পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে কিশোরগঞ্জে গ্যাসসংকটপূর্ণ এলাকায় ন্যায্যমূল্যে একদিনের বিশেষ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রান্নার গ্যাসের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামের প্রেক্ষাপটে জনবান্ধব এই উদ্যোগ গ্রহণ করে মেঘনা ফ্রেশ এলপি গ্যাস (ফ্রেশ গ্যাস কোম্পানি)।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্পার্ক ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেশ এলপি গ্যাসের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে, বড়পুল, গাইটাল, ডিসি অফিস, পুরানথানা ও বৌলাই বাজারে ন্যায্য মূল্যে এলপি গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ক্রেতাদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে ফ্রেশ এলপি গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপি গ্যাস আমদানির পরিমাণ সন্তোষজনক হলেও মাঠপর্যায়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে গ্যাস না পাওয়ায় তদারকি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অনেক এলাকায় এ মূল্য কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাজারের যেকোনো দোকানে ১টি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার রিফিল করতে খরচ হয় ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা, সেখানে গ্যাসসংকটপূর্ণ এলাকায় ন্যায্যমূল্যে একদিনের সিলিন্ডার সীমিত লাভে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। খোলা বাজারে মোট ১৮০টি সিলিন্ডার বিক্রি করা হয়। নির্ধারিত দামে গ্যাস পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সাধারণ ভোক্তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রেশ গ্যাস কোম্পানির এই উদ্যোগ বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া একাধিক ভোক্তা জানান, রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ন্যায্যমূল্যে রান্নার গ্যাস পাওয়া তাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত ও বিস্তৃত হলে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে।
এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে মেঘনা ফ্রেশ এলপি গ্যাস লিমিটেডের ডিভিশনাল ম্যানেজার মো: হোসাইন মারুফ বলেন, “রমজানের মতো পবিত্র সময়ে সাধারণ মানুষ যেন রান্নার গ্যাসের সংকটে ভোগান্তিতে না পড়েন, সেই চিন্তা থেকেই ন্যায্যমূল্যে এলপি গ্যাস সরবরাহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সীমিত লাভে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
মেঘনা ফ্রেশ এলপি গ্যাস কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও ন্যায্যমূল্যে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পিএম