ফিলিস্তিন তথা গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস।
গতকাল রোববার দোহায় আলজাজিরা ফোরামের দ্বিতীয় দিনে দেওয়া এক বক্তব্যে হামাসের শীর্ষ নেতা খালেদ মিশাল হামাসের অস্ত্র সমর্পণের আলোচনাকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধকে নিষ্ক্রিয় করার শতাব্দীপ্রাচীন প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, ইসরায়েলের দখলকৃত গাজার জনগণের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া তাদের সহজে নির্মূল করার মতো শিকারে পরিণত করবে।
বক্তব্যে খালেদ মিশাল বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকা অবস্থায় হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে আলোচনা আমাদের জনগণকে এমন এক শিকারে পরিণত করবে। যদি আমরা এটি নিয়ে কথা বলতে চাই, তবে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যা গাজা পুনর্গঠন এবং সেখানে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করতে হবে। শুধু তাতেই গাজা এবং জায়নবাদী সত্তার মধ্যে যুদ্ধ যেন ফের শুরু না হয়, তা নিশ্চিত করবে।
অস্ত্র সমর্পণের প্রস্তাব বিষয়ে মিশাল বলেন, এটি একটি যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। হামাস মধ্যস্থতাকারী কাতার, তুরস্ক এবং মিসরের মাধ্যমে আমেরিকানদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা করেছে। এ বিষয়ে হামাসের দৃষ্টিভঙ্গি একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বা সমঝোতা হয়েছে। তবে এটি এমন কিছু, যার জন্য প্রচুর প্রচেষ্টার প্রয়োজন।
এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করতে চেষ্টা করেছিলেন। যদি তা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে হামাসকে তিনি পরিণতি ভোগ করারও হুমকি দিয়েছিলেন। তবে হামাস বলছে, যতক্ষণ ইসরায়েল গাজা দখল করে রাখবে, ততক্ষণ তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না।
এদিকে একই ফোরামে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং কর্মকর্তারা গত শনিবার সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক নিয়মের পতনকে ত্বরান্বিত এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠন করছে। তবে এটিও লক্ষ্য করা গেছে যে, এটি ফিলিস্তিনি সংকটকে বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে।
এদিকে ইসরায়েল কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নাগরিকের মরদেহ এবং দেহাংশ গাজায় ফেরত পাঠিয়েছে। তবে এই মৃতদেহগুলো কাদের বা কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্যই দেওয়া হয়নি। গত বুধবার সাধারণ সাদা ব্যাগে মোড়ানো এই দেহাবশেষগুলো গাজার আল-শিফা হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। বর্তমানে ফরেনসিক দলগুলো মরদেহগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং দীর্ঘকাল ধরে শোকাতুর ও অপেক্ষারত পরিবারগুলোকে একটি পরিষ্কার উত্তর দেওয়া।
আল-শিফা হাসপাতালের ফরেনসিক কর্মকর্তা ওমর সুলেমান বলেন, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি ১২০টি মরদেহের ব্যাগ হস্তান্তর করেছে। যার মধ্যে ৫৪টি মৃতদেহ এবং ৬৬টি আলাদা ব্যাগে মাথার খুলির নমুনা ছিল।
গাজা পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গঠিত তথাকথিত শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি হতে পারে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং বোর্ডের সদস্য চারটি দেশের কূটনীতিকরা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। খবরে বলা হয়, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে এবং গাজা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করতে এই বৈঠককে কাজে লাগাতে চায় হোয়াইট হাউস।
এবি