এইমাত্র
  • আর কাউকে লুটপাট করতে দেবো না: ডা. শফিকুর রহমান
  • চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪৮ জনই ব্যবসায়ী
  • বিশ্ববাজারে ফের দাম কমলো স্বর্ণ ও রুপার
  • জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্রিটিশদের বাংলাদেশ ভ্রমণ না করার পরামর্শ
  • টেকনাফে ধানের শীষের প্রচারণা গাড়িতে গুলি, শিশুসহ আহত ৫
  • রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ১৯.৬৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
  • নির্বাচনের আগে সুসংবাদ পেলেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা
  • যমুনার সামনে দাবি আদায়ে ‘অনড়’ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা
  • অবশেষে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত জানাল ইসি
  • প্রতিরক্ষা খাতে সৌদি-তুরস্কের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর
  • আজ শুক্রবার, ২৩ মাঘ, ১৪৩২ | ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

    চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪৮ জনই ব্যবসায়ী

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

    চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪৮ জনই ব্যবসায়ী

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে পেশাগত ও আর্থিক অবস্থানের একটি বিস্তারিত চিত্র পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের এই ১৬ আসনে মোট ১১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৮ জন পেশায় ব্যবসায়ী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৪১ শতাংশ।

    রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এবারের নির্বাচনে হলফনামায় প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়, সম্পদ, দেনা, মামলা সংক্রান্ত তথ্যসহ মোট ১০ ধরনের তথ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়-  ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী নিজেদের মূল পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন।

    জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী প্রার্থীর হার কিছুটা কম হলেও এখানেও পেশাগত দিক থেকে ব্যবসায়ীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন।

    চট্টগ্রামের ১৬ আসনের প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের পরেই অবস্থান করছেন আইনজীবী, চাকরিজীবী ও শিক্ষক পেশার প্রার্থীরা। এছাড়া পেশা হিসেবে রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, ইসলামি বক্তা, দলিল লেখক, টিউটর, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, জমিদারি ও মাছ চাষ, এ ধরনের মোট ২০টি ভিন্ন পেশার উল্লেখ পাওয়া গেছে।

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ১২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭২ জন পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই তুলনায় এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে।

    এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের সবকটিতেই প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জন পেশায় ব্যবসায়ী।

    এই ব্যবসায়ী প্রার্থীরা হলেন, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর–ডবলমুরিং) সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) জসীম উদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) নাজমুল মোস্তফা আমীন এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী।

    অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের মোস্তফা কামাল পাশা পেশায় মাছ চাষ ও সমাজসেবায় যুক্ত এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন পেশায় আইনজীবী।

    হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের সম্পদের পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী আয়কর রিটার্নে ৩৬৫ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৬ টাকা সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন।

    সবচেয়ে কম সম্পদের তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী, ৮৪ লাখ ২০ হাজার ২৬২ টাকা। এরপর নাজমুল মোস্তফা আমীন উল্লেখ করেছেন ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৮০২ টাকা।

    এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কারণে চট্টগ্রাম-৫ ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে তারা প্রার্থী দেয়নি। তবে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় জামায়াতের প্রার্থীর নাম ব্যালটে থাকছে।

    জামায়াতের ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁরা হলেন, চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপে মুহাম্মদ আলা উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ডে মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম-৬ রাউজানে মো. শাহাজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি–বাকলিয়ায় এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ হালিশহর–ডবলমুরিংয়ে মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী এবং চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া–লোহাগাড়ায় শাহজাহান চৌধুরী।

    চিকিৎসক হিসেবে তিনজন প্রার্থী রয়েছেন, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) এ টি এম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) মো. আবু নাছের এবং চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম।

    হলফনামা অনুযায়ী, শিক্ষকতা করেন বা করতেন, এমন প্রার্থীর সংখ্যা তিনজন। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) মাহমুদুল হাসান এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

    আইনজীবী হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান এবং চাকরিজীবী হিসেবে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) মোহাম্মদ শফিউল আলম।

    এবারের নির্বাচনে পেশা হিসেবে কৃষি উল্লেখ করেছেন মাত্র একজন প্রার্থী। তিনি চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ বাদশা মিয়া। আগের নির্বাচনে কৃষক পেশার প্রার্থী ছিলেন আটজন।

    হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আইনজীবী প্রার্থী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। গত নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ৯। চাকরিজীবী প্রার্থী বেড়ে হয়েছে ১৪ জন (গতবার ১১)। শিক্ষকতা করেন বা করতেন, এমন প্রার্থী এবার ১৪ জন, যেখানে আগের নির্বাচনে ছিলেন ৮ জন। চিকিৎসক প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন, আগের নির্বাচনে ছিলেন ২ জন।

    পেশা হিসেবে রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন চারজন প্রার্থী। তাঁরা সবাই বামপন্থী দল থেকে নির্বাচন করছেন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) থেকে চট্টগ্রাম-৯ আসনের মো. শফি উদ্দিন কবির, চট্টগ্রাম-১০ আসনের আসমা আক্তার, চট্টগ্রাম-১১ আসনের দীপা মজুমদার এবং বাসদ থেকে চট্টগ্রাম-১১ আসনের মো. নিজামুল হক আল কাদেরী।

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…