যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ‘সহাবস্থান’ তথা ‘ভালোভাবে চলা সম্ভব’ বলে বার্তা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তবে পিয়ংইয়ংয়ের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র যে থাকবেই, সেটিও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পামাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন কিম।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও এর ব্যবহারিক সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করবে বলে কিম জং উন ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার নবম কংগ্রেসে দেয়া বক্তব্যে কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার বর্তমান পারমাণবিক অবস্থানকে সম্মান করে এবং বৈরী নীতি প্রত্যাহার করে, তবে দুই দেশের ভালোভাবে চলায় কোনও বাধা নেই।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ’র বরাতে বলা হয়েছে, কিমের মতে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ওয়াশিংটনের মনোভাবের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হোক বা স্থায়ী মুখোমুখি অবস্থান— দুটোর জন্যই আমরা প্রস্তুত। সিদ্ধান্ত আমাদের নয়।’
কিমের এই মন্তব্যকে অনেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এপ্রিলের চীন সফরের আগে আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করেছেন তিনি। সিউলকে উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে শত্রুতাপূর্ণ সত্তা’ বলে উল্লেখ করে কিম বলেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘চিরতরে স্বদেশির তালিকা থেকে বাদ’ দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যতদিন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করবে, ততদিন নিরাপদে থাকার একমাত্র উপায় হলো উত্তর কোরিয়া-সম্পর্কিত সবকিছু থেকে সরে দাঁড়ানো এবং পিয়ংইয়ংকে একা থাকতে দেয়া।
এক বিশ্লেষক এএফপিকে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।
এদিকে কিম জোর দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এর ব্যবহারিক সক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রকল্পে মনোযোগ দেবে। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটি নিয়মিত নিষিদ্ধ আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।
কেসিএনএ দাবি করেছে, কিমের নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়া তাদের ‘যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ আমূল শক্তিশালী করেছে। আর এর কেন্দ্রবিন্দু পারমাণবিক শক্তি। তবে দেশটির শাসনব্যবস্থার গোপনীয়তার কারণে সামরিক অগ্রগতির প্রকৃত চিত্র নির্ণয় করা কঠিন।
স্বাধীন গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) গত বছর ধারণা দেয়, উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৫০টি প্রস্তুত পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০টি তৈরির মতো বিভাজ্য উপাদান মজুত আছে।
এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে কিম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ‘সীমাহীন’ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এবি