এইমাত্র
  • রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আরসার ৪ সদস্য আটক, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
  • ঢাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৩
  • পিটিআই প্রধানের পদ থেকে সরানো হলো গোহরকে
  • আর কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার সুযোগ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • রাশিয়ার ওপর আরও ৫০০ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
  • কাদের-চুন্নুকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, বাদ দেয়া হয়নি: রওশন
  • অবৈধ মজুতদাররা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চায়: খাদ্যমন্ত্রী
  • ৩ মার্চ কলকাতা মাতাবেন নগর বাউল জেমস
  • স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করলো ব্রিটিশ সরকার
  • ওআইসি সম্মেলন যোগ দিতে তুরস্কে গেলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী
  • আজ শনিবার, ১০ ফাল্গুন, ১৪৩০ | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
    রাশিয়ার ওপর আরও ৫০০ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
      রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রাশিয়ার ওপর নতুন করে আরও ৫০০ এর বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আজ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাইডেন।এছাড়া একশরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়ে বাইডেন বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠান রাশিয়াকে যুদ্ধে সহায়তা করছে। এছাড়া জ্বালানি বিক্রি করে যেন রাশিয়া বেশি অর্থ লাভ করতে না পারে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।ইউক্রেনের ওপর হামলা ও বিরোধী দলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির মৃত্যুর কারণে এসব নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে।এ ব্যাপারে বিবৃতিতে বাইডেন আরও বলেন, ‘বিদেশে আগ্রাসন ও দেশে নির্যাতনের জন্য আরোপিত এসব নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করবে—পুতিনকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’নাভালনিকে কারাদণ্ড দেওয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তারা নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া রাশিয়ার অর্থনৈতিক খাত, প্রতিরক্ষা শিল্প, কেনাকাটার নেটওয়ার্ক এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন বলে জানিয়েছেন বাইডেন।বিবৃতিতে বাইডেন ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সহায়তা দিতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুই বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে এখনো ইউক্রেনীয়রা প্রবল সাহসিকতা নিয়ে লড়াই করে চলছেন। কিন্তু তাদের অস্ত্র ফুরিয়ে আসছে। রাশিয়ার অব্যাহত হামলা প্রতিহতে ইউক্রেনের আরও অস্ত্র প্রয়োজন। ইরান ও উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রের কারণে রাশিয়া এখনো হামলা অব্যাহত রাখতে পারছে। এ কারণে খুব দেরি হওয়ার আগে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভকে দ্রুত ইউক্রেনের সহায়তা বিলকে অনুমোদন দিতে হবে।
    পণ্য মজুতকারীদের গণধোলাই দেয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী
    জিনিস মজুত রেখে বা লুকিয়ে রেখে দাম বাড়িয়ে দেওয়া লোকদের গণধোলাই দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে জার্মানি সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।সকাল সাড়ে ১০টার পর প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। এতে দেশি বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। যথারীতি লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।দ্রব্যমূল্য, অবৈধ মজুত ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ বছর ধরে যে পরিবর্তন এসেছে তা তো স্বীকার করবেন। ভাতের জন্য হাহাকার ছিল। একটু নুন ভাত। একটু ফ্যান চাইত। এখন তা চায় না। ডিম লুকিয়ে রেখে দাম বাড়ানো, আপনার কী মনে হয় না দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সরকার উৎখাতে আন্দোলনকারীদের কিছু কারসাজি আছে?শেখ হাসিনা বলেন, এর আগে পেঁয়াজের খুব অভাব। দেখা গেলে বস্তার পর বস্তা পচা পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দিচ্ছে। এই লোকগুলোর কী করা উচিত, আপনারাই বলুন কী করা উচিত? তাদের গণধোলাই দেওয়া উচিত। কারণ আমরা সরকার কিছু করলে বলবে, সরকার করেছে। পাবলিক যদি প্রতিকার করে, তাহলে সব থেকে ভালো, কেউ কিছু বলবে না। জিনিস লুকিয়ে রেখে পচিয়ে ফেলে দেবে, আর দাম বাড়াবে।এর আগে, লিখিত বক্তব্যে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে মূলত রাষ্ট্র/সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতারা, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

    জাতীয়

    সব দেখুন
    ওআইসি সম্মেলন যোগ দিতে তুরস্কে গেলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী
    ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর তথ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন তিনি। সফরকালে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ওআইসির সদস্য দেশগুলোর তথ্যমন্ত্রীদের ইসলামিক সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেবেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল সরকারের অপতথ্য এবং শত্রুতা’।   এদিন কাতার ও তুরস্কের তথ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। এ ছাড়া আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘তার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন’ অফিস পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রতিমন্ত্রীর। তুরস্ক সফর শেষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ফিরবেন তিনি।
    দেশে ডলার সংকট নেই, তবে দাম একটু বেশি: সালমান এফ রহমান
    দেশে এখন আর ডলারের সংকট নেই, তবে দাম একটু বেশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীতে আহলে হাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৪তম তাবলীগী ইজতেমা ২০২৪ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একথা বলেন তিনি। সালমান এফ রহমান বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।   তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে কৃষি নির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে বিসিকের উন্নয়ন নিয়ে নতুনভাবে ভাবা হচ্ছে। কার্গো বিমান চালুর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কপোরেশনের মেয়র এ. এইচ. এম খায়রুজ্জামান লিটন প্রমুখ।এমএইচ
    পণ্য মজুতকারীদের গণধোলাই দেয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী
    জিনিস মজুত রেখে বা লুকিয়ে রেখে দাম বাড়িয়ে দেওয়া লোকদের গণধোলাই দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে জার্মানি সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।সকাল সাড়ে ১০টার পর প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। এতে দেশি বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। যথারীতি লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।দ্রব্যমূল্য, অবৈধ মজুত ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ বছর ধরে যে পরিবর্তন এসেছে তা তো স্বীকার করবেন। ভাতের জন্য হাহাকার ছিল। একটু নুন ভাত। একটু ফ্যান চাইত। এখন তা চায় না। ডিম লুকিয়ে রেখে দাম বাড়ানো, আপনার কী মনে হয় না দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সরকার উৎখাতে আন্দোলনকারীদের কিছু কারসাজি আছে?শেখ হাসিনা বলেন, এর আগে পেঁয়াজের খুব অভাব। দেখা গেলে বস্তার পর বস্তা পচা পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দিচ্ছে। এই লোকগুলোর কী করা উচিত, আপনারাই বলুন কী করা উচিত? তাদের গণধোলাই দেওয়া উচিত। কারণ আমরা সরকার কিছু করলে বলবে, সরকার করেছে। পাবলিক যদি প্রতিকার করে, তাহলে সব থেকে ভালো, কেউ কিছু বলবে না। জিনিস লুকিয়ে রেখে পচিয়ে ফেলে দেবে, আর দাম বাড়াবে।এর আগে, লিখিত বক্তব্যে মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে মূলত রাষ্ট্র/সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতারা, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।
    বিদেশি ঋণের চাপ আছে, তবে বেশি না: অর্থমন্ত্রী
       বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ তো কিছুটা আছে। তবে  খুব যে বেশি চাপ বিষয়টা ওইরকম না। ঋণ পরিশোধের জন্য আমরা কি মরে গেছি?আজ বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশান (আইওএম) ও আইএফএডির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি আছে।একটা কমে আরেকটা আবার বাড়ে। কি করব? জোর করে ধরে নামাব? তবে একটু ধৈর্য ধরেন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’তিনি আরো বলেন, ‘ইফাদ হাল নদীতে রেনু পোনার উন্নয়নে দুই বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। এমন কাজ সামনে আরো করব।আইওএম বৈদেশিক মাইগ্রেন্ট নিয়ে কাজ করে। প্রবাসীদের আনা-নেওয়ার কাজ করে তারা। সামনে এই ধরনের সহায়তা তারা অব্যাহত রাখবে।’
    ‘বিএনপির আটক কর্মীদের মুক্তির সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই’
     স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, গেলো ২৮ অক্টোবর বিচারপতির বাসভবনে হামলাসহ নানা ধরনের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত তাদের অনেককে মুক্তিও দিয়েছেন। তবে এর সঙ্গে নির্বাচনের কোন সম্পর্ক নেই। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে কোনও বাধা দেবে না সরকার। তবে আন্দোলনের নামে তারা রাস্তা বন্ধ করে কোন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে, ভাঙচুর করলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।`বিএনপি বিরোধী দল হবে না' মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেহেতু তারা জাতীয় সংসদেই নেই, সে কারণে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দল হিসেবে গণ্য হতে পারে না বিএনপি।এ সময় সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি নিয়েও কথা বলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বন্দিবিনিময় চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি কোনও কর্মী যদি সেখানে অপরাধ করে, তাহলে তাকে ফেরত পাঠানো এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত সৌদি কোন নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও ফেরত পাঠানো হবে নিজ নিজ দেশে।  যার যার দেশ এসব অপরাধীকে বিচারের আওতায় এনে বিচারকাজ সম্পন্ন করবে বলেও জানান তিনি।মিয়ানমার থেকে আসা কোন রোহিঙ্গাকে আর আশ্রয় দেয়া হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য সে দেশ থেকে পালিয়ে আসা সেনাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা কোন রোহিঙ্গাকে আর আশ্রয় দেয়া হবে না।তিনি সে দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান বিদ্রোহীদের যে যুদ্ধ চলছে, সেটি বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার জন্যও অনুরোধ জানান।
    বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই মাতৃভাষা ও স্বাধীনতা পেয়েছি: শেখ হাসিনা
      আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। বিশ্বের বুকে যে পরিচয়টা পেয়েছি, সেটা দিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমান। আমরা যে মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছি, আমরা যে স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি সেটা তার হাত ধরেই এসেছে। এ উপমহাদেশে একমাত্র ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশ। সে জাতি রাষ্ট্র আমরাই পেয়েছি।  বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের দেশের কিছু আঁতেল এক সময় বলেছে, শেখ মুজিব ভালো প্রশাসক ছিলেন না। অথচ, যে সেক্টরে হাত দিয়েছি, দেখেছি মূল কাজটা বঙ্গবন্ধু করে দিয়ে গেছেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার কাজ করেছেন। স্বল্পোন্নত দেশ করে দিয়ে গেছেন। তার দেখানো পথেই আমরা এগিয়েছি।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্রের সবক শুনতে হয়। অথচ তারা নানান উপায়ে বঙ্গবন্ধুকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে চলে যায় আমাদের পতাকা। ইনডেমনিটি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করেছে। খুনিদের পুনর্বাসন করে নানান জায়গায় পদায়ন করেছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে তুলে দিয়েছে আমাদের দেশের পতাকা।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃত করা ও বাংলাদেশের মানুষকে হেয় করা এক শ্রেণির মানুষের মজ্জাগত। তাদের কিছুই ভালো লাগে না রোগ। এক সময় আমি বঙ্গবন্ধুর ভাষা আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দেয়ার ফলে একজন লিখলেন, আমি এগুলো মিথ্যা বলেছি। পরে এম আর আক্তার মুকুল সাহেবকে দিয়ে জবাবটা লেখালাম। সে সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী তখন তাকে দিলাম। বললাম, আপনিই লেখেন। আমরা তো চুনোপুঁটি। আমরা লিখলে হবে না।’তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা সেই সময়ে একটার পর একটা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সেটিই ছিল আমাদের পাথেয়। সেগুলোর পথ ধরেই আমরা এগিয়ে গেছি। ভাষার ওপর একটার পর একটা আঘাত আসে। তখন বাংলার মানুষ প্রতিবাদ করেছে।নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধু তার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে যে চেতনা, তার থেকেই আমাদের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আসে। জাতির পিতা এটি তার আত্মজীবনীতেও লিখেছেন, ৫২ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন একাত্তরের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে ও ছাত্রলীগ ১৯৪৮ সালে গঠিত। এই দেশের যতটুকু অর্জন, তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।’
    পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও তার স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
    পরিবেশ অধিদপ্তরের (ঢাকা অঞ্চল) পরিচালক সৈয়দ নজমুল আহসান (৫৬) ও তার স্ত্রী নাহিদ বিনতে আলমের (৪৮) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মারা যায় সৈয়দ নজমুল আহসান। এরপর আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার স্ত্রী নাহিদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ওসি মুন্সী সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, বুধবার মিরপুর ২ অফিসার্স কমপ্লেক্সে বাসায় স্বামী-স্ত্রী উভয় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের লোকজন নজমুল আহসানকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এসময়ে অসুস্থ স্ত্রী নাহিদ বিনতে আলমকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। তিনিও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।ওসি জানান, বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদের ঠিক কী কারণে মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সঠিক কারণ জানা যাবে।রাজধানীর মিরপুর ২-এর অফিসার্স কোয়ার্টারে থাকতেন এই দম্পতি। তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স ১২, আরেক জনের বয়স ১৫। নাজমুল আহসানের গ্রামের বাড়ি মাগুড়া সদর উপজেলায়। তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ছিলেন। 
    ২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: প্রধানমন্ত্রী
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সরকারগুলো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জাতির পিতা যেখানে রেখে গিয়েছিলেন সেখানেই পড়েছিল। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোন অ্যাক্ট-১৯৭৪’র সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিশাল সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের কোনো অধিকার ছিল না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যা করে সংবিধান লঙ্ঘন করে, যারা ক্ষমতায় এসেছিল, ২১টা বছর তারা সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কোনো কথা বলেনি। অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা কোনো সরকার, বিশাল সমুদ্রসীমায় অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোনো রকম উদ্যোগও নেয়নি। শুধু সমুদ্রসীমা নয়, স্থলসীমা চুক্তিও তিনি (বঙ্গবন্ধু) করে গেছেন। পরবর্তীতে সেটা আর কার্যকর করা হয়নি। পরবর্তীতে আমরা যখন সরকারে আসি, সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করি। তবে কাজগুলো করা হয় খুব গোপনীয়তার সঙ্গে।তিনি আরও বলেন, সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তিতে আমরা ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করলেও পরবর্তী সরকার আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ৮ বছর সময় নষ্ট করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসার পর অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমুদ্রসীমা জয় করে। আমরা যে, সম্ভাবনাময় সুবিশাল অর্থনৈতিক এলাকা পেলাম, যা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। শেখ হাসিনা বলেন, ভারত মহাসাগরের ভেতরেই আমাদের বঙ্গোপসাগর। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে বিশ্বের সকল ব্যবসা বাণিজ্য চলমান, এই সামুদ্রিক পথ সকল দেশ সমানভাবে ব্যবহার করছে, কোনোদিন কোনো রকম দ্বন্দ্ব এ অঞ্চলে হয়নি। আমরা সব সময় এটাই চাইব, এ অঞ্চলে যে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে, সেটা যেন সংঘাতপূর্ণ না হয়, শান্তিপূর্ণ বাণিজ্য পথ হিসেবেই চলমান থাকবে। তিনি বলেন, ২০১২ এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ-মিয়ানমার এবং ভারতের সাথে সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তি করি। আজ বিশাল সমুদ্রসীমার অধিকার রয়েছে, আমরা সম্ভাবনাময় একটা বিশাল অর্থনৈতিক এলাকা পেয়েছি। বিশাল সমুদ্রসীমার যথাযথ ব্যবহার করে দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করাই আমাদের লক্ষ্য।

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    রাজনীতি

    সব দেখুন
    কাদের-চুন্নুকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, বাদ দেয়া হয়নি: রওশন
      জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেছেন, জিএম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নুর ব্যর্থতার জন্য জাতীয় পার্টিতে বিপর্যয় নেমে এসেছিলো। এজন্যই দুই জনকে শুধুমাত্র তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। দল থেকে বাদ দেয়া হয়নি। তারা সংসদে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিত্ব করবেন। আশা করি, সেখানে তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবেন।শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় মহিলা পার্টির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।জাতীয় পার্টির অগণিত নেতাকর্মীর মনের যন্ত্রণা ঘোচাতেই আমাকে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে হয়েছে উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, এরশাদভক্তদের জাতীয় পার্টি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের প্রতি অনুরক্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো মতানৈক্য নেই। যারা পল্লিবন্ধুকে মুছে ফেলতে চায় তারা আলাদা থাকতে পারে। আমি কোনোভাবেই পার্টিকে ছোট করতে পারি না।তিনি বলেন, যাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল কিংবা যাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাদের সবাইকে আমি পল্লিবন্ধুর রেখে যাওয়া পতাকা তলে আবার নিয়ে এসেছি। আগামী ৯ মার্চ পার্টির জাতীয় কাউন্সিলে যোগ্য নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়ে রওশন বলেন, জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। সর্বস্তরের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে। জাতীয় উন্নয়নে সমানভাবে নারীদের কাজে লাগতে হবে। নারীদের উদ্দেশ্যে রওশন বলেন, শুধু দুঃখ-ক্ষোভের কথা মুখে বললেই চলবে না। প্রতিবাদ করে প্রতিকার আদায় করে নিতে হবে। দলের মধ্যেও নারী নেতৃত্বকে এই অধিকার কেড়ে নিতে হবে। এদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন তিন নারী। তারা কেউ ব্যর্থ নন। এটাই এদেশের নারী সম্মানের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা পার্টির যুগ্ম মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন। আরো উপস্থিত ছিলেন- জাপার রওশনপন্থি মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম সেন্টু প্রমুখ।
    কাদের-চুন্নুকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, বাদ দেয়া হয়নি: রওশন
      জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেছেন, জিএম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নুর ব্যর্থতার জন্য জাতীয় পার্টিতে বিপর্যয় নেমে এসেছিলো। এজন্যই দুই জনকে শুধুমাত্র তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। দল থেকে বাদ দেয়া হয়নি। তারা সংসদে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিত্ব করবেন। আশা করি, সেখানে তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবেন।শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় মহিলা পার্টির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।জাতীয় পার্টির অগণিত নেতাকর্মীর মনের যন্ত্রণা ঘোচাতেই আমাকে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে হয়েছে উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, এরশাদভক্তদের জাতীয় পার্টি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের প্রতি অনুরক্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো মতানৈক্য নেই। যারা পল্লিবন্ধুকে মুছে ফেলতে চায় তারা আলাদা থাকতে পারে। আমি কোনোভাবেই পার্টিকে ছোট করতে পারি না।তিনি বলেন, যাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল কিংবা যাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাদের সবাইকে আমি পল্লিবন্ধুর রেখে যাওয়া পতাকা তলে আবার নিয়ে এসেছি। আগামী ৯ মার্চ পার্টির জাতীয় কাউন্সিলে যোগ্য নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়ে রওশন বলেন, জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। সর্বস্তরের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে। জাতীয় উন্নয়নে সমানভাবে নারীদের কাজে লাগতে হবে। নারীদের উদ্দেশ্যে রওশন বলেন, শুধু দুঃখ-ক্ষোভের কথা মুখে বললেই চলবে না। প্রতিবাদ করে প্রতিকার আদায় করে নিতে হবে। দলের মধ্যেও নারী নেতৃত্বকে এই অধিকার কেড়ে নিতে হবে। এদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন তিন নারী। তারা কেউ ব্যর্থ নন। এটাই এদেশের নারী সম্মানের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা পার্টির যুগ্ম মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন। আরো উপস্থিত ছিলেন- জাপার রওশনপন্থি মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম সেন্টু প্রমুখ।
    বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরকারের একটি অমানবিক খেলা: রিজভী
    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের হরিলুটের আর্থিক নীতির কারণে দেশের রাজকোষ প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছে। এখন ডলার সঙ্কটের কারণে কয়লা উৎপাদনের খরচ বাড়ার কথা বলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরকারের একটি অমানবিক খেলা বলে জনগণ মনে করে। জনগণের প্রশ্ন, ডলারের রিজার্ভ গেল কোথায়? উন্নয়নের ফানুস দেখিয়ে ডলার কারা আত্মসাৎ করেছে, কারা বিদেশে সম্পদ পাচার করেছে? অর্থ পাচার করেছে? বিশাল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে তা জনগণ জানে।বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।রিজভী বলেন, মার্চে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম আবারো বৃদ্ধি করবে সরকার। গণবিরোধী সরকার জবাবদিহিতার ধার-ধারেনা। এই অবৈধ সরকারের পক্ষে কোনো গণরায় নেই। গত ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচন জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে।তিনি বলেন, দখলদার সরকারেরা ঐতিহ্যগতভাবেই নিপীড়ক হয়। জনগণকে শত্রুপক্ষ ভাবে। তাই ক্ষমতা দখলে রেখে একের পর এক জনগণের উপর জুলুমের খড়্‌গ নামিয়ে আনে।রিজভী বলেন, জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত হবে অতীব নিষ্ঠুর। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হলে এর চেইন রিঅ্যাকশনে জনসাধারণের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। কৃষি শিল্প, কলকারখানা গভীর সংকটে পড়বে। এমনিতেই বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম হু-হু করে বাড়ছে। মানুষ তার প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। এর উপরে এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উপর চরম আঘাত আনবে। মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষরা এমনিতেই কঠিন কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছে। দেশে ৮০ শতাংশ মানুষের আয় বাড়েনি। অনাহারে-অর্ধাহারে কোনোরকম জীবন কাটাচ্ছে। তার উপর সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হবে। সামনে রমজান মাস, তার আগেই এই দাম বৃদ্ধি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো’।
    কারামুক্ত হলেন বিএনপির নেতা আলাল
      তিন মাসের বেশি সময় পর জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।  বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। কারাফটকে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী।কারাগার থেকে বের হয়ে প্রতিক্রিয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ছোট কারাগার থেকে বড় কারাগারে এসেছি। এই সরকার গোটা দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। এখন থেকে স্বৈরাচার সরকার হটানোর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।  উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন থানার চারটি মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আসামি করা হয়। ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শহীদনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
    চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মোশাররফ
     চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে তিনি তার গুলশানের বাসায় ৪ থেকে ৬ মাস বেড রেস্টে থাকবেন। যেহেতু ব্রেইনে অপারেশন হয়েছে, তাই ডাক্তার আগামী ৪ মাস কোনো ধরনের জনসমাগম ও করো সাথে সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সুস্থতা কামনায় পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
    কারামুক্ত নেতা-কর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়ার চিন্তা বিএনপির
    আর মাত্র কয়েক দিন বাকি পবিত্র মাহে রমজানের। রমজানকে ঘিরে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকতে চায় বিএনপি। একদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ সম্মান জানাবে বিএনপি। রমজানে কারামুক্ত নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করা হবে। ১০ সাংগঠনিক বিভাগে হবে এই ইফতার। এছাড়া এ পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া নেতা-কর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী নেতারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘ আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণে হতাশায় পড়া মাঠের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি সংগঠিত করা সম্ভব হবে।বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সারা দেশে ২৪ থেকে ২৫ হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও গ্রেপ্তারের এই সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি নয় বলে বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। তবে ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘিরে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়, যা চলে নির্বাচন পর্যন্ত।ভোটের মাসখানেক পর থেকে কারাবন্দী নেতা-কর্মীরা মুক্তি পেতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাসসহ অনেক নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য, এখনো প্রায় চার হাজার নেতা-কর্মী কারাবন্দী আছেন। সব নেতা-কর্মীকে মুক্ত করাই এই মুহূর্তে দলের প্রধান লক্ষ্য।বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতারা আশা করছেন, রমজানের আগে অবশিষ্ট নেতা-কর্মীরা কারামুক্ত হবেন। এর মধ্যে বিগত আন্দোলনের ‘সফলতা-ব্যর্থতার’ পর্যালোচনা হবে। এরপর তাঁরা ধীরে-সুস্থে নতুন কর্মসূচির দিকে যাবেন। কারামুক্তির পর গত সোমবার রাতে স্থায়ী কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভায় অংশ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম, আমীর খসরু মাহমুদ, মির্জা আব্বাসসহ কমিটির সদস্যরা।আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কারামুক্তির পর স্থায়ী কমিটির সভাটি ছিল মূলত সৌজন্য সভা। সেখানে কোনো সাংগঠনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সভায় কারামুক্ত নেতারা তাঁদের শারীরিক অসুস্থতাসহ কারাগারের অভিজ্ঞতার কথা সহকর্মীদের জানান। সবাই কারামুক্ত নেতাদের প্রতি সহানুভূতি জানান। একপর্যায়ে সারা দেশে মুক্তি পাওয়া নেতা-কর্মীদের সংবর্ধিত করার প্রস্তাব ওঠে। সেই সঙ্গে বিগত আন্দোলনে দায়িত্বশীল নেতাদের গ্রেপ্তারের পর ভারপ্রাপ্তদের চিঠি দিয়ে দলীয় প্রধানের পক্ষ থেকে ‘কৃতজ্ঞতা’ জানানোর কথাও আলোচনায় আসে। অল্প সময়ের মধ্যে কৃতজ্ঞতা জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারামুক্ত নেতা-কর্মীদের বিভাগভিত্তিক সংবর্ধনা দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ১০টি বিভাগে সংবর্ধনা সভা হতে পারে। এতে জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেবেন।
    আ.লীগ গণতন্ত্রের আন্দোলনকে বন্দি করে রেখেছে: রিজভী
     সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের আন্দোলনকে বন্দি করে রেখেছে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপির পক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।এসময় আওয়ামী লীগকে স্ববিরোধী এবং প্রতারক বলেও আখ্যা দেন রিজভী। তারা নিজেদের অপকর্ম সবসময় ভুলে যায় বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।রিজভী বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের প্রেরণায় বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষায় প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। সামনেও প্রতিবাদ করে যাবে। একুশের চেতনার মূল উপাদান মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা।তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাণ খুলে কথা বলতে পারি না। নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারি না। আমাদের অবরুদ্ধ করার জন্য রাষ্ট্রশক্তি আক্রমণ চালাচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রতীক খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রেখেছে। জুলুম-নিপীড়ন চালিয়ে এবং ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে বন্দি করে রাখার পরও বিএনপির কর্মীরা নতুন সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। একুশই আমাদের এই প্রেরণা যোগায়। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হব।বিএনপির নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ ডালপালা ছড়াচ্ছে, ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের ঝুলিতে আর কিছু নেই। তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে। এমনকি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থাকেও নিরুদ্দেশ করেছে। আওয়ামী লীগ বিভিন্নভাবে আবোল-তাবোল কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
    শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক বীজবৃক্ষ তুলে ফেলব : কাদের
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আজকে একমাত্র বাধা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা। আজকের এই দিনে সাম্প্রদায়িকতার যে বীজবৃক্ষ বিএনপির নেতৃত্বে ডালপালা বিস্তার করেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই বীজবৃক্ষকে সমূলে তুলে ফেলব আমরা। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। পরে স্বাধিকার সংগ্রামে বিভিন্ন মাইলফলক অতিক্রম করে একাত্তরের স্বত্ব জাতীয়তাবাদের দিকনির্দেশনা আসে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে। আমরা প্রথমে ভাষা যোদ্ধা। অতঃপর একাত্তরে আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা।তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যে বাংলাদেশের বিজয় হয়েছে, সেই বাংলাদেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধি আজকে সারাবিশ্বে বিস্ময়ের।এমআর

    দেশজুড়ে

    সব দেখুন
    স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে শহীদ মিনারে প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালকদের শ্রদ্ধা

    প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকলের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে ঢল নামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের। সেই ঢলের মধ্যেই স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালকরা। 


    বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিবন্ধী ঐক্য সমাজ, অটোচালক সমবায় সমিতির ব্যানারে শ্রদ্ধা জানান তারা। এ সময় ‘মহানবীর শিক্ষা, করো না ভিক্ষা’; ‘অটোরিকশায় হয়রানি, বন্ধ কর করতে হবে’ নানা শ্লোগান দেন তারা।


    তারা জানান, তারা ভিক্ষা করতে চান না, কর্ম করে খেতে চান। অটোরিকশা চালানোর সময় তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এটা বন্ধ করতে হবে।

    তিশা একবার মুখ খুললে মুশতাকের খবর আছে: তিশার মা

    ঢাকার মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সিনথিয়া ইসলাম তিশা ও ৬০ বছর বয়সী খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এরই মধ্যে এই নতুন দম্পতি যেখানেই যাচ্ছে তাদের সঙ্গে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যাচ্ছে। বিয়ের আগে তাদের সেভাবে কেউ না চিনলেও এখন নতুন করে পরিচিতি লাভ করেছেন তারা।


    তবে এখনো এ বিয়েকে মেনে নেয়নি তিশার পরিবার। শুধু তাই নয়, এ বিয়েকাণ্ড আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এখনো বিষয়টি বিচারাধীন। 


    কিছুদিন থেকেই বয়সে বড় জামাইয়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আসছিলেন বাবা সাইফুল ইসলাম। এবার তিশার মা মুখ খুলেছেন। 


    গতকাল মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে এসে তিশার মা বলেন, তিশাকে ব্লাকমেইল করেছেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ। তাকে জিম্মি করে কাবিননামায় স্বাক্ষর নিয়েছেন তিনি। তাকে যে বিয়ে করেছে এর সাক্ষী কাজী ছাড়া আর কেউ নেই।


    তিনি বলেন, ‘তিশা এখন যা বলছে সব শেখানো কথা। এখন মুশতাক নিজে বাঁচতে তিশাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মুশতাক ভালো করেই জানে যে, তিশা একবার মুখ খুললে তার (মুশতাক) খবর আছে। তিশা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে কিন্তু তাকে (তিশা) মুশতাক কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না। তিশা অনেক ভীতু মেয়ে এবং সহজ সরল। তাকে যেভাবে পরিচালনা করছে সেভাবে সে পরিচালিত হচ্ছে।’


    তিশার মা বলেন, ‘তিশাকে জোর করে কাবিননামায় স্বাক্ষর নিয়েছে। খন্দকার মুশতাকের বিচার ও শাস্তি চাই। আমার মেয়েকে জিম্মি করে কাবিননামায় সই দিতে বলে মুশতাক। কিন্তু আমার মেয়ে সই দিবে না, তখন বলে যে তোমার ছবি ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেব। টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেব। আমি গভর্নিং বডির সদস্য; প্রিন্সিপাল আমার ক্লোজ, এটা তো জানোই। বাধ্য হয়ে তিশা সই করে। এটাকে আমি বিয়ে বলব না।’


    এর আগে একই দাবি করেছিলেন তিশার বাবা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মেয়েকে জিম্মি করে কাবিননামায় সই দিতে বলে মুশতাক। কিন্তু আমার মেয়ে সই দেবে না, তখন বলে যে তোমার ছবি ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেব।’


    মাত্র দশম শ্রেণিতে পড়াকালীনই তিশাকে কার্যত টার্গেট করেন খন্দকার মুশতাক। এরপর নিজের মেয়ের মাধ্যমে তিশাকে কবজায় আনার প্রস্তুতি নেন। সেই অনুযায়ী একের পর এক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। এমনই ভাষ্য তিশার বাবা সাইফুল ইসলামের।

    শিশু আয়হামের মৃত্যুর ঘটনায় দুই চিকিৎসক গ্রেপ্তার, হাসপাতাল বন্ধ

    রাজধানীর মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিন আয়হামের (১০) মৃত্যুতে দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


    বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আওলাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার দুই চিকিৎসক হলেন এস এম মুক্তাদির ও মাহবুব।


    ওসি বলেন, এ ঘটনায় জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর দুজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


    এর আগে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় শিশুটির বাবা ফখরুল আলম বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে ডা. এস এম মুক্তাদিরসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে আসামি করা হয়েছে।


    স্বজনদের অভিযোগ, লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ফুল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছে। যে কারণে আহনাফের আর জ্ঞান ফেরেনি।


    আয়হামের বাবা ফখরুল আলম বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর মালিবাগের জেএস হাসপাতালে ছেলে আহনাফ তাহমিনকে সুন্নতে খতনা করতে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এস এম মুক্তাদিরের নেতৃত্বে তাহমিনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান ডা. মাহাবুব ও ডা. ইশতিয়াক আজাদ। নিষেধ করা সত্ত্বেও তাহমিনকে পুরো অজ্ঞান করা হয়। আর এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    এবার সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু

    ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যুর রেশ না কাটতেই এবার মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম আহনাফ তাহমিন আয়হাম (১০)। 


    আহনাফ তাহমিন আয়হামের স্বজনদের অভিযোগ, লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ফুল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছে। যে কারণে আহনাফের আর জ্ঞান ফেরেনি।


    মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৮টায় আহনাফকে সুন্নতে খৎনা করাতে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।


    মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর রাজধানীর মালিবাগের জেএস হাসপাতালে দশ বছর বয়সী ছেলে আহনাফ তাহমিনকে সুন্নতে খতনা করতে নিয়ে আসেন বাবা ফখরুল আলম। 


    পরিবারের অভিযোগ, আসার পরই হাসপাতাল পরিচালক ডা. এস এম মুক্তাদিরদের নেতৃত্বে তাহমিনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায় হাসপাতালে দায়িত্বরত ডা. মাহাবুব এবং ডা. ইশতিয়াক আজাদ। সেখানে এনেস্থেশিয়া দেয়া হয় শিশুটিকে। যাতে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায় আইহাম। পরিস্থিতি খারাপের দিতে যেতে থাকলে আরেকটি হাসপাতাল থেকে আনা হয় চিকিৎসক। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, চিরঘুমে চলে গেছে শিশুটি।


    স্বজনদের অভিযোগ, লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া না দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত জেনারেল এনেস্থেশিয়া দেওয়াতেই শিশুটির মারা গেছে। 


    তবে মালিবাগের জেএস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটির রোগ সম্পর্কে স্বজনরা না জানানোয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়। 


    হাসপাতাল পরিচালক ডা. এস এম মুক্তাদির বলেন, ছেলেটির ওজন বেশি ছিল। বয়সও ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। ফুসফুসে সমস্যা ছিল। কিন্তু সব তথ্য পরিবার জানায়নি।


    হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, হট্টগোলের খবর পেয়েই উপস্থিত হন তারা।


    এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর খতনার জন্য আয়হামকে বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে অ্যানেসথেসিয়া দেয়া হয়। পরে জ্ঞান না ফেরায় তাকে গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার পিআইসিইউতে (শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    মিরপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়ায় একটি বাসা থেকে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম একা ইসলাম খান (২১)। 


    মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 


    হাসপাতালে নিয়ে আসা ওই শিক্ষার্থীর চাচা মানিক খান জানান, একা ইসলাম উত্তরা ইউনিভার্সিটির হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষে পড়াশুনা করতেন। শেওড়াপাড়া অরবিট গলির অরবিট ভবনের ৩য় তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। 


    তিনি বলেন, একা ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়েছে শুনে দ্রুত ওই বাসায় যান। বাসায় গিয়ে একা ইসলামকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলতে দেখেন। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। 


    তবে কি কারণে একা ‘আত্মহত্যা’ করেছে সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন চাচা মানিক খান। 


    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে কাফরুল থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। 


    এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুকুল আলম বলেন, একা ইসলাম খান নামের এক বিশ্বিবদ্যালয় শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি শেওড়াপাড়ায় একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।

    এআই 

    মোরেলগঞ্জে ১০০ ভরি স্বর্ণালংকারের ব্যাগ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এক জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে মারপিট করে তার সাথে থাকা ১০০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াইলাখ টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। 

    শুক্রবার (২৩) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ৫ ওয়ার্ডের সেরেস্তাদারবাড়ি এলাকায় দুর্ধর্ষ এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। 

    ঘটনার শিকার নিলয় জুয়েলার্সের মালিক মিলন কর্মকারকে অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল থেকে ফেলে মারপিট করে স্বর্ণালংকারের ব্যাগ ও মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। 

    মিলন কর্মকার বলেন, দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে তার বাসায় পৌঁছার মাত্র ২০০ গজ আগে রাস্তার ওপরে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ৩ জনের ছিনতাইকারী দল তাঁর সাথে থাকা ১০০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা ও স্কুটি মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে বিমর্ষ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মিলন কর্মকার। 

    এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাহজাহান আহমেদ বলেন, খবর পাওয়ামাত্র পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন সড়কে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।

    পিএম

    ভারতের পেট্রাপোলে স্বর্ণের বারসহ তিন বাংলাদেশি আটক

    আবারও বেনাপোল কাস্টমস পেরিয়ে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে ১০টি (এক কেজি) স্বর্ণেরবারসহ তিন বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। 

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভারতের ১৪৫ ব্যাটালিয়নের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ এক বার্তায় আটকের এ তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়।

    বিএসএফ জানায়, এই তিনজন বাংলাদেশী পাসপোর্টযাত্রী বাংলাদেশ কাস্টমস পার হয়ে পেট্রাপোল চেকপোস্টে এলে তাদের গতিবিধি সন্দেহ হলে তাদের ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি করা হয়। এক পর্যায়ে মেশিনের মাধ্যমে তাদের পেটের মধ্যে স্বর্ণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পরে পায়ুপথ থেকে ১০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য ৬৫ লাখ রুপি। 

    এর আগে গত বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বেনাপোল কাস্টমস পেরিয়ে ওপারে ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস ইমিগ্রেশনে বিএসএফ সদস্যদের হাতে এরা আটক হয়। আটক ব্যক্তিরা তাদের পায়ু পথে  স্বর্ণ বহন করছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ভারতের বনগার পেট্রাপোল থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন, শরীয়তপুরের চিকান্দী উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের রাজ্জাক মুন্সীর ছেলে আবু বক্কর মুন্সী, ঢাকার ওয়াদালোদী  তুরাগ এলাকার রুস্তম শেখের মেয়ে পারভীন আক্তার (৪৪) ও মানিকগঞ্জের সদর এলাকার তারা গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম এমডি (৪৬)।

    এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আড়াই কেজি ওজনের ২২টি স্বর্ণেরবারসহ আমদানি পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক চালক রাজু দাস, সঞ্জীব দাসকে আটক করে বিএসএফ। একই দিনে পাসপোর্টধারী যাত্রী রিবাউদ্দিনকে ৩টি স্বর্ণেরবারসহ আটক করে বিএসএফ। এছাড়া গত  ১৬ ফেব্রুয়ারি ৮৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণেরবারসহ আবু বক্কর হানিফা ও জিয়া উদ্দীন নামে দুই ভারতীয় পাসপোর্টধারীকে আটক করে বিএসএফ। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নাজরীন নাহার নামে এক বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী পায়ুপথে লুকিয়ে পাচারের সময় ৪ পিস স্বর্ণের বারসহ তাকে আটক করে বিএসএফ।

     ভারতের ২৪ পরগনা সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের পাবলিক রিলেশন অফিসার ডিআইজি শ্রী এ কে আর্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কোনো অবস্থাতেই সীমান্তে চোরাচালান বা অন্য কোনো ধরনের অপরাধ ঘটতে দেবে না। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেবে না বিএসএফ। চোরাচালান প্রতিরোধে সহযোগিতা কামনা করছে বিএসএফ কর্মকর্তারা।

    জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টমসের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে স্বর্ণ পাচারের ‘গোল্ডেন রুট’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দর। তবে স্বর্ণ নিয়ে নির্বিঘ্নে বেনাপোল পার হয়ে গেলেও পেট্রাপোলে গিয়ে প্রায় প্রতিদিন ধরা পড়ছে চোরাকারবারীরা। এদিকে পাচার রোধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আরও জোরালো পদক্ষেপ নিলেও বাংলাদেশ কাস্টমসে এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। অভিযোগ উঠেছে এসব পাচার কার্যক্রমে কাস্টমসের নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের সখ্য থাকতে পারে। ফলে স্ক্যানিং মেশিন মেরামত বা যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশিতে অনীহা রয়েছে।

    বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৪টি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করে। এর একটি মোবাইল স্ক্যানার স্থাপন হয় বন্দরের বাইপাস সড়কে পণ্য প্রবেশ দ্বারে। অত্যাধুনিক মেশিনটি পণ্যবাহী ট্রাকে আসা রাসায়নিক, মাদক, অস্ত্র ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া বেনাপোল চেকপোস্ট ও রেল স্টেশনে আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন-কাস্টমস রুটে চোরাচালান রোধে আরও ৩টি স্ক্যানিং মেশিন বসানো হয়। স্ক্যানিং মেশিনটি কাস্টমসের পক্ষে পরিচালনা করে আসছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাসোসিয়েটস। তবে স্ক্যানিং মেশিনগুলোর মধ্যে ৩টি যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ায় গেল ৪ মাস ধরে স্ক্যানিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এ পথে। এতে অবাধে আমদানি পণ্য ও পাসপোর্টধারী যাত্রীর মাধ্যমে স্বর্ণ ও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে চোরাচালান ব্যাপকহারে বেড়েছে। এছাড়া ঢাকা-কলকাতা রুটে যাত্রী নিয়ে চলাচলকারী পরিবহনগুলোতে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে চোরাচালানে।

    স্ক্যানিং মেশিন তদারকিতে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাসোসিয়েটসের বেনাপোল অফিস ব্যবস্থাপক বনি আমিন বলেন, ‘স্ক্যানিং মেরামত করতে বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন। চুক্তি অনুযায়ী কাস্টমস তার ব্যয় বহন করার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্ক্যানিং মেশিন ৩টির কার্যক্রম বন্ধ আছে।’

    পিএম

    ইছামতি নদীতে ঘূর্ণিঝড়ে ট্রলার ডুবে বিএসএফ সদস্য নিহত

    সাতক্ষীরার দক্ষিণ হাড়দ্দহ সীমান্তের ইছামতি নদীতে ঘূর্ণিঝড়ে ট্রলার ডুবে এক বিএসএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। 

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে ওই ঘটনা ঘটে।

    শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। নিহত বিএসএফ সদস্যের নাম রিয়াজুল ইসলাম (৩০)। তিনি বাহিনীটির সৈনিক পদে চাকুরিরত ছিলেন।

    ১৭ বিজিবির শাখরা টাউন শ্রীপুর কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মুজিবর রহমান বলেন, রাতে আকষ্মিক ঘূর্ণিঝড় ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ওই সময়ে নদীতে ভারতীয় বিএসএফের একটি টহলকারী ট্রলার অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

    রাতেই বিএসএফ অভিযান করে ট্রলারের মাঝিকে খুঁজে পায়। তবে একজন সৈনিক নিখোঁজ ছিলেন। নদীতে তখন জোয়ার ছিল।

    তিনি আরও বলেন, সকালে ভাটার সময় নিখোঁজ ট্রলার ও বিএসএফ সৈনিকের লাশ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে দক্ষিণ হাড়দ্দহ বালুরচরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তখন ভারতীয় বিএসএফ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে মরদেহটি নিয়ে যায়। বিএসএফের কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধার হলেও একটি ওয়ারলেস পাওয়া যায়নি।

    পিএম

    ঝিকরগাছায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নসিমন চালক নিহত

    যশোরের ঝিকরগাছায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় কাঠবোঝাই নসিমন চালক টনি হোসেন (২০) নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বেনেয়ালি বাজারে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত টনি গদখালীর বারবাকপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

    ওই বাসের যাত্রী ইয়ানুর হোসেন বলেন, নাভারণ থেকে আসা যশোরগামী দ্রুতগতির বাসটি বেনেয়ালী ব্রাক অফিসের কাছে কাঠবোঝাই নছিমনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এ সময় নছিমন চালক টনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি নিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায় এবং কাঠের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন।

    প্রত্যক্ষদর্শী মেহেদী হাসান বলেন, স্থানীয় নারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় টনিকে উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নাভারণ হাইওয়ে থানার এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, আইনি কার্যক্রম শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক বাসটি আটকের চেষ্টা চলছে। 

    এমআর

    দুই যুগের যাত্রী হয়রানির অবসান করলেন সংসদ সদস্যরা

    মাঝখানে প্রমত্তা বলেশ্বর নদ। এই নদের পূর্ব পারে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া আর পশ্চিম পারে বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা খেয়াঘাট। এই দুই ঘাট থেকে খেয়া পারাপারে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছিল যাত্রী হয়রানি। ১০টাকার খেয়া ভাড়া নেওয়া হতো ১০০টাকা থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০০/৩০০টাকাও। এমনকি হাতে বহনযোগ্য ব্যাগ বা মালামালেরও ভাড়া নিত ইজারাদারের লোকেরা। এছাড়া প্রতিনিয়ত ইজারাদারের হাতে লাঞ্চিত হতেন যাত্রীরা। এই খেয়াঘাট দুটি নির্যাতনের ঘাট হিসেবে পরিচিত সবার কাছে। অবশেষে সেই হয়রানি আর নির্যাতন হাত থেকে যাত্রীদের মুক্ত করলেন দুই পারের দুই সংসদ সদস্য। 

    যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বড়মাছুয়া ফেরিঘাটে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শামীম শাহ নেওয়াজ এক সমঝতা সভার মাধ্যমে খেয়ার ডাক বন্ধ করে ফেরিতে যাত্রী পারাপারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। 

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বড়মাছুয়া ও রায়েন্দা খেয়াঘাটের চলমান ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে আগামী বৈশাখ মাস থেকে কেউ আর এই দুই খেয়া ঘাটের ইজারা নিতে পারবেন না। 

    এছাড়া শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে দুটি ফেরি যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক ঘন্টা পর পর দুই পার থেকে চলাচল করবে। ফেরিতে পারাপারের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে ১০টাকা করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    যাত্রী হয়রানি বন্ধের এই সমঝতা সভায় মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, শরণখোলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমল হোসেন মুক্তা, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন, মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমানসহ দুই উপজেলার আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ দুই পারের ভুক্তভোগী শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    এমআর

    রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আরসার ৪ সদস্য আটক, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

    কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির গুলোতে অবস্থান নেওয়া মিয়ানমারের শীর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ৪ সদস্যকে আটক করেছে এপিবিএন সদস্যরা। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় তারা।

    শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে উক্ত অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে কর্মরত ৮ এপিবিএন'র অধিনায়ক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো.আমির জাফর।

    গোপন সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উখিয়া উপজেলা জামতলী ১৫ নং রোহিঙ্গা শিবিরে অভিযান পরিচালনা করে আরসার ৪ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।

    তিনি জানান, এসময় তাদের কাছ থেকে,৫টি ওয়ান শুটারগান, একটি এলজি, ৩৬ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৮ রাউন্ড গুলির খোসা, ৪ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, ৩টি হাতের তৈরি গ্রেনেড, ৩টি বড় পটকা, একটি ওয়াকিটকি সেট, ২টি বড় ছোরা, ১টি গুলতি এবং ২টি লোহার ছিকল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

    আটক সন্ত্রাসীরা হচ্ছে- মোহাম্মদ আমিন (২৩), পেটান শরীফ (৪৩), আবুল কাশেম (৩৩) ও সৈয়দুর রহমান (২৫)। এরা সবাই উখিয়াতে অবস্থিত বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা এবং আরসা বাহিনীর সক্রিয় সদস্যরা।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানিয়েছেন, আরসা সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা শিবিরে নাশকতা সৃষ্টি করার জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদসহ জামতলী ১৫নং ক্যাম্প এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল।

    উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে অভিযানিক দলের উপস্থিত টের পেয়ে আরসা সন্ত্রাসীরা দৌঁড়ে পালাতে শুরু করে। এসময় অভিযানিক দল তাদের ধাওয়া করে ৪ জন আরসা সন্ত্রাসীকে আটক করতে সক্ষম হয়।

    ধৃত ৪ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

    পিএম

    পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ কউকের, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১ এলাকায় পাহাড় কর্তনের ঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। 

    কক্সবাজার সদর থানায় পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট মো. আবদুছ ছালাম বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি রকিবুজ্জামান।

    তিনি জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি নথিভ‚ক্ত করে করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৪ (২), ৬(খ) ও ১২ ধারা লংঘন করে একই আইনের ১৫(১) টেবিলের ১, ৫ ও ১২ ক্রমিকে বর্ণিত দন্ড নথিভ‚ক্ত মামলাটি পরিবেশ অধিপ্তর নিজস্বভাবে তদন্ত করবেন।

    প্রাপ্ত মামলার এজাহারে অভিযুক্ত ৪ জন হলেন, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দি ইঞ্জিনিয়ারস এন্ড আর্কিটেকচার লিমিটেডের প্রকৌশলী শেখ মোস্তাহিদুর রহমান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইনচার্জ ইমরান পাঠান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।

    এজাহারে শেষে উল্লেখ করা ২ জনের নাম লেখা হয়নি যদিও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্পটির পরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ রিশাদ উন নবী রয়েছেন। তবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে প্রধান নির্বাহী বলে কোন পদবী নেই। বিষয়টি নিয়ে মামলার বাদি ও পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট মো. আবদুছ ছালামের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সদর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়াডের কলাতলী বাইপাস রোডের পশ্চিমে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এর ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১ এলাকার অভ্যন্তরে পাহাড় কর্তনের অভিযোগের স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে স্ক্যাভেটর চালক মোতাহার হোসেন জানিয়েছে ১ সপ্তাহ ধরে এই পাহাড় কাটা হচ্ছে। যেখানে কর্তন করা পাহাড়টি আনুমানিক পরিমান দৈর্ঘ্য ৮০ ফুট, প্রস্ত ২০ ফুট এবং উচ্চতা ৩০ ফুট। যা ৪৮ হাজার ঘনফুট।

    এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পাহাড় কাটা সংলগ্ন সংবাদ প্রকাশের পর পৃথক এই নোটিশ দুইটি প্রদান করা হল। গত ১৯ ফেব্রæয়ারি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবরে নোটিশ দিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক ফরিদ আহমেদ। একই সঙ্গে এই পাহাড় কাটা বন্ধ সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিন মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ ৯ জনকে নোটিশ প্রদান করেছে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। 

    বেলার আইনজীবী জাকিয়া সুলতানা মঙ্গলবার ডাক যোগে নোটিশটি প্রদান করেন। এ নোটিশটি দেয়া হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভ‚মি মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক বরাবরে।

    এমআর

    কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসছে মৃত কচ্ছপ

    কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে মৃত ‘মা কচ্ছপের’ যেন মিছিল চলছে। শুধু মাত্র শুক্রবার একদিনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৭ টি মৃত মা কচ্ছপ পাওয়া গেছে। পচে যাওয়া এসব কচ্ছপ মাটিতে পুঁতে দিয়েছে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা।

    বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ১১ টা থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১৭ টি মৃত কচ্ছপ পাওয়া গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৫ টা) তিনি সহ বোরির কর্মকর্তারা টেকনাফে অবস্থান করছেন। আর কোথাও কচ্ছপ মৃত ভেসে এসেছে কিনা তা দেখছেন।

    তিনি বলেন, ১৭ টি কচ্ছপই অলিভ রিডলি এবং নারী। যা মাটিতে পুতে দিয়েছি। প্রতিটি কচ্ছপই জালের সুঁতোয় পেছানো এবং আঘাত প্রাপ্ত। উপকুলে ডিম দিতে আসার সময় জেলেদের ফেলে দেয়া জাল, রশিতে পেছিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এসব কচ্ছপের মৃত হয়েছে।

    তারেকুল ইসলাম বলেন, জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৭ টা সহ ৮৩ টি মৃত কচ্ছপ ভেসে এসেছে। যার মধ্যে শুধু মাত্র ৯ দিনে মিলেছে ৪০ টির বেশি। যার মধ্যে ৭ শতাধিক ডিমও সংগ্রহ করা গেছে।

    এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কণ জরুরি ভিত্তিতে জেলেদের সচেতন করার কাজও শুরু করা হয়েছে। জাল বা রশি যেন সমুদ্র পেলে না দেয়।

    এফএস

    ফটিকছড়ির দুই ইউপি নির্বাচনে ৭৫ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ

    আসন্ন ফটিকছড়ির খিরাম ও নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, সংরক্ষিত আসনে ৮ জন করে  ১৫ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে নানুপুরে ২৯ জন, খিরামে ২৩ জন সহ সর্বমোট ৭৫ জন প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

    শুক্রবার  (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার অরুন উদয় ত্রিপুরা এই প্রতীক বরাদ্দ দেন। 

    উপজেলা নির্বাচন কমিশনার অরুন উদয় ত্রিপুরা বলেন, আজ  শুক্রবার ফটিকছড়ি নানুপুর ও খিরাম দুই ইউপির ৭৫ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সকালে চেয়ারম্যান পদে দুই ইউপিতে ৭ জন, সংরক্ষিত পদে ১৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৫৩ জন সহ সর্বমোট ৭৫ জন প্রার্থীকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

    খিরাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান  চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন সৌরভকে আনারস প্রতীক,  প্রবাসী মুহাম্মদ হাসানকে ঘোড়া প্রতীক ও গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মুহাম্মদ শহিদুল আলমকে অটোরিক্সা প্রতীক, সংরক্ষিত আসন ( ১) এর জন্য বেনুয়া বেগমকে সূর্যমুখীফুল প্রতীক, মুছাম্মদ হাছিনা বেগমকে মাইক প্রতীক,  সংরক্ষিত আসন (২) এর জন্য ঝুনু বনিকে মাইক প্রতীক,সবুজ খাতুনকে তালগাছ প্রতীক, শামসুর নাহারকে বই প্রতীক, সংরক্ষিত আসন (৩) এর জন্য জেসমিন আক্তারকে তালগাছ প্রতীক, তানজু মনিকে বই প্রতীক, সাবেকুন নাহার শিমুল কে হেলিকপ্টার প্রতীক, সাধারণ সদস্য (এক) এর জন্য পূর্ণ মাঝি চাকমাকে টিউবওয়েল প্রতীক, লালনজয় চাকমাকে ফুটবল প্রতীক, সাধারণ সদস্য (দুই)  এর জন্য মোহাম্মদ ইলিয়াসকে ফুটবল প্রতীক, রহিম উদ্দিনকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, সাধারণ সদস্য (তিন) এর জন্য আহমাদুল্লাহকে তালা প্রতীক, মোহাম্মদ আলীকে ফুটবল প্রতীক, সাধারণ সদস্য (চার) এর জন্য মোহাম্মদ জমিরকে তালা প্রতীক, মোহাম্মদ আনোয়ারকে টিউবওয়েল প্রতীক, মোহাম্মদ মামুনকে ফুটবল প্রতীক, সাধারণ সদস্য (পাঁচ) এর জন্য মোহাম্মদ জাবেদকে ফুটবল প্রতীক, নাসির উদ্দিনকে তালা প্রতীক, আলাউদ্দিনকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, সাধারণ সদস্য (ছয়) এর জন্য মফিজুল আলমকে ফুটবল প্রতীক, দিদারুল আলমকে মোরগ প্রতীক, জাহাঙ্গিরকে তালা প্রতীক, মোহাম্মদ রাশেদকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, সাধারণ সদস্য (সাত) এর জন্য আলী নাসেরকে তালা প্রতীক, নাঈম উদ্দিনকে ফুটবল প্রতীক, সাধারণ সদস্য (আট) এর জন্য জমিল হোসেনকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, নুরুল হুদাকে ফুটবল প্রতীক, রেজাউল করিম কে তালা প্রতীক, সাধারণ সদস্য (নয়) এর জন্য রমজান আলীকে তালা প্রতিক, রাশেদুল ইসলামকে ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

