ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট–৩ (রামপাল–মোংলা) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন পরিবেশবিদ ও ‘সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কও। নির্বাচনে বিজয়ের পর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করার দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাচনে ২১৩টি আসনে জয়লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। বাগেরহাট–৩ আসনের ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, পরিবেশ বিষয়ক দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা উপকূলীয় অঞ্চল ও সুন্দরবন সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৭৭ ভোট। তিনি ১৯ হাজার ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, রামপাল–মোংলা অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি এবং সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের মতে, মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এসব বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মৃধা ফারুকুল ইসলাম বলেন, “বিপুল ভোটে জয়লাভ জনগণের প্রত্যাশারই বহিঃপ্রকাশ। রামপাল ও মোংলা ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। উন্নয়নের জন্য বিশেষ নজর প্রয়োজন।”
সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন হাওলাদার বলেন, “শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছেন। তাকে মন্ত্রী করা হলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
স্থানীয় দিনমজুর শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য শক্ত অবস্থান থাকুক। সে জন্য তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।”
বিশ্লেষকদের মতে, মোংলা সমুদ্রবন্দর, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ ও উন্নয়নের সমন্বয়ে দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন। তবে মন্ত্রিসভা গঠন সম্পূর্ণভাবে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “এই বিজয় আমার একার নয়, বাগেরহাট–৩ আসনের মানুষের। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সুন্দরবন সংরক্ষণে কাজ করাই এখন আমার অগ্রাধিকার।”
উল্লেখ্য, ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ, বনজীবী ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে আসছেন।
ইখা