নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খাঁন তোফা ওই ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করতে গেলে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরে স্থানীয়দের বাধার মুখে তোফাজ্জল হোসেন খাঁন ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান না করেই ফিরে যান।
বুধবার (২৬ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিন টার দিকে বিশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫নং বিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খাঁন কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পট পরিবর্তন হলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর ফলে তার চেয়ারম্যানের পদেটি বাতিল করা হয়। তবে সম্প্রতি সংশ্লিষ্টের আদেশের মাধ্যমে তিনি চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পান।
যার ফলে বুধবার দুপুরে দিকে তোফাজ্জল হোসেন খাঁন তার সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যোগদানের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আত্রাই উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম ও সম্রাট হাসান এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সহ প্রায় ১৫-২০ জন সমর্থক।
অপরদিকে, বিশা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাবের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নেন এবং তোফাজ্জল হোসেন খাঁনের প্রবেশে বাধা প্রদান করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তোফাজ্জল হোসেন খাঁন ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিতর্কিত এই নেতাকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তাকে পুনরায় দায়িত্বে আনা হচ্ছে কি না।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় মৃদু উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাত ৮টার দিকে জানতে চাইলে বিশা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব মুঠোফোনে বলেন, তোফাজ্জলকে জনগণ মেনে নিতে চাচ্ছে না। তাই আমি সেখানে থেকে দুই একটা কথা বলে প্রতিবাদ করেছি। যেহেতু তার সাথে আমার বিএনপির লোকজনই এসেছিল। তাই পাবলিকের কষ্টের জায়গা থেকে আমি তাদেরকে বলেছি ভোট হয়ে মাত্র কয়েকদিন হলো তাতেই তোফাজ্জলকে নিয়ে এসেছেন? এতে জনগণ আমাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলবে। কারণ এই তোফাজ্জল আওয়ামী লীগ সময়ে অনেক অন্যায় অত্যাচার করেছে।
জানতে চাইলে আত্রাই উপজেলার সহ-সভাপতি সম্রাট হোসেন মুঠোফোনে বলেন, তোফাজ্জল একটা রায় পেয়েছে। সে যোগদান করতে যেতে ভয় পাচ্ছিল। তাই মঞ্জুরুল ইসলাম ভাই ও শ্রমিকদলের কামাল হোসেনসহ অনেকেই সেখানে গিয়েছিলাম। তোফাজ্জলকে তারা কোনোভাবেই যোগদান করতে দিবেনা। বিগত দিনে সে অনেক অন্যায় করেছিল সেই জন্য তারা তাকে মেনে নিতে পারছিল না। তবে কোনো মারামারি হয়নি। এবং আগামীদিনে এর একটা সমাধান হয়ে যাবে। মূলত শান্তি বজায় রাখার জন্য আমরা গিয়েছিলাম।
জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সদস্য দাবি করে বিশা ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা মুঠোফোনে বলেন, আমি একটা মামলায় কারাগারে ছিলাম। সেই সময় জেলা প্রশাসক আমার চেয়ারম্যান কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেন। সম্প্রতি আমি জামিনে বের হয়ে এসে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করি। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমাকে স্বপদে বহালের আদেশ দেন। সেই আদেশ পেয়ে আমি কয়েকজন চেয়ারম্যানসহ কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে যোগদান করতে যাই। কিন্তু প্রতিপক্ষরা হাতে লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে আমাদের বাঁধা প্রদান করে। এবং অনেক অশ্লীল মন্তব্য করে। মূলত আমাকে যোগদান করতে দিবে না এটাই একপক্ষের উদ্দেশ্য। আমি অনেক আগে ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। তবে আওয়ামী লীগ আমলেই বেশি নির্যাতিত ও মামলার শিকার হয়েছি।
আর যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানা গেছে।
এফএস