সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর ঘটনায় উল্লাপাড়ার ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. ইব্রাহিম সরকারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষ বলছে, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি তিনি নিজেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) রাতে মুয়াজ্জিন মো. ইব্রাহিম সরকার মসজিদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে মসজিদ কমিটির কাছে চাবি হস্তান্তর করেন। মো. ইব্রাহিম সরকার দাবি করেন, তিনি জামায়াতের রাজনীতির সমর্থক। গত ৩১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পথসভায় বক্তব্য দেওয়া ও প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারণে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করা হয়।
তার অভিযোগ, মসজিদে চাকরিরত অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং জামায়াতের রাজনীতি না ছাড়লে তাকে রাখা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়। পরে তাকে দ্রুত মসজিদের পাওনা অর্থ ও চাবি বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তিনি মসজিদের ৫ হাজার ৭০০ টাকা পরিশোধ করে চাবি হস্তান্তর করেন বলে দাবি করেন।
এছাড়া মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপি সমর্থক হওয়ায় তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম অরুন খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদটি স্থানীয় জনগণের দানে পরিচালিত হয় এবং মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম সরকার জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে প্রকাশ্যে প্রার্থীর পক্ষে মাইকযোগে প্রচারণা চালান। এতে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসবেন না বলে জানান এবং পরে নিজ উদ্যোগেই মসজিদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করে চাবি জমা দিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে যান।
পিএম