মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় খুচরা পর্যায়ের অনেক পেট্রোল, মবিল ও ডিজেল বিক্রেতা দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত দুই দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের দোকানগুলোতে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ থাকায় পরিবহন চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফল উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক পেট্রোল-মবিল বিক্রেতার দোকান রয়েছে। এসব দোকানের অধিকাংশ গত দুই দিন ধরে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। এতে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও ছোট পরিবহন চালকদের জ্বালানি সংকটে পড়তে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে দোকান বন্ধ রাখা হলেও কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিতে রাজি হলে গোপনে সীমিত পরিমাণ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত লাভের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলার কালাইয়া বন্দরের ডিলারশিপ ব্যবসায়ী মাসুম সিদ্দিকী বলেন, নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পণ্য সরবরাহ করেন। কিন্তু গত দুই দিন ধরে তেলের সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি অমিলাল সাহা বলেন, মোটরসাইকেল যোগে প্রতিদিন তাকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দোকানে দোকানে গিয়ে পণ্যের অর্ডার সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু দুই দিন ধরে পেট্রোল না পাওয়ায় তাকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বিভিন্ন দোকানে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচও গুনতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা বাজারে পেট্রোল-ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ অস্বিকার করে উপজেলার কমপক্ষে ১০ থেকে ১২জন পেট্রাল ব্যবসায়ী বলেন, যে সকল কোম্পানী থেকে আমাদের সরবরাহ করা হয়। তারা চাহিদার তুলনায় কম দেওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইখা