সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘দ্বিধাহীন চিত্তে’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। ''এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না— একই সাথে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাব—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।''তিনি সবাইকে নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎনির্ধারক মুহূর্তে। আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। সারা জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার দিন।মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, আপামর জনগণের—বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের—আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন, এই গণভোট—কোনোটিই সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাই তাদের কাছে চিরঋণী।এই নির্বাচনের ফলাফল যে জাতির জীবনে ‘সুদূরপ্রসারী’ প্রভাব রাখবে, সে কথা তুলে ধরে ইউনূস বলেন, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র ও স্থায়িত্ব এবং আগামী প্রজন্মের ভাগ্য এর মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে।এবার নির্বাচনের প্রচার পর্বে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো ‘সংযম’, প্রার্থীদের ‘দায়িত্বশীল আচরণ’ এবং সাধারণ মানুষের ‘সচেতনতার’ প্রশংসা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।এসময় জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাস ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা।প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যাপকভাবে দায়িত্বে রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা যায়। অনেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।এবি
‘দায়িত্ব অর্পণ করে, বিদায় নিয়ে নিজ কাজে ফিরে যাব’
জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে উপদেষ্টারা নিজ নিজ কাজে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন হয়ে গেলে নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তার সঙ্গে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এবং গৌরবের সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাব। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আপনারা দলে দলে সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।’‘এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন’, যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘আসুন, উৎসবমুখর নির্বাচন বাস্তবে রূপায়িত করে এই দিনটিকে ইতিহাসের স্মরণীয় দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে রাখি।’এমআর-২
ভোটের বেশিরভাগ ফলাফল রাতেই পাওয়া যাবে: ইসি সানাউল্লাহ
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের বেশিরভাগই রাতের মধ্যে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।তিনি জানান, আগামীকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে, সন্ধ্যার মধ্যে কেন্দ্রে যা ভোটকেন্দ্রে চলে যাবে। সংসদীয় আসন ও গণভোটের ফলাফল একসাথে গণনা হবে এবং ভোটের দিন ব্রিফিং হবে মোট চারবার।সারাদেশের ভোটের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে গণভোটের ফলাফল দেওয়া হবে বলেও জানান আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, একটি আসনে ভোট স্থগিত। সাড়ে চারটার পর কেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে ভোটার থাকলে তাদেরও ভোট নেয়া হবে। ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। যার মধ্যে ৮১ জন নারী প্রার্থী। মোট ৪২ হাজার ৬৫৯ কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আনুমানিক ৫০ শতাংশ সাধারণ, বাকি ৫০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশে ৭ লাখ ৩০ হাজার পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছানোর কথা বলা হয় ব্রিফিংয়ে।আরও বলা হয়, ভোটে থাকছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক। ৯ লাখ ৫৮ হাজার জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকছেন। ২ হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নজরদারি নিশ্চিতে ৯০ ভাগের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা আছে। এছাড়া, ড্রোন, বডিওর্ন ক্যামেরা থাকছে।এমআর-২
ভয়কে পেছনে রেখে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান: ড. ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে— এই দেশ তার তরুণ ও নারী এবং সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।”মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে— এই দেশ তার তরুণ ও নারী এবং সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।”মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ-নির্ধারক মুহূর্তে। আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার সাথে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার দিন।”মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সাফল্যের পর আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আপামর জনগণের—বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের—আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন, এই গণভোট কোনোটিই সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাই তাদের কাছে চিরঋণী। প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কিছু দিন আসে, যার তাৎপর্য থাকে সুদূরপ্রসারী, যেদিন নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র এবং স্থায়িত্ব ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য। আগামী পরশু ঠিক তেমনই একটি দিন, যেদিন দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন করব এবং পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করব।”“ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নাগরিক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাগ করে নেওয়াকে আমি আমার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব মনে করেছি।”তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল। এজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতিটি সদস্যকে। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আশাব্যঞ্জক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পেরেছি।”‘তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও আমাদের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছায়া রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এবং প্রচার-প্রচারণাকালে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় আমরা কিছু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এই সহিংসতা জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া— কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।’ড. ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা এ যাবৎকালের যেকোনো নির্বাচনের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।“এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না একই সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাব— এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট। আমি সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমি বিশেষভাবে কথা বলতে চাই আমাদের তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের সঙ্গে। আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে। তবু আপনারা আশা ছাড়েননি। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে। বিশেষ করে আমাদের নারীরা-মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবকটি গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন।তিনি বলেন, নারীরাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত। ক্ষুদ্রঋণ, কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা— এই শব্দগুলোর পেছনে আছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প। আপনারা ঘরে, রাজপথে সমানভাবে সংগ্রাম করেছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ আগলে রেখেছেন, সমাজকে টিকিয়ে রেখেছেন, অথচ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন। এই নির্বাচন আপনাদের জন্য এক নতুন সূচনা। আর আমাদের তরুণরা— যাদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি এই ভোট আপনাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ।”এমআর-২
ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক বিষয়ে নতুন নির্দেশনা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের জন্য করা ভোটার স্লিপে প্রার্থী নাম ও প্রতীক ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ‘আগের নিয়ম অনুযায়ী ভোটার স্লিপে প্রার্থী নাম ও প্রতীক থাকত না। তবে, এবারের নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে ভোটার স্লিপ করা যাবে।’নির্বাচনি উপকরণ বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে নির্বাচনি উপকরণ বিতরণ শুরু হবে। সকাল থেকে শুরু হলে সন্ধ্যার মধ্যে সব ধরনের উপকরণ কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে বলে আশা করি। এ ছাড়া নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক অবস্থা জানাতে কাল বেলা ১১টায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হবে।’ফলাফল ঘোষণা নিয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের ফল ঘোষণা স্বাভাবিক নিয়মে হবে। ভোটকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক ফল জানানোর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ভবন থেকেও ফল ঘোষণা করা হবে।’এমআর-২
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকার খোঁজ নিচ্ছেন তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার পর এখন মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাইয়ে মনোনিবেশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রচারণার শেষ দিনে তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বসে সারাদেশে নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন টেলিফোনে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই চেয়ারম্যানের কার্যালয় ছিল কর্মতৎপর। তিনি প্রতিটি আসনের প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকার আপডেট নিচ্ছেন।বিশেষ করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং যেকোনো উস্কানির মুখে ধৈর্য ধরে ভোটের মাঠে টিকে থাকার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। মাঠের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও আলাপচারিতায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।এফএস
বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকার খোঁজ নিচ্ছেন তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার পর এখন মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাইয়ে মনোনিবেশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রচারণার শেষ দিনে তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে বসে সারাদেশে নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন টেলিফোনে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই চেয়ারম্যানের কার্যালয় ছিল কর্মতৎপর। তিনি প্রতিটি আসনের প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকার আপডেট নিচ্ছেন।বিশেষ করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং যেকোনো উস্কানির মুখে ধৈর্য ধরে ভোটের মাঠে টিকে থাকার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। মাঠের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও আলাপচারিতায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।এফএস
ভোট কারচুপির চেষ্টা হলে জনগণ অধিকার আদায়ে দাঁড়িয়ে যাবে: জামায়াত আমির
ভোট কারচুপির চেষ্টা করা হলে জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। এসময় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রজাতন্ত্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসন্ন নির্বাচনে সরকার গঠন হোক কিংবা বিরোধী দল—জনগণের রায় মেনে নিতে প্রস্তুত রয়েছে ১১ দল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরাজয়ের আশঙ্কায় ভীতসন্ত্রস্ত একটি পক্ষ নির্বাচনের দিন গুজব ছড়াতে পারে। এ বিষয়ে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১১ দলের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য ছাড়া কোনও ধরনের গুজবে কান না দিতে সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।জামায়াত আমির আরও বলেন, ভোট দিতে ঈদের আমেজ নিয়ে মানুষ বাড়ি ফিরছে। কেউ যদি পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ তা রুখে দেবে।নির্বাচনের দিন নানা ধরনের গুজব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।জামায়াত আমির বলেন, আমরা জনগণের বিজয়ের অপেক্ষায় আছি। এ অবস্থায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের সকল কর্মকর্তার উচিত হবে নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকা। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে যে গণভোট হবে সেখানে ১১ দলীয় ঐক্য হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জাতি অতীত রাজনীতির ভুক্তভোগী। আমরা জাতিকে দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়বিচার সম্পন্ন এক মানবিক বাংলাদেশ উপহার দেবো। নির্বাচন ঘিরে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরপর ৪টি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। সামনের নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী উৎসবের আমেজ বইছে। গণরায় প্রতিষ্ঠা হলে জাতির আনন্দ পূর্ণতা পাব।এবি
ধানের শীষকে সমর্থন দিলেন ইসলামী নেতৃবৃন্দ
আগামী দিনে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে এবং দেশে ইসলামী মূল্যবোধের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষে আস্থা রাখছেন বিভিন্ন ঘরানার আলেমরা। আজ মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম।বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অনলাইন-অফলাইনে জামায়াত-শিবিরের উগ্রতা এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ, দেশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধে মারাত্মক বিষোদগার ও নেগেটিভ মন্তব্য করে আসছে। এ ছাড়া জামায়াত সাধারণ জনগণের কাছে নিজেদের ইসলামী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করলেও রাষ্ট্রীয় এবং কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের সেক্যুলার হিসেবে দাবি করছে ‘ এ জন্য জামায়াত জোটের প্রার্থীদের ভোট না দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষকে সমর্থন জানান বিভিন্ন ঘরানার আলেমরা।তারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘যারা বিএনপি ও ধানের শীষকে সমর্থন করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, বেফাক ও হাইয়্যার চেয়ারম্যান আল্লামা শায়েখ মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, ফুলতলী দরবার, ছারছিনার দরবার, মাইজভান্ডার দরবার, জৈনপুরের দরবারে পীর মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, ঢালকানগর পীর সাহেব শায়েখ আব্দুল মতিন ও মুফতি জাফর আহমদ, মুফতি মনসুরুল হক, মাওলানা শওকত হোসেন সরকার, ইসলামী ঐক্যজোট ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের দুই অংশ।এ বিষয়ে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৭ বছর ভারতের প্রেসক্রিপশন দেশে বাস্তবায়ন করার দরুন দেশের এই দুরবস্থা তৈরি হয়েছিল। আর জামায়াত মাত্র দেড় বছরে আমেরিকার প্রেসক্রিপশনে ইতিমধ্যে এর চেয়েও বেশি দুরবস্থা তৈরি করে ফেলেছে।দেশে মারাত্মক অস্থিরতা তারা পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করেছে। দেশের সিনিয়র রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও ইসলামী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তাদের উগ্র ও আগ্রাসী আচরণে দেশের সাধারণ জনগণ চরম আতঙ্কিত। তাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে জামায়াতের খারেজি ফেতনা থেকে বাঁচাতে দেশের বিভিন্ন ঘরানার শীর্ষ ইসলামী নেতৃবৃন্দ বিএনপি ও ধানের শীষকে সমর্থন করেছেন।’তিনি আরো বলেন, ‘আগামী দিনে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করতে এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আনতে ও বজায় রাখতে বিএনপি ও ধানের শীষের বিকল্প নেই।এফএস
যে কেন্দ্রে ভোট দেবেন জাইমা রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশান হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তিনি ভোট দেবেন। এই কেন্দ্রে ভোট দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দীন দিদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।এফএস
জেনে নিন তারেক রহমান, মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার। নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন, সেদিকে নজর অনেকেই। আজ মঙ্গলবার বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দলের শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন, তা জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোট দেবেন গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেবেন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে, বিএনপি স্হায়ী কমিটি সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মির্জা আব্বাস ঢাকার শাহাজাহানপুর মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে আরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, আব্দুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশে চারনগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সরকারি মডেল জি এম সি ইনিস্টিউটে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ভোলার লালমোহনে আব্দুল ওয়াহাব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মতিহারা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেবেন। এবি
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার
দলের সব পদ থেকে ইঞ্জি. মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থী বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জি. মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে (বহিষ্কৃত) বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।জানা যায়, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।ছড়িয়ে পড়া ওই ভাইরাল ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং ভোটাররা অন্য কোথাও ভোট দিলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হবে।তবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর দাবি, ভিডিওটি কেটে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নিজের ফেসবুকেও পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে।ক্যাপশনে বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আমার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের আংশিক অংশ কেটে শর্ট ক্লিপ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই বক্তব্যটি আমি আমার নিজ এলাকায়, আমার নিকট আত্মীয়দের সামনে ব্যক্তিগত আক্ষেপ থেকে বলেছিলাম। সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে একটি মহল আমাকে জড়িয়ে নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সত্য কখনো চাপা থাকে না।জনগণ সব সময় সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে জানে। বিষয়টি জনগণের সামনে পরিষ্কার করার জন্য আমি আমার সম্পূর্ণ বক্তব্যটি তুলে ধরছি। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বলতে দেখা গেছে, ‘ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। আপনাদের ঘরবাড়ি সব পুড়াইয়া ছাড়খার করে দেব। আমি কিন্তু কথাটা খুব পরিষ্কার বলে বলতেছি।তিনি আরো বলেন, ‘এটা মনে করেন না আমি ভয় দেখাচ্ছি। আমি পরিষ্কার করে বলে দিছি। আমার কথা রেকর্ড করে ফেসবুকে ছেড়ে দিতে পারেন, আমার অসুবিধা নাই। আমি এটা মিন করতেছি।’মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বলতে দেখা গেছে, ‘আমাকে যেন অপমানিত না হইতে হয়। আমি যদি অপমানিত হই...সেই অপমানের শোধ কিন্তু আমি ওইভাবেই নেব।’এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ট্রাক মার্কায় ভোট চাইতে শোনা যায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে।এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী যে বক্তব্য দিয়েছেন এটি আমাদের দলীয় বক্তব্য নয়। একান্তই তার ব্যক্তিগত, এর দায়ভারও দলের নয়। এর পরও আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।এফএস
হাসপাতালে ভর্তি রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান।আরিফুর রহমান বলেন, জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে (রুহুল কবির রিজভী) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।সুস্থতার জন্য রিজভী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান বিএনপির নেতার সহকারী।এমআর-২
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে ডেইরি ফার্ম কর্মচারী আহত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকায় পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মোহাম্মদ আজিম (২৭) নামে এক ডেইরি ফার্মের কর্মচারী গুরুতর আহত হয়েছেন।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে কাজের অংশ হিসেবে মাঠ থেকে ঘাস কাটার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। আহত আজিম বাগেরহাট জেলার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর কোনাবাড়ী এলাকায় বসবাস করতেন এবং ‘জোসনা ডেইরি ফার্মে’ কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।জোসনা ডেইরি ফার্মের মালিক সাদেক জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত আহত আজিমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবককে ঢামেকে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আহত ব্যক্তির কাছ থেকে জানা গেছে, ঘাস কাটার সময় কাঁচির আঘাতে পরিত্যক্ত ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।এবি
স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা অবহেলার শিকার, ইসির উদাসীনতায় হতাশ ইওএস
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য পাঁচ তারকা হোটেল, গাড়ি ও আনুষঙ্গিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও, নিজ দেশের ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষকের ন্যূনতম থাকা–খাওয়ার ব্যয় দিতেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির এমন উদাসীনতায় হতাশা প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছে ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি (ইওএস)।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: দেশব্যাপী সার্বিক অবস্থা ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইওএস সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন হীরা। তিনি বলেন, “নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা–খাওয়ার জন্য কমিশন পাঁচ তারকা হোটেলের ব্যবস্থা করলেও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে কমিশনের কোনো আগ্রহ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।”তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী অধিকাংশ স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রথমবারের মতো মাঠে কাজ করবেন এবং তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন।ইওএস সভাপতি বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে থাকা–খাওয়া কিংবা আর্থিক সহায়তা নিচ্ছি না। অতীতে দলীয় অর্থায়নে পর্যবেক্ষণ করে অনেকেই পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দিয়েছেন, আমরা সেই পথ এড়াতে চাই।”তিনি আরও বলেন, ইসির কাছে নির্বাচনকালীন মাত্র তিন দিনের থাকা–খাওয়ার খরচ চাওয়াটাও তাদের জন্য লজ্জার, তবে নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক দলের সহায়তা নেওয়া সম্ভব নয়।ইওএস সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, সংগঠনের পক্ষে বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষকের ন্যূনতম ব্যয় বহন করা সম্ভব নয় জানালেও কমিশন থেকে বলা হয়েছে,“আপনাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকার প্রয়োজন নেই।”সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৩টি। এসব তথ্য মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।ইওএস জানায়, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো বিপুল ব্যয় করলেও ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের মাত্র তিন দিনের খাবার ও যাতায়াত খরচের বিষয়ে বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও কমিশন কোনো সাড়া দেয়নি।সংগঠনটি আরও জানায়, দাবির পক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি, এমনকি স্মারকলিপিও গ্রহণ করা হয়নি।তবে এই পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের নির্বাচনী প্রত্যাশা ও জাতীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে আপাতত সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে জানানো হয়।নির্বাচনী পরিচয়পত্র ইস্যু নিয়েও পর্যবেক্ষকদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ইওএস জানায়, কখনো অনলাইন, কখনো অফলাইন পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত বদলের কারণে অনেক জেলা এখনো পরিচয়পত্র পেতে বিলম্ব ও জটিলতার মুখে পড়ছে।সংবাদ সম্মেলনে ইওএস গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের থাকা–খাওয়ার অর্থায়ন কীভাবে হবে এবং এর দায় কমিশনের কি না—সে প্রশ্নটি গণমাধ্যমে জোরালোভাবে তুলে ধরা জরুরি।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইওএসের প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম আপ্পি, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহ-সভাপতি বশির আহমেদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।ইখা
নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না: মির্জা আব্বাস
নির্বাচন কমিশন (ইনি) দায়িত্বশীল আচরণ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ করেন।মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। এরইমধ্যে অনেকগুলো অভিযোগ করেছি। কিন্তু একটারও রেস্পন্স পাইনি। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী বলেন, একটা বিশেষ দলের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচন জিতে বসে আছে। এত বছর নির্বাচন করেছি, কিন্তু আমরা প্রেডিকশন করতে পারিনি যে আমরা জিতে গেছি, অথচ তারা পারে কীভাবে! জনগণ ঠিক করবে তারা কাকে ভোট দেবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তো হচ্ছে, সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। এই পক্ষপাতিত্ব খুব খারাপ। একটা ভুয়া ফলাফল নিয়ে তারা সংসদে যাবে? এটা তো হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ভোটারদের অনুরোধ জানাবো তারা যেনো সব চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে ইলেকশনের দিন যথাযথভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।ইখা
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ ছাড়েন তারা।এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনটির এক নেতা। তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এসময় ডাকসুর দুই নেতা এবি জুবাইর ও মুসাদ্দেক আলী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানাল ইনকিলাব মঞ্চ শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এনআই
‘লীগ এক্টিভ হয়েছে, সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যান’
চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৩ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দেওয়া হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে।শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এসময় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা।এ সময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’; ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’; ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’; ‘তুমি কে আমি কে, জাবির জাবির’; ‘বাংলাদেশের জনগণ, নেমে আসুন, নেমে পড়ুন’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। মিছিলটি শাহবাগে পৌঁছানোর পর তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।এনআই
যশোরের ৮২৪ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের শরীরে থাকছে বডি ক্যামেরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সঙমদ নির্বাচনে যশোরের ৬ আসনে ৮২৪ ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৭১টি কেন্দ্রসহ মোট ৩০২টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন প্রশাসন। পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৯৩টি। এ আসনটিতে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহিৃত করেছে পুলিশ। এছাড়া যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি কেন্দ্র।যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনে ১৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি। এর মধ্যে চৌগাছায় ৮১টির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২৩টি এবং ঝিকরগাছায় ৯৪টির মধ্যে ২২টি ভোট কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ।যশোর-৩ (সদর) আসনে ১৯০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর) আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৮১টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২১টি। ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে ১৪ হাজার ৬২ পুলিশ, আনসার সেনাবাহিনী ও এয়ারফোর্সের সদস্য। এর সাথে থাকবে র্যাবের পেট্রোল টিম, বিজিবির প্লাটুন। সেই সাথে থাকবে ২০০ স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম।যশোর নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮২৪ কেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯ কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৮২৪ প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এতে ৪ হাজার ৬৭৯ সহপ্রিজাইডিং অফিসার, ৯ হাজার ৩৫৮ পোলিং অফিসার। এর মধ্যে যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১০২ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১০২ প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৭৭ কক্ষে ৫৭৭ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ১৫৪ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে ১৭৫ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৭৫ প্রিজাইডিং অফিসার, ৯০৫ কক্ষে ৯০৫ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৮১০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-৩ (সদর) আসনে ১৯০ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৯০ প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ১৮৩ কক্ষে ১ হাজার ১৮৩ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ২ হাজার ৩৬৬ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে ১৪৮ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৪৮ প্রিজাইডিং অফিসার, ৮৬৯ কক্ষে ৮৬৯ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৭৩৮ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ১২৮ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১২৮ প্রিজাইডিং অফিসার, ৭২০ কক্ষে ৭২০ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৪৪০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৮১ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ৮১ প্রিজাইডিং অফিসার, ৪২৫ কক্ষে ৪২৫ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৮৫০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তিনজন করে পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। দুই শতাধিক স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য থাকবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ১৩জন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। ৭১ জন পুলিশ সদস্যের শরীরে স্থাপন করা থাকবে ক্যামেরা। সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে ওই ক্যামেরায় ধারণকরা ফুটেজ সকল সদস্য দেখতে পারবে। কোথায় কোন গোলযোগ হলে রিজার্ভ ফোস সেখানে দ্রুততার সাথে পৌঁছাবে। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট কাজ করবে।যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আশেক হাসান বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথম শতভাগ ভোটকেন্দ্র নজরদারির আওতায় এসেছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোটকেন্দ্রে স্বশস্ত্র পুলিশ, আনসার, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি বডি ক্যামেরা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবে।তিনি আরও বলেন, যশোর ৬টি আসনে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটের কাজে নিয়োজিত থাকবে ১৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা কর্মচারী। ১১ ডিসেম্বর থেকে ১১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করে যাচ্ছেন, আজ থেকে আরও ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা থেকে এসেছে। তারাও মঙ্গলবার থেকে কার্যক্রম শুরু করবে। ৬টি আসনের বিপরীতে ২ জন করে ১২ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবে। এনআই
বাঘারপাড়ায় যুবদল-ছাত্রদলের হামলায় ৪ জামায়াত সমর্থক আহত
যশোরের বাঘারপাড়ায় যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের হামলায় জামায়াত সমর্থিত চারজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের বরভাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন—বরভাগ গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে আশরাফ আলী (৫৫), শরিফুল ইসলাম (৫০), মাহমুদ হোসেন (৪৬) এবং আশরাফ আলীর ছেলে বোরহান (২২)। বর্তমানে তারা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আহতদের স্বজনরা দাবি করেন, বরভাগ গ্রামে জামায়াত সমর্থিত এক নারী কর্মীর ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিএনপি সমর্থকদের সাথে জামায়াত কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে ধলগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের কোষাধ্যক্ষ ইনজামুল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বাপ্পী, মাসুদ, আরাফাত ও বদিয়ারসহ আরও কয়েকজন ওই চারজনের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের জখম করেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে আশরাফ আলীর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন।এদিকে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা পাল্টা দাবি করেছেন, জামায়াতের লোকজন বিএনপি কর্মীদের নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, “পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এনআই
যশোর সীমান্ত পথে ভারত থেকে আসছে অবৈধ অস্ত্রের চালান
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রভাব বিস্তারে যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারত থেকে আসছে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে যশোরে ব্যবহার বেড়েছে এসব অস্ত্রের। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ভোটাররা। গত ২ মাসে বেশ কয়েকটি অস্ত্রের চালান ধরা পড়েছে যশোর সীমান্তে।সরকার পরিবর্তনের গত এক বছরে কেবল যশোর সীমান্তেই ৬২টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বিদেশি পিস্তলের মাধ্যমে। ভোটাররা বলছেন ভোটের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করা গেলে মানুষ নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে আপত্তি থাকবে। তবে সীমান্ত পথে যাতে অস্ত্র ঢুকতে না পারে সতর্কতা বাড়িয়েছে বলছেন বর্ডার গার্ড বিজিবি।জানা যায়, যশোরের শার্শা, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলার ২৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ভারত সীমান্ত। নদী, ঘন বনজঙ্গল, সমতল ভুমি ও অনেকাংশে তারকাটা বিহীন সীমানায় মানুষের বসবাস যেকোনও চোরাকারবারিদের তৎপরতা বেশি এখানে। যশোর সীমান্তের ১১টি রুটে অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য দেশে ঢুকছে। যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা, শাহজাদপুর, হিজলা, পুটখালি, আন্দুলিয়া, মান্দারতলা, বেনাপোল সীমান্তের গোগা, কায়বা, শিকারপুর দিয়ে আসছে অস্ত্র-বিস্ফোরক। সম্প্রতি অস্ত্র-বিস্ফোরক চালান আটক এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের জবানিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, পার্বত্য চট্রগ্রামের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অস্ত্র আসে যশোর সীমান্ত দিয়ে। সাধারনত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্ধ্র প্রদেশে নির্মিত অস্ত্র আসছে বেশি। এগুলোর মধ্যে বিহারের মুঙ্গেরে তৈরি ‘কাট্রা রাইফেল, বেলঘরিয়ার ‘বেলঘরিয়া পিস্তল, খিদিরপুরের ‘ছক্কা পিস্তল’ ও মুর্শিদাবাদের ‘ময়ুর পিস্তল’ রয়েছে। তবে ইদানীং নাইন এমএম পিস্তল ও সিক্স পয়েন্ট ফাইভ এমএম পিস্তল, রিভলবার (পয়েন্ট ৩৮ ও পয়েন্ট ৩২ বোর) ধরনের আধুনিক সব অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। আকারে ছোট হওয়ায় চোরাইপথে এসব অস্ত্র আনা সহজ হয় এবং সহজে লুকিয়ে রাখা যায় বলে ব্যবহারকারীরাও এসব অস্ত্র বেশি পছন্দ করে।সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় অস্ত্রের চালান আটক হয়েছে গত ৩০ জানুয়ারি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের দড়িআগ্রা গ্রামের বাসিন্দা চুন্নু মোল্লার বাড়িতে এ অভিযান চালিয়ে ১০টি গ্রেনেড, ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১টি চাপাতি, ১টি ছুরি ও ১টি খুর উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত বছরের ৩০ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মধুগ্রাম এলাকা থেকে ৫টি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫০ রাউন্ড গুলি এবং ৪ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ লিটন গাজী নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গভীররাতে যশোর পুলেরহাট আর্মি ক্যাম্পের বিশেষ দল শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া আরিফের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় দুইটি ইউএসএ’র তৈরি পিস্তল ও দুইটি ম্যাগজিন, এক রাউন্ড তাজা গুলি, এক বক্স এয়ারগানের গুলি, দুইটি চাপাতি, দুইটি চায়না ব্যাটন স্টিক, দুইটি চাকু, একটি চাকু ধার দেওয়ার র্যাদ ও একটি সাইড টেলিস্কোপ এবং পাঁচটি সিসি ক্যামেরা, পাঁচ বোতল মদ ও দুইটি ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। আটককৃতরা হলেন, আরিফের স্ত্রী লোপা খাতুন (৩২), ভাই জাকির হোসেন সাগর (৫২), আরেক ভাই জোয়েব হাসান সাকিব (৫৫), জাকির হোসেন সাগরের স্ত্রী তাহেরা আক্তার তানিয়াকে (৪৫)।একই দিন যশোরের চৌগাছা সীমান্তের দৌলতপুর গ্রামের একটি মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি ভারতীয় এয়ারগান, একটি বিদেশি গ্যাস পিস্তল, ৩০টি ট্রিগার স্প্রিং, ১৪টি ব্যাকসাইড ইউ এবং ২৯টি ফ্রন্ট সাইড টিপ উদ্ধার করে বিজিবি সদস্যরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে বিজিবি। সর্বশেষ সোমবার রাতে যশোরের শার্শা থানার কায়বা সীমান্ত এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও ৪০ বোতল ভারতীয় এস্কার্প সিরাপ উদ্ধার করে বিজিবি।সাধারন ভোটার বেনাপোলের ফজলুর রহমান জানান, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি অবৈধ ক্ষুদ্র অস্ত্র আসে যশোর সীমান্ত দিয়ে। সীমান্তে খুব একটা ধরা না পড়লেও যশোর শহর ও আশপাশ থেকে প্রায়ই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের খবর জানা যায়।অপর এক ভোটার আজিজুল হক বলেন, নির্বাচনের আগে আগে হঠাৎ করে অস্ত্র আসা নিরাপদ নয়। বিজিবি টহল বাড়ানোর ফলে সীমান্তে ধরা পড়ছে বেশ কিছু অস্ত্র। কিন্থু অস্ত্রধারী বা বহনকারী আটক হচ্ছে না।তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, চোরাচালান হয়ে আসা অস্ত্রের তুলনায় আটক হওয়া অস্ত্রের পরিমাণ অনেক কম। চোরাচালানে আসা অবৈধ অস্ত্রের খুব কমই যশোরে থাকে। তার পরও যে পরিমাণ অস্ত্র থেকে যায়, তাই যশোরকে অশান্ত করে রাখে। অবৈধ অস্ত্রধারীরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চালায়, করে গুপ্ত খুন। সীমান্তে অনেক চোরাচালান পণ্য আটক হলেও অস্ত্র খুব একটা ধরা পড়ে না । এবার ভোটের আগে যেভাবে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া চলছে তাতে আমরা আতঙ্কিত। এ অবস্থা থাকলে নির্ভয়ে সাধারণ ভোটাররা ভোট সেন্টারে যেতে আতঙ্কিত থাকবে।মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক জানান, ভোটে উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরীতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে। কিন্তু যে পরিমানে অস্ত্রের চালান ঢুকছে সে পরিমানে ধরা পড়ছে না।যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরণের সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্রসহ অন্যান্য মালামাল আটক করতে সক্ষম হচ্ছে।তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরাপদ করতে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনির সাথে সমন্বয় করে দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সৈনিক দায়িত্ব পালন করছে। কোন অস্ত্রের চালান ঢুকলেও তা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আগেই ধরা পড়বে। অপরাধ দমনে তিনি জনসাধারনকে বিজিবির পাশে থাকার আহবান জানান।পিএম
নির্বাচন ঘিরে যশোর সীমান্তে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের আনাগোনা, আতঙ্কে ভোটাররা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারত থেকে আসছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে জেলায় এসব মারণাস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত দুই মাসে যশোর সীমান্তে বেশ কয়েকটি বড় অস্ত্রের চালান ধরা পড়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের গত এক বছরে কেবল যশোর সীমান্ত এলাকাতেই ৬২টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশ সংঘটিত হয়েছে বিদেশি পিস্তলের মাধ্যমে। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না গেলে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত পথে যাতে কোনোভাবেই অস্ত্র ঢুকতে না পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।যশোরের শার্শা, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলার ২৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভারতের সাথে সীমান্ত বিস্তৃত। নদী, ঘন বনজঙ্গল এবং অনেক স্থানে কাঁটাতারবিহীন সীমানা হওয়ায় চোরাকারবারিদের তৎপরতা এখানে বেশি। গোয়েন্দা তথ্য ও সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের জবানবন্দি অনুযায়ী—চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা, শাহজাদপুর, হিজলা, পুটখালি, আন্দুলিয়া, মান্দারতলা এবং বেনাপোলের গোগা, কায়বা ও শিকারপুর রুট দিয়ে এসব অস্ত্র-বিস্ফোরক দেশে ঢুকছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশে নির্মিত অস্ত্রই বেশি আসছে। এর মধ্যে বিহারের মুঙ্গেরে তৈরি ‘কাট্টা রাইফেল’, বেলঘরিয়ার ‘বেলঘরিয়া পিস্তল’, খিদিরপুরের ‘ছক্কা পিস্তল’ ও মুর্শিদাবাদের ‘ময়ূর পিস্তল’ উল্লেখযোগ্য। তবে বর্তমানে ৯ এমএম ও ৬.৫ এমএম পিস্তল এবং পয়েন্ট ৩৮ ও পয়েন্ট ৩২ বোরের রিভলবারের মতো আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। আকারে ছোট হওয়ায় এগুলো সহজে বহন ও লুকিয়ে রাখা যায়।গত ৩০ জানুয়ারি বাঘারপাড়া উপজেলার দড়িআগ্রা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১০টি গ্রেনেড ও ৩টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। এর আগে ৩০ নভেম্বর সদর উপজেলার মধুগ্রাম থেকে ৫টি বিদেশি পিস্তল ও ৫০ রাউন্ড গুলিসহ একজনকে আটক করা হয়। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়ায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুটি ইউএসএ পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়; এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া গত দুদিনে চৌগাছা, গাতিপাড়া ও কায়বা সীমান্ত থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বেশ কিছু পিস্তল, এয়ারগান ও গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি।বেনাপোলের ভোটার ফজলুর রহমান ও আজিজুল হক জানান, সীমান্তে মাঝে মাঝে অস্ত্র ধরা পড়লেও মূল হোতারা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের এই মহড়া সাধারণ মানুষের মনে ভীতি তৈরি করছে।মানবাধিকার সংস্থা ‘রাইটস যশোর’-এর নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা জরুরি। যে পরিমাণ অস্ত্র ঢুকছে, সেই তুলনায় আটকের পরিমাণ এখনো কম।”যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সহিংসতা প্রতিরোধে সীমান্তে নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “সারাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো অস্ত্রের চালান দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আগেই তা রুখে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।” তিনি অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষকে বিজিবির পাশে থাকার আহ্বান জানান।এনআই
আমির হামজাকে জরিমানা
আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দুটি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজাকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ দিন করে ৬ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ) নির্বাচন অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল হাই এ আদেশ দেন। পরে আমির হামজার পক্ষে জরিমানা পরিশোধ করেন তার আইনজীবী কাজী তৌফিকুল ইসলাম।আদালতের রায় অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার ইবি থানার শান্তিডাঙ্গা গ্রামের রাশেদ আহমেদ গত ৮ তারিখ আমির হামজার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে জরিমানা করা হয়।রায়ে বলা হয়, কুষ্টিয়া মডেল থানার মজমপুর গেট, পাঁচ রাস্তার মোড়, থানা মোড়সহ অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সংক্ষিপ্ত আদালত পরিচালনা করা হয়।ওই আদালত পরিচালনাকালে মজমপুর গেটে সাঁটানো আমির হামজার ব্যানারে কোথাও মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ নেই মর্মে প্রতীয়মান হয়। পরে আমির হামজার আইনজীবী তৌহিবুল ইসলাম তুহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ভুল স্বীকার করেন।রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার দুটির বাদী রাশেদ আহমেদ বলেন, রায়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে রায় এখনো পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়নি। এসব ব্যানার পোস্টার এখনো আছে। আমরা এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।মামলার রায়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এ উল্লিখিত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এমআর-২
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছি: মনিরুল হক
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে সঠিক দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন কুমিল্লা-০৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরী। এসময় জামায়াতে ইসলামীকেও সহনশীল ও দায়ীত্বশীল আচরন করারও আহবান জানান তিনি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই আহবান করেন।এসময়, লিখিত বক্তব্য পাঠ করে জামায়াত শিবির কর্তৃক বিএনপি নেতাকর্মীর উপর আক্রমণের ঘটনায় তিনি বলেন, গত সোমবার রাতে দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের বড়দৈল গ্রামে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর হামলায় দুজন বিএনপি কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাতেই হাসপাতালে তাদের দেখতে যাই। এভাবে মানুষ মানুষকে রাজনৈতিক হীন স্বার্থে পিটাতে পারে আমার জানা ছিলো না। জামায়াতের প্রার্থী নিশ্চয়ই বিষয়টি অবগত হয়েছেন। দেখি তিনি দলীয়ভাবে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাইদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাবো। দীর্ঘ আন্দোলনে আমরা রাজপথের সহযোদ্ধা ছিলাম, মজলুম ছিলাম। এখন কেউ জালিম হইয়েন না। ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আমার কাছে যেসকল আসন ঝুকিপূর্ণ মনে হয়েছে সেগুলার লিস্ট করে আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। আশা করি তারা সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সকল অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে সাধারণ জনগনকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজ থেকে সকল প্রকার প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে গতকাল (সোমবার) অব্দি আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা করেছি। আমি এই আদি কোতোয়ালির সন্তান হয়েও কুমিল্লা শহরে আমি প্রার্থী হিসেবে এবারই প্রথম। শহরকে সাজাতে আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল এখানে প্রার্থী হওয়ার। আপনারা অবগত আছেন দীর্ঘ সময় দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। গণতন্ত্র পর্যুদস্ত হয়েছে বারবার। এবারের নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার নিশ্চিতকরনের নির্বাচন।তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ের পর নতৃন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলো। এতো এতো তাজা প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের জুলাইয়ের চেতনা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও চারদিকে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ষড়যন্ত্রকারীদের সকল অপতৎপরতা রুখে দিয়ে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মনিরুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান, জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জাতি, ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। ভোটের দিন কেউ কোন প্রকার অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আপনারা শক্ত হাতে দমন করবেন। গত ১৭ বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর মানুষের যে বিশ্বাস উঠে গিয়েছিল আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি সুযোগ এসেছে আপনাদের সে বিশ্বাস অর্জনের। কুমিল্লা ৬ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা নির্বিঘ্নে, কোন প্রকার ভয় ভীতি, শঙ্কা না করে সকলে ভোটকেন্দ্রে আসবেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সকল দল মত, জাতি ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে আমি প্রার্থী হিসেবে সবার ভোট চাই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজামুদ্দিন কায়সার প্রমুখ।এফএস
চাঁদপুরে বিকাশ এজেন্টের টাকা আত্মসাৎ, এসআরসহ আটক ২
চাঁদপুরে বিকাশের এজেন্টদের টাকা সরবরাহ না করে আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনায় এক এসআর-সহ (সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ) দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় প্রধান অভিযুক্তের বাড়ির মাটি খুঁড়ে ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বিকাশ লিমিটেডের ডিস্ট্রিবিউটর মেসার্স দিবা এন্টারপ্রাইজের এসআর মো. রাব্বি (২২) এবং তার সহযোগী ফরহাদ হোসেন (২১)।পুলিশ জানায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মো. রাব্বি চাঁদপুর পৌরসভার ‘ওয়ান মিনিট’ সংলগ্ন ঢাকা ব্যাংক শাখা থেকে অফিসের সুপারভাইজারের মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই টাকা চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিকাশ এজেন্টদের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর রাব্বি হঠাৎ নিখোঁজ হন এবং পরে অফিসে ফোন করে ‘অপহরণের নাটক’ সাজান।বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অপহরণ ও হামলার ঘটনাটি সাজানো বলে স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বসতঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় পুরো ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই কালাম গাজীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে এই টাকা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকায় ফরহাদ হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, অভিযুক্তরা দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছিল। উদ্ধারকৃত টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর উভয়কে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।এনআই
