নতুন এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান বিচারপতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এরই মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামীকাল শনিবার নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এরপর তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে সংসদ সচিবালয়।জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।আগামী ১৬ ফ্রেব্রুয়ারি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন তিনি। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। পূর্ববর্তী সংসদের কোনো স্পিকার না থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর এই আইনি প্রক্রিয়ার কথা তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে,তখন আইন উপদেষ্টা বলেছিলেন, আমাদের আইনে আছে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। এই মনোনয়ন হবে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে। আরও একটি বিধান রয়েছে- তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা তার মনোনীত ব্যক্তি এমপিদের শপথ পড়াবেন।সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হলে বা না করলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই এর জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানা গেছে, তারা আগামী রবিবার থেকে মঙ্গলবার যে কোনোদিন এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি রেখেছেন। তবে যেহেতু স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার জেলে তাই সংবিধান অনুযায়ী গেজেটের তিন দিন পর সিইসি এমপিদের শপথ পড়াবেন।এফএস
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতে যাওয়ায় যেসব পরিবর্তন আসতে পারে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন।এবার মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫। গণভোটে মতামত পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। জনরায়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ ভোট।’গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় কী কী পরিবর্তন আসছে, জনমনে এমন প্রশ্ন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের তৃতীয় ধাপ শুরু হবে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত। এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না; একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারবেন না এবং বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাহী ক্ষমতার প্রায় সবটিই প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত—সংস্কার প্রস্তাবনায় এমনটিই বলা আছে। সংস্কার প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ আছে, সংস্কার কার্যকর হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাও কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে। মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে দিতে পারবেন।এ ছাড়া কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। কোনো একটি দলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে তিনটি ধাপ নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি দিতে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেন। দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হলো গণভোট।তৃতীয় ধাপে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের আলোকে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না হলে কী হবে, সে বিষয়ে আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ নেই।এফএস
জাতীয়
সব দেখুন
আজ-কালের মধ্যে গেজেট, ঢাকা-৮ আসনে পুনর্গণনার সুযোগ নেই : ইসি
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট আজ শুক্রবার বা কালকের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, আজ বা কালকের মধ্যে সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। আলোচিত ঢাকা-৮ আসনের ভোট পুনর্গণনার সুযোগ নেই।এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েন বিএনপির মির্জা আব্বাস। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্বাস ৪৯৮০ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট। আর পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট।এই আসনের ফল নিয়ে সন্ধ্যা থেকেই এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। দুই প্রার্থীই রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ দিয়েছেন।নির্বাচনের দিন রাত আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই আসনে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ভোট পুনরায় গণনার দাবি করেছেন।তাদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মূল ইস্যু হচ্ছে বাতিল ভোট। এই আসনে এখন পর্যন্ত ২৪৯৭টি ভোট বাতিল করা হয়েছে। মূলত এই আসনের ব্যালট পেপারটিতে একদম বাম পাশের কোণায় ধানের শীষ প্রতীকের বক্স ছিল। ওই বক্সের পাশের জায়গাটি ফাঁকা ছিল। ওই পাশের সাদা জায়গায় অনেক সিল পড়েছে। বিস্তারিত আসছে......এফএস
নতুন এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান বিচারপতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এরই মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামীকাল শনিবার নবনির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এরপর তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে সংসদ সচিবালয়।জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।আগামী ১৬ ফ্রেব্রুয়ারি শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন তিনি। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। পূর্ববর্তী সংসদের কোনো স্পিকার না থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর এই আইনি প্রক্রিয়ার কথা তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে,তখন আইন উপদেষ্টা বলেছিলেন, আমাদের আইনে আছে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন। এই মনোনয়ন হবে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে। আরও একটি বিধান রয়েছে- তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা তার মনোনীত ব্যক্তি এমপিদের শপথ পড়াবেন।সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হলে বা না করলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই এর জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানা গেছে, তারা আগামী রবিবার থেকে মঙ্গলবার যে কোনোদিন এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি রেখেছেন। তবে যেহেতু স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার জেলে তাই সংবিধান অনুযায়ী গেজেটের তিন দিন পর সিইসি এমপিদের শপথ পড়াবেন।এফএস
সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আগামীকাল শনিবার প্রেস ব্রিফিং ডেকেছে। রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এদিন সকাল ১১টায় এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।শুক্রবার সন্ধ্যায় (১৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেসসচিব ফয়েজ আহম্মদ। তিনি জানান, শনিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন।গণমাধ্যম সদস্যদের প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের ফলে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণসহ ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন।এবি
তারেক রহমানের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন সাক্ষাৎ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হওয়ার পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বিএনপি চেয়ারম্যানকে তিনি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কুশল বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। এসময় তাদের দুজকেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়।এর আগে বিকালে, নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরেন বিএনপি মহাসচিব। ঢাকায় হয়রত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান। সেখানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।এফএস
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতে যাওয়ায় যেসব পরিবর্তন আসতে পারে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন।এবার মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৫। গণভোটে মতামত পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। জনরায়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ ভোট।’গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় কী কী পরিবর্তন আসছে, জনমনে এমন প্রশ্ন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের তৃতীয় ধাপ শুরু হবে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত। এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না; একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারবেন না এবং বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাহী ক্ষমতার প্রায় সবটিই প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত—সংস্কার প্রস্তাবনায় এমনটিই বলা আছে। সংস্কার প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ আছে, সংস্কার কার্যকর হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাও কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে। মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে দিতে পারবেন।এ ছাড়া কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। কোনো একটি দলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে তিনটি ধাপ নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি দিতে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেন। দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হলো গণভোট।তৃতীয় ধাপে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের আলোকে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না হলে কী হবে, সে বিষয়ে আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ নেই।এফএস
আসনশূন্য ৪২ রাজনৈতিক দলের ঘর, জয় পাননি কোনো প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশন থেকে ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। একটি আসনে ভোট স্থগিত ছিল। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দুটি আসনের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল ঘোষণা করবে না ইসি।ইসি সচিব ঘোষিত ১৯৭ আসনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৪২টি দল থেকে কোন প্রার্থী কোনো আসেনই জয় লাভ করেননি।ইসি ঘোষিত ফল অনুযায়ী, নির্বাচনে ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি জয়ী হয়েছে ২০৯টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এনসিপি ছয়টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এই তিনটি দলই ১১ দলীয় জোটে আছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি করে আসন পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস। এ ছাড়া সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী।ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেক রাজনৈতিক দলই শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ, জোটভিত্তিক নির্বাচন এবং কৌশলগত ভোটিংয়ের কারণে ছোট ও নতুন দলগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল ও কিছু স্বতন্ত্র সদস্য। বাকি ৪২ দলের জন্য এবারের নির্বাচন হয়ে থাকলো হতাশার অধ্যায়।ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় এক হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন। কোনো আসনে জয় পায়নিলিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। এ ছাড়াও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বিএমএল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পাটি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পাটি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পাটি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পাটি কোনো আসন পায়নি। এবি
তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির ফোন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল ভোটের জয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানকে ফোন করার তথ্য নিজেই জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ বিজয়ের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণে তার প্রচেষ্টায় আমি আমার শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানাই। নরেন্দ্র মোদি বলেন, গভীর শিকড়ে আবদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কযুক্ত দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে আমি আমাদের উভয় দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।এইচএ
তারেক রহমানকে ভাই সম্বোধন করে মমতার অভিনন্দন
বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর একটায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে, জানাই আমার ‘শুভনন্দন’, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দল ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।’তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।’এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে মোদি লিখেছেন, আমি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুস্পষ্ট জয়ের পথে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। মোদি বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অগ্রসর করতে আপনার সাথে কাজ করার অপেক্ষায় রইলাম। এইচএ
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
একসঙ্গে সংসদে যাচ্ছেন দুই ভাই পিন্টু-টুকু
টাঙ্গাইলের দুটি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেছেন সহোদর দুই ভাই—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে আবদুস সালাম পিন্টু ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট। এ আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রে মোট ৬৪.৫৬ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়। বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৫টি ভোট।অন্যদিকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছেন ৮০ হাজার ৮২৩ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট।ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, টাঙ্গাইল-৫ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০ ভোট কাস্টিং হয়, যা শতকরা ৬৩.২৫ ভাগ। বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৪০১টি ভোট।আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগ করেন।অন্যদিকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবারই প্রথম টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।এফএস
একসঙ্গে সংসদে যাচ্ছেন দুই ভাই পিন্টু-টুকু
টাঙ্গাইলের দুটি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেছেন সহোদর দুই ভাই—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে আবদুস সালাম পিন্টু ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট। এ আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রে মোট ৬৪.৫৬ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়। বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৫টি ভোট।অন্যদিকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছেন ৮০ হাজার ৮২৩ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট।ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, টাঙ্গাইল-৫ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০ ভোট কাস্টিং হয়, যা শতকরা ৬৩.২৫ ভাগ। বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৪০১টি ভোট।আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগ করেন।অন্যদিকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবারই প্রথম টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।এফএস
নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করে এত ভোট পেয়েছেন পাটওয়ারী : মির্জা আব্বাস
ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭টি। এ বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেছেন, এই আসনে তাদের এত ভোট নেই, তারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে এত ভোট পেয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করেন মির্জা আব্বাস। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ফলাফলে আমি আনন্দিত। দেশবাসীও আনন্দিত। সবাই ভোট দিয়েছেন। এ রায়টা ঐতিহাসিক হয়েছে। আমরা আশা করছি, জনগণ এই রায়ের প্রতিফলন পাবে ইনশাআল্লাহ।মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার ভালো লাগছে, আমি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গেও রাজনীতি করছি।তিনি বলেন, ‘এই আসনে যে ব্যালটগুলো বাতিল করা হয়েছে, এটা ঠিক হয়নি। এটা অন্যায় হয়েছে। এগুলো যুক্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছি।’মির্জা আব্বাস আরো বলেন, ‘আমি বারবার বলতাম, তারা এখানে একটা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করবে। এটা তারা করে ফেলেছে।কোন কায়দায় করেছে, সেটা আমরা বুঝতে পারছি। এটা খুব ভয়ংকর। জাতির জন্য খুব খারাপ একটা লক্ষণ। এরা এত ভোট এখানে পেল কিভাবে। এদের কোনো ভোট নেই।’এবি
জামানত হারালেন জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) ভরাডুবি হয়েছে। কোনো আসনেই জয় পায়নি দলটি। গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে লাঙ্গল প্রতীকে ৩ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।আজ শুক্রবার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মাসুদুর রহমান মোল্লার স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট থেকে এ তথ্য জানা যায়। এতে দেখা যায়, এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫২টি। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর জামানত রক্ষার জন্য মোট বৈধ ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পাওয়া প্রয়োজন। সেই হিসেবে গাইবান্ধা-৫ আসনে জামানত টিকিয়ে রাখতে শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৬৫৬ ভোট। কিন্তু তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩৭৫ ভোট।গাইবান্ধা-৫ আসনে ১৪৬টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আব্দুল ওয়ারেজ ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট।এফএস
তারেক রহমানকে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সবশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯ আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে।নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান বিএনপি চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তার প্রচেষ্টার প্রতি শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তার প্রচেষ্টার প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানিয়েছি। বাংলাদেশ ও ভারত দুটি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ, যাদের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে। সেই সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে আমি দুই দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।বিএনপির বিজয়ে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।অভিনন্দন বার্তায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পাকিস্তান গণতান্ত্রিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক অগ্রগতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।’বিএনপিকে বড় জয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও। সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় তিনি এই বিজয়কে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেন।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) তাদের এই অভাবনীয় নির্বাচনী বিজয়ে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। এটি প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্রের বিজয়। বাংলাদেশের মানুষ নানা চড়াই-উতরাই ও অসাধারণ সব চ্যালেঞ্জ পার করে ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাদের রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।’এদিকে সফলভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন এবং নির্বাচনে এগিয়ে থাকার জন্য বিএনপিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে চীন।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে এ শুভেচ্ছাবার্তা দেয় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস।বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বড় জয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বলেন, ‘বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অসাধারণ বিজয়ের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন। একই সঙ্গে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।এফএস
