এইমাত্র
  • কক্সবাজারে শিক্ষা সফর থেকে নিখোঁজ মিরসরাইয়ের শিক্ষার্থী
  • গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন
  • পঞ্চগড়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার অভিযোগ
  • একটি গোষ্ঠী ৭১-কে পিছনে ফেলতে চায়: মির্জা ফখরুল
  • শীর্ষ ধনী প্রার্থীদের তালিকায় তৃতীয় ফখর উদ্দিন আহমেদ
  • ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ করে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
  • মুন্সিগঞ্জে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা, মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত
  • মুন্সিগঞ্জে নির্মাণাধীন মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ১
  • নতুন নাম পাচ্ছে র‍্যাব, পরিবর্তন হচ্ছে পোশাক–কাজেও
  • কথা দিচ্ছি, কিশোরগঞ্জে কৃষিকে শিল্পে পরিণত করবো: জামায়াতে আমির
  • আজ মঙ্গলবার, ২০ মাঘ, ১৪৩২ | ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    ধর্ম ও জীবন

    শবে বরাত উপলক্ষে যেসব আমল পালনের পরামর্শ দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

    শবে বরাত উপলক্ষে যেসব আমল পালনের পরামর্শ দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
    ছবি: সংগৃহীত

    সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে আজ। শবে বরাত ও ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ এক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন। 

    তিনি বলেন, শবে বরাতে ভাগ্য নির্ধারণ হয়—এমন কথা অনেক ওলামায়ে কেরাম বলেছেন। তবে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরে ভাগ্য নির্ধারণ হওয়ার বিষয়টি অধিকতর বিশুদ্ধ, দলিলসমৃদ্ধ এবং অধিকাংশ ইমাম ও আলেমদের মতে গ্রহণযোগ্য।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেক আলেম শবে বরাত ও শবে কদরের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন। তবে অধিকাংশ দলিল-প্রমাণ এবং বড় বড় ইমাম ও মুফাসসিরদের মতামত অনুযায়ী—ইমাম কুরতুবী (রহ.)সহ প্রধান তাফসিরবিদদের অভিমত হলো- মানুষের সারাবছরের ভাগ্য আল্লাহ তাআলা শবে কদরেই নির্ধারণ করেন।

    তিনি কোরআনের দলিল উল্লেখ করে বলেন, সূরা দুখানের ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। সেই রাতে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই বরকতময় রাত শবে বরাত নয়, বরং লাইলাতুল কদর। কারণ সূরা কদরে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোরআন লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়েছে। সুতরাং যে রাতে কোরআন নাজিল হয়েছে, সেই রাতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়। এখান থেকেই প্রমাণিত হয় যে ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি মূলত শবে কদরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তবে তিনি বলেন, যেদিনই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভাগ্য নির্ধারণ করুন না কেন, একজন মুমিনের কামনা হওয়া উচিত—তার ভাগ্যে যেন ভালো কিছু লেখা হয়, নসিব যেন সুপ্রসন্ন হয়, রিজিকে যেন বরকত থাকে এবং জীবনে মানসিক প্রশান্তি আসে। এই লক্ষ্যেই তিনি শবে বরাত উপলক্ষে করণীয় হিসেবে ছয়টি আমলের কথা তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, প্রথম আমল হলো- আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাকওয়া অবলম্বন করা। সারা বছর গুনাহে লিপ্ত থেকে একটি রাতে মসজিদে গিয়ে কান্নাকাটি করে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা কোনোভাবেই সঠিক পন্থা নয়। বরং সারা বছর ইবাদত-বন্দেগি ও নেক আমলের চেষ্টা করতে হবে। কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো জনপদের লোকেরা যদি ঈমান আনে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তবে আল্লাহ তাদের জন্য আসমান থেকে বরকতের সব দরজা খুলে দেন। হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর নির্দেশ মানা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের জীবনে বরকত দান করেন। সবচেয়ে বড় নেয়ামত হিসেবে আল্লাহ মানসিক প্রশান্তি দান করেন, আর জান্নাত তো আছেই।

    দ্বিতীয় আমল হিসেবে তিনি ইস্তেগফারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ে, আল্লাহ তাদের রিজিকে ও আয়ে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা ইস্তেগফারকারীদের সম্পদ ও সন্তান দিয়ে সমৃদ্ধ করেন এবং তাদের ভাগ্যে ভালো কিছু লিখে দেন। এজন্য যতভাবে সম্ভব বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তৃতীয় আমল হলো আল্লাহ যা দিয়েছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা এবং আলহামদুলিল্লাহ বলা। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিয়েছেন—তোমরা যদি নেয়ামতের শুকর আদায় করো, তবে আমি তা আরও বাড়িয়ে দেব। যারা ভাগ্যে আরও কল্যাণ চান, তাদের শুকরিয়া আদায়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