কুমিল্লা-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, মূল ফ্যাক্টর আওয়ামী লীগ ভোটাররা
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে। ধানের শীষের সাংগঠনিক শক্তি, দাঁড়িপাল্লার সুশৃঙ্খল ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘তালা’ প্রতীকের ব্যক্তিগত আবেদন—সব মিলিয়ে এই সংসদীয় আসনটি এখন জমজমাট যুদ্ধের অপেক্ষায়।এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তিন প্রার্থীর মধ্যে। তারা হলেন—বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা।হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে হোমনায় ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং তিতাসের ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭৭৭ জন।বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত দুই প্রার্থীই অন্য উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় শুরু থেকেই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। জানা গেছে, দলীয় কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করায় বিএনপির একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খানের পক্ষে মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দলের বেশ কয়েকজন সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় সক্রিয় হয়েছেন। এতে বিএনপি প্রার্থীর ভোটব্যাংকে বড় ধসের আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী রেহানা বেগম (৪০,২৭৭ ভোট) ও এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান আবুলের (১৫,২৩০ ভোট) মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৫ হাজার। অন্যদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ২১,০৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। যদিও বিএনপি তখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তবুও সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। এতে প্রতীয়মান হয় যে, স্থানীয় ভোটাররা কেবল দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকেও সমান প্রাধান্য দেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা-২ আসনের ভোটাররা এবার ‘নিরাপদ’ প্রার্থীকেই বেছে নিতে আগ্রহী। এই আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় প্রার্থী না থাকায় ওই দলের বিশাল একটি ভোটব্যাংক এখন মূল নিয়ামক শক্তি (ডিসাইডিং ফ্যাক্টর) হিসেবে কাজ করছে। আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকলেও বড় একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, দিনশেষে তিনিই বিজয়ের হাসি হাসবেন বলে মনে করা হচ্ছে।এনআই
বান্দরবানে বিএনপি'র প্রচারণা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ
বান্দরবানে পৌর শহরে বিএনপি'র নির্বাচনী অস্থায়ী প্রচারণা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কারা এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে শহরের হাফেজঘোনা এলাকায় স্থাপিত নির্বাচনী প্রচারণা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা প্রচারণা কার্যালয়ে আগুন দেয়। সকালে অফিসটি পোড়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে বানচাল করতেই প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগ করেছে।বান্দরবান পৌর বিএনপি নেতা আবু সাঈদ বলেন, “যারা নির্বাচন চায় না, তারাই এই অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”এ বিষয়ে বান্দরবান সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মান্না দে বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কারা এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।”ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পিএম
কুমিল্লায় র্যাবের অভিযানে পুকুর সেঁচে অস্ত্র উদ্ধার
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় ভারত সীমান্তের কাছে কটকবাজার এলাকায় একটি পুকুর সেঁচে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ভোর বেলা থেকে র্যাব কটকবাজার গ্রামে এই অভিযান শুরু করে বলে জানিয়েছেন র্যাবের কুমিল্লা কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম।সকাল ১০টায় সীমান্ত থেকে মাত্র সাড়ে ৩০০ মিটার দূরত্বে কটক বাজার কবরস্থানের ওই পুকুর পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে শ্যালো মেশিন দিয়ে র্যাব সেচ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি পিস্তল-বন্দুক এবং দুইটি বস্তায় মোড়ানো ধারালো অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মেজর সাদমান।তিনি বলেন, “আমরা আপাতত সাদা বস্তা ও স্কচ স্টেপ মোড়ানো বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র পেয়েছি। ধারণা করছি সেখানে আরো অস্ত্র রয়েছে।”এসআর
কিশোরগঞ্জে যৌথ বাহিনীর নির্বাচনী মহড়া, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রত্যয়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে কিশোরগঞ্জে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাবের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর নির্বাচনী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঐতিহাসিক গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠ থেকে যৌথ বাহিনীর এই মহড়া শুরু হয়। মহড়াটি কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন মুস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল হক এবং কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা প্রদানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় থাকবেন। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সহ্য করা হবে না। মূলত নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার প্রস্তুতি হিসেবেই আজকের এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।মহড়ায় সেনা, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।এনআই
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মোটরসাইকেলের চাপ, যাত্রীদের দুর্ভোগ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মোটরসাইকেলের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে ট্রাকে চেপে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মোটরসাইকেলের চাপ বেড়ে যেতে শুরু করে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ চাপ দৃশ্যমান ছিল। পদ্মা সেতুর সাইডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ জানান, সেতুর টোল প্লাজায় মূলত মোটরসাইকেলের চাপ বেশি থাকে। দুপুরের দিকে চাপ বৃদ্ধি পায়, বিকেলের দিকে তা কমে আসে।এদিকে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস চলাচলের অভাব দক্ষিনবঙ্গের যাত্রীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। দুপুর থেকে পদ্মা সেতু উত্তর থানার এলাকায় অনেক যাত্রী বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাকে চেপে গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন। মাওয়াপ্রান্ত থেকে পদ্মা সেতু পারাপারে ট্রাকে ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। পদ্মা সেতু উত্তর থানার কাছে কথা হয় যাত্রী আব্দুস সালামের সঙ্গে। তিনি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার পশ্চিম কলা দয়ানিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে লৌহজং উপজেলার হলদিয়ায় বসবাস করেন। ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে তিনি বলেন, দুপুর থেকে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। এখনও কোনো বাস পাইনি। পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার ঝাটুকাঠি গ্রামের মো. নাঈম হোসেন বলেন, আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ঢাকা থেকে মাওয়ায় এসেছি। এখানে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। জানি না কখন বাস পাবো। মো. ইয়ামিন হোসেন আরও বলেন, আমি ভাঙ্গা যাবো। কিন্তু রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই। তাই বাধ্য হয়ে ট্রাকে চড়ে পদ্মা সেতু পার হতে হচ্ছে। এর জন্য ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের জন্য যাতায়াত সত্যিই দুর্ভোগের। সরকারের উচিত অতিরিক্ত গাড়ি যোগ করে আমাদের নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। এমআর-২
মোবাইল ব্যাংকিং সেবা স্থগিত, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
সারাদেশে আকস্মিক সরকারি নির্দেশনায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসাসেবা, নিত্যপণ্য ক্রয় এবং অর্থ পাঠানোর মতো অতিপ্রয়োজনীয় খাতগুলোতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ অচলাবস্থা। নগদ টাকার সংকটে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।সবচেয়ে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ পকেটে নগদ টাকা রাখার চেয়ে মোবাইল ওয়ালেটে টাকা রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সেবাটি বন্ধ হওয়ায় সময়মতো ওষুধের বিল কিংবা ল্যাব পরীক্ষার ফি দিতে না পেরে অনেক রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার হাতে নগদ টাকা নেই, সব টাকা মোবাইল ওয়ালেটে। এখন ওষুধের দোকানদারও ওষুধ দিচ্ছে না, আবার হাসপাতালের বিলও দিতে পারছি না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা কি সরকার ভাবছে না? জীবন-মরণ সমস্যায় এভাবে সেবা বন্ধ করা কি ঠিক?”শহর থেকে গ্রামে টাকা পাঠানোর প্রধান মাধ্যম এখন মোবাইল ব্যাংকিং। সেবাটি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ ও তাদের পরিবার। কুড়িগ্রামের বাসিন্দা রহিমা বেগম, যার ছেলে ঢাকা থেকে প্রতি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠান, তিনি বলেন, “ঘরে চাল-ডাল ফুরিয়ে গেছে। ছেলে টাকা পাঠাতে পারছে না। দোকানদারও এখন বাকিতে সওদা দিতে চাচ্ছে না। বিকাশ-নগদ বন্ধ থাকবে জানলে তো আগে কিছু টাকা তুলে রাখতাম।”এনআই
ভোট উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিকালের পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ বাড়ছে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঘরমুখো মানুষের এমন ভিড় দেখা যায়।বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে এই নৌপথে বর্তমানে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পর্যাপ্ত ফেরি থাকায় এবার এই রুটে যাত্রীদের খুব বেশি ভোগান্তি পোহাতে হবে না। বিকালের পর থেকে যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়লেও যাতায়াত পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গতকাল রাতে এবং আজ সকালে যাত্রীদের বেশ চাপ থাকলেও দুপুরের দিকে তা কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। ফের সন্ধ্যা থেকে ভিড় বাড়লেও রাত ১০টা থেকে ১১টার দিকে চাপ কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বাড়ি ফেরা কয়েকজন যাত্রী জানান, ঢাকা থেকে আসার পথে পর্যাপ্ত যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না, তার ওপর গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। এছাড়া মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পারায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আব্দুস সালাম বলেন, “ভোটের কারণে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামার আশঙ্কা থাকায় আমরা আগে থেকেই সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। বর্তমানে ১৪টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এখন যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি থাকলেও আশা করছি রাতের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”এদিকে, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।এনআই
ফরিদপুর–১ আসনে ‘ত্রিমুখী’ লড়াই, ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন আ.লীগের ভোটাররা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসাব-নিকাশে সরগরম ফরিদপুর–১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসন। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলটির অনুপস্থিতিতে ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে। আওয়ামী লীগের সমর্থিত ভোটব্যাংক কার দিকে যাবে—তা নিয়েই এখন মূল আলোচনা। এই ভোটই শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।এই আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই গড়িয়েছে তিনজনকে ঘিরে। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা (দাঁড়িপাল্লা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান (ফুটবল)।ফরিদপুর–১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়ে আসছেন। তবে আওয়ামী লীগ না থাকায় এবার দলটির বিশাল ভোটব্যাংকই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। প্রার্থীরা এখন সেই ভোট নিজেদের দিকে টানতে নানা আশ্বাস দিচ্ছেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর–১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫ হাজার ৭০২ জন। এর মধ্যে মধুখালী উপজেলায় ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৪২ জন, বোয়ালমারীতে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৭০ জন এবং আলফাডাঙ্গায় ১ লাখ ৩ হাজার ৭৯০ জন।স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর সমর্থন তিন উপজেলাতেই কমবেশি রয়েছে। বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বোয়ালমারীর সাতৈর গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় নিজ এলাকায় তাঁর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত। তবে সাংগঠনিক দিক থেকে জামায়াত প্রার্থীও পিছিয়ে নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।অন্যদিকে মধুখালী উপজেলায় লড়াই আরও জটিল। এই উপজেলার কালপোহা গ্রামের বাসিন্দা জামায়াত প্রার্থী ইলিয়াস মোল্যা এবং আশাপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান—দুজনই শক্তিশালী হওয়ায় এখানে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দলীয় প্রভাবের কারণে বিএনপির প্রার্থীও এখানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।এই ত্রিমুখী সমীকরণে সবার নজর এখন আলফাডাঙ্গা উপজেলার দিকে। স্থানীয়দের মতে, আলফাডাঙ্গার প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগ সমর্থিত। যেহেতু প্রধান তিন প্রার্থীর কেউই আলফাডাঙ্গার বাসিন্দা নন, তাই এখানকার ভোটারদের মন জয় করতে পারলেই জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।আলফাডাঙ্গা সদর বাজারের একটি চায়ের দোকানে কথা হয় বকুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, “এখানকার ভোটাররা বিএনপি, জামায়াত আর ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে বিভক্ত। তবে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে মনে হচ্ছে।”সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম বাজারে রবিউল ইসলাম বলেন, “ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী ভোট পেলেও প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান থাকবে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই।”সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ফরিদপুর–১ আসনে দলটির বিশাল ভোটব্যাংক যেদিকে ঝুঁকবে, শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মালা তার গলাতেই উঠবে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।ইখা
বাউফলে বিএনপি-জামায়াতের পৃথক সংঘর্ষ, আহত ৪
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পৃথক দুটি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের চার কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এ সময় বিএনপির একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, একটি দোকান থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র (রামদা) উদ্ধারের ঘটনায় সোহেল (২৫) নামে একজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে এবং মধ্যরাতে কেশবপুর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন—কালাইয়া ইউনিয়নের রায়হান (১৭) ও ফারুক হাওলাদার (৪৫) এবং কেশবপুর ইউনিয়নের নাইম (২৯) ও সাঈদ (৩১)। এদের মধ্যে রায়হান ও ফারুকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাইয়া ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামে জামায়াতের একটি প্রচার মিছিল চলাকালে এক বিএনপি সমর্থক 'ধানের শীষ' প্রতীকের স্লোগান দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে উভয় দলের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রায়হান নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে দুটি রামদা উদ্ধার করা হয় এবং দোকানমালিক সোহেলকে আটক করে যৌথ বাহিনী।এই ঘটনার জেরে একই এলাকায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফারুক হাওলাদার নামের এক জামায়াত সমর্থককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াসের নেতৃত্বে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।অভিযোগ অস্বীকার করে গাজী গিয়াস বলেন, “জামায়াত সমর্থকরা মিছিল সহকারে এসে হঠাৎ আমাদের একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ছাত্রদল নেতা রায়হানকে কুপিয়ে জখম করে। ফারুক হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”আটক দোকানি সোহেল দাবি করেন, তার কাছে কোনো অস্ত্র পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংঘর্ষের সময় কেউ তার নজর এড়িয়ে দোকানে রামদা রেখে যেতে পারে।এদিকে, মধ্যরাতে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সাঈদ ও নাইম নামের দুই জামায়াত সমর্থককে মারধর করার খবর পাওয়া গেছে। জামায়াত সমর্থক শাহীন বলেন, “আমরা নির্বাচনী ক্যাম্পের কাছেও যাইনি। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের কর্মীদের ওপর বিএনপির লোকজন হামলা চালিয়েছে।”এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, “ঘটনাগুলো আমাদের নজরে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”এনআই
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষাচর্চাকে আরও সংগঠিত ও কার্যকর করতে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের (বিইউইএলসি) প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলিমউদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাহেদুল ইসলাম।২০২৩ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ, সহায়ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ইংরেজি ভাষা চর্চার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বিইউইএলসি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্লাবটি একটি আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। প্রথম পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ক্লাবটির কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ক্লাবের সভাপতি মো. আলিমউদ্দীন বলেন, ইংরেজিতে কথা বলার সময় ভুল হওয়ার ভয় অনেক শিক্ষার্থীকে পিছিয়ে দেয়। বিইউইএলসি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভুলকে শেখার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখা হয়। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সদস্যদের আত্মবিশ্বাস ও পাবলিক স্পিকিং দক্ষতা গড়ে তোলাই ক্লাবটির মূল লক্ষ্য।সাধারণ সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত অনুশীলন ও দলভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত জড়তা কাটাতে ক্লাবটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে নেতৃত্ব ও সংগঠনিক দক্ষতা বিকাশেও এটি সহায়ক হচ্ছে।প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ক্লাবটি সেমিনার, কর্মশালা, ইংরেজি রচনা প্রতিযোগিতা, গ্রামার ও ভোকাবুলারি কুইজ এবং সাপ্তাহিক স্পিকিং প্র্যাকটিসসহ নানা কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৮০টিরও বেশি স্পিকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি দক্ষতা উন্নয়নে বিইউইএলসি একটি কার্যকর শেখার কমিউনিটি হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ও ইংলিশ অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও বাড়বে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।ইখা
ভোটের মাঠে বিএনপি, হাতপাখা-দাঁড়িপাল্লার হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রচারণা শেষ হয়েছে আজ মঙ্গলবার । তাই সোমবার বেশির ভাগ প্রার্থীদের নেতৃত্বে হয়েছে শেষ নির্বাচনী মিছিল ও জনসভা। অধিকাংশ প্রার্থী এ মিছিলের মাধ্যমে নিজের শক্তির জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।বরিশালের ২১ আসনেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী জনসভা করেছেন। প্রচারণার শেষ দিনে বরিশাল সদর আসনে প্রার্থীদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনভর গণমিছিল, সমাবেশ ও গণসংযোগে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা নগরী। শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণায় প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও ভোট প্রার্থনা করেন।বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে সোমবার দুপুরে নগরীর সদর রোডে এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরোয়ার বলেন, “শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের অবশেষ মুছে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।সমাবেশ শেষে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে তিনি নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে গণমিছিল করেন।অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) দিনভর নগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তিনি ফরচুন, বেঙ্গল ও খান সন্স টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে বিসিক শিল্প এলাকাকে চাদাঁবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত করে একটি আধুনিক শিল্পবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” এছাড়া তিনি কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।একই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ‘মই’ প্রতীকের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী দিনভর নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের সাথে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ করেন। তিনিও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় মই প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ৫ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকলেও মাঠে রয়েছেন মজিবর রহমান সরোয়ার, মুফতী ফয়জুল করিম, ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী।তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী মাঠও তেমনি বদলাচ্ছে। কোনো আসনে বিএনপির সামনে নিজ দলের বিদ্রোহী, কোনোটিতে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা, কোনোটিতে জামায়াত জোটের শক্তিশালী প্রার্থীর নাম আলোচনায় আসছে। বরিশালে অনেকটা হাতপাখা-দাঁড়িপাল্লার চাপে পড়েছে বিএনপি প্রার্থীরা। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল সফরের পর দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।শুধুমাত্র বরিশালের ৬টি আসনেই নয়, বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনেই ভোটের হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি ভুলে গিয়ে এখন বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করছেন। বিভাগীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি একাধিক আসনে আগে যে গ্রুপিং ও সমন্বয়হীনতা ছিল, তা অনেকাংশে কমে এসেছে। নেতাকর্মীরা নিয়মিত বৈঠক, উঠান সভা, গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন।এরপরও বরিশাল সদর-৫ আসনসহ অন্যান্য আসনগুলোতে নির্বাচনে সমানে সমান টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করবে ইসলামী দলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এমনটি মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। অবশ্য নির্বাচনে না থেকেও ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে আওয়ামী লীগের ভোটাররা বলে মনে করছেন তারা।এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রোববার জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বরিশাল ক্যাম্প কমান্ডার মেজর সৈকত বলেন, সেনাবাহিনী কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। সেনাবাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য সংবিধান অনুসরন করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাতে সকলে নিশ্চিন্তে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ৫ জন, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ৮ জন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ৬ জন, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ৫ জন, বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর) আসনে ৬ জন এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ৬ জন। বরিশাল-১: বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য প্রয়াত সাবেক চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দীন স্বপন। নির্বাচনী মাঠে তিনি ব্যাপক জনসংযোগ চালাচ্ছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলা ও গৌরনদী উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোট চাইছেন স্বপন। তবে এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দীন স্বপনের বিজয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দল বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ ভোটই হিন্দু সম্প্রদায়ের। ২০০১ সালের নির্বাচনে জহির উদ্দীন স্বপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় আগৈলঝাড়া উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য স্বপনকেই অভিযুক্ত করেন অনেকে। অপরদিকে হামলা ও নির্যাতনের সময় সংখ্যালঘুদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। যে কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পরও আগৈলঝাড়া উপজেলায় সোবাহানকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন অধিকাংশ সংখ্যালঘু। এছাড়া গৌরনদী উপজেলায়ও সোবাহানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা। ফলে স্বপনের বিজয় রথ থামিয়ে দিয়ে চমক দেখাতে পারেন সোবাহান- এমনটা মনে করছেন অনেকেই।