    এছাড়া নানুপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নুরুন্নবীকে আনারস প্রতীক, রেজাউল ইসলাম রুবেলকে টেলিফোন প্রতীক, শফিউল আলমকে মোটরসাইকেল প্রতীক, সৈয়দ বদরুল হোসেনকে অটোরিক্সা প্রতীক,সংরক্ষিত আসন (১) এর জন্য শারমিন খাতুনকে বই প্রতীক, রহিমা বেগমকে সূর্যমুখী ফুল প্রতীক, সংরক্ষিত আসন (২) এর জন্য জোহরা আক্তারকে মাইক, নার্গিস আক্তারকে তালগাছ প্রতীক, পূরবী বড়ুয়াকে সূর্যমুখী ফুল প্রতীক, সংরক্ষিত আসন (৩) 

    এর জন্য পারভিন আক্তার কে কলম প্রতীক, শামসুন্নাহারকে সূর্যমুখী ফুল প্রতীক, জান্নাতুল মাওয়াকে বই প্রতীক, সাধারণ সদস্য (একের) জন্য তহিদুল আলমকে টিউবওয়েল  প্রতীক, মুন্সি মিয়াকে ফুটবল প্রতীক, সাধারণ সদস্য (দুই) এর জন্য মইনুদ্দিনকে ফুটবল প্রতীক, মোশারফ আলীকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, জসিম উদ্দিনকে তালা প্রতীক, জেবল  হোসেনকে মোরগ প্রতীক, সাধারণ সদস্য (তিন) এর জন্য আমানুল্লাহকে মোরগ প্রতীক জসীমউদ্দীনকে ফুটবল প্রতীক, আইয়ুব আলীকে  টিবওয়েল প্রতীক, সাধারণ সদস্য (চার) এর জন্য আবু বক্কর সিদ্দিককে তালা প্রতীক, মোঃ আইয়ুবকে ফুটবল প্রতীক, আফাজুর রহমানকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, জয়নুল ইসলামকে মোড়ক প্রতীক, সাধারণ সদস্য (পাঁচ) এর জন্য প্রশান্ত বড়ুয়াকে তালা প্রতীক, মমতা সরকারকে টিউবওয়েল প্রতীক, মোহাম্মদ মিনহাজকে মোরগ প্রতীক, রাশেদুল আলমকে ফুটবল প্রতীক, সাধারণ সদস্য (ছয়) এর  জন্য নুরুন্নবীকে ফুটবল প্রতীক, নুরুল কবিরকে তালা প্রতীক, নাসিরুদ্দিনকে মোরগ প্রতীক, সাধারণ সদস্য (সাত)  এর জন্য আজিজুর রহমানকে টিবওয়েল  প্রতীক, সৈয়দ মইনুদ্দিনকে ফুটবল প্রতীক,  সাধারণ সদস্য (আট) এর  জন্য বাবর মিয়াকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, মনির উদ্দিন কে টিবওয়েল প্রতীক, মো. সোলায়মানকে তালা প্রতীক, শওকত আলীকে ফুটবল প্রতীক আম্মু ছাফাকে মোরগ প্রতীক।

    সাধারণ সদস্য (নয়) এর জন্য আফসার উদ্দিন কে তালা প্রতীক, দৌলত উল্লাকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, আবু বক্করকে ফুটবল প্রতীক,রমজান আলীকে টিউবেল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

    ঘোষিত তফসিল অনুসারে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৯ ই মার্চ।

    পিএম

    ফটিকছড়িতে কাঠ বোঝাই ৫টি ট্রাক জব্দ

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবৈধ কাঠ পাচারের সময় ৫ টি ট্রাক সহ ২ হাজার সিএফটি কাঠ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে  ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউপির বৃন্দাবন হাটের কাছাকাছি বড়ুয়া পাড়া এলাকায়  অবৈধভাবে কাঠ পরিবহনের খবর পেয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী। 

    জানা যায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধভাবে কাঠ পাচারের খবর পেয়ে  বৃন্দাবন হাটের কাছাকাছি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৫ টি ট্রাক জব্দ করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে ড্রাইভার,  হেল্পাররা গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে জব্দকৃত প্রায় ২০০০ সিএফটি কাঠ বিবিরহাট এ অবস্থিত সড়ক বিভাগের অফিস প্রাঙ্গনে রাখা হয়।

    মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ৬(৫) ধারা মোতাবেক অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ও ঘটনাস্থলে আসামী না পাওয়া যাওয়ায় নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য বন বিভাগের নারায়ানহাট রেঞ্জের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হেয়াকো, রামগড় এর বিভিন্ন বন ও বাগান থেকে অবৈধভাবে কাঠ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি আরো জানান, জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এ অভিযানে সহযোগিতা করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ, বন বিভাগের নারায়ণহাট রেঞ্জ ও বাংলাদেশ আনসার। 

    এমআর

    গাজীপুরে ঝুট গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ ইউনিট

    গাজীপুরের কোনাবাড়ির আমবাগ এলাকায় একটি ঝুটের গুদামে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে।

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া তিনটার দিকে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ি থানার আমবাগ এলাকার একটি ঝুটের গুদাম থেকে আগুন সূত্রপাত্র হয়।

    ফায়ার সার্ভিস জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে গাজীপুরের কোনাবাড়ির আমবাগ এলাকায় ঝুটের গুদামে আগুন লাগে। আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে আশপাশের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। সবশেষ পাওয়ার খবরে কোনাবাড়ির আমবাগের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ইউনিট কাজ করছে বলে জানান।

    গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ্ আল আরেফিন জানান, ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট কাজ করছে। পানির সংকট রয়েছে, তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে  আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক ভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

    পিএম


    পাকুন্দিয়ায় মালেক হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চাঞ্চল্যকর সার্ভেয়ার আঃ মালেক হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ও র‌্যাব-১১ সিপিএসসি  নরসিংদী ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল।


    গ্রেফতার আজিজুল হক(৩৮) পাকুন্দিয়া উপজেলার পূর্ব কুমারপুর গ্রামের মৃত আইজ উদ্দিনের ছেলে।


    বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলা সদর থেকে গ্রেফতার করা হয়।


    এর আগে সার্ভেয়ার আঃ মালেক হত্যা মামলার পলাতক আসামি হানিফ মিয়া (৩৬) ও কুদ্দুছ মিয়া (৩৫)কে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব।


    এছাড়া পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ মামলার আরেক আসামি উপজেলার পূর্ব কুমারপুর গ্রামের মৃত আইজ উদ্দিনের ছেলে ছোটন মিয়া(৩২)কে গ্রেফতার করে।


    মামলার বিবরণে জানা গেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার কিছু পরে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার কুমারপুর পুরাতন জামে মসজিদের সামনের এলাকার একটি জমি জমা সংক্রান্ত গ্রাম্য শালিস শেষ করে একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী আ. মালেক(৭৫) বাড়ি ফেরার পথে ভিকটিমের বসত বাড়ীর উঠানে পৌছামাত্র আসামী হানিফ মিয়া(৩৬), কুদ্দুছ(৩৫) এবং  এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামিগণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে ভিকটিমের বসত বাড়ীর বাহির উঠানে অনধিকার ভাবে প্রবেশ করে পথের গতিরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করে। এরপর আশপাশের সাক্ষী ও আত্মীয়স্বজন এসে ভিকটিমকে উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। 


    সেখানে ভিকটিমের অবস্থা আরও আশংকা জনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ভিকটিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার কিছু পরে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন।


    ওই ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে মো. রফিকুর ইসলাম(৩২), বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় ১টি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


    গ্রেফতার আসামিকে পাকুন্দিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিডিচ্য্যানেল ফোরকে বিস্তারিত জানিয়েছেন র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. আশরাফুল কবির।

    এআই 

    মাদারীপুরে বিনামূল্যে চিকিৎসা-ওষুধ পেলো তিন হাজার অসহায় মানুষ

    মাদারীপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।


    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী সদর উপজেলার কুলপদ্বী খেয়াঘাট এলাকায় এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।


    কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুর রশিদ-এর উদ্যোগে এতে অংশ নেয় মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতালের ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। 


    বাড়ির কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিতে সকাল থেকে ভীড় করে অসহায় মানুষেরা। লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রহন করেন এই চিকিৎসা। শিশু, গাইনী, চর্ম, অর্থোপেডিক, ডায়াবেটিক রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ পেয়ে খুশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিতরা।


    কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুর রশিদ জানান, ১০ বছর ধরে এই স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিবছর এইদিনে আয়োজন করা হয় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। সমাজের অসহায় মানুষের সুবিধার্থেই বিনামূল্যে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

    এআই 
    মির্জাপুরে ট্রাক চাপায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাক চাপায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরতর আহত হয়েছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা ছিটমামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান। 

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ের পোষ্টকামুরী চরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত উপজেলার ভাওড়া নয়াপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু রায়হান (১৯) মির্জাপুর পৌরসদরের আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার ছাত্র। নিহতের আজকে গণিত পরীক্ষা ছিল।

    স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, নিজ বাড়ি থেকে হাবিবুর রহমান তার ছেলে আবু রায়হানকে মোটরসাইকেলযোগে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতেন। আজ সকালে পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে তেল নিয়ে ছেলেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মহাসড়কের পোষ্টকামুরী চরপাড়া এলাকা অতিক্রম করছিলেন। সেসময় একটি সিএনজি তাদের মোটর সাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে দুজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে মহাসড়কে পড়ে যান। একই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের চাপায় আবু রায়হান ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপারিটেনডেন্ট মোহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, ছেলেটির এই অপমৃত্যুতে ভীষণভাবে মর্মাহত হয়েছি। ও খুবই ভদ্র একটি ছেলে ছিল। এস.এস.সি (দাখিল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় আগে সে হাফেজী সম্পন্ন করেছে।

    এব্যাপারে মির্জাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, সংবাদ পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    গাজীপুরে বাস চাপায় এসএসসির ছয় পরীক্ষার্থীসহ আহত ১০

    গাজীপুরের কালীগঞ্জে বাস চাপায় এসএসসি পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও অটোরিকশার চালকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। পরে স্থানীয়রা ঘাতক বাসটিকে আটক করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।


    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে গাজীপুর-আজমতপুর-ইটাখোলার বাইপাস সড়কের ডুবুরিয়া নামকস্থানে এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।


    কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


    আহতের উদ্ধার করে স্থানীয়রা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশেপাশের ক্লিনিকে পাঠানো হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।


    এসআই মো: রেজাউল করিম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংদী মাধবদী আন-নূর একাডেমির বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠানে ৪৫ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক নিয়ে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে যাওয়ার পথে গাজীপুর-আজমতপুর ইটাখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের ডুবুরিয়া চৌরাস্তা সংলগ্ন বাস-অটোরিকশা ও সিএনজি’র ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কালীগঞ্জ উপজেলার পোনসহি ও নুরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গাড়ী চালকসহ ১০ জন আহত হয়েছে।


    তিনি আরো জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় নরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মায়মুনা ও তার মা হারিছাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি পরীক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    একসঙ্গে দুই ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম দিলেন গৃহবধূ

    বরগুনার তালতলীতে একসঙ্গে তিনটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন গৃহবধূ আমেনা বেগম রজি। তালতলী ইসলামিয়া হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তাঁর তিন সন্তানের জন্ম হয়। আমেনা বেগম রজি তুলাতলী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী লালচানের স্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.কানিজ ফাতিমা।

    এদিকে একই সঙ্গে তিনটি সন্তান জন্ম হওয়ায় হাসপাতালে উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। বর্তমানে তিনটি সন্তানসহ গৃহবধূ আমেনা বেগম সুস্থ রয়েছেন।

    ইসলামিয়া হাসপাতালের পক্ষ থেকে ফরাজি মাসুম জানান, প্রসব বেদনা শুরু হলে গৃহবধূ বেগম বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি ) হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক নুসরাত জাহানের নিয়মিত চেকআপে থাকায় নরমাল ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করেন। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে রোগীর স্বজনরা ডাক্তারদের সিদ্ধান্তে অপারেশন করার প্রস্তুতি নেন।

    হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান অপারেশন শুরু করেন। অপারেশন সফলভাবে সম্পূর্ণ হয়। সেইসঙ্গে সুস্থ্য শরীরে একটি একটি করে তিনটি ফুটফুটে নবজাতক প্রসব করেন গৃহবধূ আমেনা বেগম রজি।

    ইসলামিয়া হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান বলেন, নবজাতকের মধ্যে দু’টি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান। তাদেন নাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। বর্তমানে শিশুদের মা শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল। তবে আশঙ্কমুক্ত।

    নবজাতকদের চাচা মো.এরশাদ বলেন, আল্লাহ তার ভাইয়ের ঘরে একসঙ্গে তিনটি সন্তান দিয়েছেন বলে তিনি খুবই খুশি। এর আগে আমার ভাইয়ের সংসারে এক ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে।

    বাড়িতে মায়ের লাশ রেখে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা দিলো দুই ভাই

    পিরোজপুরের কাউখালীতে মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে সাইফুল ইসলাম (১৬) ও আসাদ মল্লিক (১৫) নামে দুই ভাই।  বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা দেয় তারা।  


    দুই সহোদর উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের মধ্য জোলাগাতি গ্রামের আবুল হোসেন মল্লিকের ছেলে। তারা এবছর নুরজাহান মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। 


    বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শেষে দুপুর ২টায় দুই ভাই মায়ের জানাজায় অংশ নেয়। জানাজা শেষে তাদের মাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। 


    উল্লেখ্য, বুধবার রাতে আবুল হোসেন মল্লিকের স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হলে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই পরীক্ষার্থীর মা মারা যান। 


    শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী সিদ্দিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তালতলীতে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তিতে পর্যটকরা

    ইকোপার্কের প্রবেশ পথে খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি সেতু। সেতুর দুই অংশের কাজ শেষ হলেও মাঝের অংশের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে পর্যটকদের নৌকায় করে পার্কে প্রবেশ করতে হয়। এতে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি এখনও কোনো কাজে আসছে না। এ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইকোপার্কে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।

    বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের টেংরাগিরি বনের সেতুটির কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ। এমন ভোগান্তির কারণে পর্যটকরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কে প্রবেশ করতে ও সমুদ্রসৈকতের কাছে যেতে হলে খালের ওপরে একটি সেতু পার হয়ে যেতে হয়। প্রায় ৩ বছর আগে শুরু হওয়া ওই সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি। দুই অংশের কাজ শেষ হলেও মাঝের অংশ ফাঁকা। ফলে পর্যটকরা বিকল্প পদ্ধতিতে বনে প্রবেশ করেন। ছোট একটি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হন তারা। জনপ্রতি ১০-২০ টাকা অথবা ৩০ টাকা করে ভাড়া নেন মাঝিরা।

    তালতলী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ফকিরহাট খালের ওপর সোনাকাটা ইকোপার্কের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭২ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৭ মিটার প্রস্থের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। বরিশালের আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০২১ সালে কাজ শুরু করে তারা। প্রতিষ্ঠানটি ১ বছরে সেতুর দুই পারের ৪৮ মিটার অ্যাবাটমেন্ট কাজ শেষ করে। মাঝখানের ২৪ মিটার দৈর্ঘ্যের ১টি স্প্যান বাকি থাকা অবস্থায় ২০২২ সালের প্রথম দিকে উচ্চতা কম হওয়ায় প্লানিং কমিশন ও স্থানীয় জেলেদের আপত্তির কারণে মাঝখানের ২৪ মিটার স্প্যান নির্মাণের কাজ প্রায় ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।

    এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমির ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলেও প্রতিষ্ঠানটির মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

    পর্যটকরা বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়।

    তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। তবে এ বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।

    তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ার টুম্পা বলেন, এই সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পরে উচ্চতা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এর কারণে সেতুর নিচ দিয়ে ট্রলার বা নৌকা যেতে পারবে না। এরপর ওই ব্রিজের কাজ বেশ কয়েকদিন বন্ধ ছিল। নতুন করে আবার সেতুর হাইট বাড়িয়ে রি-এস্টিমেট করে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে রি-এস্টিমেট পাস হলে কাজ শুরু হবে।

    পিএম

    শ্বশুরের কাফনের কাপড় কিনে ফেরার পথে জামাতার মৃত্যু

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে শ্বশুরকে দাফন করতে গিয়ে জামাতা মো. রবিউল ইসলাম শেখ (৩০) এর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারী) বিকালে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামে। নিহত জামাতা রবিউল শেখ উপজেলার ভাইজোড়া গ্রামের মৃত্যু জালাল শেখের ছেলে। 

    নিহতের মা মালেকা বেগম বলেন, ওই দিন দুপুরে শশুর ফজর আলী (৬৫) এর মৃত্যু হয়। তাকে দাফনের জন্য প্রস্তুত করতে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জামাতা রবিউল স্থানীয় বাজারে কাপড় নিয়ে ফিরে আসার সময় পা পিছলে রাস্তার উপর পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে সেখানে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষনা করেন। 

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার শিমুল কৌশিক সাহা বলেন, তাকে মৃত্যু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিলো। তবে তার শরীরে কোন আঘাতের বা ক্ষত চিহ্ন পাওয়া যায় নি।

    এমআর

    ১০ টাকার টোকেনে পছন্দমতো ‘রোজার বাজার’

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ম আয়ের মানুষের জন্য ১০ টাকায় ‘রোজার বাজার’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারী) দিনব্যাপী কলাপাড়া পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার মাঠে ১০ টাকায় সুপারশপে পণ্য কেনার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিবব্বুর রহমান এমপি। এসময় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন'র উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ, সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী ও এতিমখানার শিশুসহ ভাসমান ব্যক্তিদের জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপি আয়োজনে টোকেন সংগ্রহ করে ১০ টাকায় পছন্দমতো বাজার করেন এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা। এতে নিম্নআয়ের গরিব, অসহায়, মানুুষের মুখে হাসি ফুটেছে। 

    উল্লেখ্য, এই বাজার থেকে নিম্ন আয়ের মানুষরা নতুন শাড়ি-লুঙ্গি, শার্ট-প্যান্ট ও জুতাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় মাছ, মুরগি, চাল, ডাল, তেল ক্রয় করেন।

    এমআর

    শেরপুরে শিশু অপহরণ মামলায় পলাতক নারী আসামী গ্রেপ্তার

    শেরপুরের নকলার চাঞ্চল্যকর শিশু অপহরণ মুক্তিপণ দাবির মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তাসলিমা’কে ১৩ বছর পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। 

    ২২ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১৪ জামালপুর ও চট্টগ্রাম যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত মোছাঃ তাসলিমা খাতুন নকলা উপজেলার পাঁচকাহনিয়া গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী।

    র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তাসলিমা খাতুন আত্মীয়তার সুযোগে বিগত ২০১১ সালের ৯ অক্টোবর নকলা উপজেলার শালখা গ্রামের মোঃ আব্দুল জলিলের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এরদুইদিন পর জলিলের শিশু কন্যা আকলিমা খাতুন (০৪) কে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাছলিমা জলিলের কাছে একলাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি নকলা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঢাকা থেকে অপহৃত আকলিমাকে উদ্ধার করে। এব্যাপারে নকলা থানায় তাসলিমাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করে শিশুটির বাবা আব্দুল জলিল। এ ঘটনার পর থেকেই তাসলিমা পালিয়ে যায়।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে উক্ত মামলার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর শেরপুরের নারী ও শিশুনির্যাতন ট্রাইবুনালের বিচারক আসামি মোছাঃ তাসলিমা’কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ০৭ ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ০৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ০৮ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ২০,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ০১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।

    বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে আসামীর অবস্থান নিশ্চিত করে র‌্যাব-৭, হাটহাজারী ক্যাম্প, চট্টগ্রাম ও র‌্যাব-১৪, জামালপুর যৌথ অভিযান চালিয়ে মোছাঃ তাসলিমাকে ২২ ফেব্রুয়ারী দুপুরে গ্রেপ্তার করে।

    র‌্যাব-১৪ জামালপুরের কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোঃ আবরার ফয়সাল সাদী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধৃত আসামীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরপুর জেলার নকলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এমআর

    শেরপুরে শিশু অপহরণ মামলায় পলাতক নারী আসামী গ্রেপ্তার

    শেরপুরের নকলার চাঞ্চল্যকর শিশু অপহরণ মুক্তিপণ দাবির মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তাসলিমা’কে ১৩ বছর পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। 

    ২২ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১৪ জামালপুর ও চট্টগ্রাম যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত মোছাঃ তাসলিমা খাতুন নকলা উপজেলার পাঁচকাহনিয়া গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী।

    র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তাসলিমা খাতুন আত্মীয়তার সুযোগে বিগত ২০১১ সালের ৯ অক্টোবর নকলা উপজেলার শালখা গ্রামের মোঃ আব্দুল জলিলের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এরদুইদিন পর জলিলের শিশু কন্যা আকলিমা খাতুন (০৪) কে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাছলিমা জলিলের কাছে একলাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি নকলা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঢাকা থেকে অপহৃত আকলিমাকে উদ্ধার করে। এব্যাপারে নকলা থানায় তাসলিমাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করে শিশুটির বাবা আব্দুল জলিল। এ ঘটনার পর থেকেই তাসলিমা পালিয়ে যায়।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে উক্ত মামলার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর শেরপুরের নারী ও শিশুনির্যাতন ট্রাইবুনালের বিচারক আসামি মোছাঃ তাসলিমা’কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ০৭ ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ০৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ০৮ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ২০,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ০১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।

    বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে আসামীর অবস্থান নিশ্চিত করে র‌্যাব-৭, হাটহাজারী ক্যাম্প, চট্টগ্রাম ও র‌্যাব-১৪, জামালপুর যৌথ অভিযান চালিয়ে মোছাঃ তাসলিমাকে ২২ ফেব্রুয়ারী দুপুরে গ্রেপ্তার করে।

    র‌্যাব-১৪ জামালপুরের কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোঃ আবরার ফয়সাল সাদী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধৃত আসামীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরপুর জেলার নকলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এমআর

    সারা বছরই পানির নিচে থাকে রাস্তা, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

    সারা বছরই পানি জমে ডুবে থাকে রাস্তার বেশ কিছু অংশ। এতে যানবাহন চলাচলে যেমন দুর্ভোগ বেড়েছে তেমনি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। তাই নতুন কেউ এই সড়কে আসলেই গর্তের পানি নিয়ে চিন্তায় পড়লেও স্থানীয়রা বলেন “পানির নিচে সড়ক ভালো”। 


    সড়কের এই চিত্র নেত্রকোনার দুর্গাপুর শ্যামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের‌। দুর্গাপুরে পৌর শহরের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ গত ৬ মাস পূর্বেই এই সড়ক সংস্কার করে নতুন ঢালাই সড়ক নির্মাণ করা হয়। 


    ২০১৭ সালে দুর্গাপুর বিরিশিরি শ্যামগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়, যা শেষ হয় ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে। পুরো সড়ক নির্মাণে খরচ হয় ৩১৬ কোটি টাকা। তবে নির্মাণের কয়েক বছর যেতে না যেতেই ভেজা বালু, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বালু পরিবহনে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দের। 


    সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গত বছর পৌর শহরের দয়াল বাড়ি থেকে দক্ষিণপাড়া মোড়, প্রেসক্লাব মোড় থেকে উপজেলা পরিষদ সড়ক, কৃষ্ণেরচর বাজার সড়ক ও সোমেশ্বরী নদীর ব্রিজ সংস্কার কাজ করে নেত্রকোনার সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে ৩১৬ কোটি টাকার এই সড়ক ৪শ কোটি টাকা ছাড়ায়। এরপরও যানবাহন চলাচলে আজও দুর্ভোগ কমনি। 


    নতুন সড়ক তৈরি করা হলেও এই সড়কের সাথে পুরাতন সড়কের সংযোগ অংশের মধ্যকার গ্যাপ ও পানি যাতায়াতের পথ না থাকায় এই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। ফলে পৌর শহরে ঢুকার প্রধান এই সড়কে সারা বছরই জলাবদ্ধতা থাকে। এতে করে প্রায় শহরের হাজারো যানবাহন ও লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতে পড়তে হয় চরম বিরম্বনায়। 


    এছাড়াও ময়লা ও কর্দমাক্ত পানি রীতিমত স্থান তৈরি করেছে পচা ডোবায়। এই ময়লা আবর্জনায় নষ্ট হচ্ছে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের শরীর ও জামা কাপড়। নিয়মিত দুর্ঘটনাও ঘটছে এই স্থানে। কখনো অটো রিকশা উল্টে যাচ্ছে কখনো বা যাত্রীসহ এই পানিতে পড়ছে ছোট বড় যানবাহন। 


    এনিয়ে খোভ প্রকাশ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল বারেক বলেন, পৌরসভায় ঢোকার প্রবেশপথ এটা আর এখানে সারা বছর জলাবদ্ধতা থাকে। প্রশাসন সবসময়ই এই জলাবদ্ধতার উপর দিয়ে চলাচল করলেও তাদের তো আর সমস্যা হয়না তারা গাড়িতে করে চলাচল করে, তবে আমাদের এই কষ্ট এবং সমস্যা সমাধানে কেউ কাজ করেনা। 


    স্থানীয় এলাকাবাসী শহীদ মিয়া বলেন, সারা বছর ভেজা বালু বহনের কারনে এই যায়গায় ভেজাও কর্দমাক্ত থাকে এবং একটু বৃষ্টি হলে স্থানটিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে মানুষ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। 


    স্থানীয় ব্যাবসায়ী আব্দুল হান্নান জানান, বর্ষা আসার আগেই গতকাল রাতের একটু বৃষ্টির ফলে স্থানটিতে বন্যার ন্যায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বর্ষা আসলে কি অবস্থা হবে আল্লাহই জানে। মূলত রাস্তাটি নির্মান করার সময় ইন্জিনিয়ারিং ত্রুটির ফলেই এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে। রাস্তার দুই পার্শে ৩০টি দোকানে এই পানি প্রবেশ করার কারণে আমাদের ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হওয়ার অবস্থা। আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 


    দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুস ছালাম জানান, সড়কের এই অংশটুকু সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন আগেই  জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন সহ সড়ক ও জনপদ বিভাগকে জানিয়েছি। দক্ষিণপাড়া সড়কের এই অংশ ও সোমেশ্বরী নদীর ব্রিজের বিরিশিরি অংশের কিছু কাজ বাকি থাকায় কয়েক মাস ধরে মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণপাড়া অংশের অল্প একটু জায়গার জন্য মানুষের যাতায়াতে কষ্ট বেড়েছে। আমরা একাধিকবার বিষয়টি সড়ক ও জনপদ বিভাগকে জানিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে পৌর শহরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমাতে বর্ষার আগেই সড়কের এই অংশ সংস্কার করা হবে। 


    এবিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আল নূর সালেহীন জানান, দুর্গাপুর শ্যামগঞ্জ সড়কে ইতিমধ্যে একাধিক স্থানে সংস্কার করা হয়েছে। তবে সরকারের জলবদ্ধতার বিষয়টি সমাধানে আমরা দ্রুতই কাজ শুরু কররো। এছাড়াও অসম্পূর্ণ সোমেশ্বরী নদীর ব্রিজের বিরিশিরি অংশের অল্প কিছু অংশসহ এই সড়কে আড়াই কিলোমিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা।

