ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আমিনুল হক।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্লবীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও প্রতিপক্ষ প্রার্থীর যোগসাজশে তার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আমিনুলের দাবি, ঢাকার কয়েকটি আসনে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করা হয়েছে এবং তার অংশ হিসেবেই ঢাকা-১৬ আসনে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পল্লবী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রের একটি ফলাফল শিট প্রদর্শন করেন। আমিনুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রে প্রথমে ধানের শীষ প্রতীকে ৪৫৬ ভোট, আম প্রতীকের তারিকুল ইসলাম ৫৮৩ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শূন্য ভোট দেখানো হয়েছিল। পরে ফলাফল শিট ছিঁড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ঘরে ৪৫৬ ভোট বসানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, তার কাছে এমন ৩০টির বেশি ফলাফল শিট রয়েছে যেখানে কোনো পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেই। অনেক কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই সিল দিয়েছেন বলেও তিনি ভিডিও প্রমাণ দেখান।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আমিনুল বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে জামায়াত প্রার্থী বিভিন্ন কেন্দ্রে, বিশেষ করে বাউনিয়াবাদ আইডিয়াল স্কুল ও লালমাটি কমিউনিটি স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে বৈঠক করেছেন, যা আইনত দণ্ডনীয়।
বিষয়টি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৩ হাজার ৩৬১।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল হক আরও জানান, ধানের শীষ প্রতীকে তিন হাজার ৭৪৪ ভোট বাতিল করা হয়েছে। এসব ভোট গণনায় এলে ফল ভিন্ন হতে পারত বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া বহু কেন্দ্রে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ধানের শীষের এই প্রার্থী।
এমআর-২