নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাবনা-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নির্বাচনী গণসংযোগ কর্মসূচিতে পাবিপ্রবি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে লিফলেট হাতে স্লোগান দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান।
এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পাবনার সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বেতনভুক্ত একজন শিক্ষক হয়ে প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়াকে সংশ্লিষ্টরা ‘পেশাগত অসদাচরণ’ ও ‘নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছেন।
সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রার্থীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি তাঁর পদ বা প্রভাব ব্যবহার করে বা সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিয়ে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করতে পারবেন না। এ অপরাধের জন্য এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির শর্তাবলীর ৪৭ (৫) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক মতামত পোষণের স্বাধীনতা ভোগ করবেন; তবে সেই মতামত প্রকাশ বা প্রচার করতে পারবেন না এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আচরণবিধি সম্পর্কে বিষয়টি সেভাবে আমার জানা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সম্পর্কে জানতে চেয়েও আমি কোনো স্পষ্ট উত্তর পাইনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘শিক্ষকদের বিষয়ে অনেক দিক বিবেচনা করতে হয়। বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি এবং এ নিয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে এবং তা সত্য প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।’
ইখা