এ আসনে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার ও জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলীও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তারাও যে যার মতো জনসংযোগ চালাচ্ছেন। বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ২০০ জন। এ আসনে মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৬ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৪ জন।বরিশাল-২:বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। আসনটিতে বিএনপির এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু, জামায়াতের আব্দুল মান্নান, জাতীয় পার্টির (জেপি) আ. হক, জাতীয় পার্টির (জাপা) এম এ জলিল, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের মো. তারিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং এনপিপির সাহেব আলী। এ আসনে মূলত বিএনপির বিপরীতে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলেও আসনটিতে আওয়ামী লীগের শূন্য মাঠে বিএনপির শরফুদ্দীন সান্টুর জয়ের হিসাব জটিল করে তুলেছে নিজ দলের একদল নেতা-কর্মী। বানারীপাড়া উপজেলার সহসভাপতি গোলাম মাহবুব ও পৌর কৃষক দলের আ. গাফফার হোসেনসহ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তাঁরা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত দুই কেন্দ্রীয়সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু ও সাবেক ছাত্রদল নেতা দুলাল হোসেনকে এ পর্যন্ত এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে দেখা যায়নি। ফলে এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপি প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু ও জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মান্নানের মনে করছেন কেউ কেউ। অবশ্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় ব্যাপক সুনাম রয়েছে। যে কারণে ভোটারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬১ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৬ জন।বরিশাল-৩: বরিশাল-৩ ( বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে ধারাবাহিকভাবে কোন দলের প্রার্থীই বিজয়ী হননি। এর আগে এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ওয়াকার্স পার্টির প্রার্থী একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে বর্তমানে বিএনপির ব্যাপক সমর্থন থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে ‘মুলাদী-বাবুগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি’- এ ধারণার ওপর ভর করে দলটির প্রার্থিতা ও প্রচারণা কিছুটা ধীরগতিতে শুরু হয়। প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিলম্ব, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং প্রার্থীর শারীরিক অসুস্থতা- সব মিলিয়ে শুরুতে মাঠে সক্রিয়তা কম ছিল তাদের। এর মধ্যে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ: ছত্তার খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করে প্রচারণা শুরু করলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি সরে গিয়ে জয়নুল আবেদীনের পক্ষে মাঠে নামেন। আসনটিতে জাতীয় পার্টির (জাপা) তিনবারের সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু (লাঙল)। কারাবন্দী টিপুর জন্য গণসংযোগ করছেন তাঁর মেয়ে। জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী। এদিকে এ আসনে এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও স্বল্প সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি। উচ্চশিতি, স্পষ্টভাষী ও সক্রিয় এই তরুণ নেতা নদীভাঙন রোধ, মিরগঞ্জ সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা তার পে ইতিবাচক জনমত তৈরি করেছেন। ১১ দলীয় রাজনৈতিক সমঝোতায় জামায়াতে ইসলামী এবি পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় ভোটের মাঠে নতুন গতি এসেছে। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর প্রকাশ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদের পক্ষে গণসংযোগে নামায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা ফিরে আসে। জামায়াতের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর ভর করে ঈগল প্রতীক শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেকরা। এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদ ইয়ামিন এইচ এম ফারদিন, জাতীয় পার্টির ফকরুল আহসান, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বাসদের মো. আজমুল হাসান জিহাদ। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, সব হিসাব-নিকাশের চূড়ান্ত জবাব দেবেন ভোটের দিন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির মো. গোলাম কিবরিয়া টিপু ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূইয়ার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯২৭ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৭২ জন।বরিশাল-৪: বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব আহসানকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে আছেন অপর মনোনয়ন প্রত্যাশি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদের সমর্থকরা। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। ফলে এ আসনে বিএনপির বিভাজন দলীয় প্রার্থীর জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে। এ আসনটিতে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল জব্বার অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাসদের আব্দুস সালাম (খোকন), ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের এবং মুক্তি জোটের আব্দুল জলিল এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ১৭হাজার ৯৩৫ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭ জন।বরিশাল-৫: বরিশাল-৫ আসন জেলায় সবচেয়ে মর্যাদার আসন হিসেবেই ধরা হয়। বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (হাতপাখা)। তবে ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও তাতে ভাটা পড়ে জামায়াতের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায়। যদিও হাতপাখার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোন কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়নি তাদের। অপরদিকে বিএনপির দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত প্রায় সব প্রার্থীই সরোয়ারকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। তবে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক নেতাই নাখোশ ছিলেন সরোয়ারের ওপর। দলের স্বার্থে সরোয়ারের সমর্থনে নির্বাচনি মাঠে থাকলেও তাদের সমর্থকরা মাঠে নামেননি। এদিকে বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন এখনো সরোয়ারের পক্ষে প্রচারে নামেননি। ফলে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখনো রয়েই গেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন দলের প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এর সুফল নিতে মরিয়া বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা।এদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বিগত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে যুক্ত হচ্ছে চরমোনাই ইউনিয়নসহ উপজেলার অন্যান্য ১০টি ইউনিয়ন। এসব এলাকায় বিএনপির ভোটের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের ভোটার সংখ্যা নেহাত কম নয়। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বড় ভরসা জামায়াতের ভোট ব্যাংক। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোটারদেরও নিজেদের বলয়ে আনতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর। একইভাবে সংখ্যালঘু ভোটাররা নিজেদের জান, মাল ও নিরাপত্তার স্বার্থে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলে দাবি দলটির নেতাদের।বরিশাল নগরীসহ সদর উপজেলার গ্রামগঞ্জে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের দুই প্রার্থীর নাম। অনেকের মতে, এই আসনে হাতপাখার বাতাসে দুলছে ধানের শীষ! নির্বাচনে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে বলে মনে করছেন অনেক ভোটার। তবে আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোট দিতে গেলে পাল্টে যেতে পারে সব হিসাব। যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিজের পক্ষে নিতে পারবেন, তিনিই হবেন এ আসনের এমপি।এই আসনে ১৯৯১ সালে প্রথমবার উপনির্বাচনে জয়লাভের পর ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বার উপনির্বাচনেই জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির মজিবুর রহমান সারোয়ার। এরপর জিতেছেন ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে। তবে এবার বেশ ভাল রকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী।বরিশাল-৫ (সদর ও মহানগর) আসনে সর্বাধিক মোট ভোটার রয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৩ জন। তবে, অন্যান্য আসনে পুরুষ ও মহিলা ভোটের অনেকটা ব্যাবধান থাকলেও এ আসনে পুরুষ ও মহিলা ভোট প্রায় সমানে সমান। এখানে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৬৭৫ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৬১৯ জন।বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) : বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মো. মাহমুদুন্নবী। এ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আব্দুল কুদ্দুস, গণ অধিকার পরিষদের মো. সালাউদ্দীন মিঞা এবং স্বতন্ত্র মো. কামরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের পরে জাতীয় পার্টিরও উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাদের কোনো প্রার্থী নেই। স্থানীয় অনেক ভোটারের বিশ্বাস, জাতীয় পার্টির সমর্থকদের একটি অংশের ভোট পেতে পারেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনেরও কিছু ভোট জামায়াতের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত এই আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন তারা।বরিশাল ৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ২০ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩৭ জন।নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রচারণা শেষ হয়েছে আজ মঙ্গলবার । তাই সোমবার বেশির ভাগ প্রার্থীদের নেতৃত্বে হয়েছে শেষ নির্বাচনী মিছিল ও জনসভা। অধিকাংশ প্রার্থী এ মিছিলের মাধ্যমে নিজের শক্তির জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।বরিশালের ২১ আসনেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী জনসভা করেছেন। প্রচারণার শেষ দিনে বরিশাল সদর আসনে প্রার্থীদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনভর গণমিছিল, সমাবেশ ও গণসংযোগে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা নগরী। শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণায় প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও ভোট প্রার্থনা করেন।বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে সোমবার দুপুরে নগরীর সদর রোডে এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরোয়ার বলেন, “শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের অবশেষ মুছে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।সমাবেশ শেষে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে তিনি নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে গণমিছিল করেন।অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) দিনভর নগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তিনি ফরচুন, বেঙ্গল ও খান সন্স টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে বিসিক শিল্প এলাকাকে চাদাঁবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত করে একটি আধুনিক শিল্পবান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” এছাড়া তিনি কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।একই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ‘মই’ প্রতীকের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী দিনভর নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের সাথে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ করেন। তিনিও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় মই প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ৫ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে থাকলেও মাঠে রয়েছেন মজিবর রহমান সরোয়ার, মুফতী ফয়জুল করিম, ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী।তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী মাঠও তেমনি বদলাচ্ছে। কোনো আসনে বিএনপির সামনে নিজ দলের বিদ্রোহী, কোনোটিতে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা, কোনোটিতে জামায়াত জোটের শক্তিশালী প্রার্থীর নাম আলোচনায় আসছে। বরিশালে অনেকটা হাতপাখা-দাঁড়িপাল্লার চাপে পড়েছে বিএনপি প্রার্থীরা। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল সফরের পর দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।শুধুমাত্র বরিশালের ৬টি আসনেই নয়, বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনেই ভোটের হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি ভুলে গিয়ে এখন বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করছেন। বিভাগীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি একাধিক আসনে আগে যে গ্রুপিং ও সমন্বয়হীনতা ছিল, তা অনেকাংশে কমে এসেছে। নেতাকর্মীরা নিয়মিত বৈঠক, উঠান সভা, গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন।এরপরও বরিশাল সদর-৫ আসনসহ অন্যান্য আসনগুলোতে নির্বাচনে সমানে সমান টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করবে ইসলামী দলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এমনটি মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। অবশ্য নির্বাচনে না থেকেও ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে আওয়ামী লীগের ভোটাররা বলে মনে করছেন তারা।এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রোববার জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বরিশাল ক্যাম্প কমান্ডার মেজর সৈকত বলেন, সেনাবাহিনী কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। সেনাবাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য সংবিধান অনুসরন করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাতে সকলে নিশ্চিন্তে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ৫ জন, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ৮ জন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ৬ জন, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ৫ জন, বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর) আসনে ৬ জন এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ৬ জন। বরিশাল-১: বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য প্রয়াত সাবেক চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দীন স্বপন। নির্বাচনী মাঠে তিনি ব্যাপক জনসংযোগ চালাচ্ছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলা ও গৌরনদী উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোট চাইছেন স্বপন। তবে এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দীন স্বপনের বিজয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দল বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ ভোটই হিন্দু সম্প্রদায়ের। ২০০১ সালের নির্বাচনে জহির উদ্দীন স্বপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় আগৈলঝাড়া উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য স্বপনকেই অভিযুক্ত করেন অনেকে। অপরদিকে হামলা ও নির্যাতনের সময় সংখ্যালঘুদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। যে কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার পরও আগৈলঝাড়া উপজেলায় সোবাহানকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন অধিকাংশ সংখ্যালঘু। এছাড়া গৌরনদী উপজেলায়ও সোবাহানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা। ফলে স্বপনের বিজয় রথ থামিয়ে দিয়ে চমক দেখাতে পারেন সোবাহান- এমনটা মনে করছেন অনেকেই।এ আসনে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার ও জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলীও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তারাও যে যার মতো জনসংযোগ চালাচ্ছেন। বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ২০০ জন। এ আসনে মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৬ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৪ জন।বরিশাল-২:বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। আসনটিতে বিএনপির এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু, জামায়াতের আব্দুল মান্নান, জাতীয় পার্টির (জেপি) আ. হক, জাতীয় পার্টির (জাপা) এম এ জলিল, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের মো. তারিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং এনপিপির সাহেব আলী। এ আসনে মূলত বিএনপির বিপরীতে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলেও আসনটিতে আওয়ামী লীগের শূন্য মাঠে বিএনপির শরফুদ্দীন সান্টুর জয়ের হিসাব জটিল করে তুলেছে নিজ দলের একদল নেতা-কর্মী। বানারীপাড়া উপজেলার সহসভাপতি গোলাম মাহবুব ও পৌর কৃষক দলের আ. গাফফার হোসেনসহ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তাঁরা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত দুই কেন্দ্রীয়সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু ও সাবেক ছাত্রদল নেতা দুলাল হোসেনকে এ পর্যন্ত এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে দেখা যায়নি। ফলে এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপি প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু ও জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মান্নানের মনে করছেন কেউ কেউ। অবশ্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় ব্যাপক সুনাম রয়েছে। যে কারণে ভোটারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬১ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৬ জন।বরিশাল-৩: বরিশাল-৩ ( বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে ধারাবাহিকভাবে কোন দলের প্রার্থীই বিজয়ী হননি। এর আগে এ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ওয়াকার্স পার্টির প্রার্থী একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে বর্তমানে বিএনপির ব্যাপক সমর্থন থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে ‘মুলাদী-বাবুগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি’- এ ধারণার ওপর ভর করে দলটির প্রার্থিতা ও প্রচারণা কিছুটা ধীরগতিতে শুরু হয়। প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিলম্ব, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং প্রার্থীর শারীরিক অসুস্থতা- সব মিলিয়ে শুরুতে মাঠে সক্রিয়তা কম ছিল তাদের। এর মধ্যে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ: ছত্তার খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করে প্রচারণা শুরু করলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি সরে গিয়ে জয়নুল আবেদীনের পক্ষে মাঠে নামেন। আসনটিতে জাতীয় পার্টির (জাপা) তিনবারের সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু (লাঙল)। কারাবন্দী টিপুর জন্য গণসংযোগ করছেন তাঁর মেয়ে। জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী। এদিকে এ আসনে এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও স্বল্প সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি। উচ্চশিতি, স্পষ্টভাষী ও সক্রিয় এই তরুণ নেতা নদীভাঙন রোধ, মিরগঞ্জ সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা তার পে ইতিবাচক জনমত তৈরি করেছেন। ১১ দলীয় রাজনৈতিক সমঝোতায় জামায়াতে ইসলামী এবি পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় ভোটের মাঠে নতুন গতি এসেছে। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর প্রকাশ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদের পক্ষে গণসংযোগে নামায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা ফিরে আসে। জামায়াতের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর ভর করে ঈগল প্রতীক শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেকরা। এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদ ইয়ামিন এইচ এম ফারদিন, জাতীয় পার্টির ফকরুল আহসান, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বাসদের মো. আজমুল হাসান জিহাদ। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, সব হিসাব-নিকাশের চূড়ান্ত জবাব দেবেন ভোটের দিন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির মো. গোলাম কিবরিয়া টিপু ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূইয়ার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯২৭ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৭২ জন।বরিশাল-৪: বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব আহসানকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে আছেন অপর মনোনয়ন প্রত্যাশি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদের সমর্থকরা। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। ফলে এ আসনে বিএনপির বিভাজন দলীয় প্রার্থীর জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে। এ আসনটিতে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল জব্বার অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাসদের আব্দুস সালাম (খোকন), ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের এবং মুক্তি জোটের আব্দুল জলিল এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ১৭হাজার ৯৩৫ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭ জন।বরিশাল-৫: বরিশাল-৫ আসন জেলায় সবচেয়ে মর্যাদার আসন হিসেবেই ধরা হয়। বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (হাতপাখা)। তবে ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও তাতে ভাটা পড়ে জামায়াতের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায়। যদিও হাতপাখার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোন কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়নি তাদের। অপরদিকে বিএনপির দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত প্রায় সব প্রার্থীই সরোয়ারকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। তবে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক নেতাই নাখোশ ছিলেন সরোয়ারের ওপর। দলের স্বার্থে সরোয়ারের সমর্থনে নির্বাচনি মাঠে থাকলেও তাদের সমর্থকরা মাঠে নামেননি। এদিকে বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন এখনো সরোয়ারের পক্ষে প্রচারে নামেননি। ফলে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখনো রয়েই গেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন দলের প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এর সুফল নিতে মরিয়া বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা।এদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বিগত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে যুক্ত হচ্ছে চরমোনাই ইউনিয়নসহ উপজেলার অন্যান্য ১০টি ইউনিয়ন। এসব এলাকায় বিএনপির ভোটের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের ভোটার সংখ্যা নেহাত কম নয়। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বড় ভরসা জামায়াতের ভোট ব্যাংক। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোটারদেরও নিজেদের বলয়ে আনতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর। একইভাবে সংখ্যালঘু ভোটাররা নিজেদের জান, মাল ও নিরাপত্তার স্বার্থে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলে দাবি দলটির নেতাদের।বরিশাল নগরীসহ সদর উপজেলার গ্রামগঞ্জে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের দুই প্রার্থীর নাম। অনেকের মতে, এই আসনে হাতপাখার বাতাসে দুলছে ধানের শীষ! নির্বাচনে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে বলে মনে করছেন অনেক ভোটার। তবে আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোট দিতে গেলে পাল্টে যেতে পারে সব হিসাব। যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিজের পক্ষে নিতে পারবেন, তিনিই হবেন এ আসনের এমপি।এই আসনে ১৯৯১ সালে প্রথমবার উপনির্বাচনে জয়লাভের পর ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বার উপনির্বাচনেই জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির মজিবুর রহমান সারোয়ার। এরপর জিতেছেন ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে। তবে এবার বেশ ভাল রকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী।বরিশাল-৫ (সদর ও মহানগর) আসনে সর্বাধিক মোট ভোটার রয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৩ জন। তবে, অন্যান্য আসনে পুরুষ ও মহিলা ভোটের অনেকটা ব্যাবধান থাকলেও এ আসনে পুরুষ ও মহিলা ভোট প্রায় সমানে সমান। এখানে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৬৭৫ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৬১৯ জন।বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) : বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মো. মাহমুদুন্নবী। এ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আব্দুল কুদ্দুস, গণ অধিকার পরিষদের মো. সালাউদ্দীন মিঞা এবং স্বতন্ত্র মো. কামরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগের পরে জাতীয় পার্টিরও উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাদের কোনো প্রার্থী নেই। স্থানীয় অনেক ভোটারের বিশ্বাস, জাতীয় পার্টির সমর্থকদের একটি অংশের ভোট পেতে পারেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনেরও কিছু ভোট জামায়াতের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। শেষ পর্যন্ত এই আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন তারা।বরিশাল ৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ২০ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩৭ জন।এসআর
জয়-পরাজয়ের বড় ফ্যাক্টর সংখ্যালঘু ও আ.লীগের ভোটার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসন (বরগুনা সদর, তালতলী ও আমতলী) ঘীরে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও ভোটের মাঠে রয়েছে এর প্রভাব। এছাড়াও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররাও জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবেন।স্থানীয় রাজনীতিক, ভোটার এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট যেদিকে বেশি যাবে, শেষ পর্যন্ত জয় তারই হবে। তবে এই দুই শ্রেণির ভোটারদের বেশির ভাগই মনোভাব প্রকাশ করছেন না। সামান্য ব্যবধানও ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠের হিসেবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে চরমোনাই পীরের প্রার্থী কেওড়াবুনিয়া দরবার শরীফের পীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর।বরগুনা-০১ আসনে ১৯৯১সালে (সাধারন নির্বাচন) আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, ১৯৯৬ সালে (সাধারন নির্বাচন) বিএনপি'র আব্দুর রহমান খোকন, ১৯৯৬ সালে (সাধারন নির্বাচন) আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, ২০০১ সালে (সাধারন নির্বাচন) স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলওয়ার হোসেন, ২০০৮ ও ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের (সাধারন নির্বাচন) আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বিজয়ী হয়েছেন। এবং ২০২৪ (সাধারন নির্বাচন) স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরওয়ার টুকু বিজয়ী হয়। এবারের নির্বাচনে এই আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের সকলের বাড়ি বরগুনা সদরে। মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং জোটবিহীন চরমোনাই পীরের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কেওড়াবুনিয়া দরবার শরীফের পীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ। এর মধ্যে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন (দেয়াল ঘড়ি) এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী জামাল হোসাইন (সাইকেল) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের প্রচার-প্রচারণা ও জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে কম বলে ভোটাররা মনে করছেন।এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫১ জন। এর মধ্যে পায়রা নদীর পূর্ব পাড়ের আমতলী ও তালতলী উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ জন, যা বরগুনা সদর উপজেলার তুলনায় ২৪ হাজারের বেশি। ফলে এই দুই উপজেলার ভোটই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ভোটারদের কাছে টানতে বেশ কৌশলী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা। তিনি নারী ও তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্ত্রী লুবনা ইসলাম ও ছেলে উচ্ছ্বাস মোল্লাকে মাঠে নামিয়েছেন। স্ত্রী এবং ছেলে জয় নিশ্চিত করতে গ্রামে গ্রামে ছুটছেন। ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, 'বরগুনা -১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায় । ধানের শীষের পক্ষে একটা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন , কর্মসংস্থান ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।'ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন , 'ভোটাররা এখন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব চান। আমরা দলীয় ভোটের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের ভোটারের সমর্থন চাই। আমি এমপি হলে সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করব।'এসআর
বরিশালে তিন প্রার্থীর শেষ মুহূর্তের গণমিছিল ও শোডাউন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে বরিশালে প্রধান দলগুলোর প্রার্থীরা ব্যাপক শোডাউন, সমাবেশ ও গণমিছিল করেছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রচারণার শেষ মুহূর্তে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা পৃথকভাবে এই কর্মসূচি পালন করেন।এরই অংশ হিসেবে দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও গণমিছিল করে জেলা ও মহানগর বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। সমাবেশ শেষে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, “শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে হবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”এদিকে, বরিশাল-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে একটি বিশাল গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি গৌরনদী বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।অন্যদিকে, বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম নগরীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নির্বাচনী জনসভা করেন। সমাবেশ শেষে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করা হয়। এ সময় ফয়জুল করীম বরিশালকে চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বরিশাল সদর-৫ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ৫ জন।বরিশাল-২: বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে দুই প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোবরিশাল ব্যুরো: বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জাসদ ও এনপিপির দুই প্রার্থী। সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তাঁরা এই ঘোষণা দেন।প্রার্থিতা প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মনোনীত সাহেব আলী।জাসদ প্রার্থীর পক্ষে রোববার দুপুরে উজিরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. করিম খান। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে থাকার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সাথে তিনি জাসদের নেতাকর্মী ও ভোটারদের ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।অপরদিকে, বিকেলে বানারীপাড়া হাইস্কুল মাঠে বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে তাঁকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন এনপিপি প্রার্থী সাহেব আলী। এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, “দেশ গঠনে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই। যাঁরা সমর্থন দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”এনআই
ভালুকায় শেষ মুহূর্তে উত্তাপ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে ময়মনসিংহ–১১ (ভালুকা) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী উত্তাপ। কথার লড়াই পেরিয়ে ভোটের লড়াইয়ে এখন সরাসরি মুখোমুখি বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। পাঁচজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও বাস্তব চিত্রে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়াচ্ছে মূলত বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর দ্বিমুখী প্রতিযোগিতায়।এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ (বাচ্চু) ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, যার প্রতীক হরিণ। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম (শাপলাকলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মোস্তফা কামাল (হাতপাখা) এবং গণ অধিকার পরিষদের আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ (ট্রাক) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে এসে ভোটের সমীকরণ নতুন করে হিসাব করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র—দুই পক্ষই নিজেদের এগিয়ে থাকার দাবি করলেও সময় যত গড়াচ্ছে, ততই আগাম উল্লাসে ভাটা পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দু’পক্ষই রয়েছে তীব্র স্নায়ুচাপে। শেষ মুহূর্তে কারও পক্ষেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখানোর সুযোগ নেই।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের একটি অংশ এবার ভোট দিতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভালুকায় দলটির নেতা-কর্মীরা অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও ওই ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই চলছে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট যিনি বেশি টানতে পারবেন, জয়ের দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন।নির্বাচন ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।তিনি বলেন, ভালুকা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৭টি। এর মধ্যে পুরুষ ও মহিলা আলাদা কেন্দ্র রয়েছে ১৪টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ৯৩টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন। সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রচারণার শুরু থেকেই সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে অংশ নিলেও ফ্যাসিবাদী শক্তি জোর করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে তাঁর জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এবার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে চায় বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন এবং ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, বিজয় সুনিশ্চিত।সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে ভালুকা আসনের নির্বাচন রূপ নিয়েছে এক অনিশ্চিত ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে। ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে এখন পুরো এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গন।ইখা
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’: বাকৃবিতে বিভক্ত মত, তর্ক-বিতর্কে মুখর ক্যাম্পাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কার–সংক্রান্ত চারটি প্রশ্নে মত দেবেন। এই গণভোটকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও চলছে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময়। শিক্ষার্থীদের একাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে সময়ের দাবি বলছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ পুরো প্রক্রিয়াটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চব্বিশের গণ-আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। গণভোটে চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধী দল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।বাকৃবির একাংশ শিক্ষার্থীর মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জনগণের মালিকানা ও ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. বেলাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ নির্যাতন ও ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটিয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই দুঃসময় ভাঙলেও প্রকৃত মুক্তি তখনই আসবে, যখন জনগণের অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত হবে। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সরকারি ক্ষমতা সীমিত হবে, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে।একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে পারিবারিক রাজনীতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার অবসানের পথে এগিয়ে যাওয়া। তার ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ—এই ধারণাকে শক্তিশালী করতেই তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।তবে শিক্ষার্থীদের সবাই যে গণভোটের পক্ষে, তা নয়। এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা নাবিলা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন। তার অভিযোগ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্নমত দিয়েছিল, সেগুলো উপেক্ষা করেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চারটি প্রশ্নকে একটি প্যাকেজে বেঁধে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করে। কারও একটি প্রশ্নে আপত্তি থাকলেও তা আলাদা করে জানানোর সুযোগ নেই—এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে করেন তিনি।অন্যদিকে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রেদোয়ান আহমেদ গণভোটকে ‘বৈপ্লবিক উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় মানে ক্ষমতার একচেটিয়া দখল ভেঙে সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। এতে রাষ্ট্র আরও দায়বদ্ধ হবে, বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়বে এবং সহিংস রাজনীতির অবসান ঘটবে—এমন প্রত্যাশা তার।একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. সালমান বলেন, চব্বিশের গণ-আন্দোলন হয়েছিল স্বৈরাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। সেই অর্জন টেকসই করতে হলে স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।সব মিলিয়ে গণভোটকে ঘিরে বাকৃবি ক্যাম্পাসে স্পষ্টভাবে দুই ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। কেউ একে রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটিকে অগণতান্ত্রিক বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন পথে দেশকে এগিয়ে নেবে—সেই অপেক্ষাতেই এখন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।ইখা
ধানের শীষ বিজয়ী হলে আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না: ইয়াসের খান
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীর ওপর হামলা বা মামলা করা হবে না। যারা বর্তমানে প্রকাশ্য আসতে পারছেন না, তারা আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নিরবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করুন। আপনাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই, ইনশাআল্লাহ জয় আমাদের সুনিশ্চিত।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নান্দাইল উপজেলা সদরস্থ চন্ডিপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।তিনি বলেন, আমি আপনাদের সংসদ সদস্য হতে আসিনি, এসেছি আপনাদের সেবক হয়ে কাজ করতে। ধানের শীষ প্রতীকে আমাকে জয়যুক্ত করলে নান্দাইল থেকে সব ধরনের চাঁদাবাজি, জুয়া, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূল করা হবে। আমার মরহুম পিতা সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করে আমি একটি আধুনিক ও নিরাপদ নান্দাইল গড়তে চাই।দুর্নীতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে এবং উন্নয়নের ধারা বেগবান করতে দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এমপি নির্বাচিত হলে নান্দাইলবাসীর প্রাণের দাবি ত্রিমুখী ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া শ্রমিকদের জন্য উন্নত বিশ্রামাগার, উপজেলা সদর হাসপাতালের মানোন্নয়নসহ পশ্চিম ও পূর্ব নান্দাইলে আরও দুটি নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। যুবকদের মেধা বিকাশে উন্নতমানের স্টেডিয়াম স্থাপন এবং প্রতিটি ইউনিয়নে ফ্রি ওয়াইফাই জোন তৈরি করা হবে। কওমি মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নে আমরা আপোষহীনভাবে কাজ করব।”এমআর-২
জিআই তারের নেট তৈরি করে ঘুরে দাঁড়ালেন ভালুকার মামুন
অভাব, হতাশা আর ব্যর্থতার গ্লানি পেছনে ফেলে জিআই তারের নেট তৈরি করে সফলতার মুখ দেখেছেন ভালুকা উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা মামুন। মাত্র বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ আজ তাকে এনে দিয়েছে স্বাবলম্বী জীবনের স্বাদ।মামুন ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের মীর বাড়ি এলাকার মৃত মীর গোলাম রব্বানীর ছেলে। এইচএসসি পাস করে বিএ-তে ভর্তি হলেও আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পুকুরে মাছ চাষ ও লেয়ার মুরগি পালন করে আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েন। টানা তিন থেকে চার বছর কোনো ব্যবসায় হাত দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি। হতাশা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল তার।এক পর্যায়ে ইউটিউবে ভিডিও দেখে জানতে পারেন, স্বল্প খরচে জিআই তারের নেট তৈরির মেশিন কিনে কাজ শুরু করা যায়। সেই ভাবনাই বদলে দেয় তার জীবন। নিজের সাহস আর উদ্যোগকে পুঁজি করে তিনি ছুটে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সেখানে গিয়ে জিআই তারের নেট তৈরির একটি মেশিন কিনে কয়েক দিন থেকে হাতে-কলমে কাজ শেখেন। পরে নিজ ঘরের বারান্দায় মেশিন বসিয়ে শুরু করেন নেট তৈরির কাজ।মামুন জানান, শুরুতে আশপাশের মানুষ কৌতূহল নিয়ে তার মেশিন দেখতে আসত। গ্রামের মানুষ আগে ভাবতেই পারেনি যে জিআই তার দিয়ে ক্ষেত-খামারের টেকসই বেড়া করা সম্ভব। প্রথমে নিজের বাগানে জিআই তারের নেট দিয়ে বেড়া দেন তিনি। কিন্তু শুরুতে দীর্ঘ ছয় থেকে সাত মাস কোনো অর্ডার পাননি।হাল না ছেড়ে তিনি লিফলেট ছাপিয়ে গফরগাঁও, ত্রিশাল, ভালুকা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দোকানের দেয়ালে লাগান। পাশাপাশি অনলাইনেও প্রচারণা চালান। এরই ফলস্বরূপ ধীরে ধীরে আসতে থাকে অর্ডার। কেউ ফোন করে, কেউ আবার সরাসরি এসে নেট তৈরি কাজ দেখে যান।বর্তমানে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে গড়ে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা আয় করছেন মামুন। অর্ডার বেশি হলে আয়ও বাড়ে। তার কারখানায় নেট বুননের কাজে যুক্ত হয়েছে আশপাশের দরিদ্র পরিবারের স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। তারা অবসর সময়ে হাত দিয়ে নেট বুননের কাজ করে নিজেদের খাওয়া ও পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছে।নেট বুননের কাজে যুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কাজটি তুলনামূলক সহজ। স্কুল বন্ধ থাকলে বা অবসর সময়ে তারা কাজ করে। এতে করে খাতা-কলম কেনা ও পড়াশোনার খরচের টাকা জোগাড় হয়।তবে করোনাভাইরাসের সময় কাজ কিছুটা কমে গিয়েছিল। বর্তমানে তারের দাম বেড়ে যাওয়ায় নেটের অর্ডারও আগের তুলনায় কম আসছে বলে জানান মামুন। তারপরও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে জিআই তারের নেটের অর্ডার গ্রহণ করা হচ্ছে। কুরিয়ার পরিবহনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে নেট পৌঁছে দেওয়া হয়।নেট কিনতে আসা মো. ফয়সাল বলেন, বাড়ির আঙিনায় স্থায়ী বেড়ার জন্য জিআই তারের নেট খুবই ভালো। আমরা অনেক দূর থেকে নেটের অর্ডার দিয়েছি। ভালো মানের জিআই তারের বেড়া ১০ থেকে ১৫ বছরেও নষ্ট হয় না।মামুন বলেন, সরকারিভাবে যদি অর্থনৈতিক সহায়তা ও সুদৃষ্টি পাওয়া যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিধি আরও বড় করা সম্ভব। এতে অনেক বেকার ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।এসআর
নেত্রকোনায় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১১০টি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নেত্রকোনায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১১০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১১০টি অনলাইন এবং ২৬৬টি অফলাইন বডি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নেত্রকোনা পুলিশ লাইনস মাঠে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত ব্রিফিং প্যারেড শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।পুলিশ সুপার বলেন, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জনগণকে আহ্বান জানাই-আপনারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাবেন।তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়ার পথে কিংবা কেন্দ্রের ভেতরে কেউ কোনো ধরনের অপকর্মের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১১০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১১০টি অনলাইন এবং ২৬৬টি অফলাইন বডি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে জেলায় মোট ১ হাজার ৮৯০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়াও আনসার, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য মাঠে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেরপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রেজওয়ান আহমেদ, মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকারসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।এসআর
সাঘাটায় পেট্রল বোমাসদৃশ বস্তুসহ ৫ প্রচারকর্মী আটক
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পেট্রল বোমাসদৃশ বস্তুসহ পাঁচজন নির্বাচন প্রচারকর্মীকে আটকের পর মোবাইল কোর্টে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সাঘাটা থানার সামনে তাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। ঘটনায় জড়িত পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদের প্রচারকর্মী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘটনাটি ঘটে। সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে চারজনকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ফুলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা ওয়াহিদুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, পাভেল, রাসেল ও মমিন নামের পাঁচ ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ডাকবাংলা এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি করলে ভেতরে দুটি পেট্রল বোমাসদৃশ বোতল দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহম্মেদ তুলিপ জানান, এসব বস্তু নির্বাচনে ব্যবহারের উদ্দেশে আনা হচ্ছিল।এনআই
খানসামার ৫২ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দিনাজপুরের খানসামায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উপজেলার মোট ৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টিকেই 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে নজরদারি চালানো হবে।নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মতে, অতীতের সহিংসতা, স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে পুরো উপজেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রে দুই প্লাটুন বিজিবি, তিন প্লাটুন সেনাবাহিনী এবং এক প্লাটুন ব্যাটালিয়ন আনসার মোতায়েন থাকবে। এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে ১৩ জন আনসার সদস্য এবং অস্ত্রসহ তিনজন স্থায়ী আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশের নিয়মিত টহল ও বিশেষ নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ টিম থাকবে, যারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও জনমনে উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রে অতীতে দখল, প্রভাব বিস্তার বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকার ভোটারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও প্রস্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। কেন্দ্রের আশপাশে অপ্রয়োজনীয় জমায়েত, মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোট শেষে ব্যালট বক্স ও নির্বাচনী সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। কেউ যদি সহিংসতা বা ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।”সব মিলিয়ে খানসামায় এবারের নির্বাচন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি ভোটারদের কতটা আশ্বস্ত করতে পারে এবং নির্বিঘ্নে ভোটদান নিশ্চিত হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।এনআই
তারাগঞ্জে কাঁঠবোঝাই ট্রলির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
এনামুল হক দুখু, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের ইকরচালী ইউনিয়নের বামনদীঘি এলাকায় কাঁঠবোঝাই ট্রলির ধাক্কায় ১ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম শামীম হোসেন (২৮)। সে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের মামুনপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই জন মোটরসাইকেলে তারাগঞ্জের দিকে আসছিলেন। পিছন দিক থেকে ওই কাঁঠবোঝাই ট্রলিটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলের পিছনে বসে থাকা একজন কাঁচা রাস্তায় পরে যায় আর ওই মোটরসাইকেলের চালক ছিটকে ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।এ বিষয়ে মুঠোফোনে তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।পিএম
দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনা নিহত ১, আহত ৬
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নির্বাচনী জনসভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নসিমন উল্টে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার ডুগডুগি–ভাদুরিয়া সড়কের বিশাইনাথপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত ব্যক্তির নাম মমতাজ আলী (৬৫)। তিনি ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রাম এলাকার মৃত আসগার আলীর ছেলে। আহতদের মধ্যে আব্দুল মাজিদ নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নবাবগঞ্জের ভাদুরিয়া বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা শেষে নসিমনযোগে বাড়ি ফিরছিলেন একদল কর্মী-সমর্থক। পথে বিশাইনাথপুর এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে নসিমনটি সড়কের পাশের খাদে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মমতাজ আলী মারা যান এবং আরও ছয়জন গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আব্দুল মাজিদের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এনআই
ভোট চুরি ঠেকাতে জীবন দেওয়ার আহ্বান সারজিস আলমের
পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “রক্ত দেবেন, জীবন দেবেন; তবু একটা ভোট চুরি করতে দেবেন না।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যে ভোট চুরি করতে আসবে, তার একমাত্র ঠিকানা হবে হাসপাতাল।”সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় পৌর শহরের জালাসী এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, “কেউ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা কোনো ধরনের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিণতি মনে রাখতে হবে।” তাঁর ভাষায়, “তাঁর গলায় জুতার মালা ছিল, আপনার গলায় কোন মালা থাকবে— কল্পনাও করতে পারবেন না।”শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “শ্রমিকদের শুধু ব্যবহার করা হয় এবং অল্প টাকায় তাঁদের ভোট কেনা হয়। পরে পাঁচ বছর তাঁদের দাসের মতো রাখা হয়।” তিনি দাবি করেন, তাঁদের উদ্যোগে শ্রমিকদের পরবর্তী প্রজন্মকে আর শ্রমিক হয়ে থাকতে হবে না। সন্তানদের ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার বা ব্যারিস্টার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ‘শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মহীন সময়ে উপার্জনের ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করেন।কৃষকদের বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, “বিএনপির আমলে কৃষকদের সারের জন্য গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পঞ্চগড়ের কৃষক ও চা-চাষিদের সার, কীটনাশক ও ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো রক্তচোষা সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না।তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড়ের প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা হবে এবং জেলাটিকে পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পঞ্চগড়ের প্রতিটি মানুষ যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।বক্তব্যের শেষদিকে সারজিস আলম বলেন, “এই নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তাদের নেতাকর্মীরা যদি কোনো অপরাধে জড়িত না থাকেন, তাহলে তাঁরা একসঙ্গে রাজনীতি করতে পারবেন।” (অংশটি অসম্পূর্ণ ছিল, প্রসঙ্গের ভিত্তিতে শেষ করা হয়েছে)।এনআই
জামায়াতের হামলায় বিএনপি নেতার চোখ নষ্ট হওয়ার খবরে মায়ের মৃত্যু
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে জখম হয়। আর ছেলের ওপর হামলার খবর শুনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা মাজেদা বেগম। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই মজিদের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার মা মাজেদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে—এমন খবর শোনার পরপরই তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের নেতাকর্মীরা। তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।আটক দুজনকে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে লাঠিসোঁটা হাতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় এবং আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। হামলার মধ্যে আটক থাকা বেলাল হোসেন ও ফারুক হোসেনকে উদ্ধার করে নিয়ে যান জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা।এ ঘটনায় মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ। তিনি বলেন, ‘মধ্যরাতে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। আমার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমার বাবার চোখে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।’সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলার খবর শুনে আমার দাদী মাজেদা বেগম ভয় ও আতঙ্কে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।’সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে হামলা চালায়। তারা বসতবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘ছেলের চোখ হারানোর খবর শুনে মা মাজেদা বেগম আর সহ্য করতে পারেননি। এই নির্মম হামলার দায় জামায়াতকে নিতে হবে।’ওই ঘটনার বিষয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বগুড়া-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে তিনি বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সোমবার রাতে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামে জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহ হেল গালিব প্রচারণা শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।তিনি আরও বলেন, একই দিন থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে দাঁড়িপাল্লার কর্মী ফারুক হোসেনকে মারধর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা আটকে রাখেন। পরে এলাকাবাসী উদ্ধার করতে গেলে আবার হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনে না। এসব অভিযোগ গুজব। তিনি সুন্দর ও মানবকল্যাণমূলক রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানান।এফএস
পুঠিয়ায় র্যাবের অভিযানে ৪০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
রাজশাহীর পুঠিয়ায় অভিযান চালিয়ে ৪০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব-৫। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে র্যাব-৫-এর সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, মঙ্গলবার ভোরে র্যাব-৫-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর পোল্লাপুকুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের ৪০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে চারটি রামদা, পাঁচটি হাসুয়া, পাঁচটি ছুরি, আঠারোটি কুঠারসদৃশ টাঙ্গি এবং দুটি হাতলযুক্ত হ্যামার। উদ্ধারের পর এসব আলামত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাধাগ্রস্ত করা কিংবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র মজুত করে রাখা হয়েছিল।র্যাব-৫-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাবের এমন বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এনআই
প্রতিবেশীর মুকুলভরা লিচু গাছের ডাল কেটে বিক্রির অভিযোগ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ব্যবসায়ীর মুকুলভরা লিচু বাগানের বড় তিনটি ডাল কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলাল হোসেন নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে ওই ব্যবসায়ীর প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৫টার দিকে ওই ব্যবসায়ী নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন।ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মেহেদী হাসান তারেক। তিনি উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা ও ‘মরিয়ম এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস’-এর স্বত্বাধিকারী। এ ঘটনায় তিনি ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।জানা গেছে, ব্যবসায়ী তারেকের এক বিঘা জমির ওপর প্রায় ৫০টি গাছ নিয়ে একটি লিচু বাগান রয়েছে। সেই বাগানের পাশেই মুরগির খামার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছেন প্রভাবশালী মুনসের মাস্টার ও তার ছেলে আলাল। জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে তারা বিভিন্ন সময় ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছিলেন। আজ মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ মুনসের মাস্টার ও আলাল হোসেন—তারেকের জমির লিচু গাছের ডাল তাদের খামারের ওপর ছড়িয়ে আছে বলে অভিযোগ তোলেন। এরপর মালিককে না জানিয়েই কামাল নামে স্থানীয় এক খড়ি ব্যবসায়ীর কাছে মুকুলভরা তিনটি বড় ডাল সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। বিষয়টি নজরে এলে তারেক প্রতিবাদ করলে তারা মারমুখী আচরণ শুরু করেন। ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনুমতি ছাড়া জোরপূর্বক মুরগির খামার স্থাপন করে খামারের সব বর্জ্য ওই লিচু বাগানে ফেলা হচ্ছে।মেহেদী হাসান তারেক বলেন, “প্রতিটি গাছের ডালে ডালে মুকুল এসেছে। যে তিনটি ডাল কাটা হয়েছে, তাতে প্রায় ১৫ হাজার লিচু ধরত; যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তারা প্রভাব খাটিয়ে অন্যায়ভাবে আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। আমি থানায় অভিযোগ দিচ্ছি।”ডাল কিনে নেওয়া খড়ি ব্যবসায়ী কামাল বলেন, “আলাল হোসেন ও তার বাবা মুনসের মাস্টার তাদের বাগান বলে আমার কাছে ডালগুলো বিক্রি করেছেন। আমি সেগুলো কিনে নিয়েছি। এখন শুনছি এটা অন্য মানুষের বাগান। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।”অভিযোগের বিষয়ে জানতে আলাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গাছের ডালগুলো আমার খামারের টিনের ওপর থাকায় পর্যাপ্ত রোদ আসত না এবং টিন নষ্ট হচ্ছিল। তাদের একাধিকবার বললেও তারা কোনো কর্ণপাত না করায় আমি নিজ উদ্যোগে ডাল কেটেছি। তবে বিক্রির বিষয়টি সত্য নয়।”এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই এবং কোনো লিখিত অভিযোগও পাইনি। ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এনআই
ভাঙ্গুড়ায় গণঅধিকার পরিষদের ১৫ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতিসহ ১৫ জন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। পাবনা–৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মাদ আলী আছগারের হাত ধরে নেতাকর্মীরা জামায়াতে যোগদান করেন। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।এর আগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ভাঙ্গুড়া উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও শীর্ষ তিন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের পর থেকেই তাদের জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে গুঞ্জন চলছিল।জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন- ভাঙ্গুড়া উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান খান দুলাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মাহমুদ, উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আতাউর রহমান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদসহ মোট ১৫ জন নেতাকর্মী।যোগদান অনুষ্ঠানে সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান খান দুলাল জানান, আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ও দেশ গঠনের লক্ষ্যে তারা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পরিবর্তনের রাজনীতির আশায় আমরা গণঅধিকার পরিষদে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির পর বুঝেছি, আমাদের সেই আশা ভুল ছিল। পরিচ্ছন্ন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা জামায়াতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. মহির উদ্দিন বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগদান করেছেন।’ইখা
নির্বাচিত হলে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াকে উন্নয়নের রোল মডেল বানাবো: জাকারিয়া পিন্টু
পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও পাবনা-৪ আসনের (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু বলেছেন, “এ নির্বাচনে যদি ভোটবিপ্লবের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে পারি, তবে ওয়াদা করছি ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াকে উন্নয়নের রোল মডেল বানিয়ে ফেলবো। এ দুটি উপজেলা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের দরবারেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।”সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাস টার্মিনালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুদ্দিন মালিথার সভাপতিত্বে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।জাকারিয়া পিন্টুর এমন বক্তব্যে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দলীয় স্লোগানে জনসভা মাতিয়ে তোলেন।বক্তব্যে জাকারিয়া পিন্টু বলেন, “ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আমার দুই চোখের মণির মতো। একটি কুচক্রী মহল আমার সব স্বপ্ন নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। দল যাকে ধানের শীষ দিয়েছে, বর্তমানে তার নেতাকর্মীরাই তার কাছে নিরাপদ নয়; তাহলে আমার প্রাণের ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার সাধারণ মানুষ তার কাছে কীভাবে নিরাপদ থাকবে?”ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে যে নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজমান, তাতে ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই। এই পরিবেশে মূল প্রতিযোগিতা হবে দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে; ধানের শীষকে আমি তেমন প্রতিযোগী মনে করছি না।” ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “১৯৯৬ সালে ধানের শীষে যে আগুন তিনি লাগিয়েছিলেন, তা ১২ ফেব্রুয়ারি মোটরসাইকেল প্রতীক নিভিয়ে দেবে, ইনশাআল্লাহ।”আয়োজিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন— উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মান্নান সরদার, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম কেনেডি মালিথা, পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তপন সরদার, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক ফজলুর রহমান এবং মোটরসাইকেল প্রতীকের নির্বাচনী কমিটিতে সদ্য যোগদানকারী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পাবনা জেলা সমন্বয়ক আতাউর রহমান ছবি।ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনির সঞ্চালনায় এই জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।এনআই
এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের নুর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রচার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুন নুর। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহ-সম্পাদক।শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বড়লেখার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।এর আগে ওইদিন রাত পর্যন্ত তিনি দলের জেলা নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান এবং ট্রাক প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন।সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজার-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে আব্দুন নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদের একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে তিনি দিন-রাত নির্বাচনি মাঠে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, এলাকার মানুষ পরিবর্তনের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন। এজন্য তিনি ভোটার ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, বড়লেখা ও জুড়ীর ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।আব্দুন নুর জানান, দলের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এ সময় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। আব্দুন নুর বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র দখলের ঘটনায় জড়িত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার নিজ এলাকার ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুন নুর।তিনি বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সে দায়ভার সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। তবে জীবনের পরোয়া না করেই মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি অতীতেও ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান তিনি। এফএস
সুনামগঞ্জে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি)উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা নির্বাচন অফিসার শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মতিন খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা, একই সাথে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।এই কর্মশালায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী আইন, বিধিনিষেধ এবং ভোটগ্রহণের টেকনিক্যাল বিষয় গুলো সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই পর্যায়ক্রমে এই ধরণের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ডাঃ ইলিয়াস মিয়া।পিএম
বিএনপির প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জ–১ (বাহুবল–নবীগঞ্জ)। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী, সদ্য দলে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থান এখনো শক্ত।প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।তবে এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ–১ আসন ঘিরে।নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী থাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট।পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে থাকলেও মাঠে অনেক কর্মীকে শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গেও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছে।স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাতই এখন ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ‘গলার কাঁটা’।প্রথমদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তিনি আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।অনেকের ধারণা, জামায়াতের কিছু ভোটও শেখ সুজাত মিয়ার ঝুলিতে যেতে পারে। সে কারণেই এই আসনে তাঁর অবস্থান বেশ শক্ত বলে মনে করছেন ভোটাররা।জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ সুজাত মিয়া। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে থেকে যান। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সংসদে যেতে চান শেখ সুজাত মিয়া।অন্যদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হওয়ায় এলাকাতেও রয়েছে পারিবারিক জনপ্রিয়তা। এ কারণে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।হবিগঞ্জ–১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।ইখা
হবিগঞ্জে ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিতনী বিল এলাকার হাওরে প্রায় ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানক্ষেতের একাংশে পড়ে আছে যুদ্ধবিমানটির কিছু অংশ।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের দিকে আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অনেকে ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। পরে ধোঁয়া সরে গেলেও প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানে আগুন জ্বলতে থাকে।বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুদিন পর নৌকায় করে অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় বিমানের ভেতরে থাকা একটি মিসাইল হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে শ্রীমতপুর গ্রামের সাজিদ মিয়া ও খালেক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আতঙ্কে কেউ বিমানের কাছে যাননি বলেও জানান স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, মাটির ওপর বিমানের সামান্য অংশ দৃশ্যমান হলেও এর বৃহৎ অংশ এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম সংরক্ষণ না থাকায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে।এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে ভয় পেতেন। এখনো ওই জমির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে।শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিমানটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করব। বিধি মোতাবেক স্মৃতি হিসেবে জাদুঘরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে উপজেলা প্রশাসন সে উদ্যোগ নেবে। পিএম
গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে শানাজ আহমদ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ সরকারি এমসি একাডেমির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শানাজ বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর রামপাশা গ্রামের মখন মিয়ার ছেলে। তিনি সিলেট নগরীর একটি পোল্ট্রি ফার্মের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সিলেট থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে এক বিয়ের দাওয়াত খেতে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে এসেছিলেন শানাজ। দাওয়াত খেয়ে অন্য একজনের মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে সরকারি এমসি একাডেমির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে ডিভাইডারের অপর প্রান্তে গিয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮২৮৬৯) চাকার নিচে তিনি পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে যান।গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এনআই
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
নির্বাচনে এগিয়ে ‘ক্ষমতার পুরোনো বলয়’ না জেন জি, স্পষ্ট করল মার্কিন গণমাধ্যম
আসছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জেন জি–নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই প্রথম জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন। ২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন তরুণদের শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনের অবসানকে অনেকেই স্বাগত জানান। আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র মির্জা শাকিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘এই বিপ্লব দেখিয়েছে জেন জি কী করতে পারে।’ তবে যাদের হাত ধরে এই পরিবর্তন এসেছে, নির্বাচনের মাঠে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।শেখ হাসিনা অনুপস্থিত থাকলেও ‘প্রথাগত ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বলয়’ আবারও সামনে চলে এসেছে। নির্বাচনে এগিয়ে আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ভোটের দৌড়ে সবাইকে ছাপিয়ে ফ্রন্টরানার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন দমন-পীড়নের শিকার ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও জোরালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।অন্যদিকে, ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে হিমশিম খাচ্ছে। নিরাপত্তা ও আসন নিশ্চিত করতে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে, যা অনেক আন্দোলনকারীকে হতাশ করেছে। শিক্ষার্থী নাজিফা জান্নাত বলেন, ‘সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তির স্বপ্ন দেখানো দলটি এমন একটি দলের সঙ্গে জোট করেছে, যারা একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি-এটা বিশ্বাসঘাতকতা।’এদিকে সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমালোচনার মুখে পড়েছে।তবুও অনেকের কাছে এই নির্বাচন এক দশকের বেশি সময় পর প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের আশা জাগাচ্ছে। সাবেক আন্দোলনকারী শাকিল বলেন, ‘এই নির্বাচন নতুন কিছু আনতে পারে। আমরা সেই প্রত্যাশাই অধীর হয়ে আছি।এফএস
ইরানে ইসলামী বিপ্লব দিবস কাল, মিছিল হবে দেড় হাজার শহরে
ইরানে হামলার জন্য ওঁৎ পেতে আছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নৌবহর। সীমান্তের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের রণপ্রস্তুতিকে পাত্তা না দিয়েই ইসলামি বিপ্লব দিবস পালন করতে যাচ্ছেন ইরানিরা।ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী ১ হাজার ৪ শতাধিক শহরে শোভাযাত্রা বা গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানগুলো প্রচার করতে দেশি ও বিদেশি ৭ হাজার ৭ শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে বার্ষিকী উদযাপন কমিটির এক সদস্য।ইসলামিক প্রোপাগেশন কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের অনুষ্ঠান ও প্রাদেশিক বিষয়ক উপ-প্রধান কামাল খোদাদাদেহ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রতি বছর সাধারণত ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া এই দেশব্যাপী শোভাযাত্রায় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।তিনি জানান, ‘এ বছর দুই শতাধিক সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানসহ আবাসিক বিদেশি সংবাদমাধ্যম এবং সব মিলিয়ে ৭ হাজার ৭শতাধিক দেশি ও আন্তর্জাতিক সংবাদকর্মী সারা দেশে ‘২২ বাহমান’-এর অনুষ্ঠানগুলো কভার করবেন।’খোদাদাদেহ আরও বলেন, ‘তাছাড়া, আইআরআইবির সব চ্যানেল, যার মধ্যে ৩৫০টিরও বেশি নিউজ টিম আছে, সব আন্তর্জাতিক সম্প্রচার নেটওয়ার্ক এবং সব প্রাদেশিক নেটওয়ার্ক অনুষ্ঠানের সরাসরি খবর ও দৃশ্য সম্প্রচার করবে।’তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রিয়ার ওআরএফ, তুরস্কের এনটিভি ও আনাদোলু এজেন্সি, আমেরিকার সিবিএস নিউজ, লেবাননের আল মায়াদিন ও আল মানার, ইরাকের আল শামস ও আল ইরাকিয়া, কাতারভিত্তিক আল জাজিরা, রাশিয়ার রিয়া নভোস্তি ও আরটি নিউজ, জার্মানির এপিএ ও জেডডিএফ, স্পেনের ইএফই এবং চীনের সিসিটিভি, সিনহুয়াসহ বিভিন্ন দেশের অসংখ্য রেডিও ও টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সংবাদ প্রচারের জন্য প্রস্তুত। তারা তেহরানের রাজপথ এবং আইকনিক আজাদি স্কয়ার থেকে সরাসরি শোভাযাত্রার খবর সংগ্রহ করবে।সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা দেশের প্রায় ২ হাজার ৪০০ শহীদ এবং প্রায় ৩ হাজার হতাহতের জন্য শোক পালন করছি। শত্রু পক্ষ আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে জনগণের সংহতি ভাঙতে চেয়েছিল, কারণ গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় দেশে অভূতপূর্ব ঐক্য ও পবিত্র সংহতি গড়ে উঠেছিল।’তিনি আরও বলেন, ইরানের অ্যারোস্পেস সেক্টর এবং কিছু সামরিক প্রতিষ্ঠান শোভাযাত্রার রুটে তাদের অর্জনগুলো প্রদর্শন করবে, যার মধ্যে কিছু প্রথমবারের মতো উন্মোচন করা হবে।ইসলামি বিপ্লব দিবসের শোভাযাত্রাগুলো ১৯৭৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনপুষ্ট পাহলভি একনায়কতন্ত্রের পতনের স্মরণে আয়োজন করা হয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শাহ-এর প্রস্থানের কয়েক সপ্তাহ পর, ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইমাম খোমেনি নির্বাসন থেকে ফিরে আসেন এবং জনগণের কাছ থেকে বিশাল সংবর্ধনা পান।অবশেষে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পাহলভি শাসনের পতন নিশ্চিত হয়, যখন সেনাবাহিনী শাহের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে এবং বিপ্লবীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে।এমআর-২
ট্রাম্পের প্রতি ভিডিও বার্তা দিয়ে ইরানি তরুণের ‘আত্মহত্যা’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর আত্মহত্যা করেছেন এক ইরানি তরুণ। ভিডিও বার্তায় ইরানের সরকারের সাথে চুক্তি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।১০ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে, ইরানি মিডিয়া ওই তরুণকে পুরিয়া হামিদি নামে শনাক্ত করেছে। ট্রাম্পের কাছে তার আবেদনের উদ্দেশ্য ছিল ইরানে বিক্ষোভের উপর মারাত্মক দমন-পীড়নের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদেশি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো। ইরানের বুশেহরের বাসিন্দা হামিদি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বলেছেন, ‘আপনি যখন এটি দেখছেন, তখন আমি আর আপনার আশপাশে নেই।’ ৫ ফেব্রুয়ারি তার ইউটিউব চ্যানেল ‘পোরওয়াই এক্স’-এ পোস্ট করা ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও বেশি এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের চেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছে, গণহত্যা করা হয়েছে। হামিদি তার ভিডিওটির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এটা আমার আত্মত্যাগ - দয়া করে, আমার দেশকে মুক্ত করো।’ইংরেজিতে রেকর্ড করা ভিডিওতে, হামিদি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে সম্বোধন করে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনামলের সাথে যেকোনো চুক্তি করা থেকে বিরত থাকতে বলেন। জানান, এটি হলে যারা বিক্ষোভে মারা গেছেন তাদের সকলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।‘তাই, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, এই চুক্তি বন্ধ করার জন্য আপনার যা কিছু সম্ভব করুন।’তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানীদের বলেছিলেন, ‘প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে, এবং আমরা তা করেছি, আমরা তার উপর আস্থা রেখেছি।’ কিন্তু হামিদি আরও বলেন যে, সশস্ত্র লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় এবং ইরানিরা বাইরের সমর্থন ছাড়া বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবে না।‘আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করাই এখন আমাদের একমাত্র আশা।’ হামিদি বলেন। কারণ আমরা একা এই বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারব না। আমাদের জনগণের বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।হামিদি ভিডিওটি তৈরির উদ্দেশ্য বর্ণনা করে তার জীবনের অর্থ তুলে ধরেন এবং বলেন যে, তিনি আশা করেন ইরানিরা একে অপরকে সমর্থন করবেন। রেকর্ডিং শেষ হওয়ার সাথে সাথে তিনি ফার্সি ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন, ‘আমরা ইরানের মানুষ একাকী এবং আমাদের কেউ নেই, তাই দয়া করে একে অপরকে সমর্থন করুন। ইরান দীর্ঘজীবী হোক। ইরান ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট অনুসারে। ইরানে সম্প্রতি ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। প্রথমে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সরকারের দমন-পীড়নে সহিংস হয়ে ওঠে। হাজার হাজার মানুষ নিহত হন বিক্ষোভে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর ইরান যখন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তখন হামিদির মৃত্যু ঘটল। সম্প্রতি পারমাণবিক আলোচনারও শুরু করেছে তেহরান- ওয়াশিংটন। সূত্র: এনডিটিভিএইচএ
এবার ভারত মহাসাগরে চীনগামী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘কোয়ারেন্টাইন’ (নিষেধাজ্ঞা) অমান্য করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন করায় এবার ভারত মহাসাগরে একটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাকুইলা ২ নামের এই জাহাজটি ভেনেজুয়েলা থেকে চীনের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ক্যারিবিয়ান সাগর থেকেই অ্যাকুইলা ২-কে অনুসরণ করছিল মার্কিন নৌবাহিনী।এক্সপোস্টে পিট হেগসেথ জানান, “যখন যুদ্ধ বিভাগ (যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারে বলে, তখন তা যথার্থভাবেই বলে। সোমবার ভারত মহাসগর অঞ্চলে রাতব্যাপী অভিযান চালিয়ে অ্যাকুইলা ২ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার জাহাজগুলোকে কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অ্যাকুইলা সেই নির্দেশ অমান্য করে এগিয়ে যাচ্ছিল। মার্কিন নৌবাহিনী অ্যাকুইলাকে অনুসরণ করে যাচ্ছিল এবং উপযুক্ত সময়ে অভিযান চালিয়ে সেটি জব্দ করা হয়েছে।”এক্সপোস্টে হেগেসেথ আরও জানান, “এই পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই, এমন কোনো জাতি নেই— যারা যে কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছের বাস্তবায়ন ঘটাতে পারে। আকাশপথ হোক, স্থলপথ হোক কিংবা জলপথ— আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী আপনাদের খুঁজে বের করবে এবং আপনার সঙ্গে ন্যায়বিচার করবে। আমাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার অনেক আগেই আপনার জ্বালানি ফুরিয়ে যাবে।”“যারা মার্কিন শক্তিকে তাচ্ছিল্য করে এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক অঞ্চলে নিজেদের অধিকারের অপব্যবহার করে, তাদের প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সবসময় নেতিবাচক।”এক প্রতিবেদনে এএফপি জানায়, অ্যাকুইলা ২ একটি সুয়েজম্যাক্স ট্যাংকার জাহাজ। সবচেয়ে বৃহৎ আকৃতির ট্যাংকার জাহাজগুলোকে সুয়েজম্যাক্স ট্যাংকার বলা হয়। এক একটি সুয়েজম্যাক্স ট্যাংকার এক চালানে ১০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করতে পারে।অ্যাকুইলা ২- এর মালিক ভেনেজুয়েলার সরকার। মার্কিন বাহিনী জাহাজটি জব্দ করার সময় সেটিতে ৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল।ভেনেজুয়েলা থেকে অ্যাকুইলা ২ এর নেতৃত্বে একটি জাহাজের বহর চীনের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। মার্কিন বাহিনী সেটি জব্দ করার পর বাকি জাহাজগুলো আবার ফিরতি পথে ভেনেজুয়েলার পথে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।এমআর-২
লেবাননে ভবন ধসে ১৪ জন নিহত
লেবাননের ত্রিপোলি শহরে পাশাপাশি দুটি আবাসিক ভবন ধসে গেছে। দুর্ঘটনার পর আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার অভিযান শেষে ১৪ জনের নিহতের খবর দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারেন। তবে ঠিক কতজন ভবন দুটিতে ছিলেন তা জানাতে পারেনি কেউ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) সিভিল ডিফেন্স প্রধানের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ইমাদ ক্রেইস জানান, উত্তরাঞ্চলীয় শহরটির বাব আল-তাব্বানেহ পাড়ায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং আটজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন।এর আগে রোববার কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ভবন ধসে পড়েছে।ত্রিপোলি পৌর কাউন্সিলের প্রধান আবদেল হামিদ কারামেহ জানান, কতজন নিখোঁজ আছেন সে সংখ্যা তিনি নিশ্চিত করতে পারছেন না। তবে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স উদ্ধার পরিষেবার প্রধান এর আগে জানিয়েছিলেন, ওই দুটি ভবনে মোট ২২ জন বাসিন্দা বসবাস করতেন।রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, লেবাননের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ত্রিপোলিতে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কিছু পুরনো আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। এসব ঘটনা মূলত জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং দীর্ঘ বছরের অবহেলার চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে।সূত্র: আরব নিউজ।এবি
মরার আগেই ‘মৃত্যুর ঘোষণাপত্র’ এপস্টেইনের
মরার একদিন আগেই ‘মৃত্যুর ঘোষণাপত্র’ তৈরি করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের। এমনটাই উঠে এসেছে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিপত্রে। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, ম্যানহাটানের তৎকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি জিওফ্রে এস বারম্যানের নামে এই বিবৃতির খসড়া ২০১৯ সালের ৯ আগস্টে প্রস্তুত করা হয়। অথচ এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ১০ আগস্ট। এনডিটিভি। খসড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, এপস্টেইনকে কারাকক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে মৃত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া উলেখ করা হয়েছিল-এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের আদালতে ন্যায়বিচার প্রভাবিত হতে পারে, তবে অন্যান্য তদন্ত যেমন : ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। নথিতে একাধিক সংস্করণে নাম, ফোন নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য ভিন্নভাবে গোপন করা হয়েছিল। প্রকাশিত নথি অনুসারে, এপস্টেইনকে তার কারাকক্ষে কমলা রঙের কোনো চাদর বা শার্ট দিয়ে ফাঁস দেওয়ার মাধ্যমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ হিসাবে ঘোষণা করা হলেও এ নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক ও বিশ্লেষণ চলছে। সিবিএসনিউজের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৯ আগস্ট রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে কারাগারের নজরদারি ক্যামেরায় একটি কমলা রঙের অবয়ব নড়াচড়া করতে দেখা গেছে, যা সম্ভবত একজন কয়েদি বা সংশোধনাগারের কর্মকর্তা হতে পারে। প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পরের ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১০ আগস্ট ভোর ৬টা ৪৯ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে স্ট্রেচারে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মৃত ঘোষণা করা হয়। কিছু ছবিতে তার নাম ভুলভাবে ‘জেফারি’ লেখা হয়েছিল। নিউইয়র্কের মেডিকেল পরীক্ষার ৮৯ পৃষ্ঠার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এপস্টেইনের থাইরয়েডের তরুণাস্থি ফেটে যাওয়ার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এই নথি ও ছবি প্রকাশের মাধ্যমে এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে আরও রহস্য এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।এবি
আগামী সপ্তাহেই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তার দল লেবার পার্টির সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। বিতর্কিত কূটনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া নিয়ে সৃষ্ট কেলেঙ্কারির কারণে এখন পদত্যাগের দ্বারপ্রান্তে স্টারমার।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশ করা এপস্টেইন ফাইলে নাম এসেছে ম্যান্ডেলসনের। কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এই কূটনীতিকের। তাকে নিয়ে সৃষ্ট কেলেঙ্কারির জেরে ইতোমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেছেন।ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টারমারের এখনো প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন থাকা নিয়ে খোদ তার দল লেবার পার্টির সংসদ সদস্যরাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ অনুমোদন করেছিলেন স্বয়ং স্টারমার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও তার পদত্যাগ চান। এজন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে তারা সরকারের সংশ্লিষ্টদের বলেছেন, নিজেদের পদত্যাগের হুমকি দিয়ে হলেও যেন তারা স্টারমারের পদত্যাগ নিশ্চিত করেন। এক মন্ত্রীর উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই স্টারমারের পদত্যাগের সম্ভাবনা এখন ‘ফিফটি-ফিফটি’।নিজের পদ ধরে রাখতে সরকারে তার সাবেক ডেপুটি অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিতে পারেন স্টারমার। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে একটি ফ্ল্যাট কেনার সময় স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ না করার অভিযোগে সৃষ্ট কেলেঙ্কারির জেরে রেইনার গত সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেন।এ ছাড়া জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রধান করার কথাও বিবেচনায় রয়েছে। এর আগে স্টারমার পদত্যাগ করলে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেইনার ও মিলিব্যান্ডের নাম আলোচনায় আসে।অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এবং তার ডেপুটি অ্যালিস্টেয়ার কার্নসের নামও উল্লেখ করেছে।স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ মানেই যে সঙ্গে সঙ্গে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা নয়। বরং লেবার পার্টি নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য দলীয় ভোট আয়োজন করতে পারে, যিনি সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেবেন। ২০২২ সালে কনজারভেটিভ পার্টি ঠিক এমনটিই করেছিল, যখন এক বছরের মধ্যে দু’বার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করা হয়েছিল।এবি
১০ বছরের মধ্যে চাঁদে শহর গড়তে চান মাস্ক
চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে শহর গড়ে তুলতে চায় স্পেসএক্স। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই সংস্থা জানিয়েছে, আগামী দশ বছরের মধ্যেই চাঁদের পৃষ্ঠে মানব বসতি তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখালেও আপাতত সেই পরিকল্পনাকে সাময়িকভাবে পিছিয়ে রেখে চাঁদকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে স্পেসএক্স।এক্স-এ করা এক পোস্টে মাস্ক বলেন, স্পেসএক্স এখন চাঁদে একটি স্বনির্ভর শহর তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এটি দশ বছরেরও কম সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব জানিয়ে তিনি যোগ করেন, গ্রহগুলোর অবস্থানের কারণে মঙ্গলে পৌঁছাতে উৎক্ষেপণের সুযোগ ২৬ মাস পরপর আসে। কিন্তু চাঁদের ক্ষেত্রে প্রায় প্রতি ১০ দিন পরেই উৎক্ষেপণ করা যায়। এই লজিস্টিক সুবিধাই কৌশলগত পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।তবে মঙ্গল অভিযানের স্বপ্ন পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। মাস্ক স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলা এখনও স্পেসএক্সের লক্ষ্য। তার মতে, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করা হতে পারে। যদিও অতীতে মঙ্গলযাত্রার সময়সীমা বারবার পরিবর্তন হওয়ায় সমালোচকদের একাংশ মাস্কের ঘোষণাকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছেন।স্পেসএক্স বর্তমানে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার অন্যতম প্রধান ঠিকাদার। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চন্দ্র অভিযানে জোর দেয়ার নীতির সঙ্গেও এই নতুন পরিকল্পনার মিল রয়েছে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে আবার নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যদিও প্রযুক্তিগত কারণে সময়সূচি কয়েকবার পিছিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেসএক্সের নির্মীয়মাণ চন্দ্রযানের ল্যান্ডার পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় আরও বিলম্বের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।চাঁদে পৌঁছনো ও সেখানে পরিকাঠামো তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রকল্প। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, সরকারি সংস্থাগুলোকে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হতে পারে, আর বেসরকারি যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিটি আসনের ব্যয় ১০০ মিলিয়ন থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনে নীল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে পা রাখেন—সেই ঐতিহাসিক অভিযানের খরচ আজকের মূল্যে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের সমান ধরা হয়। এই বিপুল ব্যয়ের পরও মাস্কের দাবি, চাঁদের নিকটবর্তী অবস্থান ভবিষ্যতে দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে কার্যকর মানব বসতি স্থাপনের পথ খুলে দিতে পারে।সূত্র: রয়টার্সএবি
দক্ষিণ কোরিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ উড়ানের সময় একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় একজন সেনাসদ্য ও এক প্রশিক্ষকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার কিছু পরে গ্যাপিয়ং জেলায় বিধ্বস্ত হয় সেটি।দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টারটি ভূমিতে আছড়ে পড়ে। এ সময় কপ্টারটিতে দু’জন চালক ছিলেন। বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাদের দু’জনকেই গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।উভয়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতিতে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইঞ্জিন বন্ধ না করে জরুরি অবতরণের প্রশিক্ষণ চলার সময় হেলিকপ্টারটিতে গোলযোগ দেখা দিয়েছিল এবং তার জেরেই সেটি আছড়ে পড়ে।দুর্ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বহরের সব এএইচ-১এস কোবরার যাবতীয় অপারেশন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী।এমআর-২
অস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের সফর ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ
অস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগের সফর ঘিরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। গত বছর দেশটির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ইহুদিদের একটি উৎসবে হামলার ঘটনায় এই সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যে দেশটিতে চারদিনের সফর করছেন তিনি। কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যাকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষ তার এই সফর ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।অস্ট্রেলিয়ার অনেকেই তার এই সফরে ক্ষুব্ধ। কারণ হার্জোগ গাজায় বহু বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত। দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফিলিস্তিনপন্থি গোষ্ঠীগুলো দেশজুড়ে বিক্ষোভের আয়োজন করেছে। সিডনিতে হাজার হাজার মানুষ শহরের কেন্দ্রীয় একটি চত্বরে জড়ো হয়ে বক্তৃতা শুনছিল এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিল।সিডনির ৩০ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী জ্যাকসন এলিয়ট জানান, বন্ডি গণহত্যা ভয়াবহ ছিল, কিন্তু আমাদের অস্ট্রেলিয়ান নেতৃত্বের কাছ থেকে ফিলিস্তিনি জনগণ এবং গাজার জনগণের প্রতি কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। হার্জোগ দখলদারিত্ব সম্পর্কে সব প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন এবং বলেছেন যে এই সফর অস্ট্রেলিয়া এবং ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে।তার এই সফর ঘিরে শহরজুড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে এবং কর্মকর্তারা ঘোড়ায় চড়ে টহল দিচ্ছিলেন। তার এই সফরের সময় সিডনিজুড়ে প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার কথা রয়েছে।এমআর-২
বিনোদন
সব দেখুন
সৌদি বিমানবন্দরে পূর্ণিমাকে দেখে তরুণের কাণ্ড
ওমরাহ পালন করতে কিছুদিন আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখানের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। গতকাল একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।ভিডিওটিতে দেখা যায়, সৌদিতে অবস্থানকালে বিমানবন্দরে এক যুবকের মুখোমুখি হন পূর্ণিমা।সেখানে কথা বলার এক পর্যায়ে ওই যুবক পূর্ণিমাকে উদ্দেশ্য করে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘চেহারা দেখে তো একদম পূর্ণিমা আপুর মতো লাগছে।’ সরাসরি নিজের প্রশংসা শুনে স্বভাবসুলভ হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানান এই অভিনেত্রী। মজার ছলে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমাকেও সবাই বলে, আমার চেহারা নাকি দেখতে পূর্ণিমার মতো লাগে।’তাদের এই কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আসার পর থেকেই অনুরাগী ও সাধারণ নেটিজেনরা বেশ উপভোগ করছেন।মন্তব্যের ঘরে কেউ কেউ বলছেন, চিরযৌবনা এই নায়িকার চেহারার উজ্জ্বলতা যেন সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে। ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখান থেকে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকাই সিনেমার অন্যতম এই শীর্ষ নায়িকা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন।বর্তমানে সিনেমার কাজ কমিয়ে দিলেও বিশেষ বিশেষ কাজ ও অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়।এইচএ
জহির রায়হানকে একুশে পদক উৎসর্গ করলেন ববিতা
গত ৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা। চলতি বছর এ তালিকায় সর্বমোট ৯ জন ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এরমধ্যে শোবিজেরই রয়েছে ৪ উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। অভিনয়ের জন্য এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন ববিতা। তিনি তার পদকটি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত নির্মাতা জহির রায়হানকে। সংবাদ মাধ্যমকে ববিতা বলেন, ‘অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আমার ভক্ত-দর্শকের প্রতি। তারা সব সময়ই আমার কাজে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, ভালো-মন্দের খোঁজ নিয়েছেন। তাদের অনুপ্রেরণাতেই আমি আজকের ববিতা। কৃতজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমের প্রতি। আমার অভিনয়জীবনের শুরু থেকে সংবাদমাধ্যম সব সময় আমার পাশে ছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় শহীদ জহির রায়হানের হাত ধরেই আমার অভিনয়ে আসা, চলচ্চিত্রে আসা, তাই আমার একুশে পদকটি তাকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করছি।’ ১৯৭৫ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ববিতা। এরপর ১৯৭৬ সালে ‘নয়নমণি’ সিনেমার জন্য এবং ১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ সিনেমার জন্য তিনি একই সম্মাননা লাভ করেন।এরপর ‘রামের সুমতি’,‘ হাছন রাজা’, ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ (শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে), ‘কে আপন কে পর’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে তিনি আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। এছাড়া সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রয়াত সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুও পাচ্ছেন একুশে পদক সম্মাননা। নৃত্যে বিশেষ অবদানের জন্য অর্থি আহমেদ পাচ্ছেন এবারের একুশে পদক। সংগীত দুনিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ওয়ারফেইজেরও নাম আছে চলতি বছরের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায়। এইচএ
শাকিব-বুবলীর ঘরে আসছে নতুন অতিথি
ফের বাবা-মা হতে যাচ্ছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেতা শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী। প্রথম সন্তানের জন্মের ৫ বছর পর ফের মাতৃত্বের পথে হাঁটছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই নায়িকা।গত বছরের শেষের দিকে ছেলেকে নিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ছুটি কাটান বুবলী। তখন তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কথা ওঠে। অনেকেই বলতে শুরু করেন শাকিব-বুবলী ফের এক হতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সম্প্রতি বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। এটা গুঞ্জন হিসেবে চলতে শুরু করার মাঝেই জানা গেল ঘটনার সত্যতা। শাকিব ও বুবলীর ঘরে শেহজাদ খান বীর নামে এক সন্তান রয়েছে। শাকিব খানের পরামর্শেই সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী।বুবলী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তাই ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিং করতে চাইছেন না বুবলী। প্রথম দফায় আদর আজাদের বিপরীতে ৪ দিন শুটিংয়ে অংশও নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ের জন্য শিডিউল দিচ্ছিলেন না। সন্তান জন্মের পর শারীরিকভাবে ফিট হয়ে বাকি অংশের শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে প্রযোজক-পরিচালককে জানিয়েছেন বুবলী।সিনেমাটির প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, সিনেমার প্রথম লটে ৪ দিনের শুটিং হয়েছে। দ্বিতীয় লটে রোজার মধ্যে শুটিং থাকলেও বুবলীকে ছাড়া বাকি কাজ শেষ করতে হবে। সন্তান জন্ম দিতে এই মাসেই তিনি আমেরিকায় যাচ্ছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জুনে শিডিউল দিলেও আমরা ধারণা করছি, তখন তিনি পুরোপুরি ফিট নাও হতে পারেন। তাই সেপ্টেম্বরের দিকে শুটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।জানা গেছে, এখন বুবলী শুটিং করছেন না ঝুঁকির কারণে। তবে আগামীকাল রাজধানীর একটি শপিং কমপ্লেক্সে হাজির হবেন বুবলী। একটি আউটলেট-এর ওপেনিং সেরেমনি হবে বুবলীর হাত ধরে। সেখানেই বুবলী জানাতে পারেন মা হতে যাওয়ার বিষয়টি।এদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, বুবলী সন্তান জন্ম দিতে এ মাসেই উড়াল দেবেন যুক্তরাষ্ট্রে। শেহজাদ খান বীরেরও জন্ম হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বুবলী। এ খবর ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে বুবলী নিজেই সামনে আনেন। তবে তার আগে নানা নাটকীতায় অংশ নেন তিনি। মা হওয়ার খবর কেন্দ্র করে সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত মা হওয়ার গুঞ্জনই সত্যি হয়েছিল। এবারও দেখানো পথেই হাটছেন বুবলী। বর্তমানে এই অভিনেত্রীর ‘পিনিক’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায়। সর্বশেষ তাকে ‘জংলি’ সিনেমায় দেখা গেছে।এইচএ
কেন বিয়ে করতে পারছেন না অভিনেত্রী সাফা?
