পবিত্র রমজান এলেই কিশোরগঞ্জের বড় বড় রেস্তোরাঁ ও নামি দামি দোকানে সাজানো থাকে নানান পদের আকর্ষণীয় খাবার। তবে উচ্চমূল্যের কারণে এসব জায়গা থেকে ইফতারি কেনা অনেক স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কেবলই দূরের স্বপ্ন। তাই তাদের ভরসা ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলো।
ফুটপাতে এসব দোকানের ক্রেতা মূলত আশপাশের দোকানি, কর্মজীবী মানুষ, পথচারী, ভাসমান মানুষ এবং চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। চলতি পথের এসব মানুষের ভরসা ফুটপাতের ইফতার সামগ্রীর দোকান। এসব ইফতার বিক্রেতারাও অধিকাংশই মৌসুমি ব্যবসায়ী। জীবন-জীবিকার টানে অন্য সময় ভিন্ন কিছু করলেও রমজান মাসে ফুটপাতে ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেন তারা।
সোমবার (২৩ ফ্রেব্রুয়ারি) বিকালে জেলা শহরের একরামপুর, পুরান থানা, কালীবাড়ী মোড়, আখড়া বাজার, কাঁচারি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই ফুটপাতজুড়ে বসেছে ছোট ছোট ইফতারির স্টল। তুলনামূলক কম দামে এসব ইফতারের তালিকায় রয়েছে শাকসবজি দিয়ে তৈরি বড়া, পেঁয়াজু, ছোলা, বেগুনি, আলুর চপ, ডিম চপ, ঘুগনি, বুন্দিয়া, জিলাপি, খেজুর, মুড়িসহ নানান ইফতার সামগ্রী। সেখানে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি থেকে শুরু করে শরবত- সবই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। রিকশাচালক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছেন এসব দোকানে। প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকায় পাওয়া যায় বেশিরভাগ ইফতার সামগ্রী।
এই ফুটপাতের ইফতার বাজার শুধু ক্রেতাদের নয়, বিক্রেতাদের জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিক্রেতারা বলছেন, রমজান মাস তাদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। অনেকেই অন্য পেশার পাশাপাশি এই সময়ে ইফতারি বিক্রি করেন। তবে বাড়তি ভাড়া, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং কখনো কখনো উচ্ছেদের আশঙ্কা তাদের বড় দুশ্চিন্তা।
ইফতারি কিনতে আসা হারুন নামে এক রিকশাচালক বলেন, রোজা রেখে সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তাতে ভালো দোকানের ইফতার কিনতে গেলে একদিনের আয় সবই শেষ হয়ে যাবে। ফুটপাতে অল্প টাকায় ইফতার পাওয়া যায়, তাই এখানেই আসি।
ভাসমান চা দোকানি কামরুল ইসলাম বলেন, এখন রোজা থাকে বেশির ভাগ মানুষ। বেচা-বিক্রি আর আগের মতো নাই, যা আছে তা দিয়েই সংসার চলে। এখন আয় কম হওয়ায় চলতে কষ্ট হচ্ছে। আজ ৩০ টাকার ছোলা-মুড়ি কিনছি। আমার পাশের দোকানি কিনেছেন পেঁয়াজু-চপ। এগুলো দিয়ে কয়েকজন মিলে ইফতারি খাবো।
ইফতার বিক্রেতা সালিম হোসেন বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উচ্চাবিলাসী খাবার কেনার সামর্থ্য নেই অনেকের। তাই তারা এখন ফুটপাতের দিকে ঝুঁকছেন। প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকার মধ্যে সব ধরনের আইটেম বিক্রি করি। দাম কম তাই বেচাবিক্রিও ভালো। ইফতারের আগ মুহূর্তে বিক্রি বেশি হয়।
ফুটপাতে ইফতারি বিক্রেতা দুলাল মিয়া বলেন, রমজান মাসটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সকাল থেকে প্রস্তুতি নিই, বিকেলে বিক্রি করি। লাভ বেশি না হলেও সংসারের খরচ উঠে আসে। রেস্তোরাঁ ও ফাস্ট ফুডের দোকানগুলোতে বড় কাস্টমাররা যান, সেসব দোকানে বেশি দামে পণ্য কিনতে ভিড় করেন তারা। আমাদের ফুটপাতে নিম্নবিত্তের সাথে মধ্যবিত্তের লোকেরাই বেশি আসে। অল্প টাকায় তাদের চাহিদা মতো ইফতারি রয়েছে।
পিএম