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইবে বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানাবে বিএনপি।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আমরা আইন অনুযায়ী তার (হাসিনা) প্রত্যর্পণের (এক্সট্রাডিশন) দাবি জানাব। এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমরা ভারত সরকারের কাছে দাবি জানাব, তাকে যেন বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ফেরত পাঠানো হয়।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়া বিএনপির সরকার তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা তিনটি জিনিসকে সবচাইতে গুরুত্ব দিচ্ছি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দুর্নীতি নির্মূল করা।’সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র চর্চার ভিত্তি রচনা শুরু হয়েছে। এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার করা হবে। ইতিমধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, এটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।বিএনপির এই জয়কে বহুল প্রত্যাশিত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন বিজয়ীদের বিষয়ে বিকেলের মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারি করবে।সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার ভিত্তিতে বিএনপির সরকার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। যেখানে সমতা ও পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।এফএস
কত ভোট পেলেন আমজনতার তারেক
ঢাকা-১২ আসনে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলে আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক হোসেন প্রজাপতি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৪৪ ভোট। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৮টি। যা মোট ভোটের ৩৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এখানে ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। এদিকে, এই আসনে মোট বাতিল ভোটের সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৪টি। মানে বাতিল হওয়া ভোটের থেকেও কম ভোট পেয়েছেন আমজনতার তারেক। এবি
সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় কাজ করবে বিএনপি
সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় কাজ করবে বিএনপি বলে জানিয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় প্রত্যাশিত ছিল। তারেক রহমানের উপস্থিতি ঘিরে মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষণীয় ছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি রচিত হয়েছে। জুলাই সনদ রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতীক, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী মেধানির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গঠন করা হবে। সেজন্য সবার সহযোগিতারও আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, তিনটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দেশে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। আর গেজেটের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণার পর, সাংবিধানিক নিয়মে শপথ অনুষ্ঠিত হবে।প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা জয় পেয়েছে ২১৩ আসনে। দুই দশক পর দল হিসেবে ফের এককভাবে সরকার গঠনের পথে জাতীয়তাবাদী দল। জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য ৭৭ আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র ৬ প্রার্থী বিজয়ী। এদিকে, আদালতের নিষেধাজ্ঞায় ফলাফল ঘোষণা করা যাচ্ছে না শেরপুর-৩, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে। তাই, ২৯৬ আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে।এইচএ
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা -৭ আসনে বিএনপির হামিদুর বিজয়ী
ঢাকা-৭ আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লা পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান ৬ হাজার ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ছয়টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজ কার্যালয়ে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন।ঢাকা-৭ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৮ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৬১ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৬টি। সেই হিসাবে বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৭৫টি।এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ হাজার ৫১৭ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৮১ ভোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. হাবিবুল্লাহ বটগাছ প্রতীকে ২ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়েছেন।পিএম
ঢাকা-১৩: ৬৫ কেন্দ্রের ফলাফলে ২,৩৫১ ভোটে পিছিয়ে মামুনুল, এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ২,৩৫১ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের ৬৫ টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৯১ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৪০ভোট।এসআর
ঢাকা-১৩ : ৫৮ কেন্দ্রের ফলাফলে ৩৩১ ভোটে পিছিয়ে মামুনুল
ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ৩৩১ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের ৫৮টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৭৬৪ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৩৩ ভোট।ইখা
ঢাকা-১৩ : ৪৯ কেন্দ্রের ফলাফলে ১৭০ ভোটে পিছিয়ে মামুনুল, এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ১৭০ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের ৪৯টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ২৮ হাজার ৪৫৬ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ২৮ হাজার ২৮৬ ভোট।ইখা
ঢাকা-১৩ : ৩৭ কেন্দ্রে ৬৭৪ ভোটে মামুনুলের চেয়ে এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ৬৭৪ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে ৩৭টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ২১ হাজার ৯৯২ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ২১ হাজার ৩১৮ ভোট।ইখা
আ.লীগের ঘাঁটিতে বিএনপির জয়
বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে বিএনপি। স্বাধীনতার পর থেকে আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ধানের শীষ প্রতীকের ঐতিহাসিক বিজয় হয়েছে।বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১,০২,১৯৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮২,৮৭৭ ভোট। ১৯,৩১৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম।ঐতিহাসিকভাবে বাগেরহাট-৩ আসনটি আওয়ামী লীগের ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি একবার জয় পেলেও দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের আধিপত্য ছিল অটুট।নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও মোংলা বন্দর শ্রমিকদের ভোটই এই জয়ের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। মানবিক গুণাবলি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় শেখ ফরিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ২০০৯ সাল থেকে তিনি ছয় সহস্রাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দিয়েছেন। বিশেষ করে মোংলার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মোস্তাফিজ ও শিশু রোকাইয়ার সফল অস্ত্রোপচারের বিষয়টি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর বিশেষ স্থান করে দিয়েছে।এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২,৬৬,৮৬৪ জন। ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার মোট ভোট পড়েছে ১,৮৯,৪৫১টি। নির্বাচনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য (বহিষ্কৃত) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।জয়ের পর লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমি রামপাল-মোংলার আপামর জনতার প্রতি কৃতজ্ঞ। মানুষ আমার ওপর এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের কর্মপরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখেছেন। আগামীতে এই জনপদের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”এনআই
চৌগাছায় বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে জখম করার অভিযোগ
যশোরের চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের রায়নগর বাজারে মোহাম্মদ বাবু (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে জখম করা হয়েছে।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত বাবু ফুলসারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং চারাবাড়ি গ্রামের খলিল বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।আহত বাবু অভিযোগ করেন, সকালে তিনি মোটরসাইকেলে করে রায়নগর বাজারে যান। এ সময় রায়নগর গ্রামের মৃত আহসান আলীর ছেলে সাইফুল্লাহর নেতৃত্বে কাউসার আলী, ইমদাদুল, মনির মেম্বার ও রহমানসহ একদল কর্মী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং একপর্যায়ে সাইফুল্লাহ তাঁর পিঠে ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।হামলার কারণ সম্পর্কে বাবু জানান, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। রায়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ ৬৭১ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ৫৬১ ভোট পায়। ওই কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লার পরাজয় হওয়ায় প্রতিপক্ষরা ক্ষুব্ধ হয়ে এই হামলা চালিয়েছে বলে তাঁর দাবি।যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, ছুরিকাঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় আহতের অবস্থা গুরুতর। তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এনআই
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ধানের শীষকে হারিয়ে জয়ী দাঁড়িপাল্লার রুহুল আমিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন। তিনি বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন।নির্বাচনের মোট ১৭৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন ২,১০,১১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু পেয়েছেন ১,৬৩,২৯৯ ভোট। (নোট: আপনার দেওয়া তথ্যে ৪৬,৮১২ ভোটের ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়েছে)।এনআই
মহেশপুরে দুর্বৃত্তদের হামলা, প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ভাঙচুর-লুটপাট
ঝিনাইদহের মহেশপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রেসক্লাব কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত 'প্রেসক্লাব মহেশপুর' কার্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, রাতে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দুর্বৃত্তরা অফিস কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে একটি ল্যাপটপ, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। হামলার সময় কার্যালয়ে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।ঘটনার কিছু সময় পর স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দকে খবর দেন। পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাংবাদিকেরা সেখানে গিয়ে ভাঙচুরের তাণ্ডব দেখতে পান। এ সময় কার্যালয়ের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।প্রেসক্লাবের সভাপতি সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, "সাংবাদিকদের সংগঠনের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত।" নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, "আমরা বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"ঘটনার পর মহেশপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।এনআই
কুষ্টিয়ায় ৪টি আসনের তিনটিতে জামায়াত ও ১টিতে বিএনপি জয়ী
কুষ্টিয়ার চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী এবং একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন।এর মধ্যে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা বেলাল উদ্দীন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৫ হাজার ভোট।রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এর আগেও বিএনপির থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার পিতা প্রয়াত আহসানুল হক পচা মোল্লা ও এ আসনের একাধিকবার নির্বাচিত এমপি এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।এদিকে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে প্রায় ৪৬ হাজার ৫৩৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিএনপির রাগীব রউফ চৌধুরীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল গফুর। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনের মোট ১৭০ টি ভোট কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রতীক রাগীব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৮২ ভোট।আব্দুল গফুর এর আগে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী আলোচিত প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মুফতি আমির হামজা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৫৩ হাজার ৭৮১ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪২ টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে আমির হামজা ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন সরকার ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়েছেন। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বেসরকারিভাবে জামায়াতে ইসলামীর মো. আফজাল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৫ হাজার ৯৫০ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে ১৫২ টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬ ভোট। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬ ভোট।এসআর
কক্সবাজারে ক্লিন সুইপ বিএনপির, জমজমাট লড়াই ৪ নম্বর আসনে
‘ভাগ্য আসন’ হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আবারও আলোচনায়। অতীতে এই আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, সেই দলই সরকার গঠন করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। দুজনের ব্যবধান ১ হাজার ৫৪৯ ভোট।চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আগে জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। এবার পঞ্চমবারের মতো জয়ী হয়ে তিনি বলেন, ভেদাভেদ ভুলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান।ফলাফল নিয়ে আপত্তি:নুর আহমদ আনোয়ারী দীর্ঘ ২২ বছর টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি হ্নীলার একটি ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাকে ৯২৯ ভোটে পরাজিত দেখানো হয়েছে এবং ফলাফলে অসংগতি রয়েছে। বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।চার আসনেই বিএনপির জয়:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ফলাফল ঘোষণা করেন।কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া):এই আসনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট। ব্যবধান ৯৫ হাজার ৮৪০।জয়ের পর সালাহউদ্দিন আহমদ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জীবনে বহু সংগ্রাম করেছেন, তবে পরাজয়ের মুখ দেখেননি। এলাকার দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা তার পক্ষে কাজ করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া):এ আসনে বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৬০ ভোট। জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৮১৭ ভোট।মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দুই সাগরদ্বীপ নিয়ে গঠিত এ আসনে স্থানীয় দ্বন্দ্ব থাকলেও নির্বাচনের আগে দলীয় সমন্বয় জয়ের পথ সহজ করে দেয় বলে বিএনপি নেতারা জানান। মহেশখালীতে ধানের শীষ পেয়েছে ৯৫ হাজার ২৫৯ ভোট, দাঁড়িপাল্লা ৫৪ হাজার ৫৬৯। কুতুবদিয়ায় দাঁড়িপাল্লা ৩৫ হাজার ২৪৮ এবং ধানের শীষ ২৯ হাজার ৪০১ ভোট পেয়েছে।কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৬০ ভোট। জামায়াতের শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট। ব্যবধান ২৮ হাজার ৪৬৬।জয়ের পর কাজল বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী টানা এক বছর মাঠে কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়নে কাজ করতে চান।সব মিলিয়ে কক্সবাজারের চার আসনেই বিএনপির জয় নিশ্চিত হয়েছে বেসরকারি ফলাফলে। তবে কক্সবাজার-৪ আসনের ১ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানই ছিল সবচেয়ে আলোচিত। জেলা জামায়াতের আমিরের এই অল্প ব্যবধানের পরাজয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।এবি
নির্বাচনী দায়িত্ব শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় আনসার সদস্য নিহত, আহত ১৪
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে চট্টগ্রামে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৪ জন সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে কর্ণফুলী টানেলের পতেঙ্গা প্রান্তের চৌরাস্তা মোড়েএ দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানাযায়, সাতকানিয়ায় নির্বাচনী দায়িত্ব শেষে একটি বাসে করে গার্ডে ফিরছিলেন ২৩ জন আনসার সদস্য। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা রেলিংয়ে উঠে উল্টে যায়।নিহত আনসার সদস্যের নাম মো. আব্দুল জব্বার। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন।আহতদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে চট্টগ্রামের বিএনএস হাসপাতালের আইসিইউতে এবং সাতজন এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহত সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী টানেল এলাকায় দায়িত্বরত নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, দুর্ঘটনাটি নেভি গেট এলাকায় সংঘটিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন আনসার সদস্য নিহত হন এবং অন্তত ১৪ জন আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নৌবাহিনীর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় আনসার বাহিনীতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নিহত সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।উল্লেখ্য, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে আনসার ও ভিডিপির পাঁচ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। বিপুল সংখ্যক সদস্যকে নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া ও দায়িত্ব শেষে ফিরিয়ে আনা ছিল প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজয় এলেও ঝুলে আছে ভাগ্য, চট্টগ্রামের দুই আসনের গেজেট স্থগিত
ভোটে নিরঙ্কুশ জয় এবং কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে স্পষ্ট ব্যবধান থাকার পরও এখনো মিলছে না চূড়ান্ত স্বীকৃতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষিত হলেও চট্টগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনের নির্বাচিত দুই প্রার্থীর ভাগ্য ঝুলে আছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর।আসন দুটি থেকে বিজয়ী প্রার্থী হলেন বিএনপি মনোনীত সারোয়ার আলমগীর ও আসলাম চৌধুরী। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১,৪২,৬৭৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯,২৬৮ ভোট। ভোটের হিসাবে স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হলেও আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক। হাইকোর্ট আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেন যে, তিনি নির্বাচন করতে পারবেন; তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিজয়ের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না।চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে চট্টগ্রাম-২ আসনেও। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১,৩৮,৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৬২,১৬০ ভোট। এই আসনেও জামায়াত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আদালতে যান। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সেই লিভ মঞ্জুর করে জানান, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং তাঁর প্রাপ্ত ভোট বৈধ থাকবে, তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।আইনি প্রেক্ষাপট: আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল শুনানিতে যদি প্রমাণিত হয় যে সংশ্লিষ্ট দুই প্রার্থী ঋণখেলাপি নন, তবে নির্বাচন কমিশন দ্রুত তাঁদের নির্বাচনী ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে। অন্যথায় ফলাফল বাতিলসহ ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে চট্টগ্রামের এই দুটি আসন আইনিভাবে অনেকটা ‘শূন্য’ অবস্থায় রয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই আসনের রায় ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নির্বাচন কমিশনও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আদালতের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে গেজেট প্রকাশের কোনো সুযোগ তাদের নেই।এনআই
