বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় সশস্ত্র ডাকাত দলের গুলিবর্ষণে পাথরঘাটার দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মোংলা বয়ার পশ্চিমে, পাথরঘাটা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আহতদের চিকিৎসার জন্য পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালমেঘা ইউনিয়নের পশ্চিম গুটাবাছা এলাকার দুলাল মিয়ার মালিকানাধীন এফবি জাহিদ নামের একটি ট্রলারে ১৪ জন জেলে সাগরে মাছ ধরছিলেন। রোববার ভোরে হঠাৎ ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ট্রলারটি ধাওয়া করে। বিপদ টের পেয়ে জেলেরা জাল কেটে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাত দল তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় দুজন জেলে আহত হয়।
আহত জেলে নুর আলম জানান, ডাকাতরা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বড় টেংরা হাজির খাল এলাকার নুর আলম খান (৪৮) পিঠে এবং একই ইউনিয়নের চরলাঠিমারা এলাকার শাহজাহান (৪৫) চোখে গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পর ডাকাত দল পিছু হটলে অন্য জেলেরা আহতদের নিয়ে দ্রুত উপকূলে ফিরে আসেন। তারা প্রথমে মহিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং সোমবার সকালে পাথরঘাটায় পৌঁছান।
আহত জেলে নুর আলম খান আক্ষেপ করে বলেন, গত দুই মাস ধরে সাগরে ডাকাতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারব না। বর্তমানে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া সাধারণ জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সম্প্রতি ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ নামের একটি ডাকাত দল সাগর ও নদীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে। অনেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেও এখনো চারজন জেলে ওই বাহিনীর জিম্মায় রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জলদস্যু দমনে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় মৎস্য খাতে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, সাগরে প্রশাসনিক টহল সার্বক্ষণিক রয়েছে। টহল আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে ।
এসআর