আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা, ফুল তুলিতে যাই... পল্লীকবি জসীম উদ্দিন-এর ‘মামার বাড়ি’ কবিতার সেই আবহ যেন নেমে এসেছে ভালুকার গ্রামাঞ্চলে। গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল, বাতাসে ভাসছে মৌ মৌ ঘ্রাণ। বসন্তের আগমনী সুরে পুরো এলাকা এখন রঙিন আর সুবাসে ভরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট-মাঝারি প্রায় ৭০ শতাংশ আমগাছে এসেছে মুকুল। হলুদ-সবুজের মেলবন্ধনে ডালপালা ভরে উঠেছে। বাগানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে পাগল করা ঘ্রাণ, যা মনকে টেনে নেয় শৈশবের স্মৃতিতে।
চাষিরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার মুকুল ভালো এসেছে। বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি গাছে মুকুলের আধিক্য বেশি চোখে পড়ছে। অনেকেই গাছে মুকুল আসার আগেই পরিচর্যা শুরু করেছিলেন, যাতে গুটি বাঁধার সময় কোনো সমস্যা না হয়।
আম চাষি হাবিব জানান, এখনো সব গাছে পুরোপুরি মুকুল আসেনি। তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই অধিকাংশ গাছেই মুকুল দেখা যাবে। ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত জামান বলেন, ‘ভালুকার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য উপযোগী। অনুকূল পরিবেশ থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন খুব বেশি না হলেও ছত্রাকজনিত রোগে মুকুল ও ফুলগুটি আক্রান্ত হতে পারে।’
তিনি জানান, প্রয়োজনে ম্যানকোজেট গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম অথবা ইমিডাক্লোরিড গ্রুপের দানাদার ০.২ গ্রাম, তরল ০.২৫ মিলিলিটার এবং সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আমের মুকুলে ভরপুর ভালুকা এখন মধুমাসের প্রতীক্ষায়। সুবাসে-রঙে প্রকৃতি জানিয়ে দিচ্ছে-সামনেই রসালো আমের দিন।
ইখা