আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অনুপস্থিতিতে পুরো উপজেলাজুড়েই সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে। এদের অনেকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন কিংবা বৈধ কাগজপত্র।
দীর্ঘ এক বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে উপজেলার মানিকারচর ও টিএনটি মোড় এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলীন রাজ্জাক একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬৬ ও ৯২ ধারায় তিনটি মামলায় ১ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ও নামমাত্র অভিযান বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় একেবারেই নগণ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার অসংখ্য মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র নেই। এর ওপর অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বেপরোয়া গতি ও একাধিক যাত্রী বহনের প্রবণতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী অনেক নেতাকর্মীও নিয়ম ভেঙে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই এই প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। তাদের মতে, নামমাত্র জরিমানা সমস্যার সমাধান না করে উল্টো নিয়ম ভাঙার প্রবণতাকে উৎসাহ দিচ্ছে।
চন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা ও বড় সাপমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন বলেন, “প্রায়ই দেখি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। তাদের কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার মতো বয়স হয়নি। প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে যোগাযোগ করতে বলেন। অফিসের সময়ের পর ব্যক্তিগত কারণে বক্তব্য দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। তবে জরুরি প্রয়োজনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মাধ্যমে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থাকায় এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এনআই