শাহজালালে প্রায় ৪ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রাসহ আটক ২
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রাসহ দুই জনকে আটক করা হয়েছে।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আটক দুই যাত্রীর নাম রফিকুল ইসলাম ও আল আমিন মোল্লা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে ব্যাংককগামী বাংলাদেশ বিমানের বিএস-২১৭ ফ্লাইটের রফিকুল ইসলাম নামের এক যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করে সুকৌশলে লুকায়িত অবস্থায় ২ কোটি ২০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪ লাখ ৫ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল, ২৪ হাজার ইউরো, ৩০ হাজার ৫০ পাউন্ড এবং ৭ হাজার ৮ শত ৪১ থাই বাথ ছিল। পৃথক ঘটনায় আল আমিন মোল্লা নামের আরেক যাত্রীর লাগেজে সুকৌশলে লুকায়িত অবস্থায় ১ কোটি ৫৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৭ টাকা মূল্যের বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে ৪ লাখ ৮৫ হাজার সৌদি রিয়াল এবং ২ হাজার ১১০ থাই বাথ। জব্দ করা এসব বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকায় মূল্য ৩ কোটি ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৭ টাকা। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) সারোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, আটকদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিমানবন্দর থানায় পৃথক দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এফএস
১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন শুক্রবার এ কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট পর্ব চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে দুই কোটি পরিবারকে মাসিক নগদ সহায়তার আওতায় আনা।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে চার মাসের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করবেন ১৪টি উপজেলায়। সেখানে অন্তত পাঁচ সদস্যের এই পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন।পাইলট প্রকল্প চলাকালে ৬,৫০০ পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় আসবে, যা ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে।তিনি আরো বলেন, যদি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এ কর্মসূচির মাসিক ব্যয় হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।এফএস
জাতীয়
সব দেখুন
১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন শুক্রবার এ কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট পর্ব চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে দুই কোটি পরিবারকে মাসিক নগদ সহায়তার আওতায় আনা।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে চার মাসের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করবেন ১৪টি উপজেলায়। সেখানে অন্তত পাঁচ সদস্যের এই পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন।পাইলট প্রকল্প চলাকালে ৬,৫০০ পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় আসবে, যা ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে।তিনি আরো বলেন, যদি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এ কর্মসূচির মাসিক ব্যয় হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।এফএস
অনুমতি ছাড়া শিক্ষকরা অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষক অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর-১ আসনের কচুয়া উপজেলায় নিজ নির্বাচনি এলাকায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পেয়েছেন। এহছানুল হক বলেন, শিক্ষকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের পুরো সময় ও মনোযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে দিতে হবে।সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে কেউ যদি অন্য পেশায় সম্পৃক্ত হন, তবে তা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে গণমাধ্যম তা প্রকাশ করতে পারে।এফএস
জনগণের কল্যাণে কাজ করছে বিএনপি সরকার, আস্থা রাখুন: প্রতিমন্ত্রী টুকু
সরকারের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশ পরিচালনায় আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপি সরকারের প্রতি আপনারা আস্থা রাখুন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব-এর ভিআইপি মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের পরিচিতি সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদার ভূমিকা পালন করছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করতে পারবেন। তিনি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গতকাল যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে বিএনপি সরকার, যা তাদের অর্থনৈতিক স্বস্তি দেবে।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে টুকু জানান, জনগণের কল্যাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের সার, কীটনাশক, ওষুধ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজমুক্ত, কিশোর গ্যাংমুক্ত ও মাদকমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রশাসন কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে আমরা সহায়তা চাই। এমন কোনো সংবাদ পরিবেশন না করার আহ্বান জানাই, যাতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।আতাউর রহমান আজাদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন।বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি খান মোহাম্মদ খালেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা। নব নির্বাচিত কমিটির কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি জাফর আহমেদ। এ সময় সাংবাদিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এফএস
গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে : তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকসহ সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করা হবে। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল সার্কিট হাউসে বিআরটিএ-এর ট্রাস্টি বোর্ড কতৃক বরিশাল ও পিরোজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক রূপ দিতে চাই। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক ইকোসিস্টেমে নতুন ধরনের গণমাধ্যমের সঙ্গে আমরা এখনও পুরোপুরি যুক্ত হতে পারিনি। তথ্য মন্ত্রণালয় যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যমের এই বিস্তার ছিল না। এখন যে ডিজিটাল মাধ্যমের প্রসার তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো প্রয়োজন। যা এতোদিনে পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে ধীরে ধীরে জনগণের কাছে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করবো।এর আগে, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিআরটিএ-এর ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী। এ সময় ৬১ জন ক্ষতিগ্রস্তকে মোট ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।এইচএ
ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনে ১০ মার্চ বগুড়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১৪ উপজেলায় একটি করে ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড চালু করছে সরকার। আর এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করতে আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় যাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি কার্ডে আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে গঠিত কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপরপ্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সারাদেশের ১৪টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে এই কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।এ ছাড়াও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে সরকার ১৪টি ইউনিয়নের ১৪টি ওয়ার্ডকে বাছাই করেছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ মার্চ এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হবে। পরে প্রতিটি উপজেলাকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই ফ্যামিল কার্ড হবে সার্বজনীন।এইচএ
প্রধানমন্ত্রী তার প্ল্যান বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তিনি তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন এবং ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও’র মতো প্রতিটি বিষয় বিস্তারিত দেখছেন এবং সেভাবেই কাজ আদায় করছেন। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর এই প্রথম নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরে যান তিনি। উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় দশকের অধিক সময় বাংলাদেশের জনপ্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। এতে জনপ্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, দক্ষতা হারিয়েছে। দেশের সর্বস্তরেই প্রায় ধস নেমেছে। প্রশাসনও সেটা থেকে মুক্ত নয়। প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অনুযায়ী আমরা একটা দক্ষ, নিরপেক্ষ, মেধাভিত্তিক প্রশাসন দেশের জনগণকে উপহার দেবো। তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে, প্রশাসক হিসেবে নয়। সবাই মিলে বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে পরিণত করবেন বলেও মন্তব্য তার। তিনি আরও বলেন, বিএনপি-ধানের শীষের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক আছে। সবার আগে বাংলাদেশ এটি হচ্ছে আমাদের মূল পরিচয়, মূল বক্তব্য। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ছিল একরকম, নির্বাচনের পরে পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব এসে পড়েছে। যে কথাগুলো বলে আমরা জনগণের কাছে গিয়েছি, ভোট চেয়েছি, জনগণ অকৃপণভাবে আমাদের ভোট দিয়েছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি বিজয় অর্জন করেছে। এই বিজয়ের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা অনেক। সেগুলো মনে রেখে আগামী দিনগুলোতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার শেষে উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান ও পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে উপদেষ্টাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।এইচএ
ফের ভূমিকম্প অনুভূত
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানীসহ সারাদেশ। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। জুমার নামাজের পরপরই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক স্থানে সাধারণ মানুষ বাসাবাড়ি ও বহুতল ভবন থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনা জেলা শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কিছু এলাকাতেও (যেমন বারাসাত) এই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গত কয়েকদিনে মিয়ানমার ও ভারতে কয়েকদফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চল।ইখা
মিরপুরে মেট্রো স্টেশনের পাশের ভবনে আগুন
রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় মেট্রো স্টেশনের পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন সংবাদমাধ্যমকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে শেওড়াপাড়ার ওই নির্মাণাধীন ভবনটিতে আগুন লাগার জরুরি খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পরপরই আগুন নেভাতে এবং জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো সেখানে পৌঁছানোর আগেই ভবন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। ফলে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি।এইচএ
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন বাদশা
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন বগুড়া-৬ থেকে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রেজাউল করিম বাদশাকে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এই তথ্য জানান।তিনি ফেসবুক পোস্ট করে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাইকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হলো।গুঞ্জন ছিল এই আসন থেকে জিয়া পরিবারের কেউ উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত হয় জিয়া পরিবারের কেউ এখান থেকে নির্বাচন করছেন না।গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এমআর-২
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন বাদশা
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন বগুড়া-৬ থেকে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রেজাউল করিম বাদশাকে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এই তথ্য জানান।তিনি ফেসবুক পোস্ট করে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাইকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হলো।গুঞ্জন ছিল এই আসন থেকে জিয়া পরিবারের কেউ উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত হয় জিয়া পরিবারের কেউ এখান থেকে নির্বাচন করছেন না।গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এমআর-২
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় শামীমা আক্তার রুবী
সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে কারা মনোনয়ন পাবেন-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত আসন বণ্টনকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।গেজেট অনুযায়ী, ৩৫ সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি জোট এবং ১৩টি জামায়াত জোট পেতে পারে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে। অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ইসিতে পাঠাবে। এরপর তফশিল ঘোষণা করা হবে।ইসি সূত্র জানায়, সংসদ সচিবালয় তালিকা পাঠালেই তফশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হবে এবং পরিকল্পনা রয়েছে ঈদের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দলটি। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ও তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে। দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই মূল সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একাধিক নারী নেতৃত্ব। তারমধ্যে অন্যতম কেন্দ্রীয় মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার রুবী। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসন আমলের পুরোটা সময় জুড়ে ছিলেন রাজপথে। দেশের বাইরে যেখানেই ফ্যাস্টিস হাসিনার আগমন সেখানেই ছিলো প্রবাসী নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ। আর এই প্রতিরোধের অগ্রভাগে ছিলেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী শামীমা আক্তার রুবী। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৭ বছরের শাসন আমলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি, দুর্নীতি দুঃশাসন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা, বাংলাদেশের সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার উপর মিথ্যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মূলক মামলা ও প্রহসন মুলক রায়ে কারাবন্দির প্রতিবাদ, দলের চেয়ারম্যানে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা রাজনৈতিক হয়রানি মামলারা সাজর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামীমা আক্তার রুবী ছুটে গেছেন ইউরোপ, জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট, ইউরোপিয়ান কমিশন, ইউরোপিয়ান প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন জেনেভাতে নানা কর্মসূচি বিক্ষোভ প্রতিবাদ, মিটিং মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, এম্বাসির ঘেরাও কর্মসূচি, স্মারকলিপির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছি তিনি। গ্রেফতার আতঙ্কের মধ্যেও ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে এসে অংশগ্রহণ করেন জুলাই আন্দোলনে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ি আন্দোলনে রাজপথের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর বাংলাদেশের রাজপথে যেমন সক্রিয় ছিলেন তেমনিভাবে বহির্বিশ্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপ আমেরিকা সহ ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট, ইউরোপীয়ান কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, আন্তর্জাতিক আদালত, জাতিসংঘসহ যেখানে হাছিনা সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তাঁর প্রতিটি মিটিং মিছিলে থেকে রাজনীতি করেছেন। মহিলা দলের পক্ষে থেকে বহুবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্টেজে বক্তব্য রেখেছেন। ঢাকা -১৭ এবং কুমিল্লা -৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহ সমন্বয়ক, ও প্রচার প্রচারণা ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিকভাবে দক্ষ ও সাংগঠনিকভাবে যথেষ্ট সুপরিচিত। বিগত স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন যেমনি ছিলেন রাজপথে তেমনি ছিলেন দুঃসাহসিক লেখক পত্রিকায় সম্পাদকীয় কলাম লেখালেখি করতেন। বেগম জিয়ার নামে মুক্তি চাই শিরোনামে একটি গান লিখেছেন যা মিডিয়া সেলে প্রচারিত হয়েছে ইথুন বাবুর সুরে মৌসুমি ও পরানের কণ্ঠে তারুণ্যের সমাবেশে প্রচারিত হয়েছে যা সারা বাংলাদেশের জনতার স্রোতে জনতার হৃদয়ে স্থান পেয়েছে।ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত শামীমা আক্তার রুবী। ১৯৯০ এরশাদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসী আদর্শকে লালন করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে ইমন আদি ও হাবীব পরিষদে ছাত্রদলের প্যানেলে ব্যালট ও মাইলা সম্পাদিকা পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।১৯৯৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটে পিজিডিতে অধ্যয়নরত অবস্থার ছাত্র রাজনীতি সক্রিয় থাকেন তিনি। ২০০১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে গমন করেন। ফ্রান্স বিএনপির সাথে একত্রে কাজ করেন, এবং বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ফ্রান্স শাখার সহ সভাপতি পদে আছেন রুবী।২০০৫-২০০৯ সালে জাপানে অবস্থান করেন এবং সেখানে গিয়ে দলের জন্য কাজ করেন। ২৫শে এপ্রিল ২০১৬ তে 'জাতীয়তাবাদী নাগরিক মুক্তি পরিষদ" নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন যা ফ্রান্সের সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন তিনি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বাংলাদেশের সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম খুন হত্যা ধর্ষণ সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির লক্ষ্য কাজ করে জাতীয়তাবাদী নাগরিক মুক্তি পরিষদ। আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি শামীমা আক্তার রুবী বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন একাধিক সামাজিক পুরস্কারএক প্রতিক্রিয়ায় শামীমা আক্তার রুবী বলেন, সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপি হলে দেশের জন্য দেশের নারীদের জন্য আমার স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে-১️. নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন•গ্রামে গ্রামে নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা।•বেকার তরুণী ও স্বল্পশিক্ষিত নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন (আইটি, হস্তশিল্প, কৃষিভিত্তিক কাজ)।•স্থানীয় বাজারে নারীদের পণ্যের জন্য আলাদা কর্নার/ই-কমার্স সংযোগ।২️ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন•স্কুলছুট মেয়েদের পুনরায় শিক্ষায় ফেরানো।•ডিজিটাল শিক্ষা ও ফ্রি কোচিং সাপোর্ট।•উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের স্কলারশিপের ব্যবস্থা বাড়ানো।৩️ নারী ও শিশুর নিরাপত্তা•বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর মনিটরিং।•থানায় ও প্রশাসনে নারী সহায়তা ডেস্ক সক্রিয়করণ।•সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও আইনি সহায়তা সেল গঠন।৪️ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন•মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা জোরদার।•গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নারী চিকিৎসক নিশ্চিতের উদ্যোগ।•মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য করা।৫️ নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা•সংসদে নারীর অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে সোচ্চার থাকা।•এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা।•জনগণের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভা।সংরক্ষিত আসন শুধু একটি পদ নয়—এটি নারীদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করার একটি দায়িত্ব।আমি চাই, আমার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে যে সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরাও উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারেন।পিএম
গোপন বিষয় প্রকাশ করে শপথ ভেঙেছেন রাষ্ট্রপতি: জামায়াত