কুমিল্লার ১১টি আসনে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জিতলেন বিএনপির জাকারিয়া তাহের
বরুড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৮ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন জাকারিয়া তাহের সুমন। বৃহস্পতিবার(১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য জানা যায়।প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১,৬৯,১৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল আলম হেলাল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫,০৯১ ভোট।ফলে ১,২৪,০৮৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন জাকারিয়া তাহের সুমন। কুমিল্লা জেলার সব আসনের মধ্যে এটিই এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধান বলে জানা গেছে।উল্লেখ্য, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩,৮০,৮৩৩ জন। এর মধ্যে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৫৯.৫৬ শতাংশ।বিজয়ের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “এই বিজয় আমার একার নয়, বরুড়াবাসীর বিজয়। মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার এই লড়াইয়ে যাঁরা পাশে ছিলেন, সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ইনশাআল্লাহ, বরুড়ার উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”এনআই
চট্টগ্রামে বিএনপির নিরঙ্কুশ আধিপত্য, দক্ষিণে জামায়াতের অপ্রত্যাশিত উত্থান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাকি দুইটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ফলাফল বিশ্লেষণে স্পষ্ট, চট্টগ্রামে এবারের নির্বাচন কার্যত বিএনপির একক আধিপত্যের চিত্র তুলে ধরেছে, তবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের দুটি আসনে জামায়াতের জয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নগর ও জেলা মিলিয়ে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১ হাজার ৯৬৫টি, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় ৫৮টি কম। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দিনভর ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে।চট্টগ্রামের সংসদীয় মানচিত্র অনুযায়ী, তিনটি আসন পুরোপুরি মহানগর এলাকায় অবস্থিত, ১০টি আসন জেলা প্রশাসনের আওতাভুক্ত এবং বাকি তিনটি আসন নগর ও জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই বৈচিত্র্যময় ভূগোলেই এবারের নির্বাচনে ভোটের সমীকরণ ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়।চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই):এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৮৩ ভোট।চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি):বিএনপির সরওয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ):এ আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা ৭২ হাজার ৫১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলা উদ্দীন পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫১৯ ভোট। এ আসনে ৪ হাজার ৭৮৪টি পোস্টাল ভোটের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পড়ে ২ হাজার ৫০৫ ভোট, আর ধানের শীষ পেয়েছে ৬৮৪ ভোট, যা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ):বিএনপির আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ):বিএনপির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোট। জামায়াতের মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ভোট।চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান):এখানে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৬ ভোট এবং জামায়াতের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২১ হাজার ১৩ ভোট।চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া):বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬৭ ভোট। জামায়াত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৬৫ ভোট।চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ):বিএনপির এরশাদ উল্লাহ ৭২ হাজার ৫৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। মোমবাতি প্রতীকের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান পেয়েছেন ২২ হাজার ৫৩২ ভোট। একই জোটের আলোচিত দুই প্রার্থী, জামায়াতের মো. আবু নাসের পেয়েছেন ১৭ হাজার ২৮৬ ভোট এবং এনসিপির মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ শাপলা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫৮ ভোট।চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া):বিএনপির আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৮ ভোট। জামায়াতের ডা. ফজলুল হক পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬০১ ভোট। ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রের ফল না এলেও জয়ের ব্যবধান এতটাই বেশি যে ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি।চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর-খুলশী):বিএনপির সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৩৪ ভোট। সাতটি কেন্দ্রের ফল না এলেও ফলাফল নিশ্চিত হয়।চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা):বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২১ ভোট। জামায়াতের মুহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট।চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া):বিএনপির এনামুল হক এনাম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮০৬ ভোট এবং জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪০ ভোট।চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী):বিএনপির সরোয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৩৩৭ ভোট। ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৬১ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ২১ হাজার ৩৯১ ভোট।চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার একাংশ):বিএনপির জসিম উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। এলডিপির ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট, এই আসনটি ছিল সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের উদাহরণ।চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়ার একাংশ ও লোহাগাড়া):জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীনপেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট।চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী):জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট। বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট, যা এই আসনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।এসআর
মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে ৪ প্রার্থী জামানত হারালেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান–শ্রীনগর) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে চারজনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২.৫% না পান, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।ফলাফলে দেখা গেছে ফুটবল প্রতীকের মো. মমিন আলী ৩০হাজার ৬৭৮ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের মো. আতিকুর রহমান খান ৯হাজার ৩৯ ভোট, কাস্তে প্রতীকের আব্দুর রহমান ৪৪৩ ভোট,আপেল প্রতীকের রোকেয়া আক্তার ৩২০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের শেখ মো. আব্দুল্লাহ, যিনি পান ১লাখ ৬৭হাজার ৫৬২ ভোট।নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীকের একেএম ফখরুদ্দীন রাজী পান ১লাখ১হাজার ৫৬৮ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী ৬৬হাজার ৯৯৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।মুন্সিগঞ্জ-১ আসনটি সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ১৭০ ভোট কেন্দ্র রয়েছে, ভোটার সংখ্যা ৫লাখ ৪৫হাজার ৫১৮ জন। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩লাখ ৯হাজার ৬১০ এবং বাতিল ভোট ৬হাজার ৫৬২। এর ফলে মোট ভোট পড়েছে ৩লাখ ১৬হাজার ১৭২টি, যা ভোটারদের মধ্যে ৫৭.৯৮ শতাংশ।এসআর
বিজয়ী হয়েই কাজে নেমে পড়লেন মঞ্জুরুল করিম রনি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই নিজ হাতে ব্যানার অপসারণ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ পরিষ্কারে হাত দিলেন গাজীপর-২ আসনে নির্বাচিত বিএনপির এম মঞ্জুরুল করিম রনি।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পর শহরের প্রাণ কেন্দ্র জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে এ ব্যানার অপসারণের কাজ শুরু করেন।তাঁর এমন কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার স্থানীয় জনগণ। স্থানীয়দের সাথে এ বিষয়ে আলাপ হলে তারা বলেন, নির্বাচনের ধখল কাটিয়ে উঠার আগেই নিজ এলাকায় হাজির হয়ে মঞ্জুরুল করম রনির এমন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করায় তারা অনেকটাই অভাক হয়েছেন। একই সাথে তারা বলেন, দিনের শুরুর সূর্যটা দেখলে বুঝা যায় দিনের বাকিটা সময় কেমন যাবে। তাদের মতে তারা একজন যোগ্য নেতাকেই তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে নির্বাচিত করেছেন বলে মনে হচেছ।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সময়ের কণ্ঠস্বরকে রনি বলেন, আমি আমার এলাকার পরিবেশ সুন্দর করতেই মূলত দ্রুত ব্যানার পোষ্টার অপসারণে হাত দিয়েছি। ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই নিজহাতে ব্যানার খোলার কাজ শুরু করেছেন, আগামীদিনে নিজ আসনের পরিবেশ ঠিক রাখতে এ ধরণের কাজ অব্যাহত থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষ নির্বাচিত করেছে, তাদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য যতটুকু সম্ভব করে যাবো।গাজীপুর-২ আসনের জনগণ যে বিশ্বাস এবং আশায় আপনাকে নির্বাচিত করছেন, তাদের সেই আশা পূরণের লক্ষ্যে আপনি কি ধরণের পরিকল্পনা রাখছেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাজীপুর -২ আসনের বাসিন্দাদের সাথে আমার যে অঙ্গীকার গুলো আছে তা পূরনে কাজ করবো। এছাড়াও আমাদের দলের চেয়ারম্যান সাহেব জনাব তারেক রহমান যে কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছেন, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের তা বাস্তবায়ন করাই আমার লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করবো। বড় বড় মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে আওয়ামী সরকারের মতো দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে বানানোর সুযোগ দিবো না। আমাদের যুব সমাজকে এগিয়ে নিতে তাদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করবো পাশাপাশি আমাদের নারীদের স্বাবলম্বী করে দেওয়া জন্য কাজ করবো।শুরু কোন কাজের মধ্যে দিয়ে করতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, আমি প্রথমেই আমার এলাকার জনগণের সাথে বসে অধিক জনগুরুত্ব বহন করে এমন কাজটি আগে করতে চাই। আমি আমার জনগণের সাথে বসেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। তিনি বলেন আমরা সকলে মিলেই নিরাপদ, সুন্দর এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে গাজীপুরকে গড়ে তুলবো।পিএম
ধামরাইয়ে বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিনের বিজয়
সংসদীয় আসন ১৯৩ তথা ঢাকা-২০ ধামরাই আসনে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৩ জন ভোটার ত্রয়েদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন ধানের শীষে প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮ ভোট। ১ লাখ ৪ হাজার ৮৫টি ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।ঢাকা-২০ধামরাইয়ে মোট ১৪৭ টি কেন্দ্রেই ধানের শীষের বিজয় হয়েছে। অপর দিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ (১১ দলীয় জোটে-এনসিপির) শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩ ভোট। এছাড়াও মুফতি আশরাফ আলী খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট। এ ভোটের মধ্যে ৬ হাজার ১১৭ টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়েছে।উল্লেখ্য, জামানত হারাতে যাচ্ছেন তিন প্রার্থী জাতীয় পার্টির আহসান খান আছু (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট। বাংলাদেশ জাসদ আরজু মিয়া মোটরগাড়ি-কার প্রতীকে পেয়েছেন ১৯৮ ভোট এবং এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন ঈগল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪৭৮ ভোট। সব মিলিয়ে আহসান খান আছু, আরজু মিয়া ও হেলাল উদ্দিন তারা ৩ জন মিলে বাতিল ভোটের চেয়েও কম সংখ্যক ভোট পেয়েছেন।এই আসনে ভোটের মাঠে লড়াই করেছেন মোট ৬ জন প্রার্থী। এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩৫ জন। মহিলা ভাটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০২ জন। হিজরা(তৃতীয় লিঙ্গ) ভোটার ২ জন। ১৬ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভায় ১৪৭ টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।এনআই
টাঙ্গাইল-৬ আসনে ধানের শীষের জয়, বড় ব্যবধানে নির্বাচিত লাভলু
দীর্ঘ ১৭ বছর পর টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে ধানের শীষের জয় ফিরেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও তৃণমূলনির্ভর রাজনীতির জন্য পরিচিত রবিউল আওয়াল লাভলু।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই আসনের ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রবিউল আওয়াল লাভলু মোট ১,৫০,৯৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম আব্দুল হামিদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১,৯১৪ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৫৯,০৩৮ ভোট। এই বিপুল ব্যবধানের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর আসনটিতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা দিলেন ভোটাররা।নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলায় সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ১৫৪টি কেন্দ্রেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় রবিউল আওয়াল লাভলু বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর এ আসনে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। আমি নাগরপুর-দেলদুয়ারের সকল ভোটারের প্রতি কৃতজ্ঞ। এলাকার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আমি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।”রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিজয় আসনটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।এনআই
ঢাকা-১৮ আসনে জয়ী বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টান টান উত্তেজনা ও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ঢাকা-১৮ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ।ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩৪,৪৫০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে গণভোট (হ্যাঁ-না ভোট) অনুষ্ঠিত হয়।রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন ১,৪২,৯৫৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১,০৮,৫০৭ ভোট। জয়ী প্রার্থী জাহাঙ্গীর এদিন মালেকাবানু আদর্শ বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে নিজের ভোট দিয়েছেন তিনি।মো. আনোয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন): ৪,৭২৭ ভোটমো. মহিউদ্দিন হাওলাদার. মহিউদ্দিন হাওলাদার. মহিউদ্দিন হাওলাদার (স্বতন্ত্র): ৩,২০৫ ভোট জাকির হোসেন (জাতীয় পার্টি): ২,৫৫৭ ভোট। মাহমুদুর রহমান মান্না (নাগরিক ঐক্য): ৩৫০ ভোটঢাকা-১৮ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৯ জন (মতভেদে ৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৮)। পোস্টাল ভোটসহ মোট ২১৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট সংগৃহীত ভোট২,৭৪,৭৭২বাতিলকৃত ভোট৪,৭৮৪ভোট প্রদানের হার৪৫৪৫ শতাংশভোটগ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। পুরো নির্বাচনী এলাকাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছিল। ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।এসআর
বরগুনা-১ আসনে দুই প্রার্থী জামানাত হারালেন
উৎসরমুখব ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে বরগুনা-১ আসনের (আমতলী-বরগুনা সদর-তালতলী) নির্বাচন বৃহস্পতিবার শেষে হয়েছে। গণনা শেষে এ আসলে দুইজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন ১০ দলীয় ঐক্যজোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গির হোসাইন ও জাতীয় পার্টি-জেপি প্রার্থী মোঃ জামাল হোসাইন। জানাগেছে, বরগুনা-১ (আমতলী-বরগুনা সদর-তালতলী) আসনে বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। প্রদত্ত ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৫। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ১ লাখ ৪০ হাজার ২’শ ৯০, বিএনপির প্রার্থী ১ লাখ ৩৬ হাজার ১’শ ৫৪, জাতীয় পার্টি-জেপি প্রার্থী মোঃ জামাল হোসাইন পেয়েছেন ৯’শ ৫৯ এবং ১০ দলীয় ঐক্যজোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গির হোসাইন ৫ হাজার ৪’শ ৮৩ ভোট পেয়েছেন। পরিপত্রে উল্লেখ আছে জামানাত রক্ষায় প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীকে পেতে হবে। তাতে প্রত্যেক প্রার্থীকে জামানত রক্ষায় ভোট প্রয়োজন ৩৫ হাজার ৯’শ ৩৮ ভোট। কিন্তু এতো পরিমান ভোট প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গির হোসাইন এবং মোঃ জামাল হোসাইন পায়নি। এতে এই দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আমতলী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ জিয়াউল হক বলেন, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীকে পেতে হয়, নইলে জামানাত বাজেয়াপ্ত হবে। বরগুনা-১ আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৫। হিসাবয়ান্তে জামানত রক্ষায় প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীকে ৩৫ হাজার ৯’শ ৩৮ ভোট পেতে হবে। এতে এ আসনের মোঃ জাহাঙ্গির হোসাইন ও মোঃ জামাল হোসাইন জামানত হারিয়েছেন। এসআর
বরগুনায় হাত বিচ্ছিন্নের ঘটনায় গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
বরগুনার পাথরঘাটায় এক যুবককে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে মো. আবুল বাসার সুজন (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের মধ্য লেমুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা সুজনের চোখ উপড়ে ফেলার পাশাপাশি তাঁর ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানা গেছে। নিহত সুজন ওই এলাকার মৃত বজলু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে কালু মিয়াকে (২০) মারধর করেন সুজন। খবর পেয়ে কালুর বড় ভাই রিয়াজ (২৮) ঘটনাস্থলে গেলে সুজন তাঁর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। এ সময় সুজন রিয়াজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁর একটি হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন। গুরুতর আহত রিয়াজকে উদ্ধার করে প্রথমে মঠবাড়িয়া এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।রিয়াজের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকশ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সুজনের বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা সুজনকে গণপিটুনি দেয় এবং একপর্যায়ে তাঁর চোখ উপড়ে ফেলে। এ সময় সুজনের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অশিত বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের লাশ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।”তিনি আরও জানান, পুরো এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এনআই
পরাজিত প্রার্থীর বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ, বরগুনা-২ রাজনীতিতে নজির স্থাপন