    পিএম

    ত্রিশাল পৌরসভার উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ

    ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌর সভার উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামী ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


    শুক্রবার (২৩ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ হল রুমে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেন উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদ।


    ত্রিশাল পৌরসভার উপনির্বাচনে তিনজন মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান এমপি এবিএম আনিছুজ্জামানের সহধর্মিণী শামিমা আক্তার পেয়েছেন জগ প্রতীক,আমিনুল ইসলাম (আমিন সরকার) পেয়েছেন নারিকেল গাছ এবং নূরুল হুদা শিবলু পেয়েছেন মোবাইল ফোন প্রতীক। 


    প্রতীক বরাদ্দের অনুষ্ঠানে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসারও রিটার্নিং কর্মকর্তা জুয়েল আহাম্মেদ প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা ঠিকঠাক মতো মেনে চলবেন। আমরা আশা করব আপনারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন, যেন আমাদের কোন ধরনের আইন প্রয়োগ করা না লাগে।

    পিএম

    শেরপুরে ১৯ শিক্ষককে অব্যহতি, ২০ পরীক্ষার্থী বহিস্কার

    শেরপুরে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করার অপরাধে কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারসহ ১৯ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর আদান-প্রদান ও নকলের দায়ে ২০ পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তিন উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।অব্যাহতি প্রাপ্ত শ্রীবরদীর ৫, ঝিনাইগাতীর ৭ ও নালিতাবাড়ীর ৭ জন শিক্ষক। আর বহিস্কার পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নালিতাবাড়ীর ১৮ ঝিনাইগাতীর ২ জন।

    আজ চলমান দাখিলের গণিত বিষয় ও এসএসসির ইংরেজি ২য় বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল। নালিতাবাড়ী উপজেলার তারাগঞ্জ ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী স্মার্ট ফোনে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে প্রশ্নপত্রের ছবি উঠিয়ে বাইরে পাঠিয়ে উত্তর সংগ্রহ করে খাতায় লিখছিলো। পরে ওই পরীক্ষার্থীর মোবাইল হাতে নেওয়ার পর একই মোবাইল থেকে আরও একটি মোবাইলে ওয়াফাই যুক্ত দেখে অন্য পরীক্ষার্থীদের সার্চ করে। এসময় একে একে ১৫ জন পরীক্ষার্থীকে পরস্পর একইভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সংগ্রহ করার প্রমাণ মেলে। মোবাইল ফোন ব্যবহার ও নকলের দায়ে মোট ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়। ৫ জন শিক্ষককে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে নালিতাবাড়ীর আব্দুল হাকিম স্মৃতি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইংরেজী দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালে গত বছর অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর উল্লেখ করে সিট নির্ধারণ না করায় আরও দুই শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়।

    শ্রীবরদী উপজেলার আকবরিয়া পাবলিক পাইলট ইন্সটিটিউট কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করার অপরাধে ৫ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার শুরুর কিছুক্ষণ পর শিক্ষকদের সার্চ করলে মোবাইল পাওয়া যায়।

    ঝিনাইগাতীতে দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্রে শিক্ষকদের উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় এ দন্ডাদেশ প্রদান করা হয়। সচিব, হল সুপার ও ৫শিক্ষককে অব্যহতি, ২ শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রেজুয়ান মুঠোফোনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন৷

    এমআর

    সংবাদ প্রকাশের পর ভুক্তভোগীকে ম্যানেজের চেষ্টা সাব রেজিস্ট্রারের

    জাল দলিল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে ম্যানেজ করার অভিযোগ উঠেছে দেবীগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার নিশাদুর রহমানের বিরুদ্ধে। 

    এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাল দলিলের বিষয়টি জানতে স্থানীয় সাংবাদিকরা সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে যান। কিন্তু জাল দলিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা মাত্র সাব রেজিস্ট্রার নিশাদুর রহমান সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকগণ।

    ভুক্তভোগী চার সাংবাদিক হলেন- সময়ের কণ্ঠস্বর ও দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি নাজমুস সাকিব মুন, কালবেলা ও নিউজজি২৪ এর প্রতিনিধি সিরাতুল মোস্তাকিম, সাপ্তাহিক ফলোআপের রওশন জালালী ও আজকের বসুন্ধরার লালন সরকার।

    এই ঘটনার পর বিকাল ৪টার দিকে সাব রেজিস্ট্রার ভুক্তভোগী আব্দুল হাই প্রধানকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নেন এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি আপোস করবেন কিনা জানতে চান। তবে আব্দুল হাই কোন আপোসে যাবেন না বলে জানান।

    আব্দুল হাই প্রধান বলেন, এতদিন সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জাল দলিলের ব্যাপারে জানতে কেউ খোঁজ নেয়নি। আজ হঠাৎ করে ডেকে পাঠালে আমি অফিসে যাই। পরে এই ঘটনায় আমি আপোস করব কিনা জানতে চান সাব রেজিস্ট্রার।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেবীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দুইটি জাল দলিল সম্পাদন হয় এবং প্রকৃত মালিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) খারিজ আবেদন বাতিল করে দেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাংবাদিকরা সেই তথ্যটি যাচাইয়ের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে যান। সেখানে সাব রেজিস্ট্রার নিশাদুর রহমানের নিকট এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিক সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপে যান। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এই সময় নিশাদুর রহমানকে শান্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এরপরও তিনি রাগান্বিত হয়ে সাংবাদিকদের দলিল সার্চ দিতে দেখতে বলেন এবং এই বিষয়ে তিনি কোন তথ্য দিতে পারবেন না বলে জানান।

    এমআর

    সহপাঠীদের বিয়ে হয়ে গেছে, বিদ্যালয়ের একমাত্র পরীক্ষার্থী রুবিনা

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম রুবিনা আক্তার। তিনি উপজেলার মিয়াপাড়া নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ১১ নং কক্ষে মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিচ্ছেন । তার রোল নম্বর- ৫১৭৪৭৭।   

    জানা গেছে, অনন্তপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে স্থাপিত হয়। ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টির নিম্নমাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। এরপর ২০১২ সালে মাধ্যমিক পর্যায় পাঠদানের অনুমতি পায়। পাঁচজন এমপিও ভুক্ত শিক্ষকসহ প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১১ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। কাগজে কলমে শতাধিক ছাত্রী দেখানো হলেও বিদ্যালয়টি থেকে মানবিক বিভাগের একমাত্র শিক্ষার্থী রুবিনা আক্তার চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। একটি এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ায় শিক্ষকদের কর্মতৎপরতা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ অবস্থার জন্য করোনা ও বাল্যবিবাহকে দায়ী করেছেন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকরা। শিক্ষার্থী রুবিনা আক্তার জানান, বান্ধবীদের সবার বিয়ে হয়েছে। তাই একাই পরীক্ষা দিচ্ছি।

    এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক নুর জামাল মিয়া জানান, আমি কিছুদিন আগে এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি। অতীতে যা হয়েছে হয়েছে, আগামীতে প্রতিষ্ঠানটিতে যাতে বেশি ছাত্রী ভর্তি হয় সে জন্য সচেষ্ট থাকবো।  

    মিয়াপাড়া নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব নাজমা বেগম বলেন, অনন্তপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট তিনজন শিক্ষার্থী ফরম পুরণ করলেও নিয়মিত ১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পেলেও প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র এমপিওভুক্ত। তবে মাধ্যমিক পর্যায় এমপিওভুক্ত করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে পাঠদানের অনুমতি বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।  

    এমআর

    ক্ষতিপূরণ না পেলে আবারো আন্দোলন হবে

    দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে পার্শ্ববর্তী বৈগ্রাম-কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের ঘরবাড়ী ফাটলে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটি।

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় বৈগ্রাম-কাশিয়াডাঙ্গা ক্ষতিগ্রস্থদের দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা লিখিত বক্তব্যে জানান, কয়লা খনির কারণে ঘরবাড়ীতে ফাটল সৃষ্টি হলে গত ২২ জানুয়ারি ২০২৪  তারিখে আমরা সংগঠনের পক্ষথেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ জানাই, আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সার্ভারের মাধ্যমে পদক্ষেপ না নিলে এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন বিক্ষোভ মিছিল সহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।  কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

    আমরা ছয় দফা চুক্তির কথা বলেছিলাম সেই ছয় দফা চুক্তি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ছয় দফা চুক্তির মধ্যে রয়েছে কর্তৃপক্ষের সমঝোতা চুক্তি মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হতে চাকরি দেওয়ার কথা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দুইটি গ্রামের বাড়ী ঘর ফাটল কাঁপুনি ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে তাদের দ্রুত পুনর্বাসন করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভূমিহীন প্রতিটি পরিবারকে মাইনিং সিটি অথবা উন্নত মানের বাসস্থান তৈরি করে দিতে হবে, ক্ষতিগ্রস্তদের অবশিষ্ট ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের সুপ্রিয় প্রাণীর ব্যবস্থা করতে হবে এবং মসজিদ মন্দির স্কুল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরি করে দিতে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের যাদের জমি থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে তাদেরকে কয়লা উৎপাদনের বোনাস পাসেন্ট দিতে হবে।

    কিন্তু গত ৩০ বছরে কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ বৈগ্রাম সহ অন্যন্যা গ্রামগুলির অফুরন্ত যে ক্ষতি হয়েছে তার কিছুই পায়নি। খনি কর্তৃপক্ষ এই এলাকার মানুষকে বোকা বানিয়েছে। তাই আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছে ন্যায় দাবী জানাচ্ছি। 

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বৈগ্রাম-কাশিয়াডাঙ্গা ক্ষতিগ্রস্থদের দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ সাদেকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সফিকুল ইসলাম, সদস্য মোঃ মেনাজুল হক সহ সংগঠনের শতাধিক সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন যদি আমাদের দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না হয় তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হব

    এমআর

    সীমান্তে হত্যা বন্ধে প্রতীকী লাশ নিয়ে মিছিল

    সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবীতে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি আজ বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ২ টায় লালমনিরহাট জেলায় পালিত হয়েছে। হানিফ বাংলাদেশীর নেতৃত্বে মিশন মোড় চত্বরে লাশের এই মিছিল করেন তারা।

    বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার সাথে সীমান্ত আছে এমন সব জেলা ও উপজেলা প্রদক্ষিণ করে এই প্রতিবাদ মিছিল জানানো হবে। মিছিলে সংহতি জানিয়ে সাদিকুল ইসলাম, নুরু নবী মিয়া, গণতন্ত্রের রাজা এন ইউ আহম্মেদ, সৌরভ হোসেন বেলাল, আরিফ সহ স্থানীয় অনেকে এই কর্মসূচী যশোরের বেনাপোল উপজেলায় গিয়ে শেষ করবেন বলে জানান। 

    কর্মসূচী সম্পর্কে হানিফ বাংলাদেশী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিবেশি দুইটা দেশ ভারত ও মিয়ানমার সব সময় বাংলাদেশের উপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত সব সময় সীমান্তে নিরিহ মানুষকে পাখির মত গুলি করে হত্যা করছে, কিছুদিন আগে বাংলাদেশের একজন বিজিবি সদস্যকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে। গত ৪ মাসে ভারত সীমান্তে ২১ জন বাংলাদেশী বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকারের অধিকারের হিসেবে ২০১০ সাল থেকে প্রায় ১২৭৬ জন বাংলাদেশীকে বি এস এফ হত্যা করেছে, ১১৮৩ জন আহত হয়েছে। 

    আরেক প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার তাদের ১২ লাখ রহিঙ্গাকে অত্যাচার করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। গত ৫ফেব্রুয়ারী মিয়ানমারের আভান্তরিন যুদ্ধে মটারসেলে দুজন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছে। সীমান্ত আগ্রসনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে আমি প্রতিকী লাশ কাঁধে নিয়ে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম পদযাত্রা করেছি।   

    হানিফ বাংলাদেশী আরো বলেন, বাংলদেশের জনগন সব সময় প্রতিবেশি ও বন্ধু দেশ গুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায় কিন্তু প্রতিবেশী দেশ দুইটি বাংলাদেশের সাথে বৈরি আচরণ করে। সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার পরে বলা হয় এরা গরু চোর চোরাকারবারি, হতে পারে এরা গরু চোর চোরাকারবারি এদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক, গুলি করে হত্যা করবে কেন, ভারত ও মিয়ানমার যদি তাদের দেশের পাচারকারিদের দমন করে তাহলে বাংলাদেশের পাচারকারিরা এমনিতে বন্ধ হয়ে যাবে।    

    তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যে দলই এসেছে সে দলই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের মানুষের আর্ত মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে বিদেশিদের দ্বারস্থ হয়েছে। শাসকদের এই দুর্বল নতজানুর কারনে ভারত ও মিয়ানমার সব সময়  বাংকাদেশের উপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে,বিদেশী আন্য দেশ গুলো বাংলাদেশের উপ তাবেদারি করার সাহস পাচ্ছে। 

    ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের মানুষ কখনও কোন দেশের দাদাগিরি মেনে নেয়নি নতুন প্রজন্ম ও কোন দেশের আগ্রাসন মেনে  নেবেনা। বাংলাদেশের মানুষ আর্ত মর্যাদা নিয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উচ্ছু করে বাঁচতে চায়। এই কর্মসূচিতে আমরা দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। দেশের সচেতন মানুষদের এই কর্মসূচী অংশ গ্রহণ করার আহবান জানাচ্ছি। যেদিন যে জেলা উপজেলায় এই মিছিল যাবে সেখানে যেকোনো দল, সংগঠনকে আমাদের সাথে সংহতি জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।     

    এমআর

    ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য বিরামপুরে বিনা পয়সার হোটেল!

    আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় প্রতি সপ্তাহে এক দিন নিজের হোটেলে অসহায় গরীবদের বিনামূল্যে খাবার খাওয়ান বেলাল মল্লিক নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি গত ১১ বছর ধরে তার হোটেলে আড়াই থেকে সাড়ে তিনশ অসহায় মানুষকে খাবার খাওয়াচ্ছেন। বেলাল মল্লিক দিনাজপুর বিরামপুর পৌরসভার থানাপাড়া ঈদগাহ মহল্লার বাসিন্দা। 

    বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিরামপুর পৌরশহরের পল্লবীমোড়ে অবস্থিত হাজী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, মানসিক ভারসাম্যহীন, রিকশাচালক, দিনমজুরসহ আশপাশের অনেকেই এসেছেন খাবার খেতে।

    খাবারের তালিকায় সাদা ভাত, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, ছোট মাছ, সবজি, ডাল এবং মাঝেমধ্যে খিচুড়িও থাকে। বৃহস্পতিবার ছাড়াও যে কোনো সময় কোনো ক্ষুধার্ত মানুষ তার হোটেলের সামনে দাঁড়ালে সবার আগে তাকে ডেকে পেট ভরে খাবার খাওয়ায়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি হোটেল কর্মচারীরাও সযত্নে এসব ক্ষুধার্তদের সেবা করেন।

    খাবার খেতে আসা বৃদ্ধ শফিক বলেন, ‘আমার সন্তান নেই। তাই আমাকে কে খাওয়াবে আর কে কী করবে? বাধ্য হয়ে এই বয়সে মানুষের কাছে হাত বাড়িয়ে নিজের খাবার জোগাড় করি। প্রতিদিনের মতো সকালে পেটের দায়ে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে শহরে এসেছি। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে, ক্ষুধা লেগেছে। শুনেছিলাম, এ হোটেলে বিনা পয়সায় খাবার খাওয়ায় তাই এসেছি। হোটেলে ঢোকামাত্র ক্ষুধার্ত শুনে খাবার দেয়। এরপর থেকে বিরামপুরে এলে খাবার চিন্তা করতে হয় না।’

    বৃদ্ধা মমতাজ বিবি বলেন, ‘আমি গরিব। স্বামী-সন্তান কেউ এই দুনিয়াতে নেই। তাই আমি ভিক্ষা করে খাই। পেটে ক্ষুধা লাগলে আমি  প্রায় এই হোটেলে চলে আসি। এখানে আমাদেরকে পেট ভরে খাবার দেয়, কোনও পয়সা নেয় না।’

    হোটেল মালিক বেলাল মল্লিক বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার আমার হোটেলে ২৫০-৩৫০ লোক বিনামূল্যে খাবার খায়। আমি লোক দেখানোর জন্য এগুলো করি না। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে গরিব-অসহায়দের জন্য এই খাবারের ব্যবস্থা করি। এই কাজ করতে আমার আনন্দ লাগে। আমার হোটেলে প্রতিদিন ৫-৭ জন পাগল ফকিরকে খাবার খাওয়াই। এই হোটেলের আয় দিয়েও আমার সংসার চলে, আমার কর্মচারীদের চালাই।

    পিএম

    নাটোরে ফাল্গুনের বৃষ্টিতে গমচাষীদের কপালে ভাঁজ

    আর কিছু দিনের মধ্যেই কৃষকের গোলায় উঠতো গম। অথচ ফাল্গুনের এক পাশলা বৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠ কাঁচা, আধা পাকা গম মাটিতে শুয়ে পড়েছে।

    সরেজমিনে নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। অসময়ের এই বৃষ্টিতে মাথায় হাত পড়েছে এ অঞ্চলের গমচাষীদের। বাতাসে গম মাটিতে পড়ে যাওয়ায় গমের ফলনহানি হবে বলে জানিয়েছেন গম চাষীরা।

    বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে লালপুরের আকাশে ধূসর মেঘে ছেয়ে যায়। শুরু হয়ে ঝিরঝিরে বৃষ্টি সঙ্গে দমকা হাওয়া। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়াতে মাঠের কাঁচা ও আধা পাকা গম মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ওয়ালিয়া গ্রামের গম চাষী সোহেল রানা জানান, তিনি পৌঁনে দুই বিঘা জমিতে গমের চাষ করেছিলেন।

    সঠিক পরিচর্যায় গম গুলিতে শীষ এসেছিলো। আর কিছু দিন পরেই গম কাটা শুরু হবে। এবার তার গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু সকালের এক বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ায় সব গম মাটিতে শুয়ে পড়েছে। মাটিতে পড়ে যাওয়া গমের দানা চিকন কবে। ফলে আশানুরুপ ফলন হবে না বলে জানান তিনি। তার গম চাষে এবার প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

    গম চাষী কালাম জানান, তিনি ৭ কাঠা জমিতে গমের চাষ করেছিলেন। গমও ভালো হয়েছিলো। সকালের বৃষ্টিতে গম মাটিতে পড়ে যাওয়ায় গমের আশানুরুপ ফলন হবে না। এতে তার লোকসান গুনতে হবে বলে জানান তিনি।

    চকনাজিরপুর গ্রামের গাম চাষী খায়রুল জানান, লাভের আশায় গমের চাষ করেছিলেন। গমও ভালো হয়েছিলো। সকালের বৃষ্টি ও বাতাসে সব গমের গাছ মাটিতে পড়ে যাওয়ায় সব গমের ফলন অর্ধেক হবে। এতে তার ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে জানান তিনি।

    লালপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে এবছর উপজেলায় ৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে। এসকল জমি থেকে ২ হাজার ১৮৭ মেট্রিকটন গম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। তবে ফাল্গুনের এই বৃষ্টিতে গম মাটিতে পড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অর্জন হবে না বলে জানান কৃষকরা।

    লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার প্রীতম কুমার হোড় বলেন, বাতাসে যে গম গুলি পড়ে গেছে সে গুলির দানা চিকন। ফলনও সামান্য কম হবে। তবে উৎপাদনে ততটা খারাপ প্রভাব পড়বে না বলে জানান এই কর্মকর্তা।

    এমআর

    অবৈধ মজুতদাররা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চায়: খাদ্যমন্ত্রী


     

    অবৈধ মজুতদারদের বিএনপির দোসর উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, তারা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চায়, বেকায়দায় ফেলতে চায়। দেশকে রক্ষা করতে হবে। অবৈধ মজুত করে যারা ক্রাইসিস তৈরি করে, তারা দেশের শত্রু। আপনারা যে ভোট দিয়েছেন, তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।


     

     

    শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি নওগাঁর নিয়ামতপুরের বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রাধানগরে শীবনদীর ওপরে ১৯২ মিটার দীর্ঘ নবনির্মিত সেতুর চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।



    খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের দুইদিন আগে হঠাৎ করে অসৎ ব্যবসায়ীরা চালের দাম ৮/১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। তারা মনে করেছিলো, অন্য কেউ খাদ্যমন্ত্রী হলে বুঝতে বুঝতে একমাস পার হয়ে যাবে। যখন তারা দেখেছে মন্ত্রী সাধন মজুমদার হয়েছে, তখন তারা বেকায়দায় পড়েছে, আমাদেরও বেকায়দায় ফেলেছে। চালের বাজার ঠিক রাখতে জেলায় জেলায় বৈঠক করতে হয়েছে। মজুতবিরোধী অভিযানও চালাতে হয়েছে।


    সুধী সমাবেশে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সেই চেতনার পক্ষে রায় দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন।



    নিজেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার লোক দাবি করে তিনি বলেন, আমি যেখানে মন্দির করেছি, তার পাশে মসজিদও তৈরি করেছি। আমি মানবের সেবা করি, মানব ধর্ম করি।


    তিনি আরও বলেন, রাধানগর সেতু রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে। গ্রামের সঙ্গে শহুরে মানুষের যোগাযোগ সহজ ও দ্রুততর হওয়ার ফলে কৃষক সহজেই পণ্য বাজারজাত করতে পারবে।


    বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সম্পাদক আবেদ হোসেন মিলন, সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ, সহ-সভাপতি ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন, সাধারণ সম্পাদক নারায়ন চন্দ্র প্রামাণিক প্রমুখ।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালুবাগান আহলে হাদিস জামে মসজিদের মনগড়া কমিটি গঠনের প্রতিবাদ করায় মসজিদটির সাধারণ সম্পাদক ও হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিনকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মারধর করে গুরুতর আহত করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী। 

    শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিউ বালুবাগান উন্নয়ন সমিতির অফিসে বালুবাগান আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

    এ সময় লিখিত বক্তব্যে নিউ বালুবাগান উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নিউ বালুবাগানসহ নিকটবর্তী এলাকাবাসীর নামাজের জন্য মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মসজিদটির জায়গাসহ নির্মাণে সিংহভাগ মুসল্লী উক্ত মহল্লার বাসিন্দা। মসজিদটি পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করা হলেও, সেটি নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। পরবর্তীতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উভয়পক্ষের মধ্যে ৫জন করে সদস্য নিয়ে কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু উক্ত কমিটির মেয়াদ শেষ হলে গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী এক মাস আগে বর্তমান মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী সাহাবুদ্দিন নতুন কমিটি গঠনে চিঠি ইসু করলে, তাতে সায় দেয়নি মসজিদটির সাবেক সভাপতি লুৎফল হক। উল্টো তিনি স্বেচ্ছাচারিতা করে মনগড়া কমিটি গঠন করেন। এ নিয়ে সেক্রেটারি সাহাবুদ্দিনসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানালে এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষরা তাকে গালিগালাজ ও তার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত করে। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও  প্রতিবাদ জানায় এবং সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।    

    এছাড়া, বহিরাগতরা বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এরকম উদ্ভুত পরিস্থিতে নিউ বালুবাগান উন্নয়ন কমিটি আইন শৃংখলা-বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি গঠনের দাবিও জানান।  

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান, জেহাদ কাদের, ওবায়দুল হক ও মাইনুল ইসলামসহ এলাকার শতাধিক নারী পুরুষ। 

    বর্তমানে অবাঞ্চিত এই সহিংস ঘটনার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।  

    পিএম

    নাটোর স্টেশনে পানি সংকটে যাত্রীদের দুর্ভোগ

    উত্তরাঞ্চলের প্রাচীণতম রেল ষ্টেশনে পানি সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। গত প্রায় ৬ মাস ধরে এই স্টেশনে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন যাত্রি সাধারনদের অসহনীয় দুর্ভোগ সহ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ষ্টেশন প্লাটফরমটি আধুনিকায়ন করা হলেও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে একটি মাত্র নলকুপ বাসানো থাকলেও সেটিও অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এই স্টেশন হয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রি রাজধানি ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে করে যাতায়াত করে থাকেন।


    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, নাটোর রেল ষ্টেশনটি উত্তরাঞ্চলের একটি প্রাচীন ও ব্যস্ততম রেল স্টেশনে। ১৮৭৮ সালে নাটোর ষ্টেশন স্থাপিত হয়। স্টেশনটি স্থাপিত রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার মধ্যবর্তী স্থানে। এ কারণে স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ের ষ্টেশন গুলোর মধ্যে রাজস্ব আয়ের দিক থেকেও নাটোর ষ্টেশন তৃতীয়। 


    কিন্তু যাত্রীসেবার মান খুবই নিন্ম। যাত্রীদের টয়লেটগুলোর অধিকাংশ ব্যবহারের অনুপযোগী । এই ষ্টেশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা পানি সংকট। এই স্টেশনে পানির চরম সংকট চলছে। কবছর আগে ষ্টেশনটি আধুনিকায়ন করা হলেও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একটি মাত্র নলকুপ থাকলেও গত ৬ মাস ধরে তা বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ষ্টেশন এলাকায় সরকারী কোন নলকুপ নেই। যাত্রী বিশ্রামাগারে সব সময় পানি মেলে না। ফলে এই ষ্টেশনের যাত্রিদের দুর্ভোগ সহ ভোগান্তিতে পড়তে হয়।


    ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকা যাবেন। তার স্ত্রী স্টেশনে পানি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বোতল পানি কিনতে হয়েছে। ঢাকাগামী অপর এক যাত্রি বলেন, বাথ রুমে যাওয়ার আগে তাকে বোতলজাত পানি কিনে ভিতরে যেতে হয়েছে।


    খুলনাগামী কলেজ শিক্ষার্থী এক যাত্রি বলেন, ষ্টেশন প্লাট ফরম এলাকায় কোন পানির ব্যবস্থা নেই। ওয়াশ ব্লকটি অচল হওয়ায় হাত ধোয়ার জন্য হলেও পানি কিনতে হয়। স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অনেককেই পানির জন্য এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে হয়।


    নাটোর রেল ষ্টেশন সুত্রে জানাযায়, নাটোরের এই স্টেশন হয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল, সাধারণ মেইল, মালবাহিসহ প্রায় ৪০টি ট্রেন চলাচল করে। লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, রংপুর, লালমরিহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, খুলনা ও ঢাকা পথে প্রতিদিন ৩৪টি বড গেজ ও মিটার গেজ ট্রেন চলাচল করে। ফলে দিনের ২৪ ঘন্টাই স্টেশনে যাত্রীদের ভির লেগেই থাকে।


    নাটোর স্টেশন মাষ্টার কামরুন নাহার বেগম বলেন, পানির নলকুপটি বহুদিন আগের। বিকল হয়ে যাওয়া নলকুপটি মেরামত করলেও বার বার নষ্ট হয়ে যায়। পানির সমস্যাসহ স্টেশনের বিভিন্ন সমস্যার কথা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। পানি সংকট থাকায় রেলের স্টাফদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।


    পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম অসীম কুমার তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, নাটোর রেল ষ্টেশনে পানিয় জলের সংকটের বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেননা। পানি সংকট কাটাতে খুব শীঘ্রই ষ্টেশনে অধীক সংখ্যক নলকুপ স্থাপন সহ পানির ট্যাব বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    পিএম

    চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামের মৃত্যু

    পাবনার চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এস এম নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটার দিকে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হলে তাকে প্রথমে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দ্রুত ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের করোনারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক রাত দশটা ৫০ মিনিটের দিকে মারা যান তিনি।

    মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন।

    চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমআ চাটমোহর বালুচর খেলার মাঠে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে । তার আগে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গার্ড অব অনার প্রদান হয়। এরপর তার নিজ গ্রাম হরিপুর ইউনিয়নের আগ শোয়াইল গ্রামে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তাঁর মৃত্যুর খবরে চাটমোহর সহ পাবনা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    এদিকে তাঁর মৃত্যুতে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মকবুল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট একেএম সামসুদ্দিন খবির, কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, চাটমোহর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, সাবেক মেয়র প্রফেসর আব্দুল মান্নান, মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহবুব এলাহি বিশু, বজলুল করিম খাকসার, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি নাজিমুদ্দিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মির্জা, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, চাটমোহর প্রেসক্লাবের পক্ষে সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমাদের বড়াল সম্পাদক হেলালুর রহমান জুয়েল, সাবেক সভাপতি ও দৈনিক চলনবিল সম্পাদক রকিবুর রহমান টুকুন গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    তারা বলেন, এস এম নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে চাটমোহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ছিলেন স্পষ্টবাদী একজন মানুষ।

    উল্লেখ্য, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চাটমোহর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছাপোষণ করেছিলেন।

    একুশের অঙ্গীকার হোক সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা: এমপি আবু জাহির

    টানা চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির বলেছেন, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ; ওই রক্তের দামে এসেছিল বাংলার স্বীকৃতি আর তার সিঁড়ি বেয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

    ২১ ফেব্রুয়ারি ১২টা ১ মিনিটে নিমতলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় একথা বলেন। সংসদ সদস্য আরও বলেন, গৌরবময় স্মৃতি ও বিদীর্ণ শোকের রক্তঝরা দিন একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলার সুযোগ করে দিয়েছেন জানিয়ে এমপি আবু জাহির বলেন, কারও কাছে হাত পেতে নয়, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। মাথা নত করে আমরা চলব না, মাথা উঁচু করে চলব।

    এ সময় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির সকলকে সুশৃঙ্খলভাবে শহীদ মিনারের বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আহবান জানান। সেখানে জেলা প্রশাসক মোছাঃ জিলুফা সুলতানা, পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিমসহ জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজননৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    এদিকে, একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রহরে হবিগঞ্জ শহীদ মিনার মুখরিত হয়  মানুষের ভিড়ে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার দেয়াল আর পিচঢালা রাস্তাকে রঙ-তুলির আঁচড়ে আলপনায় সাজানো হয়।

    শহীদ মিনার এবং তিন দিকের মাঠ আগে থেকেই পরিচ্ছন্ন করে রাখা ছিল। রঙিন আলপনায় আঙিনা ছেয়ে যায় চারদিক। নান্দনিক সাজসজ্জা দেখতে স্থানীয় লোকজন ভীড় করছেন। সাজ-সজ্জার দায়িত্ব পালন করছে ‘বিডি ক্লিন’। তাতে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও।

    এমআর

    ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর হামলা

    মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মাতৃভাষা ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় উত্তেজনা দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। 

    বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টায় মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘটনা ঘটে। 

    রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রটোকল অনুযায়ী প্রথমে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ফুলের তোড়া শহীদ মিনারে অর্পন করতে যান। 

    পরে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি নেছার আহমদ পুলিশের বেড়িকেট ভেঙে সামনে আগানোর চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে উপস্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের দিকে তেড়ে এসে হামলা চালায়। 

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আওয়ামীলীগের পুষ্প অর্পনের সময় যুবলীগ সহ-সম্পাদক শিমুল আহমেদ চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান রনি, ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী আমীন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ, কিবরিয়া, সিভাজেড শামিম, লিপ্পন, সৌমিক, সাঈদ রাজা, সায়েক, রুপসান, মনুয়ার, তানভির আহমদ চৌধুরী, আবির শেখ হেলাল পুলিশের উপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান। 

    এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু এটি জেলার বিষয় এসপি স্যারের সাথে কথা বললে ভালো হয়।

    এমআর

    সিলেটের লন্ডন ম্যানশনে আগুন

    সিলেট নগরের জিন্দাবাজারস্থ ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রির মার্কেট লন্ডন ম্যানশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

    বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১টার দিকে মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি দোকান থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে ফায়ার সার্ভিস।


    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,রাত পৌনে ১ টার দিকে লন্ডন ম্যানশনের দ্বিতীয় তলার স্পোর্টস নিক্স নামক দোকান থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হতে দেখতে পান তারা। এ সময় মার্কেটের দায়িত্বরত নৈশপ্রহরীসহ কয়েকজন তাৎক্ষনিক ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

     সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, আমরা রাত পৌনে ১টার দিকে আগুন লাগার খবর পাই। এ সময় আমরা শহীদ মিনার এলাকা থেকে খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। এসে দোকানের ছাদের পার্টিশনে থাকা কাপড় চোপড়ে আগুন দেখে তা নির্বাপণে কাজ শুরু করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি বৈদ্যুতিক শক সার্কিট থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভাতে আমাদের ৪ টি ইউনিট কাজ করেছে।

    ক্ষয়ক্ষতির পরিমানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কাপড় জাতীয় জিনিস বেশি থাকায় আমরা পানি ছাড়া বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। খুব অল্প পানি ব্যবহার করায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়নি। আর আমরা ঘটনাস্থলের আশেপাশেই থাকায় বড় দূর্ঘটনার কবল থেকে মার্কেটটি রক্ষা পেয়েছে।

    এমআর

    মৌলভীবাজারে অবৈধ গাড়ি পার্কিং, জনজীবন অতিষ্ঠ

    চায়ের রাজধানী খ্যাত পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারে প্রতিদিন দর্শনীয় স্থানগুলোতে বেড়াতে আসেন দেশী বিদেশী পর্যটকরা। মৌলভীবাজার শহরে সারাদিন দফায় দফায় লেগে থাকে যানজট পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকা যেমন এর প্রধান কারণ, তেমনি অবৈধভাবে গড়ে উঠা সিএনজি ও টমটম ষ্ট্যান্ডকেও দায়ী করেছে সচেতন মহল।

    বেআইনিভাবে রাস্তার পাশে ভ্যান গাড়ি রেখে মালামাল বিক্রি,  অবৈধ্য ভাবে অফিস কিংবা শপিংমলের সম্মুখে গাড়ি পার্কিং এ যেন মৌলভীবাজারের জনজীবনে মারাত্মক ভাবে দুর্ভোগে ফেলে দিচ্ছে।

    মৌলভীবাজার টু শ্রীমঙ্গল মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন পার্কিং করাই যেন জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যাটারী চালিত গাড়ির ভীড়ে বেড়েছে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা। যেখানে সেখানে, বাস ,সিএনজি, টমটম অটো ভ্যান, অটো রিকশা  র্পাকিং করে যাত্রী ওঠা-নামা করার ফলে দুর্ঘটনার শিকার হয় সাধারন পথচারী।

    ট্রাফিক পুলিশের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ সব অবৈধ যানবাহন। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে এ অবৈধ গাড়ির সংখ্যা । এসব গাড়ি চালকদের জানা নেই ট্রাফিক নিয়ম কানুন, নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স  তাঁরা সড়কের উপর যেখানে সেখানে করছে অবৈধ গাড়ি পার্কিং কর। এসব অবৈধ ভাবে  গাড়ি পার্কিং এর কারনে বেড়েছে তীব্র যানজট।

    সড়কের দুপাশে ব্যাটারিচালিত টমটম ও সিএনজি অটোরিকশার যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণেই এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পৌরবাসীর। এর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলা ও তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন তারা।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায় শহরের অন্যতম শপিংমল এমবি ক্লথ স্টোর এবং বিলাস ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এ প্রতিদিনই আসেন হাজার হাজার ক্রেতাগণ কেউ সাথে করে নিয়ে আসেন কার, কেউ নিয়ে আসেন মাইক্রোবাস আবার কেউ নিয়ে আসেন সিএনজি কিংবা অটোরিকশা তবে এইসব যানবাহন পার্কিং এর জন্য নেই কোনো পার্কিং এরিয়া কিংবা পার্কিং স্পট যার ফলে এইসব যানবাহনগুলো প্রতিনিয়তই রাখা হয় অবৈধভাবে সড়কের পাশে পার্কিং করে, ফলে তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ মানুষজন দের।

    শহর ঘুরে দেখা যায়, টমটম চালকরা ইচ্ছে মতো যেখানে খুশি সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন আবার রাস্তার মধ্যেই গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের তুলছেন। এতে যেমন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনাও। শহরের কিছু পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও যানজট নিরসনের মোকাবিলায় তাদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    এ বিষয় ট্রাফিক বিভাগের টি আই সার্জেন্ট ডিএম মারিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে বলেন,  যানজট নিরসনে প্রতিনিয়তই মৌলভীবাজার ট্রাফিক পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে অবৈধভাবে পার্কিংয়ের জন্য অনেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তবে শহরের শ্রীমঙ্গল রোডে অনেক গুলো হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকায় অনেকেই রোগী দেখাতে আসেন যার ফলে যানজট সৃষ্টি হয় তবে আমরা মানবিক দৃষ্টিতে এদের কিছু বলি না, যেহেতু আপনাদের কাছে অভিযোগ আসছে আমরা আরো কঠোর অবস্থান নেব এবং তাদের শাস্তির আওতায় আনবো।

    এফএস

    হবিগঞ্জে নিজেদের ঘর থেকে গৃহবধূ ও কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে পৃথক ঘটনায় নিজেদের বসতঘর থেকে গৃহবধূ ও কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 


    সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দুটি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।


    জানা গেছে, উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের বিন্যাখালী গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী আব্দুর জব্বারের ছেলে সাব্বির মিয়ার (২৩) ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি সিলেট জালালাবাদ স্বুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নের শিবপাশা কান্দিপাড়ের মোস্তাকিন মিয়ার স্ত্রী রুপসা আক্তারের (২৫) গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি এক কন্যা সন্তানের জননী।


    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সাব্বির লেখাপড়ার সূত্রে সিলেটে বসবাস করতেন। সপ্তাহ খানেক আগে তিনি বাড়িতে আসেন। বিকেলে মায়ের কাছে ৩০ হাজার টাকা চান সাব্বির। তার মা টাকা পরে দেবে জানালে অভিমান করেন। পরে সবার অগোচরে নিজের বসতঘরের আড়ার সঙ্গে কাপড় দিয়ে গলায় ফাঁস দেন সাব্বির।

    কিছুক্ষণ পর বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশকে জানানো হয় হয়। 


    খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সালাম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাব্বিরের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। 


    অপরদিকে রুপসা আক্তারের সঙ্গে ঢাকায় কর্মরত স্বামী মোস্তাকিনের মোবাইল ফোনে কথাকথাকাটি হয়। এরই জের ধরে অভিমানে পরিবারের সবার অগোচরে নিজের বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে ফাঁস দেন তিনি। কিছুক্ষণ পর রুপসার শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা শিবপাশা পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে শিবপাশা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আলমগীর কবিরসহ একদল পুলিশ গিয়ে রুপসা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। 


    আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমেদ সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাব্বিরে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া নেওয়ার জন্য পরিবারের লোকজন আবেদন করেছেন। আর রুপসা আক্তারের মরদেহের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এআই 

    অনলাইন ভোট

    আন্তর্জাতিক

    সব দেখুন
    পিটিআই প্রধানের পদ থেকে সরানো হলো গোহরকে
    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ব্যারিস্টার গোহর আলী খানকে। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এমনটাই দাবি করেছেন পিটিআইয়ের আরেক নেতা শের আফজাল মারওয়াত। খবর পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের।পিটিআইয়ের পরবর্তী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার আলী জাফরের নাম ঘোষণা করার একদিন পর গোহরকে সরানোর এ ঘোষণা এলো। আগামী ৩ মার্চ দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হওয়ার কথা।পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) ও সুপ্রিম কোর্ট পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনকে বেআইনি ঘোষণা করে। দলীয় প্রতীক ক্রিকেট ব্যাটও কেড়ে নেয়। এরপর প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে দলের শীর্ষ পদটি শূন্য ছিল।জিও নিউজকে মারওয়াত বলেন, অযোগ্যতা ও দুর্বল পারফরম্যান্সই গোহরকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণের প্রধান কারণ। তিনি একজন ভদ্রলোক কিন্তু তার কাজ সন্তোষজনক ছিল না।পিটিআই নেতা বলেন, গোহর কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। পার্টি অফিস চালাতে হলে সব সময় সক্রিয় থাকতে হয়, কিন্তু তিনি তা করতে পারেননি।নির্বাচনের ফলাফলের পরে, দলীয় নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয় ছিল না। নির্বাচনের পরে শক্ত হাতে দলের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তিনি তাতে ব্যর্থ হন বলেও মন্তব্য করেছেন মারওয়াত।পিটিআইয়ের মুখপাত্র রওফ হাসান, চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের নেতা ঠিক করতে ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তঃদলীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তা স্থগিত করা হয়।নতুন নির্বাচনি সূচি অনুযায়ী,আন্তঃদলীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি  মনোনয়নপত্র জমা দিবেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি যাচাই-বাছাই করা হবে।এফএস
    রাশিয়ার ওপর আরও ৫০০ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
      রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রাশিয়ার ওপর নতুন করে আরও ৫০০ এর বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আজ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাইডেন।এছাড়া একশরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়ে বাইডেন বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠান রাশিয়াকে যুদ্ধে সহায়তা করছে। এছাড়া জ্বালানি বিক্রি করে যেন রাশিয়া বেশি অর্থ লাভ করতে না পারে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।ইউক্রেনের ওপর হামলা ও বিরোধী দলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির মৃত্যুর কারণে এসব নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে।এ ব্যাপারে বিবৃতিতে বাইডেন আরও বলেন, ‘বিদেশে আগ্রাসন ও দেশে নির্যাতনের জন্য আরোপিত এসব নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করবে—পুতিনকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’নাভালনিকে কারাদণ্ড দেওয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তারা নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া রাশিয়ার অর্থনৈতিক খাত, প্রতিরক্ষা শিল্প, কেনাকাটার নেটওয়ার্ক এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন বলে জানিয়েছেন বাইডেন।বিবৃতিতে বাইডেন ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সহায়তা দিতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুই বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে এখনো ইউক্রেনীয়রা প্রবল সাহসিকতা নিয়ে লড়াই করে চলছেন। কিন্তু তাদের অস্ত্র ফুরিয়ে আসছে। রাশিয়ার অব্যাহত হামলা প্রতিহতে ইউক্রেনের আরও অস্ত্র প্রয়োজন। ইরান ও উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রের কারণে রাশিয়া এখনো হামলা অব্যাহত রাখতে পারছে। এ কারণে খুব দেরি হওয়ার আগে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভকে দ্রুত ইউক্রেনের সহায়তা বিলকে অনুমোদন দিতে হবে।
    স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করলো ব্রিটিশ সরকার
     ইংল্যান্ডের সব স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিয়োয় এই ঘোষণা করেন তিনি। মোবাইলের উপর বিধিনিষেধের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, স্কুলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ফোন। সরকারি নির্দেশিকায় বিষয়টিতে নজরদারির জন্য প্রধানশিক্ষকের উপরে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।এ ক্ষেত্রে নানা উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুলে ফোন না নিয়ে আসে তা শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আবার কেউ ফোন আনলে তা যাতে লকারে সুরক্ষিত ভাবে রাখা যায়, সেই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে, ক্লাস চলাকালীন যেন কেউ যাতে ফোন ব্যবহার না করে কিংবা ফোনের আওয়াজে পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। শিক্ষামন্ত্রী স্কুলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতার উপরে জোর দিয়েছেন। মোবাইল ফোন কিভাবে কাজে বিঘ্ন ঘটায়, তা বোঝাতে ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন সুনাক। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি যখনই কিছু বলতে যাচ্ছেন, বার বার বেজে উঠছে ফোন। সুনাক বলেছেন, “প্রায় এক তৃতীয়াংশ পড়ুয়া জানিয়েছে, ফোনের জন্য কিভাবে তাদের পড়ায় বিঘ্ন ঘটে। অনেক স্কুল ইতোমধ্যেই ফোনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যার ফলে পড়ুয়াদের পড়াশোনার পরিবেশের উন্নতি ঘটেছে। এ বার নতুন করে এ বিষয়ে নির্দেশিকা দেয়া হল। যাতে সব স্কুলই এই বিষয়টি মেনে চলে। ছাত্রছাত্রীদের যে শিক্ষা প্রয়োজন, তা যেন সকলে পায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই আমরা।”তবে সুনাকের এই ভিডিয়োর সমালোচনা করেছেন অনেকেই। কারো কারো মন্তব্য, “খুবই দুর্বল অভিনয় দক্ষতা।” বিরোধী লেবার পার্টিও ওই ভিডিয়োকে ব্যঙ্গ করে একই ধরনের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সুনাক কিছু বলতে যাচ্ছেন কিন্তু বার বার ফোনে নোটিফিকেশন আসছে। কখনো ব্রিটেনে আর্থিক মন্দার খবর আবার কখনো অভিবাসন কিংবা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা বার্তাও আসছে ফোনে। স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করলো ব্রিটিশ সরকার ইংল্যান্ডের সব স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিয়োয় এই ঘোষণা করেন তিনি। মোবাইলের উপর বিধিনিষেধের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, স্কুলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ফোন। সরকারি নির্দেশিকায় বিষয়টিতে নজরদারির জন্য প্রধানশিক্ষকের উপরে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।এ ক্ষেত্রে নানা উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুলে ফোন না নিয়ে আসে তা শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আবার কেউ ফোন আনলে তা যাতে লকারে সুরক্ষিত ভাবে রাখা যায়, সেই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে, ক্লাস চলাকালীন যেন কেউ যাতে ফোন ব্যবহার না করে কিংবা ফোনের আওয়াজে পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। শিক্ষামন্ত্রী স্কুলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতার উপরে জোর দিয়েছেন। মোবাইল ফোন কিভাবে কাজে বিঘ্ন ঘটায়, তা বোঝাতে ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন সুনাক। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি যখনই কিছু বলতে যাচ্ছেন, বার বার বেজে উঠছে ফোন। সুনাক বলেছেন, “প্রায় এক তৃতীয়াংশ পড়ুয়া জানিয়েছে, ফোনের জন্য কিভাবে তাদের পড়ায় বিঘ্ন ঘটে। অনেক স্কুল ইতোমধ্যেই ফোনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যার ফলে পড়ুয়াদের পড়াশোনার পরিবেশের উন্নতি ঘটেছে। এ বার নতুন করে এ বিষয়ে নির্দেশিকা দেয়া হল। যাতে সব স্কুলই এই বিষয়টি মেনে চলে। ছাত্রছাত্রীদের যে শিক্ষা প্রয়োজন, তা যেন সকলে পায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই আমরা।”তবে সুনাকের এই ভিডিয়োর সমালোচনা করেছেন অনেকেই। কারো কারো মন্তব্য, “খুবই দুর্বল অভিনয় দক্ষতা।” বিরোধী লেবার পার্টিও ওই ভিডিয়োকে ব্যঙ্গ করে একই ধরনের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সুনাক কিছু বলতে যাচ্ছেন কিন্তু বার বার ফোনে নোটিফিকেশন আসছে। কখনো ব্রিটেনে আর্থিক মন্দার খবর আবার কখনো অভিবাসন কিংবা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা বার্তাও আসছে ফোনে।
    আকাশে উড়লো তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’
      ‘কান’, তুর্কি ভাষায় যার অর্থ রাজাদের রাজা। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আঙ্কারার একটি এয়ারফিল্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উড্ডয়ন করে তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান। খবর ডিফেন্স নিউজের।এই ফাইটার জেটের পরীক্ষামূলক সফল উড্ডয়ন হয়েছিলো গেল বছরই। তবে আরও সিস্টেম আপগ্রেডেশনের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ফ্লাই করলো যুদ্ধবিমানটি। মহড়া চালায় বেশ কিছুক্ষণ।৬৯ ফুট দীর্ঘ যুদ্ধবিমানটি শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ গতিতে উড়তে সক্ষম। দুই ইঞ্জিনের এ বিমান ঘণ্টায় ২ হাজার ২ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। স্টিলথ এই বিমানটি সহজেই রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম।এর সমরাস্ত্র সক্ষমতাও তাক লাগানোর মতো। আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার উপযোগী মিসাইল ছুড়তে সক্ষম এটি। বহন করতে পারে বিভিন্ন ধরনের গাইডেড বোমা। লেজার নিয়ন্ত্রিত কিংবা বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমাও নিক্ষেপ করতে পারে যুদ্ধবিমান ‘কান’।দীর্ঘদিন ধরেই পঞ্চম প্রজন্মের মার্কিন স্টিলথ এফ-থার্টি ফাইভ পেতে চাইছে আঙ্কারা। এ লক্ষ্যে চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিও করে দেশটি। বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগও করে তারা। তবে রাশিয়ার কাছ থেকে ‘এস-৪০০’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনায় তা নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।সেই চাহিদা পূরণেই নিজস্ব প্রযুক্তিতে ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির দিকে জোর দিয়েছে তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চীন ও রাশিয়ার কাছে রয়েছে এ ধরনের যুদ্ধবিমান।এমএইচ
    ভেনেজুয়েলায় সোনার খনিতে ধস, নিহত অন্তত ২৩
    দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় একটি সোনার খনিতে ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় সেখানে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।ভেনেজুয়েলার মধ্যাঞ্চলে একটি উন্মুক্ত সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার মধ্যাঞ্চলে বেআইনিভাবে পরিচালিত একটি সোনার খনিতে মাটির দেয়াল ধসে পড়ার পর অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে বহু মানুষ কাজ করছিলেন।স্থানীয় কর্মকর্তা ইওরগি আর্কিনিগা বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, দেশের বলিভার প্রদেশের জঙ্গলে বুল্লা লোকা নামে পরিচিত খোলা গর্ত থেকে প্রায় ২৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার এই দুর্ঘটনা ঘটে।বেসামরিক নিরাপত্তা উপমন্ত্রী কার্লোস পেরেজ অ্যাম্পুয়েদা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন এবং ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যাকে ‘বিশাল’  বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও তিনি নিহতের কোনও সংখ্যা উল্লেখ করেননি।ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি উন্মুক্ত খনির অগভীর পানিতে কর্মরত লোকদের ওপর ধীরে ধীরে মাটির একটি প্রাচীর ভেঙে পড়ছে। কেউ কেউ ঘটনার সময় সেথান থেকে পালাতে সক্ষম হলেও অনেকে আবার তাতে চাপা পড়েন।কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় ২০০ জন লোক সেসময় খনিতে কাজ করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে এই খনিটি অবস্থিত সেখানে পৌঁছাতে হলে নিকটতম শহর লা প্যারাগুয়া থেকে সাত ঘণ্টার নৌকায় ভ্রমণ করতে হয়।বলিভার প্রদেশের নাগরিক নিরাপত্তা বিষয়ক সেক্রেটারি এডগার কোলিনা রেয়েস বলেছেন, আহতদের আঞ্চলিক রাজধানী সিউদাদ বলিভারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই অঞ্চলটি লা প্যারাগুয়া থেকে চার ঘণ্টা দূরত্বে এবং রাজধানী কারাকাসের ৭৫০ কিলোমিটার (৪৬০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।রেয়েস বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সামরিক, দমকল বাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো ‘আকাশপথে ওই এলাকায় চলে যাচ্ছে’। তিনি বলেন, অনুসন্ধানে সহায়তার জন্য কারাকাস থেকে উদ্ধারকারী দলও পাঠানো হচ্ছে।আল জাজিরা বলছে, বলিভার অঞ্চল সোনা, হীরা, লোহা, বক্সাইট, কোয়ার্টজ এবং কোল্টান সমৃদ্ধ। রাষ্ট্রীয় খনি ছাড়াও এই অঞ্চলে অবৈধভাবে এসব মূল্যবান ধাতু উত্তোলনের বিকাশমান শিল্পও রয়েছে।এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে একই অঞ্চলের ইকাবারুর আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি খনি ধসে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছিল।এমআর
    সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ‌দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যা বললো যুক্তরাষ্ট্র
     ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ পাচার নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এই বিষয়ে কথা বলেন।এক সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'রোববার ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের লোকদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়টি একটি ওপেন সিক্রেট। মন্ত্রীপরিষদের সাবেক এক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। যার মূল্য ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা দেশের বৈদেশিক রিজার্ভের এক শতাংশের সমতুল্য। এটি অনেক ঘটনার মধ্যে একটি। বাংলাদেশ সরকারকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিবে?আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ২০ কোটি পাউন্ডের সম্পদজবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানান, আমরা এই রিপোর্টের বিষয়ে অবগত রয়েছি। বাংলাদেশ সরকারকে বলব, তাদের সব কর্মকর্তা যেনো দেশটির আইন এবং অর্থনৈতিক বিধি-বিধান মেনে চলে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে।এর আগে রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যে কোম্পানি হাউসের করপোরেট অ্যাকাউন্ট, বন্ধকি চার্জ এবং এইচএম ল্যান্ড রেজিস্ট্রি লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় একটি প্রপার্টি ২০২২ সালে ১১ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয়। এই প্রপার্টিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু সাদা রংয়ের বাড়ি। সেই সঙ্গে আছে সিনেমা হল ও জিমনেসিয়াম।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল লন্ডনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে টাওয়ার হ্যামলেটসে আবাসন—যেখানে ইংল্যান্ডের বৃহত্তম বাংলাদেশি কমিউনিটির আবাসস্থল এবং লিভারপুলে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভবন। আন্তর্জাতিক এই সংবাদ সংস্থা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রায় আড়াইশ প্রপার্টির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, যখন এই প্রপার্টিগুলো কেনা হয়, তখন যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র আবাসন সংকট চলছিল এবং এর ৯০ ভাগই ছিল সদ্য তৈরি নতুন বাড়ি।ব্লুমবার্গ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে সাইফুজ্জামানের অন্তত ৫টি প্রপার্টি খুঁজে পেয়েছে। মিউনিসিপ্যাল প্রপার্টির নথি অনুসারে, এসব সম্পত্তি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ছয় মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়েছে।দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তার এসব সম্পত্তির কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে, রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততা আছে এমন লেনদেন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের আইন আদৌ কার্যকর কি না।ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে প্রাক-নির্বাচনী ঘোষণায় সাইফুজ্জামান তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫৮ দশমিক তিন মিলিয়ন টাকা (দুই দশমিক চার মিলিয়ন ডলার) এবং তার স্ত্রী রুখমিলা জামানের মোট সম্পদের পরিমাণ নয় লাখ ৯৩ হাজার ডলার বলে জানান। তিনি বাংলাদেশে সম্পদের ঘোষণাপত্রে তার যুক্তরাজ্যের সম্পদের পরিমাণ দেখাননি। মন্ত্রী হিসেবে ২০২২-২৩ সালে তার বেতন প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড হিসাবে দেখানো হয়।সাইফুজ্জামান যুক্তরাজ্যের ২০১৭ সালের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং আইনে সংজ্ঞায়িত ‘পলিটিক্যালি এক্সপোজড পারসন (পিইপি)’ ক্যাটাগরিতে পড়েন। এটি যুক্তরাজ্যে ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত সম্পত্তির এজেন্ট, ঋণদাতা, প্রপার্টি আইনজীবী এবং অন্যদের ওপর পিইপি শনাক্ত করার কাজ করে।এইসব ব্যক্তি সম্পত্তি কেনার মতো ব্যবসায়িক লেনদেনে নিযুক্ত থাকলে তাদের সম্পৃক্ততা অতিরিক্ত তদন্তের দাবি রাখে। ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যাদের মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর জন্য সম্পত্তি কেনার সঙ্গে জড়িত আর্থিক সেবা ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে সম্পত্তি কেনায় ৬৭০ কোটি পাউন্ড মূল্যের ‘সন্দেহজনক তহবিল’ চিহ্নিত করেছে।
    আবারও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ, প্রেসিডেন্ট জারদারি
    কয়েকদিনের টানা আলোচনার পর পাকিস্তানে সরকার গঠনে ঐকমত্যে পৌঁছেছে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএলএন) এবং বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। সমঝোতা অনুযায়ী, ফের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন পিএমএলএনের শেহবাজ শরিফ। অপরদিকে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হবেন পিপিপির আসিফ আলী জারদারি।বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে এ ঘোষণা দেয় দল দুটি।মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সরকার গঠন নিয়ে সিনেটর ইসহাক দারের বাড়িতে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন পিএমএলএন এবং পিপিপির নেতারা। সেখানে জোট সরকার গঠনের বিভিন্ন শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করেন তারা। এরপর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় এই দুই দল।পিপিপির বিলাওয়াল ভুট্টো নিশ্চিত করেছেন, শেহবাজ শরীফ আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট পদে বসবেন তার বাবা আসিফ আলী জারদারি। সরকার গঠন হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। সেখানে পিপিপির আসিফ আলী জারদারিকে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএমএলএন।বিলাওয়াল আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র পাকিস্তানের স্থিতিশীলতার জন্য তারা জোট সরকার গঠনে সম্মত হয়েছেন। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রীসভায় তারা কোন কোন মন্ত্রণালয়গুলো নেবেন বা পাবেন সেটি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিলাওয়াল।শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তারা ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু পিটিআই সরকার গঠনে পর্যাপ্ত আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি পিটিআইয়ের স্বতন্ত্ররা সরকার গঠন করলে পিএমএলএন বিরোধী আসনে বসতেও প্রস্তুত ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু পিটিআই সরকার গঠন করতে পারেনি। ফলে তারা সরকার গঠন করছেন।
    সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত ইমরানের দল পিটিআই’র!
     পাকিস্তানের সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিল বা এসআইসি'র সঙ্গে চুক্তি করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই। পাকিস্তানের কারান্তরীণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআইয়ের বর্তমান চেয়ারম্যান গহর আলী খান বলেছেন, কেন্দ্র এবং প্রদেশগুলোতে জোট গঠনে ধর্ম-ভিত্তিক রাজনৈতিক দল সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিল বা এসআইসি'র সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে পৌঁছেছে পিটিআই।সোমবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেছেন, জাতীয় পরিষদে ৭০টি এবং সারা দেশে ২২৭টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। এসব আসন কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই বণ্টন করা হয়।গহর খান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছেছি। এই চুক্তি অনুযায়ী, আমাদের দলের সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থীরা এসআইসিতে যোগদান করবেন। আমরা নির্বাচন কমিশন বা ইসিপির কাছে এই চুক্তির নথিপত্র উপস্থাপন করবো।তিনি বলেন, দলের শক্তি ও আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে আমরা ইসিপির কাছে আবেদন করবো। গহর খান বলেন, আমাদের দলের সমর্থিত প্রার্থী- যারা জাতীয় পরিষদ, খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদে বিজয়ী হয়েছেন, তারা সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে যোগ দেবেন।আইনি বাধার কারণে ইমরান খানের সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এর ফলে ইমরান খানে সমর্থিত প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসনে বিজয়ী হওয়ার পরও সংরক্ষিত আসনগুলোর ভাগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এ কারণে তারা একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে সংরক্ষিত আসনগুলোর প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে যাচ্ছে।
    ইসরায়েলি দখলদারিত্ব নিয়ে আইসিজে’র শুনানিতে আজ অংশ নেবে বাংলাদেশ
      ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্ব নিয়ে শুনানি শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে)। আজ শুনানিতে অংশ নেবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার নেদারল্যান্ডসের হেগ’এ অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ওই আদালতে শুনানি শুরু হয়। বাংলাদেশসহ ৫২টি দেশ ও ৩টি সংগঠন শুনানিতে অংশগ্রহণ করবে। সেই সাথে যুক্তিতর্কও উপস্থাপন করবে দেশগুলো। শুনানি চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আজ মঙ্গলবার শুনানিতে অংশ নেবে দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, ব্রাজিল, চিলি ও বাংলাদেশসহ ১১টি দেশ। গতকাল আইসিজের শুনানির প্রথম দিনে শুধু ফিলিস্তিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। শুনানিতে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েল অত্যাচার চালিয়ে আসছে। এতে ফিলিস্তিনিরা জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।রিয়াদ আল-মালিকি আরও বলেন, ‘অবৈধ দখলদারত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে একটাই সমাধানের কথা বলা রয়েছে। সেই সমাধান হলো অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে দখলদারত্বের সম্পূর্ণ অবসান।’উল্লেখ্য, শুনানিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী পল রেকলার আদালতকে বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো ও সম্ভাব্য সর্বশেষ সমাধান দুই রাষ্ট্র গঠন, যা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয়ের জন্যই জরুরি। তবে এই সমাধানের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্ব।’
    হজে গিয়ে ভিক্ষা করলে ৭ বছরের জেল, ১৫ কোটি টাকা জরিমানা
    পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে গিয়ে কেউ অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা বা ভিক্ষাবৃত্তি করলে তাকে ৭ বছর কারাগারে থাকতে হবে। সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউশন এ সতর্ক বার্তা দিয়েছে। এছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করলে দণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হবে ।এ বিষয়ে সৌদি পাবলিক প্রসিকিউশন জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া নগদ অর্থ বা অন্য কোনো সাহায্য সংগ্রহ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। যারা অর্থ সংগ্রহের জন্য সাধারণ হাজিদের সঙ্গে প্রতারণা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে অর্থ জালিয়াতির আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রতি বছর পবিত্র  হজে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন বহু দরিদ্র দেশের মুসলিমরা। হজের সময় পুরো বিশ্ব থেকে কোটি কোটি মুসলিম সমবেত হন মক্কা ও মদিনায়। সেই সুযোগে অনেকে হজে যাওয়ার নাম করে ভিসা নিয়ে সেখানে ভিক্ষাবৃত্তি করেন বলে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।সৌদি প্রশাসনের পক্ষে জানানো হয়েছে, এভাবে বিনা অনুমতিতে হাজিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই এসব আইনের ধারায় ভিক্ষাবৃত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সৌদিআরব সরকার।এআই 

