চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ছয় মাসের বেতন বকেয়া রেখে এক গৃহকর্মী কিশোরীকে চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে নেওয়া একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনি প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরী। যদিও বিষয়টি জানাজানি হয় আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে।
ভুক্তভোগী পপি আক্তার (১৫) উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মুফিজের মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে পপি আক্তার বৈরাগ এলাকার শারমিন হাসানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কাজের সময় সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রায়ই তাঁকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ঘরে আটকে রাখা হতো এবং বাইরে বের হতে দেওয়া হতো না।
অভিযোগে বলা হয়, ছয় মাস কাজ করার পরও তাঁর বেতন পরিশোধ করা হয়নি। বেতন বাবদ তাঁর পাওনা ১৮ হাজার টাকা। বকেয়া বেতন চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দিতে চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
পপির অভিযোগে আরও বলা হয়, বটতলী জামাল মার্কেটে অবস্থিত একটি বিউটি পার্লারসংক্রান্ত বিরোধে তাঁকে জড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরে দোকানে আগুন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং এর বিনিময়ে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর চাপ আরও বাড়ানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। সেই বক্তব্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পপি আক্তার বলেন, 'আমাকে মেয়ে হিসেবে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে আমি নিজে থেকে চলে আসতে চাইলে আমাকে একটি মার্কেটে আগুন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।'
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শারমিন আক্তারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর কন্যা ইশা বলেন, নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, 'পপি পিতা-মাতা হারা হওয়ায় আমরা তাকে আশ্রয় দিয়ে বোনের মতো বড় করেছি। আমাদের পার্লারসহ আশপাশের দোকানে চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, 'পুলিশের একটি দল অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
এসআর