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনে দেখা গেল রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর পরাজিত প্রার্থী ডা. সুলতানের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডা. সুলতানের বাসায় গিয়ে তাঁর সাথে কুশল বিনিময় করেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।সাক্ষাৎকালে নুরুল ইসলাম মনি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা দুই ভাই। আমাদের মধ্যে দীর্ঘ ৪০ বছরের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং বাকি জীবনও তা অটুট থাকবে। রাজনীতি করতে গেলে ভোটের মাঠে অনেক সময় অনেক কথা বলতে হয়, তবে সেই অধ্যায় এখন শেষ। দল-মত নির্বিশেষে আমরা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”বিজয়ী প্রার্থীর এমন মহানুভবতায় ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ডা. সুলতান বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের এলাকাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। তবে আমার অনুরোধ থাকবে, পাথরঘাটা ও বামনা এলাকার রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তার দিকে যেন বিশেষ খেয়াল রাখা হয়।”এদিকে, দুই নেতার এই সৌজন্য সাক্ষাতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারনেটে কিছু নেতিবাচক মন্তব্য দেখা গেলেও বরগুনা-২ আসনের স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। সচেতন মহলের মতে, এটি এলাকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ রাজনীতি ও একতার বার্তার প্রতীক হয়ে থাকবে।উল্লেখ্য, পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী—এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসনে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের পর নুরুল ইসলাম মনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।এনআই
বাউফলে অফিস ও বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাট, আহত ৫
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এসব সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।শুক্রবার সকালে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী মো. গিয়াসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস এবং কালাইয়া গ্রামের রমিজ দর্জি (৪০) নামের এক বিএনপি কর্মীর বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত সমর্থিত কর্মীরা এসব হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া কনকদিয়া ও মমিনপুর এলাকায় পৃথক মারামারির ঘটনা ঘটেছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মো. শাহআলম বিপ্লবের (৪৬) প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় যুবদল কর্মী সুজনের নেতৃত্বে একদল যুবক। পরে তারা মো. সেলিম (৫২) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীকেও মারধর করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী মো. গিয়াস উদ্দিনের বাসায় প্রবেশ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এই খবর পেয়ে জামায়াত সমর্থকেরা একত্রিত হয়ে গিয়াসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাম দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও বৈদ্যুতিক মালামাল লুটপাট করে। এ সময় গিয়াসের বাসভবনের সামনে রাখা অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল এবং ফ্রিজ ও এসি ভাঙচুর করা হয়।এদিকে, সকাল ৮টার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বীরপাশা খায়েরবাজার এলাকায় বিএনপির কর্মী আলমগীর গাজী (৫৫) ও শাহাবুদ্দিন সরদারকে (৪৮) পিটিয়ে জখম করে জামায়াত সমর্থকেরা। আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুপুর ১টার দিকে কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে মো. ফিরোজ (৫৫) নামের এক জামায়াত সমর্থককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ফিরোজকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি জায়গায় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”নবনিযুক্ত সংসদ সদস্য ও জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করি না। কোনোভাবেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমার কোনো কর্মী-সমর্থক যদি এ সব ঘটনায় জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এনআই
ঝালকাঠির দুটি আসনেই 'হ্যাঁ' জয়ী
ঝালকাঠির দুটি আসনে গণভোটে ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০২ ভোটের ব্যবধানে 'হ্যাঁ' জয়ী হয়েছে। এখানকার দুটি আসনের ভোটারদের মধ্যে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৮৩ জন এবং 'না' ভোট দিয়েছেন ৮৩ হাজার ৪৮১ জন।ঝালকাঠি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে চূড়ান্ত ফলাফলে এই পরিসংখ্যান ঘোষণা করেন।রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-১ আসনে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট পড়েছে ৯১ হাজার ২৮৬টি এবং 'না' ভোট পড়েছে ২৯ হাজার ৫৯১টি।অপরদিকে, ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনে 'হ্যাঁ' ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৯৭টি এবং 'না' ভোট পড়েছে ৫৩ হাজার ৮৯০টি।এনআই
নান্দাইলে ৩৫ বছর পর বাবার আসনে ছেলের অভিষেক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর ইয়াসের খান চৌধুরী বাবা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর আসন ফিরে পেলেন। ১৯৯১ সালে বাবা এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলেন।ধানের শীষ প্রতীকে ইয়াসের খান চৌধুরী পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত বিডিপির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট। জানা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর একান্ত সচিব ছিলেন সাবেক এমপি আনোয়রুল । এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্যও ছিলেন তিনি।তাঁর ছেলে ইয়াসের খান চৌধুরী একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন ধরে বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লন্ডনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। একপর্যায়ে দেশে ফিরে এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর বাবা ছাড়াও চাচা খুররম খান চৌধুরী ছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকের মধ্যে নিজেকে দলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলেন ইয়াসের খান। মনোনয়ন পেয়েই ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটের মাঠে ভোটারদের মধ্যে প্রচারণা শুরু করেন তিনি।নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল আমি যেন উন্নত ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের জন্য কিছু করতে পারি। কাছ থেকে বাবার মানবিকতার রাজনীতি দেখেছি। দেখেছি সাধারণ মানুষের জন্য তিনি কিভাবে নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। বাবার রেখে যাওয়া এই কর্মকাণ্ডকে এখন আমি বাস্তবায়ন করতে চাই।পিএম
জামালপুরের ৫টি আসনেই ধানের শীষের বড় জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের এম রশিদুজ্জামান (মিল্লাত) ১,৭২,০১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. নাজমুল হক পেয়েছেন ৯৩,৬৬১ ভোট। ৭৮,৪৫০ ভোটের ব্যবধানে এ আসনে জয় পান রশিদুজ্জামান। (নোট: গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী ব্যবধানটি সমন্বয় করা হয়েছে)।জামালপুর-২ (ইসলামপুর): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সুলতান মাহমুদ (বাবু) পেয়েছেন ৯৫,৩৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ছামিউল হক পেয়েছেন ৬১,৬৫৫ ভোট। ৩৩,৭২৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন সুলতান মাহমুদ।জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ): এ আসনে ১৫৪টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের মো. মোস্তাফিজুর রহমান (বাবুল) ২,০৬,২১৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৭৯,৬০৭ ভোট। ১,২৬,৬০৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন তিনি।জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার (শামীম) ১,৪৬,৫৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৪,১৬১ ভোট। এখানে জয়ের ব্যবধান ১,০২,৩৮৫ ভোট।জামালপুর-৫ (সদর): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী (মামুন) পেয়েছেন ১,৯৮,২৯২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাম্মদ আবদুস সাত্তার পেয়েছেন ১,১১,৬৯৫ ভোট। ৮৬,৫৯৭ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন ওয়ারেছ আলী।এনআই
নবনির্বাচিত এমপি ফখরউদ্দিন বাচ্চুর হাতে আনুষ্ঠানিক ফলাফল হস্তান্তর
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল তুলে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিজয়ী প্রার্থীর হাতে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ এবং দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। ফলাফল গ্রহণের পর ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন তাঁর অনুসারীরা। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, “ভালুকাবাসীর আস্থা ও সমর্থনের প্রতিদান আমি দায়িত্বশীলতা ও সততার সঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা করব।” নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি এ সময় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, “নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ফলাফল হস্তান্তর করা হয়েছে।” তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।ফলাফল ঘোষণার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফুলেল সংবর্ধনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের পর ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। আনুষ্ঠানিক ফলাফল হস্তান্তরের মাধ্যমে এই আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটল।এনআই
সরিষাবাড়ীতে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বিপুল ভোটে জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে উপজেলা নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪ হাজার ৯২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৫২৮ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন।আসনের ৮৮টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম পেয়েছেন ১,৪৬,৫৪৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল আওয়াল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৪,১৬১ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।জয়ের প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বলেন, “এ বিজয় সরিষাবাড়ীবাসীর বিজয়। জনগণের ভোটের আমানত রক্ষা করার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”এনআই
নেত্রকোণা-৪: আসন লুৎফুজ্জামান বাবর বড় ব্যবধানে বিজয়ী
নেত্রকোণা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল-হেলাল তালুকদার।বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নেত্রকোণা-৪ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলের হিসেব করে দেখা গেছে, লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আল-হেলাল তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট।আসনটিতে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৯ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ২১৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৩ জন।এসআর
পঞ্চগড়ের দুইটি আসনে জামানত হারিয়েছেন ১১ জন প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়ের দুইটি আসনে মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পাওয়ায় ১১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।পঞ্চগড়-১ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ২৫টি। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য একজন প্রার্থীকে ন্যূনতম ৪৩ হাজার ৭৫৪ ভোট পেতে হতো। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মো. সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন। অন্যদিকে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান মোটরগাড়ি প্রতীকে ৩ হাজার ৯ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো. আব্দুল ওয়াদুদ (বাদশা) একতারা প্রতীকে ১ হাজার ১৮ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ফেরদাউস আলম আনারস প্রতীকে ৬৮৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মো. মাহাফুজার রহমান ট্রাক প্রতীকে ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. সিরাজুল ইসলাম টেলিভিশন প্রতীকে ২৬১ ভোট পান।অপরদিকে পঞ্চগড়-২ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৪৯টি। এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য একজন প্রার্থীকে ন্যূনতম ৩৯ হাজার ৩৯৪ ভোট পেতে হতো। বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. সফিউল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬২ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন। বাকি ছয়জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন সুমন ঘোড়া প্রতীকে ১ হাজার ৮৫৪ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. আশরাফুল আলম কাস্তে প্রতীকে ৯৩৫ ভোট, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের মো. এমরান আল আমিন মোটরগাড়ি প্রতীকে ৯৫৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কামরুল হাসান প্রধান হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ৩৯১ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো. দেলোয়ার হোসেন একতারা প্রতীকে ১ হাজার ৩৫২ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মো. লুৎফর রহমান রিপন লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ১৫২ ভোট পান।এফএস
পঞ্চগড়ে তালাবদ্ধ আ.লীগ কার্যালয় খুলে দিলেন বিএনপি নেতা দাউদ
ভোটে জয়ের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি খুলে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় পক্ষে বিপক্ষে নানা আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান কার্যালয়টি তালামুক্ত করেছেন, যা স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা।একই ভিডিওতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং সেখান থেকে রক্ষার জন্য তিনি আবু দাউদ প্রধানের সহযোগিতা চান। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপন বলেন, দেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে কোনো অপচেষ্টা হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাই এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এ বিষয়ে আবু দাউদ প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তালা দেওয়া ছিল বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। জানতে পেরে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি উদ্যোগ নিয়ে কার্যালয়টি খুলে দেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি দলেই কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি থাকতে পারে, তবে দলীয় ব্যবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনোভাবেই এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, কার্যালয়টি আগে জামায়াতের লোকজন তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। শুক্রবার স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে অফিসটি খোলা হয়েছে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আপাতত মুক্তিযোদ্ধারা কার্যালয়টি ব্যবহার করবেন, এখানে আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম হবে না বলেও জানান তিনি।পরে আবারও আবু দাউদ প্রধান বলেন, এটি তার দলের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।এসআর
রংপুর-২ আসনে তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬১ ভোট।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মাওলানা আশরাফ আলী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৩০ ভোট। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান তারা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ৩১৪ ভোট।১২ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পাওয়ায় তারা জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।উল্লেখ্য, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। এ আসনে মোট ১৩৭ টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এবি
দিনাজপুর-৪ আসনে দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, বড় ব্যবধানে জয় বিএনপির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (খানসামা–চিরিরবন্দর) আসনে দুই প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ‘হাতপাখা’ ও ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থীরা মোট কাস্ট হওয়া ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে বিজয়ী হয়েছেন মো. আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী মো. আফতাব উদ্দিন মোল্লা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে অর্জন করেছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট। ফলে প্রায় ৩৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ধানের শীষের প্রার্থীর।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর-৪ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ২১ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩ লাখ ৬ হাজার ৯৯১ জন ভোটার। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট কাস্ট হওয়া ভোটের অন্তত ১/৮ অংশ অর্জন করতে হয়। সে হিসাবে এ আসনে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩৮ হাজার ৩৭৪টি ভোট।কিন্তু বাকি দুই প্রার্থী সেই নির্ধারিত ভোটসংখ্যা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসাইন ‘হাতপাখা’ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৬৯৯ ভোট। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি–এর প্রার্থী মো. নুরুল আমিন শাহ ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫২ ভোট। ফলে তারা দুজনই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন।এবারের নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ আসনটি ছিল বেশ আলোচনায়। ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির প্রভাবশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত এই আসনে প্রধান লড়াই হয় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। ভোটের শুরু থেকেই দুই দলের নেতাকর্মীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচার-প্রচারণায়ও ছিল ব্যাপক সরব উপস্থিতি। তবে ভোট গণনার পর ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান আরও বাড়ান।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় ফলাফলে বড় ধরনের চমক দেখা যায়নি। বরং পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রধান দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে, আর অন্য দুই প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন।নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, জামানত হারানো প্রার্থীদের জমাকৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। এটি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ ন্যূনতম ভোটসংখ্যা অর্জন করতে না পারলে রাজনৈতিকভাবে যেমন বার্তা যায়, তেমনি আর্থিক ক্ষতিও গুনতে হয়।সব মিলিয়ে দিনাজপুর-৪ আসনে এবারের নির্বাচনে প্রধান লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। অন্য দুই প্রতীকের প্রার্থীরা প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ভোটের ব্যবধানে বড় পার্থক্য তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা জামানত রক্ষা করতে পারেননি।এনআই
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই: এ টি এম আজহারুল ইসলাম
