ছাত্র-আন্দোলন থেকে উঠে আসা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র নেতা নাহিদ ইসলাম চলতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে লড়ছেন। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২৭ বছর বয়সী নাহিদ নিজেকে ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’-এর মুখ হিসেবে তুলে ধরেন। অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি তারুণ্য নির্ভর নতুন দল এনসিপি গঠন করেন। দলটি এবার ৩০০ আসনের মধ্যে ৩০টিতে প্রার্থী দিয়েছে, যেখানে জোটসঙ্গী জামায়াত লড়ছে ২২২ আসনে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব উঠে এসেছে।
নাহিদ ইসলাম সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটি আদর্শিক নয়, নির্বাচনি জোট। সংস্কার, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনের মতো কিছু অভিন্ন ইস্যুতে আমরা একমত।’ তার দাবি, সংগঠনগত দুর্বলতা কাটাতেই অভিজ্ঞ দলের সঙ্গে সমঝোতা জরুরি ছিল।
তবে সমালোচকদের মতে, এই জোটে বেশি লাভবান হচ্ছে জামায়াত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘আন্দোলনের মুখগুলোকে পাশে বসিয়ে জামায়াত জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিতে চাইছে।’ বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এনসিপির জাতীয় ভোটভিত্তি ২-৫ শতাংশের মধ্যে; ফলে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা দলটির স্বতন্ত্র পরিচয়কে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এনসিপি ৩০ প্রার্থীর মধ্যে দুজন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে, জামায়াত দেয়নি কাউকে। নাহিদ বলেন, 'নারী ও সংখ্যালঘু বিষয়ে আমাদের মৌলিক অবস্থান বিসর্জন দেয়া যাবে না।’
জরিপগুলোতে বিএনপি ও জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ছোট দল হিসেবেও এনসিপি ফলাফল ও পরবর্তী সংস্কার-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন নাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রাজনৈতিক বাস্তবতায় টিকে থাকবে কি না, তার বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে উঠছে।
এফএস