সহকর্মীরা অনেকেই সংসারী হয়েছেন, কিন্তু সাফা কবির কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন? এই প্রশ্ন বারবার ধেয়ে আসে তার দিকে। তবে অভিনেত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, বিয়ে নিয়ে তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। বয়স বাড়ছে বা লোকে কী বলবে এসব ভেবে তিনি জীবনসঙ্গী বাছতে নারাজ।সাফা জানান, পরিবার থেকে তার ওপর কোনো চাপ নেই। বাবা-মা তাকে সবসময় পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার কথায়, “হুটহাট বিয়ে করে কিছুদিন পর ভেঙে যাওয়ার চেয়ে আস্থার সঙ্গে বিয়ে করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”কেমন পাত্র চান সাফা? উত্তরে অভিনেত্রী জানান, চেহারা বা বাহ্যিক সৌন্দর্য তার কাছে মুখ্য নয়। তিনি এমন একজন ‘ভালো মানুষ’ খুঁজছেন যিনি সৎ, স্বচ্ছ এবং যত্নশীল হবেন। যার সঙ্গে জীবনটা আরামে কাটানো যাবে, তেমন মানুষের খোঁজ পেলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।এসআর
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
সরাসরি-বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
আজ রাত ১২টা থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ থাকবে ৪ দিন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বন্ধ থাকবে ৪ দিন। বিকাশ, রকেট ও নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা (শুধু পিটুপি) পাঠানো যাবে।এছাড়া, দিনে সর্বোচ্চ ১০বার লেনদেন করা যাবে, যার মোট সীমা হবে ১০ হাজার টাকা।গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এ সীমা কার্যকর থাকবে। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সোমবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনে বিশেষ সীমা কার্যকর থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে পিয়ার-টু-পিয়ার (পি-টু-পি) লেনদেনে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চলবে। এছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে অন্যান্য সব ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এছাড়া নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি (ক্লোজ মনিটরিং) চালানো হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় পি-টু-পি ইন্টারনেট (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস ও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে বলে জানানো হয়।এইচএ
আবারও স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ২ হাজার ২১৬ টাকা
দাম কমানোর এক দফা পরই দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়নোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে, সবশেষ ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১০ দফা।স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।এইচএ
চট্টগ্রাম বন্দরের লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা
চট্টগ্রাম বন্দরের লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানে পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট কর্মসূচি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে বন্দর কর্মচারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে টানা ছয়দিন কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারিরা। এরপর শুক্র ও শনিবার স্থগিত ছিল কর্মসূচি। এরমধ্যে ১৫ কর্মচারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পর আবারও কর্মসূচিতে ফিরে আন্দোলনকারীরা। দুদিনের বিরতির পর গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবারও লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এদিন বন্ধ ছিল বহির্নোঙরের কার্যক্রমও। এতে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়ে।এবি
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
এবারের পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এমআর-২
এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
সরাসরি-বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
আজ রাত ১২টা থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ থাকবে ৪ দিন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বন্ধ থাকবে ৪ দিন। বিকাশ, রকেট ও নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা (শুধু পিটুপি) পাঠানো যাবে।এছাড়া, দিনে সর্বোচ্চ ১০বার লেনদেন করা যাবে, যার মোট সীমা হবে ১০ হাজার টাকা।গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এ সীমা কার্যকর থাকবে। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সোমবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনে বিশেষ সীমা কার্যকর থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে পিয়ার-টু-পিয়ার (পি-টু-পি) লেনদেনে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চলবে। এছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে অন্যান্য সব ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এছাড়া নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি (ক্লোজ মনিটরিং) চালানো হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় পি-টু-পি ইন্টারনেট (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস ও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে বলে জানানো হয়।এইচএ
আবারও স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ২ হাজার ২১৬ টাকা
দাম কমানোর এক দফা পরই দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়নোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে, সবশেষ ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১০ দফা।স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।এইচএ
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
পদত্যাগ করলেন ঢাবি ভিসি
হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিকাল ৩টায় ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনকে ‘বিশেষ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে জনসংযোগের তরফে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে।জানা গেছে, উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এটি অনুষ্ঠিত হবে। রেজিস্ট্রার অফিস সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এটি পূর্ব সিদ্ধান্ত নয়, হঠাৎ করেই জরুরি ভিত্তিতে সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে; যেখানে উপাচার্য নিজেই কথা বলবেন।এদিকে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে উপাচার্যের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে। এর আগেও উপাচার্যের বিদেশ সফরকে ঘিরে এই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। স্বভাবতই চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ক্যাম্পাস তথা শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল বাড়ছে।যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগের গুঞ্জন নিছকই ‘গুজব’। তবে নির্বাচনের দুদিন আগে ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ তার উপাচার্য থাকা কিংবা না থাকার বিষয়টি পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেবেন। সে হিসেবে ‘সরকার যদি তাকে চান তবে থাকবেন; না চাইলে থাকবেন না’- এমন বক্তব্যও আসতে পারে জুলাই পরবর্তী এই উপাচার্যের পক্ষ থেকে। তবে ঠিক উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন; সেটি তিনি নিজেই জানেন।এইচএ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’: বাকৃবিতে বিভক্ত মত, তর্ক-বিতর্কে মুখর ক্যাম্পাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কার–সংক্রান্ত চারটি প্রশ্নে মত দেবেন। এই গণভোটকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও চলছে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময়। শিক্ষার্থীদের একাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে সময়ের দাবি বলছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ পুরো প্রক্রিয়াটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চব্বিশের গণ-আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। গণভোটে চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধী দল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।বাকৃবির একাংশ শিক্ষার্থীর মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জনগণের মালিকানা ও ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. বেলাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ নির্যাতন ও ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটিয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই দুঃসময় ভাঙলেও প্রকৃত মুক্তি তখনই আসবে, যখন জনগণের অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত হবে। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সরকারি ক্ষমতা সীমিত হবে, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে।একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে পারিবারিক রাজনীতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার অবসানের পথে এগিয়ে যাওয়া। তার ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ—এই ধারণাকে শক্তিশালী করতেই তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।তবে শিক্ষার্থীদের সবাই যে গণভোটের পক্ষে, তা নয়। এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা নাবিলা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন। তার অভিযোগ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্নমত দিয়েছিল, সেগুলো উপেক্ষা করেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চারটি প্রশ্নকে একটি প্যাকেজে বেঁধে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করে। কারও একটি প্রশ্নে আপত্তি থাকলেও তা আলাদা করে জানানোর সুযোগ নেই—এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে করেন তিনি।অন্যদিকে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রেদোয়ান আহমেদ গণভোটকে ‘বৈপ্লবিক উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় মানে ক্ষমতার একচেটিয়া দখল ভেঙে সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। এতে রাষ্ট্র আরও দায়বদ্ধ হবে, বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়বে এবং সহিংস রাজনীতির অবসান ঘটবে—এমন প্রত্যাশা তার।একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. সালমান বলেন, চব্বিশের গণ-আন্দোলন হয়েছিল স্বৈরাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। সেই অর্জন টেকসই করতে হলে স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।সব মিলিয়ে গণভোটকে ঘিরে বাকৃবি ক্যাম্পাসে স্পষ্টভাবে দুই ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। কেউ একে রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটিকে অগণতান্ত্রিক বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন পথে দেশকে এগিয়ে নেবে—সেই অপেক্ষাতেই এখন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।ইখা
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে: হামিম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ সিদ্ধান্ত হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি ইসির এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে হামিম লিখেন, ‘ভোটকেন্দ্র সীমানার ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ সিদ্ধান্তটি সেই মিউজিয়ামে থাকা হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনের অনুমতি দিলে যারা নকল সিল বানিয়েছে ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে, সেই দলটির এ ধরনের কাজ সম্পাদন সহজে হবে না। যারা বিভিন্ন অনিয়ম করতে চায়, ওঁৎ পেতে আছে, তাদের কাজ কঠিন হবে বলেই কি এ ধরনের নিয়ম জারি? এ নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র টালবাহানা, কোন প্রকার প্রতারণা বা কালিমা লেপন আমরা ঐক্যবদ্ধ বংলাদেশীরা কিন্তু মেনে নেব না।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।এমআর-২
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা নব্য ফ্যাসিজম: সাদিক কায়েম
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হলো। কার ইশারায়, কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিলো?’পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। অর্থাৎ, ভোটকেন্দ্র এলাকায় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার কোনো তথ্য, ফুটেজ স্বয়ং ভুক্তভোগীর কাছেও থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের ওপর ভর করে এই নব্য ফ্যাসিজম জাতির ওপর কারা চাপিয়ে দিলো?’ডাকসু ভিপি বলেন, ‘কারা দেশের তরুণদের ভয় পায়? কারা নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে চায়? দেশের সর্বস্তরের তরুণ যুবকদের প্রতি আহ্বান-আসুন, আওয়াজ তুলুন। আপনাদের হাতেই জুলাই হয়েছে, আপনাদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব।’তিনি আরও লিখেন, ‘দেশের নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য কিংবা কোনো গোষ্ঠীর পারপাস সার্ভ করার জন্য ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়নাই, ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়েছে একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নতুন আইন জারি করেছে ইলেকশন কমিশন (ইসি)। প্রিসাইডিং অফিসারসহ তিন ধরনের ব্যক্তি ছাড়া কেউ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে যেতে পারবে না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম।নির্দেশনায় বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ (চারশত) গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার; ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার/ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য ব্যতীত কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।অধিকাংশ সাংবাদিক ফটো ও রেকর্ডিং কাজে ফোন ব্যবহার করে থাকেন ভোটগ্রহণের দিন। ফলে এসব সাংবাদিকেরা বিপাকে পড়বেন। ফোন ব্যবহারে এমন নির্দেশনা প্রথম জারি করল ইসি।এমআর-২
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন মামলার মুখে পড়েছে বিশ্বের ৩ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্ম ফেসবুক, গুগল ও টিকটক। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরি এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। এএফপির প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে আদালত এই মামলার জুরি নির্বাচন শুরু করবে। এই মামলাকে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসের একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।এই মামলার রায় ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে গেলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের আরও হাজারো মামলার ঢেউ উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতে মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। কম বয়সি শিশু, তরুণ ও তরুণীরা ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সেবা ও পণ্য ব্যবহার করে অবসাদ, খাবারে অনাসক্তি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি, আত্মহত্যাও করেছেন—এমন দাবি করেছেন বাদী পক্ষের হাজারো মানুষ। বাদী-পক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে তামাক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা আইনি কৌশল বেছে নিচ্ছেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিশ্বখ্যাত সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ পণ্য বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক নিয়োগের পর আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিচারপতি ক্যারোলিন কুল-এর আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সি এক মার্কিন নারী। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে শুধু নামের আদ্যাক্ষর ‘কে জি এম’ ব্যবহার করে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে তিনি ‘মানসিক ক্ষতির’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলা ও আদালতের অভিযোগ গ্রহণের নজির নেই। সোশাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বার্গম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবারই প্রথম কোনো সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের ক্ষতি করার অভিযোগে বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’ বার্গম্যানের আইনজীবীরা এ ধরনের প্রায় এক হাজার মামলার দায়িত্বে আছেন। আইনজীবীদের এই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে তরুণ-তরুণীদের ক্ষতি করার জন্য সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে। বার্গম্যান বলেন, ‘কে জি এম ও তার পরিবার যে একটি আদালতকক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ক্ষমতাবান ও বিত্তবান প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে পেরেছেন, এটাই একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এ ধরনের মামলাগুলো জেতা অনেক কঠিন এবং আগের, একই ধরনের ঘটনার নজির ও তথ্য-প্রমাণ টেনে বিজয়ী হওয়ার দায়ভার আমাদের ওপর বর্তেছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা কেজিএম-এর (মানসিক) ক্ষতি নিশ্চিত করে। এই দায়িত্ব আমরা খুশি মনেই কাঁধে নিয়েছি।’ এই বিচারের রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের সব মামলার রায়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে মত দেন বার্গম্যান। গত সপ্তাহে অপর সমাজমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট আদালতের বাইরে চুক্তি করে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর দাবি, মার্কিন যোগাযোগ নৈতিকতা আইনের ২৩০ ধারা তাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছেন, তা নিয়ে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেহাই দেয় এই ধারা। তবে মামলায় বিবাদীদের যুক্তি—সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে। পাশাপাশি সেখানে এমন সব কনটেন্টের প্রচারণা করা হয়, যা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। বার্গম্যান আরও বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকারক কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে না পারার জন্য মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছি না।’ তার ভাষায়, ‘তাদের দোষ, তারা এমনভাবে প্ল্যাটফর্মগুলো বানিয়েছে যা শিশুদের আসক্ত করে তোলে। তাদের এলগরিদম এমন যে শিশুরা কনটেন্ট থেকে চোখ সরাতে পারে না।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতেও একই ধরনের অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে উল্লেখিত তিন প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
কাইয়ুমের বিরুদ্ধে নাহিদের আবেদনের শুনানি নির্বাচনের পর: আপিল বিভাগ
দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আপিলের শুনানি নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বিএনপির দুই প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে আপিল বিভাগে করা লিভ টু আপিল শুনানি হবে নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য থাকলেও নট টুডে আদেশ দেওয়া হয়।বিএনপির দুই প্রার্থী হলেন— ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম ও বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কুমিল্লা-৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রিটটি করেন একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রিটে কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত চাওয়া হয়। রিট খারিজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, আপিল বিভাগে যাবেন নাহিদ ইসলাম। এদিকে এমএ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে রিপাবলিক অব ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ ও সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন তিনি। গত ১৯ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে যে আমি ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক এবং সেখানে আমার বাড়ি বা বিনিয়োগ রয়েছে। এসব তথ্য মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ। ভানুয়াতুতে আমি কখনো পা ফেলিনি এবং অন্য কোনো দেশের দ্বৈত নাগরিক হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষাও আমার কখনো ছিল না। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
দূর মরিশাস থেকেও নাড়ির টান: সাত মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্বে প্রবাসী আকাশ
হাজার মাইল দূরের মরিশাসের ব্যস্ত কর্মজীবনও তাকে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে ফাঁকে তার মন পড়ে থাকে দেশের সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের কথা ভেবে। সেই নাড়ির টান থেকেই ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রবাসী যুবক আকাশ মিয়া।নিজের উপার্জনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি নিয়মিত ব্যয় করছেন এসব এতিমখানার জন্য। প্রতিমাসে চাল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি তীব্র শীত থেকে শিশুদের রক্ষায় এবার পাঠিয়েছেন বিশেষ উপহার—নতুন কম্বল।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমখানায় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন কম্বল পৌঁছে দেওয়া হয়। কনকনে শীতের সকালে উষ্ণ কম্বল পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর আনন্দের হাসি।আকাশ মিয়া ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে মরিশাসের ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। প্রবাসে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছেন।আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের তাহফিজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ইমামুদ্দিন ও জাটিগ্রাম শাহ আরজানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মারুফ বিল্লাহ বলেন, “আকাশ মিয়া নিয়মিত আমাদের মাদ্রাসায় চালসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠান। ফলে এতিম শিশুদের খাদ্যসংকটের চিন্তা করতে হয় না। এবার শীতের সময় কম্বল পাঠিয়ে তিনি বাচ্চাদের প্রতি তার মমতার প্রমাণ দিয়েছেন।”কাশিয়ানীর পোনা মারকাযুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম ও খায়েরহাট ছায়াদাতিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামানও একই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে আকাশ মিয়া যেভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের সামর্থ্যবানরা এভাবে এগিয়ে এলে এতিমদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।”নিজের এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, “আমি প্রবাসে থাকলেও আমার এলাকার এতিম শিশুদের কথা সব সময় মনে পড়ে। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে তাদের পাশে থাকতে চাই। তাদের মুখে হাসি দেখলেই আমার সব কষ্ট ভুলে যাই। এটা কোনো দান নয়, এটা আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আকাশ মিয়ার মতো প্রবাসী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে দেশের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।ইখা
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে। এইচএ