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রের গোপন বিষয়ের মতো আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি তার এই সাক্ষাৎকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার বক্তব্য জাতির সামনে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। সংবিধান, রাষ্ট্রীয় শপথ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে তিনি জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে থেকে এমন বক্তব্য প্রদান করে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, যা রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমর্যাদার সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাংবিধানিক শালীনতা বজায় রাখা প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সংযত ও পরিমিত বক্তব্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বক্তব্য প্রদান করতে হবে এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও সতর্ক থাকতে হবে।এমআর-২
প্রধানমন্ত্রীকে স্বপরিবারে ইফতারের দাওয়াত জামায়াতে ইসলামীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতার অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। আন্তরিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দাওয়াতপত্র নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করে জামায়াতের প্রতিনিধি দল।সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য এ সাক্ষাতে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মুঠোফোনে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির সব বিতর্কের জায়গা যেন সংসদ হয়। এর সমর্থন জানিয়ে জামায়াত নেতারা বলেন, রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হতেই পারে। তবে অতীতের মতো রাজনীতিতে খারাপ চর্চা যেন না হয়। সরকারকে মূল্যায়নের সময় এখন হয়নি। জাতি অপেক্ষা করছে ভালো কিছুর জন্য। বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় ও সহংহিতর মধ্য দিয়ে দেশটিকে এগিয়ে নেয়ার আশা প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি।এমআর-২
অনুদানের অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা তাসনিম জারার
নির্বাচনী তহবিলে অনুদানের অর্থ ফেরত দেওয়া ঘোষণা দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তাসনিম জারা।ফেসবুকে তাসনিম জারা লিছেন, ‘আমাদের নির্বাচনী তহবিলে যে আপনারা অনুদান দিয়েছিলেন, তার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে যারা প্রদত্ত অনুদান ফেরত পেতে চান, তারা দয়া করে নিঃসংকোচে এই ফর্মটি পূরণ করে অর্থ ফেরত নিন।আপনি ব্যাংকে অনুদান দিয়ে থাকলে, এই ফর্মটি পূরণ করুন: https://forms.gle/9a3H74yrLFFeJoFw8’তাসনিম জারা আরো লেখেন, ‘যারা সরাসরি ব্যাংকে ক্যাশ জমা দিয়েছিলেন, তারা ডিপোজিট স্লিপ হারিয়ে গেলে বা না থাকলেও আবেদন করুন। সেক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। বিকাশে অনুদান দিয়ে থাকলে, এই ফর্মটি পূরণ করুন : https://forms.gle/NKTkkNVZvUvyrsGYA’ফেসবুকে তাসনিম জারা লেখেন, ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ : ১০ মার্চ, ২০২৬। আপনাদের আস্থা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা।এইচএ
হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী শেওড়াপাড়া এলাকায় কাফরুল পশ্চিম থানার উদ্যোগে আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা জানান, আজকের ইফতার মাহফিলে জামায়াত আমিরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি যাত্রাও করেছিলেন। হঠাৎ যাত্রাপথে তিনি বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যান। যার কারণে তিনি প্রোগ্রামস্থলে আসতে পারেননি। সবাই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন জানান, আমরা জামায়াত আমিরের জন্য দোয়া করি—আল্লাহ যেন ওনাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন। জাতি আশা করেছিল তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। যে কোনো কারণে তিনি হেরে গিয়ে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন। ইনশাআল্লাহ তিনি প্রমাণ করবেন বিরোধীদলীয় নেতার আদর্শ কেমন হওয়া উচিত।এমআর-২
রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য জামায়াত আমিরের
সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৫টা ৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে ওই মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে জামায়াত আমির লিখেন, ‘৫ আগস্ট ২০২৪ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছুই চেপে গেছেন। কথিত পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে উনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যা বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে জাতিকে যা জানিয়েছিলেন, তার বর্তমান বক্তব্যে তিনি তা স্বীকার করেননি। আর এখন যা বলছেন, সেদিন তার কিছুই তিনি বলেননি। কোটি-কোটি মানুষ যা শুনলো এবং সেদিন তিনি যা বললেন আর এখন যা বলছেন তার হিসেব রাষ্ট্রপতি মিলিয়ে দেবেন কি?’তিনি আরও বলেন, জাতি অবুঝ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এ রকম আচরণ অগ্রহণযোগ্য।সম্প্রতি বাংলাদেশের দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কিছু ক্ষোভও প্রকাশ করেন।তিনি বলেছেন, তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তবে বিএনপি ও সামরিক বাহিনী সমর্থন না দেওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি।এমআর-২
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিচয় পেয়েও সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করার সময় বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর লাঠিচার্জ করে একদল পুলিশ সদস্য। বারবার নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ।জনগুরুত্বপূর্ণ এই অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভ করছিলেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইভ চলাকালীন কোনো উসকানি ছাড়াই একদল পুলিশ সদস্য এসে তোফায়েলকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পুলিশ। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং একের পর এক লাঠির আঘাত করা হয়।ঘটনাস্থলে উপস্থিত আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসের আহম্মেদ রিপন বলেন, ‘পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তোফায়েলকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এতটাই মারমুখী ছিলেন যে, তারা আমাদেরও লাঠিপেটা করে।’পুলিশের পিটুনিতে গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।মাথায় ও পিঠে আঘাতের ফলে তার রক্তক্ষরণ হয়। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের (লাঠি) আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অপেশাদার আচরণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে সংবাদকর্মীদের ওপর এমন হামলাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘যেহেতু ভিডিও ফুটেজ আছে, তাই ভিডিও দেখে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন আক্রমণ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল। তারা অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।অপরাধ দমনের নামে পুলিশের এমন ‘বেপরোয়া’ আচরণ খোদ বাহিনীর ইমেজকে সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয়। তাছাড়া অতি উৎসাহী এসব পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।এবি
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
রাজধানীর হাজারীবাগে একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- শেখ রোমান (৩৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২) ও তাদের ছেলে রুহান (৩), ও রোমানের শ্যালক অপু (২৩)। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়েছে।দগ্ধ রুমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তিনি একটি রিয়েল এস্টেট কম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকেন। দগ্ধ রোমানের ভাই মামুন বলেন, পূর্ব রায়েরবাজারের একটি ৬ তলা ভবনের নিচতলায় ভোর ৪টার দিকে রান্না করতে গ্যাসের চুলা জ্বালালে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে র্তি করা হয়।বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, দগ্ধ ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে শেখ রোমানের শরীরের ৭০ শতাংশ, পিংকি আক্তারের ৭৫ শতাংশ, রুহানের শরীরের ৩৫ ও অপুর শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।এমআর-২
মার্কেট বন্ধ করা সেই চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার করে মাইকিং করল পুলিশ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মার্কেট বন্ধ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এক চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়েই এলাকায় মাইকিং করা হয়। পুলিশ জানায়, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না।এফএস
রাজধানীতে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ জনের
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মীর হাজারীবাগের গুন্ডিগড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহতদের একজন আজিজুল ইসলাম (৪৫)। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু জানান, মীর হাজারীবাগ গুন্ডিগড় এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার একটি সংবাদ পেয়েছি। একটি লেগুন যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় বাহাদুরশাহ পরিবহনের একটি বাস সামনে থেকে লেগুনাটিকে সজরে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাহাদুরশাহ পরিবহন জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে।এমআর-২
আদাবরে চাঁদা না পেয়ে কারখানায় সশস্ত্র হামলা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার পর এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন। পরে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন, মারুফ ও হাসান।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আদাবরের ১৭ নম্বর রোডে এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেড় শতাধিক লোক হামলার বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন।স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় আবির এমব্রয়ডারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের কারখানায় আকস্মিকভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা হামলা চালায়। এ সময় ওই কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের ভাতিজা মারুফ হাসান সুমন। তিনি জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেল নামের স্থানীয় এক কিশোর গ্যাং সদস্য তার চাচার কাছে ঈদ উপলক্ষ্যে চাঁদা দাবি করে। তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় সন্ধ্যায় রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের কারখানায় হামলা চালায়। এ সময় কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলছেন, আদাবরের কিশোর গ্যাং লিডার রাসেল ওরফে কালা রাসেলের নেতৃত্বেই আজকের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা মূলত আদাবরের আরেক কিশোর গ্যাং লিডার রানার অনুসারী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করে থাকে। এই রানা আদাবর ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদার দাবিতে হামলা চালায়। তবে জীবননাশের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাসিন্দারা এসব তথ্য জানান।এদিকে, এই ঘটনার বিচারের দাবিতে রাত সাড়ে ১০টায় আদাবর থানা ঘেরাও করেন এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের আদাবর থানার সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদাবর থানার সামনে আজ শতাধিক লোক জড়ো হয়েছিল। আবির এমব্রয়ডারি কারখানায় একটি ঘটনা ঘটার প্রেক্ষিতে তারা থানার সামনে অবস্থান নেয়। গতকাল ওই কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তিনি আরও জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেলের আদাবর ১৬ নম্বরের বাসায় শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ঘেরাও করলে পুলিশ তার বাবাকে হেফাজতে নেয়। এরপর সেখান থেকে শ্রমিকরা বিচারের দাবিতে থানার সামনে জড়ো হয়। আদিব এমব্রয়ডারির মালিক জহির ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।এবি
চুয়াডাঙ্গায় পিতার ওপর পুত্রের হামলা, আহত ৭
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় জমিজমা সংক্রান্ত জেরে পিতা-পুত্রের পারিবারিক দ্বন্দ্ব রূপ নেয় খুনোখুনির মতো সংঘর্ষে। এ সংঘর্ষে পিতা নুর ইসলাম (৬৫) ও তার ছেলে সাইদুর রহমান (৩৩) সহ সাতজন আহত হয়েছেন। এসময় ঘরবাড়ি ও তিনটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর হয়।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত সংলগ্ন চাকুলিয়া গ্রামে এঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরেই পিতা-পুত্রের মধ্যে তর্কের উত্তেজনা চরমে পৌছায়। অভিযোগ রয়েছে, সাইদুর রহমানের শ্বশুরকূলের লোকজন মোটরসাইকেলে করে সাত-আটজনকে নিয়ে গ্রামে ঢুকে পিতা নুর ইসলামের ওপর চড়াও হয়। এ ঘটনায় পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা হামলাকারীদের ধাওয়া করে আটক করে গণপিটুনি দেয়। হামলার সময় তিনটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর চারজনকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়। দরজা-জানালা ভেঙে যাওয়ায় নারী ও শিশু সহ গ্রামবাসীর মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শনা থানার উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, পিতা-পুত্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের কলহ এবং বাকবিতণ্ডার জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পরে ছেলের শ্বশুরপক্ষের লোকজন এসে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা জানান, বিষয়টি আমি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। উভয় পক্ষের কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এফএস
নরসিংদীর ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।বিক্ষোভ চলাকালে ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাত আব্দুল্লাহ বলেন, ধর্ষণের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের বারবার রাজপথে নামতে হচ্ছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।আরেক শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা বাঁধন স্পর্শ নরসিংদীর ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ধর্ষণ ও নারী হত্যার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।সমাবেশে বক্তারা গণমাধ্যমের প্রতিও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তুলে ধরার দাবি করেন।ইখা
কালীগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রাম থেকে নিখোঁজের একদিন পর তাবাসসুম নামের সাড়ে ৪ বছরের এক কন্যা শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশু তাবাসসুম মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে।স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির পরিবার বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া থাকেন। পিতা নজরুল হোসেন স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী ও মাতা হালিমা খাতুন ওয়েব ফাউন্ডেশনে চাকুরী করেন।পরিবারের সদস্যরা জানায়, বুধবার বিকাল আড়াইটার পর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিলো। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি করেও তার সন্ধান পায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে বাদুড়গাছা গ্রামের এক কৃষক আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছন দিক দিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় একটি রক্তমাখা বস্তা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে বস্তা খুলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, শিশুটিকে হত্যা করে বস্তায় ভরে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা দ্রুত এই হত্যার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে।এসআর
মেহেরপুরে ২৪টি পরিবারের মাছ ধরার জাল পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা
রাতের আঁধারে ২৪টি পরিবারের স্বপ্ন ও আয়ের উৎস পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ ধরার জাল আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।ঘটনাটি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের মটমুড়া ক্লাব বাজার এলাকায় ঘটে।ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা ২৪টি পরিবার একসঙ্গে মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমাদের সংসার এই জালের ওপর নির্ভরশীল। অথচ কারা যেন রাতের আঁধারে আমাদের জালগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমরা কী খাবো, কীভাবে আয় করবো? নতুন করে জাল কিনতে বর্তমানে প্রায় চার লাখ টাকা লাগবে। যদি আমাদের ওপর কারও এত রাগ থাকতো, তাহলে আমাদের গায়ে আঘাত করলেও সহ্য করতে পারতাম। কিন্তু এত বড় ক্ষতি কীভাবে সামাল দেবো?”আরেক মাছ ব্যবসায়ী মহিবুল হোসেন বলেন, “আমরা ঋণ নিয়ে দুটি জাল কিনে মাছের ব্যবসা করি। কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি ২৪টি পরিবার এই জালের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করি। যতদিন পর্যন্ত নতুন জাল কেনার টাকা জোগাড় করতে না পারবো, ততদিন আমাদের বসে থাকতে হবে। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করছে। দোষীদের ধরতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।এসআর
যশোরে এক কোটি ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ১
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গাজীর দরগাহ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৫৮২ গ্রাম ওজনের ৫টি সোনার বারসহ একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে আব্দুর রউফ (৪২) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক আব্দুর রউফ যশোরের শার্শা উপজেলার লাউতারা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।যশোর-৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টিম বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার গাজীর দরগাহ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কের ওপর অবস্থান নেয়। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি করে আব্দুর রউফকে আটক করা হয়। তার প্যান্টের পকেটে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৫৮২ গ্রাম ওজনের ৫টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। জব্দকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার ১৬০ টাকা। এছাড়া তার কাছ থেকে ২টি মোবাইল এবং নগদ ১০ হাজার ৬৯০ টাকা জব্দ করা হয়।তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি জানান- তিনি ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকার চোরাকারবারীদের কাছ থেকে এই স্বর্ণ সংগ্রহ করে যশোর ও ঝিকরগাছা হয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বেনাপোল যাচ্ছিলেন। মামলা দায়েরের পর তাকে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এসআর
অনুমতি ছাড়া অন্য পেশায় যুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য পেশায় যুক্ত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয় গণমাধ্যমে জাতির দর্পণ হিসেবে তুলে ধরা হলে ব্যবস্থা গ্রহণ আরও সহজ হবে।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত সভায় যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আগামী দুই থেকে চার মাসের মধ্যে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।এর আগে শিক্ষামন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেলসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
কক্সবাজারে ১২ লাখ টাকায় ‘প্রক্সি’ দিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৫ ঘিরে কক্সবাজার জেলায় প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামের আমান উল্লাহ নাহিন (৩১) নামে এক প্রার্থী নিজে লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও উত্তীর্ণ হয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। তার পরীক্ষার রোল নম্বর ৪৬২১০৬৫।অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) মেকানিক পদে কর্মরত।সূত্র জানায়, চূড়ান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আমান উল্লাহ নাহিন কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আসেন। পরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সনদ সংগ্রহকালে প্রতিবেদকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়।প্রক্সি পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরবর্তী আলাপচারিতায় স্বীকার করেন যে, তার হয়ে অন্য একজন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।তার ভাষ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে আনোয়ার হোসেন ‘প্রক্সি ডন’ ও ‘ডিভাইস ডন’ নামে পরিচিত ছিলেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও সংরক্ষিত রয়েছে বলেও প্রতিবেদককে জানান তিনি।নাহিন আরও অভিযোগ করেন, চুক্তি অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় সহযোগিতার কথা থাকলেও অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষার সময় সহযোগিতা পাননি। পরে নিজ উদ্যোগে ভাইভা বোর্ডের একজনকে প্রভাবিত করে মৌখিক পরীক্ষা দেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ. মান্নান বলেন, প্রক্সির মাধ্যমে সরকারি চাকরি লাভের সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অনুসন্ধানে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন অতীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিন কমিটি তার মাস্টার্স পরীক্ষার সনদ স্থগিত করে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তিনি কারাভোগও করেন।ভুক্তভোগীদের কয়েকজন দাবি করেন, বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হতো। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে প্রশ্নোত্তর আদান-প্রদানের অভিযোগও রয়েছে।অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন অতীতে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করলেও বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান তিনি।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়া বা সহায়তা করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মাহমুদ ইসলাম সুমন বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।তিনি জানান, প্রক্সির মাধ্যমে চাকরি প্রাপ্তি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিলসহ ফৌজদারি মামলা দায়ের করা সম্ভব।ইখা