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় জোটের বিজয়ী প্রার্থী জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর গভীর রাতে বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ এলাকার সাধারণ মানুষ দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। এটিএম আজহারুর ইসলাম বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজকে আমি পৃথিবীর মুখ দেখতে পাচ্ছি। এই দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোট দেওয়ার কারণে বিজয় লাভ করেছি। বাড়ির পাশে কবর কোথায় হবে সেটিও প্রশাসনের লোকজন নির্ধারণ করে দিয়েছিল। মহান আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন হয়তো আমার হাত দিয়ে ভালো কিছু করিয়ে নেবেন। আমিও আপনাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ভালো কিছু করতে চাই।আমি ১৪ বছর জেলখানায় থাকার আগে এই এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে মানুষের পাশে থেকে অনেক কাজ করেছি। এখন যেহেতু এমপি নির্বাচিত হয়েছি কাজ করার পরিধি আরো বেড়েছে। সরকারি বরাদ্দের অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।আমি কখনো কোনো পক্ষপাতিত্ব করিনি, ভবিষ্যতেও পক্ষপাতিত্ব করার প্রশ্নই আসে না। আমার কাছে দুই উপজেলার সবাই সমান। তবে আমি যেহেতু কেন্দ্রীয় নেতা সে ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাকে আরো বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। অনেকে এমপি হওয়ার পরে এলাকায় আর সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন না।নিজেকে এবং নিজেদের পরিবার আত্মীয়-স্বজন ছাড়া কাউকে কোন পাত্তা দেন না। আমার ক্ষেত্রে এমনটি কখনো হবে না। আমি জনগণকে কখনো ছেড়ে যাইনি কখনো যাবো ও না। এখন যেভাবে আমাকে পাশে পাচ্ছেন যতদিন বেঁচে আছি এভাবেই আমাকে পাশে পাবেন।নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে অন্য কোনো মানুষের ক্ষতি হয় মানুষ কষ্ট পায়। যেভাবে মানুষ ভালোবেসে আমাদেরকে বিশ্বাস করে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে তাদের সেই আত্মবিশ্বাস রক্ষা করতে হবে। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমান চোখে দেখতে হব।সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের কাছে সবাই সমান। কারণ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আমাদের আচর-আচরণ ও ব্যবহার এবং কাজ কর্ম দেখে মানুষ মূল্যায়ন করবে। তাই নেতাকর্মীদের ভেবেচিন্তে সামনে পা বাড়াতে হবে। ভালো কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি সকলের কাছে দোয়া চান তিনি।উল্লেখ্য এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুর দুই বদরগঞ্জ তারাগঞ্জে ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৮৬২ ভোট। ৫৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন এ টি এম আজহারুল ইসলাম।এনআই
সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ নওগাঁয় জামানত হারাচ্ছেন ২০ জন প্রার্থী
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলীয় ২৭জন এবং স্বতন্ত্র ৫ জনসহ ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তাদের মধ্যে ২০ জন প্রার্থীই জামানত খোয়াতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১২ফেব্রুয়ারি) ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকার প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। এবার, সংসদ সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুকূলে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আট শতাংশ ভোট না পেলে ওই ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।ফলাফল ঘোষণা পর জানা যায়, নওগাঁ-১ আসনের তিন জন, নওগাঁ-২ আসনে এক জন, নওগাঁ-৩ আসনে ছয় জন, নওগাঁ-৪ আসনে চার জন, নওগাঁ-৫ আসনে তিন জন এবং নওগাঁ-৬ আসনে তিন জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।আসনভিত্তিক জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাওয়া প্রার্থীরা:নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮টি ভোট। আর জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৩ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুল হক শাহ্ (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ১৬৬ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ৬৭ হাজার ৫১১টি। কাজেই এই তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।এদিকে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট।নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামুইরহাট) আসনে বিভিন্ন দলের ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে একজন প্রার্থী জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট। এই আসনে ১২৪ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০ টি। ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে তারও।অপরদিকে বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) এই আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে ছয়জন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯টি ভোট। আর বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর কালিপদ সরকার (মই) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৮২৩ ভোট। এই আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ২১ হাজার ৯৬৭টি। কাজেই এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন।এদিকে বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের মাওলানা মাহফুজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট।নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে চারজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এখানে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির ডা: এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৭ ভোট, ইললামী আন্দোলন বাংলদেশ পার্টির সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা: আরফানা বেগম (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ৭১২ ভোট। এই আসনে ১১৭টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮টি। এরা সকলেই জামানত খোয়াতে বসেছেন।অপরদিকে জামায়াতের জেলা আমির আব্দুর রাকিবকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারি টিপু। তিনি (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিব (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট।নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিভিন্ন দলের ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতার করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে জাতীয় পার্টির মো: আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুর রহমান (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১০১ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪১ ভোট। এই আসনে ১১৮টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭টি। এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন।অপরদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট। নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে আসনটিতে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। অপরদিকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৩ ভোট। এই আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৩২ হাজার ৯২৩টি। নিয়ম অনুযায়ী ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা সকলেই জামানত হারাচ্ছেন।এদিকে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খবিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট।জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিব মুঠোফোনে বলেন, এবার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছে। অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেউ যদি তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ৮শতাংশ ভোট না পান, তাহলে তাঁর জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।উল্লেখ্য, জেলার এই ৬টি আসনে ভোটার ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল মোট ২১ জন। জেলার ৭৮২ টি কেন্দ্রে মোট ৭৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন।এসআর
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরে কাজিপুরে বিএনপির বিজয়
সিরাজগঞ্জ-১(কাজিপুর) আসনে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রথম বিজয় পেয়েছে বিএনপি। কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা এ আসনে বিএনপি'র পক্ষে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন। একই সাথে এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম। মাওলানা শাহিনুর আলম মাত্র সাত হাজার ৭৯৮ ভোট কম পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাড়া ফেলতে সক্ষম হন। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও এই সংসদীয় আসনে বিএনপি কখনোই জয়লাভ করতে পারে নাই। এই প্রথম আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে পেরেক ঢুকিয়ে বিএনপি জয় লাভ করার মাধ্যমে বিএনপি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ময়দান পাকাপোক্ত করার সুযোগ পাবেন বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন। অপরদিকে এই আসনে এর আগে একাধিকবার জামায়াত নির্বাচন করলেও জামানত হারাতে হয়েছে তাদের। স্থানীয় ভাবে আরো জানাযায়, এই আসনে সাবেক আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী ক্যাপটেন এম এ মুনসুর আলী, তার ছেলে সাবেক স্থ্যাস্থ মন্ত্রী মো. নাসিম, এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর দৌহিত্র নাসিম পুত্র তানভীর শাকিল জয় এই আসনে একাধিক বার নির্বাচন করে জয় লাভ করেছেন। অর্থাৎ দেশ স্বাধীনের পর এ পর্যন্ত কাজিপুর আসনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর পরিবারের সদস্যরা শাসন করেছে এই আসন। আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে খ্যাত এই আসনে প্রথম বিএনপির সেলিম রেজা জয়লাভ করলেন।এ আসনে বিএনপি'র জয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের শক্তি দুর্বল করে বিএনপি'র সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে সহায়ক হবে বলে বিজয়ী বিএনপি নেতা সেলিম রেজা মন্তব্য করেন। কাজীপুরের এই আসনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর আগে বিএনপি থেকে অন্যান্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও এমপি পদে বিএনপি'র এই প্রথম বিজয় ভবিষ্যৎ বিএনপিকে শক্তিশালী করবে বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন। পিএম
সিরাজগঞ্জের ৬ আসনের ৫টিতে বিএনপি, ১টিতে জামায়াত জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামী জয়লাভ করেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনে বিএনপি জয়ী হয়ে চমক সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, বিএনপির শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনটি এবার জামায়াতের দখলে গিয়েছে।সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের আংশিক): বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা ১,১৬,৬১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর শাহিনুর আলম ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ১,০৮,৮১৫ ভোট। উল্লেখ্য, দেশ স্বাধীনের পর আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচনে এই প্রথম কোনো বিএনপি প্রার্থী এই আসনে বিজয়ী হলেন। এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১,৪৩,৯৩৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৬৬,০৮৫টি।সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ): সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১,৭৭,৫৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১,৩৮,৭৯৭ ভোট। এখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের সংখ্যা যথাক্রমে ২,১২,০৯৫ এবং ৮৬,৫৭৯টি।সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ): ধানের শীষ প্রতীকে ১,৭৪,৪৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির আয়নুল হক। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের মুফতি আব্দুর রউফ সরকার ‘রিকশা’ প্রতীকে পেয়েছেন ১,১৬,৮০২ ভোট।সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া): জেলার একমাত্র আসন হিসেবে এখানে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ১,৬১,৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির এম আকবর আলী পেয়েছেন ১,৬১,২৭৮ ভোট। এই আসনে জয়ের ব্যবধান মাত্র ৫৯৪ ভোট।সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী): বিএনপির আমিরুল ইসলাম খান ১,৩৪,৯৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আলী আলম পেয়েছেন ১,০৬,৮০৫ ভোট।সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর): বিএনপির ড. এম এ মুহিত ১,৭১,৫০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী এস এম সাইফ মোস্তাফিজ ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে পেয়েছেন ১,০৩,৮৮৪ ভোট।নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনেই জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের ভোটের হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।এনআই
নাটোরের চারটি আসনেই বিএনপি বিজয়ী
নাটোরের ৪টি আসনের সবকটিতেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ব্যরিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে আনোয়ারুল ইসলাম আনু, নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে আব্দুল আজিজ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় নাটোরের জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যরিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট। এ ছাড়া, আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (কলস প্রতীক) তাইফুল ইসলাম টিপু পেয়েছেন ৭৩ হাজার ১৭৩ ভোট।নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সবগুলো কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬ ভোট।নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনু। সবগুলো কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা (স্বতন্ত্র) দাউদার মাহমুদ পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৯২ ভোট। ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৭২ জন ভোটারের এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিজয়ের মালা পরলেন আনু।নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৬ ভোট। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-৪ আসনে এবার মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে মূল লড়াই হয়েছে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই।এনআই
পাবনা-৩ আসনে বিজয়ী জামায়াতের আলী আছগার
পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী তরবিয়াত সেক্রেটারি ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক মাওলানা আলী আছগার। অধ্যাপক মাওলানা আলী আছগার দাড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়েছেন। তার কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হাসান জাফির তুহিন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট পেয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিন উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করা হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। সাধারণ ভোটারদের অনেকেই এই ফলাফলকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর উপজেলার মোট ১৭৭টি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া এবং ফরিদপুর উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৪ জন। তিনটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় চাটমোহর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৯ জন এবং মহিলা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪৮ জন। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৯৬৮। পুরুষ ভোটার ৫৪ হাজার ২৮৭ জন ও মহিলা ভোটার ৫৪ হাজার ৬৭৯ জন। এর মধ্যে হিজড়া ভোটার রয়েছে ২ জন। ফরিদপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৭১৯ জন। পুরুষ ভোটার ৫৮ হাজার ৯৮০ জন ও মহিলা ভোটার ৫৮ হাজার ৭৩৫ জন। এর মধ্যে হিজড়া ভোটার রয়েছে ৪ জন।এনআই
সুনামগঞ্জের ৫ টি আসনে সবকয়টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পরাজিত করে সবকয়টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।সুনামগঞ্জ ১ আসনে(তাহিরপুর,জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খান।সুনামগঞ্জ ২ আসনে(দিরাই -শাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।সুনামগঞ্জ ৩ আসনে(শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। নিকটতম রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন।সুনামগঞ্জ ৪(সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নূরুল ইসলাম নূরুল। নিকটতম রয়েছেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রতিকের নিয়ে মো. সামছ উদ্দিন।সুনামগঞ্জ ৫ আসনে(ছাতক দোয়ারা বাজার) বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। নিকটতম রয়েছেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপালার প্রতিক নিয়ে আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। এবি
দিদি-মাসি বলে ভোট চায়, ভোটের পর পাওয়া যায় না
“যখন নির্বাচন আসে তখন প্রার্থীরা আমাদের কাছে এসে দিদি-মাসি বলে ভোট চায়। তারা বলে, তোমাদের মজুরি বৃদ্ধি করে দেব, উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, সন্তানদের পড়ালেখার জন্য স্কুল করে দেব। ভোটের পরে আর তাদের পাওয়া যায় না। তারা আমাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে শুধু।” এভাবেই আপেক্ষ করছিলেন বাহুবলের রশিদপুর চা বাগানের শ্রমিক রীতা রাণী গোয়ালা। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা বাগানের সাবেক শ্রমিক সরদার আমোদ মালের কণ্ঠেও হতাশা। নির্বাচন ও ভোট তাদের কাছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছাড়া কিছুই নয়।আমোদ মাল বলেন, “নির্বাচনে আসলে প্রার্থীরা আসেন, দেন নানা প্রতিশ্রুতি কিন্তু পরে আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না। তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও বাস্তাবায়ন করেন না। আমাদের ভোটে নির্বাচিতদের জীবনে পরিবর্তন আসে। তাদেরকে ভোট দিয়ে আমাদের শিকলবন্দি জীবনে আসে না পরিবর্তন। সন্তানদের অনেক কষ্ট করে স্কুলে যেতে হয়। চা শ্রমিকের সন্তান হওয়ায় চাকরি পাওয়া কঠিন, এসব দেখার যেন কেউ নেই।”ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা আমাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন, তাদের ভোট দেব।”দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত নেতা কার্তিক বাকতির কথায় উঠে এল তারা আর ঠকতে চান না। এবার তারা এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, যিনি তাদের জন্য কাজ করবেন। কার্তিক বাকতির ভাষ্য, ভোট এলে তাদের কাছে ধর্না ধরেন প্রার্থীরা। দাদা-দিদি, মেসো-মাসি ডেকে মন জয় করার চেষ্টা করেন। ভোটে নির্বাচিত হলে তাদের আর খোঁজ নিতে আসেন না। এজন্য এবার তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বুঝে-শুনে ভোট দেবেন। চা শ্রমিকরা জানান, বাগানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা। এ মজুরিতে সংসার চলছে না তাদের। ৫৪ বছরেও নিজেদের জীবনমান উন্নত হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। তারা জানান, নানা সময়ে দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে, পরিবর্তন আসেনি শুধু চা-শ্রমিকদের কষ্টের জীবনে।হবিগঞ্জ জেলায় ছোট ও বড় মিলিয়ে চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ৪১টি। এসব বাগানের বাসিন্দা প্রায় দেড় লাখ। তাদের মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ হাজার শ্রমিক চা পাতা উত্তোলনে জড়িত। বাগানে কাজ না পেয়ে বাকিদের জীবিকার জন্য বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অর্থ উপার্জন করতে হচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারাও এলাকায় ফেরেন। জেলার নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসন। এখানে ভোটার আছেন ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। চুনারুঘাট-মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে ভোটার ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১জন। এই দুই আসনে চা শ্রমিকদের ভোট প্রায় লক্ষাধিক। চা বাগানের শ্রমিকদের ভোট প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “উচুঁ নিচু টিলায় থাকা গাছ থেকে চায়ের সবুজ পাতা সংগ্রহ করেন শ্রমিকরা। এ পাতা ফ্যাক্টরিতে প্রক্রিয়াজাত হয়ে রপ্তানি হয়। দেশি-বিদেশি অর্থ পান বাগান মালিকরা। চা শ্রমিকদের নেই উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা। পদে পদে তারা বাধার মুখে পড়েন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা এগোতে পারছেন না। তাদের জীবনমানের পরিবর্তনে উদ্যোগ নেয় না তেমন কেউ। ভোটের সময় আসলে চা শ্রমিকদের ভোট আদায় করতে প্রার্থীরা নানা ধরনের স্বপ্ন দেখান, দেন প্রতিশ্রুতি। পরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন না কেউ। এনিয়ে চা বাগানের বাসিন্দাদের মনে অনেক কষ্ট। এবার তারা ভোট দিতে হিসাব নিকাশ করছেন।”তিনি বলেন, “দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে চা শিল্প। এই শিল্পকে নিখুঁত হাতের ছোঁয়ায় যুগের পর যুগ টিকিয়ে রেখেছেন চা শ্রমিকেরা। শুধু ভোট নয়, চা-শিল্পের সমৃদ্ধির জন্যও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা জরুরি।”বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার বলেন, “যদি বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে চা শ্রমিকদের জীবনমান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন করা হবে।”হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চা শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করবে।” হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র শেখ সুজাত মিয়া (ঘোড়া), ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা), জাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ (মোটরগাড়ি), ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা (চেয়ার)। হবিগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- বিএনপির সৈয়দ মো. ফয়সল (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের (দেওয়াল ঘড়ি), ইসলামিক ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন (মোমবাতি), বাসদের মো. মুজিবুর রহমান (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল), সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি), মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন (হারিকেন), স্বতন্ত্র মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ও এস এ সাজন (ফুটবল)। এসআর
