পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “রক্ত দেবেন, জীবন দেবেন; তবু একটা ভোট চুরি করতে দেবেন না।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যে ভোট চুরি করতে আসবে, তার একমাত্র ঠিকানা হবে হাসপাতাল।”
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় পৌর শহরের জালাসী এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, “কেউ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা কোনো ধরনের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিণতি মনে রাখতে হবে।” তাঁর ভাষায়, “তাঁর গলায় জুতার মালা ছিল, আপনার গলায় কোন মালা থাকবে— কল্পনাও করতে পারবেন না।”
শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “শ্রমিকদের শুধু ব্যবহার করা হয় এবং অল্প টাকায় তাঁদের ভোট কেনা হয়। পরে পাঁচ বছর তাঁদের দাসের মতো রাখা হয়।” তিনি দাবি করেন, তাঁদের উদ্যোগে শ্রমিকদের পরবর্তী প্রজন্মকে আর শ্রমিক হয়ে থাকতে হবে না। সন্তানদের ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার বা ব্যারিস্টার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ‘শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মহীন সময়ে উপার্জনের ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
কৃষকদের বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, “বিএনপির আমলে কৃষকদের সারের জন্য গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পঞ্চগড়ের কৃষক ও চা-চাষিদের সার, কীটনাশক ও ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো রক্তচোষা সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড়ের প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা হবে এবং জেলাটিকে পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পঞ্চগড়ের প্রতিটি মানুষ যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে সারজিস আলম বলেন, “এই নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তাদের নেতাকর্মীরা যদি কোনো অপরাধে জড়িত না থাকেন, তাহলে তাঁরা একসঙ্গে রাজনীতি করতে পারবেন।” (অংশটি অসম্পূর্ণ ছিল, প্রসঙ্গের ভিত্তিতে শেষ করা হয়েছে)।
এনআই