মেঘনায় এক আদর্শ শিক্ষাগুরুর নীরব বিদায়
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। টানা ৩৯ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসরে গেলেন মানিকারচর সাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৯ জুলাই তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে মানিকারচর সাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটিকে উপজেলার অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও বিদ্যালয়টি নতুন মাত্রা লাভ করে।শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বয়ে তিনি একটি ইতিবাচক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবনে তিনি একাধিকবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। একই সময়ে বিদ্যালয়টিও শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মান অর্জন করে।আবুল কালাম ভূঁইয়া প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলীর জন্যও পরিচিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতেন। শিক্ষা ও শিক্ষকতা বিষয়ক তাঁর রচিত কবিতাও শিক্ষাঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে তিনি সোনারগাঁওয়ের তাহেরপুর হাজী লাল মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং মুজাফফর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সহকারী শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মানিকারচর সাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।তিনি মেঘনা উপজেলার বারহাজারী গ্রামের মরহুম কলিম উদ্দিন ভূঁইয়া (মাস্টার)–এর কনিষ্ঠ পুত্র। শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশ স্কাউটসের মেঘনা উপজেলা শাখার কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মেঘনা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক, দক্ষ সংগঠক এবং নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাঁর অবসর শিক্ষাঙ্গনে এক নীরব বিদায়ের অনুভূতি তৈরি করলেও রেখে গেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীর মাঝে অনুপ্রেরণার স্মৃতি। মেঘনার শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।ইখা
চকরিয়ায় পুনরায় সক্রিয় গরু চোরের সিন্ডিকেট, আতঙ্কে খামারিরা
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আবারও গরু ও মহিষ চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গৃহস্থ, কৃষক ও খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাতের আঁধারে গবাদিপশু চুরির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতেও চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় নিয়মিত গরু চুরির ঘটনা ঘটত। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থ ও খামারিরা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও চুরি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরণদ্বীপ এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চিংড়িঘের এলাকা থেকে শফি আলমের ৯টি এবং একই এলাকার আব্দুর শুক্কুরের ৫টি মহিষ চুরি হয়েছে। এক রাতেই ১৪টি মহিষ চুরির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।এর আগে গত ৪ জানুয়ারি রাতে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে খামারি নূরুল আজিম মানিকের ২টি, মহসিন রিমনের ৩টি এবং এনামুল হকের ২টি গরু সশস্ত্র চোরচক্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় প্রান্তিক খামারিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।সরেজমিনে জানা গেছে, অনেক পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন গবাদিপশু চুরি হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গরু চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়রা রাত জেগে খামার ও গোয়ালঘর পাহারা দিলেও চুরি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকায় তাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, গরু ও মহিষ চুরিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ টিম কাজ করছে। চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গবাদিপশু চুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কৃষক ও খামারিদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।ইখা
রায়পুরে পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২০
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনায় আটক ৪ চোরকে নিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে হামলা-মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।এদিকে সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ চলে গেলেও বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত সাড়ে ৩ ঘন্টা লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী। এসময় রাস্তায় বাঁশসহ গাছের গুড়ি ফেলে আগুন দেয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারী বাড়ির শাহ আলম তার অটোরিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। এতে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে ৪ জন সন্দেহভাজন চোরকে আটক করেন। অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও চোরেরা ব্যাটারিগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এতে আটকদের বাড়িতে নিয়ে ব্যাটারির জন্য মারধর করা হয়।রাত সাড়ে ৮ টার দিকে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যাটারি না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছাড়বে না বলে জানায় এলাকাবাসী। এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে হামলা-মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় রায়পুর থানা পুলিশের মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদেরকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। তবে এলাকাবাসী লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়কের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় অগ্নিসংযোগ করে প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। এসময় প্রায় সড়কের দুই পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।রিকশা চালক শাহ আলম বলেন, ‘আমরা ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য চোরদের আটক করে রেখেছি। পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়। তাদেরকে না দেওয়ায় পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের অন্তত ১৫-১৬ জন আহত হয়েছে।’অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘চারজনকে আটকে রেখে পিটাচ্ছে এমন তথ্য ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে আমাদের মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যায়। অনেক চেষ্টা করে যখন অভিযুক্ত ৪ জনকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখন পেছন থেকে ২০-৩০ জন এলাকাবাসী ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে আমাদের এক এসআইসহ ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘আটক ৪ চোর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। রিকশা চুরির ঘটনায় মালিক মামলা দিলে মামলা নেবো। আর পুলিশ আহতের ঘটনায় মামলা হবে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দিয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’ইখা
নাগরপুরে সরকারি কাজে বাধা, গ্রেফতার ২
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে এক ভূমি অফিস কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করে শারীরিক লাঞ্ছনা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নাগরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এটি মামলা নং-১৬, তারিখ: ২৫/০২/২০২৬ হিসেবে রুজু হয়েছে।নাগরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্য থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃতরা হলেন— রানা (২১), দুয়াজানি গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. সাজ্জাদ (২২), বাবনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নাগরপুর বাজার এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় সিএনজি শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।ওইদিন ভূমি অফিসের এক কর্মচারী রিকশাযোগে অফিসে যাওয়ার পথে রাজিয়া কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে তাকে রাজিয়া কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে অবরুদ্ধ রাখা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নাগরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সময় সরকারি পিকআপে তোলার মুহূর্তে লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ওই কর্মচারী আহত হন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ ও আনসার সদস্যও আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।মামলায় উল্লেখিত ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন—মো. সোহেল মিয়া (২৩), শরীফ (৩৫), কালু (৩৬), রুবেল (৩৬), রহমান (৪০), রাহাত (২২), শামসুল (৫৫), রাকিব (৩০), মো. মানিক (৩৮), এস.এম স্বজন মাহমুদ (৩১), রাজু (১৯), মো. শহিদুর রহমান মনির (৩৪) এবং মো. সাদেক মিয়া (৩৮) সহ অন্যান্যরা।নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুরাদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এফএস
স্বভাব-চরিত্র না বদলালে স্থানীয় নির্বাচনেও মানুষ জবাব দেবে: নুরুল হক নূর
নেতাকর্মীদের আচরণ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর।শুক্রবার দুপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের মস্তফাপুর এলাকায় বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের জেলা নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের মানুষ পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে। নিয়ন্ত্রণভিত্তিক বা খবরদারিমূলক রাজনীতি জনগণ আর দেখতে চায় না। জনগণের ভোটেই জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন এবং আগামী স্থানীয় নির্বাচনেও প্রার্থীদের জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে হবে।তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল থেকে কেউ সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন—এতে দায়িত্ব আরও বেড়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ ও কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন না এলে স্থানীয় নির্বাচনেও ভোটাররা তাদের মতামত জানাবে।নুরুল হক নূর বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সব নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। প্রকৃত উপকারভোগীরা যেন সহায়তা পান, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।পথসভায় বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের মাদারীপুর জেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
নাগরপুরে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ভস্মীভূত
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে শামছুল খান নামের এক ব্যক্তির বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মীরনগর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ ঘর থেকে আগুনের শিখা দেখতে পান প্রতিবেশীরা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ঘরের ভেতরের মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি বর্তমানে মানবেতর অবস্থায় রয়েছে।নাগরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড এড়াতে বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।নাগরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা অনয় কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়েনি বলেও তিনি জানান।ইখা
কালিয়াকৈরের গাছবাড়ি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৮ দোকান ভস্মীভূত
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গাছবাড়ি বাজারে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর প্রায় সোয়া ৫টার দিকে বাজারের মনির হোসেনের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।এ সময় পথচারীরা আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় তারা কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস-এ খবর দেন।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই বাজারের ১৮টি দোকান ও ভেতরে থাকা সম্পূর্ণ মালামাল পুড়ে যায়।ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন আজমত আলী, কমল, বাচ্চু, মনির হোসেন, আব্বাছ আলী, ফয়সাল আহাম্মেদ, আশরাফুল আহাম্মেদ, আব্দুল কদ্দুস মিয়া, হোসেনসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী।বাজারের একটি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এজেন্সির মালিক ফয়সাল আহাম্মেদ জানান, তার দোকানে থাকা এক কোটি চার লাখ টাকার স্ট্যাম্প, ২৭টি পাসপোর্ট, আসবাবপত্র ও কম্পিউটারসহ প্রায় সোয়া কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।অন্যদিকে মনির হোসেনের পাইকারি দোকানেও প্রায় কোটি টাকার মালামাল ছিল বলে জানা গেছে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইফতেখার রায়হান চৌধুরী জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কিছু উত্তেজিত জনতা লাঠিসোটা নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করা হয়, প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।ইখা
তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী পুনরায় বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ছুরিকাঘাতে হত্যা
গাজীপুরের জয়দেবপুরে স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত গৃহবধু পোশাক শ্রমিক রিশমা খাতুনকে (৩০) হত্যার ঘটনার মূলহোতা মাসুদ রানাকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ এবং র্যাব-১৩। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার অনন্তপুরচর ইউনিয়নের জলংগারকুটি (বুড়াবুড়ি) গ্রামের মমর উদ্দীনের বসতবাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার করে।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টায় র্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন র্যাব-১ গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্প এবং র্যাব-১৩ রংপুর সদর ক্যাম্পের সদস্যদের যৌথ আভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতার মাসুদ রানা কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার অনন্তপুরচর ইউনিয়নের জলংগারকুটি (বুড়াবুড়ি) এলাকার ওমর মুন্সির ছেলে। সে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার তালতলী এলাকার জয়নালের বাড়ীতে ভাড়া থাকতো।ভিকটিম গৃহবধু রিশমা খাতুন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেড়াকুল গ্রামের আব্দুল হাকিমের মেয়ে। সে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার মির্জাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে মনিপুর এলাকার মেঘা ডেনিম কারখানায় চাকরি করতো।র্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শাহ আলম জানান, সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌণে ৬টার দিকে কর্মস্থল মনিপুর এলাকার মেঘা ডেনিম কারখানায় যাচ্ছিলেন রিশমা খাতুন। স্থানীয় বিকেবাড়ি (আক্কাছ শিকদারের) বাড়ীর দক্ষিণ পাশে পৌছলে আসামি মাসুদ রানা তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ভিকটিম রিশমা খাতুনকে পূণরায় বিবাহের প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে পেছন থেকে ধারালো চাকু দিয়ে পিঠের বাম পাশে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। ভিকটিমের চিৎকারে সহকর্মীরা এগিয়ে আসলে আসামি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আত্নগোপনে চলে যায়। সহকর্মীরা উদ্ধার করে স্থানীয় মনিপুর আল মদিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসক নিশ্চিত করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব-১ গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্প কমান্ডারের নির্দেশে র্যাব সদস্যরা গৃহবধু পোশাক শ্রমিক রিশমা খাতুন হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিকে গ্রেফতারের জন্য ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। পরে বিশ্বস্ত সোর্স এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব সদস্যরা জানতে পারে মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানাকে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার অনন্তপুরচর ইউনিয়নের জলংগারকুটি বুড়াবুড়ি এলাকায় আত্মগোপনে আছে। ওই এলাকায় র্যাব-১৩ রংপুর সদর ক্যাম্পের সদস্যদের সাথে নিয়ে যৌথ আভিযান চালিয়ে হত্যার মূলহোতা মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করে।জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, গৃহবধু পোশাক শ্রমিক রিশমা খাতুন হত্যায় জড়িত মাসুদ রানাকে রংপুর থেকে নিয়ে আসতেছে। আগামীকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আসামিকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হবে।ইখা
ঝালকাঠিতে ডান্ডাবেড়ি পায়ে বাবার জানাজায় ছাত্রলীগ নেতা
ঝালকাঠির নলছিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কারাবন্দী এক নেতা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তার বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। এ সময় তিনি পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় ছিলেন। ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম রাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দর (২৫)। তিনি উপজেলা সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামে রাকিবুল ইসলামের বাবা মোশাররফ জোমাদ্দরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নিতে স্বল্প সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি পান রাকিবুল। জানাজায় পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় অংশ নেন ছাত্রলীগ নেতা রাকিব। পরে নির্ধারিত সময় শেষে রাতে পুলিশি পাহারায় তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক মাস ধরে কারাগারে আছেন রাকিবুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে তার বাবার মৃত্যু হলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে প্যারোলের আবেদন করা হয়।প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে স্বল্প সময়ের জন্য মুক্তির অনুমোদন মেলে ছাত্রলীগ নেতার। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। রাকিবুল বাবার জানাজায় অংশ নিতে বাড়ি এলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, জানাজার সময় রাকিবুলের পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় ছিল। তবে হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল না। জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাকে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।এ বিষয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম জানান, পরিবারের আবেদনের পর প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে রাকিবুলকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। পুরো সময় তিনি পুলিশি পাহারায় ছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।জানাজার সময়ও আসামিকে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় রাখা প্রসঙ্গে ওসি জানান, ১২ ঘণ্টার বেশি প্যারোলে মুক্তি দিয়ে আসামিকে বাইরে রাখার সুযোগ নেই। পুলিশ যে অবস্থায় কারাগার থেকে আসামিকে বুঝে পাবে, আবার সেই অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আসামিকে বুঝিয়ে দেবে। তাই ডান্ডাবেড়ি খোলার সুযোগ নেই।নলছিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনীক রহমান সরদার বলেন, ‘একজন সন্তানের জন্য পিতৃবিয়োগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এমন পরিস্থিতিতে প্যারোলে এসে জানাজায় অংশ নেওয়াটা নিঃসন্দেহে আবেগঘন মুহূর্ত। আমরা রাকিবুলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’ইখা
কুয়াকাটায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই
পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া আরও ৩টি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বেরিবাঁধের বাইরের সৈকত এলাকায় সীকুইন হোটেল ও রাধাকৃষ্ণ মন্দির সংলগ্ন স্থানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুটি খাবার হোটেল, দুটি কাপড়ের দোকান, একটি মুদি-মনোহরী দোকান, একটি ঝিনুকের দোকান, একটি জেনারেটরের দোকান ও একটি চায়ের দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন— সালমা বেগম (হোটেল তিন কন্যা), নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল), শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান), মিলন (মুদি-মনোহরী দোকান), মিলন (জেনারেটরের দোকান) এবং একটি চায়ের দোকানের মালিক।ব্যবসায়ীদের একাংশ দাবি করেন, মন্দিরের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। সেখানে লেপ-তোষক ও বালিশ রাখা ছিল এবং শিক্ষার্থীরা কয়েল জ্বালিয়ে রেখেছিল বলে জানা যায়। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, কোনো খাবার হোটেল থেকেই আগুনের উৎপত্তি হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অধিকাংশ দোকানই তালাবদ্ধ ছিল। একটি কক্ষে অবস্থানরত ব্যক্তিরা নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং মালামাল সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, খবর দেওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের দাবি, পর্যটন নগর কুয়াকাটায় এখনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় কলাপাড়া থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ইউনিট আসতে সময় লেগেছে। ফলে আগুনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তারা দ্রুত কুয়াকাটায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান।কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর সকাল আটটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর জানানো হবে।ইখা
বরিশালে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বরিশালে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪ টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।এসময় নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি ও মেয়াদ উত্তীর্ন খাবার বিক্রির অপরাধে দুইটি খাবার হোটেল ও দুইটি রেস্তোরা সহ চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, অস্বাস্থ্যকর-নোংরা পরিবেশে ইফতার সামগ্রী তৈরি ও মেয়াদ উর্ত্তীন্ন খাবার বিক্রির দায়ে নগরীর চৌমাথার অর্পিতা গৌরনদী মিস্টান্ন ভান্ডারকে ৫ হাজার ও মুসলিম সুইটস এন্ড রেস্তারাকে ৭ হাজার টাকা সহ দুইটি খাবার হোটেলকে ৫ হাজার করে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যলয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী ও সহকারীপরিচালক ইন্দ্রানী দাস।জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জানিয়েছেন, পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।এফএস
গৌরনদীতে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় হামলা, নারীসহ আহত ২
বরিশালের গৌরনদী ও মুলাদী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরকীয়ার ঘটনায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার সীমান্তবর্তী পূর্ব চর নলচিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— মো. আবু হানিফ রাড়ী (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী সেনোয়ারা বেগম (৫৮)।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তারাবির নামাজ শেষে রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে মো. আবু হানিফ রাড়ী বাড়িতে ফেরেন। পরে গরু দেখার জন্য গোয়ালঘরে গেলে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী মো. অলিল হাওলাদার তাঁর ছেলে শাহাবুদ্দিন রাড়ীর বসতঘরে প্রবেশ করেছেন। ঘরে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রীর সঙ্গে অলিলকে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হইচই শুরু করেন।এ সময় অলিল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবু হানিফ রাড়ী তাঁকে ধরে ফেলেন। পরে তিনি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর অলিল হাওলাদার তাঁর লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বাড়িতে এসে হামলা চালান। হামলাকারীরা আবু হানিফ রাড়ীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং ধারালো দা দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সেনোয়ারা বেগমকেও মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা নগদ টাকা ও ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।গুরুতর আহত অবস্থায় আবু হানিফ রাড়ীকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৌকির হোসেন জানান, আহতের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।এ ঘটনায় আবু হানিফ রাড়ীর ছেলে মো. জিয়া রাড়ী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করে মুলাদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মুলাদী থানার ওসি (তদন্ত) মোমিনুর উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে; তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এনআই
সাগরে নিরাপত্তাহীনতা: জলদস্যু দমনের দাবিতে পাথরঘাটায় মানববন্ধন
সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে প্রতিনিয়ত সশস্ত্র ডাকাত দলের হামলার শিকার হচ্ছেন উপকূলের হাজারো জেলে। গভীর সাগরে জিম্মি করে জেলেদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করছে দুর্বৃত্তরা। এতে ইতোমধ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ডাকাত চক্র, আতঙ্কে পড়েছে জেলে পরিবারগুলো এবং চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে উপকূলের মৎস্যজীবী। ডাকাতের হাত থেকে নিজেকে বাঁচতে গিয়ে অনেক হয়েছে গুলিবিদ্ধ। এই উপদ্রবের প্রতিবাদে পাথরঘাটায় মানববন্ধন করেছেন মৎস্যজীবী ও ট্রলারের শ্রমিকেরা।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার পরে পৌর শহরের গোলচত্বরে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি, বিএফডিসি মৎস্য আড়তদার সমিতি, পাইকার সমিতি এবং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেন নেতারা।জেলেদের অভিযোগ সম্প্রতি ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ নামে পরিচিত দুটি জলদস্যু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে ট্রলার ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।১৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকা থেকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের মাসুম মাঝিকে ট্রলারসহ অপহরণ করা হয়। পরে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তিনি মুক্তি পেলেও ট্রলারের তিন মাঝি মাহবুব (২৭), সোহেল (১৭) ও রাজু (২৬) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজনেরা জানান।এর আগে বুধবার জলদস্যুরা জেলে রাজু (৩১) ও কাঁকড়াশিকারি নিহার মণ্ডলকে (৪৫) এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। ফেরার পথে আরেকটি দস্যু দল তাঁদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।মুক্ত হয়ে আসা নিহার মণ্ডল বলেন, তিনি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে কাঁকড়া শিকার করতেন। তারপরও তাঁকে অপহরণ করে চোখ বেঁধে জঙ্গলে নিয়ে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়। এক লাখ টাকা মুক্তিপণ পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।অন্য জেলে রাজু জানান, কটকা এলাকায় জাল ফেলতে গেলে জলদস্যুরা তাঁদের ধরে কয়েক দিন আটকে রাখে। মুক্তির পর ফেরার পথে পুনরায় আটকানোর চেষ্টা হলে তাঁরা দ্রুত ট্রলার চালিয়ে পালিয়ে আসেন।বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির নেতারা যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার, নৌ টহল বৃদ্ধি এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দস্যুদের কারণে জেলেরা সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন, যা উপকূলীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, ‘জেলেদের স্মারকলিপি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।এটা অতি দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো হবে। এসআর
ভাষাসৈনিক মোস্তফা এম.এ মতিনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সাতেঙ্গা গ্রামে ১৯৩৪ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন ভাষাসৈনিক মোস্তফা এম.এ মতিন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে যুক্ত হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের অধীনে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করায় তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।শিক্ষাজীবনে তিনি গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ঢাকা কলেজ থেকে আইএ, জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা জেলা বারে আইন পেশায় যুক্ত হন। স্বাধীনতার পর ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগ দিয়ে আমৃত্যু আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এর আগে মতিঝিল টি অ্যান্ড টি হাই স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং ১৯৭৩ সালে বিলুপ্ত ময়মনসিংহ-১৮ (বর্তমান ময়মনসিংহ-১১) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার সংসদীয় মেয়াদ ছিল ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে ২০০১ ও ২০০২ সালে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ভাষা আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০০০ সালে তাকে ভাষাসৈনিক হিসেবে সংবর্ধনা ও স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়।২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজ জন্মভূমি ভালুকায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পরও তার কর্ম ও আদর্শ আজও প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং তার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে পৌর পাঠাগারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।ইখা
দেওয়ানগঞ্জে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করলো প্রশাসন
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নর রহিমপুর এলাকায় অবৈধ ভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট অভিযান করেন উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও ড্রেজারসহ ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল ইসলাম।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রহিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ ভাবে কৃষি-জমি ও বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যায়, এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় , আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত এবং স্থানীয় বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলে প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করলে ঘটনা স্থলে মাটি উত্তোলনের কাজে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিন,পাইপলাইন ও অন্যান্য সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে অকেজো করে দেওয়া হয়, যাতে পুনরায় এসব ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম চালানো না যায়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এনআই
গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, মরদেহ ফেলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন উধাও
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় রিনা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হত্যার পর বিষপানের নাটক সাজিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়েছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনকি গ্রেপ্তারের ভয়ে তড়িঘড়ি করে বাড়ির গবাদিপশু ও আসবাবপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়েছে অভিযুক্ত পরিবারটি।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহে মরদেহ ফেলে পালানোর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। নিহত রিনা আক্তার জেলার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশরি গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিনা ও কেন্দুয়ার নওপাড়া কোনবাড়ি গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে পিয়াল মিয়া (২৪) চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। তিন মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের মাত্র ১০-১৫ দিন পর থেকেই পিয়াল স্ত্রীকে অপছন্দ করতে শুরু করেন এবং বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে কলহ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।গত বুধবার রাতে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস মুঠোফোনে রিনার বাবাকে জানান যে, রিনা বিষপান করেছেন এবং তাঁকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। রিনার স্বজনরা সেখানে গিয়ে কাউকে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন, তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে পৌঁছে রিনাকে মৃত অবস্থায় পেলেও শ্বশুরবাড়ির কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।রিনার বাবা জাকির মিয়ার অভিযোগ, "আমার মেয়ে বিষ খায়নি। পিয়ালের পরিবার তাকে হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তারা মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাত। অপরাধ না করলে তারা কেন মরদেহ ফেলে পালাবে?" রিনার দাদা জুলহাস মিয়ার দাবি, খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশ পিয়ালের বাড়িতে অভিযানে গেলে পুরো ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পায়। প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গবাদিপশু ও মালামালসহ উধাও হয়ে গেছেন।কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি মাকসুদ জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্তরা সবাই পলাতক। ময়মনসিংহে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং মামলার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"বৃহস্পতিবার রাতে রিনার মরদেহ নিজ গ্রাম বাশরিতে দাফন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার এই ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের’ দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।এনআই
ভালুকায় বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ, আহত ৫
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের নিঝুরী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. জহিরুল ইসলাম মাসুদ বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানা-য় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে খোরশেদ আলম উজ্জ্বলসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাসুদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা গালিগালাজ শুরু করলে বাধা দেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা মাসুদের মা খাদিজা আক্তার (৫৫), ভাতিজা মেহেদী হাসান মুন্না (২৫), ভাবি শেফালী আক্তার (৫২), মাসুদ ও তার গাড়িচালক জুয়েল (২৪)-কে মারধর করে আহত করে।ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ প্রায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, প্রায় ৮ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা), একটি আইফোন, একটি এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে। এছাড়া আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে খাদিজা আক্তারকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।অভিযুক্ত খোরশেদ আলম উজ্জ্বল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না, ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলাম। এ বিষয়ে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আবদুল মালেক জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।এসআর
গৌরীপুরে ফসলি জমি খুঁড়ে বালু উত্তোলন
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া কান্দার গ্রামে রাস্তার পাশের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজের জন্যে ঠিকাদার এই বালু লুটপাট চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাঁচপাড়া কান্দার গ্রামে রাস্তার পাশে একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে। সেই ব্রিজের কাজের প্রয়োজনীয় মাঠি দিয়ে বরাট করার কথা থাকলেও ঠিকাদার সুবিধামতো রাস্তার পাশের ফসলি জমি থেকেই বালু উত্তোলন করছেন। বড় গর্ত করে বালু তুলে নেওয়ায় পাশের আবাদি জমিগুলো এখন ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে।জানা যায়, বালু উত্তোলিত ওই জমির মালিক স্থানীয় মো. আসাদ মিয়া। ফসলি জমি থেকে কেন বালু উত্তোলন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জমি থেকে আমি বালু টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেছি।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিক লাভের আশায় ঠিকাদারের সাথে যোগসাজগে এই অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে।নির্মাণাধীন ব্রিজের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম জানান, “লোকাল মাটি দেওয়ার নিয়ম এখন আমি যা পাচ্ছি তাই দিচ্ছি। জমির মালিকের থেকে বালু-মাটি আমি কিনে নিচ্ছি।”এব্যাপারে জানতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সুবুর মিয়া জানান, “আমি বালু উত্তোলনের জন্যে না করেছিলাম, কিন্তু আমার কথা শুনেনি। বালু উত্তোলনের জন্যে আশেপাশের জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জায়েদুর রহমান জানান, আমি এব্যাপারে কিছু জানিনা তাই কোন মন্তব্য করতে পারছিনা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “বিষয়টি জানার পর এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এসআর
উলিপুরে কৃষকের জমিতে সেচের পানি না দেওয়ার অভিযোগ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সেচের পানি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সেচযন্ত্র মালিকের বিরুদ্ধে। এতে চাষাবাদ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন একটি কৃষক পরিবার। এ ঘটনায় জমির মালিক এরশাদুল হক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সেচযন্ত্র মালিক মজিবর রহমান ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে সংশ্লিষ্ট জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখেন। ফলে জমি চাষের উপযোগী থাকা সত্ত্বেও ধান রোপণ করা সম্ভব হয়নি এবং প্রায় এক একর জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে।ভুক্তভোগী এরশাদুল হক জানান, হাতিয়া ইউনিয়নের রামরামপুর মৌজায় বাড়ির পেছনে তাদের প্রায় এক একর পৈত্রিক জমি রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর ৩৪ শতক, বড় বোন গোলাপী বেগমের ২০ শতক, ছোট বোন রিপুনা খাতুনের ৩০ শতক এবং বাবা গোলজার হোসেনের ১৬ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধান ও সবজি আবাদ হয়ে আসছে। প্রতি বছর বোরো মৌসুমে সেচনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হলেও এবার পানি না পাওয়ায় পুরো জমি অনাবাদি পড়ে আছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি সেচ নীতিমালা উপেক্ষা করে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি শতক ১০০ টাকা বা তার বেশি হারে অর্থ আদায় করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।এ ছাড়া পানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে দয়াল হোসেন নামের এক কৃষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যে স্থানে সেচযন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে তা মজিবর রহমানের নিজস্ব জমি নয় এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ করে তিনি সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সেচযন্ত্র মালিক মজিবর রহমান বলেন, জনবল সংকট ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে এবার সংশ্লিষ্ট জমিতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ইখা
যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল
যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং গণতন্ত্রকে তার প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে ঠাকুরগাঁও হাফেজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং-এর বহুতল ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে এসব মন্তব্য করেন তিনি৷ এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও মানুষের কাছে সবসময় ঋণী। তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছে বলে আজ কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। দেশের পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো। ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে কাজ করা হচ্ছে।সরকার গঠনের পর তিনদিনের সরকারি সফরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এসেছেন বিএনপি মহাসচিব ও এরজিআরডি মন্ত্রী। মসজিদের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন দিয়ে নিজ এলাকায় কার্যক্রম শুরু করেন।এরপর বিকেলে ইএসডিও এর আয়োজনে ইফতার মাহফিল অংশ নেবেন। শনিবার সকালে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও বিকেলে জেলা বিএনপি মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি সংসদের আয়োজনে ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন তিনি। পরদিন সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন।এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
গ্রামপুলিশদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবেঃ মির্জা ফখরুল