    বিনোদন

    সব দেখুন
    ফের বাংলাদেশি সিনেমায় ইধিকা পাল
    ঢাকাই চলচ্চিত্রের শাকিব খান ও শরিফুল রাজের সঙ্গে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী ইধিকা পাল। শাকিবের সঙ্গে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন ইধিকা। এছাড়া, বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছেন এই নায়িকা।অন্যদিকে শরিফুল রাজের সঙ্গে ‘কবি’ শিরোনামে সিনেমাটির কাজ চলছে। এর মধ্যেই জানা গেছে নতুন প্রজন্মের তারকা সিয়াম আহমেদের সঙ্গে জুটি বেঁধে একটি সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন ইধিকা।সিয়াম-ইধিকা জুটির এ সিনেমার নাম ‘সিকান্দার’। এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সিনেমার পরিচালক তামিম রহমান। তিনি গণমাধ্যমে বলেন ‘দুজনের সঙ্গে কয়েকবার বসা হয়েছে। গল্প শুনেছেন। কাজটি করার জন্য দুজনই রাজি। শুটিংয়ের জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছেন।’‘সিকান্দার’ সিনেমাটি বিভিন্ন ধরনের সংকটের গল্প নিয়ে তৈরি হবে। যৌথভাবে এর গল্প লিখেছেন তামিম রহমান, সরদার সানিয়াত ও অনন্য মামুন। পরিচালক নিজেই চিত্রনাট্য লিখেছেন বলে জানা গেছে। ইধিকা পাল জি-বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল রিমলির মাধ্যমে ছোটপর্দায় যাত্রা শুরু করেন। এফএস
    রিয়া মণিকে নিয়ে প্রশ্ন করায় ক্ষেপলেন হিরো আলম
      লম্বা সময় ধরেই সহশিল্পী হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন আলোচিত ইউটিউবার হিরো আলম ও রিয়া মণি। এই জুটির সম্পর্কের গুঞ্জনে বিয়ের খবরও মিলেছে। যদিও হিরো আলমের দাবি, তিনি রিয়া মণিকে বিয়ে করেননি। অভিনয়ের জন্যই দু’জনের ঘনিষ্ঠতা। এর বাহিরে কোনো সম্পর্ক নেই।আজ বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ডিবি কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকরা রিয়া মণির সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে ক্ষেপে যান হিরো আলম। এসময় হিরো আলম বলেন, আমি রিয়া মণিকে বিয়ে করিনি। সে আমার সহশিল্পী, অনেক ইউটিউবার আমাকে এসব ফালতু প্রশ্ন করে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। এসব ঠিক না। এর আগে গতকাল বুধবার  হিরো আলমকে ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘ছিঃ ছিঃ’ বলে অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করে দর্শনার্থীদের একাংশ।  এ ঘটনার পরপরই বৃহস্পতিবার ডিবি কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। সেখান থেকে বের হয়েই ইউটিউবারদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। একইসঙ্গে রিয়া মণির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেন।আলম বলেন, ‘শুটিংয়ের কারণেই আমার-রিয়ার ঘনিষ্ঠতা। এর বাইরে কিছু নেই। আমরা বিয়েও করিনি। কিছু ইউটিউবার আমাদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।’এদিন ডিবি কার্যালয়ে হাজির হওয়া প্রসঙ্গে  ঢাকা পোস্টকে হিরো আলম বলেন, ‘একজন মানুষকে শুধু বইমেলা থেকে নয়, যে কেউ যে কোনো স্থান থেকে বের করে দিতে পারে না। সেখানে বইমেলায় আমাকে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়েছে, যেটা আমার কাছে উত্ত্যক্তের পর্যায়ে মনে হয়েছে। তাই ডিবি কার্যালয়ে এসেছি।’গতকাল বুধবার বিকেলে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে দর্শনার্থীদের ‘ভুয়া ভুয়া’ ও ‘ছি ছি’ দুয়োধ্বনিতে মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়তে বাধ্য হন হিরো আলম। এদিন বিকেল ৪টার দিকে বইমেলায় পাঠক-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এ সময় নিজের লেখা বই হাতে নিয়ে পাঠকদের কিনতে উৎসাহিত করেছিলেন তিনি। হঠাৎ একদল দর্শনার্থী তাকে ‘ভুয়া, ভুয়া’ ও ‘ছি ছি’ দুয়োধ্বনি দিতে শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি নিজেই বইমেলা থেকে বের হয়ে যেতে উদ্যত হন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এসে বেষ্টনী দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করেন। হিরো আলমের বইয়ের নাম ‘দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, আমরা সমাজকে বদলে দেব’।গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুয়োধ্বনির মুখে বইমেলা থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন আলোচিত-সমালোচিত দম্পতি মুশতাক-তিশা দম্পতি। এরপরে একই কাণ্ড ঘটে ডা. সাবরিনার সঙ্গেও।
    'ভুয়া' বলে দুয়োধ্বনি দিয়ে আমাকে অপমান করা হয়েছে: হিরো আলম
    আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বিতাড়িত হওয়ার ঘটনায় অভিযোগ জানাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন।বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হিরো আলম লিখিত অভিযোগ নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যান।সেখান থেকে বের হয়ে হিরো আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন মানুষকে কোনো জায়গা থেকে বের করে দেওয়ার অধিকার কেউ রাখে না। আমার সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে, বইমেলায় আমাকে ভুয়া বলে দুয়োধ্বনি দিয়ে অপমান করা হয়েছে। সে জন্য আমি ডিবি কার্যালয়ে এসেছি। বিষয়টির একটা সুরাহা করা উচিত।’এ সময় ভুয়া শব্দকে ইভটিজিংয়ের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান তিনি।গতকাল বুধবার বিকেলে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে দর্শনার্থীদের ‘ভুয়া ভুয়া’ ও ‘ছি ছি’ দুয়োধ্বনিতে মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়তে বাধ্য হন হিরো আলম। এদিন বিকেল ৪টার দিকে বইমেলায় পাঠক-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এ সময় নিজের লেখা বই হাতে নিয়ে পাঠকদের কিনতে উৎসাহিত করেছিলেন তিনি। হঠাৎ একদল দর্শনার্থী তাকে ‘ভুয়া, ভুয়া’ ও ‘ছি ছি’ দুয়োধ্বনি দিতে শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি নিজেই বইমেলা থেকে বের হয়ে যেতে উদ্যত হন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এসে বেষ্টনী দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করেন। হিরো আলমের বইয়ের নাম ‘দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, আমরা সমাজকে বদলে দেব।’
    এবার ফারাজ করিমের হবু স্ত্রীর পরিচয় জানা গেল
    গত কয়েকদিন ধরেই বিয়ের খবর নিয়ে চর্চায় রয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার বরাতে আলোচনায় উঠে আসা ফারাজ করিম চৌধুরী। গুঞ্জন উঠেছে, শিগগিরই বিয়ে করতে যাচ্ছেন তিনি। এ নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা।অবশেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সত্যিই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন এই তরুণ। শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশান মসজিদে আকদ সম্পন্ন হবে। এরপর থেকেই মানুষের জানার কৌতূহল কাকে বিয়ে করছেন ফারাজ করিম চৌধুরী? কী পরিচয় তার হবু স্ত্রীর?জানা গেছে, রংপুরের একটি সাধারণ শিক্ষিত পরিবারের তরুণীকেই শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গুলশানের একটি মসজিদে ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী আকদের মাধ্যমে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ফারাজ। বিয়েতে পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন আলেমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী ১ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরায় নিজ বাড়িতে বিয়ে উপলক্ষে সর্বসাধারণের জন্য মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে।পাত্রীর নাম আফিফা আলম। ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এরপর ঢাকায় ও-লেভেল এবং এ-লেভেলে অধ্যয়ন শেষে বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্কিটেকচার বিষয়ে পড়ালেখা করছেন।১৯৯২ সালে চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করা ফারাজ করিম চৌধুরীর বাবা টানা ৫ বারের সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি।ফারাজের দাদা ছিলেন সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলীয় নেতা (লিডার অফ দা অপজিশন) ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম. ফজলুল কবির চৌধুরী।ফারাজ ছোটবেলা থেকেই মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িয়ে দেশের তরুণ প্রজম্মকে জাগিয়ে তোলেন। তাঁকে ঘিরে দেশবাসীর কৌতুহলের শেষ নেই।ইতোপূর্বে বিয়ে প্রসঙ্গে ফারাজ করিম চৌধুরী বিভিন্ন মিডিয়ায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, সাদামাটাভাবে মসজিদে শরীয়াহ্ ভিত্তিক আকদের মাধ্যমে বিয়ের ইসলামী কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এবার সেটিই বাস্তবে রূপ পাচ্ছে। 

