উত্তেজানার মধ্যেই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরোক্ষ বৈঠকে বসেন ২ দেশের প্রতিনিধিরা।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, জেনেভায় অবস্থিত ওমানের দূতাবাসে এ আলোচনা হচ্ছে। এতে মধ্যস্থতা করছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তৃতীয় দফার এ আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও তার জামাতা জের্ড ক্রুসনার।
বিশ্লেষকরা সতর্কতা দিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আগে এটিই সর্বশেষ কূটনৈতিক সুযোগ। এরপর হয়ত মার্কিন সেনারা ইরানে হামলা শুরু করতে পারে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন তাদের সামনে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি আছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঈসমাইলি বাঘাই সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এবার আলোচনা করছেন ‘নমনীয়তা ও গুরুত্বের সঙ্গে’।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। এর পাশাপাশি তাদের কাছে সমৃদ্ধকরণকৃত যেসব ইউরেনিয়াম আছে সেগুলো তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করতে হবে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে তারা আপাতত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। এ নিয়ে যদি চুক্তি হয় তাহলে পরবর্তীতে ইরানের মিসাইল ও প্রক্সি বাহিনীকে নিয়েও আলোচনা হবে।
ইরান অবশ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছে তারা তাদের মিসাইল নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করবে না। এছাড়া প্রক্সি বাহিনীকে নিয়েও দেশটি কোনো ছাড় দিতে চায় না। কারণ প্রক্সি বাহিনীতে থাকা হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরানের স্বার্থরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।
এমআর-২