রংপুর বিভাগের গ্রাম পুলিশরা ১৯ গ্রেডের দাবি নিয়ে দেখা করেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুম্মার নামাজ শেষে নিজ বাসভবনের সামনে দাড়িয়ে থাকা গ্রামপুলিশদের স্মারক লিপি গ্রহণ করে মন্ত্রী জানান, দাবিগুলো সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এ সময় সবাইকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন। গ্রামপুলিশদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এম এ নাসের বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় আমাদের দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন সংগ্রামের কথা জানেন। রংপুর বিভাগের সব গ্রাম পুলিশের প্রতিনিধিরা তার নিকট আমাদের বেতন ১৯ গ্রেডে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আমরা খুব খুশি।’তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামপুলিশরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। অল্প টাকা বেতন, তাও সরকারিভাবে অর্ধেক, বেসরকারিভাবে অর্ধেক। এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আমরা স্বাভাবিকভাবে ফিরতে চাই। দেশের উন্নয়নে কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে চাই।’ সরকার গঠনের পর তিনদিনের সরকারি সফরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এসেছেন এলজিআরডি মন্ত্রী। মসজিদের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন দিয়ে নিজ এলাকায় কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। এরপর বিকেলে ইএসডিও এর আয়োজনে ইফতার মাহফিল অংশ নেবেন। শনিবার সকালে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও বিকেলে জেলা বিএনপি মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি সংসদের আয়োজনে ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন তিনি। পরদিন সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন।ইখা
তারাগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
গরিব, দুস্থ ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে রংপুরের তারাগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারাগঞ্জ ও/এ কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম।আয়োজকরা জানান, প্রতি শুক্রবার এই ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।উদ্বোধন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। মানুষের জন্য কিছু করতে পারাটাই আনন্দের বিষয়। আমি ইতিপূর্বে বদরগঞ্জে একটি ক্যাম্প চালু করেছি। আজ তারাগঞ্জবাসীর জন্যও এই চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত।”এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসী এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানান।পরে সংসদ সদস্য তারাগঞ্জে নিখোঁজ হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুলের অনন্তপুর গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন।ইখা
তারাগঞ্জে দুই সার ব্যবসায়ীকে ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই সার ব্যবসায়ীকে মোট ৫৩,০০০ (তিপ্পান্ন হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ইকরচালী বাজারে এ অভিযান চালানো হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় টিসিবি ডিলার মেসার্স রাইয়ান ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. শাহীন সরকারকে ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা এবং কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স মা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শামসুজ্জামানকে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রাণী রায়।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোনাব্বর হোসেন। তিনি জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এনআই
আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিএনপির দু'পক্ষের উত্তেজনা
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খাঁন তোফা ওই ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করতে গেলে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।পরে স্থানীয়দের বাধার মুখে তোফাজ্জল হোসেন খাঁন ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান না করেই ফিরে যান।বুধবার (২৬ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিন টার দিকে বিশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫নং বিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খাঁন কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পট পরিবর্তন হলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর ফলে তার চেয়ারম্যানের পদেটি বাতিল করা হয়। তবে সম্প্রতি সংশ্লিষ্টের আদেশের মাধ্যমে তিনি চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পান।যার ফলে বুধবার দুপুরে দিকে তোফাজ্জল হোসেন খাঁন তার সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যোগদানের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আত্রাই উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম ও সম্রাট হাসান এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সহ প্রায় ১৫-২০ জন সমর্থক।অপরদিকে, বিশা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাবের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেন এবং তোফাজ্জল হোসেন খাঁনের প্রবেশে বাধা প্রদান করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তোফাজ্জল হোসেন খাঁন ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।এ বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিতর্কিত এই নেতাকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তাকে পুনরায় দায়িত্বে আনা হচ্ছে কি না।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় মৃদু উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাত ৮টার দিকে জানতে চাইলে বিশা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব মুঠোফোনে বলেন, তোফাজ্জলকে জনগণ মেনে নিতে চাচ্ছে না। তাই আমি সেখানে থেকে দুই একটা কথা বলে প্রতিবাদ করেছি। যেহেতু তার সাথে আমার বিএনপির লোকজনই এসেছিল। তাই পাবলিকের কষ্টের জায়গা থেকে আমি তাদেরকে বলেছি ভোট হয়ে মাত্র কয়েকদিন হলো তাতেই তোফাজ্জলকে নিয়ে এসেছেন? এতে জনগণ আমাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলবে। কারণ এই তোফাজ্জল আওয়ামী লীগ সময়ে অনেক অন্যায় অত্যাচার করেছে। জানতে চাইলে আত্রাই উপজেলার সহ-সভাপতি সম্রাট হোসেন মুঠোফোনে বলেন, তোফাজ্জল একটা রায় পেয়েছে। সে যোগদান করতে যেতে ভয় পাচ্ছিল। তাই মঞ্জুরুল ইসলাম ভাই ও শ্রমিকদলের কামাল হোসেনসহ অনেকেই সেখানে গিয়েছিলাম। তোফাজ্জলকে তারা কোনোভাবেই যোগদান করতে দিবেনা। বিগত দিনে সে অনেক অন্যায় করেছিল সেই জন্য তারা তাকে মেনে নিতে পারছিল না। তবে কোনো মারামারি হয়নি। এবং আগামীদিনে এর একটা সমাধান হয়ে যাবে। মূলত শান্তি বজায় রাখার জন্য আমরা গিয়েছিলাম।জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সদস্য দাবি করে বিশা ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা মুঠোফোনে বলেন, আমি একটা মামলায় কারাগারে ছিলাম। সেই সময় জেলা প্রশাসক আমার চেয়ারম্যান কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেন। সম্প্রতি আমি জামিনে বের হয়ে এসে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করি। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমাকে স্বপদে বহালের আদেশ দেন। সেই আদেশ পেয়ে আমি কয়েকজন চেয়ারম্যানসহ কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে যোগদান করতে যাই। কিন্তু প্রতিপক্ষরা হাতে লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে আমাদের বাঁধা প্রদান করে। এবং অনেক অশ্লীল মন্তব্য করে। মূলত আমাকে যোগদান করতে দিবে না এটাই একপক্ষের উদ্দেশ্য। আমি অনেক আগে ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। তবে আওয়ামী লীগ আমলেই বেশি নির্যাতিত ও মামলার শিকার হয়েছি।আর যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানা গেছে।এফএস
যমুনা তীর রক্ষা ও বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীর পাড়ের বসতবাড়ি,ফসলি জমি,প্রাইমারি, হাইস্কুল, চৌহালী সরকারি কলেজ ও মাদ্রাসাসহ ভাঙ্গন থেকে রক্ষা এবং মাটি ও বালুবাহী বাল্কহেড দিনে-রাতে চলাচল বন্ধের দাবীতে তীরবর্তী পাড়ের লোকজন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের জোতপাড়া যমুনা নদীর ঘাটে গ্রামবাসীর আয়েজনে ১ ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীর পাড়ের সহস্রাদিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।এসময় মানববন্ধনে বক্তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নদী ভাঙন রোধে যমুনা পাড়ে জিও ব্যাগ স্থাপন ও দিনে- রাতে মাটি ও বালবাহী বাল্কহেড এর অবাধ চলাচল বন্ধ করতে হবে না হলে এলাকার সাধারণ মানুষ বসত ভিটা,উপজেলা পরিষদ, চৌহালী সরকারি কলেজ সহ প্রাইমারিস্কুল,মাধ্যমিক স্কুল,মাদ্রাসা ও বিভিন্ন স্হাপনা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে নদীর পাড়ের মানুষেরা।উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো: ঈসমাইল হোসেন জাবিউল্লাহর সঞ্চালনায়মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি জাহিদ মোল্লা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কারী ময়নুল ইসলাম ।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও এইচ. এম. খোদাদাদ হোসনে বলেন,বরাবরের মতোই নদী ভাঙ্গনের বিষয় আমার অবস্থান স্পষ্ট। ভাঙ্গন রোধে এবংঅবৈধ বালুর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না হবে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো: শামীম মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক মো: ঈসমাইল হোসেন জাবিউল্লাহ, আলমগীর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কাদের মোল্লা, শহিদ চেয়ারম্যান, রবিউল বিএসসি, আমিরুল সিকদার ও রিপন মিয়া প্রমুখ।এদিকে বিক্ষোভকারীরা যমুনা নদীতে থাকা বাল্বহেড আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়।এসআর
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় পাবনার আরিফা সুলতানা রুমা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট রমজানের মাঝেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে নেতৃত্ব নিয়ে চলছে আলোচনা ও বাড়ছে আগ্রহ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী ও দলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বেছে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক ত্যাগী নারী নেত্রীরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি। সে অনুযায়ী আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাচ্ছে দলটি।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, জনগ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার উন্নয়নে কাজের সম্ভাবনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার আগে জেলা ও তৃণমূলের মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে আসা নারী নেত্রীদের মনোনয়ন দিলে প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতির আভাস দেওয়ার পরেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এদের মধ্যে উত্তরের জেলা পাবনা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমার নাম। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সূত্র ধরেই রাজনীতিতে আসা উচ্চ শিক্ষিত এই নারী নেত্রীর।রাজনৈতিক জীবনে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও রাজধানী ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা সময়ের কণ্ঠস্বরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ১/১১ সরকারের সময় থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে মাসের পর মাস কারাগারে বন্দি ছিলাম। শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণেই বিভিন্ন সময় ৫টি মামলার আসামি হতে হয় আমাকে। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছি। আমাকে মনোনয়ন দিলে দলের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।ইখা
নওগাঁয় কবরস্থান থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার
নওগাঁর পোরশায় কবরস্থান থেকে একটি ১৩৭ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের শীতলী গ্রামের কবরস্থান থেকে মূর্তিটিকে উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নিশ্চিত করেন।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ জানতে পারে শীতলী গ্রামের রহমতের বাড়ির পশ্চিম পাশের পারিবারিক কবরস্থানে একটি মূল্যবান কষ্টিপাথরের মূর্তি পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলী পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে কবরস্থানের মাঝামাঝি স্থানে আম গাছের নিচ থেকে পরিতক্ত অবস্থায় মূর্তিটিকে উদ্ধার করা হয়। মূর্তিটির উচ্চতা ৫৬ ইঞ্চি এবং ওজন ১৩৭ কেজি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মূর্তিটি বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কষ্টিপাথরের মূর্তিটি প্রায় হাজার বছরের পুরনো। মূর্তিটি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।ইখা
লিচুর রাজ্য ছেয়ে গেছে সোনালী মুকুলে, ব্যপক ফলনের সম্ভাবনা
সেই ৮০ দশক থেকে পাবনার ঈশ্বরদী লিচুর রাজ্য নামে খ্যাত। সেই লিচুর রাজ্যে এখন গাছভর্তি সোনালী মুকুলে ছেয়ে গেছে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় বর্তমানে ব্যাপক পরিচর্যার কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে চাষ হচ্ছে রসালো এবং সুস্বাদু ফল লিচু। পুরো উপজেলা জুড়ে ছোট বড় মোট লিচুর বাগান রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ২৭০ টি। গতবছর এ এলাকায় উৎপাদিত মৌসুমি লিচুর বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তবে এ বছর গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় আগের যে কোন সময়ের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করছেন চাষীরা।চাষীদের তথ্যমতে, বছরের মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল আসা সম্পন্ন হয়।ঈশ্বরদীতে মূলত সবচেয়ে বেশি চাষ হয় ৩ জাতের লিচু। এগুলোর মধ্যে মোজাফ্ফর বা দেশী, বোম্বাই বা চায়না-৩ অন্যতম। তবে বর্তমানে বেশ কিছু নতুন জাতের কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ এবং চায়না-২ জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে এ অঞ্চলে। তবে চায়না-৩ জাতের লিচুর স্বাদ ও চাহিদা সবচেয়ে বেশী থাকার কারনে বর্তমানে এ অঞ্চলে এই জাতের লিচুর চাষ বাড়ছে।উপজেলার চরমিরকামারী, গাংমাথাল, জয়নগর, সিলিমপুর, আওতাপাড়া, জগন্নাথপুর, শেখের দাইড়, বক্তার পুর, মানিক নগর ও ছিলিমপুর এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের প্রতিটি গাছেই নতুন মুকুলের ঘ্রান মন কাড়ছে। আর চাষীদের সেই মুকুল পরিচর্যায় ব্যাপক কর্মব্যস্ততা দেখা গেছে।উপজেলার জয়নগর গ্রামে বাগান মালিক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার লিচুর মুকুর আনুপাতিক হারে বেশী। আমার প্রায় শতাধিক লিচুর গাছ রয়েছে। গত বছর ৩৫ থেকে ৪০ টি গাছে লিচু আসলেও এবার কমবেশী প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।মিরকামারী এলাকার লিচু চাষী ও ব্যবসায়ী মোঃ আরিফ বলেন, গতবছর লিচু কম থাকায় তেমন ব্যবসায় লাভের মুখ দেখিনি। তবে এবার লিচুর গাছে বেশ মুকুল দেখা যাচ্ছে। আমরা মুকুলগুলো রক্ষা করতে ব্যাপক পরিচর্যা করছি। মুকুল অনুযায়ী ফলন হলে আশাকরি গত বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি এবার পোষাতে পারব।জগন্নাথপুর এলাকার লিচুর মৌসুমি ব্যবসায়ী মোঃ কুদ্দুস আলী বলেন, প্রতিবছরই আমরা লিচুর মুকুল আসার আগেই অনেক বাগান কিনে থাকি। এবারও কিনেছি। তবে গত বছর ঠকে গেলেও এবারের অবস্থা আশানুরুপ অনেকটাই ভালো কারন প্রায় গাছেই লিচুর মুকুল ফুটেছে। আশা করছি এবার ভালো কিছু হবে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, গত বছর লিচুর পরিমান কম থাকলেও এবার গাছ ছেয়ে গেছে সোনালী মুকুলে। এ বছর উপজেলায় ৩১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এবার লিচুর জন্য আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। তাই ফলনের মাত্রাটাও আশা করা যাচ্ছে ভালো হবে।ইখা
টাংগুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ড
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী মাছরাঙা নামের একটি হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাউজবোটটির বেশ কিছু অংশ পুড়ে গেছে। এ সময় হাউসবোটে কোনো পর্যটক না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজারের পূর্ব পাড়ে রক্তি নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রতক্ষ্যদশী ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রক্তি নদীতে নোঙর করে হাউজবোটটির মেরামতের কাজ করছিল মিস্ত্রি ও কর্মচারীরা। হঠাৎ করেই হাউজবোটটির পেছন দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।টাঙ্গুয়া হাওরের পর্যটকবাহী নৌ সমিতির সভাপতি রব্বানী জানান, মাছরাঙা হাউজবোটটিতে আগুন লাগার পর আনোয়ারপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হাউজবোটটির ভেতরের অধিকাংশ সরঞ্জাম পুড়ে যায়।বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া জানান, হাউজবোড লাগা আগুন সবাই মিলে নিভানো হয়েছে। তাহিরপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে বলতে পারবো।ইখা
ঢাকা তুরাগে ১১ কোটি টাকা ডাকাতি মামলার আসামী তাহিরপুর থেকে আটক
বহুল আলোচিত ঢাকা তুরাগে সংগঠিত ১১ কোটি টাকা ডাকাতি মামলার মোঃ জনি মিয়া নামে এক আসামীকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা থেকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টায় উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন ট্যাকেরঘাট এলাকা থেকে আটক করা হয়।আটক জনি মিয়া(৩৫) উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামের মোঃ গনি মিয়ার ছেলে।পুলিশ জানায়, তুরাগ থানার মামলা নং ১০(৩) ২৩, ধারা ৩৯৫/৩৯৭/৪১২/৩৫ পেনাল কোড, এর পলাতক আসামী জনি মিয়া(৩৫) কে অদ্য রাতে টেকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ রিপন উদ্দিন সংর্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে বড়চড়া এলাকা থেকে ওয়ারেন্ট মূলে গ্রেফতার করে।টেকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ রিপন উদ্দিন জানিয়েছেন,আটক জনি মিয়াকে তাহিরপুর থানা সোপর্দ করা হয়েছে।তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমিনুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।এবি
ট্যাকেরঘাট খনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. খায়রুল আলমকে ৬০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিনিয়র শিক্ষক মো. মর্তুজ আলীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে উপস্থাপন না করা, কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আবু সুফিয়ান টিপু স্বাক্ষরিত একাধিক স্মারক ও নোটিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য বাসির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।অভিভাবক সদস্য বাসির আহমেদ জানান, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ সরকার ‘অটোপাস’ ঘোষণা করলে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অটোপাসের পর সেই টাকা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরিমানা বাবদ নেওয়া টাকা উত্তীর্ণ হলে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও, কৃতকার্য ও অকৃতকার্য কোনো শিক্ষার্থীই সেই টাকা ফেরত পায়নি। ওই অর্থ স্কুল ফান্ডে জমা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং অফিস সময় সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।কমিটি দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলেও তা সন্তোষজনকভাবে দাখিল করা হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়া জবাব সন্তোষজনক ছিল না।সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত অ্যাডহক কমিটির সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের মেয়াদ শেষে উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সিনিয়র শিক্ষক মো. মর্তুজ আলীকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যালয় কোড ২৭০৫ এবং কলেজ কোড ২৭০২। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ খায়রুল আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এনআই
সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাজার মনিটরিং, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