    অর্থ-বাণিজ্য

    সব দেখুন
    রোজার আগেই চিনির দাম বাড়লো কেজিতে ২০ টাকা
    পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ফের বাড়লো চিনির দাম। এবার কেজিপ্রতি চিনির দাম ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) চিনির নতুন মূল্য ঘোষণা করে। এতে কেজিপ্রতি চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৬০ টাকা।এতে বলা হয়, এখন থেকে করপোরেশনের ৫০ কেজি বস্তাজাত চিনির মিলগেট বিক্রয়মূল্য ১৫০ টাকা (এক কেজি) ও ডিলার পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ১৫৭ টাকা (এক কেজি) নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া করপোরেশনের ১ কেজি প্যাকেটজাত চিনির মিলগেট বা করপোরেট সুপারশপ বিক্রয়মূল্য ১৫৫ টাকা ও বিভিন্ন সুপারশপ, চিনি শিল্প ভবনের বেজমেন্টে ও বাজারে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে চিনির এ দাম  ঠিক করা হয়েছে। রোজা উপলক্ষে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সহযোগিতাও চাওয়া হয় এতে।সরকারি চিনির নামে মোড়কে চড়া দামে বাজারে পণ্যটি বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। সবশেষ প্রতি কেজি প্যাকেট চিনির দাম ১৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংস্থাটি।
    লিটারে ১০ টাকা কমলো সয়াবিন তেলের দাম
      প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী পহেলা মার্চ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম নির্ধারণ নিয়ে জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।তিনি বলেন, সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পহেলা মার্চ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।নতুন দামে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৪৯ টাকায়। আর বোতলজাত প্রতি লিটার বিক্রি হবে ১৬৩ টাকা করে।এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমিয়ে ১৬৯ টাকা করা হয়। তবে গত মাসে কোনো ঘোষণা না দিয়েই ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে ১০ টাকা বাড়িয়ে ১৭৩ টাকা করা হয়।
    ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ মঙ্গলবার
    রমজান সামনে রেখে আগামী মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্যারিফ কমিশনের নেতৃত্বে একটা মূল্য নির্ধারণ কমিটি আছে। মূল্য নির্ধারণে বৃহস্পতিবার অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমদানিকারক ও উৎপাদকরা ছিলেন সেখানে। এরপর আমাদের জাতীয় যে কমিটি আছে, জাতীয় টাস্কফোর্সের একটি বৈঠক মঙ্গলবার করা হবে। জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে আহসানুল ইসলাম বলেন, বাকি পণ্যগুলোর ইন্ডিকেটিভ (নির্দেশক) মূল্য, সেটিও ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় টাস্কফোর্সের যে বৈঠক আছে, সেই কমিটিতে বসে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।   রোজায় ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য সরবরাহ ও দাম নিয়ে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সেটা দূর করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাসখানেক ধরে আমরা যে চেষ্টা করছি, রমজান শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই সেটার বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, আমাদের সবকিছু রমজানকে কেন্দ্র করে। রমজান শুরু হবে ১১ মার্চ। বাকি সময়টা আমাদের প্রস্তুতির জন্য। আমরা চেষ্টা করব বৈঠকে একটা দামও নির্ধারণ করতে। যে তারিখে কারখানা থেকে তেল বের হবে, সেই তেলের বোতলে নতুন মূল্য মার্ক করা থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ অনুসারে খালাস হওয়ার পর কারখানায় গেলে সেই উৎপাদিত তেলেরই দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এটার জন্য একটা সময় লাগে, একটা যৌক্তিক সময় তাদের দিতে হয়। মঙ্গলবার ভোজ্যতেলের পুনর্নির্ধারিত মূল্য ও কবে থেকে ভোক্তারা সেই সুবিধাটা পাবেন, সেটা নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে মনিটরিং থাকবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং থাকবে। যেদিন থেকে ঘোষণা করা হবে, সেদিন থেকে কারখানা মূল্য, টিপি ও ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য এক দিনে পরিবর্তন হবে। আমরা যেদিন নির্ধারণ করব, সেদিন এমআরপি নির্ধারণ করে দেব। সেটা হচ্ছে, এমআরপি সর্বোচ্চ এত টাকায় বিক্রি হবে, এর বেশিতে কেউ বাজারে বিক্রি করতে পারবে না।   এদিকে চলতি সপ্তাহেই ভারত থেকে পেঁয়াজ ও চিনি আসার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্ধারিত পণ্যের বেশি দাম নেয়া হলে পণ্য মূল্য নিয়ে যে কোনো মানুষ অভিযোগ জানাতে পারবে বলেও জানান আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৩৩৩-এ ফোন করে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    গ্রামীণ ব্যাংকে ড. ইউনূসের কোনো মালিকানা নেই: চেয়ারম্যান
     নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো মালিকানা নেই বলে জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল মজিদ। গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন খতিয়ান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।  শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল মজিদ বলেন, ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন খতিয়ান হারিয়ে গেছে। ড. ইউনূস যাওয়ার আগে এসব ধ্বংস ও বিলুপ্ত করে গেছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ৫১-৫২টি। প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং ঋণদাতা জনগণ। ড. ইউনূসের কোনো ধরনের মালিকানা বা শেয়ার নেই। তিনি বলেন, গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ ফান্ড, গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ সামগ্রী, গ্রামীণ শক্তি; এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে গ্রামীণ ব্যাংক। গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ ফান্ড- এই তিনটি কোম্পানি থেকে ড. ইউনূসের চেয়ারম্যান পদের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ৫১-৫২টি প্রতিষ্ঠান আছে, সবগুলোর চেয়ারম্যান ড. ইউনূস। সেখানে তারই পছন্দ অনুযায়ী অল্প কয়েকজনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়েছেন পরিচালক পদে। এখান থেকে অনেক টাকা যেটা মানিলন্ডারিংয়ের আওতায় পড়ে। এটির অনেক আলামত আমরা পেয়েছি।গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা এক কোটি পাঁচ লাখ। আমরা যে কাজটি করছি সেটি তাদের আইনগত অধিকার রক্ষা করার জন্য বলেও জানান তিনি। অধ্যাপক সাইফুল মজিদ বলেন, ড. ইউনুস কিন্তু চেয়ারম্যান ছিলেন না। তিনি ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। সেই হিসেবে তিনি একজন পূর্ণকালীন কর্মকর্তা ছিলেন। অথচ এই ৫১-৫২টি প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মকর্তা কীভাবে পরিচালক হলেন! এটি করতে অনুমতির প্রয়োজন হয়। গ্রামীণ কল্যাণ হয়েছে ১৯৯৬ সালে। তার দুই বছর পর তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকে, টেলিকমে ড. ইউনুসের কোনো টাকা নেই। যেভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা খরচ করা হয়েছে সেটি গ্রামীণ ব্যাংকই করতে পারতো। সব মিলিয়ে ৪৪৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা গ্রামীণ কল্যাণে স্থানান্তর করা হয়।’গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান বলেন, ড. ইউনুস সব পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান এবং পরিচালক, তাদের শেয়ার নেই। কোনো মালিকানা নেই। মালিকানার জন্য উনি কোন টাকা দেননি। তাদের কেউই টাকা দেননি। প্রথম পরিচালনা পর্ষদে ৯ জন ছিলেন, তারা কিন্তু সবাই পূর্ণকালীন কর্মকর্তা ছিলেন। গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ শক্তিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মুনাফা করে বড় হয়েছে। কিন্তু এগুলো সবগুলোই ছিল অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ফরেন্সিক অডিট করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।  ড. ইউনূস বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন: গ্রামীণ ব্যাংকড. ইউনূস বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন: গ্রামীণ ব্যাংকসংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাসুদ আকতার বলেন, যেহেতু এর আগে নথি ধ্বংস করা হয়েছে কিংবা গায়েব করা হয়েছে সেই প্রেক্ষাপটে আমরা দুই পক্ষের ঐক্যমতেই তালা লাগানোর বিষয়ে আলাপ করেছিলাম।তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক যে ড. ইউনুস সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করেছেন। উনি গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা দাবি করছেন। একটি জায়গায় সারাদেশ, বিশ্ব খুব অন্ধকারের মধ্যে আছে।  সেটি হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক কার? ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার একটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। যার সুবিধাভোগী হবে গ্রামের দরিদ্র, ভূমিহীন মানুষ। এই প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড দ্বারা অনুমোদিত, গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থায়নে, অবকাঠামো-জনবল ব্যবহার করে, এগুলো দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এখানে ড. ইউনূসের মালিকানা নেই।’ 
    পদত্যাগ করলেন এনআরবি ব্যাংকের এমডি মামুন মাহমুদ
    চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মামুন মাহমুদ শাহ পদত্যাগ করেছেন।  চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ১৪ দিন আগে গত ২১ জানুয়ারি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মামুন মাহমুদ শাহ নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি ব্যাংকে অস্বস্তি বোধ করছিলাম। তাই পদত্যাগ করেছি।তবে অস্বস্তির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি মামুন মাহমুদ শাহ। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তিগত কারণে চাকরি চালিয়ে যেতে পারছি না আমি। তাই অব্যাহতি নিয়েছি।২০২১ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি এনআরবি ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন মামুন মাহমুদ শাহ। তার মেয়াদ শেষ ছিল ২রা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে গত ২১শে জানুয়ারি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া পদত্যাগপত্রে এমডি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি এনআরবি ব্যাংকে মেয়াদ থাকা পর্যন্ত চাকরি করতে পারছেন না।ইতোমধ্যে মো. শাকির আমিন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে এনআরবি। ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালে প্রবাসীদের উদ্যোগে গঠিত যে তিনটি ব্যাংককে দেশে ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে অনুমোদন দেয়, তার মধ্যে একটি এনআরবি ব্যাংক। তিন ব্যাংকের মধ্যে এনআরবি ব্যাংকটিই প্রকৃত প্রবাসী ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে গঠিত হয়। অন্য দুটির সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও যুক্ত ছিলেন।এনআরবি ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, কয়েকজন পরিচালকের চাপে ব্যাংকটিতে গত কয়েক মাসে বেশ কিছু ঋণ অনুমোদন হয়, যা নিয়মিতভাবে আদায় হচ্ছে না। সম্প্রতি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়, যার বেশির ভাগই বেনামি ঋণ। এই বেনামি ঋণের জের ধরেই এমডি পদ ছেড়ে দেন।২০২১ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা, যা গত বছর শেষে বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালে ব্যাংকটির ঋণ ছিল ৪ হাজার ২৪ কোটি টাকা, যা গত বছর শেষে হয়েছে ৬ হাজার ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকা বা ৫ শতাংশ।২০১৯ সালে ব্যাংকটি নিট লোকসান করলেও ২০২১ সালে মুনাফা করে ৬৩ কোটি টাকা। যা ২০২২ সালে কিছুটা কমে হয় ৫৫ কোটি টাকা। গত বছর ব্যাংকটি ১৪৪ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করে।এফএস
    আনন্দ-উৎসবে আম্বালা ফাউন্ডেশনের ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন
    ক্ষুদ্রঋণ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আম্বালা ফাউন্ডেশন। ১৯৯৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিকল্প আত্মকর্মস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মহাকালের কাছে যেকোনো সময়ই স্বল্প। তবু আড়াই দশকের এ পথচলা অল্প নয় মোটেও। এই ৩০ বছরে বিন্দু থেকে সাগরে পরিণত হয়েছে আম্বালা ফাউন্ডেশন। ২ রুমের ছোট্ট অফিস নিয়ে শুরু হওয়া এই ফাউন্ডেশনটি এখন ২টি বহুতল ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আর হবেই-বা নয় কেন? সময় গড়িয়ে ক্যালেন্ডার যে পাল্টেছে গুনে গুনে ৩০টি। অর্থাৎ দীর্ঘ ৩০ বছর পেরিয়ে ৩১ বছরে পদার্পণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ উপলক্ষ্যে সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পালিত হলো আম্বালা ফাউন্ডেশনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সন্ধ্যায় রাজধানীর শ্যামলীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে এক আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন আম্বালা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আরিফ সিকদার ও উপ-নির্বাহী পরিচালক দেওয়ান তৌফিকা হোসেন স্বাতী। এসময় মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রামের প্রধান আরএম ফুহাদসহ আম্বালা ফাউন্ডেশন ও আম্বালা আইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এসময় মিলনমেলায় পরিণত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণিল আয়োজন। যদিও এদিন সকাল থেকেই কার্যালয়ে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। দুপুরে আম্বালা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আরিফ সিকদারের হাতে ফুল দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান আম্বালা ফাউন্ডেশন ও আম্বালা আইটির ঊর্ধতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিকালে অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কণ্ঠস্বরের পক্ষ থেকেও আম্বালা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আরিফ সিকদার ও উপ-নির্বাহী পরিচালক দেওয়ান তৌফিকা হোসেন স্বাতীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আম্বালা ফাউন্ডেশনের মিডিয়া এন্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সহকারি পরিচালক কাজী ফয়সাল ইসলাম।পরে বিকালে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত অতিথিদের মুখরোচক নানা পদের খাবারে আপ্যায়ন করা হয়। এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটার আগে শুভেচ্ছা বক্তব্যে আম্বালা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আরিফ সিকদার বলেন, আম্বালা ফাউন্ডেশন আমার প্রাণের প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ এটি ৩১ বছরে। দেশের মানুষের ভালোবাসা-সমর্থন ও আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এত দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, আমি সারাজীবন থাকব না। পরবর্তীতে যারা আসবে সবার সহযোগিতায় তাঁরাই এই প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমি সেভাবেই তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি। এটাই আমার জীবনের বড় সার্থকতা। এসময় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উপদেশমূলক কথা বলেন আরিফ সিকদার। পরে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়োজনে নিজের ৫২তম জন্মদিনের কেটও কাটেন তিনি। ১৯৭২ সালের এই দিনে পৃথিবীর আলো দেখেন আরিফ সিকদার। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান। মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের আব্দুল মান্নান সিকদার ও রুবিয়া আখতারের কোলজুড়ে আসা সেই ছোট্ট শিশুটিই আজকে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।উল্লেখ্য, আম্বালা ফাউন্ডেশন বারাবরই ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সুসংগঠিত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে দেশের ১৯টি জেলার ১১৬টি উপজেলায় ২০১টি শাখায় এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেখানে প্রতিষ্ঠানটির সদস্য রয়েছে ৭৩ হাজারেরও বেশি। গ্রাহকের হাতের মুঠোয় সকল তথ্য নিমিষেই পৌঁছানোর লক্ষ্যে গতবছর আম্বালা ফাউন্ডেশন এসএমএস সার্ভিস কার্যক্রম চালু করেছে। এছাড়া সদস্যরা বিকাশের মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে সহজে, নিরাপদে এবং দ্রুততার সঙ্গে ঋণের মাসিক কিস্তি পরিশোধের সুযোগও পাচ্ছেন।
    চিনির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার
    প্রতি কেজি দেশি চিনির সর্বোচ্চ খুচরা দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি করে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে সরকার। ফলে, প্রতি কেজি প্যাকেট চিনির দাম ১৪০ টাকাই বহাল থাকছে।  বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক খুদে বার্তায় বলা হয়, জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকারি মিলের চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে সরকার।এর আগে, কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেশি চিনির সর্বোচ্চ খুচরা দাম ১৬০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন।বৃহস্পতিবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতি কেজি চিনির মিলগেট ও করপোরেট সুপার শপে বিক্রয়মূল্য ১৫৫ টাকা। আর বিভিন্ন সুপার শপ ও বাজারে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য হবে ১৬০ টাকা।এছাড়াও ৫০ কেজির বস্তাজাত চিনির মিলগেট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। ডিলার পর্যায়ে বিক্রয় মূল্য ১৫৭ টাকা।আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে চিনির এ দাম ঠিক করা হয়েছে। রোজা উপলক্ষে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সহযোগিতাও চাওয়া হয়। কিন্তু এ ঘোষণার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করে শিল্প মন্ত্রণালয়।সিদ্ধান্ত বদলের ফলে আগের মতোই দেশি খোলা চিনির কেজি ১৩২ এবং প্যাকেটজাত চিনির কেজি ১৪০ টাকায় মিলবে।
    রোজার আগেই চিনির দাম বাড়লো কেজিতে ২০ টাকা
    পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ফের বাড়লো চিনির দাম। এবার কেজিপ্রতি চিনির দাম ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) চিনির নতুন মূল্য ঘোষণা করে। এতে কেজিপ্রতি চিনির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৬০ টাকা।এতে বলা হয়, এখন থেকে করপোরেশনের ৫০ কেজি বস্তাজাত চিনির মিলগেট বিক্রয়মূল্য ১৫০ টাকা (এক কেজি) ও ডিলার পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ১৫৭ টাকা (এক কেজি) নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া করপোরেশনের ১ কেজি প্যাকেটজাত চিনির মিলগেট বা করপোরেট সুপারশপ বিক্রয়মূল্য ১৫৫ টাকা ও বিভিন্ন সুপারশপ, চিনি শিল্প ভবনের বেজমেন্টে ও বাজারে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে চিনির এ দাম  ঠিক করা হয়েছে। রোজা উপলক্ষে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সহযোগিতাও চাওয়া হয় এতে।সরকারি চিনির নামে মোড়কে চড়া দামে বাজারে পণ্যটি বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। সবশেষ প্রতি কেজি প্যাকেট চিনির দাম ১৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংস্থাটি।
    লিটারে ১০ টাকা কমলো সয়াবিন তেলের দাম
      প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী পহেলা মার্চ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম নির্ধারণ নিয়ে জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।তিনি বলেন, সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পহেলা মার্চ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।নতুন দামে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৪৯ টাকায়। আর বোতলজাত প্রতি লিটার বিক্রি হবে ১৬৩ টাকা করে।এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমিয়ে ১৬৯ টাকা করা হয়। তবে গত মাসে কোনো ঘোষণা না দিয়েই ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে ১০ টাকা বাড়িয়ে ১৭৩ টাকা করা হয়।
    ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ মঙ্গলবার
    রমজান সামনে রেখে আগামী মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্যারিফ কমিশনের নেতৃত্বে একটা মূল্য নির্ধারণ কমিটি আছে। মূল্য নির্ধারণে বৃহস্পতিবার অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমদানিকারক ও উৎপাদকরা ছিলেন সেখানে। এরপর আমাদের জাতীয় যে কমিটি আছে, জাতীয় টাস্কফোর্সের একটি বৈঠক মঙ্গলবার করা হবে। জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে আহসানুল ইসলাম বলেন, বাকি পণ্যগুলোর ইন্ডিকেটিভ (নির্দেশক) মূল্য, সেটিও ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় টাস্কফোর্সের যে বৈঠক আছে, সেই কমিটিতে বসে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।   রোজায় ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য সরবরাহ ও দাম নিয়ে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সেটা দূর করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাসখানেক ধরে আমরা যে চেষ্টা করছি, রমজান শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই সেটার বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, আমাদের সবকিছু রমজানকে কেন্দ্র করে। রমজান শুরু হবে ১১ মার্চ। বাকি সময়টা আমাদের প্রস্তুতির জন্য। আমরা চেষ্টা করব বৈঠকে একটা দামও নির্ধারণ করতে। যে তারিখে কারখানা থেকে তেল বের হবে, সেই তেলের বোতলে নতুন মূল্য মার্ক করা থাকবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ অনুসারে খালাস হওয়ার পর কারখানায় গেলে সেই উৎপাদিত তেলেরই দাম নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এটার জন্য একটা সময় লাগে, একটা যৌক্তিক সময় তাদের দিতে হয়। মঙ্গলবার ভোজ্যতেলের পুনর্নির্ধারিত মূল্য ও কবে থেকে ভোক্তারা সেই সুবিধাটা পাবেন, সেটা নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে মনিটরিং থাকবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং থাকবে। যেদিন থেকে ঘোষণা করা হবে, সেদিন থেকে কারখানা মূল্য, টিপি ও ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য এক দিনে পরিবর্তন হবে। আমরা যেদিন নির্ধারণ করব, সেদিন এমআরপি নির্ধারণ করে দেব। সেটা হচ্ছে, এমআরপি সর্বোচ্চ এত টাকায় বিক্রি হবে, এর বেশিতে কেউ বাজারে বিক্রি করতে পারবে না।   এদিকে চলতি সপ্তাহেই ভারত থেকে পেঁয়াজ ও চিনি আসার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্ধারিত পণ্যের বেশি দাম নেয়া হলে পণ্য মূল্য নিয়ে যে কোনো মানুষ অভিযোগ জানাতে পারবে বলেও জানান আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৩৩৩-এ ফোন করে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    গ্রামীণ ব্যাংকে ড. ইউনূসের কোনো মালিকানা নেই: চেয়ারম্যান
     নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো মালিকানা নেই বলে জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল মজিদ। গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন খতিয়ান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।  শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল মজিদ বলেন, ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন খতিয়ান হারিয়ে গেছে। ড. ইউনূস যাওয়ার আগে এসব ধ্বংস ও বিলুপ্ত করে গেছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ৫১-৫২টি। প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং ঋণদাতা জনগণ। ড. ইউনূসের কোনো ধরনের মালিকানা বা শেয়ার নেই। তিনি বলেন, গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ ফান্ড, গ্রামীণ মৎস্য ফাউন্ডেশন, গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ সামগ্রী, গ্রামীণ শক্তি; এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে গ্রামীণ ব্যাংক। গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ ফান্ড- এই তিনটি কোম্পানি থেকে ড. ইউনূসের চেয়ারম্যান পদের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ৫১-৫২টি প্রতিষ্ঠান আছে, সবগুলোর চেয়ারম্যান ড. ইউনূস। সেখানে তারই পছন্দ অনুযায়ী অল্প কয়েকজনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়েছেন পরিচালক পদে। এখান থেকে অনেক টাকা যেটা মানিলন্ডারিংয়ের আওতায় পড়ে। এটির অনেক আলামত আমরা পেয়েছি।গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা এক কোটি পাঁচ লাখ। আমরা যে কাজটি করছি সেটি তাদের আইনগত অধিকার রক্ষা করার জন্য বলেও জানান তিনি। অধ্যাপক সাইফুল মজিদ বলেন, ড. ইউনুস কিন্তু চেয়ারম্যান ছিলেন না। তিনি ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। সেই হিসেবে তিনি একজন পূর্ণকালীন কর্মকর্তা ছিলেন। অথচ এই ৫১-৫২টি প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মকর্তা কীভাবে পরিচালক হলেন! এটি করতে অনুমতির প্রয়োজন হয়। গ্রামীণ কল্যাণ হয়েছে ১৯৯৬ সালে। তার দুই বছর পর তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকে, টেলিকমে ড. ইউনুসের কোনো টাকা নেই। যেভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা খরচ করা হয়েছে সেটি গ্রামীণ ব্যাংকই করতে পারতো। সব মিলিয়ে ৪৪৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা গ্রামীণ কল্যাণে স্থানান্তর করা হয়।’গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান বলেন, ড. ইউনুস সব পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান এবং পরিচালক, তাদের শেয়ার নেই। কোনো মালিকানা নেই। মালিকানার জন্য উনি কোন টাকা দেননি। তাদের কেউই টাকা দেননি। প্রথম পরিচালনা পর্ষদে ৯ জন ছিলেন, তারা কিন্তু সবাই পূর্ণকালীন কর্মকর্তা ছিলেন। গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ শক্তিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মুনাফা করে বড় হয়েছে। কিন্তু এগুলো সবগুলোই ছিল অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ফরেন্সিক অডিট করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।  ড. ইউনূস বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন: গ্রামীণ ব্যাংকড. ইউনূস বেআইনি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন: গ্রামীণ ব্যাংকসংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাসুদ আকতার বলেন, যেহেতু এর আগে নথি ধ্বংস করা হয়েছে কিংবা গায়েব করা হয়েছে সেই প্রেক্ষাপটে আমরা দুই পক্ষের ঐক্যমতেই তালা লাগানোর বিষয়ে আলাপ করেছিলাম।তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক যে ড. ইউনুস সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করেছেন। উনি গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা দাবি করছেন। একটি জায়গায় সারাদেশ, বিশ্ব খুব অন্ধকারের মধ্যে আছে।  সেটি হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক কার? ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার একটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। যার সুবিধাভোগী হবে গ্রামের দরিদ্র, ভূমিহীন মানুষ। এই প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড দ্বারা অনুমোদিত, গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থায়নে, অবকাঠামো-জনবল ব্যবহার করে, এগুলো দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এখানে ড. ইউনূসের মালিকানা নেই।’ 
    পদত্যাগ করলেন এনআরবি ব্যাংকের এমডি মামুন মাহমুদ
    চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মামুন মাহমুদ শাহ পদত্যাগ করেছেন।  চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ১৪ দিন আগে গত ২১ জানুয়ারি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মামুন মাহমুদ শাহ নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি ব্যাংকে অস্বস্তি বোধ করছিলাম। তাই পদত্যাগ করেছি।তবে অস্বস্তির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি মামুন মাহমুদ শাহ। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তিগত কারণে চাকরি চালিয়ে যেতে পারছি না আমি। তাই অব্যাহতি নিয়েছি।২০২১ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি এনআরবি ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন মামুন মাহমুদ শাহ। তার মেয়াদ শেষ ছিল ২রা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে গত ২১শে জানুয়ারি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া পদত্যাগপত্রে এমডি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি এনআরবি ব্যাংকে মেয়াদ থাকা পর্যন্ত চাকরি করতে পারছেন না।ইতোমধ্যে মো. শাকির আমিন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে এনআরবি। ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালে প্রবাসীদের উদ্যোগে গঠিত যে তিনটি ব্যাংককে দেশে ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে অনুমোদন দেয়, তার মধ্যে একটি এনআরবি ব্যাংক। তিন ব্যাংকের মধ্যে এনআরবি ব্যাংকটিই প্রকৃত প্রবাসী ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে গঠিত হয়। অন্য দুটির সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও যুক্ত ছিলেন।এনআরবি ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, কয়েকজন পরিচালকের চাপে ব্যাংকটিতে গত কয়েক মাসে বেশ কিছু ঋণ অনুমোদন হয়, যা নিয়মিতভাবে আদায় হচ্ছে না। সম্প্রতি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়, যার বেশির ভাগই বেনামি ঋণ। এই বেনামি ঋণের জের ধরেই এমডি পদ ছেড়ে দেন।২০২১ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা, যা গত বছর শেষে বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালে ব্যাংকটির ঋণ ছিল ৪ হাজার ২৪ কোটি টাকা, যা গত বছর শেষে হয়েছে ৬ হাজার ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকা বা ৫ শতাংশ।২০১৯ সালে ব্যাংকটি নিট লোকসান করলেও ২০২১ সালে মুনাফা করে ৬৩ কোটি টাকা। যা ২০২২ সালে কিছুটা কমে হয় ৫৫ কোটি টাকা। গত বছর ব্যাংকটি ১৪৪ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করে।এফএস

    শিক্ষাঙ্গন

    সব দেখুন
    চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
    নেত্রকোনার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেহাবি) আল আমিন (২৬) নামের এক যুবককে গাড়িচালক পদে চাকরি দেওয়ার নামে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগের মামলায় এস এম সাজ্জাদুল হক সবুজ (৫৫) নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অভিযুক্ত এস এম সাজ্জাদুল হক সবুজ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আশিয়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মামলার বাদী আল আমিন একই উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। নেত্রকোনার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসাইন এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।বৃহস্পতিবার দুপুরে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পৌছেছে দুইদিন আগে। বেশকিছু দিন ধরে এলাকাছাড়া সাজ্জাদুল হক।মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক সাজ্জাদুল ও আল আমিন পূর্ব পরিচিত। সাজ্জাদুলের কথামতো শেহাবিতে গাড়িচালক পদে আবেদন করেন আল আমিন। পরে গত বছরের শুরুতে চাকরি দিবে বলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুষ দেওয়ার কথা ৫ লাখ টাকা নেন তিনি। কিন্তু চাকরি না হওয়ায় শর্ত অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও দেননি। পরে গত ২৭ ডিসেম্বর থানায় অভিযোগ দেন আল আমিন। থানা পুলিশ আল আমিনকে এ বিষয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসাইনের আদালতে মামলা দায়ের করেন আল আমিন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এদিনই এস এম সাজ্জাদুল হক সবুজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জরি করেন।মামলার বাদী আল আমিন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাজ্জাদুল হককে এলাকার অনেকের সামনে টাকা দিয়েছি। চাকরি না হলে টাকা ফেরত দেবেন বলেছিলেন। এখন চাকরিও হয়নি, টাকাও দিচ্ছেন না। থানায় অভিযোগ দেওয়ায় উল্টো আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছেন। শেষে আদালতে মামলা করেছি।অভিযুক্ত এস এম সাজ্জাদুল হক সবুজের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এলাকায় খোঁজতে গিয়ে জানা যায় সে পলাতক আছে অনেকদিন যাবৎ।বারহাট্টা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ডিসেম্বরে বিভাগীয় মামলা হওয়ার পর আর সাজ্জাদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। অসুস্থতা জনিত কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটির আবেদন পাঠিয়ে কোথায় জানি চলে গেছেন। যদিও তার ছুটি মঞ্জুর হয়নি। এমআর
    জাবিতে আসনপ্রতি কমেছে ভর্তিযুদ্ধের লড়াই
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে। পরীক্ষা চলবে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গত বছরের তুলনায় এবার ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২১ শতাংশ কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় ছয়টি ইউনিট ও একটি ইনস্টিটিউটে আসন রয়েছে এক হাজার ৮৪৪টি। গত বছর একই সংখ্যক আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল দুই লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৭টি। তবে এবার জমা পড়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৮৫১টি। আগের বছর আসন প্রতি প্রতিযোগী ছিল ১৩৪ জন। এবার কমে হয়েছে ১০৮ জনে। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ।সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের ভর্তি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। কারণ ইউনিটের সংখ্যা কমানো এবং ভর্তি পরীক্ষার আবেদনে বিষয়ভিত্তিক বাংলা ও ইংরেজিতে সর্বনিম্ন ‘এ-’ (‘এ’ মাইনাস) থেকে ‘এ’ গ্রেড করার কারণে আবেদনের সংখ্যা কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. আলী রেজা বলেন, আগের বছরগুলোয় ইউনিটের সংখ্যা বেশি ছিল। ভর্তি পরীক্ষা গত ৩ বছরে ১০ ইউনিট থেকে ৫ ইউনিটে পরিবর্তন করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ইউনিটের সংখ্যা কমানোর ফলে একজন ভর্তিচ্ছুর একাধিক আবেদন করার সুযোগ কমেছে। সেক্ষেত্রে আবেদনকারীর সংখ্যা কিছু কমে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছর ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের যোগ্যতা বাড়ানোর ফলে ভর্তিচ্ছু কমেছে।এ বিষয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নীলাঞ্জন কুমার সাহা  বলেন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আবেদনের মানদণ্ডের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। সে কারণে আবেদন কম পড়েছে। আমরা চাই একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতে।এদিকে বেলা ১১টার দিকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ পরিদর্শনকালে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, সুষ্ঠু স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা হচ্ছে। এখনও  কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রথম দুই শিফটে উপস্থিতির হার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ। আমরা আশা করছি, ভর্তি পরীক্ষার পুরো সময়টা শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকবে। সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের টিম তৎপর রয়েছে।এমআর
    জবিতে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণকালে ঢাবি শিক্ষার্থী আটক
    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণের সময় আটককৃত ঢাবি শিক্ষার্থী অনিক খন্দকার সহ ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করবেন। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণ করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক খন্দকার। এসময় তার সাথে আরও অন্তত দুই-তিনজন ছিলেন।গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষক তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে সেই মুহুর্তে অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে গেলেও অনিক খন্দকারকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায় প্রক্টরিয়াল বডি। প্রক্টর অফিসে অনিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণ করার সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ থেকে একজনকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে জানা যায় সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পুলিশের হাতে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হবে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণ করার সময় একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।পিএম
    রাবিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে ৮ শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন
    মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের আট শিক্ষার্থী। বিভাগের শিক্ষক কর্তৃক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ডিসকলেজিয়েট হয়েছেন বলে দাবি তাদের।বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে এ আমরণ অনশনে বসেছেন তাঁরা। এর আগে, বিভাগের সামনে থেকে এক পদযাত্রা বের করেন। পরে প্রশাসন ভবনের সামনে মিলিত হয়ে অনশনে বসেন।অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা হলেন- গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের কারুশিল্প ডিসিপ্লিনের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর থিসিস ও নন-থিসিস পর্যায়ের আট শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, ফয়সাল আহমেদ,তানভির, জয়শ্রী, রিতু পর্না, ফারজানা ইয়াসমিন, ফাতিমা আফরিন মিম, অনামিকা। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন আহাম্মেদ ওরফে টভেল।অনশন কর্মসূচিতে ‘চারুকলায় অন্যায় চলে, ভিসি স্যার ঘুমাচ্ছেন কেমন করে’, ‘সন্দেহজনক সিগনেচার শিক্ষার্থীদের উপর অত্যাচার’, ‘নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে, শিক্ষক আসেন ১২টার পরে’, ‘কর্মচারী দিয়ে উপস্থিতি, প্রশাসনে আছে কি এই রীতি?’, ‘দিনের পর দিন শিক্ষকের মানসিক অত্যাচার, কে করবে এর বিচার?’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগের মোট ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আটজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে কম এটেন্ডেন্স দেখিয়ে ডিসকলেজিয়েট করা হয়েছে, যেটা অফিসিয়ালি তাদেরকে কোনোভাবে জানানো হয়নি। নিয়মিত ক্লাস করার পরও এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। শ্রেণিশিক্ষক প্রতিদিন ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ডিপার্টমেন্টে আসেন, যেখানে তিনি তাদের সাড়ে নয়টা থেকে ক্লাসে থাকতে বলতেন এবং বিভিন্ন কর্মচারী ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের থেকে শুনে তার ভিত্তিতে এটেন্ডেন্স দিতেন। এই নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীরা অনেকেই ক্লাসে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত হন।তারা আরও জানান, গোপনে মাত্র দুইদিন সময় দিয়ে চারজন শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষার ফর্মফিলাপ করানো হয়েছে। বাকি আটজন শিক্ষার্থীকে এই প্রক্রিয়া থেকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে, যেটা তারা ফরম ফিলাপের একদম শেষের দিনে নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করেছেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) তাদের পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে।আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের একজন মেহেদী হাসান বলেন, প্রতি মাসের শেষে আমাদের কাছ থেকে এটেন্ডেন্স খাতায় স্বাক্ষর নেয়া হতো। শিক্ষকের ওপর আস্থা রেখে আমরা স্বাক্ষর করে দিতাম। পরবর্তীতে এই স্বাক্ষরের ভিত্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবে কম এটেন্ডেন্স দেখিয়ে আমাদের ডিসকলেজিয়েট করা হয়েছে। শুরু থেকেই আমাদের ডিসকলেজিয়েট করার এবং পরীক্ষা না দিতে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। শ্রেণিশিক্ষক বারবার বলতেন, ‘তোমরা কীভাবে পরীক্ষা দাও আমি দেখে নেবো।ফাতিমা আফরিন মিম বলেন, আমাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে ডিসকলেজিয়েট করে আমাদের জীবনকে ধ্বংসের পথে নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে আমরা সকাল থেকে আমরণ অনশনে বসেছি। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে উঠবো না। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ক্লাস নিতে ১২টার পরে শিক্ষক আসেন। আমাদের কোর্স অসম্পূর্ণ রেখে ক্লাস শেষ করা হয়েছে। চারুকলায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায় করা হয়। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধান চাই।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মনির উদ্দিন আহাম্মেদ ওরফে টভেল বলেন, আমি হুমকি দেওয়ার কে? ক্লাসতো আরও কয়েকজন শিক্ষক নিয়েছে, আমিতো একা নিইনি? আপনারা অফিসে এসে সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কাগজপত্র সব রেডি আছে। তারা ক্লাস করার পর মাস শেষে অ্যাটেন্ডেন্স শিটে স্বাক্ষরও করেছে। সব সাক্ষ্য প্রমাণ আছে। এখন তারা যদি ক্লাস না করে, তাহলে আমি কীভাবে কী করবো? দয়া করে উপস্থিতি দেখানোর ক্ষমতা আমার নেই। তাদের সঙ্গেতো আমার ব্যক্তিগত খারাপ সম্পর্কও নেই।ডিসিপ্লিনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, একজন শিক্ষক কি এভাবে কাউকে ডিসকলেজিয়েট করতে পারে? তারা ক্লাসে অনিয়মিত ছিল। নিয়ম অনুযায়ী তারা ডিসকলেজিয়েট হয়েছে।এখন কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, একাডেমিক কমিটিতেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত এসেছে যে নিয়মানুযায়ী যা হয় তাই করতে হবে। নিয়মের ব্যতিক্রম করার সুযোগ নেই।এর আগে ঘটনার সমাধানে হস্তক্ষেপ কামনা করে গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর বরাবর অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে সঠিক কোনো সমাধান না পাওয়ায় আজ তারা আমরণ অনশনে বসেন।পিএম

