অবৈধভাবে খাল ভরাট ও ড্রেন–কালভার্ট বন্ধ করে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখা ও সদর উপজেলার সতাল এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় মূল সতাল ভট্টাচার্য্যপাড়া এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাল ও নর্দমা ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও নর্দমা পুনঃখনন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের বসবাসকারী সতাল ভট্টাচার্য্যপাড়া এলাকায় তিন বছর আগে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল ও ড্রেন–কালভার্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। ফলে এলাকার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা কমতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগে। এতে শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এলাকাবাসী জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য তারা একাধিকবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। খাল ও নর্দমা পুনঃখনন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানালেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমরা আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আজ এই প্রতিবাদে নেমেছি। আমরা আশ্বাস নয়, স্থায়ী সমাধান চাই।”
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, প্রভাবশালীরা সরকারি জায়গায় অবস্থিত খাল, ড্রেন ও নর্দমা ভরাট করে বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছে। এর ফলে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
বাপা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদা বেগম বলেন, অবৈধভাবে খাল ভরাট ও ড্রেন–কালভার্ট বন্ধ করার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। বর্ষা মৌসুমে মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গিয়ে মানুষের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে। একটি প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ তৈরি করছে।
ইখা