গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌর এলাকায় হাট-বাজার ইজারা প্রদানের দরপত্র প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া পে-অর্ডার পরিবর্তন করে ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় বুধবার (৪ মার্চ) লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন সফিপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শিল্পসমৃদ্ধ কালিয়াকৈর পৌর এলাকায় বর্তমানে ৬টি বড় হাট-বাজার, ২টি টার্মিনাল, ৩টি মাছের আড়ৎ ও ৮টি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। প্রতি বাংলা সনে এসব হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়। চলতি বছরের ইজারার জন্য সম্প্রতি পৌর কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহ্বান করে এবং গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফিপুর বাজারের ইজারার জন্য তিনজন দরদাতা অংশ নেন। সফিপুর বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম ১ কোটি ৫০ লাখ ৫০০ টাকার দরপত্র জমা দেন। অপরদিকে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী পৃথক দুই ব্যক্তির নামে ১ কোটি ৫৮ লাখ এবং ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দরপত্র দাখিল করেন। বিকেলে পৌর কার্যালয়ে উপস্থিত সবার সামনে ঘোষণা করা হয়—১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দরদাতাই ইজারা পেয়েছেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘোষণার পর নাজমুল ইসলাম দরপত্রের কপি ও সংশ্লিষ্ট পে-অর্ডার দেখতে চাইলে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তা দেখাতে বাধা দেন। এ সময় পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কোনো আপত্তি জানাননি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রের উল্লেখিত টাকার ৮০ শতাংশ সমপরিমাণ পে-অর্ডার জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ১ কোটি ৫৮ লাখ ও ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দরপত্রের ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে পে-অর্ডার জমা দেওয়া হয়নি। বরং বেশি অংকের দরপত্র বাতিল করে প্রায় ২৯ লাখ টাকা কমের একটি দর গ্রহণ করা হয়েছে, ফলে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, প্রকৃত ও নিয়ম মেনে জমা দেওয়া দরপত্র উপেক্ষা করে প্রায় ৫ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ইজারা প্রদান করা হয়েছে।
পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫ আগস্ট মেয়র পদ শূন্য হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। হাট-বাজার ইজারা, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম তার নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। নিউজ করা লাগবে না। দেখা করেন, আপনার জন্য যা করার লাগে করবো।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল ইসলাম বলেন, হাট-বাজার দরপত্রে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।