    তথ্য-প্রযুক্তি

    সব দেখুন
    যেসব এলাকায় ৩ দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট
     বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) বগুড়া শহরের সাতমাথায় তিনতলা টেলিফোন ভবনটি বুয়েট কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ভবন স্থানান্তরের জন্য বগুড়া শহর ও উপজেলাগুলোতে তিন দিনের জন্য টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিটিসিএল। সংস্থাটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (টেলিকমের) কার্যালয় থেকে টেলিফোন ও ইন্টারনেট বন্ধের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।এতে বলা হয়, ওই ভবন থেকে সুইচ রুমের যাবতীয় যন্ত্রপাতি অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। এ কারণে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা বগুড়া শহর, উপজেলাসমূহ এবং জয়পুরহাট জেলায় বিটিসিএল কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেতার ও গ্রন্থাগারে সংযোগকৃত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকবে।  বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ অফিসের আওতায় টেলিফোন (AGW) কপার ক্যাবলের মাধ্যমে দেয়া সংযোগ বগুড়া শহরে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।পাশাপাশি ঘোষিত এই সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানায় সংস্থাটি। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিটিসিএল।
    আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের রাসেল এখন সফল ফ্রিল্যান্সার
    ডিজিটাল মার্কেটিং বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। যার অর্থ হলো বিভিন্ন নতুন প্লাটফর্ম বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো পণ্য বা ব্র্যান্ডের প্রসার ঘটানো এবং অনলাইনের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা দেয়া। যার প্রতি প্রতিনিয়তই আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের। অনেকেই চাকরির পেছনে না ঘুরে ডিজিটাল মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন। সেই তালিকায় যুক্ত হয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের রাসেল। তাঁর প্রযুক্তিগত উচ্চস্তরের দক্ষতা, ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল একজন উদ্যোক্তা হিসেবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।  জানা যায়, ২০১৬ সালের শেষের দিকে তিনি অনলাইনে আউট সোর্সিংয়ের কাজ আদান-প্রদানের ওয়েবসাইট ফাইভারে অ্যাকাউন্ট খুলে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন সফল ফ্রিল্যান্সারের পরামর্শ নেন।একপর্যায়ে তিনি ডিজিটাল মার্কেটিং এর নিজস্ব এজেন্সি চালু করেন। যা অল্প সময়ের মধ্যেই সাফল্যের দেখা পায়। বর্তমানে তাঁর এজেন্সিতে ১৪ জনেরও বেশি ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে। তাঁরা প্রায় সকল বিষয়ে প্রফেশনাল পরামর্শ ও পরিষেবা প্রদান করে। ফ্রিল্যান্সিংএর পাশাপাশি তার অনলাইনে রয়েছে ৬টিরও বেশি ব্যবসা। যেগুলোর মধ্যে 'মারবিন' নামের একটি উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতে নিজের প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এই যুবক। আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের রাসেল বলেন, ডিজিটাল মার্কেটিং একটি সম্ভাবনাময় পেশা। দিন দিন এর গুরুত্ব বাড়ছে। সময়ের সঙ্গে আরও অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। ফলে ডিজিটাল মার্কেটিং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করবে।নিজের ক্যারিয়ার শুরুতে পার করেছেন অনেক ধরনের বাধা বিপত্তি। তাই ডিজিটাল দুনিয়ার কাজ করতে আসা তরুণরা যেন বাধার সম্মুখীন না হয়, সেজন্য আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের রাসেল চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিজ জায়গা থেকে।নতুনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। বর্তমান বাজারে একটি সমস্যা হলো কাজ করার জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা এবং অভিজ্ঞতার জন্য প্রয়োজন কাজ। তাই কোনো একটি বিষয়ে প্রয়োজনে শুরুতে ফ্রি কাজ করে সেই বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে ধীরে ধীরে নিজের কাজের পরিধি বাড়িয়ে লক্ষ্যকে বাস্তব করতে হবে।
    ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সফল হওয়ার চেষ্টা আমির হামজার
    প্রযুক্তির হাত ধরে মানুষ যেভাবে অনলাইনের উপর নির্ভরশীল হচ্ছে, তাতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার ফলে অনেক তরুণই ক্যরিয়ার হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিংকে বেছে নিচ্ছেন। কারণ এ ক্যারিয়ার একজন মানুষকে একদিকে যেমন প্রযুক্তিপ্রেমী করে তুলছে, অন্যদিকে জীবনকে করে তুলছে স্বাচ্ছন্দ্যময়।এমনই এক তরুণ উদ্যোক্তা আমির হামজা। তিনি বাসায় থেকে কাজটি করছেন। আমির হামজা বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল বিপণনকারী। বই, সংগীত, ভিডিও, অভিনয়, ইউটিউব টিউটোরিয়াল, ব্লগিংসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার আগ্রহ প্রযুক্তি, সংগীত, ডিজিটাল বিপণন ও লেখালেখিতে।‘আমির হামজা’ নামে নিজের একটি ফেসবুক পেইজ দিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন এই যুবক। মূলত ফেসবুকের সুরক্ষাজনিত সমস্যা সমাধান এবং সাইবার নিরাপত্তা তৈরির কাজ করছেন তিনি। বিভিন্ন ধরনের এজেন্সির হয়ে কনটেন্ট প্রজেকশন এবং ডিস্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিংও করেন। এছাড়া বিভিন্ন পণ্যের প্রমোশন করে থাকেন অনলাইনের মাধ্যমে। ডিজিটাল চ্যানেল ব্যবহার করে পণ্যের প্রমোশন করাই হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। বর্তমান যুগের ডিজিটাল মার্কেটিংকে বিশাল একটি সম্ভাবনার ক্ষেত্র বলে মনে করেন আমির হামজা। তিনি বলেন, ‘দিন দিন এর গুরুত্ব বাড়ছে। ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ শুরু করতে চাইলে প্রথমে তার দক্ষতা বাড়াতে হবে। কারণ সঠিক জ্ঞান নিয়ে এ সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়।’তিনি বলেন, ‘এরপর অনুসন্ধান করতে হবে প্রতিনিয়ত চোখ-কান খোলা রেখে। পাশাপাশি জানতে হবে বিভিন্ন টুলসের ব্যবহার। কী ধরনের কনটেন্ট পছন্দ করছে মানুষ, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
    এআইয়ে ছবি বানিয়ে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে আপলোড করলেই ধরা!
    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিয়ে তৈরি কোনো ছবি ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলেই তা ধরা পড়ে যাবে মেটার কাছে। নতুন এই ফিচার নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে মেটা কর্তৃপক্ষ। কেবল ছবি নয়, অডিও-ভিডিওর ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহার করা হলে তা ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামের পাতায় বিশেষভাবে চিহ্নিত করবে মেটা।ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা কিছুদিনের মধ্যেই এআইয়ের সাহায্যে তৈরি ছবি ও ভিডিওর গায়ে বিশেষ ধরনের লেবেল দেখতে পাবেন। মেটা বলছে, এর মাধ্যমে সহজেই আসল ও নকল কন্টেন্টের পার্থক্য বোঝা যাবে।এ বিষয়ে মেটার স্বত্তাধিকারী মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, কয়েক মাসের মধ্যেই এই নতুন ফিচারের সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা।আর এই নতুন বৈশিষ্ট্যটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, গ্রাহকরা যে ফোটোরিয়্যলিস্টিক কনটেন্টটি দেখছেন, সেটা যে আদতে এআই দিয়ে তৈরি, তা গ্রাহকদের জানানো ভীষণ জরুরি। মেটার এআই ফিচারের সাহায্যে তৈরি ছবিগুলোতে তাই আমরা ইমাজিন্‌ড উইথ এআই বা এআই দিয়ে তৈরি— এই লেবেলটি প্রয়োগ করি।তবে, অন্যান্য অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে এআইয়ের সাহায্য তৈরি ছবিগুলোকেও যাতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম চিহ্নিত করতে পারে, সেই চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।এআই 
    হোয়াটসঅ্যাপে সহজে যেভাবে কল রেকর্ড করবেন
    বর্তমানে বিশ্বে সর্বাধিক ব্যবহৃত ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। জনপ্রিয় এ অ্যাপটিতে ভয়েস ও ভিডিও কল করতে পারেন। তবে এটিতে কল রেকর্ড করার কোনো বিল্ট-ইন ফিচার নেই। তাছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ কল এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড। তবে যদি আপনার কল রেকর্ড করার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে কীভাবে তা করবেন, জেনে নিন। ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে কেবল একে অপরকে বার্তাই পাঠানো যায় না, পাশাপাশি ভিডিও এবং ভয়েস কলও করা যায়। সব রকমের বার্তা পাঠানোর জন্য ওয়ান-স্টপ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। এটির মাধ্যমে ফাইল শেয়ার থেকে শুরু করে গ্রুপ চ্যাট ও ভিডিও কলও করা যায়। কিন্তু অ্যাপটিতে কোনো বিল্ট-ইন কল রেকর্ড ফিচার না থাকা ও হোয়াটসঅ্যাপ কল এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড হওয়ায় এটিতে ভয়েস কল রেকর্ড করা যায় না। কিন্তু আপনি চাইলেই থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস কল রেকর্ড করতে পারেন।   অ্যান্ড্রয়েডে যেভাবে হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস কল রেকর্ড করবেন কল রেকর্ডার অ্যাপ কিউব এসিআর ব্যবহার করে আপনি নির্বিঘ্নে হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস কল রেকর্ড করতে পারবেন। এ অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। নিচে দেয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি সহজেই কিউব এসিআরের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস কল রেকর্ড করতে পারবেন। ১.  প্রথমেই গুগল প্লে স্টোরে যান এবং কিউব কল অ্যাপ্লিকেশন খুঁজে বের করুন; ২. অ্যাপটি ইনস্টল করা হলে সেটিতে প্রবেশ করুন এবং তারপরে হোয়াটসঅ্যাপে যান; ৩. হোয়াটসঅ্যাপে কোনো কল ধরার আগে বা কাউকে কল করার আগে কিউব কল উইজেট দেখা যাবে। যদি তা না দেখতে পারেন, সেক্ষেত্রে আবারও কিউব কল অ্যাপে যান এবং ভয়েস কল হিসেবে ফোর্স ভিওআইপি কল বেছে নিন; ৪. এতে অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস কল রেকর্ড করবে এবং রেকর্ড করা ফাইলগুলো আপনার ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ মেমরিতে সেভ করবে। হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়াও অন্যান্য অ্যাপ যেমন স্ল্যাক, জুম, টেলিগ্রাম, সিগন্যালসহ আরও বেশকিছু অ্যাপের ভয়েস কল রেকর্ড করতে কিউব এসিআর ব্যবহার করা যেতে পারে। আইফোনে যেভাবে হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস কল রেকর্ড করবেনঅ্যান্ড্রয়েডের তুলনায় আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ড করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কারণ আইফোনে এ ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপটির কল রেকর্ড করার জন্য কোনো অ্যাপ্লিকেশন নেই। তবে একটি পন্থা ব্যবহার করে আপনি চাইলেই কল রেকর্ড করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনার প্রয়োজন একটি ম্যাক এবং একটি আইফোন।    নিচে দেয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি সহজেই আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ড করতে পারবেন: ১. প্রথমেই আপনার ম্যাকে কুইকটাইম অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করুন; ২. আপনার আইফোনটিকে ম্যাকের সঙ্গে কানেক্ট করুন এবং কুইকটাইম অ্যাপ্লিকেশনটিতে প্রবেশ করুন; ৩. অ্যাপ্লিকেশনটির ফাইল অপশনটিতে যান এবং নতুন অডিও রেকর্ডিং অপশনটিতে ক্লিক করুন; ৪. এরপর অপশন হিসেবে আইফোন অপশনটি ক্লিক করুন এবং কুইকটাইমে রেকর্ড বাটনে চাপুন; ৫. এ পর্যায়ে আপনি আইফোন ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কল করুন এবং অ্যাড ইউজার আইকনে ক্লিক করুন। ফলে আপনার ভয়েস কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে। পরে রেকর্ড করা ফাইলটি ম্যাকে সেভ হবে।
    ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়ানোর সহজ ৭ উপায়
    বাসায় ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অনেকেই ব্যবহার করেন ওয়াইফাই রাউটার। কিন্তু অনেক সময়েই গতি হারিয়ে সৃষ্টি হয় সমস্যা। গতি কমে যাওয়ার কারণ কি জানেন? এ সমস্যার সমাধান কি জানা আছে?  অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদনের জন্য অনলাইন স্ট্রিম, সব কাজেই প্রয়োজন হয় উচ্চ গতির ইন্টারনেট। দ্রুত গতি ও কম খরচে ইন্টারনেট পরিষেবা পেতে ওয়াইফাই সংযোগ জরুরি। কিন্তু অনেক সময়ই ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। আর এ সমস্যার জন্য অনেক সময় দায়ী থাকে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক। তবে খুব সহজে ওয়াইফাইয়ের সমস্যার সমাধান করে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে পারবেন। মাত্র কয়েকটি উপায় অনুসরণ করলেই ওয়াইফাই সংযোগে পাবেন উচ্চ গতি। চলুন জেনে নেয়া যাক সেই উপায়গুলো। নিয়মিত রাউটার রিস্টার্ট দিনে একবার করে হলেও রাউটার রিস্টার্ট করুন। এতে ইন্টারনেটের গতি অনেক বেড়ে যাবে। কিছু রাউটারে রিস্টার্ট শিডিউল করা যায়, যা সেট করে দিলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে রাউটার নিজে থেকে রিস্টার্ট হয়ে যায়। রাউটারে ওয়াইফাই চ্যানেল অ্যাডজাস্ট ওয়াইফাই সেটিংস অপ্টিমাইজ করতে পারেন। কাছাকাছি নেটওয়ার্ক থেকে বাধা কমাতে রাউটারে ওয়াইফাই চ্যানেল অ্যাডজাস্ট করা দরকার। অননুমোদিত অ্যাক্সেস রোধ করতে ওয়াইফাইয়ের সিকিউরিটি ফিচারও এনেবল করে রাখতে পারেন।   ওয়াইফাই রিপিটার রাখা ওয়াইফাই সিগন্যাল ক্যাপচার করতে একটি ওয়াইফাই রিপিটার রাখলে ভালো হয়। এতে বাড়ির বিভিন্ন অংশে সিগন্যাল পৌঁছানোর জন্য এটি কাজে আসবে। কোল্ড ড্রিঙ্কসের ক্যান ব্যবহার একটি কোল্ড ড্রিঙ্কসের ক্যান কেটে তা রাউটারের অ্যান্টেনার পেছনে লাগিয়ে দিলে ওয়াইফাইয়ের গতি এক ধাক্কায় বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে। আরও পড়ুন: ফোনের স্টোরেজ বাড়ানোর সহজ উপায় মেশ ওয়াইফাই সিস্টেম ওয়াইফাই রেঞ্জ এক্সটেন্ডার বা মেশ ওয়াইফাই সিস্টেম পুরো বাড়িতে বিদ্যমান ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের কভারেজ বাড়ানোর একটি ভালো উপায় হতে পারে। রাউটার বাছাই দেখে নিন আপনার রাউটারে ওয়াইফাইয়ের লেটেস্ট প্রযুক্তি রয়েছে কি না। পুরনো রাউটার ব্যবহার করলে তার কর্মক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আরও ভালো রেঞ্জ এবং ক্ষমতাসহ শক্তিশালী রাউটার কেনা ভালো বিকল্প হতে পারে। রাউটার রাখার স্থান নির্বাচন ওয়াইফাইয়ের সিগন্যাল ঘরের সব জায়গায় একই গতিতে কাজ করে না। তাই রাউটারটি সঠিক স্থান বাছাই করে রাখুন। বিশেষ করে ঘরের কেন্দ্রীয় স্থানে রাখতে পারলে ভালে। তবে যেখানেই রাখুন, উচু এবং খোলা জায়গায় রাখতে হবে। ওপরে ঢাকনা দেয়া যাবে না। এ ছাড়া রাউটারের আশেপাশে অন্য কোনো ইলেকট্রিকাল ডিভাইস রাখবেন না।

    আইন-আদালত

    সব দেখুন
    সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ চৌধুরীর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
     প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।আজ বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালত শুনানি শেষে জামিনের আদেশ দেন।সব মামলায় জামিন পাওয়ায় আলতাফ হোসেন চৌধুরীর কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী তাহেরুর ইসলাম তৌহিদ।জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর ভোরে রাজধানীর উত্তরা থেকে আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে র‍্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, নাশকতা ও সহিংসতা মামলার আসামি হিসেবে টঙ্গী এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে আটক করা হয়।গত ৫ নভেম্বর আলতাফ হোসেন চৌধুরীর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

    প্রবাস

    সব দেখুন
    ক্যানাডায় যাওয়া নতুন বাংলাদেশিরা চাকরি পাচ্ছেন না, দিন কাটছে হতাশায়
    সুমিত আহমদ। সিলেট থেকে ক্যানাডার টরন্টোতে এসেছেন পাঁচ মাস হলো। এখনো কোনো কাজ পাননি। প্রতিদিন হন্যে হয়ে কাজ খুঁজছেন, কিন্তু কোথাও তিনি ইতিবাচক কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। প্রতিদিন দুবেলা করে বাংলাদেশি এলাকাখ্যাত ড্যানফোর্থে আসেন, যদি কারো মাধ্যমে কোনো কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় কিভাবে চলছেন জানতে চাইলে সুমিত আহমেদ বলেন, ‘‘সরকার যে টাকা (রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে প্রতি ব্যক্তিকে মাসে ৭০০ ডলারের মতো) দেয়, আপাতত সেটা দিয়েই চলছি।’’একই অবস্থা এক সময়ের কাতার প্রবাসী হাসমত শিকদারের। তার বাড়ি সিলেটের বিয়ানী বাজারে। উন্নত জীবনের আশায় তিন মাস আগে সুমিত আহমেদের মতো তিনিও টরন্টোতে এসেছেন ভ্রমণ ভিসায়। তবে স্থায়ী হওয়ার জন্য নিজেকে ‘রিফিউজি' দাবি করেছেন। তবে এখনও ওয়ার্ক পারমিট পাননি। তাই বৈধ কোনো কাজের সন্ধান করতে পারছেন না। ক্যাশে কোথাও কাজ পাওয়া যায় কিনা তাই আপাতত খুঁজছেন, কিন্তু সেটাও পাচ্ছেন না। একদিকে ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ি ভাড়া আর খাওয়া খরচের চিন্তায় রীতিমতো দিশেহারা তিনি। কারণ, যে টাকা সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তা প্রায় শেষের পথে।  সুমিত ও হাসমতের মতো প্রতিদিন অনেক বাংলাদেশির দেখা মেলে টরন্টোর ড্যানফোর্থ এলাকায় গেলে। সকাল থেকে রাত, যখনই যাবেন, কিছু মানুষকে পাওয়া যাবে যাদের আলোচনার মূল বিষয়ই কিভাবে, কোথায় একটা কাজ পাওয়া যাবে। এর মধ্যে আবার বড় একটা অংশ আছেন, যারা ভ্রমণ ভিসায় এসেছেন, কিন্তু স্থায়ীভাবে থেকে যেতে চান। মোট কথা, দেশ ছেড়ে ক্যানাডায় আসা নতুন বাংলাদেশিরা কেমন আছেন, তার খানিকটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়, টরন্টোর ড্যানফোর্থ এলাকায় গেলে। ভিসার ক্যাটাগরির ভিন্নতা থাকলেও, সবার সমস্যা এক এবং অভিন্ন-  কাজ না পাওয়া। কথা হয় ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে টরন্টোতে আসা বাংলাদেশি তরুণ সুলাইমান সাহিদের সঙ্গে। তিনি এবং তার স্ত্রী দু'জনই ঢাকায় বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানে মোটামুটি ভালো বেতনে চাকরি করতেন। এক্সপ্রেস এন্ট্রির দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ করে তারা টরন্টোতে এসেছেন গত বছরের অক্টোবরে। স্ত্রী একটা এনজিওতে চাকরি শুরু করলেও এখনও নিজের পছন্দের কোন কাজ খুঁজে পাননি সুলাইমান। তিনি বলছিলেন, ‘‘দেশ হিসেবে ইমিগ্র্যান্টদের জন্য ক্যানাডা অবশ্যই ভালো, কিন্তু সবার জন্য নয়। বিশেষ করে, কেউ এসেই চাকরি পেয়ে যাবে- ব্যাপারটা তেমন নয়। ন্যূনতম ছয় মাস থেকে এক বছর অপেক্ষা করতে হবে একটা মোটামুটি মানের চাকরির জন্য। ফলে, মাঝের সময়টায় টিকে থাকার জন্য হাতে টাকা থাকতে হবে। না থাকলে কঠিন হয়ে যাবে।’’সুলাইমান বলছিলেন, ‘‘গত কয়েক মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দরখাস্ত করেছি, কিন্তু কোথাও থেকে সেভাবে সাড়া  পাচ্ছি না। আমার মতো নতুনদের নিয়ে ক্যানাডিয়ান সরকারের অনেক ভালো ভালো প্রোগ্রাম আছে, কিন্তু সেগুলো সবই অনেক সময়সাপেক্ষ।’’বাংলাদেশের শক্তিশালী কমিউনিটি না থাকাও নতুন এসে তাড়াতাড়ি চাকরি না পাওয়ার একটা কারণ বলে মনে করেন সুলাইমান। তার মতে, ভারতীয়, কিংবা পাকিস্তানিরা নতুন এসে তাদের কমিউনিটির কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা পেয়ে থাকেন, সেটা বাংলাদেশিরা পায় না। আবার দক্ষতারও অভাব আছে বলে মনে করেন সুলাইমান। বিশেষ করে, এখানে কাজ করার জন্য ন্যূনতম যে ইংরেজি জানা দরকার, বেশিরভাগেরই সেটা জানা নেই। বাংলাদেশিদের কাজ না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সাংবাদিক গাজী সালাউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ক্যানাডার মেইনস্ট্রিম যে জব মার্কেট, সেখানে কিন্তু কোনো ঘাটতি নেই। কারণ, সরকার এটা নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ, এই দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন, সেই পরিমাণ ইমিগ্র্যান্ট আনে। সালাউদ্দিন মাহমুদের মতে, ‘‘মেইনস্ট্রিম জব মার্কেটের বাইরে চাকরির সমস্যা আছে। কিন্তু সেটা বুঝতে দুটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। এক, দক্ষতা, দুই, ক্যানাডায় আসার ভিসার ধরন।'' তিনি বলেন, ‘‘গত দুই বছরে অনেক বাংলাদেশি এসেছে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে।’’আর এই ভিসা দিয়ে বৈধভাবে কাজ পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে, ভিন্নভাবে আয়-রোজগারের পথ আছে। সেটা হলো, নগদ পারিশ্রমিকে কাজ করা৷ আর এই নগদ টাকার কাজগুলো সাধারণত হয় কমিউনিটি-বেজ'। অর্থাৎ, একজন বাংলাদেশি আরেকজন বাংলাদেশিকে ‘ক্যাশে' কাজ দিয়ে সহযোগিতা করে, বিনিময়ে অবশ্য অনেক সস্তায় শ্রম কেনা হয়। কাজ দিতে পারেন এমন বাংলাদেশির সংখ্যা খুব বেশি না হওয়ায় গত দুই বছরে ভ্রমণ ভিসায় আসা মানুষের সংখ্যা যত বেড়েছে, সে তুলনায় কাজের ক্ষেত্র বাড়েনি। ফলে, এই শ্রেণির মানুষ যে কাজের সংকটে ভুগছে, তাতে সন্দেহ নেই৷আর যারা স্টুডেন্ট ভিসায় আসছেন, তাদের একটা অংশের দক্ষতার বিরাট অভাব রয়েছে বলে মনে করেন সালাউদ্দিন মাহমুদ। তার মতে, ‘‘ভারতীয় ছেলে-মেয়েরা যত দ্রুত যে কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা সেটা পারে না৷ ফলে, যারা চাকরি দিচ্ছে, তারা বেটার পার্সনকে বেছে নিচ্ছে৷ আর সেখানেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশিরা৷’’গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ থেকে যারা ক্যানাডায় এসেছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ ভিসা নিয়ে৷ এদের একটা  অংশ স্থায়ী হতে চান ক্যানাডায়৷ তাদের এই স্থায়ী হওয়ার প্রক্রিয়াটা মোটেও  সহজ না৷ কারণ, প্রথমত, ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বৈধভাবে কোথাও কোন কাজ পাওয়া সম্ভব নয়৷ কাজ পেতে তাদেরকে জব অফার ম্যানেজ করতে হবে৷ এবং সেটাও হতে হবে ক্যানাডিন সরকারের তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান৷ বিশেষ কাজে বিশেষভাবে দক্ষ না হলে, কোনো প্রতিষ্ঠানই সাধারণত ভ্রমণ ভিসায় আসা কাউকে চাকরির জন্য বিবেচনা করে না৷ফলে ভিজিটর ভিসায় বাংলাদেশ থেকে আসা বেশিরভাগ মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রার্থনা করে৷ কিন্তু এই প্রক্রিয়াটাও যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি সময়সাপেক্ষ৷ যে কোনো একজন ভালো মানের আইনজীবীর মাধ্যমে অ্যাসাইলামের আবেদন করলে, পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে দিতে হয় ১০ থেকে ১২ হাজার ক্যানাডিয়ান ডলার৷ বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকা৷ আর এই রাজনৈতিক আশ্রয়ের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগ লাগে ন্যূনতম ৫ বছর৷ তারপরও ক্যানাডায় এসে বাংলাদেশের অনেক মানুষ বেছে নিচ্ছে এই পথ৷ এমনই দুজনের সঙ্গে কথা হলো টরন্টোর স্কারবরো এলাকায়৷ এরমধ্যে একজন শাহ ফরহাদ,  আরেকজন আবুল আহসান৷ দুজনই এসেছেন সিলেট থেকে৷ সেখানে দুজনই ব্যবসা করতেন৷ এরমধ্যে আইনজীবীর মাধ্যমে আবুল আহসান শরণার্থী হওয়ার আবেদন করলেও আরো কিছুদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান শাহ ফরহাদ৷ তারপর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন ক্যানাডায় থেকে যাবেন নাকি দেশে ফিরে যাবেন৷তবে অল্প দিনের মধ্যেই তারা বুঝতে পারছেন স্বপ্ন আর বাস্তবতার ফারাক অনেক৷ একদিকে ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় কোথাও কোনো কাজ পাচ্ছেন না, অন্যদিকে প্রতিমাসে গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের বাড়িভাড়া আর খাওয়ার খরচ৷ সঙ্গে আইনজীবীর খরচ তো আছেই৷এমন পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে যাবেন কিনা জানতে চাইলে সিলেটের আবুল আহসান বলেন, ‘‘ফিরে যাওয়ার আর কোন পথ নাই৷ যেহেতু অনেক টাকা খরচ করে এখানে এসেছি, যত কষ্টই হোক না কেন এখানেই থাকতে হবে৷’’চাকরি না থাকা বিভিন্ন দেশের এমন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে ক্যানাডার কিছু প্রতিষ্ঠান৷ বিভিন্ন এলাকায় তারা সপ্তাহে তিন দিন বিনামূল্যে নানারকম খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছে৷ তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান 'ফিড স্কারবোরো'৷ মাইনাস ১০-১২ ডিগ্রি ঠান্ডার মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায় অনেক বাংলাদেশিকে৷ এই লাইনে অবশ্য অন্য অনেক দেশের মানুষকেই দেখা যায়। সূত্র: ডিডব্লিউ।

    লাইফস্টাইল

    সব দেখুন
    বিশ্ব চিন্তা দিবস আজ
    আজ ২২ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব চিন্তা দিবস। বিশ্ব গার্ল গাইডস ও গার্ল স্কাউটস সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট স্টিভেন্সন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল ও বিশ্ব চীফ গাইড লেডি ওলেভ বেডেন পাওয়েলের জন্মদিন ২২ ফেব্রুয়ারি।  এই উপলক্ষে প্রতিবছর ২২ ফেব্রুয়ারি দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী গাইড সদস্যবৃন্দ তাদের জন্ম দিবসকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতি বছর একটি থিম নিয়ে ‘বিশ্ব চিন্তা দিবস’ উদযাপন করেন।দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের পৃথিবী, আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ : পরিবেশ ও বৈশ্বিক দারিদ্র্য’। অর্থাৎ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে ভাববেন ও কাজ করবেন গার্ল গাইডস ও গার্ল স্কাউটের সদস্যরা। বিশ্ব চিন্তা দিবস উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তিনি বলেছেন, উন্নয়ন ও শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের পাশাপাশি তরুণীদেরও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে।শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নারীর আত্মোন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন এ দিনটি উদযাপন করে আসছে। জাতির পিতার উদ্যোগেই মহান জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালে ‘বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন আইন, ১৯৭৩’ পাস হয়। যার মাধ্যমে এই সংগঠনটি আইনি ভিত্তি লাভ করে। তখন থেকে সারাদেশে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে গার্ল গাইডস বোনেরা সরকারের উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখে চলেছে।এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ রাজধানীর বেইলি রোডের গাইড হাউস অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯২৮ সালে তৎকালীন ভারতবর্ষে শুরু হয় গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা। পূর্ব পাকিস্তানের গার্ল গাইডস সংগঠনটি ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তান গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের শাখায় রূপান্তরিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন একটি জাতীয় সংস্থা হিসেবে জাতীয় সংসদের অনুমোদন লাভ করে।এখন কম বেশি চিন্তা সকলেই করে থাকেন। মানুষ নাকি চিন্তা ছাড়া থাকতে পারে না এক মুহূর্তও। আবার তনেকেই ওভার থিঙ্কিং করে থাকেন। অধিক চিন্তার ফলে একটা মানুষ মানসিক অবসাদে ভুগতে পারে। এ ছাড়া হার্টের রোগ, সুগার, ব্লাডপ্রেশার, হজমে সমস্যাও হতে পারে। তাই খুব দরকারি কিছু ছাড়া চিন্তা না করাই ভালো। বেশি চিন্তা আপনাকে কোনো সমাধান দিবে না। বরং শরীরের রোগ বাড়াবে।

    Loading…