    চতুর্থ আমল হিসেবে তিনি সাদকা দানের কথা উল্লেখ করেন। সাদকা মানুষকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে এবং জীবনে বরকত নিয়ে আসে। সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সাদকা করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

    পঞ্চম আমল হলো দোয়া করা। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কিছু তাকদির আল্লাহ দোয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেন। হাদিসে এসেছে, দোয়া তাকদিরকেও পরিবর্তন করে দেয়। এজন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত দোয়া করতে হবে—হে আল্লাহ, আমার নসিবে যেন ভালো কিছু থাকে, আর যদি কোনো অকল্যাণ লেখা থাকে, তুমি তা দূর করে দাও।

    ষষ্ঠ আমল হিসেবে তিনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার কথা বলেন। সহিহ বুখারির হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—যে ব্যক্তি তার হায়াতে ও রিজিকে বরকত কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।

    এই ছয়টি আমল আবারও সংক্ষেপে উল্লেখ করে তিনি বলেন—আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন, বেশি বেশি ইস্তেগফার, আল্লাহর দানে সন্তুষ্ট থাকা, সাদকা করা, দোয়া করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, নামাজ শেষে শুধু বসে থাকা নয়, হালাল রুজির জন্য চেষ্টা করতেও হবে। চেষ্টা ও দোয়া দুটোই একসঙ্গে চললে আল্লাহ তাআলা জীবনে বরকত দান করবেন।

    শবে বরাত উপলক্ষে প্রচলিত কিছু আমল প্রসঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এ রাতে একত্রিত হয়ে রাতভর ইবাদত করা বা পরদিন নির্দিষ্টভাবে রোজা রাখার বিষয়টি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তিনি বলেন, শাবান মাসে নফল রোজা রাখা সুন্নত, এবং আইয়ামে বীজ ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার ফজিলত রয়েছে। নবী করিম (সা.) শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন, সেই সুন্নত অনুসরণ করা যেতে পারে।

    তিনি বলেন, লাইলাতুন নিসফে শাবান তথা শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া বাকি বান্দাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন—এ মর্মে কিছু হাদিস রয়েছে। যদিও কিছু হাদিসের সনদে দুর্বলতা আছে, তবে সার্বিকভাবে এ রাতের একটি ফজিলত প্রমাণিত। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই রাতকে কেন্দ্র করে দেশে প্রচলিত সব কর্মকাণ্ড শরিয়তসম্মত।

    তিনি বলেন, শবে বরাতে মসজিদে মানুষের ভিড় হওয়া ভালো দিক, তবে প্রশ্ন হলো—লাইলাতুল কদর যেটি অধিক ফজিলতপূর্ণ, সেই রাতে কি মানুষ একইভাবে ইবাদতে মনোযোগী হয়? আমাদের সমাজে এই রাতে বেশি ভিড়ের মূল কারণ হলো ভুল ধারণা—এই রাতে ভাগ্য ঠিক হয়ে যায়, তাই সারা বছর যা-ই করা হোক, এক রাতেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এ ধরনের মানসিকতা কখনো সঠিক নয়।

    শবে বরাতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিভিন্ন বিদআত, কুসংস্কার ও বাড়াবাড়ির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একসময় এই রাতে ব্যাপকভাবে পটকা ফোটানো হতো, যা মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে তা অনেকটাই কমেছে। তিনি বলেন, আলোকসজ্জা, হালুয়া-রুটি খাওয়া, আতশবাজি—এসবের কোনো ভিত্তি কোরআন ও হাদিসে নেই।

    হালুয়া খাওয়ার প্রচলন নিয়ে তিনি বলেন, নবীজির দাঁত মোবারক ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হওয়ার সঙ্গে হালুয়া খাওয়ার যে গল্প প্রচলিত, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হাস্যকর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতিলের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন, আর আমরা বাতিলের সঙ্গে আপস করে হালুয়া খেয়ে সুন্নত পালনের দাবি করি—এর চেয়ে বড় বিকৃতি আর হতে পারে না।

    তিনি আরও বলেন, এই রাত উপলক্ষে মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, সমবেত দোয়া বা নির্দিষ্ট আচারকে জরুরি মনে করাও ভুল। ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করে আল্লাহর ক্ষমা চাওয়া ভিন্ন বিষয়, তবে বিদআতি পন্থা পরিহার করতেই হবে।

    সবশেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন তিনি সবাইকে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করেন এবং শাবান মাসের সবচেয়ে বড় আমল হিসেবে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার সুযোগ দেন।

    এইচএ

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…