বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা শুধু জামায়াতে ইসলামীর সরকার গড়তে চাই না, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। জাতি, ধর্ম ও দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের বিজয় চাই। সেই বিজয়ের লড়াই আগামী ১২ তারিখ। আপনারা ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবেন।”
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই বাংলাদেশ এখন স্বস্তির নিশ্বাসের বাংলাদেশ। আমরা আর পুরনো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না। এই পুরনো রাজনীতি বাংলাদেশকে এগোতে দেয়নি, পায়ে জিঞ্জির দিয়ে আটকে রেখেছে। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সেই বাংলাদেশকে পাল্টে দিতে চাই। আগামী ১২ তারিখ গণভোটের মাধ্যমে পুরনো বন্দোবস্তের রাজনীতিকে ‘না’ বলে বিদায় দেওয়া হবে এবং নতুন রাজনীতিকে বলা হবে ‘হ্যাঁ’।”
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। আমরা আজাদি চাই। ইনশাআল্লাহ, আমাদের প্রথম ভোট হবে আজাদীর পক্ষে। আর দ্বিতীয় ভোট হবে তাদের জন্য, যারা দেশটাকে ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালনা করবেন; যেখানে কোনো বৈষম্য, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মামলা-বাণিজ্য থাকবে না। কারো গায়ে আঘাত করা হবে না। আমরা সবার জন্য নিরাপদ ও গর্বের এক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন বিচারব্যবস্থা কায়েম করতে চাই, যেখানে অপরাধ করলে সাধারণ মানুষের যে শাস্তি হবে, একই অপরাধের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টকেও একই শাস্তি পেতে হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, অপরাধীকে বিচারের আওতায় আসতেই হবে।”
যুবসমাজের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, “এই বাংলাদেশ গড়ার জন্য যুবকদের হাতে চাবি তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। ১২ তারিখের নির্বাচনে প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’ এবং দ্বিতীয় ভোট ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাসহ ১১ দলের প্রার্থীদের প্রতীকে দিন। এটি কোনো দলের প্রতীক নয়, এটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক।”
নড়াইল জেলা জামায়াতের আমির ও নড়াইল-২ আসনের প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চুর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি ও নড়াইল-১ আসনের প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা মাওলানা আশেক ইলাহী, মাস্টার জাকির হোসাইন, মো. শামসুর রহমান, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আব্দুর রহমান, এনসিপি নেত্রী মাহমুদা সুলতানা রিমি ও ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এনআই