তাহিরপুরে ধানের শীষের প্রচারে বালিজুড়ী ইউনিয়নের ১১ ইউপি সদস্য
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের ১১ জন ইউপি সদস্য।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ এবং ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তারা। প্রচার কাজে অংশ নেন ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া, ইকবাল হোসেন, যোতিশ পাল, ইসমাইল হোসেন, মো. আলী নেওয়াজ, আজিজ মিয়া, কামাল হোসেন, খলিলুর রহমান, রোহেনা বেগম, মাহমুদা বেগম ও পারুল বেগম।সকালে আনোয়ারপুর বাজারে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বালিজুড়ী বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজার এলাকায় প্রচার কর্মসূচি চালানো হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন তারা।এ সময় ইউপি সদস্যরা ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার কথাও বলেন তারা।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা কর্মসূচি শেষ করেন ইউপি সদস্যরা।ইখা
এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের নুর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রচার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুন নুর। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহ-সম্পাদক।শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বড়লেখার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।এর আগে ওইদিন রাত পর্যন্ত তিনি দলের জেলা নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান এবং ট্রাক প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন।সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজার-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে আব্দুন নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদের একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে তিনি দিন-রাত নির্বাচনি মাঠে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, এলাকার মানুষ পরিবর্তনের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন। এজন্য তিনি ভোটার ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, বড়লেখা ও জুড়ীর ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।আব্দুন নুর জানান, দলের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এ সময় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। আব্দুন নুর বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র দখলের ঘটনায় জড়িত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার নিজ এলাকার ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুন নুর।তিনি বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সে দায়ভার সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। তবে জীবনের পরোয়া না করেই মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি অতীতেও ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান তিনি। এফএস
সুনামগঞ্জে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি)উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা নির্বাচন অফিসার শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মতিন খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা, একই সাথে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।এই কর্মশালায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী আইন, বিধিনিষেধ এবং ভোটগ্রহণের টেকনিক্যাল বিষয় গুলো সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই পর্যায়ক্রমে এই ধরণের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ডাঃ ইলিয়াস মিয়া।পিএম
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
ইরানে নতুন সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক নির্বাসিত রেজা পাহলভির
ইরানের শেষ শাহ শাসনের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি দেশটিতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। এছাড়া ইউরোপেরর বিভিন্ন দেশেও ইরানিদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রেজা পাহলভি জার্মানির মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে গেছেন। সেখান থেকে তিনি ইরানিদের বলেছেন, কাল শনিবার যেন তারা সবাই আবার আন্দোলনে নামেন।যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা রেজ ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর আর কখনো ইরানে ফেরেননি।গত মাসে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। যা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে দমন করে দেশটির সরকার।যেহেতু নিরাপত্তাবাহিনীর গুলি ছোড়ার শঙ্কা আছে, তাই তিনি সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়ি ও ছাদ থেকে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে তিনি লিখেছেন, “এই চেতনাকে ধারণ করে, আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি—আগামী ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় আপনারা আপনাদের ঘর এবং বাড়ির ছাদ থেকে আওয়াজ তুলুন। আপনাদের দাবিগুলো উচ্চকণ্ঠে জানিয়ে দিন। আপনাদের ঐক্যের শক্তি প্রদর্শন করুন। এক অদম্য সংকল্প নিয়ে আমরা এই দখলদার শাসকের বিরুদ্ধে জয়ী হবই।”সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েলএবি
ন্যাটো ৩.০: নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চায় ইউরোপ, কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটো। সংগঠনটির পুনর্বিন্যাস এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ন্যাটো-৩.০ দরকার যার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে ধাপে ধাপে ন্যাটোর নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চায় ইউরোপীয় দেশগুলো।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে এসব বিষয়ে একমত হয়েছে ইউরোপীয় মন্ত্রীরা।বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ন্যাটো-কে টিকে থাকার জন্য এটি আরও ইউরোপীয় হতে হবে।’প্রয়োজন যাতে বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত ও পরাজিত করা যায় তাই ইউরোপকে মূল শক্তি হিসেবে আবির্ভাব হতে হবে। সভায় ইউরোপীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে শুরু করেছে।এ সভায় মার্কিন প্রতিনিধি এলড্রিজ কলবিও উপস্থিত ছিলেন এবং সম্মিলিত আহ্বানে সহমত জানিয়েছি যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ দৃষ্টিভঙ্গিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেয়ার পিছনে কারণগুলো এখনও অস্পষ্ট।যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ উপ-সচিব এলড্রিজ কলবি বলেন, ‘ইউরোপীয় মিত্রদেরকে ইউরোপের প্রথাগত প্রতিরক্ষা মূলত নিজেকেই নেওয়ার জন্য ন্যাটো-৩.০ দরকার।’নাটো সাধারণ সম্পাদক মার্ক রুটে বলেন, ‘আজ আমরা মানসিকতার একটি বাস্তব পরিবর্তন দেখেছি। নাটোর মধ্যে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।’মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করায় ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ডের প্রশংসা করেছেন মার্ক রুটে।জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, এখন সময় এসেছে ইউরোপীয়দের ধাপে ধাপে আরও দায়িত্ব নেবার। এটি স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক।’ফরাসি মন্ত্রী ক্যাথরিন ভট্রিন বলেন, ‘ইউরোপীয়রা ন্যাটোর ইউরোপীয় স্তম্ভকে শক্তিশালী করতে দায়িত্ব নিচ্ছে।’এতদিন ইউরোপীয় কনভেনশনাল ডিটারেন্স (প্রচলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা) এর মূল দায়িত্ব পালন করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো ধাপে ধাপে সংগঠনটির নেতৃত্ব গ্রহণ করছে এবং এর প্রেক্ষিতে কিছু পুনর্বিন্যাস এরই মধ্যে করা হয়েছে।বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ন্যাটোর তিনটি যৌথ ফোর্স কমান্ড ইউরোপীয়দের হাতে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুপ্রিম এলাইড কমান্ডার হিসবে একজন মার্কিনিকে রাখা হবে।সূত্র: ইউরো নিউজএবি
মাদাগাস্কারে ‘গেজানি’র তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ৩৮ জনে পৌঁছেছে
এই সপ্তাহের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় গেজানি মাদাগাস্কারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে আঘাত হানে। এতে প্রায় ৪০ জন নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। এদিকে ঝড়টি এবার মোজাম্বিকে আঘাত হানার আশঙ্কায় দেশটি প্রস্তুতি নিচ্ছে।দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব হালনাগাদ করে বৃহস্পতিবার মাদাগাস্কারের জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর (বিএনজিআরসি) জানায়, এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আরো ছয়জন নিখোঁজ এবং অন্তত ৩৭৪ জন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরের দ্বীপদেশ মাদাগাস্কারের পূর্ব উপকূলীয় শহর তোয়ামাসিনায় গেজানি আঘাত হানে। তখন বাতাসের গতি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার (১৫৫ মাইল) পর্যন্ত পৌঁছায়। দেশটির নতুন নেতা কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি তোয়ামাসিনা ও আশপাশের এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ ধ্বংস করে দিয়েছে।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের শহরটিতে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ ছড়িয়ে আছে এবং অনেক বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। বাসিন্দারা ভাঙা কাঠ, টিন ও ধ্বংসস্তূপের স্তূপ সরিয়ে অস্থায়ী ঘরবাড়ি মেরামতের চেষ্টা করছেন।বিএনজিআরসি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে ১৮ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং অন্তত ৫০ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা প্লাবিত হয়েছে।কর্তৃপক্ষ বলছে, অনেক মৃত্যু ঘটেছে ভবন ধসে পড়ায়, কারণ অনেক বাড়িই শক্তিশালী ঝড় মোকাবেলার উপযোগী নয়। তোয়ামাসিনাকে রাজধানী আন্তানানারিভোর সঙ্গে যুক্ত প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, ফলে ত্রাণবাহী যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। টেলিযোগাযোগব্যবস্থাও অস্থির হয়ে পড়েছে।দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তোয়ামাসিনার আশপাশের আতসিনানানা অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চলছে।ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার (৬০০ মাইল) দূরে অবস্থিত তাদের রিইউনিয়ন দ্বীপ থেকে খাদ্য সহায়তা ও উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে।জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, হাজার হাজার মানুষ ঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা পরিস্থিতিকে ব্যাপক ধ্বংস ও বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি জানায়, উপগ্রহ যুগে এই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি হতে পারে গেজানি। ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় জেরাল্ডার সঙ্গে এর তুলনা করা হচ্ছে। ওই ঝড়ে অন্তত ২০০ জন নিহত হয় এবং পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।স্থলভাগে আঘাত হানার পর গেজানির শক্তি কিছুটা কমে গেলেও বুধবার রাত পর্যন্ত এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় হিসেবে দ্বীপজুড়ে প্রভাব ফেলেছে। লা রিইউনিয়নের আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, মোজাম্বিক চ্যানেলে পৌঁছালে এটি আবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং শুক্রবার সন্ধ্যার পর দক্ষিণ মোজাম্বিকে আঘাত হানতে পারে।বৃহস্পতিবার মোজাম্বিক কর্তৃপক্ষ ঝড় নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, ঘণ্টায় প্রবল বাতাস ও ১০ মিটার উঁচু ঢেউসহ উত্তাল সাগরের সৃষ্টি হতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বসবাসকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছে। মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক— দুই দেশই ভারত মহাসাগর থেকে আসা শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকিতে থাকে। গত মাসেই মাদাগাস্কারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ফিটিয়া নামের আরেকটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে, এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়।এদিকে মৌসুমি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে মোজাম্বিকে ইতিমধ্যেই ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।সূত্র : আলজাজিরাএবি
অবশেষে জন্মসনদ পেল দেশের যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া ‘পরিচয়হীন’ শিশুরা
বাংলাদেশের দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া শিশুরা দশকের পর দশক ধরে ছিল পরিচয়বিহীন। মা যৌনকর্মী এবং বাবার পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ায় আইনি মারপ্যাঁচে তাদের জন্মনিবন্ধনের কোনো সুযোগ ছিল না। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথমবারের মতো এই পল্লির ৪০০ শিশুর সবাই এখন জন্মনিবন্ধন সনদ পেয়েছে।যৌনপল্লি বা পথে জন্ম নেওয়া পরিচয়হীন শিশুদের অধিকার আদায়ে কয়েক দশক ধরে কাজ করা কর্মীদের প্রচেষ্টায় এই মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। এই সনদের মাধ্যমে এখন থেকে অন্য সাধারণ নাগরিকদের মতোই শিক্ষা, পাসপোর্ট এবং ভোটাধিকারের মতো মৌলিক অধিকারগুলো ভোগ করতে পারবে এই শিশুরা।এতদিন বাবার নাম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিতে না পারায় সরকারি কর্মকর্তারা এই শিশুদের জন্মসনদ দিতে অস্বীকৃতি জানাতেন। ফলে এক অনিশ্চিত জীবনের মধ্য দিয়ে যেতে হতো তাদের।লন্ডনভিত্তিক সংস্থা 'ফ্রিডম ফান্ড'-এর বাংলাদেশ প্রোগ্রাম ম্যানেজার খালেদা আক্তার বলেন, 'আগে তারা নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল—সমাজে তাদের 'ভিন্ন জগতের বাসিন্দা' হিসেবে গণ্য করা হতো।' তিনি আরও যোগ করেন, 'এই সংস্কার তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে, তাদের নিরাপদ করেছে এবং মনে আশা জাগিয়েছে।'ফ্রিডম ফান্ড এবং স্থানীয় কিছু সংগঠনের প্রচেষ্টায় দৌলতদিয়াসহ অন্যান্য যৌনপল্লির অনিবন্ধিত ৭০০-এরও বেশি শিশু এখন নিবন্ধিত হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে আইনের একটি উপেক্ষিত ধারার মাধ্যমে। ২০১৮ সাল থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে বলা হয়েছে, বাবা-মায়ের তথ্য ছাড়াও শিশুর জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব।খালেদা আক্তার বলেন, 'আইনের এই বিষয়টি মাত্র দুই-তিন লাইনের ছিল এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা ছিল না। ফলে সরকারি কর্মকর্তারা সাধারণত প্রচলিত নিয়মগুলোই অনুসরণ করতেন এবং এই ধারাটি অব্যবহৃত থেকে যেত। আমি যখন এটি জানতে পারি, তখন ব্যাপকভাবে এই তথ্য প্রচার শুরু করি।'নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে মিলে তারা যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সরকারের কাছে জমা দেন। একই সাথে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আইনের এই ধারাটির গুরুত্ব বোঝাতে লবিং চালিয়ে যান।এই প্রচারণা এতটাই সফল হয়েছে যে, এখন আর আলাদা করে প্রচারণার প্রয়োজন পড়ছে না। মায়েরা নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে একে অন্যকে তাদের সন্তানদের নিবন্ধিত করতে উৎসাহিত করছেন। তারা বুঝতে পারছেন যে, জন্মসনদ না থাকলে স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ধাপে তাদের সন্তানরা বাধার সম্মুখীন হবে।বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বানিশান্তা যৌনপল্লি নিয়ে একটি গবেষণার সহ-লেখক সাব্বির হোসেন জানান, আগে সন্তানদের শিক্ষিত করতে বাবা-মায়েরা বিকল্প পথ খুঁজতেন। কেউ তাদের মাদরাসায় পাঠাতেন, আবার কেউ পরিচিত পুরুষদের বাবার পরিচয় দিতে অনুরোধ করতেন।খালেদা আক্তার জানান, জন্মসনদ না থাকা শিশুদের কেবল সুযোগ থেকেই বঞ্চিত করে না, বরং তাদের পাচারের ঝুঁকিতেও ফেলে দেয়। গত দুই দশক ধরে তিনি বাংলাদেশের যৌনপল্লিগুলো থেকে অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে জোরপূর্বক যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া থেকে উদ্ধার করেছেন। জন্মসনদ ছাড়া কোনো মেয়ের বয়স যে ১৮ বছরের কম, তা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।২০২৪ সালে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যৌনপল্লিগুলোতে ফ্রিডম ফান্ডের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক যৌনকর্মী এমন পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন যার সাথে তারা একমত ছিলেন না। এছাড়া তাদের মধ্যে ২১ শতাংশেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে।খালেদা আক্তার বলেন, 'আপনার যদি জন্মসনদ না থাকে, তবে আপনি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কাছে অদৃশ্য। আপনি নির্যাতন, পাচার এবং শোষণের শিকারে পরিণত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এই নথিগুলো কেবল কাগজ নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই।'জন্মসনদ যে একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে—তার বাস্তব চিত্রও দেখেছেন খালেদা আখতার। তিনি যৌনপল্লিতে বাস করা একটি পরিবারের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। খালেদা বলেন, 'মেয়েটি আমাকে জানিয়েছিল, সে এখন স্কুলে যাওয়ার জন্য উপবৃত্তি পাবে। মেয়েটি হাসছিল এবং আমি তার চোখেমুখে আনন্দ দেখতে পাচ্ছিলাম। সে আমাকে বলছিল— সরকার অবশেষে আমার পরিচয় স্বীকৃতি দিয়েছে। শৈশবে সে যে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, এখন সে অনুভব করছে যে অবশেষে সে নিরাপত্তা পেয়েছে।সুত্র: দ্য গার্ডিয়ানএবি
নিখোঁজের ১৯ বছর পর হদিশ মিলেছে শিশু মেডেলিনের
ইউরোপের দেশ পর্তুগালে পরিবারের সঙ্গে অবকাশ যাপনে গিয়েছিলেন তিন বছরের শিশু মেডেলিন ম্যাককেন। ওই ভ্রমণেই পর্তুগাল থেকে নিখোঁজ হয় মেডেলিন। নিখোঁজের প্রায় দুই দশক পর আবারও সামনে এসেছে মেডেলিনের নাম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নির্দেশে প্রকাশিত এপেস্টেইন মামলার সঙ্গে মেডেলিনের নাম আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিজেলেইন ম্যাক্সওয়েল -এর অপরাধ সংক্রান্ত ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশিত হয়েছে। সেই নথির মধ্যে একটি পৃথক সাক্ষ্য বিবৃতিতে মেডেলিনের নাম উল্লেখ রয়েছে।২০০৭ সালের ৩ মে পর্তুগালের আলগারভ অঞ্চলের প্রাইয়া দা লুজে অবস্থিত একটি রিসোর্ট থেকে নিখোঁজ হয় মেডেলিন ম্যাকক্যান। মেডেলিনের বাবা-মায়ের নাম কেট ও জেরি ম্যাকক্যান। ওই রাতে মেডেলিনকে ঘুমে রেখে রিসোর্টের নিকটস্থ একটি রেস্তোরাঁয় ডিনার করতে গিয়েছিলেন কেট ও জেরি। ডিনার শেষে রিসোর্টে ফিরলেও মেডেলিনকে আর ফিরে পাননি ওই দম্পতি।নিখোঁজের পর সীমান্ত ও বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়, ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। তবে মেডেলিনের সন্ধান মেলেনি। এটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত শিশু নিখোঁজের মামলায় পরিণত হয়।২০০৯ সালের তারিখযুক্ত ওই বিবৃতিতে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি সড়কে এক নারী ও এক ছোট মেয়েকে দেখেছিলেন। শিশুটিকে তার কাছে মেডেলিনের মতো মনে হয়েছে। তার বর্ণনা অনুযায়ী, মেয়েটির ডান চোখে মেডেলিনের মত ‘কোলাবোমা’ নামের দাগ ছিল।সাক্ষী আরও দাবি করেন, সঙ্গে থাকা নারীকে দেখতে গিজেলাইনের মনে হয়েছিল। তবে তিনি সে সময় বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরে অনলাইন ওয়েবসাইটে এপেস্টেইনের যৌন অপরাধের কর্মকাণ্ড দেখার পর এ বিষয়ে পুলিশে রিপোর্ট করেন।২০০৯ সালেই মেডেলিনের পরিবার কর্তৃক নিযুক্ত বেসরকারি তদন্তকারীরা একটি ই-ফিট (কম্পিউটারভিত্তিক স্কেচ) প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ সে সময় জানিয়েছিল, স্পেনের বার্সেলোনায় এক নারীকে দেখা গিয়েছিল যাকে ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম সদৃশ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে সেই স্কেচ আবার ছড়িয়ে পড়েছে এবং ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।বর্তমানে প্রকাশিত এপেস্টেইনের অপরাধ নথিতে মেডেলিনের নাম উল্লেখ থাকলেও কর্তৃপক্ষ বলছে— এটি অত্যন্ত পুরোনো, যাচাইবিহীন সাক্ষ্য এবং মামলার অগ্রগতির জন্য তা নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নয়।এবি
মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে থাকা রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ রণতরী ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে গিয়েছিল।ইরানে হামলা চালানো হবে নাকি হবে না, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে বলা হলো।মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এরসঙ্গে থাকা বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর অবস্থান করছে। এরমধ্যেই সর্ববৃহৎ রণতরীটি সেখানে যাচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত কয়েকদিন ধরে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। মার্কিনিরা ইরানের কাছে দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়াও ব্যালিস্টিক কর্মসূচিতেও ছাড় দিতে হবে। এছাড়া হুথি ও হিজবুল্লাহর মতো প্রক্সি বাহিনীকে সহায়তা দিতে পারবে না।কিন্তু ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে কোনো আলোচনাই করবে না।নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, চুক্তি করতে ইরানকে চাপে ফেলতেই তারা নতুন করে আরেকটি রণতরী নিয়ে এসেছে।সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েলএবি
বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যা বলছে বৈশ্বিক গণমাধ্যম
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি, তবে বেসরকারি ফলাফল বলছে যে সদ্য শেষ হওয়া ভোটে ২ শতাধিক আসনের জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম নির্বাচন হলো বাংলাদেশে। দেশের ছোট-বড় ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি।সরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি; তবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া বেসরকারি ফলাফল ইতোমধ্যেই প্রকাশিত। সেই ফলাফলকে ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি বাংলাদেশে বিশাল জয়ের দিকে এগিয়ে, স্বীকার করল জামায়াত’।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ঢাকায় ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)।”ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন : ভোট গণনা চলছে, জনমত তারেক রহমানের নেতৃত্বের পক্ষে’।ভারতের জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু তাদের শিরোনামে বলেছে, “২০ বছর পর বিএনপিকে জয়ের পথে নেৃতত্ব দিলেন তারেক রহমান।’পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ চ্যানেল জিও নিউজ তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতল বিএনপি।’ আরেক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘বিএনপির বিজয়ের পর (নতুন সরকারের অধীনে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় পাকিস্তান।’পাকিস্তানের জাতীয় দৈনি ডন তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘নির্বাচনে বড় বিজয় পেল বিএনপি, স্থিতিশীলতা রক্ষর প্রতিশ্রুতি’।ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়কে তাদের ওয়েবসাইটে প্রধান সংবাদ (লিড নিউজ) করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সেই প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘জেন-জি উত্থানের পর প্রথম নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি।’বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলকে নিজেদের লিড নিউজ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সও। সেই প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির জয়, প্রাক্তন শাসকদের পুত্র প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।’যুক্তরাজ্যের জাতীয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানও নিজেদের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলকে প্রধান সংবাদ করেছে। সেই সংবাদের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘হাসিনাকে ছুড়ে ফেলার পর প্রথম নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেলো বিএনপি।’মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘জেন-জি উত্থানের পর প্রথম নির্বাচনে বড় জয় পেলো বিএনপি।’কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘নির্বাচনে বিজয় দাবি করছে বিএনপি, জামায়াত ভোট গণনায় সন্তুষ্ট নয়।’এবি
মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট : দেলসি
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের পদে আছেন। তার অনুপস্থিতির কারণে ভেনেজুয়েলার সরকারব্যবস্থায় সাংবিধানিক কোনো বড় রূপান্তর ঘটেনি।ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, মাদুরোকে অপহরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চুক্তি হয়েছে ভেনেজুয়েলার, কিন্তু দেশ চলছে সংবিধান মেনেই।বিবিসিকে দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, “আমি আপনাদের বলতে পারি যে নিকোলাস মাদুরোই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। আমি আপনাদের এ কথা বলছি একজন আইনজীবী হিসেবে, কারণ আমি নিজে একজন আইনজীবী। প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং ফ্রার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস— উভয়েই নিরপরাধ। আমি যে এখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, তা সাংবিধানিক বিধি মেনেই করছি।”ভেনেজুয়েলা তেল সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ। এ মূহূর্তে বিশ্বে যত ভূগর্ভস্থ তেল রয়েছে তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে। ভেনেজুয়েলায় কয়েকটি স্বর্ণের খনি আছে এবং সেগুলোতে স্বর্ণের মজুতের পরিমাণও অনেক।তবে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সঙ্গে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক খুবই খারাপ। ২০১৬ সালে যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেনের সময়েও এই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।গত ৩ জানুয়ারি গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউিইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মার্কিন আদালতে সেই অভিযোগের বিচারের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে মাদুরো এবং সিলিয়া নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারি বন্দি আছেন।মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন— ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের তদারক এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র করবে। তিনি আরও বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনার জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ।বিবিসিকে দেলসি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমঝোতা আমাদের হয়েছে, কিন্তু ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এখনও আমরা বিকিয়ে দিইনি। ভেনেজুয়েলা চলছে ভেনেজুয়লার সংবিধান অনুসারে।”ভেনেজুয়েলার ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনীতিবিদ এবং ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো-কে নিয়েও বিবিসির সঙ্গে কথা হয়েছে দেলসির। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মাচাদো।বিবিসিকে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “যদি তিনি দেশে ফিরে আসেন, তাহলে অবশ্যই তাকে ভেনেজুয়েলার জনগণের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রথমত, কেন তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক আগ্রাসন চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয়ত, কেন তিনি ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তৃতীয়ত, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যখন অপহরণ করা হলো— কেন তিনি তা উদযাপন করলেন এবং সমাজ মাধ্যমে সেই উদযাপনের ছবি প্রকাশ করলেন?”সূত্র আনাদোলু এজেন্সিএবি
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে তারেক রহমান: রয়টার্স
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে লন্ডনে প্রায় ২ দশক স্বেচ্ছানির্বাসনের ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখান থেকে দেশে ফিরে মাত্র দেড় মাসের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি। একসময় যার ওপর দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর দমন-পীড়ন নেমে এসেছিল, সেই নরম স্বভাবের ৬০ বছর বয়সী নেতা এখন দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।এদিকে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়ের পথে এগিয়ে চলেছেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জোট সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশি গণমাধ্যম। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনিই হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার ও কারাবন্দি অবস্থায় অমানবিক নির্যাতনের পর চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে দেশ ছাড়েন তারেক। প্রায় ১৬ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ফেরেন।ফেরার দিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর ভিড়, ঢাকায় বিজয়ী প্রত্যাবর্তনের আবেগ- সব মিলিয়ে এক নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সময়ের স্রোত এত দ্রুত বয়ে গেছে যে, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও যেন সময় পাননি তিনি। গত শনিবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, যেদিন থেকে দেশে নেমেছি, সময় কীভাবে কাটছে বুঝতেই পারছি না।তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বংশ পরম্পরার একটি প্রতীকী নাম। তার মা বেগম খালেদা জিয়া, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের বিএনপি প্রধান, যিনি গত ৩০ ডিসেম্বর দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচদিনের মাথায় মাকে হারান তারেক রহমান।তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ১৯৭৭-১৯৮১ মেয়াদের রাষ্ট্রপতি। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার মৃত্যু দেশকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। তিন বছর পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হাতে হাত মিলিয়েছিলেন। পরে দুই নেত্রীর বৈরিতা বাড়তে বাড়তে ‘ব্যাটলিং বেগমস’ আখ্যা পায়।বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি পেয়েছে ২০০টির বেশি আসন, যা দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিজয়গুলোর একটি। ২০০১ সালে তারা পেয়েছিল ১৯৩টি আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অবশ্য আওয়ামী লীগ ২৩০টির বেশি আসন জিতেছিল। তারপর আওয়ামী লীগের অধীনে হওয়া তিনটি নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।এদিকে, গণঅভ্যুত্থানের তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলতে গেলে একপ্রকার ব্যর্থই হয়েছে। ১১ দলীয় জোট থেকে নির্ধারিত ৩০টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে মাত্র ছয়টি।রাস্তায় বিপুল উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ভোটে তা রূপ দিতে পারেনি দলটি। নির্বাচনের আগেই জরিপে এমন ইঙ্গিত ছিল। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আপস করে এনসিপির জোট গঠনের বিষয়টি অনেক তরুণ সমর্থকের কাছে দলের আদর্শবিরোধী হিসেবে ধরা পড়েছে।গণভোটেও জয়ের ইঙ্গিতজাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি সাংবিধানিক গণভোট। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, বিভিন্ন জরিপ ও স্থানীয় টিভির তথ্য অনুযায়ী- হ্যাঁ ভোট ২০ লাখের বেশি আর না ভোট ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি।গণভোটের যেসব প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য- নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ, নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও দৃঢ় করা, প্রধানমন্ত্রীদের জন্য দুই মেয়াদে ১০ বছর সীমাবিএনপির নীরব উদযাপন, শুক্রবার বিশেষ দোয়ার ডাকনির্বাচনে বিপুল জয়ের পরও বিএনপি কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা না করার নির্দেশ দিয়েছে। দলের বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় সত্ত্বেও কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে না। বরং দেশের কল্যাণে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।সামনে কোন পথে তারেক রহমান?তারেক রহমান এখনো নিজেকে ‘রাজনৈতিক বংশধর’ হিসেবে নয়, বরং ‘গণতন্ত্র পুনর্গঠনের নেতৃত্ব’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ কেবল গণতন্ত্র চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব। পররাষ্ট্রনীতির পুনর্বিন্যাস, বিনিয়োগ বাড়ানো, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বৃদ্ধি ও নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা- সব মিলিয়ে তিনি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছেন।এদিকে, তারেক রহমানের আকস্মিক উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নও তুলেছে। তরুণদের নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের ঢেউ এসেছিল, তা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়নি। আবার, দুই দলের আধিপত্যের পরিচিত কাঠামোয় বিএনপির এই বিজয় অনেকের কাছে প্রত্যাবর্তন বলেই ধরা পড়ছে।আবার গণভোটের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার প্রতি জনসমর্থনও স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ২০২৪-২০২৫ সালের এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে আঁকতে পারে।এইচএ
কানাডা ইস্যুতে এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিলেন ৬ রিপাবলিকান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ছয়জন রিপাবলিকান সদস্য। কানাডার ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিলের পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন ওই ছয় রিপাবলিকান।দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের কেন্দ্রীয় নীতি হিসেবে বিবেচিত শুল্ক আরোপ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এমন অবস্থান রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরে বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।শুল্ক বাতিলের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকানরা হলেন—থমাস ম্যাসি, ডন বেকন, কেভিন কাইলি, জেফ হার্ড, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক ও ড্যান নিউহাউস। ভোটের পক্ষে থাকা সদস্যরা বলেন, শুল্ক আরোপে তাদের অঙ্গরাজ্যের কৃষক ও উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।তাদের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, কোনো রিপাবলিকান যদি শুল্কের বিরুদ্ধে ভোট দেয় তবে নির্বাচনের সময় তাকে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। এমনকি প্রাইমারি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হতে পারে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।স্পিকার মাইক জনসন দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নন এবং প্রয়োজনে তিনি ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না থাকায় ভেটো অতিক্রম করা সম্ভব নয়।এর আগে সিনেটেও অনুরূপ একটি প্রস্তাব সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে তা কার্যকর হতে গেলে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন।ডন বেকন বলেন, আমরা কেবল রাবার স্ট্যাম্প নই। শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের হওয়া উচিত হোয়াইট হাউসের নয়।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখনো রিপাবলিকান দলে শক্ত অবস্থান ধরে রাখলেও এই ভোট তার বাণিজ্য নীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামনে মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক নিয়েও আরও ভোট হতে পারে।এবি
বিনোদন
সব দেখুন
ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরেই মারা গেলেন অভিনেতা তিনু করিম
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তিনু করিম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অভিনেতা আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে নিজ গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী হুমায়রা নওশিন। অভিনেতার ১১ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন আগেই স্ত্রী-সন্তানসহ বরিশালের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনু করিম। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। হঠাৎ দুপুরের দিকে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাকেই তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে নতুন করে জীবনে ফিরেছিলেন এই অভিনেতা। গত বছরের নভেম্বর মাসে বরিশালে অবস্থানকালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় এনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ৪০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আইসিইউ ও লাইফ সাপোর্টে কাটাতে হয়েছে অনেকটা সময়। চিকিৎসকেরা যখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখনই আশ্চর্যজনকভাবে সাড়া দেন তিনু করিম। পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে জানুয়ারির শুরুতে বাসায় ফেরেন। কিন্তু সুস্থতার সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলো না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবারও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন তিনি।অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলেন, তিনু করিম পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বরিশাল গেল। তার গলায় দীর্ঘদিন নল দেয়ার কারণে কথা বলতে একটু সমস্যা হতো। এছাড়া সে সুস্থ ছিল। আজকে সকালে সে ভোট দিয়ে এসেছে। এর পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার স্ত্রী জানালো সে ভোট দিয়ে এসে অসুস্থ অনুভব করে, এরপর তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনু করিম। ২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক ঘটে তার। এরপর একে একে অভিনয় করেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও বিজ্ঞাপনে। ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায়ও কাজ করেন। ‘রাত জাগা ফুল’, ‘আলতা বানু’সহ নানা নাটকে তার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একটি মুঠোফোন অপারেটরের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। তার অকাল প্রয়াণে সহকর্মী ও ভক্তদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁর স্মৃতিচারণ করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এইচএ
বান্দার কঠিন সময়গুলোতে শুধু আমাদের রব থাকবেন: সালমা
ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা। ৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন তার দ্বিতীয় স্বামী আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরে। বিচ্ছেদের এই ধকল সামলাতে গিয়ে তীব্র একাকিত্বে ভুগছেন ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ খ্যাত এই তারকা। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি জানালেন নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থার কথা।বিচ্ছেদের যন্ত্রণার মাঝেও সৃষ্টিকর্তার ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখেছেন সালমা। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “মাঝে মাঝে আল্লাহ তায়ালা আমাদের একা করে দেন, পুরোপুরি একা। ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা বুঝি এই দুনিয়ায় আমরা যাদের বাঁচাতে চেয়েছি, যাদের আপন ভেবেছি, নিজের থেকেও যাদের ওপর বেশি ভরসা করেছি, তারা কেউই পুরোপুরি আমাদের নয়। কেউ না।”জীবনের এই দুঃসময়ে তিনি নবী-রাসুলদের পরীক্ষার উদাহরণ টেনেছেন। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে সালমা লিখেছেন, “ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য গভীর সমুদ্রে মাছের পেটে যেমন কেউ ছিল না, বিবি হাজেরার জন্য জনশূন্য মরুভূমিতে যখন কেউ ছিল না, নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া শিশু মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশেও কেউ ছিল না। সর্বদা মনে রাখবেন, বান্দার কঠিন সময়গুলোতে শুধু আমাদের রব ছিলেন, তিনি আছেন এবং শেষ পর্যন্ত শুধু তিনিই থাকবেন।”প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের শেষদিনে পারিবারিকভাবে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সালমা। পরের বছর জানুয়ারিতে ধুমধাম করে স্বামীকে গণমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সাত বছরের মাথায় এসে সেই সংসারও টিকল না। এর আগে ২০১১ সালে দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন সালমা। তাদের সংসারে স্নেহা নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৬ সালে বনিবনা না হওয়ায় সেই সংসারেরও ইতি ঘটেছিল।এইচএ
