বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফেরা হলো না ১৭ বছরের শাহাদত হোসেনের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে নয়, তবু সংসারের বড় ভরসাগুলোর একটি ছিল সে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলার কুতুবদিয়ার পশ্চিমে সাগরে মাছ ধরার সময় ডাকাতদের গুলিতে প্রাণ হারায় এই কিশোর জেলে।
শাহাদত কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মনছুর আলী হাজির পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা মো. বাদশা আগে মারা গেছেন। বাবাহীন সংসারে মায়ের কাঁধে ভর করে বড় হওয়া ছেলেটিই এখন নিথর দেহ হয়ে ফিরেছে ঘরে।
ফিশিং বোট মালিক নাছির উদ্দিন জানান, তার ভাই জসীম উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি ফিশিং বোটে ২০ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তারা। বুধবার দুপুর দুইটার দিকে হঠাৎ একটি ডাকাতদল তাদের লক্ষ্য করে এগিয়ে আসে।
জেলেদের ভাষ্য, ডাকাতরা বোটে উঠতে না পেরে দূর থেকে গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে একটি গুলি গিয়ে লাগে শাহাদতের শরীরে। গুরুতর আহত অবস্থায় সে বোটেই ছটফট করতে থাকে।
সমুদ্রপথে ফিরে আসতে সময় লেগে যায় দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপকূলে পৌঁছে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তাকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসনিমুল আবেদীন রাহাত পরীক্ষা করে জানান, এর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
শাহাদতের মৃত্যুতে উত্তর ধুরুং এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা বলছেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া এখন জীবন বাজি রেখে রোজগার করার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাকাতদের হামলার আশঙ্কা সবসময়ই থাকে, কিন্তু কার্যকর নিরাপত্তা না থাকায় জেলেরা অসহায়।
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
উপকূলীয় জনপদ কুতুবদিয়ায় হাজারো পরিবার সরাসরি সাগরের ওপর নির্ভরশীল। বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি তো আছেই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্র ডাকাতের ভয়। মাঝেমধ্যে অভিযান ও গ্রেপ্তারের খবর এলেও সাগরে নামলে জেলেদের ভরসা থাকে কেবল ভাগ্য আর সহযাত্রীদের সাহসের ওপর।
১৭ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু সেই অস্থির বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনে দিল। যে সাগর থেকে জীবিকা আসে, সেই সাগরই কেড়ে নিল একটি তরুণ প্রাণ।
ইখা