কুড়িগ্রাম-২ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ওই আসনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে বলেও তার অভিযোগ।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কুড়িগ্রাম শহরের হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি তোলেন। এই আসনে ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই প্রার্থী দাবি করেন, ‘কুড়িগ্রামের এই আসনের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সেই রায়কে ষড়যন্ত্র করে প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবর্তন করা হয়েছে। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ভোটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি সেন্টারের রেজাল্ট শিটের অনেকগুলোতে পুলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেই। কয়েকটি সেন্টারে স্থানীয় ভোটররা তাদের রায়ের প্রতিফলন দেখতে না পেরে সন্দেহ প্রকাশ করে সেন্টারগুলো আটকে দিয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যালট বাক্স নিয়ে চলে আসে। জনগণের প্রতিরোধে তারা সেন্টারে গিয়ে ফল ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা করেনি।’
বিএনপির এই নেতা আরও দাবি করেন, ‘আসনের ফুলবাড়ী উপজেলা এবং সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের সেন্টারে ব্যালটের বান্ডিল সংখ্যায় অসংগতি পাওয়া গেছে। আমরা মনে করছি, জনগণের রায়ের যে ফলাফল তাতে অনিয়ম হয়েছে। এজন্য আমি জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ফলাফল স্থগিতের দাবি জানিয়েছি। আসনের প্রত্যেকটি সেন্টারের ভোট পুনরায় গণনার জন্য আমি আবেদন করছি। আমার বিশ্বাস প্রত্যেকটি সেন্টারের ভোট যদি পুনরায় গণনা করা হয়, তাহলে ধানের শীষে মানুষ যে ভোট দিয়েছেন তার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
বিএনপি নেতা কায়কোবাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনে যারা আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, ভোট যদি পুনরায় গণনা করা হয় তাহলে জনগণের দীর্ঘদিনের যে আশা, ধানের শীষের পক্ষে জনগণের যে রায় তার প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল শিটে পুলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর না থাকার প্রমাণ হিসেবে বেশ কিছু ফলাফল শিট দেখান।
এফএস