আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
দুই ঈদ উৎসবের সময়কাল বাদ দিলে সাধারণ সময়ে এটি যমুনা সেতুর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২৩ হাজার ৯৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী লেনে পারাপার হওয়া ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা টোল জমা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচলের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত আজ বুধবার সারাদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশ মানুষ আজ বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বুথ সক্রিয় রাখা হয়েছে।
মহাসড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহনের সংখ্যার কারণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভোটাররা সঠিক সময়ে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন।
এইচএ