সৌদি বিমানবন্দরে পূর্ণিমাকে দেখে তরুণের কাণ্ড
ওমরাহ পালন করতে কিছুদিন আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখানের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। গতকাল একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।ভিডিওটিতে দেখা যায়, সৌদিতে অবস্থানকালে বিমানবন্দরে এক যুবকের মুখোমুখি হন পূর্ণিমা।সেখানে কথা বলার এক পর্যায়ে ওই যুবক পূর্ণিমাকে উদ্দেশ্য করে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘চেহারা দেখে তো একদম পূর্ণিমা আপুর মতো লাগছে।’ সরাসরি নিজের প্রশংসা শুনে স্বভাবসুলভ হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানান এই অভিনেত্রী। মজার ছলে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমাকেও সবাই বলে, আমার চেহারা নাকি দেখতে পূর্ণিমার মতো লাগে।’তাদের এই কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আসার পর থেকেই অনুরাগী ও সাধারণ নেটিজেনরা বেশ উপভোগ করছেন।মন্তব্যের ঘরে কেউ কেউ বলছেন, চিরযৌবনা এই নায়িকার চেহারার উজ্জ্বলতা যেন সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে। ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখান থেকে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকাই সিনেমার অন্যতম এই শীর্ষ নায়িকা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন।বর্তমানে সিনেমার কাজ কমিয়ে দিলেও বিশেষ বিশেষ কাজ ও অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়।এইচএ
৫২ বছরে রানওয়েতে রাজকীয় গ্ল্যামার দেখালেন কারিশমা কাপুর
৯০ দশকের পর্দা কাঁপানো গ্ল্যামার কুইন কারিশমা কাপুর। সময় বদলেছে, ফ্যাশনের সংজ্ঞা বদলেছে,তবু তার স্টাইল সেন্স চিরসবুজ। ক্লাসিক শাড়ির আভিজাত্য হোক বা এলিগ্যান্ট কুর্তা সেটের সৌন্দর্য, প্রতিটি লুকে তিনি রয়ে যান মার্জিত ও আত্মবিশ্বাসী।৫২-এ পা রেখেও ফ্যাশনের ক্ষেত্রে তার কোনও আপস নেই। বরং বয়স যেন তাকে দিয়েছে আরও পরিপক্কতা। তার উপস্থিতিতেই তিনি আলাদা করে নজর কাড়েন। দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন তার মোহময় ব্যক্তিত্ব,ভঙ্গি এবং অনবদ্য স্টাইল দিয়ে।সম্প্রতি দুবাইয়ের শো-স্টাপার হিসেবে হাজির হয়ে কারিশমা যেন অন্য যুগে নিয়ে গেলেন দর্শকদের। ঝলমলে নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত রাজকীয়তায় মোড়া একটি উপস্থিতি-যেখানে আভিজাত্যই ছিল মূল আকর্ষণ। রানওয়েতে পা রাখতেই মনে হলো যেন ব্রিজারটনের রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এসেছেন।পীচ রঙের ফিটেড, মেঝে ছোঁয়া গাউন হাঁটু পর্যন্ত শরীরকে জড়িয়ে ধরে। কাঠামোবদ্ধ অথচ কোমল কাপড়, ভারী পৃষ্ঠকাজ-সব মিলিয়ে গাউনে ছিল নিখুঁত ভারসাম্য।অফ-শোল্ডার বডিসটি সাজানো ছিল থ্রিডি ফুলের অ্যাপ্লিক দিয়ে। গলার রেখা থেকে হাতা পর্যন্ত স্তরভিত্তিক পাপড়ি, স্ফটিক এবং পুঁতির সূক্ষ্ম কাজ গাউনের সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করেছে। কাঁধ থেকে ঝরে পড়া স্ফটিকের সুতা আলো স্পর্শ করলে যেন ঝলসে উঠছিল।গাউনের গায়ে জুড়ে ছোট ছোট পাথর ও সিকুইনের সূক্ষ্ম অলঙ্করণ নাটকীয়তা বাড়িয়েছে।লুকের চূড়ান্ত নাটকীয়তা আসে বিশাল ট্রেনে। প্লিটেড ফ্যাব্রিক প্যানেলে গড়া এই অংশ তরঙ্গের মতো বক্ররেখা তৈরি করে পিছনে ও পাশে স্তরে স্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রতিটি ভাঁজে সূক্ষ্ম অলঙ্করণ চলার সঙ্গে সঙ্গে আলো ধরে এক নতুনমাত্রা তৈরি করছিল।চুল ছিল মসৃণ, নিচু পনিটেলে বাঁধা, যা নেকলাইন ও গাউনের পেছনের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল করেছে। মেকআপে ক্লাসিক ছোঁয়া-মসৃণ বেস, নরম কনট্যুর, পীচি ব্লাশে উজ্জ্বল ত্বক। চোখে নিউট্রাল শ্যাডো, শার্প লাইনার, ঠোঁটে ছিল গোলাপি-বাদামি আভা।গহনায় খুব সাধারণ নেকলেস বা ভারী কানের দুল না পরে শুধু একটি আংটি বেছে নিয়েছিলেন।তার এই লুক একসঙ্গে রাজকীয় এবং রোমান্টিক। ঝলক নয় বরং মাধুর্য দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। দুবাইয়ের সেই সন্ধ্যায়, পীচ রঙা গাউনে তিনি শুধু রানওয়ে হাঁটেননি সময়কেও যেন থামিয়ে দিয়েছিলেন।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
আসন্ন পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।এতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এইচএ
ভোট উৎসবে যমুনা সেতুতে একদিনে পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ উৎসবের সময়কাল বাদ দিলে সাধারণ সময়ে এটি যমুনা সেতুর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২৩ হাজার ৯৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী লেনে পারাপার হওয়া ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা টোল জমা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচলের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত আজ বুধবার সারাদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশ মানুষ আজ বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বুথ সক্রিয় রাখা হয়েছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহনের সংখ্যার কারণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভোটাররা সঠিক সময়ে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন।এইচএ
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
এবারের পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এমআর-২
এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
সরাসরি-বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
বিকাশ-নগদ-রকেটে টাকা পাঠানোর বাধা শেষ হলো আজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকার অপব্যবহার ঠেকাতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা চার দিনের জন্য সীমিত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।এর আগে গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব সেবা সীমিত করার ঘোষণা দেয়। এতে বিকাশ, রকেট ও নগদ-এর মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা একবারে এক হাজার টাকার বেশি অর্থ পাঠাতে পারেননি। ফলে অনেক গ্রাহক টাকা পাঠাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এই সীমা কার্যকর ছিল। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) অর্থ স্থানান্তরও বন্ধ রাখা হয়।সোমবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনে বিশেষ সীমা বহাল ছিল। এ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে পিয়ার-টু-পিয়ার (পি-টু-পি) লেনদেনে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করার সুযোগ ছিল।এবি
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
আসন্ন পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।এতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এইচএ
ভোট উৎসবে যমুনা সেতুতে একদিনে পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ উৎসবের সময়কাল বাদ দিলে সাধারণ সময়ে এটি যমুনা সেতুর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২৩ হাজার ৯৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী লেনে পারাপার হওয়া ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা টোল জমা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচলের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত আজ বুধবার সারাদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশ মানুষ আজ বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বুথ সক্রিয় রাখা হয়েছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহনের সংখ্যার কারণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভোটাররা সঠিক সময়ে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন।এইচএ
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
এবারের পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এমআর-২
এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
ছুটি শেষে যেদিন খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
দেশে অনুষ্ঠিত হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। আজ ১৩ ও আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এর পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত (স্কুল–কলেজের ছুটির তালিকা অনুযায়ী) উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।সে হিসেবে টানা ৫ দিনের ছুটির পর আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) খুলতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের প্রথম বড় ছুটি এটি। আর তালিকায় থাকা পঞ্চম ছুটি এটি। সবকিছু ঠিক থাকলে টানা ৫ দিন ছুটির পর আগামী সোমবার খুলতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।একই সঙ্গে আগামী রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টানা ৪ দিনের ছুটির পর খুলতে যাচ্ছে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা।এইচএ
রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করা হয়েছে: সাদিক কায়েম
রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, স্পষ্টতই মিডিয়া, এজেন্সি ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে এ কাজ সম্পন্ন করেছে।বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে এ মন্তব্য করেন।পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পর সন্ধ্যা থেকেই সারাদেশের বিভিন্ন আসনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের আচরণ হঠাৎ বদলে যায়। একইসাথে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে অনেক আসনে জনগণের রায় বদলানোর অপচেষ্টা করা হয়।এরই অংশ হিসেবে ঢাকা-৮, ১৩, ১৭সহ দেশের বিভিন্ন আসনের ফলাফল আটকে রেখে জনরায় বদলানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, যার প্রমাণ স্পষ্ট। একইসাথে ঢাকা- ৪ ও ১৬ আসনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরও স্থগিত করা হয়েছিল।সকল আসনের ফলাফল এখনও ঘোষণা করা না হলেও প্রথম সারির জাতীয় গণমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট দলকে ২০০+ আসনে বিজয়ী হয়েছে বলে প্রচার করে।তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বলব, প্রতিটি আসনের সঠিক রেজাল্ট জাতির সামনে প্রকাশ করুন। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী আরেকটি সাজানো নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে একটা দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা জুলাইয়ের শহীদদের স্পিরিটের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।এমআর-২
নারী ভোটে বাজিমাত করবে জামায়াত: সাদিক কায়েম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারী ভোটে বাজিমাত করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে তিনি লিখেন, নারী ভোটে বাজিমাত করবে জামায়াত। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গ্রামে-গঞ্জে নারীদের গণজোয়ার।এর আগে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোট দিতে ফজরের নামাজ শেষ করেই কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নারী, পুরুষ, তরুণ, প্রবীণ— সব বয়সি ভোটারদের উপস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রেই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে এসেছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সবশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচন বিতর্কের জন্ম দেয়। তাই সবার চোখ এবারের নির্বাচনে।এমআর-২
পদত্যাগ করলেন ঢাবি ভিসি
হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিকাল ৩টায় ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনকে ‘বিশেষ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে জনসংযোগের তরফে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে।জানা গেছে, উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এটি অনুষ্ঠিত হবে। রেজিস্ট্রার অফিস সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এটি পূর্ব সিদ্ধান্ত নয়, হঠাৎ করেই জরুরি ভিত্তিতে সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে; যেখানে উপাচার্য নিজেই কথা বলবেন।এদিকে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে উপাচার্যের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে। এর আগেও উপাচার্যের বিদেশ সফরকে ঘিরে এই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। স্বভাবতই চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ক্যাম্পাস তথা শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল বাড়ছে।যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগের গুঞ্জন নিছকই ‘গুজব’। তবে নির্বাচনের দুদিন আগে ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ তার উপাচার্য থাকা কিংবা না থাকার বিষয়টি পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেবেন। সে হিসেবে ‘সরকার যদি তাকে চান তবে থাকবেন; না চাইলে থাকবেন না’- এমন বক্তব্যও আসতে পারে জুলাই পরবর্তী এই উপাচার্যের পক্ষ থেকে। তবে ঠিক উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন; সেটি তিনি নিজেই জানেন।এইচএ
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
নিজের ফোনেই পাবেন ভোটের ফলাফল
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের ফলাফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইলেকশন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভোটাররা রিয়েল টাইমে ফলাফল দেখতে পারবেন এবং নির্বাচনি তথ্য সহজে জানতে পারবেন।জেনে নিন কীভাবে ঘরে বসেই এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল জানতে পারবেন-অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন: অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে উভয়েই পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যাবে। ডাউনলোডের পর ফোনে ইনস্টল করে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে।অ্যাকাউন্ট বা লগইন প্রক্রিয়া: সাধারণত ভোটের ফলাফল দেখার জন্য লগইন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য বা ইভিএম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে অ্যাপটি আপনাকে ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে লগইন করতে বলবে। লগইন করলে ভোটের নথি, ভোটার স্ট্যাটাস এবং নির্বাচনী কেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।ভোটের ফলাফল দেখার ধাপক. নির্বাচন ও কেন্দ্র নির্বাচন: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে ‘ইলেকশন রেজাল্টস’ বা ‘ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনটি থাকবে। এখানে নির্বাচনের ধরন নির্বাচন করতে হবে (জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা, বা ইউনিয়ন নির্বাচন)। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।খ. কেস্টিং এবং ফলাফল: নির্বাচনি কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের লাইভ আপডেট দেখার সুযোগ থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড হবে। ভোটের ভোটের সংখ্যা, প্রার্থী বা দল অনুযায়ী ভাগফল এবং ভোটের শতাংশ দেখা যাবে।গ. গ্রাফ এবং চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপনা: অ্যাপটি ফলাফলকে গ্রাফ বা চার্টে দেখায়, যাতে কোন প্রার্থী বা দলের অবস্থান সহজে বোঝা যায়। লাইভ আপডেটের ফলে ভোটের ধাপ ধাপে অগ্রগতি দেখা যাবে।এইচএ
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
কাইয়ুমের বিরুদ্ধে নাহিদের আবেদনের শুনানি নির্বাচনের পর: আপিল বিভাগ
দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আপিলের শুনানি নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বিএনপির দুই প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে আপিল বিভাগে করা লিভ টু আপিল শুনানি হবে নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য থাকলেও নট টুডে আদেশ দেওয়া হয়।বিএনপির দুই প্রার্থী হলেন— ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম ও বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কুমিল্লা-৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রিটটি করেন একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রিটে কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত চাওয়া হয়। রিট খারিজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, আপিল বিভাগে যাবেন নাহিদ ইসলাম। এদিকে এমএ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে রিপাবলিক অব ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ ও সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন তিনি। গত ১৯ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে যে আমি ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক এবং সেখানে আমার বাড়ি বা বিনিয়োগ রয়েছে। এসব তথ্য মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ। ভানুয়াতুতে আমি কখনো পা ফেলিনি এবং অন্য কোনো দেশের দ্বৈত নাগরিক হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষাও আমার কখনো ছিল না। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
দূর মরিশাস থেকেও নাড়ির টান: সাত মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্বে প্রবাসী আকাশ
হাজার মাইল দূরের মরিশাসের ব্যস্ত কর্মজীবনও তাকে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে ফাঁকে তার মন পড়ে থাকে দেশের সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের কথা ভেবে। সেই নাড়ির টান থেকেই ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রবাসী যুবক আকাশ মিয়া।নিজের উপার্জনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি নিয়মিত ব্যয় করছেন এসব এতিমখানার জন্য। প্রতিমাসে চাল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি তীব্র শীত থেকে শিশুদের রক্ষায় এবার পাঠিয়েছেন বিশেষ উপহার—নতুন কম্বল।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমখানায় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন কম্বল পৌঁছে দেওয়া হয়। কনকনে শীতের সকালে উষ্ণ কম্বল পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর আনন্দের হাসি।আকাশ মিয়া ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে মরিশাসের ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। প্রবাসে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছেন।আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের তাহফিজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ইমামুদ্দিন ও জাটিগ্রাম শাহ আরজানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মারুফ বিল্লাহ বলেন, “আকাশ মিয়া নিয়মিত আমাদের মাদ্রাসায় চালসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠান। ফলে এতিম শিশুদের খাদ্যসংকটের চিন্তা করতে হয় না। এবার শীতের সময় কম্বল পাঠিয়ে তিনি বাচ্চাদের প্রতি তার মমতার প্রমাণ দিয়েছেন।”কাশিয়ানীর পোনা মারকাযুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম ও খায়েরহাট ছায়াদাতিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামানও একই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে আকাশ মিয়া যেভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের সামর্থ্যবানরা এভাবে এগিয়ে এলে এতিমদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।”নিজের এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, “আমি প্রবাসে থাকলেও আমার এলাকার এতিম শিশুদের কথা সব সময় মনে পড়ে। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে তাদের পাশে থাকতে চাই। তাদের মুখে হাসি দেখলেই আমার সব কষ্ট ভুলে যাই। এটা কোনো দান নয়, এটা আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আকাশ মিয়ার মতো প্রবাসী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে দেশের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।ইখা
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে। এইচএ