সুনামগঞ্জে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং করেছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও পুলিশ সুপার আ. ব. ম. জাকির হোসেন, পিপিএম।অভিযান চলাকালে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে শহরের ৪টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ২৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন জেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা।অভিযান চলাকালে একটি দোকানে লেবুর দাম যাচাই করলে দোকানদার ১২০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা বলেন। এ সময় উপস্থিত ক্রেতারা কম দামে লেবু কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন।পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। এদিন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট), জগন্নাথবাড়ি এলাকা, কাঁচাবাজার, ডিএস রোড, ফলবাজার, মধ্যবাজার ও পাইকারি বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং সহনীয় পর্যায়ে দাম রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুনজিত কুমার চন্দ, সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ, ম্যাজিস্ট্রেট সোয়াদ সাত্তার চৌধুরীসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।পুলিশ সুপার আ. ব. ম. জাকির হোসেন বলেন, “রমজান রহমতের মাস। এই মাসে ব্যবসায়ীরা কোনো প্রকার সিন্ডিকেট করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবেন না। কোনোভাবেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না।”ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “কোনোভাবেই যেন রমজান মাসে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না হয়। যদি কেউ পণ্যের দাম বেশি রাখেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এনআই
হবিগঞ্জে উপজেলা বিএনপি সভাপতিকে আটকের পর মহাসড়ক অবরোধ
হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-কে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত তার নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযানে ডিবি পুলিশের একটি দল অংশ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর আগে দুপুর ২টার দিকেও বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে গালাগালের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অডিওর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাখী রানী দাস বলেন, “আজ দুপুরে শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত।প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ইখা
অনলাইন ভোট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগস্টের পর কিছু সাধারণ ও নিরীহ লোককে আসামি করা হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইসরাইল ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ
ইরানে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইসরাইল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করে। একই সঙ্গে আপাতত ইসরাইলে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থাতেই নাগরিকদের ইসরাইল ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।গতকাল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। তবে আগামী সপ্তাহে আবারও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দুটি রণতরীসহ প্রায় এক ডজন যুদ্ধজাহাজ এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনা ভেস্তে গেলে তিনি সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন।এর আগে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানান, যারা দেশ ছাড়তে চান তারা যেন দ্রুত তা করেন। স্টাফদের পাঠানো এক ইমেইলে তিনি বলেন, যে কোনো দেশের ফ্লাইট পাওয়া গেলে সেটির টিকিট কেটে আগে ইসরাইল ত্যাগ করতে হবে, পরে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা যাবে।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। এমনকি দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার কথাও বলেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কোনো চুক্তি হলে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে ইরান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাবেই অনড় রয়েছে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।এফএস
এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে ‘কোনো ধারণা ছিল না’: কংগ্রেস কমিটিকে হিলারি
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কংগ্রেসের একটি কমিটিকে জানিয়েছেন, জেফরি এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। একই সঙ্গে তিনি আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, এ বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য।এপস্টেইনকাণ্ড তদন্তে গঠিত হাউজ ওভারসাইট কমিটির সামনে কয়েক ঘণ্টা ধরে বন্ধ দরজার বৈঠকে সাক্ষ্য দেন হিলারি ক্লিনটন। সাক্ষ্য শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি চাই সত্য প্রকাশিত হোক।তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তার সাক্ষ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি, ফলে তাকে বাইরে এসে তা ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে।সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনট শুক্রবার কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেবেন। শুরুতে ক্লিনটন দম্পতি কমিটির সমনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তবে কংগ্রেস অবমাননার প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা দেখা দিলে তারা সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।ক্লিনটন দম্পতি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প—তিনজনই এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।হিলারি ক্লিনটন বলেন, কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার তদন্তের প্রকৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন এবং তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন—যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।তিনি অভিযোগ করেন, কমিটির রিপাবলিকান সদস্যরা অন্য যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, তাদের কাউকেই এপস্টেইন বা তার দণ্ডিত সহযোগী সম্পর্কে প্রশ্ন করেননি।বিল ক্লিনটন আগেই বলেছেন, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান ছিল না এবং প্রায় দুই দশক আগে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর দাতব্য কাজের সূত্রে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক সিটির একটি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।শুনানির আগে নিউইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় নিজ বাসভবনের কাছে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পূর্বে হিলারি ক্লিনটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। আমি কখনো এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি বলে মনে পড়ে না। তার ব্যক্তিগত বিমান, দ্বীপ, বাড়ি বা কার্যালয়ে আমি কখনো যাইনি। এ বিষয়ে আমার আর কিছু যোগ করার নেই।এইচএ
কাবুল-কান্দাহারে হামলা, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পাকিস্তানের
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক বড় শহরে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কয়েক মাসের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের পর প্রতিবেশী দু’দেশের মধ্যে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। কাবুল ও কান্দাহারে বিস্ফোরণের শব্দ এবং আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন এএফপির সাংবাদিকরা। তালেবান কর্তৃপক্ষের দক্ষিণাঞ্চলীয় শক্ত ঘাঁটি কান্দাহারেও হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাকিস্তানের আগের বিমান হামলার জেরে আফগান বাহিনী সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায়। এর পরই নতুন এই অভিযান শুরু করে ইসলামাবাদ।সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত অক্টোবরে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৭০ জনের বেশি নিহত হন। এরপর থেকে স্থল সীমান্তের বেশিরভাগ ক্রসিং বন্ধ রয়েছে।ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে আফগানিস্তান। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর কয়েক দফা আলোচনা হলেও স্থায়ী সমঝোতা হয়নি।সর্বশেষ সীমান্ত সহিংসতায় উভয় বাহিনীই ডজনখানেক সেনা নিহতের দাবি করেছে। এর আগে আফগানিস্তানে ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক হামলা ও সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার এক্সে জানান, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে ‘আফগান তালেবান প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের সঙ্গে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন।তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ। এখন আমাদের ও আপনাদের মধ্যে উন্মুক্ত যুদ্ধ হবে।’পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোন ‘আগ্রাসী অভিপ্রায় গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে’।আকাশে যুদ্ধবিমানকাবুলে কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে যুদ্ধবিমান ও একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এএফপি সাংবাদিকরা। পরে গোলাগুলির শব্দও শোনা যায়।দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারের আকাশেও যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে। তালেবান সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা শহরটিতে অবস্থান করছেন।তালেবান সরকার পাকিস্তানের বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, এতে কেউ হতাহত হননি।এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি সীমান্তে ‘বড় আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার পুনরাবৃত্তির জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান।আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থল অভিযানে তাদের আট সেনা নিহত হয়েছেন।তোরখাম সীমান্তের কাছে পাকিস্তান থেকে ফেরা নাগরিকদের একটি শিবিরে মর্টার শেল আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। নানগারহার প্রদেশের তথ্যপ্রধান কুরেশি বাদলুন বলেন, ‘একটি মর্টার শেল শিবিরে পড়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সাত শরণার্থী আহত হয়েছেন। একজন নারীর অবস্থা গুরুতর।’অক্টোবর থেকে সীমান্ত অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকলেও আফগান প্রত্যাবাসনকারীদের পারাপারের অনুমতি ছিল।সীমান্তে মাসের পর মাস সহিংসতামুজাহিদ এএফপিকে বলেন, কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে ‘জীবিত আটক’ করা হয়েছে। তবে ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ দাবি অস্বীকার করেছে।আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশন জানায়, গত রোববার রাতে নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় অন্তত ১৩ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।মঙ্গলবারও উভয়পক্ষ সীমান্তে গুলিবিনিময়ের কথা জানায়। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে একাধিক প্রাণঘাতী আত্মঘাতী হামলা হয়েছে।ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হন। ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করে ।গত মাসে কাবুলের একটি রেস্তোরাঁয় প্রাণঘাতী আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করে গোষ্ঠীটির আঞ্চলিক শাখা ইসলামিক স্টেট-খোরাসান।প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি বারবার ভেঙে যাওয়ার পর চলতি মাসে সৌদি আরব মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। এর মাধ্যমে অক্টোবরে আফগানিস্তানে আটক তিন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দেওয়া হয়।ইখা
প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে ইনস্টাগ্রামে ১০০ মিলিয়ন ফলোয়ার নরেন্দ্র মোদির
বিশ্বের প্রথম কোনো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সালে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার এক দশকের মাথায় তিনি এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন। বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল উপস্থিতির দৌড়ে তিনি বর্তমানে অন্য সব বিশ্বনেতাকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদির অনুসারী সংখ্যা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে ট্রাম্পের অনুসারী সংখ্যা ৪ কোটি ৩২ লাখ। তালিকায় থাকা অন্য বিশ্বনেতাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অনুসারী ১ কোটি ৫০ লাখ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভার ১ কোটি ৪৪ লাখ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ১ কোটি ১৬ লাখ এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের অনুসারী ৬৪ লাখ।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মোদির পরবর্তী ৫ জন শীর্ষ নেতার সম্মিলিত অনুসারী সংখ্যাও তার একার অনুসারী সংখ্যার চেয়ে কম।ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও মোদির এই আধিপত্য স্পষ্ট। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অনুসারী ১ কোটি ৬১ লাখ এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অনুসারী প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ। নিজ দেশের অন্য নেতাদের তুলনায় মোদির এই বিশাল ব্যবধান তার ডিজিটাল প্রভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদি তার দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড, বিদেশ সফর, জনসম্পৃক্ততামূলক উদ্যোগ এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো এই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করে আসছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে ইনস্টাগ্রাম তার জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। প্রথাগত প্রচারমাধ্যমের বাইরে গিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর এই কৌশল বিশ্ব রাজনীতিতে যোগাযোগের নতুন ধারা তৈরি করেছে।ইখা
গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, ৫ পুলিশ নিহত
গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মধ্য গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবির এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় পৃথক দুটি পুলিশ পোস্টে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।গাজায় চলমান দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে। খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আল-মাওয়াসি এলাকার আল-মাসলাখ মোড়ে একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে ইসরায়েলি সামরিক হামলার পর তিনজনের মরদেহ এবং বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেন, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উল্লেখ্য, এই এলাকাটি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।অন্যদিকে, মধ্য গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবিরের প্রবেশমুখে একটি পুলিশ পোস্টে একই ধরনের ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েল গত ১০ অক্টোবর থেকে প্রায় প্রতিদিন তথাকথিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, এই ক্রমবর্ধমান মৃত্যু ইসরায়েলের মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং শান্তি পরিষদের ভূমিকাকে অস্বীকার করারই প্রতিফলন।তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের রূপ বা পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এলেও ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তার নির্মূল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আশ্বাস প্রদানকারী রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধ বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।ইখা
আফগানিস্তান-পাকিস্তানের ওপর নজর রাখছেন জাতিসংঘ মহাসচিব
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টেফান দুজারিকের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইনের প্রতি কঠোরভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, সীমান্তে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। তিনি উভয় পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা হ্রাস করে সংলাপের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ড্রোন হামলা, গোলাগুলি ও অন্যান্য সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক নাগরিকসহ উভয় পক্ষের সেনা সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাল্টাপাল্টি হামলা সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।জাতিসংঘ মহাসচিবের এই বিবৃতি এই সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।এদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ ও পাকিস্তান সরকার উভয়ই একে অপরকে সীমান্ত অস্থিরতার জন্য দায়ী করছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।যদি সংঘাত আরও বাড়তে থাকে তাহলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।এইচএ
পাকিস্তানের হামলায় ১৩৩ আফগান সেনা নিহত, আহত ২ শতাধিক
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে আফগান বাহিনীর অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন গযব লিল-হক’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর (পিএএফ) হামলায় কমপক্ষে ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ২ শতাধিক। এ ছাড়া আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের একটি বড় ডিপোও ইতোমধ্য ধ্বংস করা করা হয়েছে।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও তালেবান প্রশাসনের শক্তিকেন্দ্র কান্দাহারসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।এক্স বার্তায় তিনি বলেছেন, রাত ৩ টা ৪৫ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছেন পিএএফ এবং স্থলবাহিনী বা আর্মি। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।পাকিস্তান দাবি করেছে যে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর জোরালো হামলায় আফগান তালেবানের আস্তানাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। চিত্রল সেক্টরে আফগান বাহিনীর একটি চেকপোস্ট পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তারা। পাকিস্তানের ভাষ্যমতে, এর আগে আফগান বাহিনী পাক-আফগান সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলি চালিয়েছিল, যার জবাবেই এই অভিযান।২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এতে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় একাধিকবার যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়।সীমান্তের তোরখাম ও অন্যান্য ক্রসিংগুলো গত অক্টোবর থেকেই প্রায় বন্ধ রয়েছে। আজকের হামলার পর পুরো সীমান্ত এলাকায় চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। তালেবান মুখপাত্র দাবি করেন, তারা কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে জীবিত আটক করেছেন। যদিও ইসলামাবাদ এই দাবি অস্বীকার করেছে। এইচএ
পাকিস্তানে আফগানিস্তানের হামলা, সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষ
গত সপ্তাহের বিমান হামলার জবাবে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান।আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাদের ওপর হামলা চালানে হয়েছে৷ এরপর দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়।আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন, বিনা উস্কানিতে বারংবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হামলার জবাবে, সীমান্তে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অবস্থানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে।এফএস
২০২৫ সালে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ: জাতিসংঘ
বিশ্বজুড়ে অভিবাসন পথে ২০২৫ সালে অন্তত ৭ হাজার ৬৬৭ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ৯ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে সংখ্যাটি কিছুটা কমেছে। তবুও সংস্থাটি বলছে, এটি বৈশ্বিক সংকটেরই প্রতিফলন।আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপি বলেন, অভিবাসন পথে ধারাবাহিক প্রাণহানি একটি বৈশ্বিক ব্যর্থতা, যা আমরা স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারি না। তিনি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মৃত্যুগুলো অনিবার্য নয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করা এখনো সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুটগুলোর একটি। ২০২৫ সালে এই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ২ হাজার ১০৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন।এছাড়া স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আরও ১ হাজার ৪৭ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে অভূতপূর্ব সংখ্যক অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬০৬ জনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও ইতালিতে আগমনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।গত দুই সপ্তাহে দক্ষিণ ইতালি ও লিবিয়ার উপকূলে ২৩ জনের মরদেহ ভেসে উঠেছে বলেও জানিয়েছে আইওএম।সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালে আমেরিকা অঞ্চলে তুলনামূলক কম মানুষ বিপজ্জনক পথে যাত্রা করায় মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত এবং কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী দারিয়েন জঙ্গল অতিক্রমের চেষ্টাকারীর সংখ্যা কমেছে।২০১৪ সালে প্রতিবেদন শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালে আমেরিকা অঞ্চলে সবচেয়ে কম মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করেছে আইওএম। তবে বছরের চূড়ান্ত সংখ্যা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন পথ নিশ্চিত না করা গেলে এই মানবিক সংকট অব্যাহত থাকবে।সূত্র: এএফপিএবি
৪২ যুদ্ধজাহাজ-সাবমেরিন নিয়ে বঙ্গোপসাগরে বিশাল মহড়া ভারতের
বঙ্গোপসাগরে বিশাল পরিসরে অনুষ্ঠিত ভারতীয় নৌবাহিনীর মহড়া ‘মিলান ২০২৬’ শেষ হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এই মহড়ায় অংশ নেয় ৪২টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন এবং ২৯টি সামরিক বিমান। সপ্তাহব্যাপী এ মহড়ার মাধ্যমে নৌ-সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের বার্তা দেয়া হয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক মহড়া ‘মিলান’ বুধবার শেষ হয়। মহড়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি এতে সহযোগিতার চিত্রও উঠে আসে। বন্ধুত্বপূর্ণ ১৮টি দেশের জাহাজ এতে অংশ নেয়।বিশাখাপত্তনম উপকূলে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্তে মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও সমন্বয়’- এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মিলান ২০২৬-এ নজিরবিহীন পরিসরে অংশগ্রহণ হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করাই ছিল এই মহড়ার উদ্দেশ্য।ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নজরদারি বিমানও এতে অংশ নেয়। মহড়ার শুরুতে ছিল ‘হারবার ফেজ’। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সেমিনার ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।এরপর ‘সি ফেজ’-এ উচ্চমাত্রার অপারেশনাল মহড়া চালানো হয়। এতে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধকৌশল, সমুদ্রপথে বিভিন্ন অভিযান, যোগাযোগ মহড়া এবং ক্রস-ডেক উড্ডয়নসহ উন্নত যুদ্ধকৌশলের অনুশীলন করা হয়। সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়ায় কামান ও বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এই সময়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নৌবাহিনী যৌথভাবে পরিকল্পনা করে এবং সফলভাবে যৌথ মিশন সম্পন্ন করে।মিলান ২০২৬-এ ভারতের পক্ষ থেকে আইএনএস বিক্রান্ত, বিশাখাপত্তনম শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার, নীলগিরি প্রকল্পের ফ্রিগেট এবং ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল আইএনএস নিস্তারসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ অংশ নেয় বলে জানানো হয়েছে।এবি
খেলা
সব দেখুন- এবার ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে নিষিদ্ধ হলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড
- ভারতের লজ্জাজনক হারের পর দ. আফ্রিকাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা বিজ্ঞাপন উধাও
- দুই ম্যাচ জিতলেও বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়তে পারে ভারত
- লেভান্তেকে হারিয়ে এক নম্বরে বার্সেলোনা
- বিশ্বকাপের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
- সাকিব ফিরলে বিশ্বকাপ পর্যন্ত সার্ভিস দিতে পারবে, দাবি আশরাফুলের
বিনোদন
সব দেখুন
মা ও দুই সন্তান—পরীমণির ছবিতে ভক্তদের ভালোবাসা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবসময়ই আলোচনায় থাকেন এই নায়িকা। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি।প্রকাশিত ছবিতে পরীমণিকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। দুই সন্তানকে নিয়ে শান্ত ও স্বাভাবিক এক মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন এই অভিনেত্রী। ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “হ্যাপি ফ্রাইডে, মাশাআল্লাহ।”ছবিটি প্রকাশের পর ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই কমেন্টে ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়েছেন। কেউ কেউ তার নতুন লুকের প্রশংসাও করেন।কমেন্টে এক ভক্ত লিখেছেন, ‘মাশাল্লাহ মা পরীর দুটো ডানা’। আরেকজন লিখেছেন, ‘পরীমণি মা হিসেবে অতুলনীয়’।উল্লেখ্য, ব্যক্তিজীবন ও ক্যারিয়ারের নানা প্রসঙ্গেই প্রায়শই আলোচনায় থাকেন পরীমণি। সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় এই অভিনেত্রী নিয়মিতই নিজের ও সন্তানদের বিভিন্ন মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।এইচএ
পর্দার আড়ালে আছেন যেসব তারকারা
বিনোদন অঙ্গনের তারকারা শুধু অভিনয়, গান বা উপস্থাপনায় নয়, মানবিক কাজ এবং সামাজিক উদ্যোগেও রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দুর্যোগ, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা, শিশু ও নারী উন্নয়ন-বিভিন্ন খাতে অনেক তারকা নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের মধ্যে প্রকাশ্যে সবচেয়ে বেশি সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আছেন।স্ত্রীর সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যুর পর তিনি গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। সড়ক দুর্ঘটনা সচেতনতা রোধে তৈরি, আইন প্রয়োগের দাবির মাধ্যমে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানবিক সহযোগিতার অন্যতম এক তারকা দম্পতি হচ্ছেন অনন্ত জলিল ও বর্ষা। এ তারকা দম্পতি সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কাজের জন্য সুপরিচিত। এ ছাড়া এ দম্পতি অসহায় দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সাহায্য করেন। সংগীতশিল্পী তাহসান অনেকদিন ধরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। শিক্ষা ও শিশু অধিকার নিয়ে তিনি কাজ করেছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে। একইভাবে জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম প্রায়ই মানবিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত হন। তিনি সরাসরি প্রচারের চেয়ে নীরবে সাহায্য করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম ইউনিসেফ বাংলাদেশের জাতীয় দূত হিসাবে শিশু অধিকার ও নারী সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মানবিক কাজ করছেন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কাজের জন্য পরিচিত। তিনি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাজের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করেন। চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কাজে সক্রিয় আছেন। তিনি তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘মৌসুমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে অসহায়, এতিম ও দুস্থদের জন্য কাজ করেন। অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা একজন উন্নয়নকর্মী ও শিশু উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ। তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, প্লে-ল্যাব মডেল ও শিশু অধিকার নিয়ে গত ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। এ ছাড়া তাকে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা গেছে।এইচএ
বিজয়-রাশমিকাকে শুভেচ্ছাবার্তায় কী লিখলেন নরেন্দ্র মোদি
চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মন্দানা আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজকীয় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন। দীর্ঘদিনের অবসান ঘটিয়ে এই তারকা দম্পতি নতুন জীবনের শুরু করতে যাচ্ছেন। তাদের এই বিশেষ মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি শুভেচ্ছাবার্তা। নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছাবার্তায় দেবেরাকোন্ডা ও মন্দানা, দুই পরিবারকেই তাদের সন্তানদের বিয়ের শুভক্ষণে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। মোদি লিখেছেন, বিজয় ও রাশমিকার বিয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত। দেবেরাকোন্ডা এবং মন্দানা পরিবারকে এই অত্যন্ত আনন্দময় ও শুভ অনুষ্ঠানের জন্য আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মোদি আরও লিখেন, এটি বিজয় এবং রাশমিকার জীবনের একটি নতুন, সুন্দর অধ্যায়ের সূচনা করে। বিজয় বা রাশমিকা কেউই তাদের চলচ্চিত্রের জগতে নতুন নয়। অবশ্যই রূপালী পর্দায় তাদের তৈরি জাদুকে ছাড়িয়ে যাবে।শেষে চিঠিতে লেখা ছিল, আগামী দিন, মাস এবং বছরগুলো ভাগাভাগি করা স্বপ্ন পরিপূর্ণতায় ভরে উঠুক। চিন্তাশীলতা এবং ভালোবাসার সঙ্গে, তারা দায়িত্ব ভাগ করে নেবে, একে অপরের অপূর্ণতাগুলিকে আলিঙ্গন করবে, এবং একে অপরের শক্তি থেকে শিখবে এবং সত্যিকারের অংশীদার হিসেবে জীবনের মধ্য দিয়ে যাত্রা করবে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দম্পতি এবং পরিবারের প্রতি আমার আশীর্বাদ এবং শুভকামনা রইল।জনপ্রিয় এই জুটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ভক্তদেরকে সম্মান জানিয়ে তারা লিখেছিলেন, কোনো পরিকল্পনা করার আগেই ভক্তদের ভালোবাসায় তারা এক হয়ে গেছেন।এইচএ
ডিসি মাসুদকে অভিনন্দন জানালেন ওমর সানি
ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। আগের মতো অভিনয়ে নিয়মিত নন। সর্বশেষ ‘ডেডবডি’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাকে। বর্তমানে তার ব্যস্ততা কাটছে নিজের ব্যবসা ঘিরে। তার পরিবারের সবাই দেশের বাইরে থাকলেও তিনি দেশে থেকেই ব্যবসা সামলাচ্ছেন।ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মাঝেও নিজের ফেসবুক আইডিতে নানা রকম পোস্ট দিয়ে আলোচনায় আসেন এই অভিনেতা।গতকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ওমর সানী ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পোস্টে ওমর সানী লেখেন, ‘অভিনন্দন ডিসি মাসুদ, একটি সন্তানকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য।’এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনার নেপথ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা রয়েছে বলে তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদক্ষেপে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর ফোনকলের পর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এই স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে ছেলেটিকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের শিকার স্কুলছাত্রের বাবার নাম খন্দকার শামীম। তিনি সচিবালয়ের কর্মচারী।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করলেন নতুন গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করলেন নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ সময় এসময় নতুন গভর্নরকে অভ্যর্থনা জানাতে ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ও হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গভর্নর ভবনের মূল ফটকে আসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আগে গভর্নর অর্থ মন্ত্রনালয়ে যান, সেখানে কার্যক্রম শেষ করে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেন। প্রজ্ঞাপনের পরদিনই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করেন তিনি।এর আগে, গতকাল বিকেলে আগের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সাথে চুক্তি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার৷ একই সাথে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে চার বছরের চুক্তি করে প্রজ্ঞাপন দেয় সরকার।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১০৭২ (প্রেসিডেন্স অর্ডার নম্বর ১২৭ অব ১৯৭২) এর ১০ (৫) অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। তবে কর্পোরেট অর্থায়ন, শিল্প ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিষয়ে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে বলে জানা গেছে।তিনি বিজিএমইএ-র বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বোর্ড সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই), রিহ্যাব, এবং আটাব-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য।মোস্তাকুর রহমান ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর একজন ফেলো মেম্বার।এইচএ
দেশের বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দাম দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি যোগ হবে।গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।এইচএ
১৬৫ কোটির অস্বাভাবিক লেনদেন, ৩ কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) তিন কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেনামে ২৩৪টি এফডিআর হিসাব খুলে ১৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।অভিযুক্তরা হলেন বিজয়নগর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. ইসলামুল হক (বর্তমানে মিরপুর শাখা), সাবেক এফভিপি খন্দকার নূরে ইমাম ও সাবেক ট্রেইনি সহকারী অফিসার জান্নাতুল মাওয়া সুইটি।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।দুদকের আবেদনে বলা হয়, তিনজনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।এবি
দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, ‘চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি এই লক্ষ্যমাত্রা আমরা অতিক্রম করে যাব। আর এটি সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেয়া ঋণের কিস্তির অর্থ ছাড়াই।’জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তখন আন্তব্যাংক কেনাবেচায় প্রতি মার্কিন ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ কমে হয় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি ডলার ৩৬ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি নেয়। ফলে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনতে থাকে। এতে রিজার্ভ বেড়েছে।চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই বছরের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।জানা যায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংকগুলো থেকে কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কিনেছে ১৫৩ কোটি ডলার। এর ফলে রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।এফএস
এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ পরিচালককে বদলি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গভর্নর পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালক এবং একজন অতিরিক্ত পরিচালককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ব্যাংকের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ অফিস আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক মো. জয়নুল ইসলাম হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে বদলি হয়ে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলে পরিচালক মো. শহিদ রেজা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ থেকে বদলি হয়ে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ যোগ দেবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উভয় বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।তৃতীয় বদলি হিসেবে পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে বদলি হয়ে মতিঝিল অফিসে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (কারেন্সি হিসেবে) দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি ব্যাংকের অর্থ এবং নীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন।এছাড়াও, পরিচালক গাজী মো. মাহবুবুল ইসলাম মতিঝিল অফিস থেকে বদলি হয়ে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এ যোগ দেবেন, যেখানে তিনি নীতি নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে মো. কামরুল ইসলাম গভর্নর অফিস থেকে বদলি হয়ে সদরঘাট অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলির মাধ্যমে সদরঘাট অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও দক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।এই বদলিগুলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে। এফএস
প্রয়োজনেই গভর্নর পরিবর্তন, আরও অনেক জায়গায় হবে: অর্থমন্ত্রী
পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অগ্রাধিকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রয়োজনবোধে পরিবর্তন হতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।কোন বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করা হলো? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, বিবেচনার তো কিছু নেই। একটা নতুন সরকার আসছে। নতুন সরকারের প্রায়োরিটি আছে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন খালি বাংলাদেশ ব্যাংকেই তো হয়নি, পরিবর্তন অনেক জায়গায় হচ্ছে এবং এটা হতেই থাকবে।তিনি বলেন, নতুন সরকারের নিজস্ব কর্মসূচি, পছন্দ ও নীতিগত চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়নের জন্য যেখানে প্রয়োজন, সেখানে পরিবর্তন আনা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের যে প্রোগ্রাম আছে, প্রিফারেন্স আছে, যে চিন্তা-ভাবনা আছে— সবগুলো মিলিয়ে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে তো পরিবর্তন হবে।তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিবর্তন হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হতে থাকবে। খুবই স্বাভাবিক এটা। এমআর-২
ফেব্রুয়ারির ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৭৯ বিলিয়ন ডলার
দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স প্রবাহে সুবাতাস বইছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনেই রেকর্ড পরিমাণ ২৭৯ কোটি ২০ লাখ (২.৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, মাসজুড়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ১৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যাংকগুলোর আকর্ষণীয় অফার প্রবাসীদের উৎসাহিত করছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ২২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বছর ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ।এর আগে গত জানুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছিল বাংলাদেশ। জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক একক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড। এফএস
বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করলেন নতুন গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করলেন নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ সময় এসময় নতুন গভর্নরকে অভ্যর্থনা জানাতে ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ও হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গভর্নর ভবনের মূল ফটকে আসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আগে গভর্নর অর্থ মন্ত্রনালয়ে যান, সেখানে কার্যক্রম শেষ করে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেন। প্রজ্ঞাপনের পরদিনই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করেন তিনি।এর আগে, গতকাল বিকেলে আগের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সাথে চুক্তি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার৷ একই সাথে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে চার বছরের চুক্তি করে প্রজ্ঞাপন দেয় সরকার।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১০৭২ (প্রেসিডেন্স অর্ডার নম্বর ১২৭ অব ১৯৭২) এর ১০ (৫) অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। তবে কর্পোরেট অর্থায়ন, শিল্প ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিষয়ে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে বলে জানা গেছে।তিনি বিজিএমইএ-র বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বোর্ড সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই), রিহ্যাব, এবং আটাব-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য।মোস্তাকুর রহমান ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর একজন ফেলো মেম্বার।এইচএ
দেশের বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দাম দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি যোগ হবে।গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।এইচএ
১৬৫ কোটির অস্বাভাবিক লেনদেন, ৩ কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) তিন কর্মকর্তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেনামে ২৩৪টি এফডিআর হিসাব খুলে ১৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।অভিযুক্তরা হলেন বিজয়নগর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. ইসলামুল হক (বর্তমানে মিরপুর শাখা), সাবেক এফভিপি খন্দকার নূরে ইমাম ও সাবেক ট্রেইনি সহকারী অফিসার জান্নাতুল মাওয়া সুইটি।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।দুদকের আবেদনে বলা হয়, তিনজনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।এবি
দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, ‘চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি এই লক্ষ্যমাত্রা আমরা অতিক্রম করে যাব। আর এটি সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেয়া ঋণের কিস্তির অর্থ ছাড়াই।’জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তখন আন্তব্যাংক কেনাবেচায় প্রতি মার্কিন ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ কমে হয় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি ডলার ৩৬ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি নেয়। ফলে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনতে থাকে। এতে রিজার্ভ বেড়েছে।চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই বছরের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।জানা যায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংকগুলো থেকে কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কিনেছে ১৫৩ কোটি ডলার। এর ফলে রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।এফএস
এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ পরিচালককে বদলি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গভর্নর পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালক এবং একজন অতিরিক্ত পরিচালককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ব্যাংকের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ অফিস আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক মো. জয়নুল ইসলাম হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে বদলি হয়ে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলে পরিচালক মো. শহিদ রেজা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ থেকে বদলি হয়ে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ যোগ দেবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উভয় বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।তৃতীয় বদলি হিসেবে পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে বদলি হয়ে মতিঝিল অফিসে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (কারেন্সি হিসেবে) দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি ব্যাংকের অর্থ এবং নীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন।এছাড়াও, পরিচালক গাজী মো. মাহবুবুল ইসলাম মতিঝিল অফিস থেকে বদলি হয়ে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এ যোগ দেবেন, যেখানে তিনি নীতি নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে মো. কামরুল ইসলাম গভর্নর অফিস থেকে বদলি হয়ে সদরঘাট অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলির মাধ্যমে সদরঘাট অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও দক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।এই বদলিগুলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে। এফএস
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
নরসিংদীর ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।বিক্ষোভ চলাকালে ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাত আব্দুল্লাহ বলেন, ধর্ষণের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের বারবার রাজপথে নামতে হচ্ছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।আরেক শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা বাঁধন স্পর্শ নরসিংদীর ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ধর্ষণ ও নারী হত্যার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।সমাবেশে বক্তারা গণমাধ্যমের প্রতিও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তুলে ধরার দাবি করেন।ইখা
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে জবিতে বাস ট্র্যাকার অ্যাপ ‘জবি এক্সপ্রেস’ চালু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহন ভোগান্তি কমাতে ও যাতায়াত সহজ করতে বাস ট্র্যাকার অ্যাপ ‘জবি এক্সপ্রেস’ চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের দ্বিতীয় তলায় জকসু কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়।জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বাসের অবস্থান ও সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের ভোরে বাসের জন্য রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো, যা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াত। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহযোগিতায় জকসুর উদ্যোগে ‘জবি এক্সপ্রেস’ অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।”উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গুগল ম্যাপের অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর এটি এখন প্লে-স্টোরে প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই এটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে ‘জবি এক্সপ্রেস’ নামে একটি ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে, যেখান থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।অ্যাপটির কার্যকারিতা সম্পর্কে রিয়াজুল ইসলাম জানান, বাস চলাচলের সময় চালক বা সহকারী অ্যাপটি চালু করে লোকেশন অন রাখবেন। এতে শিক্ষার্থীরা রিয়েল-টাইমে বাসের অবস্থান দেখতে পাবেন। বাস পার্কিংয়ে থাকলে বা সার্ভিসে না থাকলে লোকেশন বন্ধ থাকবে। ইতোমধ্যে বাসচালক ও সহকারীদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।অ্যাপটির উদ্বোধনকালে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম ও কার্যনির্বাহী সদস্য মেহেদী হাসানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এনআই
এখন থেকে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করলেই, সম্মাননা প্রদান করা হবে: বাকৃবি উপাচার্য
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেছেন, এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গবেষক সর্বোচ্চ বাজেট সংগ্রহ করে মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে পারবেন, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।বৃস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বেকারি পণ্যে সবজি ফ্লেক্স (শুকনা বা গুড়া করা সবজি) সংযোজনের মাধ্যমে পুষ্টিমান বৃদ্ধির গবেষণা কার্যক্রম উৎভোদনের সয়ি তিনি এসব কথা বলেন।উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতিতে এবং উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার উন্নয়নে গবেষণাই মূল চালিকাশক্তি। গবেষণা করার আনন্দ যে অধ্যাপক একবার উপভোগ করেছেন তিনি গবেষণা ছাড়া থাকতে পারেন না। গবেষণাকে কেবল একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে তা শিল্প ও বানিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তবে তার আগে ক্লাস-পরীক্ষার দিকে শিক্ষকদের গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে যাতে ক্লাসের বা রেজাল্টের জন্য বসে থাকতে না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ সূচনা কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ।কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলজারুল আজিজ। এসময় তিনি বলেন, শুধুমাত্র বেকারি পণ্যের জন্য বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ১০০ মেট্রিক টন সবজি ফ্লেক্স আমদানি করে। দেশে উৎপাদিত পুষ্টিকর সবজি মৌসুমে উদ্বৃত্ত থাকলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এর বড় অংশ অপচয় হয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে এসব সবজি শুকিয়ে ফ্লেক্সে রূপান্তর করা গেলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যে তা সংযোজন করে ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য তৈরি করা যাবে। এতে করে সবজি ফ্লেক্স আমদানির পরিমাণও কমানো সম্ভব হবে।তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় উপযোগী সবজি নির্বাচন, মানসম্মত প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ এবং বেকারি পণ্যে গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে শিল্পখাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাজারজাতকরণের কৌশল প্রণয়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা এবং ইফাদ মাল্টি প্রডাক্ট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন মন্ডল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ইখা
দীর্ঘদিন ধরে ক্যারিয়ার এডভাইজার সার্ভিসের কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যারিয়ার এডভাইজার সার্ভিসের (CADS) কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সর্বশেষ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের ৪ মার্চ। যেখানে জাপানে উচ্চশিক্ষিত চাকরি সুযোগ নিয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর গত প্রায় এক বছরে ক্যাডস কার্যত বড় কোন কর্মশালা, সেমিনার বা চাকরিমেলার আয়োজন করেনি। গত বছর ২২ জুন ক্যাডস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল বারী এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নতুন কোনো পরিচালক নিয়োগ না হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত হয়ে আছে। বর্তমানে ওই দপ্তরে একজন অফিসার এবং একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার কর্মরত থাকলেও কার্যক্রম চালু নেই।সরেজমিনে ক্যাডস অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস বন্ধ, নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিস তানিয়া আফরোজকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। অফিসার (ইনচার্জ) মো. মুরশেদ হাসান খানকে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। জানা যায়, পরিচালক না থাকায় কোনো উদ্যোগ বা কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। প্রশাসন থেকেও নতুন পরিচালক নিয়োগের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।ক্যাডস প্রতিষ্ঠার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। চাকরি, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল এই কেন্দ্রের। এছাড়া স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের তথ্য প্রদান, যোগাযোগ ও প্রেজেন্টেশন দক্ষতা উন্নয়ন, এবং বিতর্ক ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পরিকল্পনা ছিল।কিন্তু বাস্তবে ক্যাডস গত এক বছরে কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ক্যাডস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সময়মতো তথ্য পাচ্ছেন না। কেউ কেউ বলছেন, ক্যাডস যদি নিয়মিতভাবে কার্যক্রম চালাতো, তবে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারতেন।শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও একাডেমিক কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের অবহেলা ও অবজ্ঞার কারণে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন দেওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মটি অচল হয়ে আছে।এ বিষয়ে হাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু হাসানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এবিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম শিকদার বলেন, ভিসি স্যার কাউকে নিয়োগ দেয় নাই যার ফলে সেটা অকার্যকর হয়ে আছে।ইখা
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, জানবেন যেভাবে
কনটেন্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন একটি সুবিধা চালু করেছে গুগল। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে এখন আসল ছবি বা ভিডিও আর এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট আলাদা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। গুগলের জেমিনি অ্যাপ ব্যবহার করে এখন সহজেই জানা যাবে কোনো ছবি বা ভিডিও গুগলের এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না। এই সুবিধাটি সম্ভব হয়েছে গুগলের বিশেষ ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তি সিনথআইডির মাধ্যমে, যা এআই-তৈরি কনটেন্টের ভেতরে অদৃশ্য ডিজিটাল চিহ্ন সংযুক্ত করে।কীভাবে যাচাই করবেন এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট, ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি তুলে ধরা হলো— জেমিনি অ্যাপে প্রবেশ: প্রথমে জেমিনি অ্যাপটি চালু করুন। এই যাচাই সুবিধা বর্তমানে সমর্থিত সব ভাষা ও দেশে চালু রয়েছে। সঠিক ফল পেতে অ্যাপটির সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে গুগল। কনটেন্ট আপলোড: যে ছবি বা ভিডিও যাচাই করতে চান, সেটি সরাসরি জেমিনি অ্যাপে আপলোড করুন। ভিডিওর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ এমবি সাইজ এবং ৯০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ফাইল আপলোড করা যাবে। ফাইল যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি সাধারণ মেসেজিং অ্যাপের মতোই সহজ।ফাইল আপলোডের পর জেমিনিকে সরাসরি প্রশ্ন করুন—‘এটি কি গুগল যাচাই দিয়ে তৈরি?’ অথবা ‘এই কনটেন্টটি কি যাচাই -জেনারেটেড?’ স্বাভাবিক ও কথোপকথনের ভঙ্গিতেই প্রশ্ন করা যাবে, কারণ জেমিনি বিভিন্নভাবে করা প্রশ্ন বুঝতে সক্ষম।এরপর জেমিনি আপলোড করা কনটেন্টে সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না তা স্ক্যান করে জানাবে। ভিডিওর ক্ষেত্রে অডিও ও ভিজ্যুয়াল উভয় অংশেই এই শনাক্তকরণ করা হয়। প্রয়োজনে জেমিনি নির্দিষ্ট করে জানাবে ভিডিওর কোন অংশে এআই-তৈরি উপাদান রয়েছে।কীভাবে কাজ করে সিনথআইডি:সিনথআইডি প্রযুক্তি এআই দিয়ে কনটেন্ট তৈরির সময়ই তাতে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে। এটি মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, তবে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। এই ওয়াটারমার্ক এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ক্রপ করা, ফিল্টার দেওয়া, কমপ্রেশন বা ফ্রেমরেট পরিবর্তনের পরও তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।কনটেন্টের স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ: ২০২৩ সালে চালুর পর থেকে গুগল ইতোমধ্যে ২০ বিলিয়নের বেশি এআই-তৈরি কনটেন্টে সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক যুক্ত করেছে।এইচএ
বিশ্বজুড়ে বিভ্রাট ইউটিউব এখন স্বাভাবিক, জানা গেল কারণ
হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাপী ব্যাপক বিভ্রাটের কবলে পড়েছিল জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। মঙ্গলবার গভীর রাতে কয়েক লাখ ব্যবহারকারী সাইটটিতে প্রবেশ করতে বা ভিডিও দেখতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। তবে ভোর রাতে আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে বলে জানা গেছে। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যাটি এখন সম্পূর্ণ সমাধান করা হয়েছে এবং সব পরিষেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।ইন্টারনেট বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১টার দিকে সমস্যার পরিমাণ চরমে পৌঁছায়। সে সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী ইউটিউবে ঢুকতে না পারার অভিযোগ জানান। বিভ্রাট চলাকালীন অনেক ব্যবহারকারী সাইটটির হোমপেজে গেলে তাদের ‘পরে আবার ফিরে আসার’ বার্তা দেখানো হচ্ছিল।ইউটিউব জানিয়েছে, মূলত তাদের ‘সুপারিশ ব্যবস্থা’ বা রিকমেন্ডেশন সিস্টেমে ত্রুটির কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে ইউটিউব অ্যাপ, ইউটিউব মিউজিক, কিডস এবং টিভি—সবগুলো প্ল্যাটফর্মেই ভিডিও প্রদর্শনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল।বিভ্রাট কাটিয়ে ওঠার পর এক বিবৃতিতে ইউটিউব জানায়, ‘আমাদের সুপারিশ ব্যবস্থার সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে। ইউটিউব ডটকমসহ আমাদের সব প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ এখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।’ বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা জিএমটি ভোর ৪টার দিকে সাইটটি ব্যবহার করে দেখেছেন যে এটি পুনরায় সক্রিয় হয়েছে।গুগলের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। প্রতি মাসে প্রায় ২৫০ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী ইউটিউব ব্যবহার করেন। এত বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীর জীবনে ইউটিউব একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে কয়েক ঘণ্টার এই বিভ্রাট বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে।এইচএ
নিজের ফোনেই পাবেন ভোটের ফলাফল
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের ফলাফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইলেকশন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভোটাররা রিয়েল টাইমে ফলাফল দেখতে পারবেন এবং নির্বাচনি তথ্য সহজে জানতে পারবেন।জেনে নিন কীভাবে ঘরে বসেই এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল জানতে পারবেন-অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন: অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে উভয়েই পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যাবে। ডাউনলোডের পর ফোনে ইনস্টল করে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে।অ্যাকাউন্ট বা লগইন প্রক্রিয়া: সাধারণত ভোটের ফলাফল দেখার জন্য লগইন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য বা ইভিএম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে অ্যাপটি আপনাকে ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে লগইন করতে বলবে। লগইন করলে ভোটের নথি, ভোটার স্ট্যাটাস এবং নির্বাচনী কেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।ভোটের ফলাফল দেখার ধাপক. নির্বাচন ও কেন্দ্র নির্বাচন: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে ‘ইলেকশন রেজাল্টস’ বা ‘ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনটি থাকবে। এখানে নির্বাচনের ধরন নির্বাচন করতে হবে (জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা, বা ইউনিয়ন নির্বাচন)। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।খ. কেস্টিং এবং ফলাফল: নির্বাচনি কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের লাইভ আপডেট দেখার সুযোগ থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড হবে। ভোটের ভোটের সংখ্যা, প্রার্থী বা দল অনুযায়ী ভাগফল এবং ভোটের শতাংশ দেখা যাবে।গ. গ্রাফ এবং চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপনা: অ্যাপটি ফলাফলকে গ্রাফ বা চার্টে দেখায়, যাতে কোন প্রার্থী বা দলের অবস্থান সহজে বোঝা যায়। লাইভ আপডেটের ফলে ভোটের ধাপ ধাপে অগ্রগতি দেখা যাবে।এইচএ
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
সেনাবাহিনীর আরও ৬ উচ্চ পদে রদবদল
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ৮টি পদে রদবদল আনা হয়েছিল।ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) করা হয়েছে। কিউএমজির দায়িত্ব পালন করা আসা লে. জেনারেল ফয়জুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন লে. জেনারেল শাহীন। লে. জেনারেল ফয়জুরকে এনডিসিতে বদলি করা হয়। এছাড়া সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেন আল মোরশেদকে ১৯ পদাতিক ডিভিশন থেকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাকিমুজ্জামানকে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট করা হয়। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লজিস্টিক এরিয়ার জিওসি হিসবে বদলি করা হয়।এফএস
প্রবাস
সব দেখুন
বাহরাইনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত
বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো বাহরাইনস্থ জাতিসংঘের কার্যালয় ও আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাহরাইনের আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বাহরাইন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বাংলাদেশ স্কুল ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন King Hamad Global Center for Peaceful Coexistence-এর নির্বাহী পরিচালক মুনীরা নাওফল আল-দোসেরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. নাজমা ত্বাকী এবং বাহরাইনে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি খালিদ আল-মিকওয়াদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন Bahrain Authority for Culture and Antiquities-এর ডাইরেক্টর জেনারেল মিস ফারাহ মোহাম্মদ মাততারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত এবং UNESCO কর্তৃক প্রেরিত ভিডিও বার্তা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সকল ভাষার সংরক্ষণ ও চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় কবিতা আবৃত্তি। চীন, মিশর, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, লেবানন, মালয়েশিয়া, নেপাল, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা তাদের ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করে বহুভাষিক সংস্কৃতির এক অনন্য আবহ তৈরি করেন।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপের বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে আগত কয়েকজন বিদেশি অতিথিকেও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।শেষ পর্বে রাষ্ট্রদূত অতিথিদের নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে বাহরাইনের প্রায় ১১টি স্কুলের ৭২টি চিত্রকর্ম স্থান পায়।ইখা
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ইফতারিতে বানান মজাদার চিকেন ব্রেড টোস্ট
প্রতিদিন ইফতারে একই খাবার খেলে একঘেয়েমি লাগে। খাবারে স্বাদ আনতে ইফতারে বানিয়ে নিন মজাদার চিকেন ব্রেড টোস্ট। উপকরণ: ব্রেড স্লাইস ৮টি, সেদ্ধ ও কুচি করা মুরগির মাংস ১ কাপ, কাঁচা মরিচ কুচি ২/৩ টি, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, ধনে পাতা ১ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১/৪ চা চামচ, ব্রেড ক্রাম প্রয়োজন অনুযায়ী, লবণ স্বাদমতো, মেয়নেজ অথবা টমেটো সস ২ টেবিল চামচ, ডিম ১টি, ভাজার জন্য তেল প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে একটি বাটিতে সেদ্ধ ও কুচি করা মুরগির মাংস, পেঁয়াজ, গোলমরিচ, কাঁচা মরিচ, ধনে পাতা, লবণ, মেয়নেজ অথবা সস একসাথে মিশিয়ে নিন। ব্রেডের এক পাশে সমানভাবে মুরগির মিশ্রণ নিয়ে। ব্রেডের আরেক পাশের স্লাইস দিয়ে ঢেকে হালকা চেপে নিন। অন্য একটি পাত্রে ডিম ফেটে নিন। স্যান্ডউইচটি ডিমে চুবিয়ে ব্রেড ক্রাম দিয়ে কোট করে মাঝারি আঁচে ভাজুন। সোনালি হয়ে এলে গরম গরম পরিবেশন করুন।এইচএ
