ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের ঘোমাগাও গ্রামে অভাবের তাড়নায় হযরত আলী (৬৫) নামে এক রিকশাচালক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে নিজ ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত হযরত আলী কিস্তিতে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন। কিন্তু নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় সেটি সম্প্রতি ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং প্রতিদিন তাঁর প্রায় ৩৫০ টাকার ওষুধের প্রয়োজন হতো। চার মেয়ে ও এক ছেলেসহ সাতজনের অভাবের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা ও একমাত্র আয়ের উৎস অটোরিকশাটি হারানোর দুঃচিন্তায় তিনি ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃত ব্যক্তির ভাই মারফত আলী জানান, "অভাবের তাড়নায় আমার ভাই আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অসুস্থতার কারণে আয়-রোজগার করতে না পারায় তিনি অটোর কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এ কারণে কিস্তির লোকজন অটোটি নিয়ে যায়। এই দুঃচিন্তা থেকেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।"
হযরত আলীর স্ত্রী বিলাপ করতে করতে জানান, "আমার স্বামী বেশ কিছু দিন ধরেই দুঃচিন্তায় ছিলেন। তিনি শারীরিকভাবেও অসুস্থ ছিলেন। কিস্তিতে অটোটি কিনলেও আয় না থাকায় কিস্তি দিতে পারছিলেন না। কিস্তির লোকরা সেটি নিয়ে যাওয়ায় পরিবার কীভাবে চলবে সেই চিন্তাতেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।"
এনআই